ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ভেলা

৯ম পর্ব

লেখক: সুরাইয়া রাফা

অতঃপর খানিকক্ষণের নিস্তব্ধতা ভেঙে প্রথমে কথা পারলো ক্রীতিক, গমগমে চমৎকার পুরুষালী কন্ঠস্বর ভেদ করে বেরিয়ে এলো কর্কশ কিছু বাক্য,

আমি সুপারস্টার জায়ান ক্রীতিক। নিজের ক্যারিয়ার আর শোবিজ জগতের বাইরে গিয়ে সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত নই আমি। নি-জেকে অতিসত্বর সেই স্থানে ভাবতেও পারছি না এখনো। আর নাতো আমাকে তুমি বাকি পাঁচ টা স্বামীর মতো সাধারণ একটা সাংসারিক দ্বায়ি-ত্ববোধের শিকলে আবদ্ধ করতে পারবে কোনোদিন। আমি বরাবরই ধরা বাঁধার বাইরে বেপরোয়া স্বভাবের সুপারস্টার জে.কে। আমার কাছে আলাদা করে সংসার, বিয়ে, বউ এসবের কোনো গুরুত্ব নেই, ঠিক সেই কারণেই আমার মায়ের এতো হুড়োহুড়ি।

কথার এই পর্যায়ে এসে অরু বললো,

--- আপনি এসব আমাকে কেন বলছেন?

- কারণ তুমিই সেই মানবী, যার সঙ্গে বাঁধা পরেছে আমার বেপরোয়া লাগামহীন জীবনটা।

ক্রীতিকের কথায় শুষ্ক একটা ঢোক গিললো অরু, নির্বিকার গলায় শুধালো,

-আপনি ঠিক কি করতে চাচ্ছেন?

নিজের স্টাইলিশ ঘাড় ছুঁই ছুঁই লম্বা চুলগুলোতে আলগোছে হাত বো-লালো ক্রীতিক। অতঃপর অরুর পানে নিজের শান্ত নদীর মতো ভাসা ভাসা দৃষ্টি নিক্ষেপণ করে বলে,

আমি জানিনা মায়ের এক কথায় হুট করেই তুমি আমাকে বিয়ে করতে কেন রাজি হয়ে গেলে।

ক্রীতিকের কথার পাছে মনেমনে অরু আওড়ালো,

- আমি নিজেও জানিনা।

ক্রীতিক বলতে লাগলো,

চিন্তা নেই আমি তোমাকে ডিভোর্স দেবো না। মায়ের জন্য হলেও তুমি সারাজীবন আমার বউ হয়েই থাকবে। বাট ইউ কান্ট ইউজ মাই নিক নেম এনি হোয়েয়ার।

মানে?

মানে আর পাঁচটা সাধারণ দম্পতির মতো আমাদের কখনো সংসার করা হবে না। আর না তো আমি কখনো পুরো দুনিয়ার সামনে তোমাকে নিজের স্ত্রীর মর্যাদা দিতে পারবো। শোবিজ জগতের অন্যতম একজন স্টার কখনো এভাবে একটা সাধারণ মেয়েকে বিয়ে করতে পারেনা অরু। সারা দুনিয়াতে আমার বিশাল ফ্যানবেজ রয়েছে, তোমাকে স্ত্রীর পরিচয় দেওয়া মানে তাদের লয়্যালিটিকে হার্ট করা, বাট দ্যাট'স নট পসিবল ফর মি। কারণ ওরা আমার কাছে শুধু মাত্র একটা ফ্যানবেজ নয়, বরং একটা পরিবার। ওদের জন্যই আমি আজ গ্লোবাল সুপারস্টার জায়ান ক্রীতিক।

জানি।

ছোট্ট করে ঠোঁট নাড়িয়ে উত্তর দিলো অরু।

অপমানে থমথমে হয়ে আছে অরুর মুখশ্রী। মাথাটা নত করে রেখেছে সেই তখন থেকে, অথচ দু'চোখে কান্নার লেশ মাত্র নেই। বাইরে থেকে কাঁদা মাটির মতো তুলতুলে নরম হলেও ভেতরটা বেশ ভালোই পোক্ত ওর। যেন তাচ্ছিল্য, অপমান, নিঃসঙ্গতা এসবের সঙ্গে ভীষণ অভ্যস্ত মেয়েটা।

গোধূলি আকাশ মিলিয়ে গিয়ে সন্ধ্যা আগমনের পূর্বাভাস দিচ্ছে ফেরারী পাখির ঝাঁক। নিভু নিভু সন্ধ্যা আকাশের পানে চেয়ে ছোট্ট করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল ক্রীতিক। অতঃপর হালকা কেশে গলাটা পরিষ্কার করে অরুকে ডেকে উঠলো হাস্কি আওয়াজে,

অরুউউ,

অরুর আনমনা মিষ্টি জবাব খানায় ফিচেল হাসলো ক্রীতিক। বললো,

আমি আমার দ্বায়িত্ব থেকে কখনোই সরে আসতে পারবো না। এতো-ক্ষণ যা বলেছি সেটা যেমন একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে ফ্যানদের প্রতি আমার দ্বায়িত্ব, তেমনই তুমিও আমার অন্যতম গুরুদায়িত্ব। বৈবা-হিক সম্পর্কে বাঁধা পরেছি আমরা দু'জন, তাই আজ থেকে তোমার পড়া-শোনা এবং ভরনপোষণের সকল দ্বায়িত্ব আমার। তুমি শুধু মন দিয়ে পড়াশোনা করতে থাকো বাকি সব চিন্তা আমার উপর ছেড়ে দাও। সময় মতো সকল বিল পরিশোধ হয়ে যাবে, এছাড়া প্রত্যেক মাসে তোমার হাত খরচা ও পৌঁছে যাবে তোমার ব্যাংক একাউন্টে।

ক্রীতিকের এতোসব কথার পাছে কোনোরূপ জবাব দেওয়ার ইচ্ছে হলোনা অরুর। মিশ্র অনুভূতি আর জটিল সম্পর্কের টানাপোড়েনে কন্ঠ-নালী শুকিয়ে গিয়েছে ওর। নিমপাতার মতো তেঁতো হয়ে আছে জিভটা, পছন্দের কল্প পুরুষের বাস্তব রূপ খানা কতইনা কঠিন সেই ভেবে রক্ত-ক্ষরণ হচ্ছে কলিজায়, যার দরুন এবার আলতো স্বরে অরু বলে,

ফিরবো আমি।

তোমার কি কিছু বলার নেই?

তাড়াহুড়ো করে না বোধক মাথা নাড়ায় অরু। ক্রীতিক পুনরায় বলে,

তুমি চাইলে নিজ ইচ্ছেতে এই সম্পর্কটা থেকে মুক্ত হয়ে যেতে পারো, আমি আটকাবো না কখনো।

অবশেষে ক্রীতিকের শেষ বাক্যতে নয়ন জোড়া ভিজে উঠলো অরুর।

অশ্রুসিক্ত নয়নে মেয়েটা তরাগ করে চোখ তুলে চাইলো ক্রীতিকের সু-ডৌল ভাসা ভাসা চোখের পানে, ক্রীতিকের স্থীর দৃষ্টি বোধগম্য নয় অরুর, কেমন যেন শূন্য মরা নদীর মতো দৃষ্টি। ক্রীতিক সেভাবেই নি-স্প্রভ তাকিয়ে বললো,

চলো এগিয়ে দিচ্ছি তোমায়।

তার প্রয়োজন নেই।

অবশেষে কল্প পুরুষের মুখের উপর কঠিন বাক্যটা ছুড়ে দিতে সক্ষম হয় অরু।

অতঃপর ধীর কদমে টুইন পিক থেকে নেমে যায় সমতলে। চোখের দৃষ্টি ঝাপসা প্রতি মূহুর্তে পায়ের গতি অসার হয়ে আসছে, তবুও নিজের অপ্র-ত্যাশিত এই যন্ত্রনাটুকু পাছে হটিয়ে বিভীষিকার দিকে ছুটে গেলো চঞ্চলা বিষাদিনী।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন