#সে_আমার_মায়াবতী
#লেখনিতে_ঈশা_ইসলাম
#পর্ব_২৯
সেদিনের পর কেটে গিয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ্। আজ মিঃ চৌধুরী নিজে আমাকে আর মায়া কে ভার্সিটি দিয়ে আসবে। টেনশেন এ ছিলাম, না জানি লোকটা আমাকে পড়তে দেয় কি না?কিন্তু আমার ধারণা কে সম্পুর্ন ভুল প্রমান করে উনি নিজেই আমাকে পরার অনুমতি দিয়েছে। ওনার কাজে আম্মু আর আব্বুও ভিসন খুশি। কিন্তু এর বদলে উনি গুনে গুনে প্রায় একশত চুমু খেয়েছে। লোকটার বাচ্চামো দেখে আমি প্রতি পদে তার প্রতি নতুন করে প্রেমে পরি।
--- জান আ'ম রেডি আর ইউ রেডি বেবি? ( মিঃ চৌধুরী)
--- হুমম একটু ওয়েট করুন।
চুলটা আটকে গিয়েছে। ( আমি)
--- দেখি আমি ঠিক করে দিচ্ছি। এভাবে করলে তোমার চুল তো ছিড়ে যাবে। কাম পাখি। ( মিঃ চৌধুরী)
আমি ওনার সামনে দাড়াতেই লোকটা আলতো হাতে আমার চুল স্পর্শ করে ছাড়িয়ে দিলেন। আমি মুগ্ধ নয়নে তার দিকে তাকিয়ে আছি। উনি মুচকি হেসে কি ইশারা করতেই আমি হুট করেই পা উচিয়ে ওনাকে জরিয়ে ধরি। উনি প্রথমে অবাক হলেও হালকা হেসে আমাকে আকড়ে নেয়। কানে চুমু খেয়ে বলে --
--- কি হয়েছে জান। আজ নিজে থেকেই জড়িয়ে ধরলে যে, শরির খারাপ লাগছে? ( মিঃ চৌধুরী)
--- উফফ মিঃ চৌধুরী আমি কি এখন জড়িয়ে ধরতেও পারি না। সব সময় কি আমার শরীর খারাপ থাকে? ( অসহায় চোখে)( আমি)
--- আচ্ছা সরি জান। তুমি তো জানো পাখি তোমার চুপ থাকা, শরির খারাপ আমাকে কতটা পোড়ায়। (মিঃ চৌধুরী)
কথা বলার মাঝেই মায়ার চিৎকার অনুসরন করে দেখি মায়া চোখ ঢেকে দাঁড়িয়ে আছে। আমি সরে যেতে চাইলেও উনি আমাকে আরও কাছে টেনে নিয়ে আসেন। মায়ার দিকে দৃষ্টি দিতেই বলে উঠে-
--- সরি সরি বড় ভাইয়া, সরি ঈশু আমি খেয়াল করি নি। মাই মিস্টেক। ( মায়া)
--- তুই নক করিস নি কেন? (মিঃ চৌধুরি)
-- আমি খেয়াল করি নি, আসলে অনেক লেইট হয়ে গিয়েছে৷ ( মায়া)
-- আহ মিঃ চৌধুরী আপনি ছাড়ুন না প্লিজ। সত্যি তো দেরি হচ্ছে। আর আপনি ইচ্ছে করে দেরি করাচ্ছেন। ( আমি)
--- দেরি করিয়ে আমার তো লাভ হলো না জান। সেই তো একটু আদ!! (মিঃ চৌধুরি)
--- এই আপনি থামুন। আপনি এত নির্লজ্য কেন হ্যাঁ? সামনে আপনার বোন দাঁড়িয়ে আছে আর আপনি ওর সামনেই এসব বলছেন। ( আমি)
-- এই আমি কিছু দেখি নি আর শুনিও নি, কান্টিনিউ বড় ভাইয়া। সময় দিয়ে গেলাম, লাস্ট টেন মিনিট'স তোমাদের। ( মায়া)
কথাগুলো বলেই মায়া আমাকে চোখ টিপ দিয়ে চলে গেলো। মিঃ চৌধুরী আমার দিকে তাকিয়ে ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে দিয়ে চেপে ধরলেন।
-- দেখলে তো টেন মিনিট'স সময় আছে। আর এই সময়ে তো অনেক কিছু করা যায়। তাই না পাখি। ( মিঃ চৌধুরী)
--- ভাই বোন দু-টোই এক। লুচু টাইপ, আর আপ!
আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই উনি হেচঁকা টানে আমাকে সামনে নিয়ে এলেন।
আমার কোমড় দু- হাতে উচিয়ে ধরলেন। আমি জানি এখন এই মানুষটার মনে কি চলছে তাই পায়ের পাতায় ভর দিয়ে ওনার কাধ খামছে ধরলাম, চোখ বন্ধ করে অপেক্ষা করছি মিঃ চৌধুরীর স্পর্শ নেয়ার জন্য। উনি ঘার কাত করে হেসে মিলিয়ে দিলেন দুই- ওষ্ঠদয়, এমন ভাবে চুষতে থাকলেন যেন কোন সুধাপান করছেন।ঘড়ির কাটা জানান দিচ্ছে সময় পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু ওনার ছাড়ার নাম নেই। তাই আমি হাতপা ছুড়াছুড়ি করতেই আমাকে ছেড়ে দিলেন। আমার ঠোঁট মুছিয়ে দিয়ে বললেন-
--- উফ পাখি আ'ম কন্ট্রোল লেস, আমাকে তুমি কিন্তু ইচ্ছে করে এবার সিডিউস করছো। ( মিঃ চৌধুরী)
-- আপনি ইচ্ছে করে এভাবে বার বার আমাকে জ্বালাতন করছেন। আপ আপনি আর আমাকে কিস করবেন না। (আমি)
-- ওহহ তাই আচ্ছা কিস করবো না কিন্তু হ্যাঁ রোমেন্স তো করতেই পারবো। তাই না পাখি? ( মিঃ চৌধুরী)
-- আপনি কি যাবেন? নাকি আমি চলে যাবো। অসভ্য মার্কা কথাগুলো আপনি আর বলবেন না কিন্তু। ( আমি)
-- আচ্ছা জান চলুন এবার৷ ( মিঃ চৌধুরী)
আমার হাত ধরে নিচে নেমে গেলেন৷ আম্মু আব্বুর থেকে দোঁয়া নিয়ে বেরিয়ে গেলাম। আমি মায়া একসাথে যাবো ভেবেছি কিন্তু আজ বিয়ের প্রথম যাবো তাই উনি নিজেই ড্রপ করে দিবেন৷ ভার্সিটির সামনে গাড়ি দার করাতেই উনি কপালে চুমু দিয়ে চলে গেলেন। আমি আর মায়া ভার্সিটি প্রবেস করতেই তুবা এসে হাজির হলো। গল্প করতে করতে ক্লাস রুমে যাওয়ার পথে খেয়াল করলাম অনেকেই অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ভাবতেই মনে পরলো কাল মিঃ চৌধুরীর আর আমার ঘুরতে যাওয়া, শাড়ি ঠিক করে দেয়া, মেলায় হাত ধরে ঘুরার কিছু মুহুর্ত ভাইরাল হয়েছে। এই নিয়ে কিছুদিন কানাঘুষা বের হতেই উনি প্রেস-মিডিয়া ডেকে সবাই কে আমার পরিচয় দেন। সবাই শুভেচ্ছা জানালেও মিঃ চৌধুরীর প্রফাইল ঘুরে দেখি মেয়েদের আত্ম চিৎকার। মেয়েরা রিতিমত এই সেই বলে কমেন্টবক্স ভর্তি করে ফেলেছে। ওনার ভেরিফাইড পেইজ এ আমাদের বিয়ের ছবি সহ কিছু কাপল পিক দিয়ে আমাদের বিয়ের খবর জানিয়েছেন। এজন্যই সবাই এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। অস্বস্তি নিয়ে কোনমতে ক্লাস শেষ করার পর বের হতে নিলেই থার্ড ইয়ার এর সেই মেয়েগুলো পথ আটকে দাঁড়ায়৷
-- বাহ বাহ এই রুপ দিয়েই বুঝি বড়লোকের ছেলেদের কে ফাসাও। আগে তো ভোলাভালা সেজে ছিলে এখন হটাৎ এত ঢং বেড়ে গেলো৷ ( প্রথম মেয়ে)
--- হ্যাঁ নইলে ভাব নাহলে এর মতো মেয়েকে কিভাবে সব মেয়েদের ক্রাশ আইকন বিয়ে করবে হাও ফানি? ( দ্বিতীয় মেয়ে)
কথাগুলো বলা মাত্রই সবাই হেসে দিলো৷ এবার মায়া আর তুবা ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলতে আরম্ভ করে-
-- এই যে সমস্যা কি তোমাদের? মানুষ এর ভালো দেখতে পারো না তাই না। আমার ভাইয়া বিয়ে করছে তাতে খুব জ্বলছে তাই না?(মায়া)
-- অন্যর ক্ষুত না ধরে নিজে ঠিক হও। সারাদিন মানুষ এর পিছনে লাগাই তো তোমাদের কাজ। নেক্সট টাইম ভেবে চিন্তে কথা বলবে। ( তুবা)
--- এই তোমাদের পাওয়ার আছে বলেই কি যা ইচ্ছা করবে নাকি। মুখ আছে তাই কথা বলবো। আর কয়টা ছেলেকে ফাসিয়েছো এই ভাবে। ( আরেক জন)
আমার প্রিয় মানুষটা আমাকে শিখিয়েছে যখন নিজের দোষ না থাকে কেউ ইচ্ছে করে ছোট করতে চায় তখন তাকে সুযোগ দেয়া উচিত নয়। সে যেই হোক তাকে তার জায়গাটা বুঝিয়ে দিতে হয়।তাই আমি বুকে হাত ভাজ করে বললাম -
-- ওহহ রিয়েলি? আচ্ছা আমি ফাসিয়েছি, তবে এসো তোমাকেও কিছু টিপস শিখিয়ে দেই। ( আমি)
আমার কথায় মায়া আর তুবা মুখ টিপে হাসলেও মেয়েগুলো রাগি চোখে তাকিয়ে আছে৷ আমি মুখ ভেংচি দিয়ে চলে এলাম। কিছুটা শান্তি অনুভব করছি। সত্যি তো আমি কেন অন্যের তেতো কথায় কান্না করবো, কেন কষ্ট পাবো। মনে মনে মিঃ চৌধুরীকে ধন্যবাদ দিতেই ফোনে কল এলো। স্ক্রিনে তাকাতেই দেখি প্রিয় মানুষটার নাম্বার জ্বলজ্বল করছে। সময় ব্যয় না করে রিসিভ করার সাথে সাথেই উনি বলে উঠলেন -
-- ভালোবাসি বউ। জিবনের সবটা জুড়ে শুধু আপনার বসবাস। আর ঠিক এইভাবেই কিছু মানুষকে এভোয়েড করে চলতে হয়৷ ( মিঃ চৌধুরী)
-- আপনি কিভাবে জানলেন? আর হটাৎ করে এই কথাই বা কেন বলছেন। আপনি কি আমার আশেপাশেই আছেন চৌধুরি সাহেব? ( আমি)
-- আশেপাশে বলছো? তুমি তো আমার প্রতিটা নিঃশ্বস জুড়ে আছো৷ মিস ইউ পাখি।
(মিঃ চৌধুরি)
-- আমিও মিস করছি আপনাকে চৌধুরী সাহেব। (আমি)
উনি মুচকি হেসে ফোনটা বুকে জড়িয়ে ধরলেন। ওনার প্রতিটা নিঃশ্বাস আমার কানে প্রতিফলিত হচ্ছে। শুনেছি ভালোবাসার মানুষ নাকি কাছে এলে রঙহীন জিনিস গুলোও সুন্দর লাগে৷ আমার ব্যপারে কি তা হচ্ছে নাকি?
চোখ বন্ধ করতেই মিঃ চৌধুরীর চেহারা ভেসে উঠলো।
---------------------------------------------------------------
আজকে প্রতিটা মানুষ এর মনে অস্থিরতা আর চিন্তা কাজ করছে। কারন মিঃ চৌধুরীর ভোটের রেজাল্ট আজ দিবে। পার্টি ক্লাবে মানুষটা শান্ত হয়ে বসে আছে। তার মধ্যে ও কম চিন্তা কাজ করছে না মানুষটা কয়েকটা দিন যে পরিশ্রম করেছে তা সকলের চোখে পরেছে। সারাদিন রাত পরিশ্রম করেও মানুষটা একটা মুহুর্ত এর জন্য আমার যত্ন নিতে ভুলে নি। আস্তে আস্তে যে মানুষটার মায়ার গভির ভাবে জড়িয়ে পরছি তা আমি বেশ ভালো বুঝতে পারছি। আর কিছুক্ষন এর মধ্যে ফল প্রকাশ হবে তাই বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষ টিভির স্ক্রিনে তাকিয়ে দোঁয়া করছে। অবশেষে ফল প্রকাশ করার জন্য কাউন ডাউন শুরু হলে আমার হাত পা কাপাকাপি শুরু হয়ে যায়। মানুষটার এত কষ্টের পরিশ্রম কি বৃথা যাবে? ভাবনার মাঝেই মায়া ইয়াহহহুউউ বলে চিল্লিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে। টিভির স্ক্রিনে চোখ দিতেই জানতে পারি বিপুল ভোটে জয়ি হয়ে এবার এর পলিটিক্স নেতার পথটা মিঃ চৌধুরী পেয়েছে। আনন্দে পুরো বাড়ি গমগম করছে। আম্মু ও আমায় জড়িয়ে ধরলো। সামনে তাকিয়ে দেখছি আমার প্রিয় প্রেমিক পুরুষ এর মুখে বিশ্বজয় এর হাসি। যেখানে তাকে সম্মানওনা জানানো হচ্ছে। এর মধ্যেই মনে হলো আচ্ছা আমিও যদি আজ ওনাকে একটা সারপ্রাইজ দিয়ে চমকে দিতে পারি। তাই মায়া কে ডেকে নিয়ে প্লেন করলাম, আজ ওনার দেয়া শুভ্র শাড়ি, হালকা সাজে, কাঁচের চুরি, আর খোলা চুলে ওনার বাগানের কাঠঁগোলাপ, ব্যস রেডি হয়ে আম্মু, আব্বু কে বলে বেরিয়ে গেলাম। গার্ড যেতে চাইলেও আব্বুর থেকে কড়া পারমিশন নিয়ে তাদের ছাড়াই বেরিয়ে গেলাম। গল্প করতে করতে পার্টি ক্লাবের সামনে চলে এলাম। গাড়ি থেকে নেমেই চোখ বন্ধ করে ভাবতে লাগলাম, আচ্ছা আমাকে দেখলে কি উনি চমকে যাবেন? খুশি হয়ে জড়িয়ে ধরবেন? ভাবনার মাঝেই হাতে টান পরায় বাস্তবে ফিরি।মায়ার দিকে তাকিয়ে দেখি নিচে বসে আছে।কি হলো,কিভাবে হলো
এসব ভাবনা চিন্তা সাইডে রেখে যেই না ওকে তুলতে যাবো ওমনি কতোগুলো কালো পোশাক পরিহিত মানুষ এসে আমাকে টানতে লাগলো। টেনে গাড়িতে তুলে নিলো৷। সাই সাই করে গাড়ি চলে গেলো বহুদুর। এর মধ্যেই হইচই পরে গেলো। মিঃ চৌধুরী দৌরে এসে মায়াকে তুলে নিলেন। কিছু জিজ্ঞাস করার আগেই মায়া কেঁদে বলে উঠলো -
--- ভা ভাইয়া ঈশা কে ফিরিয়ে দে প্লিজ। (মায়া)
--- মানে? ( মিঃ চৌধুরী)
--- ওরা ওরা ঈশা কে নিয়ে গিয়েছে প্লিজ ওকে এনে দেও না। ( মায়া)
--- মায়া কান্না করে কথাগুলো বলার এক পর্যায় মিঃ চৌধুরী ওনার চুলে হাত বুলিয়ে ঘার কাত করে বাকা হাসে।
আমি গাড়িতে হাত পা ছুড়াছুড়ি করছি। কিন্তু লোকগুলো আমাকে থামাতে না পেরে মুখে রুমাল চেপে ধরলেন। আস্তে আস্তে সব ঝাপসা হতেই ভাবতে লাগলাম, আচ্ছা আর কি আমার শেষ কথাটা ওনাকে বলা হবে না? আমি কি মারা যাবো? মিঃ চৌধুরী তো বলেছে আমাকে সকল বিপদ থেকে রক্ষা করবে তাহলে কি আসবে উনি? এসে আমার কপালে চুমু খেয়ে আমাকে জড়িয়ে নিয়ে বলবেন, ভালোবাসি জান, সে আমার মায়াবতি। শুনতে পাবো কি তার মুখে এই বাক্য। আর কিছু ভাবতে পারলাম না তার আগেই ঢলে পরলাম ঘুমের কোলে।
#চলবে____________
আজকের পর্বটা টানটান উত্তেজনায় রাখলাম। আশা রাখুন নিরাশ করবো না 😊, আর হ্যা কাল কিন্তু গল্প ৯ টায় পাবেন। তাই টেনশন নেয়ার দরকার নেই,🍁🍁