#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৪৫'
#জেরিন_আক্তার_নিপা
তাওয়াফ সবাইকে ডেকেছে। নূর জাহান ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়েছিলেন। তিনিও এলেন। চাচা চাচীরা সবাই এলে পেখম আবার সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে লাগল। ভয় করছে তার। তাই পেখম ধীরে ধীরে তাওয়াফের পেছনে চলে গেল। তাওয়াফ সেটা বুঝতে পারল। তৌকির মির্জা ছেলের জরুরি তলবের কারণ বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করলেন,
-সবাইকে এখন আবার কেন ডেকেছিস?
তাওয়াফ জানে সে যে কথা বলতে যাচ্ছে তা শুনে বাবা মা সহ পরিবারের প্রতিটা সদস্য বিশাল ধাক্কা খাবে। কেউ হয়তো এমনটা কল্পনাও করছে না। তারপরও তাওয়াফ কোনরকম বনিতা ছাড়া দৃঢ়, স্থির কন্ঠে বাবাকে বলল,
-বাবা পুনমকে আমি বিয়ে করব।
তার কথাটা যেন বোমের মতো ফাটল। সকলের একরকম প্রতিক্রিয়া। বিস্ময়ে চোখ বড়ো বড়ো, চোয়াল ঝুলে পড়েছে। তৌকির মির্জা যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারলেন না। তাহমিনারও মনে হচ্ছে সে কানে ভুল শুনেছে। চাচা, চাচীরা সবাই একসাথে বলে উঠল,
-বিয়ে!
পেখম এতক্ষণ তাওয়াফের পেছনে লুকিয়ে ছিল। এখন সে ভয়ে সিটিয়ে গেছে। তৌকির মির্জা নিজেকে বিশ্বাস করানোর জন্য আবার জিজ্ঞেস করলেন,
-তুই পুনমকে বিয়ে করবি এই কথাটাই বলেছিস তো! আমি কি কানে ঠিক শুনেছি?
নূর জাহানের এত বছরের আশা পূরণ হওয়ার পথে। তাওয়াফ পেখমের বিয়ে তিনি যেকোনো মূল্যে করাতে রাজি আছেন। নূর জাহান ছেলেকে ধমক দিয়ে বললেন,
-তোর কান কি আমার থেকেও বুড়ো হয়ে গেছে? এক কথা কয়বার জিজ্ঞেস করিস? শুনিসনি আমার নাতি কী বলেছে?
তাহমিনার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন ছিল তার ছেলেকে বিয়ে করাবে। ছেলের একটা সংসার হবে। সে নাতিনাতনির মুখ দেখবে। শাশুড়ির মতো মনে মনে তাহমিনাও পেখমকেই ঠিক করে রেখেছিল। কিন্তু সাহসের অভাবে এই কথা কোনদিনও ছেলের কানে তুলতে পারেনি। কেউ জোরজবরদস্তি করল না। কোনরকম কসম কিড়া কাটাতে হলো না। ছেলে নিজে থেকেই রাজি হয়ে গেল!
-তুই সত্যিই বিয়ে করবি বাবা?
তাওয়াফ বাবা মা'র সিচুয়েশন বুঝতে পারছে। তবে সে যা করছে পেখমকে নিজের করে পাওয়ার জন্য।
-হুম। আজ এবং এক্ষুনি।
তৌকির মির্জা হাঁসের ডিমের মতো বড়ো বড়ো চোখ করে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন,
-আজ, এক্ষুনি!
-হুম। কাজী ডাকো।
মেজ চাচা ভ্যাবাচেকা খেয়ে বললেন,
-এই রাতের বেলা কাজী পাওয়া যাবে বাবা? কাল সকালে করলে হয় না।
-না চাচা। বিয়ে আজ রাতের মধ্যেই হবে। কাজী পাওয়া না গেলে মসজিদের ইমাম সাহেবকে নিয়ে আসো।
সেজো চাচা ইতস্তত করে বললেন,
-এই রাতের বেলা বেচারা কাজী আর ইমাম সাহেবের ঘুম ভাঙিয়ে এনে বিয়ে করাটা কি উচিত হবে তাওয়াফ?
তার ভাইয়েরা ঠিক কথাই বলছে। তাছাড়া তাওয়াফ হঠাৎ কোন কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এটাও তো জানতে হবে। তৌকির মির্জা বললেন,
-ঢাকা শহরের সব কাজী তো কাল সকালের আগেই কোথাও চলে যাবে না। বিয়েটা সকালেই কর বাবা।
তাওয়াফ বাবার দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট গলায় বলল,
-তুমি চাও না তোমার ছেলে সংসারী হোক?
তৌকির মির্জা সাথে সাথে বললেন,
-চাই। কেন চইব না? হাজার বার চাই।
-হাজার বার বিয়ে করার আমার কোন শখ নেই। একবারই করব। সেটা আজই।
ভাতিজার আত্মবিশ্বাস দেখে ছোট চাচা সগর্বে হেসে উঠলেন। হাসতে হাসতেই বললেন,
-শাবাশ আমার বাঘের বাচ্চা! পুরুষ মানুষ এমনই হওয়া উচিত। এক কথার মানুষ। তুই কোন চিন্তাই করিস না। রাতেই তোদের বিয়ে হবে।
আমরা ব্যবস্থা করছি।
পেখম এখনও তাওয়াফের পেছনে লুকিয়ে আছে। মন থেকে ভয় কেটে গিয়ে এবার লজ্জা ভর করেছে। তাওয়াফ ভাই সবার সামনে কীভাবে বিয়ের কথা বলল! সবাই না জানি কী ভাবছে।
বাবা চাচারা রাতেই বিয়ের আয়োজন করে লেগে পড়েছেন। আলোচনায় তখন ছোটরা ছিল না। পরে জানতে পেরে কেউ বিশ্বাসই করতে চাইল না। ইলহাম সরাসরি ভাইকেই জিজ্ঞেস করে বসল,
-সত্যিই তুমি বিয়ে করবে?
তাওয়াফ শান্ত গলায় জবাব দিল,
-মিথ্যা বিয়ে করা যায়?
-অনেক ক্ষেত্রে যায়। কিন্তু তোমরা তো,,,
ইলহাম মাথা চুলকাচ্ছে। কীভাবে কী হয়ে গেল? ভাই পুনমকে বিয়ে করবে! অবিশ্বাস্য ব্যাপার স্যাপার। ইলহামকে এত বেশি অবাক হতে দেখে প্রিয়া টিপনি কেটে বলল,
-এই মাথা নিয়ে আপনি ডাক্তার কীভাবে হয়েছেন এটাই বুঝে আসছে না। মাথা খুলে কি ঘিলু পরিষ্কার করে আবার লাগিয়েছেন?
-মিস প্রতিবাদী, আমার মাথা সত্যিই কাজ করছে না।
প্রিয়া বিরক্ত মুখে লোকটার দিকে তাকাল। কী ঘোড়া লোকরে বাবা!
-এতদিন আপনি কি সত্যিই কিছু বুঝতে পারেননি? আপনার চোখের সামনেই তো সব হচ্ছিল।
-কী হচ্ছিল?
-ঘোড়ার ডিম। আপনি গিয়ে ঘুমান তো।
বড়ো দুই ভাই কাজীকে নিয়ে আসতে গিয়েছে। ছোট দুই ভাই ছেলেমেয়ের জন্য শাড়ি পাঞ্জাবি কিনতে গিয়েছে। মেয়ের এই সিদ্ধান্তে জেসমিনও খুশি হয়েছে। শতবছর সাধনা করেও তার মেয়েটার জন্য তাওয়াফের থেকে ভালো স্বামী পেতো না। তাহমিনা চুপিচুপি শাশুড়িকে বলল,
-আম্মা যতই হোক পল্লব পুনমের বাবা। মেয়ের বিয়ে বাবাকে না জানিয়ে হয়ে যাবে?
নূর জাহান ছেলের বউকে সাবধান করে দিয়ে বললেন,
-ভুলেও এই কথা মুখে এনো না বৌমা। পল্লব খবর পেলে কেয়ামত ঘটিয়ে ফেলবে তবুও তার মেয়ের বিয়ে আমার নাতির সাথে হতে দিবে না। আগে বিয়েটা হয়ে যাক। পরে পল্লবকেও দেখে নেওয়া যাবে।
-কিন্তু আম্মা,,,
নূর জাহান কঠিন গলায় বললেন,
-তুমি কি তোমার ছেলের সুখ দেখতে পারো না বৌমা?
তাহমিনা মন খারাপ করে বলল,
-এমন কথা কেন বলছেন আম্মা?
-যেখানে হাজার হাজার মেয়ে দেখিয়েও তোমার ছেলেকে আজ পর্যন্ত কোন একটা মেয়েকে পছন্দ করাতে পারলাম না। সেখানে আমার নাতিটা নিজে থেকে বিয়ের কথা বলেছে। তুমি আর আমার গাধা ছেলেটা খুশি হওয়ার বদলে দুনিয়ার আজাইরা চিন্তা করে যাচ্ছ। নাকি তোমার পুনমকে পছন্দ না? সেজন্যই এমন করছো না তো!
-ছি ছি আম্মা। আপনি আমার সম্পর্কে এমনটা ভাবতে পারলেন! পুনমকে তো আমি আমার মেয়ের থেকেও বেশি স্নেহ করি।
তাওয়াফ জানে পেখমকে একা পেলেই তার ভাই বোন গুলো মেয়েটাকে নানান প্রশ্ন করে পাগল করে ফেলবে। পেখম তখন অস্বস্তিতে পড়ে যাবে। সে কথা ভেবেই তাওয়াফ এক সেকেন্ডের জন্য পেখমকে একা ছাড়ল না। সে সাথে আছে বলে দৃষ্টি, ইলহাম কেউ পেখমের কাছে ঘেঁষতে পারছে না।
সেজো চাচা আর ছোট চাচা বিয়ের কেনাকাটা করে নিয়ে এসেছে। সেজো চাচা তাড়া দিয়ে বললেন,
-বড়ো ভাইজানের সাথে কথা হয়েছে। কাজী সাহেবকে নিয়ে ফিরছে। তোরা তাড়াতাড়ি পুনমকে সাজিয়ে ফেল।
আকৃতি, প্রিয়া পেখমকে নিয়ে যেতে এলে পেখম অসহায় চোখে ওদের দিকে তাকাল। এমনিতেই সে লজ্জায় মরে যাচ্ছে। এখন আবার তাকে বউ সাজানো হবে। প্রিয়া, আকৃতি পেখমকে নিয়ে গেলে ছোট চাচা তাওয়াফকেও বললেন,
-তুইও যা। শেরওয়ানিটা পরে আয়। দেখি আমার বাঘের বাচ্চাকে বর সাজে কেমন লাগে।
-বিয়ে করার জন্য শেরওয়ানি পরাটা কি জরুরি? যে পোষাকে আছি এতে বিয়ে হবে না?
ছোট চাচা তাওয়াফের কাঁধে হাত রেখে বললেন,
-বিয়ে তো তুই রোজ রোজ করবি না। বর জীবনে একবারই সাজবি। আর যদি তোর শ্বশুরের পথ ধরিস তাহলে,,,
এতটুকু বলে তিনি হো হো করে হাসলেন। তাওয়াফ ছোট্ট একটা শ্বাস ফেলল। এখন শ্বশুরকে নিয়েও তাকে খোঁচা দেওয়া হবে।
আকৃতি পেখমকে সাজিয়ে দিলেও এই বিয়ের ব্যাপারে পেখমকে একটা প্রশ্নও করছে না। আকৃতি জানে পেখমকে যদি তার ভাই পছন্দ না করত তাহলে পৃথিবীর কেউ ভাইকে এই বিয়েতে রাজি করাতে পারত না।
প্রিয়া পেখমকে দেখে বলল,
-ও বাবা, কী সুন্দর লাগছে তোমাকে পুনম। তাওয়াফ ভাই চোখ সরাতে পারবে না।
-কিন্তু বিয়েটা কেন হচ্ছে?
দৃষ্টির প্রশ্ন শুনে প্রিয়া আকৃতি দু'জনই ওর দিকে তাকাল। দৃষ্টি কৌতূহল চেপে রাখতে পারছে না। এটা কোন স্বাভাবিক বিয়ে না। তারপরও সবাই স্বাভাবিক আচরণ করছে। এরকম মাঝরাতে কারো বিয়ে হয়? সেটাও আবার তাওয়াফ ভাই আর পেখমের!
দরজায় ইলহাম এসে জানাল,
-কাজী সাহেব চলে এসেছেন।
দৃষ্টি আর আকৃতি পেখমকে নিয়ে যাচ্ছে। ইলহাম পেছন থেকে প্রিয়ার হাত ধরে টেনে দাঁড় করাল। প্রিয়া চোখ পাকিয়ে তাকালে সাথে সাথে হাত ছেড়ে দিয়ে বলল,
-সরি সরি। কিন্তু আমার কনফিউশান এখনও কাটছে না। ভাই কি পুনমকে পছন্দ করত? বা করে?
প্রিয়া হাই তুলে বলল,
-এই কথা আপনি আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছেন? তাওয়াফ ভাইকে আমার থেকে বেশি আপনার জানার কথা।
-হুম। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আমি যা জানি না আপনি তা জানেন।
-চোখ কান খোলা রাখি বলেই জানি। আপনার মতো অন্ধ হয়ে চলি না।
পেখমকে নিয়ে আসছে। তাওয়াফের চোখ পেখমের উপর পড়লে বেচারা পলক ফেলতেও ভুলে গেল। নূর জাহান নাতির চেহারার উজ্জ্বলতা, চোখের দৃষ্টিতে মুগ্ধতা দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। এই চোখ জোড়া কখনও মিথ্যা বলতে পারে না। পেখমকে এনে তাওয়াফের পাশে বসানো হলো। পেখমের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে এসেছে। মাথা ঝিমঝিম করছে। এতকিছু ভেবে সে বিয়েতে রাজি হয়নি। বাবাকে শাস্তি দেওয়ার এটাই একমাত্র পথ ছিল। কিন্তু বউ সেজে পেখম এখন বুঝতে পারছে বিয়েটা শুধু কাগজে কলমে হয় না। বিয়ে সারাজীবনের একটা ব্যাপার। একবার কবুল বলে ফেললে সে আর তাওয়াফ ভাইকে ছেড়ে যেতে পারবে না।
কাজী লেখালেখির কাজ সেরে ফেলেছেন। এখন বিয়ে পড়ানো শুরু করবে। তাই ছেলের বাবা আর মেয়ের বাবাকে খুঁজছেন। তৌকির মির্জা এগিয়ে এসে বললেন,
-আমি ছেলের বাবা।
-আর মেয়ের বাবা?
তাওয়াফ কিছু বলত। কিন্তু তার আগেই জেসমিন বলে উঠল,
-মেয়ের বাবা নেই।
কাজী সাহেব কথাটার অন্য অর্থ বুঝলেন। ভাবলেন মেয়ের বাবা হয়তো এই পৃথিবীতেই নেই। তাই জিজ্ঞেস করলেন,
-বাবার অবর্তমানে মেয়ের গার্জিয়ান কে?
-আমি। মেয়ের মা। ওর চাচারাও সবাই এখানেই আছে।
কাজী সাহেব বিয়ে পড়ানো শুরু করে দিলেন। পেখমের থেকে সাইন নেওয়ার সময় হাত কাঁপার জন্য পেখম ঠিকমতো কলমই ধরতে পারছে না। কলম ধরলেও সাইন করতে পারছে না। তাওয়াফ তখন নিজের হাত বাড়িয়ে দিল। পেখমকে কলম ধরে সাইন করতে সাহায্য করল। এই দৃশ্য কোন রোমান্টিক মুভির সিনের থেকে কম ছিল না। ছেলের এই রূপ দেখে সকলে যেমন মুগ্ধ হলো তেমন চিন্তা মুক্তও হলো।
ইলহাম ঠোঁট কামড়ে ভাবছে বিয়ে তো হয়ে গেল। ভাইয়ের বাসর সাজানো হলো না। এই কাজটা কি সে করবে? করলে যদি আবার ভাইয়ের হাতে পেঁদানি খায়! ইলহামকে কিছু ভাবতে দেখে প্রিয়া টিটকারির সুরে জিজ্ঞেস করল,
-কী এত ভাবছেন হাতুড়ে ডাক্তার? নাকি এর পরেই আপনার সিরিয়াল এটা ভেবে খুশিতে তব্দা খেয়ে গেছেন?
ইলহাম ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে প্রিয়ার দিকে তাকাল। মনে মনে বলল,
-ভাই তো তার স্বপ্নের প্রেয়সী পেয়ে গেছে। কিন্তু আমার প্রেয়সীকে পাওয়া কি এতটা সহজ হবে? ভাইয়ের মতো ভালো কপাল তো আমার না।
বিয়ের সকল কাজ শেষ হলে নূর জাহান চুমোয় চুমোয় পেখমের মুখ ভরিয়ে দিলেন। জেসমিনকে কাঁদতে দেখে বললেন,
-তোমার মেয়ে আমার কাছে থাকবে তারপরও তুমি কাঁদছো?
জেসমিন বলল,
-খুশিতে কাঁদছি আম্মা। আমার মেয়েটা এই ছোট জীবনে অনেক কিছু দেখে ফেলেছে।
রাত একটা বেজে গেছে। এবার এদের ঘরে দিয়ে আসা উচিত। নূর জাহান পেখমকে নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। বললেন,
-চল নাতনি তোকে তোর নতুন ঘরে দিয়ে আসি।
তাকে তাওয়াফ ভাইয়ের ঘরে নিয়ে যাবে শুনেই পেখম কুঁকড়ে গেল। নূর জাহান বিষয়টা বুঝতে পেরেও আমলে নিলেন না। পেখম দাদীর দিকে তাকিয়ে নিভে যাওয়া গলায় বলল,
-আমাকে আমার ঘরে নিয়ে যাও দাদী, প্লিজ।
নূর জাহান মুচকি হেসে পেখমের কানে কানে বললেন,
-এখন থেকে তোকে আমার নাতির সাথেই থাকতে হবে। বিয়ে তো তোদের ইচ্ছেতেই হয়েছে। এখন তাহলে কেন বরের ঘরে যেতে আপত্তি করছিস শুনি?
বর! তাওয়াফ ভাইকে নিজের বর ভাবতেই পেখমের কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। নূর জাহান পেখমকে তাওয়াফের ঘরে নিয়ে এসে ঘরটা এমন সাদামাটা দেখে ইলহামকে বকতে লাগলেন।
-আমার নাতিনাতনি গুলাও হয়েছে আস্ত গাধা। ঘরটাকে তোরা ফুল দিয়ে একটু সাজাতে পারলি না। আমার নাতিটার কপালে বাসরঘরও জুটলো না।
দাদীর এসব কথাবার্তা শুনে পেখমের মাথা চক্কর দিয়ে উঠছে। কিসের বাসরঘর!
চলবে