ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আশিকি

৩০তম পর্ব

লেখক: সুরাইয়া রাফা

পর্ব - ৩০

অফিসারের কথায় সাময়িক স্বস্তি পেলেও, ভেতর ভেতর নিদা-রুণ এক অপরাধবোধ জেঁকে বসলো প্রিসিলার। এই কাণ্ড যে ইয়াশ ছাড়া অন্য কেউ ঘটনায়নি তা আর বুঝতে বাকি নেই ওর। ছেলেটার চোখমুখে তখন পৈশাচিক আনন্দ খেলছিল। কারোর জীবন ঝুঁকিতে ফেলে কেউ এতোটা খুশি হতে পারে তা ইয়াশকে না দেখলে বিশ্বাসই হতোনা প্রিসিলার। মনে হচ্ছিল ছেলেটাকে সামনে পেলে ইচ্ছে মতো কথা শোনাবে। পুলিশকে নালিশ করবে, সাথে পাপাকেও। কিন্তু তখনই মনে পরে যায় ইয়াশ আর ওদের বাড়িতে থাকে না। এই না থাকার পেছনের একমাত্র কারণ প্রি-সিলা। শত্রু শত্রু খেলার বাইরে গিয়েও ওরা নিজেদের মাঝে একটা বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ, ব্যাপারটা মাথায় আসতেই পুলি-শের সামনে থেকে চুপচাপ সরে গেলো প্রিসিলা। জীবনে প্রথম-বার ইয়াশকে ফাঁসানোর বদলে বাঁচিয়ে দিলো ও। এটা কেন করলো তা জানা নেই। প্রিসিলা স্বভাবত একটু স্বার্থপর গোছের মেয়ে, কিন্তু যখন থেকে ঈশানীর গল্প শুনেছে, তখন থেকেই নি-জের সব স্বার্থপরতাকে ভালোবাসার তরে নিবেদন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারমানে কি প্রিসিলা ও ভালোবাসে ইয়াশকে? কিন্তু কখন? কিভাবে?

নভেম্বর শুরু হতে না হতেই ভালোই শীত পরেছে মিলানোতে। একটা মেদুর হিমহিম আবহ চারিপাশে বিরাজ করে সর্বক্ষণ।

সন্ধ্যা ঘনাতেই ধূসর কুয়াশায় ভার হয়ে আসে স্বপ্নীল আকাশ। প্র-কৃতি ধরা দেয় বছরের সবচেয়ে রুক্ষ চেহারায়। তবুও শীতকাল ভালো লাগে প্রিসিলার, ভালো লাগে শীতের সকাল। কিন্তু দুঃখ-জনক হলেও সেমিস্টার ফাইনালের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে এখনো শীতটাকে সেভাবে উপভোগ করা হয়নি ওর, ভীষণ চাপ যাচ্ছে এইকদিন। ঠিক ভাবে খাওয়া নাওয়া করারও ফুরসত নেই হাতে। মেয়ের শরীরের যত্নে ফ্লোরা সবসময় তৎপর থাকলেও, মনের যত্ন নিতে একেবারেই ভুলেই গিয়েছে মেয়েটা। পড়াশোনার ফাঁকে যতটুকু সময় পায় নিজের রুমেই একাকী সময় কাঁটায় প্রিসিলা। কেমন যেন উদাসীন থাকে সর্বক্ষণ। এই নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তাগ্রস্থ ফ্লোরা। একেতো ছেলে আর তার পাপার দ্বন্দ্বে মনের অবস্থা দু-রুহ, তারউপর মেয়েটার অগোছালো চালচলন। সে তো আর জা-নেনা, তার মেয়ের এই উদাসীন পাগলপারা মনোভাবের পেছনের

রুহ, তারউপর মেয়েটার অগোলা চালচলন। সে তো আর জা-নেনা, তার মেয়ের এই উদাসীন পাগলপারা মনোভাবের পেছনের কারণটা তার ছেলেই। আজকাল খুব জ্বালায় প্রিসিলাকে সে।

চোখের সামনে থাকুক কিংবা আড়ালে, একেকবার অত্যাশ্চার্য কাণ্ড ঘটিয়ে পাগল বানিয়ে ছাড়ে মেয়েটাকে। এমনই এক রাতের-বেলা পড়াশোনা শেষ করে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল ফ্লোরা। কাল পরীক্ষা আছে, তাই পড়তে পড়তে মাঝরাত। এবার একটু ঠান্ডা মাথায় না ঘুমালে মাইগ্রেনের ব্যথায় কাল পরীক্ষার হলেই রেজাল্ট বেড়িয়ে যাবে।

নিরিবিলি ঘুমের প্রস্তুতি হিসেবে প্রথমে খানিকক্ষণ যোগব্যায়াম অনুসরণ করে স্কিন কেয়ার করে নিলো প্রিসিলা। তারপর হাতে-পায়ে ময়েস্টারাইজার মেখে পোশাক বদলানোর উদ্দেশ্যে কে-বলই কোমর থেকে জামাটা তুলতে যাবে, ঠিক সেই মূহুর্তে পেছ-নের বারান্দায় দুমদাম করে বিকট শব্দ হলো। প্রিসিলা সতর্ক চোখে ঘুরে তাকাতেই একগুচ্ছ শীতল রেশমী হাওয়া সুপরিচিত পুরুষালি সুবাস নিয়ে হুড়মুড়িয়ে প্রবেশ করলো ঘরের ভেতর। প্রিসিলা তাকিয়ে রইলো একই ভাবেই, তার কুঞ্চিত কপাল ধীরে ধীরে শিথিল করে দিয়ে চোখের সামনে এসে হাজির হলো কালো হুডিতে মুখ ঢাকা লম্বাটে এক অবয়ব। মাথার উপর হুড তোলা বলে আগন্তুকের চেহারা ঠিকঠাক বোঝা না গেলেই ঠোঁটের কো-ণের ওই প্লাটিনামের চকচকে রিং দু'টো নিঃশব্দে বুঝিয়ে দিয়ে গেলো অনেক কিছু। প্রিসিলা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো। অতর্কিতে মুখ থেকে ছিটকে বেড়িয়ে এলো,

---ইয়াশ! ভয় পাইয়ে দিয়েছো তুমি।

মাথা থেকে হুড নামিয়ে নিঃশব্দে ঘাড়ের উপর রেখে দিলো ইয়াশ। দুর্বোধ্য চোখে চেয়ে প্রশ্ন করলো,

ভয় কেন পেলে?

- যদি অন্য কেউ হতো?

আমি থাকতে আমার বউয়ের ঘরে সিঁদ কেটে ঢুকবে এতো সাহস কার?

ইয়াশের মুখে বউ কথাটা এই প্রথমবারই শুনলো প্রিসিলা। শব্দটা তীরের ফলার মতোই বুকের গিয়ে বিঁধলো ওর। মনের মাঝে অন্যরকম এক অনুভূতি জাগ্রত হলো। চোখ তুলে চাইলো। ছে-লেটার ঘোলাটে চাহনি দেখে বলার মতো কোনো শব্দ খুঁজে পে-লোনা আর। অতঃপর চেয়েই রইলো। ইয়াশ তীক্ষ্ণ চোখে আপাদ-মস্তক পরখ করলো ওকে। পরমূহুর্তেই বলে উঠলো,

উফফস শীট! চেঞ্জ করছিলি নাকি?

এতোক্ষণে নিজের দিকে লক্ষ্য করলো প্রিসিলা। টিশার্টটা আগের মতোই কোমরের উপর তুলে ধরে আছে, ইয়াশের কথায় চট করে সেটাকে ছেড়ে দিলো কোমরের নিচে। আমতাআমতা করে শাসা-নোর ভঙ্গিতে বললো,

--- হ্যা চেঞ্জ করছিলাম। দয়া করে এবার যাওও।

-আচ্ছা দাঁড়া।

ভদ্রলোকের মতো বউয়ের এক কথাতে ওপাশের পর্দার আড়ালে চলে গেলো ইয়াশ। প্রিসিলা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো। মনেমনে ভাবলো,

যাক, ছেলেটা একটু হলেও শুধরেছে।

মনের ভাবনায় ধাতস্থ হয়ে ফের শরীর থেকে জামা টেনে খুলবে তন্মধ্যে ঠাস করে চোখের সামনের পর্দাটা সরিয়ে দিলো ইয়াশ। প্রিসিলা চকিতে ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখলো ঠোঁটের আগায় জ্বলন্ত সিগারেট নিয়ে পায়ের উপর পা ফেলে আয়েশ করে চেয়ারে বসে আছে ইয়াশ। প্রিসিলার সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময় হতেই ঠোঁটের আগায় একটা অদ্ভুত তুষ্ট হাসি উদয় হলো তার। ভ্রুটা তীর্যক ভাবে উঁচি-য়ে কন্ঠস্বর খাদে নামিয়ে শীতল গলায় বললো,

লেটস কন্টিনিউ?

ওর কথা শুনে চোয়াল ঝুলে পড়লো প্রিসিলার। অবিশ্বাস্য গলায় শুধালো,

তুমিকি এভাবেই বসে থাকবে?

না থাকার তো কোনো কারণ দেখছি না?

ইয়ার্কি করোনা ইয়াশ। আমাকে ঘুমোতে হবে।

--- হুঁশশ চেঁচাশ না। পাপা শুনে ফেলবে।

ইয়াশের অশনী ধ্বনিতে কিছুটা সতর্ক হলো প্রিসিলা। অতঃপর কোনোকিছু না বলেই ইয়াশের মুখের সামনে গিয়ে জোরালো হাতে টেনে দিলো পর্দাটা। তারপর আবারও চেঞ্জ করতে চলে গেলো। যাওয়ার আগে কঠোর গলায় সাবধান করে দিয়ে বললো,

খবরদার যদি পর্দা সরিয়েছো!

কিছুক্ষণ স্তম্ভিত চিত্তে বসে থাকলেও, একটুবাদে প্রিসিলার সমস্ত সতর্কবানী বেমালুম ভুলে গেলো ইয়াশ। কোনোকিছু না ভেবেই আলতো হাতে টেনে সরালো বিরক্তিকর পর্দাটা। তৎক্ষনাৎ চো-খের সামনে ভেসে উঠলো পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষনীয় দৃশ্যটি। যা দেখে নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেলো ইয়াশ। আপনাআপনি আলাদা হয়ে গেলো তার দু'টো ঠোঁট। কণ্ঠতালু শুকিয়ে এলো। আঙুল ফস্কে কখন যে সিগারেট মাটিতে পরে গেলো তার ইয়ত্তা নেই। নিষ্প্রভ নিটোল নয়ন জোড়া আটকে রইলো একই দৃশ্যে।

হাতের মুঠি শক্ত হয়ে যাওয়ায় টেনে ধরা পর্দায় টান পরলো। তবুও চোখ ভরে, মন ভরে কেবল প্রিসিলাকেই দেখছিল সে। দে-খতেই দেখতেই বেঘোরে বলে উঠলো,

এতো সুন্দর কেন তুই? তাকালেই নেশা ধরে যায়!

আকস্মিক বাক্যে লাফিয়ে উঠলো প্রিসিলা। দ্রুত নাইটির বো-তাম লাগিয়ে ইয়াশের দিকে আড়ষ্ট ভাবে তাকালো সে। মুখ কাচু-মাচু করে বললো,

পর্দা সরাতে বারণ করেছিলাম তোমায়।

সে কথার প্রত্যুত্তর করলো না ইয়াশ। চুপচাপ চেয়ার ছেড়ে মোহা-বিষ্টের ন্যায় এগিয়ে এলো প্রিসিলার নিকট। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একটা টু শব্দও করলো না। আবিষ্ট নয়নে শুধু চেয়ে থাকলো মে-য়েটার দিকে। তার ওই তীরের ফলার মতো দৃষ্টিতে জাফরানি রঙে ছেয়ে গেলো প্রিসিলার গোলাপি বরণ মুখ। লজ্জায় রাঙা হয়ে দ্রুত চোখ সরিয়ে নতমুখী হলো সে। ইয়াশ গ্রীবা নোয়ালো। ধীরে ধীরে ঝুঁকে গিয়ে প্রিসিলার গলায় মুখ ডোবাবে ঠিক সেই মু-হুর্তে এক অপ্রত্যাশিত প্রসঙ্গ টেনে ওকে পুরোপুরি থামিয়ে দিলো

তার ওই তীরের ফলার মতো দৃষ্টিতে জাফরানি রঙে ছেয়ে গেলো প্রিসিলার গোলাপি বরণ মুখ। লজ্জায় রাঙা হয়ে দ্রুত চোখ সরিয়ে নতমুখী হলো সে। ইয়াশ গ্রীবা নোয়ালো। ধীরে ধীরে ঝুঁকে গিয়ে প্রিসিলার গলায় মুখ ডোবাবে ঠিক সেই মূ-হুর্তে এক অপ্রত্যাশিত প্রসঙ্গ টেনে ওকে পুরোপুরি থামিয়ে দিলো প্রিসিলা,

প্রফেসর রবার্টের সঙ্গে এটা কেন করলে ইয়াশ? ডক্টর বলে-ছেন আগামী তিন মাসেও ওনাকে হসপিটাল থেকে রিলিজ দেয়া হবেনা। কেন তুমি এতোটা হার্টলেস হলে বলো?

পাপা তোর ব্লাইন্ড ডেট হিসেবে ওনাকে সিলেক্ট করেছিলেন তাই।

ইয়াশের নির্বিকার প্রত্যুত্তর। প্রিসিলা একটু দ্বিধাজড়িত গলায় বললো,

---পাপার উপর বুঝি খুব রাগ?

খুউউউব!

কেন?

ইয়াশ দাঁতে দাঁত পিষে শক্ত গলায় বললো,

আমার সামনে পাপা তোকে অন্য কারোর সঙ্গে এটাচড করার কথা বলেছে। আমি তোর পাশে কাউকে সহ্য করতে পারিনা। নট আ সিঙ্গ্যাল ওয়ান।

কথা বলতে বলতেই প্রিসিলা খেয়াল করলো ইয়াশের চোখ দু'টো রক্তবর্ণ হয়ে উঠেছে। ক্রোধে ফেটে যাচ্ছে সে। সহসা একটু দ্বিধাগ্র-স্থ ভাবেই নিজের নমনীয় হাতদুটো ইয়াশের গালে ছোঁয়ালো প্রি-সিলা। নরম গলায় বললো,

শান্ত হও।

মুখে কিছু না বললেও দৃষ্টি শীতল হয়ে এলো ইয়াশের। সেই শীতল চোখে চোখ রেখে আবারও প্রশ্ন করলো প্রিসিলা,

এতোটা হিংসুটে কবে হয়ে গেলে?

- জানিনা।

দাপুটে কণ্ঠস্বর খাদে নামিয়ে জবাব দিলো ইয়াশ। অতঃপর কিছু সময় কেটে গেলো সেভাবেই। নৈঃশব্দ্যে, দৃষ্টির বিনিময়ে, কেবল অনুভূতির আলাপনে। একটু বাদে প্রিসিলা একটু নড়েচড়ে উঠলো। মুখের আদলে মেকি একটা ভাব ফুটিয়ে বললো,

কাল আমার পরীক্ষা আর আজ রাত জেগে বসে আছি। এখন যদি সময় মতো ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে না পারি তখন কি হবে?

দৃঢ় হাতে মেয়েটার কোমর আঁকড়ে ধরলো ইয়াশ। সহনীয় ধাক্কায় নিজের বুকে এনে ফেলে কপালে কপাল ঠেকিয়ে হিসহিসিয়ে বললো,

- সকালে গাড়ি নিয়ে পিক করবো। বি রেডি ফর দ্যাট।

সকালে সত্যি সত্যিই কলেজের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে অপেক্ষমান ইয়াশকে দেখতে পেলো প্রিসিলা। নিজের অতি পছন্দের ছাঁদ খোলা ল্যাম্বরগিনির গায়ে ঠেস দিয়ে নির্বিগ্নে দাঁড়িয়ে আছে সে। পড়নে চার্কোল রঙের স্টাইলিশ ট্রাকস্যুট, হাতে চেইনের ব্রেসলেট, চোখে বিশাল গোলাকার রোদচশমা। ভোরের নরম বা-তাসে কপালের উপর এলোমেলো হয়ে খেলছে ওর সিল্কি কালো চুল। ছেলেটার এই ঘনকালো চুলগুলো এতো মারাত্মক লাগে প্রি-সিলার। মাফিয়া বসটা ঠিক কি পরিমাণ সুদর্শন আর পাওয়ার-ফুল ছিল তা ইয়াশ ইউভানকে দেখলেই কিছুটা আঁচ করা যায়।

যেহেতু ইয়াশ দাঁড়িয়ে আছে তাই রোহানের সঙ্গে যাওয়ার কোনো অপশন নেই। ইচ্ছেও নেই প্রিসিলার। সহসা চুপচাপ গিয়ে গা-ড়িতে বসলো মেয়েটা। প্রিসিলা বসার পরে ইয়াশ গিয়ে গাড়ি স্টা-র্ট দিলো। দু'জনার মাঝে তখনও শুনশান নীরবতা বিরাজমান। কেন যেন ইয়াশের ওই গ্লাস আচ্ছাদিত চোখের দিকে কিছুতেই তাকাতে পারছে না প্রিসিলা। তাকালেই একটা অযাচিত আড়ষ্ট-ভাব ঘিরে ধরছে ওকে। ইয়াশের গভীর দৃষ্টি রূপোরঙা মসৃণ সড়কে আঁটকে আছে।

গাড়ি চলছে বাতাসের বেগে। আজ সকালটা মনোমুগ্ধকর। রাতে বেশ ভালো ঘুম হওয়াতে মনটাও চনমনে হয়ে আছে তার। কুয়া-শার ছাঁকনি ভেদ করে একছটা নরম সোনালী রোদ আঁচড়ে পরেছে গাড়ির জানালায়। প্রিসি সেখানটায় চিবুক ঠেকিয়ে বা-ইরে মুখ বাড়ালো, তৎক্ষনাৎ একরাশ কনকনে ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটা নাকমুখ চিঁড়ে ভেতরে ঢুকে গেলো ওর। প্রিসিলা চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিলে, গাড়ির ট্রান্সপারেন্ট ছাঁদটা নিঃশব্দে টেনে দিলো ইয়াশ। হঠাৎ মাথার উপর ছায়া অনুভব হওয়ায় তড়াক করে চোখ খুলে ফেললো প্রিসিলা। মাথার উপর ছাঁদ টেনে দেও-য়ায় বিরক্ত চোখে ইয়াশের দিকে তাকিয়ে বললো,

এটা কি হলো?

ঠান্ডা লেগে যাবে।

সামনে দৃষ্টি স্থির রেখে, গাড়ির স্টিয়ারিং এ হাত চালাতে চালাতে কথাটা বললো ইয়াশ। মুখ ভার হয়ে গেলো প্রিসিলার। কালো চকচকে গ্লাসের আবরণ ভেদ করে রাস্তার ধারের ওই রংবাহারী জঙ্গলের দিকে দৃষ্টিপাত করে সে একাই বিড়বিড়ালো,

- ধূর।

চলছে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন