ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে আমার মায়াবতী

২৩তম পর্ব

লেখক: ঈশা ইসলাম

#সে_আমার_মায়াবতি

#লেখনিতে_ঈশা_ইসলাম

#পর্ব_২৩

সকালে সুন্দর মুহুর্ত কাটিয়ে একপর্যায় ব্রেকফাস্ট টেবিলে উপস্থিত হলাম। কিন্তু বুঝলাম না সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে চোখে চোখে হাসছে কেন? ভাবনার মাঝেই মিঃ চৌধুরী আমার মুখে কাস্টার্ড ঢুকিয়ে দিলেন,লোকটা এতটা লজ্জা দেয় সবার সামনে। তাই মিনমিনিয়ে বললাম -

--- মিঃ চৌধুরী আমি খেতে পারবো। আমার হাত ঠিক আছে,। ( আমি)

--- আই নো তুমি সব পারো শুধু আমাকে আদর করা ছাড়া। ( মিঃ চৌধুরী)

আমি যেই না পানি খেতে যাচ্ছিলাম ওমনি, মিঃ চৌধুরীর কথায় গলায় পানি আটকে গিয়েছে, উনি ব্যস্ত হয়ে আমার পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। সবাই মুচকি হেসে খাওয়ায় মন দিলেও আমি রাগি চোখে ওনার দিকে তাকাই। লোকটা এতটা ঠোঁটকাটা স্বভাবের। তবুও নিজের হাতে খাওয়াচ্ছে। এর মাঝেই এনা মুখ বাকিয়ে বললেন -

--- আরাভ ঈশা কি বাচ্চা নাকি যে হাতে খেতে পারে না।তুমি ওকে খায়িয়ে দিচ্ছো যে! ( এনা)

--- আমার বউ বাচ্চা নাকি বড় সেটা তোকে ভাবতে হবে না। আমার জানকে আমি কিভাবে খাওয়াবো কিভাবে রাখবো সেটা নিতান্তই আমার ব্যপার। তাই আমাদের পারসোনাল লাইফে তোর ইন্টারফেয়ার করতে হবে না।

(মিঃ চৌধুরি)

মিঃ চৌধুরীর কথায় এনার মুখে তালা ঝুঁলে গিয়েছে। তাই চুপচাপ আমার দিকেই কটমট চোখে তাকিয়ে আছে। আমিও মুখ ভেংচি দিলাম। আর দেখিয়ে দেখিয়ে হা করলাম।

মিঃ চৌধুরী আমার দিকে এক পলক তাকিয়ে ক্রুর হেসে আমাকে খাওয়াতে লাগলেন। এর মাঝেই বাড়ির সবাই মন খারাপ করে বসে ছিলেন আমি আপু চলে যাবো, বাড়িটা ফাঁকা ফাঁকা লাগবে। কিন্তু আমি গিয়ে তাদের শান্তনা দেই যে এক / দুই দিনের তো ব্যপার।

খাওয়া শেষ এ বসার ঘরে গিয়ে সবাই বসে। আমরা একটু পর বের হবো তাই, আন্টি আংকেল এর সাথে একটু গল্প করছিলাম।

হুট করেই মায়া চিৎকার দিয়ে ওঠে- সবাই উৎসক চোখে তাকাতেই দেখলাম এনা শাড়ি পরে সেজে বের হয়েছে।মায়া বলে উঠলো-

--- আরে এনা আপু শাড়ি পরে এত সেজেগুজে কোথায় যাচ্ছো? ( মায়া)

--- আমি তো ঈশাদের সাথে যাবো। তাই না ঈশা? ( এনা)

ওনার কথায় আমি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছি। উনি কি বলছে, আমি আবার কখোন বললাম? তার মাঝেই মিঃ চৌধুরী এসে আমার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন -

--- জান তুমি বলেছো? ( মিঃ চৌধুরী)

আমি কিছু বলার পূর্বেই এনা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললো,

--- ঈশা যুদ্ধ হয় সমানে সমানে। তাই আমিও তোমার সাথে যেতে চাই। যেনো তোমাদের কেমেস্ট্রি আরও হিট করতে পারি। ( এনা) ( সয়তানি হেসে)

--- আপনি মনে হয় ভুলে যাচ্ছেন, আমার মিঃ চৌধুরী কোন পন্য বা সামগ্রি নয় যে,তাকে নিয়ে বাজি ধরবো বা যুদ্ধ করবো। তাই নেক্সট টাইম এটা বলবেন না। আর হ্যা আমাদের লাইফে এমনিতেই কেমেস্ট্রি জমে ক্ষির তাই আলাদা সাসপেন্স এর দরকার নেই। আপনি চাইলে এমনিতেও যেতে পারেন। ( আমি)

--- এই ঈশা তোরা কি ফুসুরফাসুর করছিস তখন থেকে? ( মায়া)

--- আব আসলে হ্যাঁ মানে এনা আপু যেতে চেয়েছে তাই আর! ( আমি)

--- জান আমরা ঘুরতে যাচ্ছি না, এটা রেওয়াজ তাই যাচ্ছি, এখানে এনা গিয়ে কি করবে।

( মিঃ চৌধুরী)

--- আরাভ আমাকে নিয়ে চলো না প্লিজ। আমি তো বিডি এসেও কোথায় যেতে পারছি না। তাই ( এনা)

--- মিঃ চৌধুরী যাক না উনি আমাদের সাথে। একটু ঘুরে আসুক। একা থেকে কি করবে? ( আমি)

--- ওকে। ( মিঃ চৌধুরী)

আন্টি আংকেল আর ফারাজ ভাইয়া টুকটাক কথা বলে একটু আগেই চলে গিয়েছেন।

যেহুত নতুন সেটেল্ড হয়েছে, তাই কাজের চাপ বেশি। কিন্তু যাওয়ার আগে আমাকে প্রমিস করিয়েছে যেন, আমরা সবাই যাই। আর আমিও বলেছি যখন আমাকে দেখতে ইচ্ছা করবে চলে আসতে। এনা আপু রেডি হয়ে আগেই গাড়ির কাছে গিয়ে বসে আছে। আমি আর আপুও রেডি হতে চলে গেলাম, আজ যেহুত বিয়ের প্রথম বার বাড়ি যাবো তাই ভাবছি শাড়ি পরে যাবো। কিন্তু কোনটা পরবো ডিসাইড করতে করতে চোখ যায় বেডের ওপর শপিং ব্যগ এ। সেই বিয়ে বাড়ির ঘটনা আবার চোখে ভেসে উঠেছে। আচ্ছা শাড়িটা কি তার মানে মিঃ চৌধুরী দিয়েছিলেন। আর ওই অজানা ব্যক্তি সেই বা কোথায়? ভাবনার মাঝেই ঘড়ির দিকে চোখ পড়তে দেখি বেলা বারছে। তাই বেশিকিছু না ভেবে শাড়ি বেডে রেখে অন্য জিনিসগুলো পরে বের হলাম। কিন্তু বের হতেই যে সোজা মিঃ চৌধুরীর মুখোমুখি হবো ভাবতে পারি নি। যেই না চিৎকার দিবো ওমনি উনি মুখ চেপে ধরলেন।

--- আহ জান জামাই আমি। এভাবে চিৎকার করছো কেন? কিছু দেখি নি তো। ( মিঃ চৌধুরী)

আমি মমম আওয়াজ করতেই উনি মুখ ছেড়ে একটু দূরে গিয়ে দাড়ালেন। আমি শ্বাস নিয়ে বললাম,

--- আ আপনি এভাবে ভয় পায়িয়ে দিচ্ছিলেন মিঃ চৌধুরী। ( আমি)

--- জান ইউ লুকিং সো হট বেবি। ক্যন আই কিস ইউ? (মিঃ চৌধুরী)

আমি জানি উনি এখন জোর করে চুমু খাবেন তাই দূরে সরে হাত দিয়ে শাড়ি যেমন তেমন পেচিয়ে বললাম -

--- ছি আপনি কি বলছেন এসব! ( আমি)

--- বাংলায় বলছি আদর করবো তুমি বোঝ না পাখি? ( ঠোঁট কামড়ে) ( মিঃ চৌধুরী)

--- আ আমার দেরি হচ্ছে, আমি শাড়ি পর!!

আমাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কাছে টেনে নিলেন। আমার কপালে চুমু খেয়ে শাড়ি হাতে নিতে নিতে বললেন--

--- জান ট্রাস্ট করো তো আমায়? ( মিঃ চৌধুরী)

আমি জানি, পৃথিবিতে আমার ফ্যমিলির পর এই মানুষটাকেই যে বিশ্বাস করি বেশি। যার কাছে আমি সারাদিন,রাত ঘুরঘুর করি আমি তার আইনগত স্ত্রি হওয়া সত্বেও যে আমার অনুমতি ব্যতিত স্পর্শ করে না। তার কাছে আমি সবচেয়ে নিরাপদ। তাই অগাধ বিশ্বাস নিয়ে মাথা নাড়ালাম -

উনিও মুচকি হেসে আমায় শাড়ি পরিয়ে দিলেন। আশ্বর্যের বিষয় উনি আমাকে এতটুকু টাচ করে নি। কুঁচি গুলো আমার হাতে দিলেন আমিও গুজে নিলাম। আমার দিকে তাকিয়ে বললেন -

--- আমার পরি এমনিতেই সুন্দর, তাকে সাজাতে কিছুই লাগে না। তবুও আজ আমি নিজের হাতে তাকে সাজিয়ে দিবো --( মিঃ চৌধুরী)

আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে নিজেই সাজিয়ে দিচ্ছেন। আমি আয়নায় মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি ওনার দিকে। লাল সিদুঁর রাঙা কাতান শাড়ি, ঝুমকা, মেচিং জুয়েলারি আর লাল চুড়ি, সাথে কাজল আর বেবি পিংক লিপস্টিক দিয়ে দিলেন। আয়নায় নিজেকে দেখে নিজেই ভাবছি, কি সুন্দর করে সাজিয়েছে মানুষটা আমায়। আমাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে গালে হাত গলিয়ে দিলেন। আমার চোখে চুমু খেয়ে বললেন-

--- মাশাল্লাহ। আমার পাখি কে আমার চোখে পৃথিবির শ্রেষ্ঠ সুন্দরি লাগছে। যে আমার একান্তই আমার। ভালোবাসি বউ। ( মিঃ চৌধুরী)

আমি লজ্জায় মাথা নুয়িয়ে ফেললে আমাকে কিছুক্ষন জড়িয়ে ধরে, নিজে রেডি হতে চলে যায়৷ আমিও তাই নিচে বেককনিতে একটু হাটাহাটি করে রুমে আসতেই আবার হারিয়ে গেলাম আমার চৌধুরী

সাহেবের দিকে। যে আমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে।সিদুঁর

রাঙা পাঞ্জাবি তে, হাতে রোলাক্সের ঘড়ি পরিহিত যুবক। যার হালকা চাপদাড়ি আর গভির চোখের চাহনিতে আমি হারিয়েছি বারবার।

--- মিসেস চৌধুরী আমি

সম্পুর্ন তোমার পাখি। তাই এভাবে চোখ দিয়ে গিলে না খেলেও পারো। ( বাকা হেসে)

(মিঃ চৌধুরি)

--- আব না মানে আমি ( আমি)

--- জান অধিকার কেউ কাওকে দেয় না। নিজের যা তা ছিনিয়ে নিতে হয়। এবার চলুন মিসেস চৌধুরী,উই আর লেইট। ( মিঃ চৌধুরী)

লোকটা আমাকে কিছু বোঝার সময় না দিয়েই টেনে নিয়ে গেলেন। সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে মুগ্ধ চোখে। আম্মু আব্বু ওনাকে এই সেই বলে দিলেন আমাকে নিয়ে যেন ৩/৪ দিন থেকে আসে। কিন্তু লোকটা সেখানেই বলে দিয়েছে আজকের বেশি একদিন ও থাকবে না৷ আর কি করার গাড়ির কাছে গেলাম। ভাইয়া আর আপু আলাদা গাড়িতে যাবে আর আমি আর মিঃ চৌধুরী আলাদা গাড়িতে যাবো। গাড়ির কাছে গিয়ে ফ্রন্ট সিটে বসতেই আমার আগে, এনা আপু বসে গেলেন। আর মিঃ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বললেন-

--- আসলে তুমি তো জানো আরাভ আমি সামনে না বসলে মাথা ঘুড়ায়। তাই আজ যদি ঈশা ম্যনেজ করে একটু পিছে বসে! ( এনা)

--- তুই চাইলে অন্য গাড়িতে যা, এখানে ঈশা বসবে। তুই! ( মিঃ চৌধুরী)

আমি ওনাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে বললাম -

--- আহ থাক না মিঃ চৌধুরী, আপু যখন বসবে বসুক না। ( আমি)

--- পাখি তুমি কি বলছো? তুমি একা কেন বসবে, আমি তোমাকে নিয়ে বসবো।( মিঃ চৌধুরী)

আমার কথায় এনার খুশি বেশিক্ষন টিকলো না। কারন আমি মিঃ চৌধুরীকে হাত ধরে টেনে নিয়ে পেছনে বসে পরেছি। এনা আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে জিজ্ঞাস করলো -

--- ঈশা আরভ কে নিয়ে গেলে কেন? তাহলে ড্রাইভ কে করবে? ( এনা)

--- আপু আমার হাসবেন্ড কে কি আপনার ড্রাইভার মনে হয়, যে আপনাকে ড্রাইভ করে নিয়ে যাবে। ওই তো ড্রাইভার এসেছে। উনি ড্রাইভ করবে। ( আমি)

--- ওয়াট? আমি ড্রাইভার এর সাথে বসবো? ( এনা)

--- প্রথম কথা আপনিও যা উনিও তা। আর আপনিও মানুষ ওনার মতো৷ আর দ্বিতীয় কথা আপনি সামনে বসতে চেয়েছেন কার সাথে বসবেন সেটা ফেক্ট নয়। তাই না চৌধুরী সাহেব? ( আমি)

আমি ওনার দিকে তাকাতেই দেখলাম মিটমিটিয়ে হাসছে। আজব লোকটাকে নিয়ে আমি ফাইট করছি আর উনি হাসছে? উনি এনার দিকে ফিরে এবার বলে -

--- এনা ঈশু পাখি ঠিক বলেছে, এবার তোর প্রবলেম হলে অন্য গাড়িতে যেতে পারিস। ( মিঃ চৌধুরী)

এদিকে এনা রাগে ফোসফোস করছে, আর মনে মনে আওরাচ্ছে-

--- ছাড়বো না তোমায়। আমাকে তোমার কথায় কথায় হিয়মিলিয়েট করা বার করবো। যাস্ট ওয়েট এন্ড সি। আমাকে তুমি চিনো নি এখনো। খুব বড় ভুল করলে আমার সাথে লেগে। এর ফল তোমাকে ভয়াবহ ভাবে ভোগ করতে হবে। ( এনা)

আমি এবার মিঃ চৌধুরীর দিকে তাকাতেই উনি আমাকে আরেকটু কাছে নিয়ে টিপ পরিয়ে দিলেন। কানের কাছে ফিসফিস করে বললেন --

--- যে সম্পুর্না তাকে সব রুপেই আমার চাই। সে আমাকে বার বার ঘায়েল করে। একটা ভালোবাসার চাদড়ে মুঁড়ে রাখবো। সে কি জানে এই প্রেমিক পুরুষ তার মায়াতেই আবদ্ধ। ( মিঃ চৌধুরী)

লোকটা আসলেই পাগল। এতটুকু ক্ষুত রাখে নি আমার। আসলেই পাগল সে। সামনে তাকাতেই দেখি এনা, চোখ বড় করে তাকিয়ে আছে। আমিও চোখ টিপ মেরে মিঃ চৌধুরীর বুকে মাথা এলিয়ে দিলাম। শান্তির স্থানে আমার ঠাই হয়েছে। তাই মনের সুখে শুকরিয়া করলাম এই মানুষটা আমার থাকুক। আজিবন মানুষটার ভালোবাসায় আমি হারিয়ে যেতে চাই।

#চলবে____________

এত কষ্ট করে ২/৩ ঘন্টা ব্যয় করে গল্প লিখে যখন টাচ্ লেগে সম্পুর্ন গল্পটা কেটে যায় কেমন লাগে? ১২ টায় দিতে চেয়েছি তাই পারি নি। আবার গল্প সাজিয়ে লিখেছি। অপেক্ষা করানোর জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন