#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৬৮'
#জেরিন_আক্তার_নিপা
সকাল থেকেই হলুদের আয়োজন শুরু হয়ে গেছে। তাওয়াফের ঘাড়ে সব দায়িত্ব থাকায় বেচারাকে প্রচুর খাটতে হচ্ছে। পেখম অবশ্য একটু পরপর এসে তার বরের খোঁজ নিয়ে যাচ্ছে। তাওয়াফ ট্রাউজারের পকেট থেকে ফোন আর ওয়ালেট বের করে পেখমের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
-এগুলো রাখ।
-আপনি নাস্তা করবেন না?
-করব।
-কখন?
-একটু পরে।
পেখম চোখেমুখে অসন্তোষ নিয়ে বলল,
-একটু পরে না। এখন খেতে আসুন। খেয়েদেয়ে পরেও কাজ করা যাবে।
তাওয়াফ পেখমের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল। মেয়েটা রাগ করলে দেখতে আরও বেশি সুন্দর লাগে। যখন বউ বউ অধিকার দেখায় তখন টুপ করে গালে একটা চুমু খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে।
পেখমের বাড়ি থেকে সবাই এসেছে। শুধু পল্লব মির্জাই আসেনি। পেখম রাগ করে মায়ের সাথে কথা বলছে না৷ বাবা কেন তাওয়াফ ভাইকে চড় মেরেছে সেই রাগ পেখম মায়ের উপর দেখাচ্ছে। গোলাপ জান নাতনিকে বুকে জড়িয়ে ধরলে পেখম বলল,
-তুমি তো আমাকে ভালোবাসো না৷ তাহলে এত আদর কেন করছো?
-আদর কই করতাছি খবিশ? তোরে আদর করার আমার ঠেকা পড়ছে।
আজানকে দেখে পেখম দৃষ্টি দু'জনই ছুটে গেল। ভাইয়ের হালচাল জানার আগে জিজ্ঞেস করল,
-ফুলকে পেয়েছ আজান ভাই?
-এখনও পাইনি।
পেখম মন খারাপ করে বলল,
-ওর কি স্মৃতিশক্তি ফিরে এসেছে? ফুল কি আমাদের কথা ভুলে গেছে?
বোনদের মন খারাপ হচ্ছে দেখে আজান বলল,
-হয়তো ভুলেনি।
দুপুরে পেখম পুরো বাড়ি খুঁজেও তাওয়াফ ভাইকে কোথাও পেলো না। এই লোক আবার কোথায় চলে গেল? পেখম কাউকে খুঁজছে দেখে দৃষ্টি জিজ্ঞেস করল,
-কাকে খুঁজছিস রে?
-তোর ভাইকে।
দৃষ্টি গালে হাত দিয়ে টেনে টেনে বলল,
-বাবাহ আমার ভাই! হ্যাঁ, তোর তো এখন জামাই। তা জামাইকে কি এক মিনিটের জন্যও চোখের আড়াল হতে দিবি না?
-না।
-হায় কত্ত ভালোবাসা!
পেখম দৃষ্টির চুল টেনে দিয়ে বলল,
-ভালোবাসার দেখেছিস কী!
তাওয়াফ দুপুরের পর ফিরেছে। খবর পেয়েই পেখমও ছুটে এসেছে। ঘরে এসেই জিজ্ঞেস করল,
-কোথায় গিয়েছিলেন আপনি?
তাওয়াফ শার্ট খুলতে খুলতে বলল,
-ফ্যাক্টরিতে।
পেখম আশ্চর্য গলায় বলল,
-আজকেও আপনার ফ্যাক্টরিতে যেতে হবে!
-শ্রমিকদের মধ্যে ঝামেলা লেগে গিয়েছিল। আমি না গেলে সমাধান হতো না।
পেখম বুঝলো। তাই রাগটাও আর রইল না। তাওয়াফ ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে বলল,
-শাওয়ার নিয়ে আসি।
পেখমও এই ফাঁকে তাওয়াফের কাপড় বের করে রাখল। একটু পরে তাকেও তৈরি হতে হবে। এর মাঝে বড়মা এসে পেখমকে ডেকে নিয়ে গেল। তাওয়াফ ভাইয়ের নানির বাড়ি মানুষ এসেছে। তাকে দেখতে চাচ্ছে। তাওয়াফ ভাইয়ের নানির বাড়ির মানুষ গুলো যেন কেমন। নিজেদের অনেক বড় মনে করে। তাই পেখমের উনাদের সামনে যেতে চাচ্ছিল না।
তাওয়াফের নানির বাড়ির মানুষদের সাথে দেখা করে পেখম ঘরে ফিরে এলো। তাওয়াফ তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভেজা চুল আঁচড়াচ্ছে। আয়নার ভেতর দিয়েই পেখমকে দেখে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। একটু আগেও তো হাসিখুশি ছিল। এখন মন খারাপ করে আছে কেন?
-কোথায় গিয়েছিলি?
পেখম মন খারাপ লুকাতে চেয়ে বলল,
-কোথাও না।
পেখম কখন মিথ্যা বলে কখন সত্য বলে তা তাওয়াফের থেকে ভালো কেউ জানবে না। তাওয়াফ পেখমের সামনে এসে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল,
-কী হয়েছে?
পেখম তাওয়াফ ভাইয়ের থেকে নজর লুকিয়ে বলল,
-কিছু না।
-কিছু না হলে মুখটাকে এমন করে রেখেছিস কেন?
-কেমন করে রেখেছি?
তাওয়াফ দু'হাতে পেখমের গাল ধরে নরম গলায় বলল,
-তাকা আমার দিকে।
পেখম তাকাল। তার চোখই যেন সবটা বলে দিল।
-কে কী বলেছে?
-কেউ কিছু বলেনি।
তাওয়াফ এবার একটু কঠিন হলো।
-আমার থেকেও কথা লুকাবি?
পেখম এবার মুখ খুললো। তাওয়াফ ভাইয়ের নানির বাড়ির মানুষ তাদের বিয়ে নিয়ে কথা তুলেছে। কেন কাউকে না জানিয়ে বিয়ে হয়েছে।
-আমাদের বিয়েটা হয়নি তাওয়াফ ভাই।
কথাটা শুনে তাওয়াফের চোখ এক লাফে কপালে উঠে গেল। বলে কী এই মেয়ে! তাওয়াফ হতভম্ব গলায় বলল,
-বিয়ে হয়নি!
-হয়েছে। কিন্তু সবার যেভাবে হয় সেভাবে হয়নি।
তাওয়াফ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। যাক পাগল মেয়ে এটা বলছে না আপনি আমার বর না।
-সবার কীভাবে বিয়ে হয়?
-হলুদ হয়, মেয়েদি হয়, পার্লারে যায়, বউ সাজে।
তাওয়াফ মৃদু হাসল। বলল,
-বউ সাজতে পারিসনি বলে বিয়েটাই মানবি না!
-মেনেছি তো।
পেখম একটু থেমে বলল,
-কিন্তু আমাদের গায়ে হলুদ হয়নি। আমি আপনার নামে মেহেদি পরতে পরিনি।
-এই সামান্য ব্যাপারে তোর মন খারাপ?
-এটা সামান্য ব্যাপার না।
তাওয়াফ কতক্ষণ চুপ করে পেখমের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে হালকা হেসে বলল,
-আবার বিয়ে করবি আমাকে? এবার পুরো শহরকে দেখিয়ে তোকে বউ করব।
পেখম চঞ্চল চোখে তাওয়াফের চোখের দিকে তাকিয়ে থেকেই বলল,
-করব।
-আজই করে ফেলি?
-না।
তাওয়াফ হাসল। পেখমকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলল,
-ঠিক আছে। আগে ছোট ভাইবোনদের বিয়েটা দিয়ে নিই। তারপর তোকে আবার বিয়ে করব। তখন আমাদের গায়ে হলুদ হবে, তুই আমার নামের মেহেদি পরবি, পার্লারে গিয়ে বউ সাজবি। তখন কিন্তু ' বলতে বলতে থেমে গেল তাওয়াফ। পেখম চোখ তুলে তাকিয়ে বলল,
-তখন কিন্তু কী?
তাওয়াফের ঠোঁটে দুষ্টুমি হাসি দেখা দিল। সে জানে এই কথা বললে তার বউ লজ্জা পেয়ে পালিয়ে যেতে চাইবে। তবুও বলল,
-তখন কিন্তু আমাদের বাসরটাও হবে।
এই কথা শুনে পেখম সত্যি সত্যিই লজ্জা পেয়ে পালিয়ে গেল। তাওয়াফ শব্দ করে হেসে উঠল। হাসতে হাসতেই বলল,
-লজ্জাবতী বউ আমার।
বিকেলের আগে ফুপুরাও চলে এসেছে। সব মেয়েরা তখন এক রুমের ভেতরে সাজগোজ করছিল। ইরিন হঠাৎ এসে সবাইকে চমকে দিল৷ ইরিনকে দেখে বোনেরা সবাই লাফাতে শুরু করল। দৃষ্টি পেখম ছুটে এসে ইরিনকে জড়িয়ে ধরে বলল,
-তুমি কখন এসেছ আপু? দুলাভাই কোথায়?
ইরিন হাসি মুখে বলল,
-দুলাভাই আছে।
ইরিন আপুকে হাসিখুশি দেখে পেখমের নিজেরও ভালো লাগছে। সে মন থেকে চায় ইরিন আপু দুলাভাইয়ের সাথে ভালো থাকুক।
আকৃতি, প্রিয়া দু'জনের মাথার উপর ওড়না ধরে ছাদে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ক্যামেরাম্যান ভিডিও করছে। পেখম দৃষ্টি সবার সামনে ছিল। ছাদে এসে দুই বউকে স্টেজে পাশাপাশি বসিয়ে দেওয়া হলো। বরের জন্য আলাদা স্টেজ। এটা নিয়েও ইলহাম কতক্ষণ গাইগুই করল।
-আমাকে আমার বউয়ের পাশে বসতেও দিবি না? এটা কেমন কথা!
পেখম বলল,
-দাদীর হুকুম।
-বউয়ের সাথে ছবিও তুলবো না?
দৃষ্টি হেসে বলল,
-দাদী অনুমতি দিলে তুলবে।
ইলহাম মুখ কালো করে বসে রইল। তার সাথে এসব ঠিক হচ্ছে না। পেখম পুরো ছাদে নজর ঘুরিয়ে একজনকে খুঁজল। কিন্তু সেই মানুষটাকে ছাদে কোথাও দেখতে পেলো না।
-সব আয়োজন নিজে করে এখন কোথায় গিয়ে বসে আছে?
দৃষ্টি দূর থেকে পেখমকে দেখে কাছে এসে বলল,
-তুই আরেক কানের দুল পরিসনি কেন?
পেখম জবাবে বলল,
-পরেছি তো।
-কই পরেছিস?
পেখম কানে হাত দিয়ে দেখল তার ডান কান খালি। পেখম ব্যস্ত হয়ে নিচে খুঁজতে লাগল।
-আমার স্পষ্ট মনে আছে দুই কানেই দুল পরেছিলাম। কোথাও পড়ে গেল নাকি?
দুল যদি পড়ে গিয়েও থাকে এত মানুষের ভিজে খুঁজে পাবে না। আর পেলেও হয়তো অক্ষত থাকবে না। মানুষের পায়ের নিচে পড়ে এতক্ষণে হয়তো ইন্না-লিল্লাহ হয়ে গেছে। এক কানে দুল নিয়ে ঘোরা যাবে না। তাই পেখম বলল,
-আমি রুমে গিয়ে অন্য দুল পরে আসি।
-যা।
-আমি না আসা পর্যন্ত কিন্তু কেউ হলুদ লাগাবি না।
-তুই দেরি করলে লাগিয়ে ফেলব।
-দৃষ্টির ছাও, একদম মেরে ফেলব কিন্তু।
পেখম কানের দুল পরার জন্য রুমে চলে এলো। কানে যেটা ছিল ওটা খুলে নতুন আরেক জোড়া পরে নিয়ে তাড়াহুড়ায় বেরোতে যাবে তখনই বিপত্তি ঘটল। শাড়ির কুঁচি পায়ের নিচে এসে শাড়িটাই খুলে গেল। নিজের উপর বিরক্ত হয়ে পেখম নিজেকেই গালি দিল।
-তুই একটা গাধা পেখম।
নিজে নিজে শাড়ি পরার চেষ্টা করেও পারল না। তার দ্বারা অন্তত শাড়ি পরা সম্ভব হবে না। এখন কী করবে ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছে না তখনই তাওয়াফ রুমে এলো। তার ফোনটা রুমেই রয়ে গেছিল। পেখম দরজার দিকে তাকিয়ে তাওয়াফ ভাইকে দেখে চেঁচিয়ে উঠল।
-আসবেন না। আসবেন না।
কিন্তু তাওয়াফ ততক্ষণে ভেতরে চলে এসেছে। পেখমের চেঁচানো শুনে সে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে রইল। পেখম দু'হাতে শাড়ি দলা করে ধরে অন্য দিকে ফিরে দাঁড়াল। তাওয়াফ জিজ্ঞেস করল,
-চেঁচাচ্ছিস কেন? কী হয়েছে?
-কিছু হয়নি। আপনি এখন রুম থেকে যান।
তাওয়াফ গেল না। উল্টো পেখমের দিকে এগিয়ে এলো।
-সমস্যা কী? ওদিকে ফিরে আছিস কেন?
-এমনি। আপনি যান।
তাওয়াফের এবার সন্দেহ লাগছে। এই মেয়ে তাকে ঘর থেকে পাঠিয়ে দিতে চাচ্ছে কেন?
-তুই আমার রুম থেকে আমাকেই যান যান করছিস কেন!
-কারণ আছে।
-কী কারণ সেটাই তো জানতে চাচ্ছি।
দূর! তাওয়াফ ভাইও দিনদিন আরও বেশি ঘাড়ত্যাড়া হয়ে যাচ্ছে। না পেরে পেখম বলেই দিল,
-আমার শাড়ি খুলে গেছে।
এই কথা শুনে তাওয়াফ হেসে ফেলল।
-শাড়ি খুলে গেছে এজন্য তুই আমাকে তাড়িয়ে কেন দিচ্ছিস?
-তাহলে কী করব?
-শাড়ি পরিয়ে দিতে সাহায্যও করতে বলতে পারিস।
-আপনি কীভাবে সাহায্য করবেন?
পেখমের কথা শেষ হওয়ার আগেই তাওয়াফ ওকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল। পেখম আঁতকে উঠে বলল,
-কী করছেন?
-তোকে কীভাবে সাহায্য করব সেটাই দেখাচ্ছি।
পেখমের চোখ বড় বড় হয়ে গেছে। তাওয়াফ ভাই কী করতে চাচ্ছে? পেখমের যতটা অস্বস্তি লাগছে তার থেকে বেশি লজ্জা লাগছে। কিন্তু পেখমের লজ্জা দেখার সময় তাওয়াফের নেই। সে পেখমের উদ্দেশ্যে বলল,
-শাড়ি জড়িয়ে ধরে না রেখে আমার হাতে দে।
পেখম সাথে সাথে দু'পাশে মাথা নেড়ে বলল,
-না।
তাওয়াফ হতাশ চোখে পেখমের দিকে তাকিয়ে বলল,
-হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে। এখন কেউ তোর সাহায্যের জন্য আসবে না। আর তুই দেরি করলে গিয়ে দেখবি হলুদ লাগানো শেষ।
তাওয়াফ ভাইয়ের কথা ঠিক হলেও পেখম কীভাবে উনার থেকে শাড়ি পরবে? লজ্জা পেয়েই তো মরে যাবে সে।
-আমি তোর বর তো নাকি? আমার কাছেও তোর কিসের এত লজ্জা?
তার মনের কথা তাওয়াফ ভাই কীভাবে বুঝে ফেলে? এই লোক মন পড়তে পারে নাকি? শেষমেশ পেখম শাড়ি ছেড়ে দিল। তাওয়াফ যদিও নিজেও জানে না শাড়ি কীভাবে পরাতে হয়। তারপরও সে পেখমের কাছাকাছি আসার সুযোগ হাতছাড়া করেনি। পেখম লজ্জায় সরাসরি তাওয়াফের দিকে তাকাতে পারছে না। তাওয়াফ কুঁচি ঠিক করার চেষ্টা চালাতে চালাতে অনেকবারই পেখমকে দেখেছে। পেখমের লজ্জায় নামিয়ে রাখা নেত্রপল্লব, আরক্ত গাল, ঘেমে উঠা নাকের গঢ়ার দিকে তাকিয়ে অনেককিছু করে ফেলতে মন চাচ্ছে। তবুও সে নিজেকে দমিয়ে রাখছে।
পেখমের বুকের ধুকপুকানি সে নিজেই শুনতে পাচ্ছে। গলা শুকিয়ে আসছে তার। সেই সাথে কেমন অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। তাওয়াফ ভাই এত সময় কেন লাগাচ্ছে? এভাবে আরও কিছুক্ষণ থাকলে সে মনে হয় জ্ঞানই হারিয়ে ফেলবে। কাঁপা গলায় পেখম বলল,
-হয়েছে তাওয়াফ ভাই?
তাওয়াফ পেখমের দিকে তাকাল। তার নিজেকে কন্ট্রোল করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তবুও বলল,
-এখনও হয়নি।
-আপনি কি শাড়ি পরাতে জানেন?
-কীভাবে জানব? আমি কি আগে কখনও কাউকে শাড়ি পরিয়েছি?
এই কথা শুনে পেখম ঝট করে তাওয়াফের দিকে তাকিয়ে বলল,
-শাড়ি পরাতে জানেন না তাহলে সময় নষ্ট করছেন কেন?
তাওয়াফ পেখমের দিকে তাকিয়ে থেকেই মৃদু হেসে বলল,
-সময় নষ্ট করছি নাকি? আমার কাছে তো মনে হচ্ছে না।
এই লোক পারে না ঘোড়ার ডিমও অথচ মুখে কত বড় বড় কথা বলে। পেখম কিছুটা রেগে গিয়ে বলল,
-আপনি নিজেই তো বলেছিলেন হলুদের অনুষ্ঠান নাকি শুরু হয়ে গেছে। আমি দেরি করে গেলে দেখব হলুদ লাগানো শেষ। এখন তো আপনি নিজেই মিথ্যা বলে আমাকে দেরি করাচ্ছেন।
-মিথ্যা বলেছি নাকি!
পেখম এবার সত্যি সত্যিই রেগে গেল।
-আপনি বলেননি আপনি শাড়ি পরিয়ে দিবেন?
-বলেছি।
-এটা কি মিথ্যা না? পারেন না তাহলে কীভাবে পরাবেন? আপনি ছাড়ুন তো। আপনাকে আর কিছু করতে হবে না। আপনি পারলে বাইরে গিয়ে কাউকে ডেকে দিন। নয়তো আমি নিজেই পরে নিব।
পেখম নিজেই শাড়ি পরার জন্য ড্রেসিংটেবিলের সামনে যাচ্ছিল। তখন শাড়িতে হুঁচট খেয়ে পড়ে যেতে নিলে তাওয়াফ ওকে ধরে ফেলল। তাওয়াফের দুই হাত পেখমের পালতা কোমর পেঁচিয়ে রেখেছে। পেখমও ভয় পেয়ে দু'হাতে তাওয়াফের বাহু খামচে ধরেছে। দু'জন দু'জনের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। পেখম পলক ফেলতেও ভুলে গেছে। তার চোখে দৃষ্টিতে ধরা দিয়েছে অপ্রকাশিত আকর্ষণ। তাওয়াফ এবার নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল। ধীরে ধীরে সে পেখমের দিকে এগিয়ে এল। কী ঘটতে যাচ্ছে বুঝতে পেরেও পেখম বাধা দিল না। তাওয়াফ পেখমের নীরব সম্মতি বুঝে নিল। সে আর কিছু ভাবল না। ক্ষণ বিলম্বে মিলিত হলো দু’জোড়া অধর। কোনো জোর নেই, কোনো তাড়াহুড়া নেই। তাওয়াফ তার প্রজাপতিকে নমনীয়তায় বশ করে নিতে চাচ্ছে। আজ শুধু তাওয়াফই না পেখমও পুরোদমে নিজেকে সপে দিতে চাচ্ছে। তাওয়াফ সেটা বুঝতে পেরে পেখমকে আরও কাছে টেনে নিল। আরও গভীরভাবে ছুঁয়ে দিতে লাগল। সময় বয়ে যাচ্ছে। দু'জনই তখন বেসামাল হয়ে উঠেছে। তখনই বাইরে থেকে দৃষ্টির গলা ভেসে এলো।
-এই পেখমের বাচ্চা, কই মরেছিস তুই?
চলবে