#প্রেমের_নির্বাসন - (১২)
লেখনীতে - #মৃধা_মৌনি
________
চারটে দিন কেটে গেল। কিন্তু বাড়িটার থমথমে ভাব এখনো কাটল না। যে ভাই-বোনদের দলটা সকাল থেকে রাত অবধি পুরো ঘর মাতিয়ে রাখত, তারাও যেন এখন নীরবতার সাথে এক অলিখিত সন্ধি করেছে। সময় বয়ে যায় বাতাসের মতো- অলক্ষ্যে, দ্রুত।
বাড়ির গৃহকর্মীরা যান্ত্রিকভাবে কোনোমতে খাওয়ার টুকু জোগাড় করে রাখে। বাকি সব কাজ অবহেলায় পড়ে থাকে এক কোণে; কোনো একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে- কেবল এই ফিকে আশায় দিন গুজরান। কারো কাজে মন বসে না, বিকেলে আগের মতো আড্ডা বা গল্পের আসর জমে না। চারপাশটা বড্ড ফাঁকা লাগে, যেন খুব চেনা কিছু একটা হঠাৎ হারিয়ে গেছে।
এই অদ্ভুত অনুভূতির নাম কী, তা কারো জানা নেই। বাড়ির সবার অবস্থাই যখন এমন দিশেহারা, তখন সৌম্যর মনের ভেতর কী ঝড় বয়ে যাচ্ছে, তা কল্পনা করাও দায়!
ঘরে বসে রেহনুমা এসব সাত-পাঁচই ভাবছিলেন। মাত্রই গোসল সেরে বেরিয়েছেন। আজ আইরিন রান্নাঘরের চৌকাঠ মাড়ায়নি, অভিমানে কিংবা বিষাদে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছে। রেহনুমা অবশ্য ওদের জন্য আলাদা করে বাটি গুছিয়ে রেখেছেন। আইরিনকে দেখে তার মনে হয়, মেয়েটা সেই আগের মতোই রয়ে গেল। বড্ড কাঁচা মন, সামান্য আঘাতেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
রেহনুমার মনে পড়ে যায় সেই পুরনো দিনের কথা। স্বামীর মৃত্যুর পর যেদিন প্রথম এই বাড়িতে এসেছিল আইরিন- কী বুকফাটা কান্না! একদিন, দুদিন, তিনদিন... কারো সাধ্য ছিল না সেই বিলাপ থামানোর। শেষমেশ শরীর শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল, অবস্থা বেগতিক দেখে হাসপাতালেই নিতে হয়েছিল তাকে। দুর্বল শরীরে তখন খিঁচুনি উঠছে, এক বীভৎস অবস্থা!
একটু সুস্থ হওয়ার পর রেহনুমা সেদিন কড়া গলায় শাসন করেছিলেন, 'আর যদি এক ফোঁটা কাঁদিস, তবে এই বাড়িতে তোর ঠাঁই হবে না। এই বাড়িতে থাকার একটাই শর্ত, মুখে সর্বদা হাসি রাখতে হবে।'
ভয়ার্ত আইরিন সেদিন মাথা নেড়ে সায় দিয়েছিল। দুই সন্তান নিয়ে এই অথৈ সাগরে কোথায়ই বা যেত সে? এরপর থেকে যখনই কান্না পেত, আইরিন ঠোঁট কামড়ে নিজেকে আটকে রাখত। কখনো মুখে গামছা গুঁজে দিত, কখনো বা আকাশপানে চেয়ে চোখ বড় বড় করে অশ্রু সংবরণ করার প্রাণপণ চেষ্টা চালাত। আড়ালে দাঁড়িয়ে রেহনুমা সেসব দেখে হাসতেন। আইরিন বড় বোকা ছিল, আজও তাই আছে। বাইরের কে কী দুটো কথা বলল, তাতেই এমন মুষড়ে পড়া! রেহনুমার মনে অবজ্ঞামিশ্রিত এক অদ্ভুত মায়া জাগে।
হঠাৎ দরজায় শব্দের কম্পনে রেহনুমার চিন্তার সুতো ছিঁড়ে যায়। তাকিয়ে দেখলেন উমেদ মির্জা ঘরে ঢুকছেন। এই ভর দুপুরে তিনি? রেহনুমা কিছুটা অবাকই হলেন। প্রয়োজন ছাড়া মানুষটা সাধারণত এই সময়ে অফিসেই থাকেন। তবে কি নতুন কোনো বিপত্তি ঘটল? মনের কোণে এক উটকো দুশ্চিন্তা দানা বাঁধে তার। তিনি তড়িঘড়ি উঠে স্বামীর দিকে এগিয়ে যান।
উমেদ মির্জাকে আজ কেমন যেন ক্লান্ত আর বিপর্যস্ত দেখাচ্ছে। তার চিরচেনা সেই দৃপ্ত পায়ে চলার ভঙ্গিটি আজ নেই; শরীরটা যেন নুয়ে পড়েছে অজানা কোনো ভারে। রেহনুমা বিস্ময়ভরা কণ্ঠে শুধালেন, 'আপনি? এই অসময়ে যে বড়?'
উমেদ মির্জা গম্ভীর হয়ে জবাব দিলেন, 'কেন? অসময়ে এসে কি খুব বড় কোনো অপরাধ করে ফেললাম?'
স্বামীর এমন রূঢ় জবাবে রেহনুমা কিছুটা থতমত খেলেন। নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, 'না, না, আমি কি তা বলেছি? আপনি তো সচরাচর এই সময়ে বাড়ি ফেরেন না, তাই একটু অবাক হলাম।'
'শরীরটা আজ ভালো লাগছে না রেনু,' উমেদ মির্জা নিচু স্বরে বললেন। রেহনুমাকে তিনি একান্ত আপন মুহূর্তে 'রেনু' বলেই ডাকেন। এই একটি সম্বোধনেই রেহনুমার ভেতরের অস্থিরতা মুহূর্তেই দ্বিগুণ হয়ে গেল। তিনি ব্যতিব্যস্ত হয়ে কাছে এগিয়ে এলেন, 'কী হয়েছে আপনার? বেশি খারাপ লাগছে? ডাক্তার ডাকব?'
উমেদ মির্জা হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, 'অযথা ব্যস্ত হয়ো না। একটু অস্বস্তি লাগছে, তাই চলে এলাম। তুমি বরং একটু গরম পানি বসাও, গোসল করব। আর শোনো, ঘরে কি কালোজিরার ভর্তা আছে?'
'এখন তো নেই, তবে আমি এখনই করে দিচ্ছি,' রেহনুমা উত্তর দিলেন।
'তাহলে সেটুকুই করো। আজ দুপুরে শুধু কালোজিরার ভর্তা দিয়ে দু-মুঠো ভাত মুখে দেব, আর কিছু খাব না। আপাতত এক গ্লাস পানি দাও আর যাওয়ার সময় দরজাটা টেনে দিয়ে যাও। পানি গরম হতে হতে আমি একটু গড়িয়ে নিই।'
রেহনুমা পানি নিয়ে এলেন। উমেদ মির্জা এক নিঃশ্বাসে গ্লাসটা খালি করে সেটা রেহনুমার হাতে ফিরিয়ে দিলেন। কিন্তু রেহনুমা তৎক্ষণাৎ ঘর থেকে বের হলেন না; গ্লাস হাতে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলেন। স্বামীর মুখের দিকে চেয়ে মনে হলো, মনের গহীনে কোনো এক সংকল্প দানা বাঁধছে তার। উমেদ মির্জা চোখ বুজে শুয়েছিলেন, স্ত্রীর উপস্থিতি টের পেয়ে চোখ না খুলেই প্রশ্ন করলেন, 'কিছু বলতে চাও?'
রেহনুমা ম্লান কণ্ঠে মাথা নেড়ে জানালেন, 'হ্যাঁ, চাই।'
'বলো।'
'আসলে আইরিন...'
উমেদ মির্জা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মাঝপথেই থামিয়ে দিলেন তাকে, 'ও সামলে নেবে। ওকে নিয়ে তুমি অহেতুক ভেবে নিজের মাথা খারাপ করো না তো!'
স্বামীর শীতল জবাবে রেহনুমা দমে গেলেও থেম্ব গেলেন না। মনের ভেতর উঁকি দেওয়া পরিকল্পনাটি সাহসে ভর করে উগরে দিলেন, 'সৌম্যকে কি কোনোভাবে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া যায় না?'
উমেদ মির্জা এবার চোখ খুললেন। স্থির, নিরলংকার চোখে স্ত্রীর দিকে তাকালেন। অত্যন্ত শান্ত কিন্তু গম্ভীর কণ্ঠে জানতে চাইলেন, 'কেন?'
রেহনুমা সাহস সঞ্চয় করে স্বামীর শিয়রের কাছে বসলেন। চোখ নামিয়ে অত্যন্ত নম্র স্বরে বললেন, 'দেশের বাইরে গেলে হয়তো ও ভালো থাকবে। এদেশের এই পরিবেশ, এই স্মৃতি- সবই ওকে কুরে কুরে খাচ্ছে। ওর জীবনটা যেন কোথাও একটা স্থির বিন্দুতে এসে থমকে গেছে।'
'সেই থমকে যাওয়ার জন্য কি আমি দায়ী?' উমেদ মির্জার প্রশ্নে ঝরে পড়ল প্রচ্ছন্ন শ্লেষ।
'আমি তো সে কথা বলিনি।'
'রেহনুমা, শোনো। ও বড় হয়েছে, নিজের জীবনের সব সিদ্ধান্ত ও নিজেই নিয়েছে। নিজেই পছন্দ করে বিয়ে করে এনেছে, আবার নিজেই চেয়েছিল ওই বাড়িতে গিয়ে থাকতে। আমি ওর বাবার মতো বলেই ওর সব খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছিলাম। অথচ এখন মনে হচ্ছে ওটা আমার বড় ভুল ছিল। ওর জায়গায় যদি আজ আমার নিজের ছেলে হতো, তবে এমন স্পর্ধার জন্য একটা কড়া চড় মারতাম!'
রেহনুমা কণ্ঠস্বর নিচু করে অনুনয় করলেন, 'থাক না, পুরনো কথা আর না-ই বা তুললেন। যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। এখন সামনে কী করা যায়, সেটা ভাবা দরকার...'
'সেটা ওর মা বুঝবে, আর ও নিজে বুঝবে। তার আগে ওই মেয়েটাকে তালাক দেওয়া জরুরি।'
রেহনুমা যেন আকাশ থেকে পড়লেন। অস্ফুটে বললেন, 'তালাক হওয়াটা কি খুব জরুরি?'
'জরুরি নয়? তুমি এ কথা বলছ রেনু?' উমেদ মির্জার কণ্ঠে চরম বিস্ময়।
রেহনুমা নিরুত্তর হয়ে রইলেন। কথা খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। উমেদ মির্জা কঠোরভাবে যোগ করলেন, 'নিজের সংসারে কোথায় কী হচ্ছে, সেদিকে নজর দাও। পরের কথা পরকেই ভাবতে দাও।'
রেহনুমার এবার জেদ চেপে গেল। কণ্ঠে অভিমান মিশিয়ে বললেন, 'ওরা কি আমাদের পর? আইরিন আপনার নিজের বোন, সৌম্য আপনার আপন ভাগ্নে...'
'ব্যাস! আমাকে সম্পর্কের নামাবলী শেখাতে এসো না। কার সাথে আমার কী সম্পর্ক, তা আমি ভালো করেই জানি। ভাই হিসেবে আমি ওদের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, নিজের ঘর-সংসার মাথায় তুলে অন্যের সমস্যা নিয়ে দিনরাত পড়ে থাকব।'
রেহনুমা এবার পুরোপুরি চুপসে গেলেন। নিভে যাওয়া প্রদীপের মতো ক্ষীণ কণ্ঠে বললেন, 'আমার সংসারে তো সব ঠিকঠাকই চলছে... আপনি কি কোথাও কোনো ত্রুটি পেয়েছেন?'
এ কথা শুনে উমেদ মির্জার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে রহস্যময় হাসির রেখা ফুটে উঠল। তিনি আর কথা না বাড়িয়ে পাশ ফিরে শুয়ে পড়লেন।
রেহনুমার বুকের ভেতরটা কেমন যেন খচখচ করে উঠল। কোনো এক অদৃশ্য বিষধর কাঁকড়া যেন তার হৃদপিণ্ডটাকে কামড়ে ধরে আছে। এতক্ষণ সব ঠিকই ছিল, কিন্তু স্বামীর ওই এক চিলতে হাসিতে তিনি কিসের যেন আভাস পেলেন। মেঘহীন আকাশে হঠাৎ ঝড়ের পূর্বাভাস মিললে যেমন লাগে, রেহনুমার অবস্থাও এখন তদ্রূপ। সামনে কী আসছে? কোনো অমঙ্গল? এক দীর্ঘ ও তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন তিনি।
★★★
রোদ্দুর মির্জা শেষ পর্যন্ত জেদ বজায় রাখল; বিকেলকে কোচিং ছাড়িয়ে বাড়িতেই টিউটর রেখে দিল সে। শিক্ষক হিসেবে যিনি এলেন, তিনি বেশ বয়স্ক। ভদ্রলোকের একটা অদ্ভুত স্বভাব আছে। এসেই কিছুক্ষণ ভুসভুস করে ঘুমিয়ে নেন। বিকেলের মেজাজ তাতে চরম বিগড়ে থাকলেও কিছু বলার উপায় নেই। কারণ, ভদ্রলোক রোদ্দুরের বন্ধুর বাবা, সম্পর্কে চাচা গোছের; মুখের ওপর কড়া কথা বলাটা অসভ্যতা হবে। তবে একটা কথা স্বীকার করতেই হয়, যতক্ষণ পড়ান, বেশ মন দিয়েই পড়ান। বিকেলের যত ভয় ছিল গণিত আর পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে, এই ভদ্রলোকের জাদুকরী শেখানোর কৌশলে সেই ভয়টুকু একটু একটু করে কাটতে শুরু করেছে। তিনি যখন জটিল সব সূত্র বোঝান, তখন মনে হয় এসব যেন একের ঘরের নামতা কিংবা অতি সাধারণ কোনো বিষয়। তার আত্মবিশ্বাস দেখে বিকেলের মনেও সাহস জাগে, অন্তত একটা সম্মানজনক নম্বর নিয়ে সে পাশ করতে পারবে। তাই তার বিদঘুটে স্বভাবগুলোকেও এতদিন এড়িয়েই যাচ্ছিল ও।
কিন্তু আজ আর নিজেকে সামলানো সম্ভব হলো না। মনটা আজ বিষিয়ে আছে এক চরম অস্থিরতায়। গতকাল পড়া শেষে শিক্ষক চলে যাওয়ার পর, রাতে যখন করা অংকগুলো পুনরায় ঝালিয়ে নিতে খাতা খুলেছিল বিকেল, তখন তার চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। খাতার এক কোণে চিরকুটের মতো করে ভদ্রলোক লিখে গেছেন—'I like you so much, can we be friends?'
কথাটা পড়ে বিকেলের মাথায় র'ক্ত চড়ে গেল। এ কেমন কথা? যার বয়স বাবার মতো, যিনি সম্পর্কে চাচা হন, তিনি কেন এমন প্রস্তাব দেবেন? এর অর্থ কী? বিকেল কিছুতেই মেলাতে পারছে না। মাথাটা গতকাল রাত থেকেই দপদপ করছে তার। বিষয়টি সে কাউকেই জানায়নি, এমনকি তৃপ্তিকেও না। আগে সে নিজে নিশ্চিত হতে চায়, ভদ্রলোকের উদ্দেশ্য আসলে কী? তিনি কি স্রেফ রসিকতা করেছেন নাকি এর আড়ালে কোনো নেতিবাচক ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে? এই রহস্যের জট না খোলা পর্যন্ত সে ঘটনাটি চেপে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
আজ যথাসময়ে শিক্ষক হাজির হলেন। বিকেলও পড়তে বসল অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে। ভেতরে ভেতরে যে এক দমবন্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে দিল না কাউকে। কিন্তু সমস্যা হলো, সে শিক্ষকের চোখের দিকে তাকাতে পারছে না। তাকালেই এক তীব্র অস্বস্তি আর ঘৃণা যেন তাকে আষ্টেপৃষ্টে চেপে ধরছে। কী এক বিষম জ্বালা! বিকেলের মনে হতে লাগল, প্রতিটি সেকেন্ড যেন এক একটি যুগের মতো দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে।
'আল্লাহ, সহায় হও, সময় কাটিয়ে দাও, প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ, এই একটা দোয়া শোনো। যতই ভন্ডামি করি, তুমি ছাড়া গতি নেই মাবুদ। এবারের মতো বাঁচিয়ে দাও এই অস্বস্তিকর পরিবেশ থেকে, এরপর আগামী এক সপ্তাহ আর কিচ্ছু চাইবো না। প্রমিস আল্লাহ, প্রমিস....' একা একাই নিজ মনে বক বক করে চলে মেয়েটা। আঁড়চোখে একবার তাকাল সামনে। বজ্জাতটা উঠে বসে নাকের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে চুলকাচ্ছে। নাকের ফুটোর ভেতর দিয়ে ল্যাদা লাগানো বড় কালো লোম দেখা যাচ্ছে। এবার টানতে শুরু করল সে। দুয়েকটা ছিঁড়ে হাতে এনে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিচ্ছে। কি জঘন্য, কি বিশ্রি, কি কুৎসিত - বিকেল কেঁপে ওঠে ঘেন্নায়। সঙ্গে সঙ্গেই ওপাশ থেকে কথা চালা হলো,
'কি ব্যাপার, আজ তুমি এত চুপচাপ কেন?'
ঢোক গিলে দলা পাকিয়ে ওঠা ঘৃণাটাকে গেলার চেষ্টা করে বিকেল, জড়ানো কণ্ঠে তাড়াহুড়ো ভাবে শুধাল, 'এমনি।'
'এনি প্রবলেম?'
'নো।'
'দ্যান লুক এট মি- আমার দিকে তাকাচ্ছোই না। কেন, বলো তো?'
'তোর মানদণ্ড বরাবর দুটো লাথি মারতে পারলে এসব ভং বেরিয়ে যেতোরে শুয়োর...' মনে মনে ভয়াবহ গালি দিয়ে ওঠে বিকেল, চোখ তুলে তাকাল না মোটেই। বরং ঘাড়টাকে আরও নিচু করে খাতার ভেতর এমন ভাবে গুঁজল, যেন এই মুহূর্তে এই অংকের উত্তর না মেলাতে পারলে পৃথিবীতে ভয়াবহ তুলকালাম ঘটে যাবে। পুরো পৃথিবী বাসীকে বাঁচানোর দায়িত্ব একলা বিকেলের ঘাড়ে....
'কি? মেলে না? দেখি, আমাকে দেখাও...' বলেই হাত বাড়ালেন উনি। ইচ্ছেকৃত ভাবেই আঙুলে আঙুল ঠুকে দিলেন, ভয়ানক ভাবে চমকে উঠল মেয়েটা। হাত থেকে কলম খসে পড়ল তার। তা দেখে হেসে উঠলেন মানুষ রূপী জানোয়ারটা...
'অ, বুঝতে পারছি।' যেন সব বুঝে ফেলেছেন এমন ভঙ্গিতে শুধালেন, 'তুমি আমার লেখাটা দেখেছ, তাই না?'
জবাব দিল না বিকেল, না মাথা তুলল, সে কাঁপছে, হাতটা নিচু করে ডলে যাচ্ছে ছোঁয়া লাগা জায়গাটা। ইশ- কি নোংরা, এই হাতেই না নাকের লোম ধরে টানছিল বদটা? আহহা....
'কি হলো, জবাব দাও। ওটা পড়ার পর থেকেই তুমি এমন উইয়ার্ড বিহেইভ করছ, আই সি!
দ্যাট মিন, ইউ অলসো লাইক মি? হুম?'
আরেক দফা চমকালো বিকেল। মুখ তুলতেই দেখল, পৃথিবীর সবচেয়ে কুৎসিত হাসিটা হাসছে সামনে বসে থাকা পিশাচটা...ঘেন্নায় গলায় থুতু এসে জমলো ওর। মাথা নাড়িয়ে না কিংবা মুখে না শব্দটা উচ্চারণের কথা মনেই রইল না। কেবল ফ্যালফ্যালে চোখে তাকিয়ে একটা অসভ্য, ইতর, পশুকে দেখছিল, যার রূপ হুবহুই মানুষের মতোন...
ওকে পাথর বনে থাকতে দেখে উনি যেন ভারী মজা পেলেন। নিজের হাতটা বাড়িয়ে খপ করে ওর হাতটা ধরলেন, শক্ত করে চাপলেন, বিশ্রি ভাবে বললেন, 'আমরা তাহলে ফ্রেন্ডস, আর লজ্জা পেয়ো না। আমি অনেক ভালো বন্ধ হতে পারি, বিশ্বাস করো, তোমায়..অনেক সুখ দেবো! ইউ কান্ট ইমাজিন...'
বমিটা হয়েই যাবে এবার।
পেট পাকিয়ে গলার কাছে উঠে আসছে কিছু একটা। মাথার ভেতর নিউরন ঝড়ের গতিতে ছোটাছুটি লাগিয়েছে। এবার তারা সিগন্যাল দিলো, ইউ শুড রিয়েক্ট বিকেল, ইউ শুড রিয়েক্ট....
সঙ্গে সঙ্গে হাতটা ঝটকা মেরে ছাড়িয়ে নিয়ে শরীরের সবটুকু শক্তিতে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলো ও। একদম গাল বরাবর...নিজের হাতটা ঝিনঝিন করে উঠল। ও মানুষটা ভীষণ চমকে আঁতকে ওঠে। এরপর পরই তার রূপ দেখা গেল বদলে যেতে... একদম চোখের পলকে রাগ ফুটে ওঠে দুই ভ্রু-য়ে। কপালটাকে কুঁচকে রুক্ষ স্বরে শুধায়, 'এটা কি করলে?'
'গেট লস্ট...গে ট ল স্ট...' থেমে থেমে জরাজীর্ণ কণ্ঠে উচ্চারণ করে মেয়েটা। ভেতরটা শুকিয়ে এইটুকুন হয়ে গেছে।
'নইলে আরেকটা থাপ্পড় খাবেন, ইউ রাসকেল!' আবারও চেঁচিয়ে ওঠে ও।
উনি তড়াক করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন, বাড়ি ভর্তি লোকজন, খুব বেশি সিনক্রিয়েট না হয়ে যায় এই ভয়ে বেরিয়ে গেলেন তাড়াতাড়ি। যাওয়ার আগে বললেন, 'তোকে দেখে নেবো।'
বিনিময়ে গলায় জমা থুতু ছুঁড়ে দিলো বিকেল। চিৎকার করে বলল, 'ফাক ইউ!'
ধপ করে বসে পড়ল তারপরে।
বইখাতা এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে টেবিলে, ঘড়ির কাটা ঘুরছে, সময়ের স্রোতে কোথা থেকে কি হয়ে যায়- কেউ জানে না! কেউ না।
ব্যাপারটা আবার সামনে এলো, সে রাতেই।
বাড়ি ফিরেই রোদ্দুর হন্যে হয়ে বিকেলকে খুঁজতে শুরু করল। বিকেল নিজের ঘরে কানে হেডফোন গুঁজে গানের জগতে বুঁদ হয়ে পড়ে আছে। রোদ্দুর কয়েকবার দরজায় সপাটে করাঘাত করল, কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মেজাজ হারিয়ে সরাসরি ফোন করল ওকে। কল স্ক্রিনে রোদ্দুরের নামটা ভেসে উঠতেই বিকেলের বুকটা ধক করে উঠল। একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল সে; জানত যে ঝড়টা শেষ পর্যন্ত ও মুখি হয়েই আসবে!
ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরতেই ওপাশ থেকে রোদ্দুরের হুংকার ভেসে এল, 'দরজা খুলছিস না কেন? মরে গেছিস নাকি?'
বিকেল অত্যন্ত শান্ত গলায় জবাব দিল, 'এখনো মরিনি। বেঁচে আছি।'
'তাহলে ঘরে বসে কার বাল ফালাচ্ছিস যে ডাক শুনতে পাস না?' রোদ্দুরের কণ্ঠের কর্কশতা তিরের মতো বিঁধল বিকেলের কানে।
'ভাষা খারাপ করবে না রোদ ভাইয়া। গান শুনছিলাম, কানে হেডফোন ছিল।'
রোদ্দুর এবার আরও কঠোর হয়ে হুকুম দিল, 'এক্ষুনি, এই মুহূর্তে তুই আমার রুমে আসবি। এক্ষুনি মানে এক্ষুনি! দুই মিনিট দেরি হলে কিন্তু ভালো হবে না...'
'আসছি,' সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়ে ফোনটা নামিয়ে রাখল বিকেল।
বিছানা ছেড়ে উঠতে গিয়েও মনটা কিছুতেই সায় দিচ্ছিল না। একবার ভাবল, ফোন বন্ধ করে কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে কেমন হয়? কিন্তু পরক্ষণেই বিকেলের ভেতরের সত্তা তাকে সতর্ক করে দিল- কতক্ষণ আর পালিয়ে বেড়ানো যাবে? এই রাক্ষসের মুখোমুখি তো হতেই হবে, তবে আগেভাগে হয়ে যাওয়াটাই হয়তো মন্দের ভালো।
তাই অনিচ্ছাসত্ত্বেও উঠে দাঁড়াল। আলনা থেকে একটা চাদর টেনে নিয়ে গায়ে জড়িয়ে নিল সে। আজ শীতটা অন্যদিনের চেয়ে একটু বেশিই জাঁকিয়ে পড়েছে। সেই হিম ধরা শরীর আর দুরুদুরু বুক নিয়ে সে পা বাড়াল রোদ্দুরের ঘরের দিকে।
ঘরে ঢুকে কাউকে দেখতে পেল না বিকেল। সে কিছুটা অবাকই হলো; এই তো মাত্র দু-মিনিট আগে ছেলেটা হুংকার দিয়ে ডাকল তাকে। অথচ দুই মিনিটের আগেই সে হাজির, কিন্তু ঘর ফাঁকা!
সে একটু গলা চড়িয়ে ডাকল, 'রোদ ভাইয়া?' কোনো সাড়াশব্দ নেই। সে আবার ডাকল, 'ভাইয়া, আছ ঘরে?'
পুরো ঘর নিস্তব্ধ। মিটিমিটি আলো জ্বলছে চারপাশে- একপাশে ডিম লাইট আর অন্যপাশে সাদা বাল্ব, দুইয়ের সংমিশ্রণে ঘরজুড়ে একটা রহস্যময় হলদেটে আলো খেলা করছে। বিকেলের নজর গেল খোলা বারান্দার দিকে; সেখান দিয়ে উত্তুরে হাওয়া হু হু করে ঘরে ঢুকছে। এই হাড়কাঁপানো শীতে কেউ বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকবে না ভেবে বিকেল যখন দরজাটা আটকে দিতে এগিয়ে গেল, ঠিক তখনই বারান্দার অন্ধকার থেকে একজোড়া জ্বলজ্বলে চোখ তার দিকে উঁকি দিয়ে তাকাল।
'ওমাগো!!' বলে একটা লাফ দিয়ে পিছিয়ে এল বিকেল। আতঙ্কে চিৎকার করে বলে উঠল, 'এই শয়তান! হুশ... হুশ!'
রোদ্দুরের প্রচণ্ড হাসি পাচ্ছে; কিন্তু সেটা কোনোমতে চেপে রেখে বারান্দা থেকে ঘরে উদয় হলো সে। গলার স্বর যতটা সম্ভব গম্ভীর করে শুধাল, 'শয়তান কাকে বললি?'
'তু... তুমি?' বিকেলের কণ্ঠে তখনও কাঁপন।
'আমি না তো আর কে? আর কাকে আশা করছিলি শুনি? তোর সেই হিরো—কি যেন নাম—উমম আরিয়ান? সান অফ শাহরুখ খান, তাই না?'
রোদ্দুরের শ্লেষাত্মক রসিকতাটা কোনোমতে হজম করল বিকেল। ধাতে ফিরতে ফিরতে বলল, 'বারান্দায় ছিলে যখন, ডাকলাম কেন জবাব দিলে না?'
'আমার ইচ্ছা,' রোদ্দুরের সোজাসাপ্টা জবাব।
বিকেল একটু বিরক্ত হয়ে বলল, 'এই সব গা-ছাড়া কথা শোনানোর জন্যই কি আমাকে ডেকেছ?'
রোদ্দুর বাঁকা হেসে বলল, 'ওরে বাপরে! গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ছাড়া তোকে ডাকলে বুঝি এখন অনুমতি নিতে হবে?'
'সেটা বলিনি। যাই হোক, কথা বাড়াতে চাই না। কী জন্য ডেকেছ সেটা বলো।'
রোদ্দুর স্থির চোখে তাকিয়ে বিকেলের এই নতুন অবয়ব গিললো। গত দু-দিন ধরে মেয়েটা কেমন যেন ভাব দেখাচ্ছে। হয়তো অনেকদিন শাস্তি পায় না বলেই কলিজার জোর একটু বেড়ে গেছে! রোদ্দুর এবার ডাকল, 'এদিকে আয়।'
'কই?'
'বারান্দায়।'
'পাগল হয়েছ? এই ঠান্ডায় ওখানে কেন?'
'তুই ইদানীং বড্ড লায়েক হয়ে গেছিস, সব কথায় কৈফিয়ত চাস! তাই দেখতে...কত লায়েক হয়েছিস, আজ দেখব। আয়...' রোদ্দুরের কণ্ঠে এবার ধমকের সুর।
বিকেল আর দ্বিরুক্তি করল না। প্রতিবাদহীনভাবেই সে গিয়ে দাঁড়াল বারান্দায়। উত্তুরে হাওয়াটা যেন পণ করেই নেমেছে এবারে। কলিজা ফুটো করে দেওয়া সেই কনকনে বাতাসের ঝাপটায় বিকেল শিউরে ওঠে। দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে রোদ্দুরের দিকে তাকায় সে। রোদ্দুরের গায়ে মাত্র একটা পাতলা হাফ হাতা শার্ট, অথচ তাকে দেখে মনেই হচ্ছে না যে শীত বিন্দুমাত্র স্পর্শ করতে পেরেছে। বিপরীতে বিকেলের মনে হচ্ছে- কেন যে চাদর না নিয়ে কম্বলটা নিয়ে এল না! মস্ত বড় ভুল হয়ে গেছে।
ক্লান্ত কণ্ঠে বিকেল আবার শুধাল, 'বলো, কী বলবে।'
'দু-মিনিট দাঁড়া।'
'পারব না, বড্ড ঠান্ডা লাগছে।'
বিকেলের এমন মুখের ওপর 'না' শুনে রোদ্দুর এবার সত্যি সত্যি আকাশ থেকে পড়ে। মেয়েটা সত্যি সত্যিই পাল্টে যাচ্ছে নাকি? সে পা বাড়িয়ে এসে বারান্দার দরজাটা টেনে দিল। বিকেল এবার কিছুটা ঘাবড়ে যায়। গম্ভীর হয়ে জানতে চাইল, 'দরজা আটকে দিলে কেন? কথা বলবে, তাতে দরজার সম্পর্ক কী?'
'আঁটকালেই বা কি? তোকে কি খেয়ে ফেলব? এম আই আ বাঘ?'
'উমম, না।' দু'ধারে মাথা নাড়ায়, 'তবুওওও..' নিঃশ্বাস টেনে নিয়ে ঢোক গিলে, চোখ বন্ধ করে গড়গড়িয়ে বলে চলে, 'কেন ডেকেছ, আমি তো জানি। তোমার ঠিক করে দেওয়া ওই টিচারটার জন্যেই তো...উনাকে থাপ্পড় দিয়েছি, সেই কথা নির্ঘাত তোমায় বলেছে। সঙ্গে রসিয়ে রসিয়ে দু আলাপ মিথ্যাও জুড়েছে। আমি জানি। এই বেয়াদবির শাস্তি দিতেই তুমি আমায় এখানে আঁটকে রাখবে, না রোদ ভাইয়া? রাখো, কিন্তু এটাও শুনে রাখো, আমি সবসময় ভুল করি না। এবার কোনোই ভুল করিনি আর না তার জন্য ক্ষমাও চাইবো। তোমার ঠিক করে দেওয়া ওই ভদ্রলোক যে একটা আস্তো জানোয়ার তা তুমি কল্পনাও করোনি.. করতে পারবে ও না। উনি আমাকে...'
থেমে গেল বিকেল, এক নাগাড়ে এতগুলো কথা বলায় দম ঘন হয়ে উঠেছে ওর। রোদ্দুর হকচকিয়ে নড়ল এ পর্যায়ে, কিচ্ছু জানত না ও, কিচ্ছু না... তবে বিচার এসেছে এটাই যে, ইনস্টাগ্রাম আইডি খুলেছে বিকেল। তাতে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে ছবি প্রকাশ করে। ছেলেদের মাথা নষ্ট হয় ওসব দেখে....
কোনোটাতেই তার মুখটা স্পষ্ট নয় ঠিক কিন্তু যেভাবে ছবি তোলে, তাতে মাথা ঠিক রাখাও দায় হয়! সেই ঝাল তুলতেই ডেকে আনা...কিন্তু এসব কি বলছে মেয়েটা? ওই লোক তো আদতে একজন ভদ্র মানুষ। আংকেল ডেকে ডেকে মুখে ফেনা তোলে রোদ্দুর। কি করেছে সে?
ছেলেটা এগিয়ে এসে দু'হাতে জড়িয়ে নেয়। বিকেলের অশান্তি হলো। ও সরে গেল ঝটকা দিয়ে। পিছিয়ে গ্রিলের সঙ্গে সেঁটে নিলো নিজেকে। ঠান্ডায় কাঁপছে নাকি কান্নায়- বোঝা গেল না ঠিক।
ভাঙা গলাটা নাড়িয়ে পুনরায় বলল, 'আমায় লিখে, আই লাইক ইউ, আমি তোমার বন্ধু হতে চাই! কি বিশ্রি ছিঃ উনার মেয়ের বয়সী মেয়েকে কী করে এ ধরনের একটা কথা লিখে কেউ? তারপর আবার জোর করে...'
আবারও থেমে দম টেনে নেয় ও।
কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে থামতে চাইলেও বিকেলকে যে বলতেই হবে। কি নোংরা একটা ঘটনা! এ বাড়ির কোনো মেয়ে আজ পর্যন্ত এরকম ইভটিজিং এর, ব্যাড টাচের শিকার হয়েছে কি না সন্দেহ-
সেখানে বিকেলকে নিজেরই ঘরের ভেতর অমন নোংরা মানুষের মুখোমুখি হতে হলো!
'আমায় হাত ধরে...'
বলার আপ্রাণ চেষ্টায় শেষমেশ শেষ করে, 'শক্ত করে এই হাত চেপে ধরেছিল। আমি না পেরে তাকে চ...'
আবারও আঁটকে যায়। পর পর দম টেনে নিজেই নিজেকে সাহস জোগালো, চোখ তুলে তাকাল রোদ্দুরের হতভম্ব মুখপানে, শুধাল, 'চড় এ জন্য দিয়েছি। অপরাধ করে ফেলেছি? যদি ফেলি তবে শাস্তি দাও। মানা নেই রোদ ভাইয়া। এই শরীরটা সরকারি সম্পত্তি তো নয়। ছোট হই, মেয়ে হই, মানুষ তো আমি! ইজ্জত, সম্ভ্রম শব্দটার অর্থ আমি বুঝতে শিখেছি...এবার তুমিই বিবেচনা করো, কে ভুল, কে ঠিক...আই হ্যাভ নাথিং টু সে মোর...'
বিকেল মুখ নিচু করে দুই হাতের তালু দিয়ে গাল জোড়া ডলে ডলে মুছে নিল। তার প্রতিটি স্নায়ু টানটান হয়ে আছে। অপেক্ষা করছে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির দিক থেকে কোনো একটা জবাব আসার। কিন্তু বিকেলকে অবাক করে দিয়ে রোদ্দুর একটি শব্দও উচ্চারণ করল না; এমনকি তার দিকে ফিরেও তাকাল না। একরাশ রহস্য সঙ্গী করে সে নিঃশব্দে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল।
বিকেল কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে রইল। কিছুক্ষণ পর তার নজর গেল নিচে- দেখল, বাড়ির মেইন গেট ঠেলে বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে রোদ্দুর মির্জা। রাতের গাঢ় কুয়াশায় চারপাশটা ঝাপসা হয়ে আছে, ঠিকমতো কিছুই চেনা যাচ্ছে না। তবুও সেই আবছা আঁধারেও রোদ্দুরের চলে যাওয়ার ভঙ্গিটা বিকেলের কাছে খুব একটা সুবিধের ঠেকল না। আকাশে আজ কোনো চাঁদ নেই।
(চলবে)
_______
আজকের পর্বে সম্ভাব্য লাইক ৭৫০ চাই!
বেশি কিন্তু চাইনি! পেলেই পরের পর্ব চলে আসবে... হ্যাপি রিডিং ❤️