#১৫_বছর_বয়সী_মা (৩৮)
#সোফিয়া_সাফা
(বোনাস পর্ব)
সতর্কতা:— রোমান্টিক!
“আ…আপনি কি আমাকে কা…মড়াতে চাইছেন?”
অলির কণ্ঠ কাঁপছে। ঠোঁটজোড়া শুকিয়ে কাঠ, বুকের ভেতরটা ধুকপুক করছে অজানা উত্তেজনায়। সে বহু কষ্টে এটুকুই উচ্চারণ করতে সক্ষম হয়েছে। এদিকে অলির কথা শুনে আলভী একটা শ্বাস ফেলে অলিকে ছেড়ে দিলো। ছাড়া পেয়ে অলি একটা লম্বা শ্বাস টেনে নিজেকে ধাতস্থ করলো। আলভী অন্যদিকে ঘুরে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে শুয়ে আছে। অলি আড়চোখে একবার আলভীর পিঠের দিকে তাকায়।
“কামড়াতে না দিলে আপনি রূপসা আপুকে ‘আপু’ বলে ডাকবেন না?”
আলভী কোনো উত্তর দিল না। তার এই নীরবতা অলি সহ্য করতে পারল না। সে ধীরে ধীরে আলভীর দিকে এগিয়ে গিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“কি হলো? শুনতে পাচ্ছেন না”
আলভী বিরক্তি ভরা চোখে অলির দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বলল,
“মেজাজ খারাপ কোরোনা তো। চুপচাপ ঘুমাও। মুডটাই নষ্ট করে দিয়েছো।”
কথাগুলো শুনে আরও বেশি বিভ্রান্ত হলো অলি। সে কি এমন করেছে? অলি পুনরায় নিজের স্থানে এসে শুয়ে পড়লো। বেশ কিছুক্ষণ অতিবাহিত হবার পরেও সে ঘুমাতে পারলোনা। এদিকে আলভী একভাবেই শুয়ে আছে। অলি বুঝতে পারলোনা সে আদৌ ঘুমিয়েছে কিনা। সে একটু দ্বিধা নিয়েই নিজের তর্জনী আঙুল দিয়ে আলভীর পিঠে দুটো আলতো টোকা দিল। মূহুর্তেই আলভী ঝড়ের বেগে অলির দিকে ঘুরে গিয়ে তার হাত সরিয়ে দিলো। রাগ মিশ্রিত কন্ঠে বলে উঠলো,
“বিরক্ত করছো কেনো? ঘুমাতে বলেছিনা?”
অলি একটু চমকে গিয়ে শুষ্ক গলায় বলল,
“আপনি কি রাগ করেছেন?”
আলভী এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নরম স্বরে বলল,
“আমার রাগ সম্পর্কে তোমার কোনো ধারণাই নেই। আমি রাগ করলে তোমাকে ঠাটিয়ে দুটো চড় মে*রে দিতাম।”
আলভীর কথা শুনে অলি ঘাবড়ে গেলো।
“তার মানে আপনি রেগে নেই?”
“না”
অলি চুপ করে রইলো বেশ কিছুক্ষণ পর নীরবতা ভেঙ্গে আলভী বলল,
“তুমি কাকে কি বলতে হবে সেসব তো ভালোই বোঝো কিন্তু স্বামীর সাথে কেমন আচরণ করতে হবে সেসব বোঝোনা। এই ব্যপারটা আমার অনেক খারাপ লাগে।”
কথাটা শুনে অলি ফ্যালফ্যাল চোখে আলভীর দিকে তাকিয়ে রইলো যদিওবা সে আলভীর চেহারা দেখতে পাচ্ছেনা তবুও তার মনে হচ্ছে আলভীর মন ভালো নেই। অলি অভিমানী কন্ঠে বলল,
“আমি কোনটা বুঝতে পারিনি? আমি কি আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছি? আচ্ছা ঠিক আছে রূপসা আপুকে আর ‘আপু’ বলে ডাকতে বলবোনা।”
আলভীর ভীষণ খারাপ লাগলো সে কিভাবে অলিকে বোঝাবে সে অলির ব্যবহারে অনেক কষ্ট পায়। আলভী কাছে গেলেই অলি অদ্ভুত বিহেভ করে আর এটাই তাকে অনেক কষ্ট দেয়। অলি ছটফট করলে আলভীর মনে হয় সে অলিকে আবারও ধ/র্ষ/ণ করছে। সে অবশ্যই অলির সাথে জোরাজুরি করতে চায়না। কিন্তু এই অলি কবে বড় হবে আর কবে নিজে থেকেই তার কাছে আসবে? ততদিন সে কিভাবে নিজেকে সামলে রাখবে? আলভীকে নিশ্চুপ থাকতে দেখে অলি চিন্তিত কন্ঠে শুধায়,
“আপনার কি শরীর খারাপ?”
আলভী স্বাভাবিক স্বরেই বলে,
“না তবে মন অবশ্যই খারাপ।”
অলি ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো,
“কি হয়েছে আপনার?”
“দেখো অলি আমি অনেক টায়ার্ড ঘুমাতে দেও আমাকে।”
অলি চুপ হয়ে যায়। আর আলভীও অন্যদিকে ফিরে চোখ বুজলো।
অন্ধকার আচ্ছন্ন রুমটা নিঃস্তব্ধ, শুধুই শোনা যাচ্ছে দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির টিকটিক শব্দ। জানালার ওপারে কঠিন অন্ধকারে ঘুমিয়ে পড়েছে শহর। বাতাসে মিশে আছে একরাশ গা ছমছমে নিস্তব্ধতা। এমন সময়েই অলির নরম কণ্ঠ ভেসে এলো—
“আপনি কি কষ্ট পেয়েছেন?”
আচমকা অলির প্রশ্নে আলভী ফট করে চোখ মেলে তাকায়। অলি আলভীর মাথায় হাত রাখলো। আলভী অলির দিকে ঘুরে গিয়ে চাপা কণ্ঠে বলল,
“হুম কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু তুমি কি বুঝতে পারছো যে আমি কেনো কষ্ট পেয়েছি?”
অলি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মাথা নিচু করে রয়েসয়ে বলল,
“আমি বুঝতে পারছিনা। কিন্তু আপনি বলুন কি করলে আপনার কষ্ট কমে যাবে আমি সেটাই করবো।”
আলভীর ঠোঁটের কোণে একটা ম্লান হাসি ফুটে উঠলো। সে ভারী কন্ঠে বলে ওঠে,
“আমাকে আদর করো। তাহলেই আমার কষ্ট কমে যাবে”
অলি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলো। চোখে মুখে তীব্র লজ্জা, অস্বস্তি আর সংকোচ ফুটে উঠলো। তবুও আলভীর মন রক্ষার্থে সব দ্বিধা উপেক্ষা করে আলভীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। আলভী চোখ বুজে অনুভব করল স্পর্শটুকু। অলির সেই কোমল স্পর্শে আলভীর চোখেমুখে প্রশান্তির রেখা ফুটে ওঠে।
“স্বামীকে এভাবে আদর করে?” —আলভীর কণ্ঠে একরাশ অভিমান।
অলি অসহায় কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
“তাহলে কিভাবে করে?”
আলভী নিজের কপালের মাঝ বরাবর আঙুল ঠেকিয়ে বললো।
“এখানে কিস করো।”
অলি হকচকিয়ে গেলো। গলা শুকিয়ে এলো। তবুও সাহস সঞ্চয় করে আলভীর কপালে নিজের নরম ঠোঁটদ্বয় ছোয়ালো। এটুকুতেই আলভীর মন ভালো হয়ে যায়। তবুও কথায় আছেনা বসতে পেলে শুতে চায়। ঠিক তেমনটাই হলো। আলভী এবার নিজের গালে আঙুল ঠেকিয়ে বলল,
“এবার এখানে করো”
অলির নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসে। ভেতরটা কাঁপছে। ভিতরে স্নায়ুর টান টান অবস্থা। এমনটা আগে কখনো হয়নি। যেন কোনো দুঃসাহসিক অভিযানে নেমেছে। আলভীর গম্ভীর, তীক্ষ্ণ উপস্থিতি যেন ওর অগ্নি পরীক্ষা নিচ্ছে। তার সংকোচ স্পষ্ট বুঝতে পেরে আলভী মৃদু হেসে বলল,
“থাক, করতে ভালো না লাগলে—করতে হবেনা।”
কিন্তু অলি মাথা নেড়ে সাহস জুগিয়ে এগিয়ে এসে, আলভীকে কিস করতে যাবে ঠিক তখনই আলভী ঘুরে তাকায় তার দিকে, ফলস্বরূপ অলি অজান্তেই আলভীর ঠোঁটে চুমু দিয়ে বসলো। অলি অপ্রস্তুত হয়ে তড়িৎ গতিতে সরে যেতে নেবে কিন্তু তার আগেই আলভী একহাতে অলির ঘাড় চেপে ধরে। অলি বেচারি কি আর করবে? আলভী শক্তপোক্ত ভাবে নিজের ঠোঁটের সাথে অলির ঠোঁট চেপে ধরে রেখেছে।
যেন হঠাৎ কোনো দুরন্ত ঝড় এসে অলিকে ঘিরে ফেলেছে। পালানোর পথ নেই। আলভীর স্পর্শে, চাপে, ঠোঁটের ছোঁয়ায় অলির শরীর জমে আসে। অলি শ্বাস নেয়ার জন্য মুখ খুলতেই আলভী অলির নিচের ঠোঁট—দাত দিয়ে চেপে ধরে। অলি ছোটার জন্য ছটফট করতে লাগলো কিন্তু তাতে যেন আগুনে ঘি পড়ে। আলভী আরও প্রবল হয়ে অলির ঠোঁটে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে লাগলো।
আলভী চুমুরত অবস্থাতেই অলিকে নিজের নিচে টেনে নেয়। অলির দুহাত নিজের একহাত দিয়ে চেপে ধরে আরেক হাতে অলির ঘাড় চেপে ধরে। প্রায় ১৩ মিনিট পর আলভী অলির ঠোঁট জোড়া ছেড়ে দেয়। অলির চোখে জল, ঠোঁট লাল হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে অক্সিজেনহীন কোনো ভিন্ন গ্রহে ছিলো এতক্ষণ। মাত্রই পৃথিবীতে ফিরে এলো। অলি হাঁপাচ্ছে। কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে শ্বাস নিচ্ছে একটানা। ২ মিনিট পর অলি কিছুটা স্বাভাবিক হলো। আলভী এখনো অলির হাতজোড়া ধরে রেখেছে। অলি নিজের হাত ছাড়াতে চাইলে আলভী ব্যাকুল কন্ঠে বলে ওঠে,
“স্যরি হানিবি। আর একবার প্লিজ। এবার ব্যাথা দেবোনা প্রমিস”
অলি কিছু বলতে যাবে তার আগেই আলভী পুনরায় অলির অধরজোড়া আঁকড়ে ধরে। অলির বলতে না পারা কথাগুলো গোঙানির রূপে রুমের চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো। এবারের চুমুটা ছিলো ভীষণ সফট। তীব্রতার বদলে ভালোবাসায় ভরপুর। আলভী ধৈর্য্য সহকারে অলির ঠোঁটের মাঝে বিচরণ করছে। অলি একসময় ক্লান্ত হয়ে হার মেনে—নিজেকে আলভীর নিকট শপে দেয়। এরকম ভাবে আলভী কতোক্ষন যাবত অলির ঠোঁটের মাঝে ডুবে ছিলো তার ইয়ত্তা নেই।
চলবে,,,