ফন্ট সাইজ:
থিম:
১৫ বছর বয়সী মা

৩৮তম পর্ব

লেখক: সোফিয়া সাফা

#১৫_বছর_বয়সী_মা (৩৯)

#সোফিয়া_সাফা

ঘড়ির কাটা রাত ৩ টা ছুইছুই। আলভী নাক ডেকে ঘুমোচ্ছে। অলির চোখে ঘুম নেই সে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। যদিও অন্ধকার রুমে কোনো কিছুই দেখা যাচ্ছেনা। অলি লক্ষ্য করেছে এই কয়দিন সে আলভীর পাশে ঘুমালেও আলভী নাক ডাকেনি। তবে আজকে কি হলো? অলি একটা শ্বাস ফেলে ঘুমোতে চাইলো কিন্তু ঘুম যেন তার সাথে লুকোচুরি খেলছে। বারবার আলভীর চুম্বনের কথাই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। তার আজকে একটুও খারাপ লাগেনি। উল্টো আলভীর প্রতিটি স্পর্শ তার শরীরে অদ্ভুত এক শিহরণ ছড়িয়ে দিয়েছে। যার প্রভাবে তার চোখে ঘুমও ধরা দিচ্ছেনা।

“এটাকেই কি স্বামীর আদর বলে”

ভাবনাটা মাথায় আসতেই অলি দুহাতে মুখ ঢেকে নিলো। লজ্জায় তার গাল পুড়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ যেতেই অলি আলভীর দিকে এগিয়ে যায়। একহাতে আলভীকে জড়িয়ে ধরে তার পিঠে মুখ গুজে চোখ বন্ধ করে নেয়।

সকাল আটটা। সূর্য সদ্য মাথা তুলেছে। জানালার কাঁচে হালকা গরম ভাব, রোদ সরাসরি ভেতরে না ঢুকলেও পর্দার ফাঁক গলে একটু একটু করে ছড়িয়ে পড়ছে। আলভীর রুমে অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা—ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দটাও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে।

“আজকে নোমানের নানুর অপারেশন হবে।”

আলভী হাতঘড়ি পড়তে পড়তে অলির উদ্দেশ্যে কথাটা বললো। কিন্তু বিনিময়ে অলির থেকে কোনো রেসপন্স পেলোনা। সে ভ্রু কুচকে অলির দিকে তাকায়। অলি ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াচ্ছিলো। কিন্তু অলিকে দেখে মনে হচ্ছে সে অন্য কোনো ভাবনায় ডুবে আছে। আলভী অলির দিকে এগিয়ে গিয়ে অলির পিঠ বরাবর টোকা দিতেই অলি ধরফরিয়ে উঠলো। হাতে থাকা চিরুনী টাও ফ্লোরে ছিটকে পড়লো। অলি থতমত খেয়ে আলভীর দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই আলভী অলির মুখ বরাবর ঝুকে গিয়ে বলল,

“রাতের ঘটনা ভুলতেই পারছোনা দেখছি, ব্যাপার কি?”

আলভীর কথা শুনে অলি লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে ঠোঁট চেপে ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে রইলো। তাকে এভাবে লজ্জা পেতে দেখে আলভী নিজের ঘাড় চুলকে বলল,

“তুমি কিন্তু আমাকে সি*ডিউস করছো। আমি আবার বাইট করতে শুরু করলে আমাকে কিন্তু আটকাতে পারবেনা।”

এই কথা শুনে অলি ড্রেসিং টেবিলের দিকে ঘুরে গিয়ে বললো,

“নোমান ভাইয়ার নানুর কি অবস্থা এখন?”

আলভী একটা শ্বাস ফেলে বলল,

“হু, সেটাই বলছিলাম। আজকে ওনার হার্টের অপারেশন করা হবে”

অলি চমকে তাকালো আলভীর দিকে,

“আপনি করবেন?”

আলভী প্যান্টের পকেটে হাত রেখে বলল,

“না, হার্ট সার্জন করবে। তবে আমি সাথে থাকবো। আফটার অল নোমান আমার হানিবিকে পালাতে সাহায্য করেছে। তার প্রতিদান স্বরুপ আমি এটুকু তো করতেই পারি তাইনা?”

আলভী হাসছে। অলি সরু চোখে আলভীর দিকে তাকিয়ে রইলো। এর আগে সে আলভীকে এভাবে হাসতে কখনোই দেখেনি। আর সত্যি বলতে আলভীকে হাসতে দেখে অলিরও খুব ভালো লাগছে।

“বাহঃ আপনার মন আজকে বেশ ভালো দেখছি।”

আলভী হুট করেই অলিকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলো,

“বউয়ের আদর পেয়েছি তো সেই জন্যই ফুরফুরে লাগছে।”

অলি নিজেও হেসে উঠলো। বাবা মাকে হারানোর পর এই প্রথম সে একটু মন থেকে হেসেছে।

“আমাকে নিয়ে যাবেন?”

আলভী অলির চুলে মুখ গুজে চাপা স্বরে বলে,

“কোথায়?”

“নোমান ভাইয়ার নানুকে দেখবো। আপনার সাথে যেতে চাইছি নিয়ে যাবেন?”

আলভী অলিকে ছেড়ে দিয়ে বললো,

“না অলি। আমি সার্জারী চলাকালীন অটিতে থাকবো। তখন তুমি একা-একা কি করবে?”

অলি ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,

“বাড়িতেও তো একা-একা থাকতে হয়। তার চেয়ে আপনার সাথে যাওয়াটাই ভালো। অপারেশনের পর আমরা ঘুরতে যাবো। প্লিজ”

আলভী আর না করতে পারলোনা। এভাবে বলার পরেও কি সে না করতে পারে?

“ওকে ডান। তার আগে ব্রেকফাস্ট করে নেই চলো”

আলভী রুমের দরজা খুলেই রূপসাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হকচকিয়ে যায়। রূপসা হাতে থাকা কফির মগটা আলভীর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,

“আগে তো কফি ছাড়া চলতোই না। এখন তো কফি নিয়ে এলোও তোমাকে পাওয়া যায়না।”

রূপসার কন্ঠ শুনে অলি মাথায় কাপড় টেনে দরজার দিকে এগিয়ে আসে। আলভী রূপসার হাত থেকে কফির মগটা নিতে যাবে তার আগেই অলি এগিয়ে এসে মগটা নিয়ে নেয়। এক সেকেন্ডও অপেক্ষা না করে কফির কাপে একটা চুমুক দিয়ে নাক মুখ কুচকে ফেলে। আলভী আর রূপসা দুজনেই হতবাক হয়ে অলির দিকে তাকায়। অলি মুখের কফিটুকু আবার কাপে ফেলে দিয়ে বলে ওঠে,

“ছিহ, এটা কি বানিয়েছো রূপসা? ওয়াক”

অলির কথাশুনে রূপসা রেগেমেগে অলির হাত থেকে কফির মগটা ছিনিয়ে নেয়, বাজখাঁই কন্ঠে বলে ওঠে,

“এই বেয়াদব মেয়ে, তোমাকে একবার বলেছিনা যে নাম ধরে ডাকবেনা।”

অলি চোখ মুখ শক্ত করে বলল,

“আমাকে ভাবী বলে ডাকো। তারপরেই আপু বলে ডাকবো”

রূপসা মুখ বাকায়, “তোমার মুখ থেকে আপু ডাক শোনার জন্য আমি উতলা হয়ে যাইনি। তুমি যদি আমার সাথে কথা বলতে না আসো তাহলেই আমি খুশি।”

অলি একটা শ্বাস ফেলে বলল, “আচ্ছা আমাকে ভাবী বলতে হবেনা। তুমি অন্তত ওনাকে একবার ভাই বলে ডাকো।”

রূপসা অগ্নিঝরা চোখে অলির দিকে তাকাতেই আলভী বলে ওঠে, “রূপ তোর বিহেভিয়ার অনেক খারাপ হয়ে গেছে। আমি কিন্তু তোকে ফাস্ট আর লাস্ট বারের মতো ওয়ার্ন করছি অলির সাথে এভাবে কথা বলবিনা।”

আলভীর কন্ঠে এমন কিছু ছিলো যা রূপসাকে ভীষণ ভাবে আহত করলো।

“তুমি শুধু আমার বিহেভিয়ারই দেখলে? ওর বিহেভিয়ার দেখলেনা? ও আমার সাথে কিভাবে কথা বলল সেটা দেখলেনা?”

“ও তো তোকে ঠিক কথাই বলেছে। তুই একটা কাজ কর। আমাকে ভাই বলে ডাকতে তোর সমস্যা হলে তুই আমার চোখের সামনেই আসিস না।”

কথাটা শুনে রূপসা অভিমানী চোখে আলভীর দিকে তাকিয়ে হাতে থাকা কফির মগটা শক্ত করে চেপে ধরে,

“হাহ আমি না আসলে তুমি সামান্য কফি টুকুও খেতে পারবেনা বুঝলে। তোমার এই অকালপক্ব বউ তো শুধু চটাং চটাং করে কথা বলতেই জানে। আর কি জানে সে? এই সাদা চামড়া টা ছাড়া ওর মাঝে আর আছে টাই বা কি? তাও এই সাদা চামড়াটা আছে বলেই ছেলেদের ভেঙ্গে খেতে পারে নইলে তো ভিক্ষাও জুটতো…..

ঠাসসসসস

রূপসা নিজের কথা শেষ করার আগেই আলভীর শক্তপোক্ত হাত তার গাল স্পর্শ করে। থাপ্পড়ের তীব্রতায় হাতে থাকা কফির মগটা ফ্লোরে পড়ে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায়।

ড্রইংরুমে বসে যারা ব্রেকফাস্ট করছিলো তারা সবাই ছুটে আসে ঘটনাস্থলে। রাগে আলভীর শরীর কাপছে। রূপসার সাহস দেখে সে অবাক হলো।

তার সামনে দাঁড়িয়ে অলিকে নিয়ে এগুলো বলতে রূপসার বুক কাপলোনা? অলি ঠোঁট চেপে কেদে উঠলো। অলির চাপা কান্নার শব্দে আলভী আরও বেশি রেগে যায়। সে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে রূপসার চুল টেনে ধরে।

অলি এরকম ঘটনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা। সে দ্রুত এগিয়ে এসে আলভীর হাত থেকে রূপসাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগলো।

আলভী হিংস্র সিংহের ন্যায় গর্জে উঠে একহাতে অলিকে সরিয়ে দেয়। অলি আবারও গিয়ে রূপসাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই আলভী রূপসাকে ধাক্কা দিয়ে বসে।

রূপসা ছিটকে গিয়ে দেয়ালের সাথে ধাক্কা খেতে যাবে ঠিক সেই সময়েই কেউ একজন এগিয়ে এসে রূপসাকে নিজের দিকে টেনে নেয়। রূপসা লোকটার চেহারা না দেখেই লোকটাকে জড়িয়ে ধরে কেদে ওঠে।

আলভী পুনরায় রূপসার দিকে এগিয়ে যেতে নিলে অলি আলভীর পা জড়িয়ে ধরলো। আলভীর রাগ মূহুর্তেই হাওয়া হয়ে যায়। সে তড়িৎ গতিতে অলিকে উঠিয়ে বুকে টেনে নিলো।

বাড়ির বাকিরা এরূপ ঘটনায় হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে। রূপসা কিছুটা স্বাভাবিক হতেই লোকটাকে ছেড়ে লোকটার মুখের দিকে তাকায়। লোকটা ছিলো ইয়াদ।

ইয়াদের দৃষ্টি অনূভুতিশূন্য। এরই মাঝে রুনা খাতুন এগিয়ে এসে রূপসাকে জড়িয়ে ধরে।

“এভি তুমি আমার মেয়ের গায়ে হাত তুললে? যেই মেয়ের গায়ে আমি মা হয়ে কক্ষনো হাত তুলিনি তুমি আমার সেই মেয়েকে মা*রলে?”

আলভী কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে বলে উঠলো,

“আমি যে আপনার মেয়েকে বাচিয়ে রেখেছি সেই জন্য কৃতজ্ঞ থাকুক। ওর জায়গায় অন্য কেউ হলে আমি খু*ন করে ফেলতাম”

শাহানাজ বেগমসহ বাকি সবাই আলভীর ব্যবহারে বিস্মিত হলো। উসমান মির্জা ধমকের স্বরে বললেন,

“এভি তুমি কিন্তু বাড়াবাড়ি করছো।”

“আমি বাড়াবাড়ি করিনি বাবা। অলির স্বামী হিসেবে আমার উচিৎ ছিলো ওর জবান বন্ধ করে দেয়া।”

ইয়ামিন মির্জা বললেন,

“রূপ কি এমন অন্যায় করেছে যার জন্য তুমি এভাবে বলছো?”

আলভীর শরীর কাপছে। নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টায় সে নিজের চুল খামচে ধরলো। তারপর হাসফাস করতে করতেই বলল,

“ও যে কি করেছে আমি সেটা ভাষায় ব্যক্ত করতে পারবোনা। আমি অনেক সহ্য করেছি কিন্তু আর নয়। তোমরা যদি আমার স্ত্রীকে সম্মান দিতে না পারো তাহলে আমি এইমুহূর্তে ওকে নিয়ে এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো। এমনকি এই মির্জা বংশের সাথে আমার সমস্ত সম্পর্ক আমি ছিন্ন করবো।”

অলি তখনও আলভীর বুকের সাথেই লেপ্টে ছিলো। আলভীর কথা শুনে সে ফুপিয়ে কেঁদে ওঠে। তার মনে হচ্ছে সবকিছু তার জন্যই হচ্ছে।

এদিকে আলভীর কথা শুনে শাহানাজ বেগম ভড়কে গেলেন। একটা মাত্র ছেলে তার। যদি সত্যি সত্যিই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় তাহলে তো সে ছেলের শোকে শোকেই ম*রে যাবেন। ছেলের রাগ সম্পর্কে তার ধারণা আছে। এর আগেও তো আলভী চলে গিয়েছিলো। আর সত্যি তো এটাই যে অলির জন্যই আলভী ফিরে এসেছে। সবাইকে চুপচাপ থাকতে দেখে রুনা খাতুন বললেন,

“ভাই, ভাবী তোমরা যদি এর বিহিত না করো তাহলে আমি আর থাকবোনা এই বাড়িতে। আমার মেয়েকে নিয়ে আমি আজই চলে যাবো।”

শাহানাজ বেগম দোটানায় পড়লেন। সে রুনা খাতুনকে বোঝানোর চেষ্টা করে বললেন,

“রুনা জানোই তো এভির রাগ উঠলে মাথা ঠিক থাকেনা। তোমরা একটু বোঝার চেষ্টা করো।”

“আমি নাহয় বুঝলাম ভাবী কিন্তু রূপের বাবা যদি একবার এই বিষয়ে জানতে পারে। তাহলে ভেবে দেখেছো কি হবে? এমনিতেই আমরা তার অ-মতে গিয়ে এই বাড়িতে থাকছি।”

শাহানাজ বেগম চুপ হয়ে গেলেন। আপাতত তার কাছে ছেলের দোষ লুকোনোর মতো অজুহাত নেই। এরই মাঝে সবাইকে অবাক করে দিয়ে আলভী অলিকে রুমের ভেতরে নিয়ে, ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দিলো।

পুরোটা সময় ঊর্মিলা আর ইয়াদ চুপচাপ ছিলো। বড়দের মাঝে তাদের কথা বলা মানায় না। মূলত সেই জন্যই ঊর্মিলা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।

নইলে সেও সবাইকে বলে দিতো যে রূপসা তার ভাইয়ের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে। আগে রূপসাকে যেটুকু ভালো লাগতো কিন্তু কালকের ঘটনার পর রূপসাকে দেখলেই তার রাগ উঠছে।

“কেনো রে ভাই? দুনিয়াতে কি ছেলের অকাল পড়েছে? তুই কেনো আমার লাটসাহেব ভাইটার পেছনেই ছ্যাচড়ার মতো পড়ে আছিস? ভালোই হয়েছে ভাইয়া আজকে তোকে চুড়ানি দিয়েছে। এখন যদি একটু বুদ্ধি জাগ্রত হয়।”

রুনা খাতুন রূপসাকে নিয়ে রূপসার রুমের দিকে চলে যায়। তারপর এক এক করে বাকি সবাইও চলে গেলো। ঊর্মিলা ইয়াদের দিকে তাকিয়ে দেখলো ইয়াদ একভাবেই দাঁড়িয়ে আছে। ঊর্মিলা ভ্রু কুচকে ইয়াদের সামনে গিয়ে হাত নাড়ায়,

“এই ভাইয়া, এই।”

ঊর্মিলার ডাকে ইয়াদ যেন হুশ ফিরে পেলো। এদিকে ইয়াদের চোখমুখের অবস্থা দেখে ঊর্মিলা আঁতকে ওঠে। ইয়াদের চোখ রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। পুরো চেহারা কেমন যেন থমথম করছে। ইয়াদ ঊর্মিলার দিকে গম্ভীর চাহনি নিক্ষেপ করতেই ঊর্মিলা একটা শুষ্ক ঢোক গিললো,

“ভা…ইয়া? আর ইউ ওকে?”

ইয়াদ মূহুর্তেই ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে বললো,

“ইয়াহ আ'ম ওকে”

ঊর্মিলা একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল,

“আহ, আমি তো ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম। একটু আগে তোমাকে একদম এভি ভাইয়ের মতোই দেখাচ্ছিলো।”

কথাটা শুনে ইয়াদ ঊর্মিলার মাথায় চাপড় মেড়ে বললো,

“মোটেই না। আমি ভাইয়ার মতো নই।”

“হ্যাঁ আমি জানি ইয়াদ ভাই। কিন্তু তোমরা কথায় কথায় আমার মাথায় চাপড় মা*রো কেনো?”

ইয়াদ হেসেই বলল,

“তোর মাথায় কতটুকু গোবর আছে সেটাই পরীক্ষা করি বুঝলি?”

“কিহ!”

“হুম, দেখ তুই যদি ব্যথা পাস তার মানে তোর মাথা ভর্তি গোবর আছে। আর যদি ব্যথা না পাস তাহলে মনে করবি তোর মাথার গোবর শুকিয়ে গিয়ে বুদ্ধিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।”

ইয়াদের কথা শুনে ঊর্মিলা ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে রইলো। সে বুঝতে পারছেনা ইয়াদ উল্টো পাল্টা বলছে নাকি সে উল্টো পাল্টা শুনছে।

“তো এবার বল, ব্যথা পেয়েছিস?”

ঊর্মিলা হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়তে গিয়েও নাবোধক মাথা নাড়লো। ইয়াদ হাসতে হাসতেই নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো। ইয়াদ কিছুদূর যেতেই ঊর্মিলা পেছন থেকে বলল,

“ভাইয়া তুমি রেডি হয়ে আমাকে কল দিও। আবার আমাকে রেখেই চলে যেওনা।”

ইয়াদ একবার পেছনে ঘুরে ঊর্মিলার উদ্দেশ্যে বলল,

“আজকে আমি ভার্সিটিতে যাবোনা। তুই ড্রাইভারের সাথে চলে যা।”

ঊর্মিলাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ইয়াদ ঠাস করে নিজের রুমের দরজা লাগিয়ে দিলো। ঊর্মিলা থতমত খেয়ে গেলো।

“ধ্যাৎ আমি একা ভার্সিটিতে গিয়ে কি করবো? দেখি আমার হাড় মড়মড় সাহেব কি করছেন।”

কথাটা ভেবেই ঊর্মিলা দিহানের নম্বরে কল দিলো। দিহান কলটা রিসিভ করতেই ঊর্মিলা বললো,

“সাহেব আমার আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট দরকার। ফ্রী আছেন?”

দিহান মুচকি হেসে বললো,

“অবশ্যই রাগিনী। আমি আপনার জন্য সবসময় ফ্রী কিন্তু আপনার কি আজকে ভার্সিটি নেই?”

“না, আজকে ভার্সিটি ক্যান্সেল।”

দিহান শাসনের ভঙ্গিতে বলল,

“ঊর্মি ভার্সিটি ফাঁকি দেয়া কিন্তু অনেক বড় ব্যাড হ্যাবিটস।”

“উফস আমার আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রয়োজন আপনি আসবেন কিনা বলুন নইলে আমি অন্য ডাক্তারের কাছে যাবো। আমাদের দেশে ডাক্তারের অকাল পড়েনি হুহ,,,

দিহান একটা শ্বাস ফেলে বলল,

“ব্ল্যাকমেইল করতে হবেনা চলে এসো। আমি তোমার রোগের ট্রিটমেন্ট করে দেবো।”

ঊর্মিলা খুশিমনে কল কেটে দিয়ে রেডি হতে চলে গেলো।

এদিকে অলি হাতমুখ ধুয়ে এসে বোরকা পড়তে লাগলো। আলভী একমনে অলির ফোন চাপছে আর নিজের চুল টানছে। অলি বুঝতে পারলো যে আলভীর মন মেজাজ ঠিক নেই। অলি কিছুক্ষণ আয়নার দিকে তাকিয়ে থেকে ধীরপায়ে আলভীর দিকে এগিয়ে গেলো। আলভী কিছু বুঝে ওঠার আগেই অলি আচমকা আলভীর গলা জড়িয়ে ধরে আলভীর উরুর উপর বসে পড়লো। আলভী ভ্রু কুচকে অলির দিকে তাকায়। অলি ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে,

“আলো আপনার কোলে উঠতে চাইলো সেই জন্যই এসেছি। আমি নিজে থেকে আসিনি কিন্তু।”

আলভী অবাক চোখে অলির দিকে তাকায়। অলি বোরকা পড়েছে আর হিজাব টা গলায় প্যাচানো। চুলগুলো উঁচু করে খোপা করা।

“আলো কে?”

অলি আলভীর হাতটা নিজের পেটের উপর রেখে বলল,

“বাবুর নাম আলো রেখেছি।”

আলভী একটা শ্বাস ফেলে অলির দিকে তাকায়। এখন তাকে কিছুটা স্বাভাবিক দেখাচ্ছে। সে হঠাৎই বলে ওঠে,

“আলো তো মেয়েদের নাম। তোমার তো ছেলে হবে।”

কথাটা শোনার জন্য অলি মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা।

“আপনি কি করে জানলেন যে আমার ছেলে হবে?”

“যেদিন তোমার ব্লিডিং হচ্ছিলো সেদিনের রিপোর্ট দেখেই আমি সিওর হয়েছি যে তোমার ছেলে হবে।”

অলির কপাল কুচকে গেলো,

“আপনি আমাকে আগে বলেননি কেনো?”

“বলার মতো পরিস্থিতি ছিলোনা। তাছাড়া ছেলে নাকি মেয়ে সেটা জানাটা তেমন বড় কোনো বিষয় নয়। ছেলে যে সুস্থ আছে সেটাই তোমার সৌভাগ্য।”

অলি নিশ্চুপ হয়ে গেলো। আলভী বলল,

“আলো নামটা ভালো ছিলো। কিন্তু নামে একটা মেয়েলি ব্যাপার আছে।”

“আলো বলে আমি ডাকবো।”

আলভী ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে,

“তাহলে আমি কি বলে ডাকবো?”

অলি নিম্নস্বরে বললো,

“আমি নাম ভেবেই রেখেছিলাম। যেহেতু ও ছেলে। সেহেতু ওর নাম হবে আফরান আরিশ।”

“তুমি তো ভালোই এডভান্স নামও একদম ঠিক করে রেখেছিলে?”

অলি হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়ে। হঠাৎ করে অলি অনুভব করলো আলভী ধীরে ধীরে তাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিচ্ছে। ব্যাপারটা বুঝতে পেরেই অলি উঠে যেতে নেয়। তার আগেই আলভী ভারী কন্ঠে বলে ওঠে,

“আমার কোলে বসার জন্য ট্যাক্স কি তোমার ছেলে দেবে নাকি তুমি দেবে?”

চলবে,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন