#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৫০'
#জেরিন_আক্তার_নিপা
পেখমের পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। নিজের উপর তার কনফিডেন্স না থাকলেও তাওয়াফ ভাইয়ের পড়ানোর উপর আছে। এ যাত্রায় টেনেটুনে পাস করে ফেলবে। তাওয়াফ অফিস যাওয়ার পথে পেখম ও দৃষ্টিকে রোজ কলেজে নামিয়ে দেয়। আবার পরীক্ষা শেষে নিতে আসে। আজও কলেজ থেকে বের হয়ে পেখম দেখল তাওয়াফ ভাই গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাওয়াফ ভাইকে দেখেও অন্য দিনের মতো আজকে পেখম খুশি হতে পারল না। কারণ তার হায়ার ম্যাথ পরীক্ষা অনেক খারাপ গেছে। দৃষ্টিরও একই অবস্থা। তাওয়াফ ওদের মুখ দেখেই আন্দাজ করে ফেলল। তাই সে পরীক্ষা কেমন হয়েছে এব্যাপারে কোন প্রশ্নই করল না। দু'জন গাড়িতে উঠে বসলে তাওয়াফও ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসল। এদের নীরবতা ভাঙার অপেক্ষায় না থেকে তাওয়াফ জিজ্ঞেস করল,
-তোরা কি আজ আইসক্রিম খেতে যাবি?
দু'জনই না করে দিল। আজ আইসক্রিম গলা দিয়ে নামবে না। তবুও তাওয়াফ বাড়ি না গিয়ে ওদেরকে আইসক্রিম শপে নিয়ে এলো। গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়লেও দৃষ্টি পেখম কেউই নামছে না। তাওয়াফ ঘাড় ঘুরিয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে বলল,
-তোরা কি নামার কষ্ট করবি? নাকি আমি গিয়ে নিয়ে আসব?
দৃষ্টি পেখম একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পড়ল। তাওয়াফ আগে আগে যাচ্ছে। পেখম দৃষ্টির হাত আঁকড়ে ধরে বলল,
-তাওয়াফ ভাই আজ আমাদের উপর এত ভালোবাসা কেন দেখাচ্ছে?
দৃষ্টি চাপা গলায় বলল,
-তুই বউ লাগিস। তোর উপর ভালোবাসা দেখাতেই পারে। কিন্তু আমার উপর দয়া দেখানোর কারণ কী? আমাকে তো ধমক দিয়ে হার্ট ব্লক করিয়ে দেওয়ার কথা। অথচ তাওয়াফ ভাই একবারও জানতেই চাইল না আমাদের পরীক্ষা কেমন গিয়েছে।
তিনজন একটা টেবিলে বসে গেলে ওয়েটার এসে অর্ডার নিয়ে গেল। তাওয়াফ পাগল দুইটাকে দেখে ছোট্ট করে নিঃশ্বাস ফেলল।
-তোদের পরীক্ষা কি অনেক বেশি খারাপ হয়েছে?
তাওয়াফ ভালো করে জিজ্ঞেস করলেও ভয়ে দু'জনের একজনও কথা বলল না। মাথা নিচু করে বসে রইল।
-এটা কি তোদের জীবনের শেষ পরীক্ষা?
প্রশ্নটা শুনে দু'জনই তাওয়াফের দিকে দেখল। তাওয়াফ শান্ত কন্ঠে বলল,
-সামান্য একটা পরীক্ষা নিয়ে তোরা এমন করছিস যেন জীবনের শেষ পরীক্ষায় ফেল করে এসেছিস। এত বেশি টেনশন নেওয়ার কিছু নেই। পরীক্ষাই তো। পাস ফেল মানুষই করে।
দৃষ্টি চোখ বড়ো বড়ো করে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। পেখম একটু স্বস্তি পেলো। সে তাওয়াফ ভাইয়ের জন্যই ভয় পাচ্ছিল। কিন্তু এখন ভয় অনেকটা কমে গেছে। দৃষ্টি অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে ভাবছে, এটা তাওয়াফ ভাই-ই তো! না মানে, বিয়ের পর এত পরিবর্তন? তাওয়াফ ভাই পরীক্ষাকে সামান্য বলছে! তাহলে এতবছর যে সামান্য পরীক্ষার খাতায় নম্বর কম পাওয়ার জন্য তার ক্লাস নিয়ে এসেছে। দৃষ্টি মুখ বাঁকিয়ে মনে মনে বলল,
-বাবা গো বাবা, কী পরিবর্তন! কী পরিবর্তন!
***
ইলহাম মিস প্রতিবাদীর মধ্যে ইদানিং কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেছে। মিস প্রতিবাদী আগের মতো তার সাথে কথা বলে না। কথাবার্তা একেবারে বন্ধ করে দিয়েছে এমনও না। তবে আগের মতো সেই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ নেই। বাড়িতে ইলহাম প্রিয়ার সাথে আলাদা কথা বলার সুযোগ পাবে না ভেবেই ওর ভার্সিটি যাওয়ার সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। প্রিয়া ইলহামকে দেখেও না দেখার ভান করে রাস্তা পেরিয়ে অন্য পাশে চলে গেল। প্রিয়া চলে যাচ্ছে দেখে ইলহাম গাড়ি থেকে নেমে ডাকতে ডাকতে পেছন ছুটল।
-মিস প্রতিবাদী। যাচ্ছেন কোথায়? আমি এখানে।
প্রিয়া বিরক্ত মুখে দাঁড়াল। ইলহাম কাছাকাছি চলে এলে বলল,
-রাস্তাঘাটে এরকমভাবে ডাকাডাকি আমার একদম পছন্দ না। দয়া করে পরের বার এমন কিছু করবেন না।
প্রিয়ার কথা শুনে ইলহাম পুরো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। মেয়েটা কি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে? তাকে চিনতে পারছে না!
-মিস প্রতিবাদী, আমি ইলহাম।
-সেটা কি আমার অজানা?
-আমি তো ভেবেছিলাম আপনি হয়তো মাথায় ব্যথা ট্যথা পেয়ে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে বসে আছেন। তাই আমাকে চিনছেন না।
প্রিয়া যাবার তাড়ায় আছে। তাই সে বলল,
-আমার দেরি হচ্ছে।
-সেজন্যই তো ডাকছি। আমার গাড়ি ওখানে দাঁড় করানো।
প্রিয়া কপালে ভাঁজ ফেলে বলল,
-এই কথা আপনি আমাকে কেন বলছেন?
-আপনি আমার গাড়িতে করে যাবেন না?
-না।
ইলহাম আজ অবাকের উপর অবাক হচ্ছে। মিস প্রতিবাদীর হলোটা কী? এমন আজব আচরণ করছে কেন?
ইলহাম দুষ্টুমি মুড অফ করে সিরিয়াস হয়ে জিজ্ঞেস করল,
-আপনার কী হয়েছে প্রিয়া?
-আমার আবার কী হবে?
-আপনি আমার সাথে এরকম আচরণ কেন করছেন?
-আমি সবার সাথে এরকম আচরণই করি।
-সবাই আর আমি কি এক?
প্রিয়ার বিরক্ত লাগছে। যা তার চোখে মুখেই প্রকাশ পাচ্ছে।
-আপনি আমার কাছে সবার থেকে ভিন্ন হতে যাবেন কেন?
ইলহাম এতদিন যে কথাটা নিজের মনে লুকিয়ে ছিল। আজ তা বলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল।
-আমি ভেবেছিলাম আমি হয়তো আপনার জীবনে বাকি সবার থেকে একটু আলাদা। কারণ আমার জীবনে আপনি অনেক বেশি স্পেশাল।
-আমি যাচ্ছি। দেরি হচ্ছে।
প্রিয়া যতদ্রুত সম্ভব প্রস্থান করতে চাইল। কিন্তু ইলহাম প্রিয়ার হাত ধরে ফেলল। এতেই প্রিয়া রেগে আগুন হয়ে বলল,
-অসভ্যের মতো রাস্তাঘাটে মেয়েদেরকে হাত ধরে টানাটানি করা কোন ভদ্র ঘরের ছেলের কাজ না মিস্টার ইলহাম মির্জা। হাত ছাড়ুন আমার। নয়তো এক্ষুনি চিল্লিয়ে মানুষ জড়ো করব।
ইলহামের কীরকম প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত সে সেটাই ভুলে গেল। প্রিয়ার হাত ছেড়ে দিয়ে অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে রইল। প্রিয়া দাঁড়াল না। দ্রুত পা চালাল। ইলহাম হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রিয়া ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকালেও চোখের পানি আটকাতে পারল না। মানুষটার সাথে এতটা খারাপ ব্যবহার করতে চায়নি সে। তবে এছাড়া কোন উপায়ও ছিল না। মানুষটা তাকে পছন্দ করে এটা উনার হাবভাবে চালচলনে প্রিয়া অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিল। সে-ও মানুষটার প্রতি দূর্বল না হওয়ার যথেষ্ট চেষ্টা করেছে। তবে তার সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
প্রিয়া জানে তার অবস্থান কোথায়। গতকাল তার চোখ আরও ভালো ভাবে খুলে গেছে। ড্রয়িংরুমে সব মহিলারা বসে গল্প করছিল। প্রিয়াও ছিল সেখানে। গল্পে গল্পে একসময় ইলহামের বিয়ের কথা উঠল। ইলহামের মা তাহমিনাকে বলছে,
-তোমার ছেলেটার তো একটা গতি হয়েছে। এবার আমার ছেলেটারও একটা গতি করে দাও না ভাবী। বিয়ের বয়স তো হয়েছে। কিন্তু এই ছেলেকে বিয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেই বলে, এখন না। এখন না তো কবে? বয়স তো বসে থাকার জিনিস না।
জাকিয়াকে ছেলের বিয়ে নিয়ে এত বেশি চিন্তা করতে দেখে তাহমিনা বলল,
-ছেলের বিয়ের চিন্তা করে তুই তো দেখছি চুলে পাক ধরিয়ে ফেলবি।
-চুলে পাক ধরে গেছে। কত ভালো ভালো ঘর থেকে সম্বন্ধ আসে। মেয়ের বাবারা নিজেরা প্রস্তাব নিয়ে আসে। কিন্তু এই ছেলে কোনটাতেই রাজি হয় না।
তাহমিনা ধারণা করে বলল,
-ইলহামের পছন্দের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিস?
-দূর ভাবী, তুমি যে কী বলো! মেয়ে পছন্দ করার সময় পাবে কই ও? সারাদিন তো হাসপাতালেই থাকে। তাছাড়া ছেলের বউ আমি আমার পছন্দের আনব।
প্রিয়া নীরব শ্রোতা হয়ে সবটা শুনে গিয়েছে। ভুলতেই বসেছিল এবাড়িতে সে আশ্রিতা হয়ে থাকছে। এদের সাথে তাদের কোন জোড় নেই। মনে মনে মানুষটাকে সে-ও হয়তো পছন্দ করতে শুরু করেছিল। ভালো হয়েছে মন তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগে চোখ খুলে গেছে। তাই প্রিয়া আজ ইচ্ছে করেই ইলহামের সাথে ওরকম ব্যবহার করেছে। লোকটা তাকে ঘৃণা করুক এতেই দু'জনের ভালো হবে।
****
পেখমের শেষ পরীক্ষার দিন কলেজ থেকে বের হয়ে দেখল তার বাবা দাঁড়িয়ে আছে। মুহূর্তে পেখমের মেজাজ তিক্ততায় ভরে উঠল। আশেপাশে তাওয়াফ ভাইকে খুঁজল সে। আজ কি তাওয়াফ ভাই আসেনি? দৃষ্টি পল্লব মির্জাকে দেখে পেখমের হাত শক্ত করে ধরল।
কতগুলো দিন পর মেয়েটাকে দেখেছে। পল্লব মির্জা মেয়ের দিকে এগিয়ে এলেন। হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলেন,
-পরীক্ষা কেমন দিয়েছ মামনি?
পেখম কোন জবাব দিল না। পল্লব মির্জা আবার জিজ্ঞেস করলেন,
-আমার মামনিটা আমাকে ছাড়া কেমন করে থাকছে? পাপার কথা কি মনে পড়ে না মামনি?
পেখম কঠিন চোখে বাবার দিকে চাইল। এতকিছুর পরেও কোন মুখে তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে?
-তোমাকে ছাড়া থাকছি বলেই অনেক বেশি ভালো আছি।
পল্লব মির্জা মেয়ের অভিমান, কটুকথা মাথা পেতে নিলেন।
-তোমার পাপা না বুঝে অনেক বড়ো ভুল করে ফেলেছে মামনি। এরজন্য পাপাকে তো শাস্তি দিয়েছ। আমি আর কী করলে তুমি আমাকে ক্ষমা করবে?
পেখম বিদ্রুপের সুরে বলল,
-না বুঝে! হাসালে।
-আচ্ছা বুঝেই করেছি। মানুষ মাত্রই তো ভুল মামনি। আমি এখন আমার ভুল সংশোধন করে নিতে চাই।
-কীভাবে সংশোধন করবে তুমি? ওই মহিলাকে ছেড়ে দিবে?
-হ্যাঁ দেব। আমার মেয়ের জন্য আমি সব করতে পারি।
-তুমি আমার জন্য কতটুকু করতে পারো আমি জানি। আমার মা'র জন্য কী করতে পারবে সেটা দেখতে চাই। মা তোমাকে কখনও ক্ষমা করবে না। আর মা তোমাকে ক্ষমা না করলে আমিও করব না।
রাস্তায় জ্যাম থাকায় তাওয়াফের আসতে আজ একটু দেরি হয়ে গেছে। সে গাড়িতে বসা অবস্থায়ই দেখল পেখম তার বাবার সাথে দাঁড়িয়ে আছে। তাওয়াফ তাড়াহুড়ো করে গাড়ি থেকে নেমে পেখমের কাছে চলে এলো। পেখম তাওয়াফকে দেখে স্বস্তি পেলো। তাওয়াফকে দেখে পল্লব মির্জার মাথায় আগুন জ্বললেও তিনি নিজেকে শান্ত রাখলেন।
-শ্বশুর মশাই এখানে কী করছেন? মেয়েকে দেখতে এসেছেন?
পল্লব মির্জা দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে নিলেন। তাওয়াফের ঠোঁটে অবশ্য ক্ষীণ হাসি। তাওয়াফ পেখমের দিকে তাকিয়ে অপরাধী মুখ করে বলল,
-রাস্তায় জ্যাম ছিল। তাই আসতে দেরি হয়ে গেছে। স্যরি!
দৃষ্টি জামাই শ্বশুরের মধ্যকার নীরব যুদ্ধ দেখে মনে মনে বলল,
-সিনেমা থেকে কোন অংশে কম না!
তাওয়াফ পল্লব মির্জাকে দেখিয়ে পেখমের হাত ধরে বলল,
-বাসায় চল।
পেখম ভেবেছিল বাবা এক্ষুনি তাওয়াফ ভাইকে কিছু বলবে। বা হাতাহাতিও লেগে যেতে পারে। কিন্তু তার ভাবনা মতো তেমন কিছুই হলো না। শান্ত মুখে পল্লব মির্জা বললেন,
-আমি আমার মেয়েকে বাড়ি নিতে এসেছি।
পেখম জবাব দেওয়ার আগে তাওয়াফ বলল,
-আপনি নিতে চাইলেই তো হবে না। পুনমেরও যাওয়ার ইচ্ছা থাকতে হবে।
-আমার মেয়ের ইচ্ছা আছে।
তাওয়াফ শ্বশুরের কথা কানেই নিল না। পেখমের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-যাবি তুই?
-না।
-শুনেছেন নিশ্চয়। আমার বউ আপনার সাথে যেতে ইচ্ছুক না। ওর যাওয়ার ইচ্ছা থাকলে আমি ভেবে দেখতাম।
তাওয়াফ শ্বশুরের সামনে থেকে পেখমকে হাত ধরে নিয়ে এলো। পল্লব মির্জা রাগে থরথর করে কাঁপছেন। গাড়িতে বসে এব্যাপারে কোন কথাই হলো না। তিনজনই নিশ্চুপ।
****
পরীক্ষা দিয়ে ফেলে পেখমের মাথা থেকে ভারি একটা বোঝা নেমে গেছে। এখন সে মুক্ত পাখি। অনেকদিন পর আজ ড্রয়িংরুমে আড্ডার আসর জমলো। খাওয়াদাওয়া, গল্পগুজব সাথে ক্যারাম খেলা। বিকেলটা জমে উঠেছে। সবার মাঝে প্রিয়াকে অন্যমনষ্ক লাগছে। যেন এখানে থেকেও নেই সে। আকৃতি প্রিয়াকে ঠেলে দিয়ে বলল,
-তোমার আবার কী হয়েছে? কার কথা এত ভাবছ শুনি?
প্রিয়া জোর করে হাসল। মনে মনে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে সে। তাই কোন একটা বাহানা দিয়ে প্রিয়া সেখান থেকে উঠে এলো। তাওয়াফ ভাইয়ের সাথে কথা বলতে হবে তাকে। তাওয়াফ নিচেই যাচ্ছিল। মাঝপথে প্রিয়ার সাথে দেখা হয়ে গেল।
-কোথাও যাচ্ছ?
-আপনার সাথেই দেখা করতে এসেছিলাম।
-আমার সাথে?
-হুম।
তাওয়াফ আর নিচে গেল না। প্রিয়া মনে মনে কথাগুলো সাজিয়ে নিচ্ছে। মনকে শক্ত করে ফেলেছে সে।
-তাওয়াফ ভাই আমাদের জন্য ছোট একটা বাসা দেখে দিন।
কথাটা শুনে তাওয়াফের কপালে অনেকগুলো ভাঁজ পড়তে দেখা গেল।
-তুমি কি আমাদের বাড়ি থেকে চলে যেতে চাচ্ছ?
-হুম।
-কেন? এখানে থাকতে কি তোমার কোন অসুবিধা হচ্ছে?
-না।
-তাহলে?
-আমি আর মা তো সারাজীবন আপনাদের বাড়িতে থাকতে পারব না। আপনারা সবাই অনেক ভালো মানুষ। তাই হয়তো আমাদের বাইরের কেউ ভাবেন না। কিন্তু আমি মা'কে নিয়ে আপনাদের বাড়িতে আর থাকতে চাই না।
তাওয়াফ প্রিয়ার মুখের দিকে কতক্ষণ তাকিয়ে থেকে সহজ গলায় বলল,
-ঠিক আছে। তুমি যেমনটা চাইবে।
প্রিয়া মনে মনে স্বস্তি বোধ করল। সে ভেবেছিল তাওয়াফ ভাই অনেক প্রশ্ন করবে। প্রিয়া বুঝতে পারছে তার আচরণে তাওয়াফ ভাই কষ্ট পেয়েছে। মাথা নিচু রেখে প্রিয়া বলল,
-আরেকটা অনুরোধ।
-বলো।
-দুই এক দিনের মধ্যেই আমি মাকে নিয়ে নতুন বাসায় উঠতে চাচ্ছি।
তাওয়াফ ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলল। সে বুঝতে পারছে প্রিয়া কোন কারণেই চলে যেতে চাচ্ছে। তবে কারণটা কী তা এখন ধরতে পারছে না।
***
এর মাঝে ফুপু কল করে তাওয়াফকে আরেকটা খবর জানাল। ইরিনের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। তাওয়াফ ভেবে পাচ্ছে না এমন হুট করে ইরিনের বিয়ে ঠিক হওয়ার কারণ কী। ফুপু কি তাহলে ওই ঘটনার জন্যই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে! তাওয়াফ জানতে চাইল,
-ইরিনের মতামত নিয়ে বিয়ে ঠিক করেছ ফুপু? ইরিন কি বিয়েতে রাজি হয়েছে?
ফুপু খুশি-খুশি গলায় জানাল।
-ইরিন রাজি হয়েছে। সেদিন তুই ইরিনকে বোঝানোর পরই মেয়েটা নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। ইরিন নিজে আমাকে বলেছে, আমি না বুঝে তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি মা। কিন্তু আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। এখন তোমরা আমাকে যা বলবে আমি তা-ই করব। বিয়েও তোমাদের পছন্দেই করব।
ফুপুর খুশি তাওয়াফকে ছুঁতে পারছে না। ইরিনের জন্য তার চিন্তা হচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে ইরিন শুধু ফুপু ফুপাকে খুশি করতে বিয়েতে রাজি হয়েছে।
চলবে
আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক। অনেক দিন পর গল্প এলো। মোটামুটি বড় পর্বই দিয়েছি। আপনারাও কমেন্ট করবেন 💜