ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে আমার মায়াবতী

৩৪তম পর্ব

লেখক: ঈশা ইসলাম

#সে_আমার_মায়াবতী

#লেখনিতে_ঈশা_ইসলাম

#পর্ব_৩৪

সেই কখন থেকে একটু পর পর মাথা চক্কর দিচ্ছে। যথা সম্ভব নিজেকে সামলে বসে আছি। মিঃ চৌধুরী শুনলে আবার পাগলামি শুরু করে দিবে। আপাদত কাওকে না বলাই বেটার। চুপচাপ বসে আছি। উনি রেডি হয়ে আমার কাছে আসার সময় তুবা, মায়া, আপু, এনা আপু ঘরে চলে আসে।

-- ঈশা রেডি হোস নি কেন? একটু পর আবির এর বাড়ির লোক চলে আসবে। ( মায়া)

-- আব মানে এক্ষুনি যাবো।(আমি)

-- তোর মুখ চোখ এমন শুকনা লাগছে কেন? কি হয়েছে।(আপু)

আপুর কথায় মিঃ চৌধুরী সরু চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বড় বড় পা ফেলে আমার দিকে চলে আসে। গালে হাত দিয়ে অস্থির হয়ে বলে -

-- হেই জান লুক। কি হয়েছে পরি। শরির খারাপ লাগছে?( মিঃ চৌধুরী)

-- আহ মিঃ চৌধুরী আমি ঠিক আছি। টেনশন নেয়ার দরকার নেই। আসলে এম!

আর কিছু বলার আগেই গা-গুলিয়ে উঠলো, কোন মতে দৌরে ভেসিনের সামনে যেতেই হরহর করে বমি করে দেই। কিন্তু কিছুতেই বমি কমছে না। মিঃ চৌধুরী দৌরে এসে আমার কাধ খামচে ধরলেন। একে একে আপু,সহ সবাই চলে এসেছে। আমি মিঃ চৌধুরীকে ঠেলে দিয়ে বললাম-

-- আ আপনি যান প্লিজ। আমার জন্য আবার আপনার কাপড় নষ্ট হবে। এমনিতেই রেডি হয়ে! ( আমি)

-- একটা থাপ্পড় দিয়ে তোমার গালের দাঁত ফেলে দিবো। আমার ড্রেস আগে না তুমি আগে? ( মিঃ চৌধুরী)

ওনার চিৎকারে আমার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠলো। বুঝলাম ভুল সময় ভুল কথা বলে ফেলেছি। তাই আমি কিছু বলার জন্য উদ্যত্ম হতেই, উনি ওনার বুকের সাথে চেপে আমার মুখে পানি দিয়ে দিলেন। হুট করেই কোলে নিয়ে বেডে শুয়িয়ে দিলেন।

-- কোথায় যাচ্ছেন আপনি? আর আমাকে এখানে শোয়াচ্ছেন কেন? আমি এখন নিচে যাবো, রেডি হবো। আর আপনি এখানে ঘুম পারাচ্ছেন? ( আমি)

-- না জান তুমি হটাৎ করেই এমন কেন করলে এটা আমার জন্য জানা বেশি আর্জন্ট। তাই! (মিঃ চৌধুরি)

-- হ্যাঁ ঈশা তোর কি হলো আর! ( সামিয়া)

-- উফফ না আজ আমি কোন মতেই এই দিন স্পয়েল হতে দিবো না। কত প্লেন আছে আমার। তার মধ্যে শুরু হয়ে গেলো আপনার?(আমি)

-- দিন দিন কিন্তু তুই শুকিয়ে যাচ্ছিস। তোকে খুব ক্লান্ত লাগছে। বলছি কি!( তুবা)

-- আচ্ছা বেশ আমি যাবো না নিচে হ্যপি তো সবাই?( আমি)

-- আরে আমরা তো সেটা বলি নি তুই আজ ডা. দেখিয়ে নে। আর ডা.মিতা তো এসেছে দেখিয়ে নিতে কি প্রবলেম? ( এনা আপু)

-- আহা উনি গেস্ট আর এখন আমাকে চেকাপ করতে আসবে? আর আজকে জোড় করে উনি এত খায়িয়েছে। তার উপর তেলের জিনিস প্রচুর খেয়েছি। তাই একটু শরির খারাপ করেছে। এত ভাবার কি আছে?(আমি)

আমার কথায় আপু কিছু বলতে চাইলেও মিঃ চৌধুরীর ইশারায় সবাই চলে গেলো। উনি আমাকে টেনে উঠিয়ে নিলেন। গালে হাত বুলিয়ে বললেন-

-- জান তুমি দিন দিন জেদি হয়ে যাচ্ছো। একটুও কথা শুনছো না আমার। (মিঃ চৌধুরি)

-- সরি। আমি তো বলেছি কাল পাক্কা ডা. দেখাবো আর আপনি চাইলে আজ অনুষ্ঠান শেষ হোক তারপর মিতা আন্টি দেখে নিবে। ( আমি)

আমি ঠোঁট ফুলিয়ে কথাটা বলতেই উনি ঝুঁকে ঠোঁটে চুমু খেলেন। আমাকে তুলে লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পড়িয়ে দিলেন। হাত ভর্তি লাল সাদা চুড়ি। সিম্পল মেকাপ আর অর্নামেন্টস পরিয়ে দিলেন। আয়নায় চোখ বুলিয়ে ওনার দিকে ফিরে পায়ের পাতায় ভর দিয়ে ওনার কাধে হাত রেখে বললাম -

-- বিয়ে হয়েছে ছ- মাস হয়ে গেলো কিন্তু আজও আপনি আমাকে শাড়ি পড়া শিখালেন না। খেতে বসলে আগে আমাকে খায়িয়ে দেন। এতটুকু অসুস্থ হলে পাগল হয়ে যান। এতটা ভালোবাসেন কেন আমায়? ( আমি)

-- কারন আমার সামনের রমনীর মধ্যে কিছুর কমতি নেই। সে আমার কাছে যথেষ্ঠ। তুমি জানতে চেয়েছো কেন ভালোবাসি? তাহলে শুনে নাও ভালো বাসতে কারন লাগে না। কারনে অকারনে ভালোবাসি মায়াবতি। (মিঃ চৌধুরি)

-- আমি আপনার কি হই? ( আমি)

-- #সে_আমার_মায়াবতী। তুমি আমার মায়াবতি জান। আমার প্রথম প্রহরের প্রেম। (মিঃ চৌধুরি)

মিঃ চৌধুরীর কথায় প্রশান্তিতে মন ছেঁয়ে গেলো। ওনাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলাম। উনিও সেইম কাজটাও করলেন। সব শেষে নিচে নেমে এলাম। উনি আমার হাত ছাড়ছেই না। বাড়িতে দু-টো খুশি আজ আনন্দে বইছে। আজ সবাই প্লেন করে সেইম শাড়ি আর ছেলেরা পাঞ্জাবি পরেছে। আমার চৌধুরি সাহেবের রুপ জেনো আরও বহুগুন বেড়ে গিয়েছে। মানুষটার দিকে তাকাতেই বার বার ক্রাশিত হই। আম্মু আব্বু সবাই এলে একসাথে আপুর সাধের অনুষ্ঠান শুরু হয়। আবির ভাইয়া আর মায়া একসাথে বসেছে। একে একে কেক কেটে সবাইকে খায়িয়ে দিলেন। সব আইটেম থেকে আপুকে খায়িয়ে দিলেন। খাওয়া শেষে সবাই মায়া আর আবির ভাইয়ার কাছে যায়। আব্বু এনাউন্স করে রিং সেরেমানি সেরে ফেললেন। হইচই গানবাজনা দিয়ে শুরু হলো চারদিক। এর ভিতর মনে হচ্ছে মাথা শুধু ঘুরাচ্ছে। কাওকে কিছু বুঝতে না দিয়ে দাঁড়িয়ে তাল মেলাচ্ছি। এদিক সেদিক মিঃ চৌধুরী কে খুজে দেখলাম ফোনে কথা বলতে ব্যস্ত। হাটার মতো শক্তি পাচ্ছি না। কাওকে বলবো তার উপায় নেই। সবাই যে যার মতো নাচছে। ছোট ছোট পা ফেলে সিড়ির চার ফ্লোর উঠতেই আর পারলাম না নিজেকে সামলাতে। ঘুরে পড়ে গেলাম নিচে। পুরো বাড়ি স্থম্ভিত হয়েছে আচমকা ঘটনায়। মিঃ চৌধুরী ফোন ফেলে দৌরে এলেন আমার কাছে। আমার মাথা তার কোলে নিয়ে বলতে শুরু করলেন-

-- জান এই জান কি হয়েছে? ডা. মিতা আপনি ওকে দেখুন না কি হয়েছে। ( মিঃ চৌধুরী)

আমার কপাল বেয়ে কয়েক ফোটা রক্ত বের হতেই পরিবারের প্রত্যেকটা মানুষ কান্না শুরু করে দিলো। মিঃ চৌধুরী আমাকে কোলে নিয়ে নিলেন। রুমে নিয়ে শুয়িয়ে দিলেন।

-- ডা. মিতা ওর কি হয়েছে? এত রক্ত কেন বের হচ্ছে। আমি কিছুই জানি না আমার ঈশু কে ঠিক করে দিন। নাহলে সব ধংস করে দিবো।(মিঃ চৌধুরি)

ওনার কথায় মিতা আন্টি ফারাজ ভাইয়া কে ইশারা দিলেন। ভাইয়া সহ, সবাই ওনাকে বোঝাতে ব্যস্ত। উনি হুট করেই বলে উঠলেন -

-- স্টিচ করবেন না। এগুলোতে ওর ব্যথা লাগবে। আপনাকে কিচ্ছু করতে হবে না। ( মিঃ চৌধুরী)

-- আরাভ সামান্য কেটেছে স্টিচ করবো না। শুধু বেন্ডেট করে দিবো। এক্ষুনি জ্ঞান চলে আসবে। চেকাপ করতে দাও। (মিতা)

উনি কথা শেষ করে আমাকে চেকাপ করতে ব্যস্ত হয়ে পরে। ফারাজ ভাইয়া চোখের পানি মুছতেই এনা ভাইয়ার সামনে গিয়ে কাধে হাত দিয়ে বললেন-

-- আপনি চিন্তা করবেন না প্লিজ। ঈশা ঠিক হয়ে যাবে। ( এনা)

-- আমার বোনটার ব্যথা সহ্য হচ্ছে না আমার। ( ফারাজ)

-- আপনি দেখুন ও ঠিক হয়ে যাবে। আর আপনাকে হাসিখুশি ভালো লাগে মন খারাপে না। ( এনা)

এনা আপু কথাটা বলেই ব্যক্কল হয়ে গেলো। ভাইয়া চোখ ছোট করে তাকিয়ে হালকা করে বলে -

-- মিস বিদেশিনি আপনি তো বলেছেন কথা বলবেন না। তাহলে কি বললেন-( ফারাজ)

-- আব মানে আমি শুধু সান্তনা দিয়েছি। আর কিছু ভেবে বসবেন না। ( এনা)

এনা আপু কথাটা বলে বেড়িয়ে যেতেই ভাইয়া কান্নার মাঝেও হালকা হাসলো।ডা. মিতা আমাকে চেকাপ করে গম্ভির কন্ঠে মিঃ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বললেন -

-- আমি এটা তোমার থেকে আশা করি নি আরাভ। ( মিতা)

-- কি হয়েছে ওর? আর আপনি কি বলছেন? কি করেছি আমি?( মিঃ চৌধুরী)

-- ওয়ান মান্থের প্রেগন্যান্ট ঈশা। তুমি এটা করেও বলছো কিছু করো নি? আমি কিন্তু মিষ্টি ছাড়া বাড়ি যাবো না। (মিতা)

ওনার কথায় সবাই প্রথমে অবাক হলেও খুশিতে চিল্লিয়ে উঠে। মিঃ চৌধুরী অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে হেসে ওঠে। সবাই ওনাকে অভিন্দন যানিয়ে চলে যেতেই আমি পিটপিট করে চোখ খুললাম। উনি আমার দিকে গম্ভির চোখে তাকিয়ে বলে ওঠে -

-- এ তুমি কি করেছো পাখি? তোমাকে এবার আমি সামলাবো কিভাবে। (মিঃ চৌধুরি)

-- আ আমার সাথে এভাবে বলছেন কেন? আমার কি হয়েছে? খুব বাজে কিছু হয়েছে বুঝি। ( কাদোঁকাদোঁ ফেসে)

-- হ্যাঁ আগে আমার তোমাকে সামলাতে হতো আর এখন তোমার সাথে আরেকজন ভাগিদার আসবে। ( মিঃ চৌধুরী)

-- কে কে আসবে। ( আমি)

-- আমাদের বাচ্চা পাখি। (মিঃ চৌধুরি)

-- ওহহ বা -

আর কিছু বলার আগে আমি চিল্লিয়ে ওনার কোলে বসে পরি। কেঁদে দিয়ে বলি -

-- বা বাচ্চা। আমাদের বাচ্চা।আমার অস্তিত্ব আসবে পৃথিবিতে। স সত্যি। ( আমি)

কথাটা বলেই কেঁদে উঠলাম। উনি আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠলেন-

-- আমাদের প্রিন্স বা প্রিন্সেস আসছে জান। ছোট ছোট হাত পা হবে তাদের। আর হ্যাঁ বাবা ছেলে মিলে মা কে খুব শাসন করবো। ( মিঃ চৌধুরী)

-- না আপনার আগেই আমি আমার বেবি কে হাত করে নিবো সে মায়ের পক্ষ নিবে। ( আমি)

আমার কথায় উনি হেসে উঠলেন। দু- জনেই আজ সুন্দর একটা মুহুর্ত পার করছি। ওনার বুকে শুয়ে আমার সুখের অপেক্ষা করছি। আমিও আধো আধো কন্ঠে কারো মা ডাক শুনবো। ভাবতেই ওনাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। উনি আরেকটু আগলে নিলেন আমায়।

#চলবে____________

ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন। কেমন হয়েছে অবশ্যই জানাবেন৷ আপনাদের কমেন্ট গুলো পরে মনটা প্রশান্তি লাগে। তিন ঘন্টার কষ্ট ভুলে যাই। এনার একটা ব্যবস্থা করে দেই কি বলো?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন