নুসরাত ছটফটে ভঙ্গিতে নিজের ঘরে পায়চারি করছে। ঘেমে যাচ্ছে তার শরীর বারংবার। এসির পাওয়ার পঁচিশের ঘরে। আকস্মিক নাজমিন বেগমের হাক ভেসে এলো, নিচ থেকে চিৎকার করে বলছেন, 'চুপচাপ শাড়ি পরে আরশের রুমে যা, নাহলে আজ তোর একদিন কি আমার একদিন।'
নুসরাত মুখ চুপসে রুম থেকে বের হবে এর মধ্যে লিপি বেগম এসে প্রবেশ করলেন রুমের ভেতর। নুসরাত লিপি বেগমকে সামনে দেখেও গলা উচিয়ে শুধাল, 'না গেলে কী করবে?'
নাজমিন বেগম বললেন, 'চুলের মুঠি ধরে টেনে নিয়ে যাব।'
মেহেরুন নেছা এর পরপর বললেন, 'নিয়ে গিয়ে আরশের কোলের মাঝে রেখে আসব।'
লিপি বেগম মেহেরুন নেছার কথা না শোনার ভান করলেন। নুসরাতের হাতে ছায়া আর ব্লাউজ ধরিয়ে দিয়ে বললেন, 'যা ফটাফট পরে আয়।'
নুসরাত ব্লাউজটা চোখের সামনে তুলে ধরল। চোখ বড় বড় করে শুধাল, 'সাইজ কত?'
লিপি বেগম ব্যস্ত সুরে বললেন, 'চল্লিশ।'
নুসরাত কপালে ভাঁজ ফেলে বলে ওঠল, 'এটার ভেতর তো আমি দু-জন জায়গা হয়ে যাব।'
লিপি বেগম শুনলেন না, ঠেলে ধাক্কিয়ে নুসরাতকে পাঠালেন ছায়া আর ব্লাউজ পরে আসার জন্য। দশ মিনিটের মাথায় চোখ মুখে অগাধ বিরক্তি চেপে বেরিয়ে আসলো নুসরাত। নাকি সুরে সামান্য লাফ মেরে উঠে বলল, 'কী বা ল পরাইছো, সবই তো দেখা যায়।'
এর মধ্যে মেহেরুন নেছা প্রবেশ ঘটল সেখানে। তীক্ষ্ণ চোখে নুসরাতকে অবলোকন করে তার কথার উত্তরে বলে ওঠলেন, 'তাহলে খুলে ফেল।'
নুসরাত যেন আকাশ থেকে ধুপ করে পড়ে গেল। নিস্পৃহ ভঙ্গিতে দাদির দিকে তাকিয়ে ঝাঁঝ মিশ্রিত কন্ঠে শুধাল, 'কেন?'
মেহেরুন নেছা বউয়ের দিকে তাকালেন। বললেন, 'বড় বউ চইলা যাও, আরশের বউয়ের সাথে আমার বিশেইষ কড়া আছে।'
লিপি বেগম মাথা নাড়িয়ে চলে গেলেন। নুসরাত তখনো মেহেরুন নেছার দিকে ভ্রু কুঁচকে চেয়ে আছে উত্তরের আশায়। তিনি বললেন, 'সেই তো আরশ সব খুলে ফেলবে, তাইলে কষ্ট করে পরার কী আছে!'
নুসরাত অবাক চোখে দেখল নির্লজ্জ বদ মহিলাকে। কী পরিমাণ খারাপ হলে এমন অশ্লীল কথা বলে এই মহিলা। নুসরাত এক আঙুল ঠোঁটের কাছে রেখে বলল, 'শুধু লুচ্চা মি কথাবার্তা, ভালো কথা বের হয় না মুখ দিয়ে..! তোমার এসব কথা শুনে লজ্জা না লাগলেও, আমার মাথা ঠিকই গরম হচ্ছে।'
মেহেরুন নেছা নুসরাতের শাড়ির আঁচল কাঁধে তুলে দিয়ে বললেন, 'হ আমি কইলেই লুচ্চা মি হইয়া যায়, যখন কাছে আইব তখন বোঝবা...!'
নুসরাত কাটকাট কন্ঠে শুধাল, 'কী বা ল বুঝবো?'
পরপর নির্বিঘ্নে মেহেরুন নেছার কানের কাছে গলা নামিয়ে বলে ওঠল, 'উল্টাপাল্টা কিছু করার চেষ্টা করলে লাথি মেরে বিছানা থেকে ফেলে দিব তোমার নাতিকে।'
মেহেরুন নেছা হাসলেন। ফিনফিনে ল্যাভেন্ডার কালার শাড়িখানার কুচি ঠিক করে দিতে দিতে বললেন, 'একটা কথা বলি, আগে বল নাচ মারবি না!'
নুসরাত অধীর আগ্রহ নিয়ে চেয়ে রইল। বলে ওঠল, 'নাচ মারব না, বলো!'
মেহেরুন নেছা পাতলা শাড়ির আবরণে ঢাকা শরীরের দিকে চেয়ে বলে ওঠলেন, 'স্লিম দেহ দেখাইয়া তো আরশকে ফিট বানিয়ে ফেলবি রে নুসরাত!'
নুসরাত ওই কথা কানেই তুলল না। পুনঃরায় ওই কথা জিজ্ঞেস করে বলে ওঠল, 'না, না, কী বলবে ওইটা বলো...!'
মেহেরুন নেছা মুচকি মুচকি হাসলেন, কথার উত্তর দেওয়ার তাড়া দেখা গেল না। শাড়ি পরানো শেষে নুসরাতের দিকে চেয়ে বলে ওঠলেন, 'মাশাআল্লাহ, কারোর নজর না লাগুক...!'
পরপর গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে ডাকলেন রুহিনীকে। বললেন, 'ছোট বউ, কাজল নিয়া আইসো, নইলে আগামীকাল সকালে দেখা যাইবনে নতুন বউরে আরশই একা নজর লাগাই দিছে।'
মেহেরুন নেছা কথা শেষ করে অট্টহাসি ফেটে পড়লেন। নুসরাত নিজের শাড়ির দিকে ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে ওঠল, 'এ কেমন সা উয়ার জাতের শাড়ি পরাইছো, বুক, পিঠ, পেট সবই তো দেখা যাচ্ছে!'
মেহেরুন নেছা নির্লজ্জের মতো দাঁত কেলালেন। নুসরাতের কানের কাছে গিয়ে বললেন, 'সব দেখা যায় যেন, এই জন্যই তো এমন করে পরাই দিছি।'
নুসরাত মেহেরুন নেছার দিকে চেয়ে শব্দ করে শ্বাস ফেলল। বলে ওঠল, 'উল্টাপাল্টা কথা শুধু।'
দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে গিয়ে বিছানার উপর বসে গেল। এর মধ্যেই গরম লাগা শুরু হয়েছে। শাড়ির আঁচলে মেহেরুন নেছা কোনো প্রকার পিন ব্যবহার করেননি। তাই বুক হতে শাড়ির আঁচল সরাতেই মেহেরুন নেছার ড্যাবড্যাব দৃষ্টি তার দিকে চলে গেল। নুসরাত বিছানার উপর রাখা আঁচল আবারো ঠাস করে গায়ে পেঁচিয়ে নিল। বিতৃষ্ণা ভরা কন্ঠে বলে ওঠল, 'দাদা তোমার দৃষ্টি একজন পুরুষ মানুষের থেকেও বেশি খারাপ। আমার তো এবার সন্দেহ হচ্ছে, দাদার ইজ্জত না তুমি লুট করে ফেলেছ?'
নুসরাতের সন্দেহতিত দৃষ্টি মেহেরুন নেছার দিকে ঘুরে গেল। মেহেরুন নেছা গা দুলিয়ে হাসতে হাসতে এসে বসলেন নুসরাতের পাশ ঘেঁষে। বলে ওঠলেন, 'এমন স্লিম দেহ নিয়া বইসা রইলে, আমার তো একটু আকটু নজর যাবে ওইদিকে।'
নুসরাত কিছু বলতে যাবে, রুহিনী এসে উপস্থিত হলেন তার রুমে। নুসরাতের দিকে কিছুক্ষণ নীরবে চেয়ে থেকে পাশে বসা শাশুড়ীর দিকে তাকালেন। শুধালেন, 'আম্মা, এটা নুসরাত আম্মা কী?'
মেহেরুন নেছা মাথা নাড়ালেন। নুসরাত কিছু বুঝে ওঠার পূর্বেই রুহিনী বেগমের ঠোঁটের শীতল স্পর্শ এসে লাগল তার কপালে। তারপর গালে, নাক এমনকি থুতনিতে ও। নুসরাত বিরক্তিতে চ ক্রান্ত শব্দ উচ্চারণ করে বলে ওঠে, 'হইছে হইছে আল্লাহর ওয়াস্তে আর চুম্মাচাটি দিও না...!'
মেহেরুন নেছা নুসরাতের কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিসিয়ে বললেন, 'এখন তো পুরোরাত পরে রয়েছে, আরশ ধরে ধরে দিবে চুমু।'
নুসরাতের ইচ্ছে করল মাথা ফাটিয়ে ফেলতে নিজের কিছু একটা। এই মহিলা এত খ বিশ কীভাবে! মানে একটা মানুষ শুধু, চুমু টুমু নিয়েই চব্বিশ ঘন্টা পড়ে থাকে কীভাবে! রুহিনী বেগম তো নুসরাতের থেকে দৃষ্টিই সরাচ্ছেন না। ড্যাবড্যাব করে চেয়ে নিজের অজান্তে বলে ওঠলেন, 'নুসরাত আম্মা তোমাকে দেখেই তো আমারই খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে, পুরো আপেলের মতো দেখতে লাগছে তোমাকে!'
পরপর জিভ কাটলেন। নুসরাত অস্বস্তি নিয়ে দাদি আর চাচির দিকে তাকাল। দু-জনকে আঙুল তুলে শাসাতে শাসাতে বলল, 'একদম আমার দিকে তাকাবে না। কখন থেকে স্টক আউট করছো নির্লজ্জের মতো...! এই সা উয়া র শাড়ি আর পরবই না...!'
নুসরাত গা থেকে শাড়ি টেনে খুলতে নিবে, রুহিনী আঁতকে উঠলেন। কিছু বলতে নিবেন তার পূর্বেই নুসরাতের পিঠে ঝাটার বারি পড়ল। ঠোঁট কুঁচকে আর্তনাদ করে উঠতেই নাজমিন বেগম আরেকটা শক্ত বারি বসালেন। বলে ওঠলেন, 'বাপের ঘরে হোস তো, খুলে দেখা...!'
নুসরাত মুখ চুপসে নিল। আড় চোখে নাজমিন বেগমের ক্রোধান্বিত মুখের দিকে তাকাল। নাজমিন বেগম রাগী কন্ঠে বললেন, 'ফটাফট আরশের রুমে দৌড় দেয়, একটা শব্দ ব্যয় না করে।'
সবাই নুসরাতের রুম থেকে বের হতে যাবে, নুসরাত আবার এসে ভেতরে প্রবেশ করল। নাজমিন বেগম চোখ রাঙিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'কী চাই?'
নুসরাত আমতা আমতা করে উঠল। তোতলানো গলায় বলে ওঠল, 'কা কাঁতা নিতে আসছি।'
নুসরাত নিজের কথা শেষ হতেই লিপি বেগম প্রশ্ন করলেন, 'কেন?'
সহসা উত্তর আসলো, 'শীত লাগছে।'
দ্রুত নিজের কাবার্ড খুলে হাতারাতে লাগল। ঝর্ণা বেগম নুসরাতের মনোযোগ নিজের দিকে নিতে নিতে বললেন, 'আরশের রুমে ও তো কাঁতা আছে।'
নুসরাত নিজের নিষ্প্রাণ কালো আঁখিযুগল ঘুরিয়ে মা চাচির মুখ দেখল। চারজন এমন পজিশনে দাঁড়িয়ে আছে মনে হচ্ছে এক্ষুণি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা করবে। হতচকিত নয়নে সবাইকে দেখে নিয়ে এক হাতে কাঁতা নিল। দ্রুত তাদের পাশ কাটিয়ে যেতে যেতে আওড়াল, 'আমার নিজের কাঁতা ছাড়া ঘুম আসে না।'
মেহেরুন নেছা বউদের মাঝখানে বসে থেকে দাঁত কেলিয়ে হেসে বললেন, 'কয়েকদিন পর কইবি ভাতার ছাড়া ঘুম আসেনা।'
নুসরাত নিজের গায়ের উপর দু-খানা কম্বল চাপিয়েছে। এই কনকনে শীতের ভেতর তার গরম লাগছে। আর শাড়ির ব্যাপারে কিছু বলতে পারছে না যা বুঝতে পারছে শাড়ি নিজের জায়গায় নেই। কোনদিকে গিয়েছে আল্লাহ ভালো জানে। আল্লাহ বাঁচাইছে বুদ্ধি করে ছায়ার নিচে একটা থ্রি কোয়াটার প্যান্ট পরে নিয়েছিল তাই। আর ব্লাউজটার অবস্থা সুবিধার নয়। সে বুঝতে পারছে নির্লজ্জ মহিলাদের দল ইচ্ছে করে তাকে ওসব বুক পেট বের করে শাড়ি পরাই দিছে। সে ও নুসরাত নাছির, তার সাথে চালাকি, হাহ...! এরা হয়তো জানে না চালাকির পিছু নুসরাত নাছির ঘুরে না, চালাকি তার পিছু পিছু ঘুরে।
নুসরাত কাঁতার নিচ থেকে নিজের পা আলগোছে বের করল। পায়ে ঠান্ডা বাতাস ছুঁয়ে দিতেই মৃদু আরামদায়ক শব্দ মুখ দিয়ে বের করল, 'আহা হা...!'
কম্বলের নিচ থেকে মাথা উচিয়ে তাকাল। আশপাশ চোরা চোখে দেখল। না আসেনি আরশ নামক বাঁদর এখনো। ঠোঁট ফুলিয়ে শ্বাস ফেলল। চোখ ঘোরাল পুরো রুমে। এত বছর রুমটা লক করা ছিল, আরশ আসাতে এক মাস যাবত খোলা হয়েছে রুমটা। রুমে বিশেষ কিছু নেই। একটা কাবার্ড, ইয়া বড় একটা জানালা, একটা বিছানা। বিছানার দু-পাশে নাইটস্ট্যান্ড, আর একটা কাউচ। এত বড় রুম পুরো খালি পড়ে আছে। বাড়িতে জিম রুম থাকা সত্ত্বেও নিজের রুমে কিছু জিমের জিনিস রেখেছে আরশ। পাঞ্চ ব্যাগটার নাম শুধু নুসরাত জানে আর কিছুই জানে না। বাহির থেকে লিপি বেগমের গলার আওয়াজ কানে আসতেই নুসরাত কম্বল মাথা পর্যন্ত টেনে নিল। মরা মানুষের মতো শ্বাস আটকে পড়ে রইল বিছানায়। সে আরশের পায়ের আওয়াজ শুনেছে, এদিকেই হয়তো আসছে। নুসরাতের অতর্কিত চিন্তায় ব্যঘাত ঘটাতে হয়তো আরশ স্লাইডিং ডোর টেনে খুলল শব্দ করে। বাহির হতে তীর্যক আলো আসলো রুমের ভেতরে। নুসরাত এতে সামান্য গুটিয়ে নিল নিজেকে। এই শীতের ভেতর পায়ের তালু ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে উঠল। পায়ের শব্দ ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল যখন আরশ ভেতরে প্রবেশ করল।
নুসরাত উপলব্ধি করতে পারল কম্বলের উপর থেকে দুটো চোখ তাকে দেখছে। সে নিজেকে ভেতরে ভেতরে আরেকটু গুটিয়ে নিল। কানে ভেসে আসলো ওয়াশরুমের দরজা লাগানোর শব্দ। আটকে রাখা শ্বাস ফোঁস করে মুখ দিয়ে বের করতে নিবে ধুপ করে শব্দ হলো। ফমের তৈরি বিছানা দ্রুত গতিতে নড়ে উঠল। নুসরাত শ্বাস ফেলতে পারল না, ভয়ে, শঙ্কায় অভাবেই আটকে বসে রইল। মনে হলো শ্বাস ফেলতে গেলেই আরশ বুঝে ফেলবে সে জেগে আছে। রুদ্ধশ্বাসে সময় কাটল অনেক। নুসরাতের বন্ধ চোখের পাতা নড়ে উঠল নিজের উপর থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে কম্বল বুঝতে পেরে। দাঁত খিঁচিয়ে ঘাপটি মেরে পড়ে রইল। হৎপিন্ডের অবস্থা বেঘোরে। এই বুঝি ফেটে যাবে যাবে ভাব। ঠান্ডা, শীতল হাতের স্পর্শ পেতেই নুসরাতের গায়ে শিহরণ খেলে
গেল। নিজের কানের লতির কাছে দু-ঠোঁটের নড়াচড়া বুঝতে পারল। প্রাণহীন শীতল গলায় খাদে নামানো কন্ঠস্বর নিয়ে আরশ বলছে, 'ঘুমানোর ভান ধরা শেষ হলে উঠে পড়া হোক...!'
নুসরাত নড়ল না একদম। পুরুষালি রুক্ষ একজোড়া হাত এসে স্পর্শ করল নুসরাতের গলায়। ধীরে ধীরে সেই স্পর্শ চলে গেল বিট করতে থাকা পালস পয়েন্টে। পুরুষালি মুখের স্পর্শ এসে লাগল গালের একপাশে। শব্দ কানে আসলো, 'আমার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছিল বুঝি?'
নুসরাত জোর গলায় বলতে চাইল না, কিন্তু নিজের মুখের বুলি আটকে রাখল, ভুলেও শব্দ বের করা যাবে না। একপেশে হয়ে শোয়া নুসরাতের গালের সাথে ক্লিন সেভ গাল ঘষল আরশ। খোচা খোচা দাড়ির ঘর্ষণে কাপড় মুচড়ে ধরল নুসরাত। বুকে তখন ঘূর্ণিঝড় চলছে। ধুকপুকানির শব্দ বাড়ছে সময়ের সাথে সাথে। আরশ এর এক হাত নুসরাতের শক্ত করে ধরে রাখা হাতের মুঠো স্পর্শ করল। ঠোঁট কামড়ে পুরুষালি হাসি আটকিয়ে নিজের ঠান্ডা বরফ হাত নিয়ে নুসরাতের মেয়েলি মেদহীন উদরে ছুঁয়ে দিল। নিমেষে ভেসে উঠল বাঁ-গালের টোল। হাসির সাথে কুঁচকে গেল চোখের চামড়া। হাত কিৎকাল উদরে নিজের জায়গা দখল করে নিল। স্থির থাকল কতক্ষণ। অতঃপর নুসরাতকে জ্বালানোর জন্য বিচরণ ঘটল সবত্র জায়গায়। ঠোঁটে ফুটে উঠল আরশের দুষ্ট হাসি। কানের লতিতে সামান্য ঠোঁট স্পর্শ করে আরশ হিসহিসিয়ে আওড়াল, 'গতকাল কী বলেছিলাম ভুলে গিয়েছেন নুসরাত নাছির?'
নুসরাত দাঁত খিঁচিয়ে নিজের গলার কাছে দলা পাকানো কথাগুলো আটকাল। আরশ নুসরাতের কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে ওঠল, 'শাড়ি পরলেন না কেন? গায়ের শাড়ি কোথায় আপনার?'
নুসরাত ভেতরে ভেতরে ক্রোধে ফেটে পড়ল। এই লোক তাহলে তাকে শাড়ি পরাতে বলেছে। ওই বেয়াদব মেহেরুন নেছা ও এই লোকের কথা মেনে অক্ষরে অক্ষরে তাকে শাড়ি পরাচ্ছিল। নুসরাতের চিন্তার ব্যাঘাত ঘটল গালে খড়খড়ে হাতের স্পর্শ পেয়ে। চোখ খোলার প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই কানে ভেসে আসলো কয়েকটি মারাত্মক গম্ভীর গলার শব্দ। আরশ বলছে, 'ঘুমিয়ে আছেন, তাহলে এর সুযোগ তো নেওয়াই যায়।'
নুসরাত নিজের মনোভাব স্থির করল, ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে। আরশের শক্ত সামর্থ হাত তাকে টেনে নিজের দিকে করে নিল, এমনকি তার দু-হাত বিছানায় চেপে ধরে নিজের পুরো শরীরের ভার ছেড়ে দিল তার উপর। কিছু বুঝে ওঠার পূর্বেই পুরুষালি ঠোঁটের শীতল স্পর্শ এসে ছুঁয়ে গেল নুসরাতের কপালে। এরপর নাকের ফুলে। পরপর গালে, থুতনিতে। আরশ নিজের নাক দিয়ে নুসরাতের নাকের পাশে ঘষল সামান্যক্ষণ। নাকের ফুলের উপর হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে ওঠল, 'আপনি কমপ্লিমেন্ট চাননি তারপরও দিলাম, নাক ফুল পরে আপনাকে পুরো আমার বউ লাগছে, আরশ হেলালের বউ লাগছে।'
নুসরাত দম বন্ধ করে বসে রইল। সেই ঠোঁটের বিচরণ ঘটল আবারো মুখের কোণায় কোণায়। নুসরাত এত অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে চোখ খুলবে তার পূর্বেই আরশ জানতে চাইল তার কাছে, 'স্ত্রীর নিচের ঠোঁটে চুমু খাওয়া নাকি সুন্নত? অহ স্যরি বিসমিল্লাহ বলে চুমু খেলে নাকি নেকি হয়, তাহলে নেকিটা কী নিজের ঝুলিতে ভরা যায়?'
আরশ তর্জনী আঙল থুতনিতে রেখে অপেক্ষা করল নিজের বউয়ের চোখ খোলার জন্য, কিন্তু নুসরাত অটল মনে হয় নিজের জেদে সে চোখ খুলবে না। তিরতির করে কাঁপা চোখের পাতার দিকে চেয়ে থাকল আরশ। নিজের পুরো শরীর নুসরাতের গায়ের উপর ছেড়ে দিয়ে তর্জনী আঙুলের সাহায্যে নুসরাতের পুরো মুখে আঁকিবুকি করল। কপাল থেকে শুরু করে নাক, নাক থেকে থুতনি পর্যন্ত, এরপর থুতনি থেকে গলা পর্যন্ত আঙুলে বিচরণ হলো। ঠোঁট টিপে হালকা আলোয় দেখল ধীরে ধীরে উঠা নামা করা বুক। চোখ স্থির নুসরাতের মুখের পানে। জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিয়ে গলায় অধর দাবিয়ে শব্দ করে চুমু খেল।
নুসরাত হাত পা অসাড় হয়ে আসল। আরশের ঠোঁট তখনো তার গলার কাছে, এরপর আরেকটা চুমু পড়ল বিউটি বোনে। আরশ একহাতে নুসরাতের মাথা চেপে ধরে একটানে পুরো মেয়েলি শরীর নিজের গায়ের উপর তুলে নিল। একহাত পৃষ্ঠদেশে চেপে রাখল। অন্যহাত নুসরাতের কোমরের উন্মুক্ত স্থানে। স্কিনি টি-শার্ট উঠে গেছে উপরের দিকে। আরশ খুঁজে খুঁজে নুসরাতের ঘাড়ের সংবেদনশীল স্থানে চুমু খেল। স্কিনি টিশার্টের গলা কাঁধ থেকে নামিয়ে সেখানেও চুমু খেল। নুসরাত মোচড়ানো শুরু করতেই হিসহিসিয়ে আবশ বলল, 'জাস্ট কাম ডাউন মিসেস...! রিলাক্স..!