ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ভেলা

১ম পর্ব

লেখক: সুরাইয়া রাফা

এক

শীতের সকালে মিহি নরম রোদের হাতছানি যেন সুয্যি মামার উষ্ণ আলি-ঙ্গন। সেই সঙ্গে জানালার ফাঁক গলিয়ে হু হু আওয়াজে ভেতরে প্রবেশ করা মৃদু মন্দ হিমেল হাওয়ার পরশে সবে সবে গাঢ় হয়েছে ঘুমের রেশ। পিঠে পিছলে যাওয়া নরম রোদ গায়ে মেখে আরও খানিকক্ষণ ঘুমানোর প্রয়াসে পায়ের কাছে অযত্নে ফেলে রাখা কম্ফোর্টার টা ভালোমতো শরীরে টেনে দিয়ে জানালার দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে মাত্রই অন্যপাশ হয়ে আরাম করে শুয়েছে অরু। তবে সাতসকালে অরুর এই আরামের ঘুম নস্যাৎ করে দিয়ে কর্কশ সুরে বেজে ওঠে বালিশের পাশে অযত্নে ফেলে রাখা বেয়ারা মুঠো ফোনটা।

ফোনের আওয়াজে বিরক্ত হয়ে তৎক্ষনাৎ বালিশের নিচে মুখ ঢাকা দেয় অরু। লাস্যময়ী রমণী আজ দৃঢ় প্রতীজ্ঞ, সারারাত নির্ঘুম কাটিয়ে সকা-লের এই আরামের ঘুমটুকু কিছুতেই বিগড়ে যেতে দেবে না সে। কিছুতে না মানে কিছুতেই না। কিন্তু বিধিবাম, ফোনের ওপাশের ব্যক্তি সেই প্র-তিজ্ঞার ধার ধারলে তো? একবার দু'বার করে অসংখ্যবার কল কেটে যাওয়ার পরেও রিং হয়েই যাচ্ছে তো হয়েই যাচ্ছে। যার ফলস্বরূপ খানি-কক্ষন কর্ণগহ্বরে স্বহস্তে বালিশ চেপে ধরেও চোখের পাতায় আদুরে পরশ বোলানো ঘুমটুকু আর ধরে রাখতে পারলো না অরু।

শেষমেশ তন্দ্রা কেটে গেলে কাঁচা ঘুমের ইস্তফা দিয়ে বহু কসরতে ঘুম ঘুম চোখে বিছানা হাতরে অর্নগল বাজতে থাকা সবচেয়ে বিরক্তিকর যন্ত্রটা কানে তুলে নেয় অলস হাতে। ঘুমের ঘোরেই অস্পষ্ট আওয়াজে ওপাশের ব্যক্তিকে শুধায়,

হ্যালো কে বলছেন?

--- কে বলছেন! সাতসকালে কোন গ্রহে আছিস অরু? কয়টা বাজে সে খেয়াল আছে তোর? আরেকটু পরে এক্সিবিশন শুরু হবে, আর তুই এখনো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে জিজ্ঞেস করছিস, কে বলছেন?

ফোনের ওপাশ থেকে আগত নিশোর ঝাঁঝালো কথার পারদে এবার পু-রোপুরি তন্দ্রাভাব কেটে গেলো অরুর, এক্সিবিশনের কথা উঠতেই সামা-ন্য কেশে গলা পরিষ্কার করে নিরেট কন্ঠে অরু শুধালো,

এক্সিবিশন, কিসের এক্সিবিশন? আমি এখনো পুরোপুরি আর্টিস্ট হয়নি নিশো সবে তো ফার্স্ট ইয়ার, আমার আর্টের এক্সিবিশন হতে এখনো বহু দেরী।

নিশো বুঝলো অরু ঘুমের ঘোরে উল্টো পাল্টা বকছে, তাই দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কিঞ্চিৎ বিরক্ত হয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,

- তোর মতো চুনোপুঁটির এক্সিবিশনের কথা কেউ বলছে ও না গাধা।

ফোনের ওপাশ থেকে আগত নিশোর ঝাঝালো কথার পারদে এবার পু-রোপুরি তন্দ্রাভাব কেটে গেলো অ এক্সিবিশনের কথা উঠতেই সামা-ন্য কেশে গলা পরিষ্কার করে নিরেট কন্ঠে অরু শুধালো,

এক্সিবিশন, কিসের এক্সিবিশন? আমি এখনো পুরোপুরি আর্টিস্ট হয়নি নিশো সবে তো ফার্স্ট ইয়ার, আমার আর্টের এক্সিবিশন হতে এখনো বহু দেরী।

নিশো বুঝলো অরু ঘুমের ঘোরে উল্টো পাল্টা বকছে, তাই দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কিঞ্চিৎ বিরক্ত হয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,

তোর মতো চুনোপুঁটির এক্সিবিশনের কথা কেউ বলছে ও না গাধা। এটা বিশ্বের নামি-দামি আর্টিস্ট দের চিত্রকর্ম প্রদর্শনী যেখানে আমাদের ব্যাসিক ইনফরমেশন কালেক্ট করতে যেতে হবে, কারণ এখনো পুরো এসাইনমেন্টের খাতা খালি পরে আছে। ভুলে গিয়েছিস?

"এসাইনমেন্ট" শব্দটা শোনা মাত্রই বিছানা ছেড়ে হকচকিয়ে উঠে বসলো অরু, কুঁচকানো কপাল খানা আচমকা প্রসারিত হয়ে গেলো তার বিস্ময়ে। তৎক্ষনাৎ ঘুমের চোদ্দ গোষ্ঠী মাটিচাপা দিয়ে চোখ দুটো রসগোল্লা বা-নিয়ে দাঁত খিঁচিয়ে নিশোকে ঝাড়ি দিয়ে উঠলো ও,

এক্সিবিশনের জন্য আজ আর্ট গ্যালারিতে যেতে হবে সেটা আরও আগে বলবি না ছাগল? সেই তখন থেকে জিলিপির মতো কথা প্যাঁচিয়ে যাচ্ছিস, এখন যদি তোর জন্য আমার লেট হয়ে যায় তার দায়ভার কে নেবে শুনি?

--- এখনো সময় আছে, ফার্স্ট সেমিস্টারে ফেইল করতে না চাইলে দুই মিনিটে রেডি হয়ে তিন মিনিটে নিচে নাম। আমি তোদের ডরমিটরির নি-চেই ওয়েট করছি, কুইক।

অরুর রাগারাগি গায়ে না মেখে ব্যগ্র কন্ঠে কথা টুকু শেষ করে ওপাশ থেকে ফোন কেটে দেয় নিশো।

নিশো কল কেটে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বালিকার চঞ্চল হাসিখুশি মুখখানা দীর্ঘশ্বাসের আড়ালে ঢাকা পরে যায় মূহুর্তেই।

কাল নীলিমা আর অনন্যার জোরাজোরি তে সারারাত না ঘুমিয়ে মুভি দে-খার ফলস্বরূপ সকাল সকালই উদয় হয়েছে একরাশ মাইগ্রেনের উপশম। ঘাড় মাথা সমস্তটা ব্যথায় চিনচিন করছে যেন, চোখের নিচে জমা হয়েছে ডার্ক সার্কেল নামক কালসিটে আবরণ। সকালে একটু ঘু-মাতে পারলে হয়তো ভালো লাগতো।

কিন্তু কর্মব্যস্ত এই যান্ত্রিক শহরে শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে দুদণ্ড আরাম করার ইচ্ছে প্রকাশ করাটাও যে বড্ড বাড়াবাড়ি। সেই ভেবেই দ্বিতীয়বা-রের মতো ভেতরের আহত বাতাসটুকু দীর্ঘশ্বাসের মাধ্যমে বুক চিড়ে বের করে দেয় অরু। অতঃপর ফোনটা রেখে তাড়াহুড়ো হাতে হাঁটু সমান লম্বা রেশমের মতো চুল গুলোকে মাথার উপর চুড়ো করে বাঁধতে বাঁধতেই বিছানা ছেড়ে যান্ত্রিক রোবটের মতো সকালের সকল কার্জক্রম শেষ করে নেয় একে একে। নিজের প্রয়োজনীয় কাজগুলো সারতে সারতেই এক আধবার চোখ বোলায় নীলিমা আর অনন্যার বেডের দিকে, সকাল সকাল কোথাও একটা বেরিয়েছে অনন্যা।

কিন্তু কর্মব্যস্ত এই যান্ত্রিক শহরে খেলার বাইরে গিয়ে দুদণ্ড আরাম করার ইচ্ছে প্রকাশ করাটাও যে বড্ড বাড়াবাড়ি। সেই ভেবেই দ্বিতীয়বা-রের মতো ভেতরের আহত বাতাসটুকু দীর্ঘশ্বাসের মাধ্যমে বুক চিড়ে বের করে দেয় অরু। অতঃপর ফোনটা রেখে তাড়াহুড়ো হাতে হাঁটু সমান লম্বা রেশমের মতো চুল গুলোকে মাথার উপর চুড়ো করে বাঁধতে বাঁধতেই বিছানা ছেড়ে যান্ত্রিক রোবটের মতো সকালের সকল কার্জক্রম শেষ করে নেয় একে একে। নিজের প্রয়োজনীয় কাজগুলো সারতে সারতেই এক আধবার চোখ বোলায় নীলিমা আর অনন্যার বেডের দিকে, সকাল সকাল কোথাও একটা বেরিয়েছে অনন্যা।

আর নীলিমা? সে এখনো দিন দুনিয়া ভুলে বেঘোরে ঘুমুচ্ছে।

সুতির লং স্কার্ট আর কুর্তির উপর দিয়ে পাতলা হুডি আর তার সাথে মা-থায় একটা বেনি টুপি চড়িয়ে, ঘুমন্ত নীলিমা কে এক ঝলক পরখ করে ওর শরীরে ভালো মতো কম্ফোর্টার টেনে দিয়ে, ব্যাগ সমেত তাড়াহুড়ো পায়ে ডরমিটরি থেকে বেরিয়ে যায় অরু।

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের চতুর্থ বৃহত্তম শহর সানফ্রান্সিকো, এই শহরের পরিচিতির অন্যতম কারণ হলো সিলিকন ভ্যালি, গোল্ড রাশ এবং গোল্ডেন গেইট ব্রীজ ইত্যাদি। ব্যয়বহুল এই যান্ত্রিক শহরটা ভীষণ এক-ঘেয়ে, এখানে আপনজন বলে কিছু হয়না। যার যার নিজের ব্যস্ত জী-বনে ভীষণ অভ্যস্ত সকলে। কেউ কারোও প্রয়োজন মেটাতে আগ্রহী নয় তারা, আর না তো বাঙালিদের মতো এক নিমিষেই অপরিচিত জন থেকে বন্ধু বানিয়ে নেওয়ার মতো এতো আন্তরিক আর বিশাল হৃদয় তাদের।

তবুও আজ থেকে প্রায় মাস ছয়েক আগে নিজের সহজ সরল আন্তরিক-তায় জড়ানো একটুকরো ভালোবাসার ভূখণ্ড ছেড়ে এই স্বার্থপরের শহরে পারি জমিয়েছিল অরু। কোনোরূপ স্কলারশিপ কিংবা সুযোগ সুবিধা পেয়ে নয় বরং বাবার নগদ অর্থের বিনিময়ে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে এই পাশ্চাত্য দেশে আগমন তার। যদিওবা অরুর এই দেশে আসার একমাত্র কারণ শুধুই পড়াশোনা নয়, পড়াশোনা তো অজুহাত মাত্র।

এই অচেনা অজানা স্বার্থপর দেশে আসার সিদ্ধান্তটা হুট করেই নেয়নি অরু। বরং অনেক বছর ধরে হৃদয়ে বাসা বাঁধা সুপ্ত অনুভূতির টান, আর পছন্দের সেই কল্প পুরুষকে জীবনে একবার হলেও একটা নজর চো-খের সামনে দেখতে পাওয়ার স্বপ্নই আজ এই শহরে এনে দাঁড় করিয়েছে ওকে।

কিন্তু কর্মব্যস্ত এই যান্ত্রিক শহরে খেলার বাইরে গিয়ে দুদণ্ড আরাম করার ইচ্ছে প্রকাশ করাটাও যে বড্ড বাড়াবাড়ি। সেই ভেবেই দ্বিতীয়বা-রের মতো ভেতরের আহত বাতাসটুকু দীর্ঘশ্বাসের মাধ্যমে বুক চিড়ে বের করে দেয় অরু। অতঃপর ফোনটা রেখে তাড়াহুড়ো হাতে হাঁটু সমান লম্বা রেশমের মতো চুল গুলোকে মাথার উপর চুড়ো করে বাঁধতে বাঁধতেই বিছানা ছেড়ে যান্ত্রিক রোবটের মতো সকালের সকল কার্জক্রম শেষ করে নেয় একে একে। নিজের প্রয়োজনীয় কাজগুলো সারতে সারতেই এক আধবার চোখ বোলায় নীলিমা আর অনন্যার বেডের দিকে, সকাল সকাল কোথাও একটা বেরিয়েছে অনন্যা।

আর নীলিমা? সে এখনো দিন দুনিয়া ভুলে বেঘোরে ঘুমুচ্ছে।

সুতির লং স্কার্ট আর কুর্তির উপর দিয়ে পাতলা হুডি আর তার সাথে মা-থায় একটা বেনি টুপি চড়িয়ে, ঘুমন্ত নীলিমা কে এক ঝলক পরখ করে ওর শরীরে ভালো মতো কম্ফোর্টার টেনে দিয়ে, ব্যাগ সমেত তাড়াহুড়ো পায়ে ডরমিটরি থেকে বেরিয়ে যায় অরু।

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের চতুর্থ বৃহত্তম শহর সানফ্রান্সিকো, এই শহরের পরিচিতির অন্যতম কারণ হলো সিলিকন ভ্যালি, গোল্ড রাশ এবং গোল্ডেন গেইট ব্রীজ ইত্যাদি। ব্যয়বহুল এই যান্ত্রিক শহরটা ভীষণ এক-ঘেয়ে, এখানে আপনজন বলে কিছু হয়না। যার যার নিজের ব্যস্ত জী-বনে ভীষণ অভ্যস্ত সকলে। কেউ কারোও প্রয়োজন মেটাতে আগ্রহী নয় তারা, আর না তো বাঙালিদের মতো এক নিমিষেই অপরিচিত জন থেকে বন্ধু বানিয়ে নেওয়ার মতো এতো আন্তরিক আর বিশাল হৃদয় তাদের।

তবুও আজ থেকে প্রায় মাস ছয়েক আগে নিজের সহজ সরল আন্তরিক-তায় জড়ানো একটুকরো ভালোবাসার ভূখণ্ড ছেড়ে এই স্বার্থপরের শহরে পারি জমিয়েছিল অরু। কোনোরূপ স্কলারশিপ কিংবা সুযোগ সুবিধা পেয়ে নয় বরং বাবার নগদ অর্থের বিনিময়ে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে এই পাশ্চাত্য দেশে আগমন তার। যদিওবা অরুর এই দেশে আসার একমাত্র কারণ শুধুই পড়াশোনা নয়, পড়াশোনা তো অজুহাত মাত্র।

এই অচেনা অজানা স্বার্থপর দেশে আসার সিদ্ধান্তটা হুট করেই নেয়নি অরু। বরং অনেক বছর ধরে হৃদয়ে বাসা বাঁধা সুপ্ত অনুভূতির টান, আর পছন্দের সেই কল্প পুরুষকে জীবনে একবার হলেও একটা নজর চো-খের সামনে দেখতে পাওয়ার স্বপ্নই আজ এই শহরে এনে দাঁড় করিয়েছে ওকে।

ধনীর দুলালি হওয়া সত্ত্বেও পারিবারিক জটিলতায় ছোট থেকেই বড্ড নিঃসঙ্গ অরু। সমগ্র বন্ধু মহলের কাছে অরুর জীবনটা বিস্তৃত গোলোক ধাঁধার মতোই রহস্যময় আর জটলা পাকানো। ওর আত্মীয় স্বজন কে আছে, কে নেই সেসব কথা আশপাশের সবারই অজানা। অরু নিজেও কখনো এসব ব্যাপারে মুখ খোলেনা সহসা। ব্যস্ত জীবনের বন্ধুত্বের রসি-কতায় জড়ানো রমরমা দিন গুলোতেও অরুর চেহারা জুড়ে বিরাজ করে এক বিষন্ন মলিনতার ছাপ এ যেন জীবন্ত কাব্যের চঞ্চলা বিষাদিনী।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন