ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে আমার মায়াবতী

৩০তম পর্ব

লেখক: ঈশা ইসলাম

#সে_আমার_মায়াবতী

#লেখনিতে_ঈশা_ইসলাম

#পর্ব_৩০

চোখ খুলেই নিজেক আবিষ্কার করি অন্ধকার রুমে।হাত পা নাড়াতেই দেখি দড়ি দিয়ে চেয়ারে বাধা পরে আছি। চারিপাশে চোখ বুলিয়ে দেখি ভেতরে আলো আশার ছিটেফোঁটা নেই। কিন্তু মাথার ওপর ছোট একটা লাইট রয়েছে। যা দ্বারা আমার সামনে বসে থাকা লোকটাকে দেখতে পারছি। সাথে বন্দুক নিয়ে গার্ড দাঁড়িয়ে আছে।

আমি এদিক সেদিক তাকাতেই সামনে বসা লোকটা বন্দুক ঘুড়াতে ঘুড়াতে বললো-

--- বাহ পাখির জ্ঞান ফিরেছে। ( লোকটা)

-- খবরদার এই নামে আপনি ডাকবেন না। কি ক্ষতি করেছি আমি?আমাকে কেন এখানে নিয়ে এসেছেন? ছাড়ুন বলছি। (আমি)

-- বাহ আরাভ এর বউ তো দেখি তার মতো। তেজ আছে মেয়ের। আই লাইক ইট বেবি।(লোকটা)

-- সাবধান করছি আমি। আপনি ফের এই নামে ডাকলে জিব ছিড়ে নিবো। (আমি)

-- ওহহ রিয়েলি একটু পর বস এলেই বুঝবে কে কাকে কি করে। ( লোকটা)

এদের কথায় এতটুকু বুঝতে পেরেছি এর লিডার অন্য কেউ। কিন্তু আমাকে এখানে তুলে আনার আসল উদ্দেশ্য

কি হতে পারে? আর মিঃ চৌধুরী কি জানেন আমি এখানে? খুজে পাবে তো?.

ভাবনায় মত্ত্য থাকা অবস্থায় কারো বস সম্মোধনে সামনে তাকাই। একি উনি এখানে? অবাক হয়ে ভাবছি এই লোকটা কে তো আমি চিনি উনি আর কেউ না সয়ং আমার ভার্সিটির ইংলিশ টিচার। বিহান স্যার?যদিও দু- দিন ওনার চাহনিতে আমি বাজে একটা আভাস পেয়েছি, কিন্তু এতটা পাত্তা দেই নি,উনি আসতেই সবাই দাঁড়িয় গেলো, আমার দিকে হালকা ঝুকে বললেন -

-- ওয়াও মিস ঈশা আ'ম ক্রাশ অন ইউ। ইশ আবার তোমার প্রেমে পরে গেলাম। ( বিহান)

-- যাস্ট শাট আপ, আমি আপনার স্টুডেন্ট আর আপনি আমাকে এখানে জোর করে তুলে নিয়ে এসেছেন? ( আমি)

-- হ্যাঁ কারন আমি ভালোবাসি তোমায়। সেই প্রথম দেখা থেকেই। আর আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। খুব সুখি রাখবো। ট্রাস্ট! ( বিহান)

-- চুপ করুন আপনি। আপনি একজন শিক্ষক তাই যথেষ্ঠ সম্মান করি। কিন্তু এখানে তুলে এনে আপনি মোটেও ঠিক করেন নি। এর ফল আপনাকে খুব বাজে ভাবে ভোগ করতে হবে। ( আমি)

-- উফফ এই কারনেই তো ভার্সিটির সবাইকে রিজেক্ট করে তোমাকে চোখে লেগেছে। একদম ইউনিক তুমি। ভালোবাসি তোমাকে ঈশা। ( বিহান)

-- আপনি শুনতে পাচ্ছেন না? বিবাহিত আমি, আরেকবার এই কথাগুলো বলে নিজেকে কুলশিত করবেন না। ছেড়ে দিন আমায়। ( আমি)

আমার কথায় বিহান স্যার জোরে জোরে হাত তালি দিয়ে হেসে বলে ওঠে -

-- ওহহ তাই, তাহলে তোমার প্রেমিক পুরুষ এর নাকের ডগা থেকে তুলে নিয়ে এলাম। ধরতে পেরেছে আমায়? আর এখন আমি বিয়ে ও করবো তোমায়। তোমার এই রুপ, লাবন্য আমাকে পাগল করেছে৷ এত মেয়ে দেখেছি ছুঁয়েছি কিন্তু তোমার মতো এত সুন্দর পাগল করা মেয়ে আমার চোখে আর পরে নি। (বিহান)

-- ছি ছাড়ুন আমায়। এতটা নিচ আপনি। একদম আমার কাছে ঘেষার চেষ্টা করবেন না। খুলে দিন আমার হাত। ছাড়ুন বলছি। ( চিল্লিয়ে) ( আমি)

-- আহ চিৎকার করে লাভ নেই, কেউ এই গভির জংগলে তোমাকে বাচাঁতে আসবে না। আগে তোমাকে বিয়ে করে খাঁচায় পুড়বো, তারপর তোমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে হলেও নিজের করে নিবো। আর তোমার আরাভ আর আসবে না, খুঁজে পেলে তবেই তো আসবে না। ( বিহান)

সত্যি কি আসবেন না মিঃ চৌধুরী৷ আমাকে এই নড়ক থেকে উদ্ধার করবে না? এই অসৎ মানুষটা কি আমাকে সত্যি বাজে ভাবে ছুঁয়ে দিবে।

(মনে মনে)( আমি)

-- এই কাজি নিয়ে আয়৷এক মুহুর্ত দেরি করা যাবে না। পাখি উঁরে যাবে। ( বিহান)

-- বস শাড়ি গহনা? এসব! ( লোকটা)

-- নো নো ভুল করেও দেরি করা যাবে না। আর আগে বিয়ে হোক তারপর সব হবে। আর এমনিতেও বিয়ের কনে শাড়ি পরিহিতোই আছে। (বিহান)

-- করবো না আমি বিয়ে। ছাড়ুন বলছি। আমি বিবাহিত। আপনি এগুলো কেন করছেন। করবো না এই বিয়ে। একজন বিবাহিত মেয়েকে আপনি বিয়ে করবেন? এতটা পাপ করবেন না প্লিজ। ( আমি)

-- বিয়ে বিয়ে বিয়ে? কিসের বিয়ে? কার বিয়ে।আজ এক্ষুনি তোমাকে বিয়ে করবো। আর সোজা কথায় না হলে আঙুল বাকাতে হবে। আমাকে রাগীয়ে দিলে তোমার ভালো হবে না। তাই চুপচাপ বিয়েটা করে নাও। ( বিহান)

-- আমি মরে গেলেও এই বিয়ে কিছুতেই করবো না। এই ঈশার মনে শুধু তার চৌধুরি সাহেবের বাস। আমি শুধু আমার মিঃ চৌধুরী কেই ভালোবাসি। শুনতে পেয়েছেন। ( আমি)

আমার কথায় বিহান স্যার চোখ লাল করে তাকিয়ে, হাতের কাছের চেয়ারটা জোরে আছার মেরে আমাকে টেনে তোলেন।আমি ব্যথা পেলেও খিচে সহ্য করে নিলাম। হাত চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলে উঠলেন -

-- আজ পর্যন্ত তোকে ভালো বেসে ভালো চোখে তাকিয়েছি। যেই মেয়ে চোখে লেগেছে তার সর্বনাশ করেছি।কিন্তু তোকে বিয়ে করে পবিত্র ভাবে ছুঁতে চেয়েছি, কিন্তু তুই তোর আরাভ আরাভ করে পাগল হয়ে আছিস। তাই এবার আগে বাসর হবে এরপর বিয়ে হবে। দেখি তোকে কে বাঁচায়। ( বিহান)

উনি কথাটা বলেই আমাকে টেনে হিচড়ে অন্যরুমের বেডে ধাক্কা দিয়ে ফেলে। শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে এগিয়ে এলেই আমি ঝট করে উঠে ধাক্কা দিতেই আমাকে আবার ফেলে দিলেন। সামনে এগিয়ে আসছে আমি হাতজোর করতে করতে পিছিয়ে যাচ্ছি। উনি আমার শাড়ির আচঁলে হাত দেয়ার আগেই চোখ বন্ধ করে মিঃ চৌধুরীর মুখটা মনে মনে অবলোকন করে নিলাম৷ দু-ফোটা অশ্রু বিসর্জন দেয়ার সাথে সাথেই ভেবে নিলাম, আজ পৃথিবি থেকে চিরতরে মুক্তি নিবো। এই লোকটার বাজে স্পর্শ যে একটু পর আমার ভালোবাসার মানুষ এর পবিত্র ছোঁয়া মুছে যাবে।

ভাবতে ভাবতে ডুকরে কেঁদে উঠলাম। কিন্তু হুট করে হাতে টান খেতেই দেখলাম বিহান স্যার সামনে পরে আছে। আর মিঃ চৌধুরী হিংস্র চোখে ওনার দিকে তাকিয়ে আছে। চারিপাশে গার্ড এ ভর্তি। মিঃ চৌধুরী কে দেখে আর কিছু না ভেবে এলোমেলো পায়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলাম। উনিও আমাকে জড়িয়ে নিলেন। বিহান উঠে মিঃ চৌধুরীকে আঘাত করতে এলেই মিঃ চৌধুরী এক ঘা বসিয়ে দেয়। বিহান স্যার ব্যথায় কুকিয়ে মাটিতে বসে পরেন। উনি এবার আমার দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে দু-গাল আগলে বলে উঠলেন-

-- জান কি হয়েছে? কাদঁছো কেন? এই তো আমি এসেছি। এই কুত্তার বাচ্চা কার গায়ে হাত দিতে চেয়েছে তা হাড়ে হাড়ে বোঝাবো। ( মিঃ চৌধুরী)

-- আ আমাকে উনি বি বিয়ে করতে চেয়েছে। আমি বারন করেছি তাই জোড় করে আমাকে! ( কান্না করে দিয়ে)(আমি)

-- ভয় নেই পাখি, তোমাকে যে ছুঁতে চেয়েছে তার প্রত্যেকটা অংগ আমি জ্বালিয়ে দিবো। কার বুক থেকে তোমাকে ছিনিয়ে নিতে চেয়েছে সেই মাসুল ও আজ দিবে। ও কি জানে না তুমি আমার। আমার মায়াবতি?

মিঃ চৌধুরী রাগে চিল্লিয়ে কথাটা বলেই আমাকে সরিয়ে গার্ডের হাত থেকে রড নিয়ে ইচ্ছেমতো পিটাতে লাগলেন। আমি মুখে হাত দিয়ে ভয়ে কান্না করছি। বিহান স্যার ব্যথায় চিল্লিয়ে হাত জোর করে কান্না করছে কিন্তু উনি থামছে না। তার মুখে একটাই বুলি কেন আমাকে বাজে ভাবে ছুঁতে চেয়েছে। কিন্তু এভাবে তো স্যার মরে যাবে, অবশ্য তাতেও ওনার মাথাব্যথা নেই। আমি তাই পেছন থেকে মিঃ চৌধুরী কে জড়িয়ে ধরলে উনি থেমে আমার গালে হাত দিয়ে বলে -

-- না জান এই ভুলটা আর দ্বিতীয় বার করো না। ওই জানোয়ার তোমাকে স্পর্শ করতে চেয়েছে। আমার থেকে আলাদা করতে চেয়েছে। ( মিঃ চৌধুরী)

-- ছে ছেড়ে দিন না ওনাকে মরে যাবে। আর! ( আমি)

-- ছেড়ে দিবো? তাহলে তো ২৭ টা মেয়ে মুক্তি পাবে না।তাদের কষ্টের কাছে এর মরে যাওয়া নিছক পানি সমান। (মিঃ চৌধুরি)

-- মা মানে? ( আমি)

-- আজ শুধু তোমাকেই না, এই জানোয়ার ভার্সিটির আরো নিরীহ মেয়েকে তুলে নিয়ে রেপ করেছে। আর শুধু তাই না ও ভিডিও করে ব্যল্ক মিল করেছে। কতগুলো নিস্পাপ প্রান শেষ হয়েছে তার ধারনা নেই জান। এসব সহ্য না করতে পেরে অকালেই আত্মহত্যা করেছে তোমার মতো পবিত্র ফুল গুলো। আর আজ সব সিমানা অতিক্রম করেছে তোমাকে ছোঁয়ার চেষ্টা করে। ( মিঃ চৌধুরী)

উনি এতক্ষন রেগে কথাগুলো বললেও শেষ কথাটা ঘার কাত করে বললেন। এবার আর কিছু না বলে উনি আমাকে হেচঁকা টানে নিজের দিকে ঘুড়িয়ে জড়িয়ে ধরলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গুলির শব্দে নিস্তব্ধ হয়ে যায় চারিপাশ। তিনটে শব্দ আমাকে ঘিরে ধরেছে। ঘুরে তাকানোর আগেই আরেকটু চেপে ধরে কানের কাছে মুখ নিয়ে বললেন -

--- উমমম নো এভাবেই থাকো। তুমি সহ্য করতে পারবে না। রক্তে তোমার ফোবিয়া আছে। (মিঃ চৌধুরি)

কথা শেষেই সাহেল ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বললেন -

-- এই কিটটাকে জংগলের গভিরে রেখে এসো, যেখানে পশুরা এই পশুকে ছিড়ে খাবে। ( মিঃ চৌধুরী)

কথা শেষ করেই উনি আমাকে কোলে তুলে নিলেন। আমিও দূর্বল থাকার কারনে গলা জড়িয়ে ধরলাম। গাড়িতে নিয়ে বসিয়ে দিলেন। দুম করে গাড়িতে ঢুকে দড়জা লাগিয়ে দিলেন। আমি কিছু বলার আগেই বড় বড় শ্বাস হাত উচিয়ে থামিয়ে দিলেন। রাগি চোখে তাকিয়ে বললেন-

-- কার পারমিশন নিয়ে তুমি বের হয়েছিলে? আজ যদি আমি ঠিক সময় না আসতাম কি হতো ধারনা আছে তোমার। স্পিক আপ ডেমেট। (মিঃ চৌধুরি)

ওনার চিৎকারে ভয় পেলেও ওনাকে শান্ত করার জন্য ধরতে গেলে হাত সরিয়ে দেয়। আমি আবার ছুঁতে গেলে একি কাজ করে। তাই মিনমিনিয়ে বললাম-

-- আর হবে না। আর অবাধ্য হবো না আপনার কথার। প্লিজ আমাকে! ( আমি)

-- চুপ আজ তুমি একটা কথাও বলবে না, আমার চোখের সামনে যেনো না দেখি তোমায়। বেশি চালাকি করতে কে বলেছিলো তোমায়। তুমি জানো না তোমার কাছে আমার রুহ্ আটকে আছে। এতটা অবুঝ কেন তুমি ঈশুপাখি?

আমি আর কিছু না বলেই মিঃ চৌধুরীর গালে টুপ করে চুমু খেয়ে নিলাম। আমি জানি এখন এইভাবেই ওনাকে শান্ত করতে পারবো। চুমু দিয়ে জড়িয়ে ধরে বললাম -

-- শান্ত হোন। আমি ঠিক আছি। আপনি ছাড়া আমাকে ছোঁয়ার অধিকার কারো নেই। আমি কিছু বলতে চাই। সেজেছি আপনার শুভ্রপরি। মিঃ চৌধুরী শুনছেন? ( আমি)

-------

-- কথা বলবেন না? ভালোবাসি যে। আমি আপনাকে ভালোবাসি চৌধুরি সাহেব। আমার সবটা জুড়েই আপনার বসবাস। ( আম)

আমার কথায় মিঃ চৌধুরী নিশব্দে হেসে আমাকে কাছে টেনে নিলেন। ঘারে চুমু খেয়ে বললেন-

-- এমনিতেই দূর্বল তার উপর এই বাক্য। কেন পাখি কেন তুমি এভাবে জিতে যাও। প্রতিটা পদে তুমি আমাকে দূর্বল করে জিতে যাও। আমিও ভালোবাসি জান। আর তুমি শুধু আমার।

ওনার কথায় আমি শান্তির নিঃশ্বাস নিলাম। অবশেষে আমি আমার ভাবনার বাক্য তাকে শুনিয়েছি। আমার ভালোবাসার পুরুষ কে আমি নিজের করে পেয়েছি। যে একান্তই আমার।

#চলবে____________

জরুরি বার্তা -- আমার পেইজ যেহুত ছোট, নতুন তাই আমার গল্প আর পেইজটা সবার কাছে পৌছে দিতে লাইভ প্রমোটিং করবো। তাই বিভিন্ন পেইজ এ আমার পেইজ লিংক দিয়ে প্রমোট করার জন্য একজন লোক লাগবে। আগ্রহিরা ইনবক্স করুন। বিস্তারিত বুঝিয়ে দিবো। ধন্যবাদ🌹🌹

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন