#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৫৬'
#জেরিন_আক্তার_নিপা
পেখমের চোখের নোনাজল তাওয়াফের হাত স্পর্শ হতেই সে বুঝতে পারল পেখম কাঁদছে।
-পুনম আমি। তুই কি আমাকে চিনতে পারছিস না?
তাওয়াফ ভাই! পেখম ধস্তাধস্তি থামিয়ে দিয়ে শরীরটাকে তাওয়াফের উপর ছেড়ে দিয়ে কাঁদতে লাগল। পেখম চেঁচালে মানুষ জড়ো হবে ভেবে মুখ চেপে ধরেছিল। এই মেয়ে যে এতটা ভয় পাবে কল্পনাও করেনি।পেখম কাঁদছে। তাওয়াফ পকেট থেকে ফোন বের করে ফ্ল্যাশ অন করে পেখমের মুখে ধরলে পেখম চোখ বন্ধ করে নিলো। পরক্ষণে ফোনের ফ্ল্যাশ নিজের উপর ধরে বলল,
-চোখ খোল পুনম। দেখ, এটা আমি। তোর তাওয়াফ ভাই।
পেখম চোখ খুলে তাওয়াফের দিকে তাকিয়ে আকষ্মিক তাওয়াফের উপর ঝাপিয়ে পড়ল। বোঝাই যাচ্ছে অনেক বেশি ভয় পেয়ে গিয়েছে। তাওয়াফ ওকে আগলে নিয়ে মাথার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে শান্ত করার চেষ্টা করছে।
-ভয় পেয়েছিস? কেন ভয় পেয়েছিস পাগল? আমাকে তুই চিনিস না?
পেখম ফোঁপাতে ফোঁপাতেই জবাব দিল,
-অন্ধকারে কীভাবে চিনব?
তাওয়াফ হাসল। অন্ধকার কেন তাওয়াফ সব অবস্থাতেই পেখমকে চিনে নিতে পারবে।
-আমার স্পর্শও বুঝতে পারিসনি?
-কীভাবে বুঝব?
এটাও কথা। বিয়ে হয়ে গেলেও সে পেখমের হাত কয়বার ধরেছে? পেখমের কান্না এখনও থামছে না। কাঁদতে কাঁদতেই সে অভিযোগ করল,
-আপনি কেন আমাকে ভয় দেখাতে চেয়েছেন তাওয়াফ ভাই?
-আমি তোকে ভয় দেখাতে চাইনি। তুই এখানে আছিস আমি তো এটাও জানতাম না। তোর শব্দ পেয়ে এসেছিলাম। তখন তুই পড়ে যাচ্ছিলি বুঝতে পেরে ধরে নিয়েছি।
-আমাকে পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচিয়েছেন ভালো কথা কিন্তু আমার মুখ কেন চেপে ধরেছেন?
-মুখ চেপে না ধরলে তুই চিৎকার করতি। চোর এসেছে ভেবে মানুষজন লাঠি নিয়ে ছুটে আসত।
-আপনি মানুষের চিন্তা করেছেন। আমার চিন্তা করেননি। ভয়ে যে আমার দম বেরিয়ে গিয়েছিল।
তাওয়াফ অপরাধী মুখে হাসল। পেখম এখনও তাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। তাওয়াফও আরেকটু শক্ত করে পেখমকে ধরে বলল,
-আমি বুঝতে পারিনি তুই এতটা ভয় পেয়ে যাবি। এবারের মতো ক্ষমা করে দে।
পেখমের কান্না কিছুটা থেমেছে। সে তাওয়াফ ভাইকে জড়িয়ে ধরেছে বুঝতে পেরে লজ্জা পেয়ে ছিটকে সরে গেল। ভয় পেয়ে কী কান্ড করে বসেছে! তাওয়াফ ভাই না জানি কী ভাবছে। তাওয়াফ পেখমের অবস্থা বুঝতে পেরে পরিস্থিতি সহজ করতে জিজ্ঞেস করল,
-অন্ধকারে একা কোথায় যাচ্ছিলি?
পেখম ড্যাবড্যাব করে তাওয়াফের দিকে তাকিয়ে ভাবছে, তাওয়াফ ভাইকে বললে উনি কি বকবেন?
-একা যাচ্ছিলাম না।
-তাহলে? সাথে আর কে ছিল?
-সবাই ছিল।
-এখন ওরা কোথায়?
পেখম চোখ নিচু করে নিয়ে মিনমিন করে বলল,
-ইরিন আপুর বর আসবে। বাড়ির পেছনে সবাই উনার সাথে দেখা করতে গিয়েছে। আমিও যাচ্ছিলাম।
সব পাগল একসাথে হয়ে ভালোই পাগলামি করছে। তাওয়াফ পেখমকে জিজ্ঞেস করল,
-তুইও কি যেতে চাস?
ঝট করে তাওয়াফের দিকে তাকিয়ে পেখম জিজ্ঞেস করল,
-আপনি নিয়ে যাবেন?
-তুই যেতে চাইলে,,,
তাওয়াফের কথার মাঝখানেই পেখম খুশি হয়ে বলে উঠল,
-যেতে চাই। নিয়ে যান প্লিজ।
পেছন থেকে পেখম আবার কোথায় চলে গেছে? পেখমকে খুঁজতে খুঁজতে আকৃতি আর দৃষ্টি ফিরে আসছিল। মাঝপথে দু'জনের সাথে দেখা হয়ে গেল। আকৃতি ধমকে বলল,
-না বলে পেছন থেকে কোথায় চলে গিয়েছিলি তুই? তোকে না পেয়ে কতটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম জানিস?
পেখম তাওয়াফের দিকে চোখে ইশারা করে বলতে যাচ্ছিল,
-তাওয়াফ ভাইয়ের জন্যই তো,,,
বলতে বলতে থেমে গেল। আবার ভাই ডেকে ফেলেছে। তাওয়াফ পেখমের কথা কাটিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-বাকিরা কোথায়?
দেখা গেল ইরিনের বর তাওয়াফকে চিনে। তাওয়াফকে দেখেই সে সালাম দিল।
-আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া।
ইরিন অবাক হয়ে তাকাল। মুখে না বললেও মনে মনে ভাবছে, তাওয়াফ ভাইকে এই লোক কি করে চিনে? উনার তো তাওয়াফ ভাইকে চেনার কথা না।
সে রাতে বাড়ি ফিরে ধরা পড়ে গেলেও তাওয়াফ সবাইকে বাঁচিয়ে নিল। ফুপু বকাবকি শুরু করলে তাওয়াফ বলল,
-ওরা আমার সাথে গিয়েছিল ফুপু। আমিই নিয়ে গিয়েছিলাম।
ব্যস এই কথা শোনার পর ইভা আর কী-ই বা বলবে। তাওয়াফ যা করে তার কাছে তা-ই ঠিক মনে হয়।
****
আজকে ইরিনের গায়ে হলুদ। সকাল থেকেই হলুদ বাটাবাটি শুরু হয়ে গেছে। পল্লব মির্জা গতকাল এলেও এখন পর্যন্ত মেয়ের সাথে কথা বলতে পারেনি। পেখম বাবাকে দেখলেই তাওয়াফের আশেপাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। বরের বাড়ি থেকে হলুদ নিয়ে মানুষ আসবে। তারাও নাকি যাবে। এই কথা শুনে সবাই আরও বেশি এক্সাইটেড হয়ে গেল। শহরে এরকম হয় না। আজকাল ছেলেমেয়ের একসাথেই হলুদ হয়। পেখম ফুপুকে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-ফুপু কখন যাব আমরা?
ইভা জানাল,
-ছেলের বাড়ি থেকে আগে আসবে। ওরা ইরিনকে হলুদ দিয়ে গেলে পরে তোরা যাবি।
-আচ্ছা।
-দেরি করিস না। গোসল করে তৈরি হয়ে থাক। মানুষ চলে এলে আর সাজগোজের সময় পাবি না।
-হুম।
তাওয়াফ, ইলহাম দু'জনই আজ ফুপার সাথে কাজে তদারকি করছে। হলুদ নিয়া আসা মানুষদের জন্য বিরিয়ানি রান্না হচ্ছে। ইলহাম বাবুর্চির কাছে গিয়ে মাঝে মাঝে নিজেও একটু নাড়াচাড়া করছে। তাওয়াফ ব্যস্ত থাকলেও পেখমের দিকে নজর রাখছে। পেখম দৌড়ে পুকুর ঘাটের দিকে যাচ্ছে দেখে তাওয়াফ ডেকে বলল,
-ওদিকে কোথায় যাচ্ছিস?
-পুকুর ঘাটে।
-সাতার পারিস?
-পুকুরে নামব না। পাড়ে বসে থাকব।
-পাড়েও বসতে হবে না। পা পিছলে গেলে তখন কী করবি?
দূর! তাওয়াফ ভাই তাকে এত শাসন বারণের মাঝে কেন রাখে? সে কি ছোট মানুষ নাকি?
ফুপা তাওয়াফ ভাইয়ের সাথে কী যেন কথা বলছে এই সুযোগে পেখম পুকুর ঘাটে চলে এলো। আকৃতি আপু গোসলে ঢুকেছে। দৃষ্টি ইরিন আপুর কাছে। ফুল পুকুর ঘাটে আছে শুনে সে-ও চলে এসেছে। অথচ এখানে এসে দেখে ফুল নেই।
****
আজান ঘরে বলে আছে। সকাল থেকে একবারও বাইরে বের হয়নি। নাজমা ঘরে এসে বলল,
-কী পরবি তুই? পাঞ্জাবি নামিয়ে দেব?
-পাঞ্জাবি কেন পরব?
-ও মা, ছেলে বলে কী! একটু পরই তো ইরিনের শ্বশুরবাড়ি থেকে মানুষ আসবে।
-মানুষ এলেও ওরা আমাকে দেখতে আসবে না মা। আর তাছাড়া আমি ঘর থেকে বেরোবো না।
নাজমা মনে মনে দুঃখী হলেও চেহারায় প্রকাশ পেতে দিল না। তার ছেলেটা আর কতদিন মানুষের থেকে নিজেকে এভাবে লুকিয়ে রাখবে?
তটিনী দরজার সামনে থেকে বলল,
-আন্টি আঙ্কেল আপনাকে খুঁজছে।
নাজমা যাবার আগে ছেলেকে বলে গেল।
-তোর বাপ আবার কেন খুঁজছে দেখে আসি।
নাজমা দরজা দিয়ে বেরুনোর সময় তটিনীকে দেখে বলল,
-তুমি এখনও তৈরি হওনি! মানুষ তো চলে আসবে।
-একটু পরেই হবো।
নাজমা আগে চলে গেছে। তটিনীও যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়েছে ঠিক সেসময় আজান পেছন থেকে ডেকে উঠল,
-ফুল দাঁড়ান।
তটিনী এতদিনে তার ফুল নামটা আপন করে নিয়েছে। আজ আজানের মুখে এই নাম শুনে অন্যরকম অনুভূতি হলো। তটিনী এখানে দাঁড়িয়ে নিজেকে অপমানিত করতে চায় না। লোকটা সুযোগ পেলেই তাকে অপমান করে। গতকাল তো বললোই, আপনি আমার আশেপাশে আসবেন না। তটিনী চলে যাচ্ছে দেখে আজান বলল,
-আমি কিন্তু আপনার পেছনে গিয়ে আপনাকে সরি বলতে পারব না। জানেনই তো আমি হাঁটতে পারি না।
তটিনীর পা থেমে গেল। ওকে দাঁড়িয়ে পড়তে দেখে আজান হাসল। বলল,
-আমি জানি আমার উপর আপনার সহানুভূতি কাজ করে। মানুষের চোখে আমি এই সহানুভূতিটাই দেখতে চাই না। সেজন্যেই আপনার সাথে ওরকম ব্যবহার করে ফেলেছি।
তটিনী ফিরে তাকিয়ে ব্যথাতুর কন্ঠে বলল,
-পৃথিবীর সব অনুভূতিই কি আপনার কাছে সহানুভূতি মনে হয়?
মেয়েটার জবাবে আজান অবাক হলো।
-আমার জন্য কোন সুস্থ মানুষের সহানুভূতি ছাড়া অন্য অনুভূতি আসবে?
-কেন আসবে না? আপনি নিজের ত্রুটিটাকে এত বড় করে কেন দেখেন?
-আপনি বড়ো করে দেখেন না?
-না।
আজান অপলক তটিনীর দিকে তাকিয়ে রইল। কেউই আর কোন কথা বলল না৷ তবে আজান অনেক কিছুই বুঝে নিল।
***
পেখম পুকুর ঘাটে বসে কতক্ষণ পানিতে পা ভিজিয়ে রাখল। হাতে পানি নিয়ে খেলা করলো। উঠে আসার সময় অসাবধানতায় পিচ্ছিল সিঁড়িতে পা পড়ে ঝপাৎ করে পুকুরে পড়ে গেল। পেখম সাঁতার জানে না। তাই পানি খেয়ে ডুবে যেতে লাগল। এসময় পুকুরের ওই পাশে থাকা ছোট একটা ছেলে চিৎকার করে ডাকতে লাগল,
-মা, মা একটা মেয়ে পুকুরে পড়ে গেছে।
ছেলেটার মা-ও কাছাকাছিই ছিল। সে এসে দেখল এটা তো ইরিনদের মেহমান। মহিলা চেঁচাচেচি লাগিয়ে দিল।
-কে কোথায় আছো, এদিকে আসো। ইরিনের নানির বাড়ির এক মেয়ে পুকুরে পড়ে গেছে।
কথাটা তাওয়াফের কানে যেতেই তাওয়াফ সর্তক হয়ে গেল। একটু আগে পেখমই ওদিকে গেছে। তাওয়াফ ফোন হাতে কথা বলছিল। সে হাত থেকে ফোন ফেলে দিয়ে চোখের পলকে ছুটে এসে পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ল।
যতটুকু পানি খাওয়ার পেখম খেয়ে ফেলেছে। তাওয়াফ পেখমকে প্রায় অচেতন অবস্থায় পেলো। দু'হাতে পেখমকে ধরে পানির উপর ভাসিয়ে রাখল। পেখম তাওয়াফের বুকে হেলে পড়লে তাওয়াফ ওকে বুকে জড়িয়ে নিল। পেখমের নেতিয়ে পড়া মুখের দিকে তাকিয়ে তাওয়াফের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। হাত-পা কাঁপছে তার। কথা বলার সময় গলাও কেঁপে উঠল,
-পুনম। এই পুনম, চোখ খোল। দেখ, কিছু হয়নি তোর। পুনম।
পেখম ভেবেছিল সে হয়তো আজ মরেই যাবে। এখন তাওয়াফ ভাইকে চোখের সামনে দেখে ভয় কেটে গেলেও জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল। পেখম ঠিক আছে বুঝতে পেরে তাওয়াফ স্বস্তির নিঃশ্বাস নিল।
-ভয় পেয়েছিস? আমি তোকে পুকুরের কাছে আসতে না করেছিলাম।
এতক্ষণে একথা জানাজানি হলে পেখমদের বাড়ির সবাই চলে এসেছে। জেসমিন কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে। নূর জাহান, গোলাপ জান দু'জনেরই চোখ-মুখ শুকিয়ে গেছে। আকৃতি আতঙ্কিত গলায় বলল,
-পেখম কখন পুকুর ঘাটে এসেছিল? ও তো ঘরে ছিল।
ইলহাম বেশি টেনশনে বলে উঠল,
-ছাগলটাকে উপরে তুলে এনে এক থাপ্পড় দাও। সাঁতার না জেনেও কোন সাহসে একা একা পুকুরে আসে।
তাওয়াফ পেখমকে নিয়ে উঠে আসার জন্য ওকে কোলে তুলে নিল। পেখমের পরনে সাদা রঙের একটা জামা। যা ভিজে গিয়ে শরীরের সাথে লেপ্টে আছে। তাওয়াফ পাড়ের দিকে তাকিয়ে দেখল। পুরুষ, মহিলা অনেক মানুষই আছে। এভাবে পেখমকে নিয়ে যাওয়া যাবে না। ইলহামের দিকে চোখ গেলে তাওয়াফ বলল,
-তোর শার্ট দে।
ইলহাম ভ্যাবাচেকা খেয়ে জানতে চাইল,
-কী!
-তোর পরনের শার্ট খুলে দে।
-তুমি কি মানুষকে আমার সিক্স প্যাক দেখাতে চাচ্ছ!
তাওয়াফ কঠিন চোখে তাকাল। ইলহাম কতক্ষণ বোকার মতো ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে থেকে কিছু বুঝতে পেরে শার্ট খুলে ঘাটে নেমে তাওয়াফের হাতে দিল। তাওয়াফ সেই শার্ট পেখমের গায়ে পড়িয়ে দিয়ে ওকে নিয়ে পাড়ে উঠে এলো। দৃশ্যটা দেখে তাওয়াফের বাড়ির সবাই যেমন খুশি হয়েছে তেমন এখানকার মানুষ গুলোও তাওয়াফের প্রশংসা করছে। এক মহিলা বলেই বসল,
-দেখেছ ছেলে তার বউকে কতটা ভালোবাসে! পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ে বউয়ের জীবন বাঁচিয়েছে।
তাওয়াফ এখানে দাঁড়ায়নি। পেখমকে ওভাবে কোলে নিয়েই সকালের সামনে দিয়ে বাড়ির ভেতর যাচ্ছে। পেখমও আজ অন্য দিকে তাকাচ্ছে না। তাদের কে দেখছে, কে কী বলছে কোনকিছুর পরোয়া করছে না। পলকহীন চোখে শুধু তাওয়াফকেই দেখে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে পেখম একটা জিনিস উপলব্ধি করেছে। সে শুধু তাওয়াফ ভাইকে পছন্দই করে না। তাওয়াফ ভাইকে সে ভালোবাসে। যা এতদিন বুঝতে পারেনি। পেখম যখন ডুবে যাচ্ছিল, মনে হয়েছিল আজই হয়তো তার শেষ দিন। তখন অন্য কারো কথা মাথায় আসেনি। এমনকি বাবা মা'র কথাও ভাবেনি। যার কথা পেখমের মনে পড়েছে, শেষ বার যার মুখটা দেখতে ইচ্ছে করেছে সে আর কেউ না তাওয়াফ ভাই।
চলবে