#সে_আমার_মায়াবতি
#লেখনিতে_ঈশা_ইসলাম
#পর্ব_১৬
পিট পিট করে চোখ খুলে নিজেকে কারোও সুবিসাল কক্ষে আবিষ্কার করলাম,
চারিদিকে তাকাতেই দেখলাম,
এটা কারোও রুম। কিন্তু এতো বড়, রুম দেখে অবাক হলেও নিজেকে সামলে নিলাম। আস্তে আস্তে মাথা উঠিয়ে এদিক সেদিক তাকাতেই দেখলাম, এ কোনো সাম্রাজ্যের চেয়ে কম না। কি সুন্দর সাজানো,নামি দামি ফার্নিচারের সমাহার। আমি ভাবছি এই ঘরটা কার। এত সাজানো গোছানো ঘর তো আমারও না। যদিও এর কিছুই নেই আমার ঘরে।আমি মুগ্ধ নয়নে দেখছি, কি সুন্দর কারুকাজ করা প্রতিটা আসবাব, সবচেয়ে বেশি সবচেয়ে নজর কারা বেলকনি। থাই গ্লাসেস করা, একপাশে গার্ডেনিং করা, হুট করেই আজকের ঘটনা গুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতেই ফুপিয়ে কেঁদে উঠলাম, কান্নার মাঝেই পিপাসা অনুভূত হচ্ছে। এদিক সেদিক তাকাতেই দেখলাম গ্লাস হাতের নাগালের বাহিরে,তাই উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করতেই মাথা ঘুরে উঠলো,ব্যলেন্স হারিয়ে পরে যাওয়ার আগেই সেই চেনা মানুষটার বুকে নিজের অস্তিত্ব টের পেলাম।
তখন মনে পরলো, আচ্ছা মানুষটা তো আমার স্বামী। আমাকে কি মেনে নিবে উনি? নাকি পরিবার আর জেদের চাপে পরে আমাকে বিয়ে করেছেন? ভাবনার সুতো ছিড়লো কারো ধমকানিতে,
আমি মাথা তুলে তাকাতেই দেখলাম মিঃ চৌধুরি আমার দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে আবার ধমকে উঠে বললো-
--- এই মেয়ে তুমি জানো না তুমি অসুস্থ! তাহলে একা একা কেন উঠতে গেলে।নিজের ক্ষতি করতে তোমার এত ভালো লাগে? কি হলো চুপ করে আছো কেন?
একে তো আজকের ঘটনা, তার ওপর এই লোকটার
ধমকানিতে জানি না কি হলো,
অভিমানে চোখ থেকে অশ্রুকনা টপটপ করে ঝরে গেলো। মিঃ চৌধুরির হটাৎ কি হলো বুঝলাম না, অস্থির হয়ে আমার গালে হাত দিয়ে বলতে শুরু করলেন --
--- কি হয়েছে জান, খারাপ লাগছে কি? আমার টেনশন হচ্ছে, চুপ করে আছো কেন?
আচ্ছা পাখি বলো আমাকে কি হয়েছে।
আমি হুট করে জোরে জোরে কান্না করতে করতে বললাম -
--- কেন কেন মিঃ চৌধুরী কেন আমাকে বিয়ে করে নিজের জিবনটা নষ্ট করলেন। ওহহ বাকি সবার মতো বুঝি আমাকে দয়া দেখিয়েছেন। থাকবো না আমি এখানে,, চ চলে যাবো, ছাড়ুন আমায়,
এবার মিঃ চৌধুরী আমার দিকে তাকিয়ে দাতে দাত চেপে বললেন,
--- এই মেয়ে সেই কখন থেকে কি চলে যাবো, চলে যাবো বলে যাচ্ছো হ্যা। আরেকবার এই কথাটা বলে দেখো, পা
ভেংগে বসিয়ে রাখবো।
খুব দূর্বল লাগছিলো, তাই হুট করেই মিঃ চৌধুরীর বুকে মাথা এলিয়ে দিয়ে ভর ছেড়ে দিলাম, উনি আমাকে আকড়ে ধরে কোলে নিয়ে বেডে বসিয়ে দিলেন। আমাকে এক পাশে থেকে জড়িয়ে ধরে পানি খাওয়ালেন। আমি ক্লান্ত চোখে ওনার দিকে তাকিয়ে বিরবির কররে করতে ঘুমিয়ে গেলাম। এবার উনি আমার দিকে ঝুকে আমার কপালে চুমু দিয়ে বলতে শুরু করলেন-
--- তোমাকে কষ্ট দেয়া প্রত্যেকটা মানুষের জন্য শাস্তি বরাদ্ধ আছে। কেউ ছাড় পাবে না জান। এতদিনের কষ্ট আর পেতে দিবো না জান। আমার ঈশু পাখির জন্য পৃথিবির সকল ভালোবাসা উজার করে দিবো আমি।ভালোবাসি জান। মাই কুইন, ইউ আর মাই কুইন, ইন মাই লাইফ।
কথাগুলো বলতে বলতে মিঃ চৌধুরী কাউকে ফোন করে বলতে শুরু করে!
--- ওর হাত পা ভেংগে দাও। কারন সেই হাত দিয়ে আমার জান কে বাজে ভাবে ছোয়ার চেষ্টা করেছে। ওর চোখ তুলে নিবে কারন সেই চোখে আমার মায়াবতীর জন্য লোভ জেগেছিল। ওর কলিজা ছিড়ে নিয়ে আসো, ওর কত বড় কলিজা আমিও দেখবো।সাহিল আমি আজ আসতে পারবো না, কজ আমার জান ওইক, তাই তুমি কি ওর ব্যবস্থা নিতে পারবে না?
--- পারবো স্যার, পারবো। তবে তার আগে আমি আমার মতো টর্চার করতে চাই। ম্যম এর গায়ে হাত দিয়েছে, আপনার নুন খেয়েছি, কিছু তো আমার কর্তব্য আছে।
--- ইয়া ইয়া সিয়র ( বাকা হেসে)
এদিকে আনটি আংকেল এসেছে, মায়া, সায়ন ভাইয়া, আবির ভাইয়া এসেছে। আপুও এসেছে, একটা নতুন শাড়ি, গহনা পরে এসেছে।আপু মাথায় হাত বুলিয়ে এটা সেটা বোঝাচ্ছে। সাথে সবাইও বোঝাচ্ছে। এর মধ্যেই খবর দিলো, আপুর বাসর ঘর সাজানো শেষ। তাদের সব কাজের জন্যই আলাদা মেইড আর গার্ড আছে। তাই আপু এই রুমে আসার পর সব কাজ সবাই ভাগ করে মিলে মিশে করছে। এর মধ্যে মিঃ চৌধুরী ঘরে প্রবেশ করলো। খেয়াল করলাম লোকটার ড্রেস চেঞ্জ করা। আচ্ছা এটা তাহলে কার রুম? লোকটা ফোন স্ক্রল করে আনটি কে উদেশ্য করে বললো-
--- মম সামিয়া আর সায়ন কে ঘরে দিয়ে আসো। সারাদিনে ওরা ক্লান্ত। আর তোমরাও ডিনার করে ঘুমিয়ে পরো। বাকি রিচোয়েলস কালকে করো।আর মায়া মেইড কে বলে দিবি চিকেন সুপ পাঠিয়ে দিতে ঈশার জন্য।
--- ওকে বড় ভাইয়া।
আমি এবার ভাবনায় পরে গেলাম, সবাই চলে গেলে আমি ঘুমবো কোথায়?উনার সাথে নাকি?
ভাবনার সুঁতো ছিরে আনটির ডাকে,
--- মামনি, ড. তোমাকে আজকে হালকা হেলদি ফুড খেতে বলেছে,। সুপটা শেষ করে ঘুমবে ঠিক আছে।
আমি মাথা নাড়িয়ে হ্যা বললাম। একে একে বিদায় নিয়ে সবাই চলে গেলো। আমি এবার হাত পা গুটিয়ে নেই কারন ঘরে মিঃ চৌধুরী ছাড়া কেউ নেই। ভয় আর অসস্তি যেনো আমাকে জড়িয়ে ধরেছে। হটাৎ আমার নিজের ভাবনার মাঝেই তাকিয়ে দেখি সেই শাড়ি পড়া এখনো।শাড়ি যা তা অবস্থা হয়েছে, আচ্ছা
আমি তো শাড়ি পরে শুতে পারি না, ওই বাড়ি থেকে তো কোন ড্রেস ও আনি নি, এখন কি করবো। হটাৎ মনে হলো কারো নিশ্বাস আমার চোখে মুখে আছরে পরছে। আমি চোখ তুলে তাকাতেই চমকে উঠি। একি উনি কখন এলেন? উনি হুট করে হেসে বলে উঠলেন!
---জান তুমি এত অন্যমোনস্ক কেন থাকো কেন। সেই কখন থেকে ডাকছি ,জামাইটা এদিকে তো,। ( অসহায় ফেস করে)
আমি ওনার কথা শুনে আশ্চর্য হয়ে গেলাম। উনি এত স্বাভাবিক আচরন কেন করছেন?উনি কি সব ভুলে গেলেন? কিন্তু আপাদত এই শাড়ি চেঞ্জ না করলে আমি আরও অসুস্থ হয়ে যাবো। তাই ওনার দিকে ফিরে ধির কন্ঠে বললাম,
--- শুনছেন?
ওনি বুকে বা হাত দিয়ে শ্বাস নিয়ে বললেন,
--- ওফফ জান মেরে ফেলবে নাকি, কেন এত পাগল করো তুমি?
আমি হাবলার মতো তাকিয়ে থেকে, আবার বলে উঠলাম -
--- আপুকে একটু ডেকে দিবেন প্লিজ।
উনি ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বললেন!
--- কেন? সামিয়াকে দিয়ে তোমার কি কাজ,?
--- আব আ আসলে, আমি তো কিছু আনি নি, তাই কি পরবো চেঞ্জ করে?
বলেই মাথা নিচু করলাম উনি
আমার গালে স্পর্শ করে মাথা তুলে বললেন,
---তাকাও জান। তুমি কি ভুলে যাচ্ছো তুমি কার স্ত্রি, কার অস্তিত্য? তুমি কেন মাথা নিচু করে আছো, আর ড্রেস কি তোমার কম আছে, সামিয়া কে ডেকে দিতে হবে?
--- না আসলে আমি কি পরবো তাই,
আর কিছু বলার আগে উনি উঠে গিয়ে চার পার্টের কাবার্ড খুলে দিলেন, আমি তাকাতেই আমার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। একি এত ড্রেস শাড়ি, চুরিদার,টপস,মেচিং জুয়েলারি,কসমেটিক্স, পুরো।
আমি মুখ ফসকে জিজ্ঞাস করে বললাম,
--- এ এত মেয়েদের ড্রেস, এগুলো কি আপনার বউ এর জন্য কিনেছিলেন। আমি বোঝা হয়ে এসে আপ!
--- তুমি আবার সেইম কথা বলছো? হ্যা আমার বউ এর জন্য কিনেছি, কিন্তু সেটা তুমি। তোমার জন্যই কেনা বুঝেছো? যাও চেঞ্জ করে আসো, খেয়ে মেডিসিন খেতে হবে।
আমি উঠতে নিলেই উনি এসে আমাকে কোলে নিয়ে নেয়। আমি ভয় পেয়ে জড়িয়ে ধরে বলি,
--- কি কি করছেন আপনি? আমি যেতে পারবো। নামান আমাকে,
--- না আপনি আবার ঘুরে পরে আমাকে রক্তাক্ত করার জন্য।
উনি কথাটা বলেই আমাকে ওয়াশ রুমে নামিয়ে একটা ওয়াইট গ্লিটার এর শাড়ি হাতে দিলেন,। সাথে প্রয়োজনিয় সব হাতে তুলে দিলেন। আমি লজ্জা পেলেও জিনিসটা স্বাভাবিক ভাবে নিলাম। কারন যে সামনেই খুন করতে পারে তার জন্য এসব কিছুই না। ভাবতে ভাবতে ওয়াশ রুমে প্রবেশ করলাম। এবার মনে পরলো, আমি তো শাড়ি পড়তে পারি না এখন কি করবো? তারপর ভাবলাম আপুকে ডেকে নিবো, আপাদত পেচিয়ে বের হই। কোন মতে ফ্রেস হয়ে শাড়ি পেচিয়ে বের হতেই উনি অবাক চোখে তাকিয়ে হা হা করে হাসা শুরু করলেন। আমি লজ্জা পেয়ে নিজেকে আরও গুটিয়ে নিয়ে বললাম,
--- একটু আপুকে ডেকে দিবেন? আমি না শাড়ি পরতে পারি না।
--- পারো না তো কি হয়েছে? আমি পারি, আমি পরিয়ে দিচ্ছি।এদিকে এসো। আর ভেবো না আমি অন্য কোন নারী কে শাড়ি পরিয়েছি। আমি শুধু আমার জানের জন্য শিখেছি। কি হলে এসো?
আমি শাড়ি খামচে ধরে পিছিয়ে গিয়ে বললাম,
--- না না একদন না, আ আপনি আপুকে ডেকে দিন। প্লিয দেখুন আ!
--- আহ ঈশু পাখি তুমি এতটা পিচ্চি কেন? তুমি কি জানো না আজ সায়ন আর সামিয়ার বিয়ে হয়েছে, আজ ওদের একটা স্পেশাল রাত জান। স্পেশাল মোমেন্ট এ এখন আমি তোমার বোনকে ডেকে আনবো?
ওনার কথায় লজ্জায়, মাথা নিচু করে নিজেকে নিজেই বকতে লাগলাম, ছি আমি কি থেকে কি বলে নিজেই লজ্জায় পরলাম। আমি আর কিছু ভাবার আগে উনি টেনে নিয়ে গিয়ে শাড়ির আচল কোমরে গুজে কুচি করে আমার হাতে দিয়ে ইশারা করলেন, আমিও গুজে নিলাম। আচল টেনে আবার গায়ে দিয়ে দিলেন।আমি লজ্জায় চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলাম।
উনি ঘার কাত করে ঠোট কামরে বললেন
--- এভাবে পাগল করো না প্লিজ। আম কন্ট্রোললেস।
উনি আর কিছু বলবে তার আগেই মেইড নক করলো।উনি খাবার নিয়ে আমার হাত ধরে বিছানায় বসিয়ে সুপ নিয়ে মুখে তুলে দিলেন।
আমাকে ইশারা দিলে খেতে লাগলাম। যদিও আমি আর খেতে পারছি না। তাই না পারতে বললাম -
--- প্লিজ আর না। আমার খারাপ লাগছে।
--- বেশি খারাপ লাগছে জান?
--- হুম। আর খাবো না।
--- আচ্ছা আর খেতে হবে না।
তারপর উনি নিজের খাবার খেতে শুরু করলেন। এক পর্যায় আমার ঘুম পেতে
লাগলো, আমিও বেডের এক সাইডে ঘুমিয়ে গেলাম। এর মাঝেই উনি খাওয়া শেষ করে আমাকে কোলে নিয়ে, শুয়িয়ে দিয়ে, কাথা দিয়ে কপালে চুমু দিয়ে জড়িয়ে ধরে বললেন,
--- আমার পাখি, ছোট্ট পাখিকে এত ভালোবাসি যে, তাকে বুকে লুকিয়ে রাখতে চাই। আমার ঈশু পাখি,শাড়ি পরতে পারে না, এত বাচ্চা যে শাড়ি সামলাতেই পারে না।পাগলি একটা। আমার সাথে নতুন দিনের সূচনা হবে, বলে গভির আলিংগনে জড়িয়ে নিলেন।
( রিচেক হয় নি। হ্যপি রিডিং)