ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আসবে বলে বসন্ত এসেছে

৭২তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার নিপা

#তুমি_আসবে_বলে_বসন্ত_এসেছে '৭২'

#জেরিন_আক্তার_নিপা

তটিনীকে পেয়ে নাজমা ওকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল। তটিনী নিজেও চোখের পানি ধরে রাখতে পারল না। মায়ের ভালোবাসা কখনও পায়নি। এই মানুষটার থেকে পেয়েছে। নাজমা তটিনীর চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল,

-তুমি কোথায় চলে গিয়েছিলে মা?

সবাই তটিনীকে ঘিরে রেখেছে। পেখম সিঁড়ি দিয়ে ছুটে আসতে আসতে তটিনীকে দেখে চিৎকার করে বলল,

-তুমি ফিরে এসেছ ফুল!

পুলিশ অফিসারটা যখন তাকে গাড়িতে তুলেছিল তখন ভয়ে তার কলিজা শুকিয়ে এসেছিল। কিন্তু গাড়িটা যখন এবাড়িতে এসে থামল তখন শক্ত হয়ে বসে থাকল। কিছুতেই সে দ্বিতীয় বার এই মানুষ গুলোর সামনে দাঁড়াতে পারবে না। এতদিনে মানুষ গুলো হয়তো তার পরিচয় জেনে গেছে। কিন্তু ভেতরে এসে বুঝতে পারল তার চিঠিটা একজনই পড়েছে। বাকিরা কেউ সেই চিঠির কথাগুলো জানে না। জানলে তাকে দেখে খুশি হওয়ার বদলে পুলিশে দিত।

গোলাপ জান যিনি তটিনীকে দেখতে পারত না তিনিও মুখ বাঁকিয়ে বললেন,

-তুমি তো অনেক স্বার্থপর মানুষ। তোমারে যে এতদিন আমার বাড়িতে রাখলাম, আমার ছেলের বউ তোমারে এত আদরযত্ন দিল, তুমি তো যাইবার আগে কইয়াও গেলা না। তোমার মতো মাইয়ারে খুইজা আবার আমার নাতি, পুতেরা হয়রান।

এই বুড়ীর খোঁচা দেওয়া কথাও আজ তার কাছে গুড়ের মতো মিষ্টি লাগছে। তটিনী গোলাপ জানের দিকে তাকিয়ে ভেজা চোখেই হাসল। গোলাপ জান ঝাড়ি দিয়ে বললেন,

-আর যদি না কইয়া গেছো তাইলে তোমার জায়গা আর আমার বাড়িতে হইব না জানাইয়া দিলাম।

দাদী পেঁচাল পারতেই থাকবে। পেখম তটিনীকে নিয়ে দোতলায় চলে এলো।

-এতদিন তুমি কোথায় ছিলে ফুল?

-আমার মামার কাছে।

পেখম অবাক চোখে তটিনীর দিকে তাকিয়ে বলল,

-তোমার স্মৃতিশক্তি ফিরেছে?

-হুম।

পেখম উচ্ছ্বসিত গলায় বলল,

-সত্যি! তোমার সব মনে পড়েছে? তোমার নাম কী? বাসায় কে কে আছে? তোমার কি বিয়ে হয়েছে? বয়ফ্রেন্ড আছে?

তটিনী মৃদু হাসল। পাগল মেয়ে একসাথে কত কথা জানতে চাচ্ছে।

-আমার নাম তটিনী। আমার একটা ছোট ভাই আছে। ভাই আর আমি মামার কাছে থাকি। আমার বিয়ে হয়নি। বয়ফ্রেন্ডও নেই।

পেখম মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। যাক ফুলের বিয়ে হয়নি। বয়ফ্রেন্ডও নেই।

পেখম তটিনীকে আজানের ঘরের সামনে নিয়ে এলো। এই ঘরে ঢুকতে তটিনীর পা অসার হয়ে আসছে। অজানা ভয়ে বুক ধুকপুক করছে। ওকে দাঁড়িয়ে যেতে দেখে পেখম বলল,

-আজান ভাই তোমাকে খোঁজার জন্য অনেক কিছু করেছে। তুমি কি আজান ভাইয়ের সাথে দেখা করবে না?

তটিনী কীভাবে বোঝাবে এই মানুষটাকে দেখার জন্য তার মন কতটা ব্যাকুল হয়েছে। কতবার এই বাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়ে থেকেছে। ভেতরে আসার সাহস তার হয়নি। পেখম কখনোই আজানের ঘরে আসতে অনুমতি নেয় না। তবে আজ নিল।

-আজান ভাই আসব?

-আয়।

পেখম তটিনীকে ঠেলে নিয়ে ভেতরে ঢুকলো। তটিনীকে দেখেও আজানের চেহারার ভাবের পরিবর্তন হলো না।

-আজান ভাই দেখো কে এসেছে।

-নিজে থেকে আসেনি। তাকে আনা হয়েছে।

আজান খুব সহজ ভাবেই কথাটা বলল। তটিনী একপলক আজানের দিকে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিল। আজানের দৃষ্টি অবশ্য তটিনীর উপরই নিবদ্ধ। পেখম অনুসন্ধানী চোখে দু'জনকে দেখছে। হঠাৎই পেখম ঠোঁট টিপে হেসে উঠল।

-আমার একটা কাজ আছে। আমি আসছি। তোমরা কথা বলো।

ঘর থেকে বেরিয়ে এসে পেখম হাসতে লাগল।

-তলে তলে তাহলে এসব চলছে। আমরা কেউ টেরই পাইনি।

তটিনী উসখুস করছে। সে জানে মানুষটা তার দিকেই তাকিয়ে আছে। তাই আরও বেশি অস্বস্তি লাগছে। আজান সবটাই বুঝলো।

-ওই চিঠিটার মানে কী ছিল?

তটিনী ঝট করে আজানের দিকে চাইল। চিঠির কথাই জিজ্ঞেস করতে হলো? লোকটা তো অন্য কথাও বলতে পারত।

-কোন মানে ছিল না।

আজান কতক্ষণ একদৃষ্টিতে তটিনীর দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,

-আপনার মামাকে খবর দিন।

-কেন?

-আমাদের বিয়েতে আপনার মামার উপস্থিতি চাচ্ছি।

তটিনী বোকার মতো চেয়ে রইল। আজান বলল,

-বিয়ে করবেন না আমাকে?

তটিনী এখনও ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারছে না। লোকটার মাথা টাথা কি খারাপ হয়ে গেছে?

-চিঠি লিখে গিয়েছেন মানে আপনি চেয়েছেন আমি আপনাকে খুঁজে বের করি। একটা মাস লাগিয়ে এত কষ্ট করে খুঁজেছি। এখন বিয়ে না করলে আমার এক মাসের কষ্ট পুরোটাই লস যাবে। তাই বিয়েটা আপনাকে করতেই হবে।

-আপনি জানেন আমি কী কাজ করি?

-আপনি কী করেন তা জেনে আমার কোন কাজ নেই।

-আমি কে এটাও তো আপনি জানেন না।

-জানার প্রয়োজন মনে করছি না। বিয়ের পর আপনি মিসেস আজান মির্জা হবেন।

***

তটিনীর মামা আর ভাই এসেছে। আজানের সাথে তটিনীর বিয়েতে কারো আপত্তি না থাকলেও তটিনী রাজি হচ্ছে না। মামা তাকে আলাদা ঘরে এনে বোঝাচ্ছে।

-তুই কেন রাজি হচ্ছিস না মা? ছেলেটা হাঁটতে পারে না বলে?

-এটা কারণ না মামা।

-তাহলে কেন রাজি হচ্ছিস না? কত ভালো পরিবার। এমন পরিবার তুই কোথাও পাবি?

-ভালো পরিবার দেখেই তো রাজি হচ্ছি না মামা। আমার মতো চোর বাটপার মেয়ে কীভাবে এই পরিবারের বউ হবে? এরা কত ভালো মানুষ। আমি এদের ঠকাতে পারব না।

মামা আহত চোখে ভাগ্নীর দিকে তাকাল। অপরাধী গলায় বলল,

-তুই তো নিজে থেকে এই পথে আসিসনি রে মা। আমি তোকে এই পথে এনেছি৷ দোষ তো আমার। তোর মামার সামর্থ্য ছিল না তোদের দেখার।

তটিনী মামার হাত ধরে বলল,

-তুমি আমাদের জন্য যা করেছ তা কয়জনে করে মামা? তুমি না থাকলে আমরা দুই ভাইবোন ভেসে যেতাম।

মামা তটিনীর মাথায় স্নেহের হাত রেখে বলল,

-আমার এই অনুরোধটা রাখ মা। বিয়েতে রাজি হয়ে যা। এরা তোকে অনেক ভালো রাখবে।

****

পেখম তাওয়াফ ভাইকে কল করতে করতে অধৈর্য হয়ে ঘরজুড়ে হাঁটছে।

-দূর কল কেন তুলছে না?

তাওয়াফ কল না তুললেও পাঁচ মিনিট পরেই কলব্যাক করল। পেখম কল রিসিভ করেই বলল,

-আজান ভাইয়ের বিয়ে তাওয়াফ ভাই। আপনি আসবেন না?

আজানের বিয়ের কথা অলরেডি সে জেনে ফেলেছে। চাচা তাকে জানিয়েছে। আজান নিজেও কল করেছিল। তাওয়াফ বলল,

-আমি এলে তোর বাপ আবার অসুস্থ হয়ে যাবে না তো?

-যাবে না৷ আপনি আসুন প্লিজ।

-এলে কী দিবি?

-কী দিব?

-কিছু তো দিতে হবে। নাহলে শুধু শুধু কেন আসব?

-শুধু শুধু আসবেন কেন? আজান ভাইয়ের বিয়ে।

-তোর ভাইয়ের বিয়েতে গিয়ে আমার লাভ কী?

-আপনারও তো ভাই।

-উঁহু তুই যদি কিছু না দিস তাহলে কষ্ট করে এতটা পথ গিয়ে লাভ নেই।

-আচ্ছা কী চান আপনি?

-চাই তো অনেককিছু।

-ঠিক আছে। আপনি যা চাইবেন তা-ই পাবেন। আগে আসুন তো।

তাওয়াফ হেসে বলল,

-ভেবে বলছিস তো?

-ভাবাভাবির কিছু নেই। আপনি আসুন।

-আসছি। অপেক্ষা কর।

তাওয়াফ আসার আগেই দৃষ্টি ইলহাম প্রিয়ারা চলে এসেছে। আকৃতিও আসছে। দৃষ্টি পেখমকে জড়িয়ে ধরে বলল,

-শালি কত বাপের বাড়িতে থাকিস? ফিরবি কবে?

-পাপা সুস্থ হলেই ফিরে যাব।

ইলহাম গোলাপ জানের সাথে দুষ্টুমিতে মেতে উঠেছে। প্রিয়া দৃষ্টি তটিনীর কাছে গেছে। পেখম তাওয়াফ ভাইয়ের অপেক্ষা করছে। বারবার দরজার দিকে তাকিয়ে দেখছে।

মেয়েরা কেনাকাটা করতে যাচ্ছে। সন্ধ্যায় হলুদ দিয়ে রাতেই বিয়ে পড়ানো হবে। বাবা চাচারা অনুষ্ঠান করে বিয়ের কথা বললেও আজান রাজি হয়নি। সে ঘরোয়া ভাবেই বিয়ে করবে। সবাই শপিংমলে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে যাচ্ছে এসময় তাওয়াফ এলো। ইলহাম পেখমকে খোঁচা দিয়ে বলল,

-কি গো পুনম রানী, এখন কি তুই আমাদের সাথে যাবি? নাকি বরের সেবা করবি?

তাওয়াফ জিজ্ঞেস করল,

-কোথায় যাচ্ছিস তোরা?

ইলহাম জবাব দিল,

-বর বউয়ের শাড়ি লুঙ্গি কিনতে।

তাওয়াফ পেখমের দিকে তাকিয়ে বলল,

-তুইও যাচ্ছিস?

পেখম যাচ্ছিল তো ঠিক। কিন্তু এখন তার যেতে ইচ্ছে করছে না। পেখম মিনমিনে গলায় ওদের বলল,

-তোমরা চলে যাও। আমি পরে যাব।

ইলহাম হো হো করে হেসে উঠল। পেখম এতে ভীষণ লজ্জা পেলো।

তাওয়াফ ভেতরে এসে সবার আগে দাদীর কাছে গেল।

-কেমন আছেন দাদী?

গোলাপ জান মুখ বাঁকিয়ে বলল,

-নাতনিরে পাইয়া গেছস অহন আর তুই দাদীরে দিয়া কী করস?

তাওয়াফ দাদীর পাশে বসে হেসে বলল,

-নাতনিকে তো পেয়েই গেছি। এখন দাদীকেও লাগবে।

গোলাপ জান ছেলের বউদের ডেকে ধমকা ধমকি শুরু করে দিয়ে বললেন,

-নতুন জামাই প্রথমবার বাড়িত আইছে তোমগোর দেখি কোন তালই নাই।

পেখমকে ঝাড়ি দিয়ে বললেন,

-তুই এখানে খাম্বার মতো দাঁড়াইয়া আছোস কেন? আমার নাতজামাইরে ঘরে নিয়া যা।

তাওয়াফ উঠে দাঁড়াল। পেখমের চুপসানো মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,

-আমার বউকে ধমকাবেন না দাদী। অন্তরে লাগে।

তাওয়াফ আগে এলে যে ঘরে থাকত পেখম তাকে ওই ঘরে নিয়ে যাচ্ছে দেখে তাওয়াফ বলল,

-বর তো শ্বশুরবাড়িতে এসে বউয়ের ঘরে থাকে। তুই আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস?

পেখম নিজের ভুল বুঝতে পেরে জিভ কামড়াল। তাওয়াফ কখনও পেখমের ঘরে আসেনি। আজই প্রথমবার এসেছে। ঘরটা পুরো বাচ্চাদের ঘরের মতো পুতুল দিয়ে সাজানো। রংধনুর সাত রঙের সব কয়টা রঙ এঘরে আছে। জানালার পর্দা পর্যন্ত রঙিন।

-তাওয়াফ ভাই আপনি বসুন। আমি আপনার জামাকাপড় নিয়ে আসি।

পেখম চলে যাওয়া ধরলে তাওয়াফ ওর হাত ধরে ফেলল। এক টানে নিজের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে জড়িয়ে ধরল।

-আমার ক্লান্তি দূর করে যেখানে যাওয়ার যা।

পেখম হেসে নিজেও তাওয়াফকে জড়িয়ে ধরল।

তাওয়াফ ফ্রেশ হয়ে শ্বশুরের সাথে দেখা করতে এলো। পেখমও পেছন পেছন এসেছে। তাওয়াফকে দেখেই পল্লব মির্জার চোখমুখ কঠিন হয়ে গেল। তাওয়াফ তা লক্ষ্য করে হাসল।

-আসসালামু আলাইকুম শ্বশুর আব্বা? ভালো আছেন?

পল্লব মির্জা কঠিন চোখে তাওয়াফের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাওয়াফ বুঝতে পারছে পেখম আছে বলেই শ্বশুর আব্বা তার আপ্যায়নে মিষ্টি মিষ্টি গালি দিতে পারছে না।

পেখম বলল,

-পাপা তাওয়াফ ভাই তোমাকে দেখতে এসেছে।

পল্লব মির্জা মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে তাওয়াফের সাথে বলছে। তাওয়াফ ইচ্ছে করেই শ্বশুরকে রাগিয়ে দিচ্ছে।

-আপনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন শ্বশুর আব্বা।

গলা নামিয়ে বলল,

-আপনার জন্য আমি আমার বউকে বাড়ি নিয়ে যেতে পারছি না। আমি যদিও জানি আপনার কিছু হয়নি। অভিনয়ে আপনি ভালোই দক্ষ। কিন্তু আপনার বোকা মেয়ে বুঝতে পারছে না।

ইলহামরা কেনাকাটা করে ফিরে এসেছে। আজানের নানির বাড়ি মানুষেরা এসেছে। সন্ধ্যা ঘরোয়া ভাবে হলুদের আয়োজন করা হয়েছে। পেখম আলমারির কাপড়চোপড় ফেলে কিছু খুঁজছে। হঠাৎই একটা বক্স নিচে পড়ে গেলে পেখম ঝুঁকে ওটা তুললো। ম্যাপেল লিফের এই চেইনটা কে দিয়েছে এখনও জানে না পেখম। তাওয়াফ ঘরে এসে পেখমের হাতে বক্সটা দেখে জিজ্ঞেস করল,

-এটা তোকে কখনও পরতে দেখিনি।

পেখম বক্সটা রেখে দিতে দিতে বলল,

-এটা কে দিয়েছে এটাই তো জানি না। তাই কখনও পরা হয়নি।

তাওয়াফ এগিয়ে এলো। বক্সটা নিয়ে ভেতর থেকে চেইন বের করে পেখমকে পরাতে লাগলে পেখম বলল,

-এটা পরব না।

-কেন?

-কে না কে দিয়েছে।

-যে দিয়েছে সে-ই পরিয়ে দিচ্ছে।

পেখম অবাক চোখে তাওয়াফের দিকে তাকিয়ে বলল,

-এটা কি আপনি দিয়েছেন?

চেইনটা পরানো শেষে পেখমের গলার দিকে তাকিয়ে বলল,

-এটা খুলবি না। সবসময় পরে থাকবি।

পেখম বিশ্বাস করতে পারছে না। ইলহাম ভাই দেশে আসার সময় এটা ব্যাগে পেয়েছিল। তার মানে কি তাওয়াফ ভাই তখন থেকে তাকে পছন্দ করে!

-আপনি আমাকে তখন থেকে পছন্দ করতেন তাওয়াফ ভাই?

তাওয়াফ দু-হাত পেখমের গাল ধরে বলল,

-তারও আগে থেকে।

-কবে থেকে?

-তুই আমাকে ভয় পাওয়া শুরু করেছিলি পর থেকে। তুই আগের মতো আমার সামনে আসতি না, আমার সাথে কথা বলতি না, আমাকে দেখলেই পালিয়ে যেতি। সেই সময়টাতে আমি বুঝতে পেরেছি তুই শুধু আমার চাচার মেয়ে না। তার থেকেও বেশি কিছু।

পেখম অবিশ্বাস্য চোখে তাওয়াফের দিকে তাকিয়ে আছে। তাওয়াফ ভাই তাকে এত আগে থেকে ভালোবাসে। অথচ সে বুঝতেই পারেনি। পেখম তাওয়াফকে জড়িয়ে ধরে বলল,

-আপনি কখনও কেন বলেননি তাওয়াফ ভাই?

-চেয়েছিলাম তুই নিজে থেকে আমাকে বোঝ। তোর ইচ্ছেতে আমার কাছে আস।

পেখমের কান্না পাচ্ছে। সে কখনও ভাবেনি তাওয়াফ ভাই তাকে এতটা ভালোবাসবে।

হলুদ দেওয়ার সময় সবাই থাকলেই তাওয়াফ পেখম নেই দেখে ইলহামকে ডাকতে পাঠানো হয়েছে। ইলহাম ভাবেনি ভাই ভাবী দু'জনকেই ঘরে পেয়ে যাবে। সে চোখে হাত দিয়ে বলে উঠল,

-দরজা তো বন্ধ করে নিবে ভাই!

ইলহামের গলা শুনে পেখম ছিটকে দূরে সরে যেতে চাইলেও তাওয়াফ ওকে ছাড়ল না। পেখম কঠিন চোখে তাকালেও কাজ হলো না। তাওয়াফ ইলহামকে বলল,

-তোরা কি ফুপু চাচা হতে চাস না?

ইলহাম চোখে হাত রেখেই উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বলল,

-চাই ভাই। একটা না দুইটা ভাতিজা আর দুইটা ভাতিজি চাই।

-তাহলে এখন বিদায় হ। আর কেউ যেন এদিকে না আসে সেটা দেখাও তোর দায়িত্ব।

-ওক্কে ভাই। কেউ তোমাদের ডিস্টার্ব করতে আসবে না।

দুই ভাইয়ের মধ্যকার এসব কথা শুনে পেখমের কান গরম হয়ে ধোয়া বের হতে লাগল। ইলহাম ভাইয়ের সামনে তার মুখ দেখানোর উপায় ছাড়ল না এই লোক। পেখমকে রাগী চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে তাওয়াফ ইনোসেন্ট ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল,

-কী?

-আপনি ইলহাম ভাইয়ের সামনে এসব কী বলেছেন!

-ভুল কিছু বলেছি? একবার দৃষ্টি, একবার ইলহাম। এরা আমাকে বাবা ডাক শুনতে দিবে না।

লজ্জায় পেখমের গাল লাল হয়ে উঠল। চাপা ধমকে বলল,

-তাওয়াফ ভাই!

-তখন কিন্তু ফোনে কথা দিয়েছিলি আমি এলে যা চাইব তাই দিবি।

পেখম চোখ বড়ো বড়ো করে মুখ ফসকে বলে বসল,

-আপনি কি এখন বাবা হতে চান নাকি?

তাওয়াফ হাসতে হাসতে বলল,

-না। এখন আপাতত তোকে চাই। বাবা হতে চাই। তবে সেটা তুই আরেকটু বড় হয়ে নেওয়ার পর।

চলবে

রিচেক করা হয়নি। বানান ভুল থাকতে পারে। আর আপনারা কমেন্ট কেন করেন না?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন