*উপন্যাস : তোমার নামে সন্ধ্যা*
*লেখিকা : মরিয়ম আক্তার সুকন্যা*
সপ্তম পাঠ : ৭ পর্ব
*রাত ১টা
ঘর অন্ধকার। শুধু জানালা দিয়ে চাঁদের আলো।
ফারহান বারান্দায় দাঁড়িয়ে। হাতে সিগারেট। কিন্তু ধরায় নাই।
সকালের "লাগবে না"
বিকেলের "আপনাকে বলতে হবে?"
আর নুরের "বয়ফ্রেন্ড আছে"
সব একসাথে মাথায় ঘুরতেছে।
*ফারহান:* বিড়বিড় করে বললো,
_"আর না। আর চুপ করে থাকা যাবে না।
১৪ বছর চুপ ছিলাম। আর না।"_
ও সোজা নিচে নামলো।
কিচেনে গিয়ে এক গ্লাস পানি খেলো।
তারপর সিঁড়ি বেয়ে দোতলায়।
ফারিয়ার রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।
দরজা ভেজানো। ভেতর থেকে হালকা কান্নার শব্দ।
ফারহান ৩ বার নক করলো।
*টক... টক... টক...*
ভেতর থেকে ফারিয়ার গলা। কান্না জড়ানো।
*"কে?"*
*ফারহান:* "আমি।"
*ফারিয়া:* "ঘুমাবো। যান।"
*ফারহান:* "দরজা খোল। ২ মিনিটের কথা।"
৫ সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর দরজা খুললো।
ফারিয়ার চোখ লাল। মুখ ফোলা।
*ফারিয়া:* "কি হইছে?"
*ফারহান:* ভেতরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলো।
*ফারহান:* সোজা ফারিয়ার সামনে দাঁড়ালো।
_"শোন। কাল থেকে তুই একা কোথাও যাবি না।
ভার্সিটিতে আমি দিয়ে আসবো। নিয়ে আসবো।
আর কোনো ছেলে তোর ধারে কাছেও আসবে না।"_
*ফারিয়া:* চমকে উঠলো। "মানে?"
*ফারহান:* "মানে আমি বলছি।"
একটু থেমে বললো,
_"আর হ্যাঁ... নুর মিথ্যা বলে নাই।
তোর বয়ফ্রেন্ড আছে।"_
ফারিয়া অবাক। "কার?"
*ফারহান:* ফারিয়ার চোখে চোখ রাখলো।
_"আমি।
১৪ বছর আগে থেকে।
আর এখনো।"_
কথাটা বলেই ফারহান বের হয়ে গেল।
দরজা লাগানোর শব্দ হলো।
ফারিয়া পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইলো।
বুকের ভেতর হাজারটা শব্দ।
*"আমি। ১৪ বছর আগে থেকে।"*
*সকাল ৮টা। ভার্সিটির গেট।*
কালো গাড়ি থামলো।
ফারহান ড্রাইভিং সিটে। পাশে ফারিয়া।
সারা রাস্তা দুইজন চুপ।
কাল রাতের "আমি। ১৪ বছর আগে থেকে" কথাটা বাতাসে ঝুলতেছে।
গাড়ি থামতেই ফারহান বললো,
*ফারহান:* "ক্লাস শেষে গেটেই দাঁড়াবি। আমি আসবো।"
*ফারিয়া:* মাথা নিচু করে "হুম" বললো।
নেমে দৌড়ে ভেতরে চলে গেল।
নুর দৌড়ে এসে ফারিয়াকে জড়িয়ে ধরলো।
*নুর:* "কাল কি হইছে বল? ফারহান ভাইয়া গাড়িতে কি বলছে?"
*ফারিয়া:* চুপ।
*নুর:* "আরে বল না! ওই ছেলের পর কি হইছে?"
ফারিয়া আস্তে করে বললো,
*_"কাল রাতে... উনি বলছে...
আমার বয়ফ্রেন্ড আছে। আর সেটা উনি।"__
নুরের চোখ কপালে।
*নুর:* "কিইই? ১৪ বছর পর? সত্যি?"
*ফারিয়া:* চোখে পানি। "আমি কি করবো নুর?"
ঠিক তখনই পেছন থেকে গলা,
*"ফারিয়া।"*
দুইজন পেছনে তাকালো।
কালকের সেই ছেলেটা। হাতে আবার গোলাপ।
*ছেলেটা:* "কাল তো ছিলে না। আজকে একটু কথা বলি?"
*নুর:* সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। "ভাইয়া বললাম না বয়ফ্রেন্ড আছে?"
*ছেলেটা:* "কে বয়ফ্রেন্ড? দেখি তো।"
ঠিক তখনই গেট দিয়ে ফারহান ঢুকলো।
অফিসের ড্রেস। হাতে ফাইল।
কিন্তু চোখে আগুন।
সোজা এসে ফারিয়ার পাশে দাঁড়ালো।
ফারিয়ার কাঁধে হাত রাখলো।
*ফারহান:* শান্ত গলায় বললো,
_"আমি ওর বয়ফ্রেন্ড।
সমস্যা?"*
ক্যাম্পাসের সবাই তাকিয়ে।
ছেলেটা ঢোক গিললো।
*ছেলেটা:* "না... সরি ভাইয়া।"
বলে দৌড়ে চলে গেল।
ফারহান ফারিয়ার দিকে তাকালো।
*ফারহান:* "ক্লাসে যা। ছুটির পর গেটে থাকিস।"
বলে চলে গেল।
নুর ফারিয়ার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করলো,
এটা তো অফিসিয়াল ঘোষণা হয়ে গেল।"*
ফারিয়া লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললো।
বুকের ভেতর ধুকধুক