*উপন্যাস : তোমার নামে সন্ধ্যা*
*লেখিকা : মরিয়ম আক্তার সুকন্যা*
অষ্টম পাঠ : ৮ পর্ব
ফারিয়া সাথে সাথে আশেপাশে তাকালো।
ফাঁকা। কেউ নাই। ক্লাস চলতেছে।
*ফারিয়া:* বুকের উপর হাত রেখে বিড়বিড় করলো,
_"আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ বাঁচাইছে।
কেউ শুনে নাই।"_
*নুর:* পাশ থেকে বললো,
"কেউ শুনে নাই রে। ভালো হইছে।
চল ক্লাসে যাই। দেরি হয়ে যাচ্ছে।"
*ফারিয়া:* মাথা নাড়লো। "হুম চল।"
দুইজন দৌড়ে ক্লাসের দিকে গেল।
---
*১০ মিনিট পর। বিবিএ ডিপার্টমেন্ট। রুম ৩০২।*
ফারিয়া আর নুর ঢুকতেই পেছন থেকে গলা,
সবাই সাথে দাঁড়িয়ে গেল।
*সবাই:* "ওয়ালাইকুম আসসালাম স্যার"
ফারহান।
হাতে বই, চোখে চশমা। একদম স্যারের মতো।
*ফারহান:* "বসো।"
সবাই বসে গেল। ফারিয়ার হার্টবিট বেড়ে গেল।
*ফারহান:* বোর্ডে লিখলো - *"PRIORITIES"*
_"আজকে পড়াবো Priorities।
লাইফে সবচেয়ে জরুরি জিনিস কোনটা?
টাকা? ক্যারিয়ার? নাম?"_
কেউ উত্তর দিলো না।
*ফারহান:* মার্কার রেখে বললো,
_"না। সবচেয়ে জরুরি হলো মানুষ।
যাকে তুমি হারানোর ভয় পাও।
যার জন্য তুমি ১৪ বছর ওয়েট করতে পারো।
সেটাই Priority।
আর Priority কে কখনো সেকেন্ড অপশন বানাবা না।
বুঝছো?"_
পুরো ক্লাস "জি স্যার" বললো।
ফারিয়া মাথা নিচু করে খাতায় আঁকিবুকি করতেছে।
গাল লাল।
*ছাত্র:* "স্যার একটা প্রশ্ন?"
*ফারহান:* "বলো।"
*ছাত্র:* "Priority যদি রাগ করে থাকে?"
*ফারহান:* ২ সেকেন্ড চুপ থেকে বললো,
_"তাহলে তাকে মানাতে হবে।
বারবার। যতক্ষণ না সে 'তুমি' বলে ডাকে।"_
ক্লাসের মেয়েরা ফিসফিস করতেছে।
*মেয়ে ১:* "স্যার আজকে কেমন জানি"
*মেয়ে ২:* "রোমান্টিক লেকচার দিতেছে"
ফারহান শুনেও না শোনার ভান করলো।
*ফারহান:* "আজ এতটুকুই। অ্যাসাইনমেন্ট:
'তোমার Priority কে এবং কেন?'
কাল জমা।"
বই নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় ফারিয়ার দিকে একবার তাকালো।
কিছু বললো না।
ফারিয়া তাকিয়ে রইলো।
মনে মনে বললো, _"উনি কি আমাকে বললো
*নুর:* খাতা বন্ধ করে বললো,
"উঠ। ক্লাস শেষ। চল ক্যান্টিনে যাই।"
*ফারিয়া:* "তুই যা। আমার খাতা গুছানো লাগবে।"
*নুর:* "আচ্ছা ৫ মিনিটে আসতেছি।" বলে চলে গেল।
---
*বিকেল ৩টা। ভার্সিটির লাইব্রেরির পেছনে। গাছের নিচে।*
ফারিয়া আর নুর বসে আছে। সামনে খাতা-কলম।
টপিক: *"তোমার Priority কে এবং কেন?"*
*নুর:* মাথা চুলকাচ্ছে। "লিখ কি? আমার তো Priority হলো বিরিয়ানি।"
*ফারিয়া:* ধমক দিলো। "ফাজলামো করিস না। সিরিয়াস।"
*নুর:* "আচ্ছা বাবা। তুই লিখ। তোর Priority কে?"
ফারিয়া কলম কামড়াচ্ছে।
১ লাইন লিখে কেটে দেয়। আবার লিখে আবার কাটে।
*ফারিয়া:* "কিছুই মাথায় আসতেছে না রে।"
*নুর:* "সত্যি কথা লিখে দে। ফারহান স্যারের কথা।"
*ফারিয়া:* চোখ বড় বড় করে। "চুপ! পাগল হইছিস?"
*নুর:* "তাহলে কি লিখবি? মা-বাবা?"
*ফারিয়া:* "ওটা তো সবাই লিখবে।"
দুইজন ২০ মিনিট ধরে বসে আছে।
একটা লাইনও ঠিক মতো হচ্ছে না।
*নুর:* হাল ছেড়ে দিয়ে বললো,
"বাদ দে। কাল সকালে বাসায় বসে লিখিস।
এখন চল বাড়ি যাই।"
*ফারিয়া:* দীর্ঘশ্বাস ফেললো। "হুম চল।"
খাতা ব্যাগে ঢুকালো।
মনে মনে ভাবলো, _"কি লিখবো আমি? নাম লিখলে ধরা খাবো।
না লিখলে স্যার বকবে।"_
---
*বিকেল ৪টা। ভার্সিটির গেট।*
কালো গাড়ি দাঁড়ানো।
ফারহান ড্রাইভিং সিটে। ফোনে কাজ করতেছে।
ফারিয়া আর নুর আসতেই নুর বললো,
*নুর:* "ভাইয়া আসসালামু আলাইকুম। আমি যাই?"
*ফারহান:* চোখ তুলে "ওয়ালাইকুম আসসালাম" বলে মাথা নাড়লো।
নুর চলে গেল।
ফারিয়া আস্তে করে গাড়িতে উঠলো।
*ফারহান:* "অ্যাসাইনমেন্ট?"
*ফারিয়া:* "হয় নাই।"
*ফারহান:* ভ্রু কুঁচকালো। "কেন?"
*ফারিয়া:* "বুঝতেছি না কি লিখবো।"
ফারহান ২ সেকেন্ড চুপ করে বললো,
*ফারহান:* "যেটা সত্যি। ওটাই লিখবি।
নাম লিখতে হবে না।"
ফারিয়া অবাক হয়ে তাকালো।
*ফারিয়া:* "আপনি... কিভাবে বুঝলেন?"
*ফারহান:* গাড়ি স্টার্ট দিলো।
*ফারহান:* "কারণ আমিও বুঝতেছি না।
কাল খাতা জমা দিস।"
গাড়ি চলতে লাগলো।
ফারিয়ার হাতে খাতা। ভেতরে একটাও লাইন নাই।