ফন্ট সাইজ:
থিম:
হিমরূপার উষ্ণছোঁয়া

১১তম পর্ব

লেখক: অনামিকা তাহসিন রোজা

#হিমরূপার_উষ্ণছোঁয়া

#পর্ব_১১

#কলমে_অনামিকা_তাহসিন_রোজা

হাসপাতালের উজ্জ্বল সাদা আলো যেন মুহূর্তেই চেপে ধরল নিশানকে। দুহাতে শক্ত করে ধরে রাখা শৈলীর নিথর দেহটা নিয়ে যখন ও হাসপাতালের ভেতরে ঢুকল, তখন চারপাশে ছুটোছুটি, নার্সদের তড়িঘড়ি পদক্ষেপ, রিমির অস্ফুট কান্না আর আকাশের অস্থির হাঁটার শব্দ,সব একসাথে যেন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলছিল নিশানের মাথায়।

—"দাঁড়ান! রোগী কোথায়?"

একটা ডাক্তার দ্রুত এগিয়ে এলো। চোখে জরুরি কিছু চেনার তাড়াহুড়া। নিশান কিছু না বলেই নিজের বাহু থেকে শৈলীকে নামিয়ে স্ট্রেচারে শুইয়ে দিল। রক্তে ভেজা তার হাত,আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছিল মেয়েটার কাঁধ। ডাক্তার কিছুক্ষণ নিথর দেহটা দেখে বলল,

—"She is bleeding out badly. Get her to the OT. NOW!"

একজন নার্স বলতে না বলতেই দু’জন স্টাফ এসে স্ট্রেচার ঠেলে নিয়ে চলল অপারেশন থিয়েটারের দিকে।

—"আই ওয়ান্ট প্রেশার চেকড, ফাস্ট! ব্লাড গ্রুপ ডিটেইলস, ফাইল ওপেন করো এখনই!"

নিশান এক পা এগিয়ে আবার থেমে গেল। তীব্র ভয় যেন জমাট বাঁধতে লাগল তার বুকের ভিতরে। চারপাশে শব্দের ঝড় চলছে, কিন্তু তার কানে যেন কিচ্ছু ঢুকছে না। শুধু শৈলীর সেই মুখটা... নিঃশব্দে চোখ বুজে থাকা মুখটা ভেসে আছে চোখের সামনে। নিশান মুহুর্তেই পাগল হলো। ওকে ওটি তে নেবে মানে? কেনো নেবে? নিশান দৌঁড়ে চেপে ধরল শৈলীকে। নার্সরাও চুপ করে দাঁড়ালো। কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই নির্লিপ্ত কঠোর মানুষটা এবার অঝোরে কাঁদতে শুরু করল। শৈলীর বাহু ঝাঁকিয়ে পাগলের মত বলতে থাকলো,

—' এই মেয়ে চোখ খোল! কেনো জ্বালাচ্ছিস তুই আমায়? ঢঙ করার জায়গা পাস না? এই মেয়ে, বেইমান কোথাকার! বিয়ে করবিনা তুই আমায়? সংসার করবিনা? চোখ খোল, কথা বল! কেনো এমন করছিস তুই হ্যাঁ? পাগল বানিয়ে দিবি তুই আমায়!"

কাঁদতে কাঁদতে হঠাৎই নিশান কিছুক্ষণ থমকে তাকালো, এরপর শৈলীর আদুরে মুখটা হাতের মুঠোয় নিয়ে দৃঢ় স্বরে কান্না চেপে বলতে থাকলো,

—" শৈলী! এই শৈলী! শুনতে পাচ্ছিস তুই। শোন না, ভালোবাসি তোকে৷ আমি তোকে ভালোবাসি শৈলী। শুনতে চেয়েছিলি না? নে, বলেছি আমি। ভালোবাসি তো। এবার চোখ খোল, এবার তাকা। বল সুস্থ হবি। কাল না বিয়ে আমাদের? বিয়ে করবিনা তুই? ভালোবাসি তো! চোখ খোল না এবার। বলেছিতো ভালোবাসি। খুব ভালোবাসি!"

কাঙ্ক্ষিত শব্দটা বলেছে নিশান। স্পষ্ট করে বলেছে যে সে ভালোবাসে। কিন্তু যে শুনতে চেয়েছিল, সে তো আর শুনতে পেলোনা। নিশানের কণ্ঠ কাঁপছে, শ্বাস নিচ্ছে ভেঙে ভেঙে,প্রতিটা শব্দ যেন হসপিটালের গ্লাস দরজার ভেতর পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। নার্সদের চোখ ছলছল করছে। ডাক্তার চোখের চশমা খুলে একবার মুখ ঘুরিয়ে নিল। রিমি মুখে হাত চাপা দিয়ে হু হু করে কেঁদে উঠল। আকাশ তো আর তাকিয়ে থাকতে পারল না, চোখ নামিয়ে ফেলল মেঝের দিকে।

নিশান শৈলীর নিথর মুখে মুখ গুঁজে বলল,

—"তুই চলে যাস না, প্লিজ। যাস না। বড্ড দরকার তোকে। তোর সাথে সংসার করা বাকি তো। আমাকে তুই ছাড়া কেউ বোঝেনা তুই তো জানিসই বল । এই শোন, তোকে ছাড়তে ইচ্ছে করছেনা। তুই ফিরে আসবি কথা দে। সুস্থ হবি তুই বল।"

এতক্ষণ ধরে এই আবেগময় মুহুর্তে স্তব্ধ থাকা ডক্টর হুঁশ ফিরে পেয়ে বলল,

—"স্টার্ট দ্যা প্রসিডিওর। টাইম ইজ ক্রিটিকাল!"

এগিয়ে এসে নিশানকে ধরে বললেন,

—" স্যার, শান্ত হোন। থিয়েটারে নিতে হবে। দয়া করে একটু সরে দাঁড়ান। চিন্তা করবেন না!"

নিশান পিছিয়ে গেল ঠিকই, কিন্তু পায়ের নিচে শক্তি নেই। সে শুধু চেয়ে থাকল, স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া শৈলীকে দেখতে দেখতে। আবার একবার, আরেকবার...

—"ভয়াবহ অবস্থা... মেজর ইন্টারনাল ব্লিডিং মনে হচ্ছে।"

ডাক্তারের সেই ফিসফিসানিও কানে আসল এবার। তারপর দরজা বন্ধ। সাদা আলোয় ঢেকে গেল শৈলী। নিশান টলতে টলতে দেয়ালে পিঠ ঠেকাল। গলায় কোনো আওয়াজ নেই। মনে হলো, কেউ যেন বুক থেকে হঠাৎ শ্বাস টেনে নিয়ে গেছে।"শৈলী..."নামটা ফিসফিস করে ঠোঁটের ভাঁজে থেমে গেল। শুধু হৃদয়ের মধ্যে একটাই কথা বেজে চলল,এই মুহূর্তে, একটাও হারানোর সুযোগ নেই।

°°°°°°°°°°°

অপারেশন থিয়েটারের লাল আলোটা একটানা জ্বলছে। দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নিশান ধীরে ধীরে ঝুঁকে পড়ল। শরীরের সমস্ত ভার যেন হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ল একপাশে। বুক থেকে উঠে এলো এক দমবন্ধ করা দীর্ঘ নিঃশ্বাস। হঠাৎ করেই একটা গলা ফাটানো কান্না ছুটে এলো গলা ভেদ করে। হুহু করে কেঁদে উঠলো নিশান। নিজের দুই হাত দিয়ে চেপে ধরল চুল। যেন মাথার ভেতরে বিস্ফোরণ হচ্ছে, কেন যে ও শোনেনি ওর কথা! কেন যে রেগে গিয়েছিল! কেন,কেন এত দেরি করল বুঝতে?

—"আমার দোষ… সব আমার দোষ!"

গুঞ্জন তুলল নিশান। চোখে আর কিছু দেখা যাচ্ছে না,সব আবছা। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা রিমি আর আকাশ হতভম্ব। রিমির ঠোঁট কাঁপছে, আর আকাশ এক পা এগিয়ে এসেও থেমে গেল। কারণ এই নিশান, এমন ভেঙে পড়া কেউ কোনোদিন দেখেনি।

পুরুষরা নাকি কাঁদতে পারে না। এটা একদমই মিথ্যে কথা! এইযে নিশান কাঁদছে। নিজের প্রেয়সীকে হারানোর আশঙ্কায় যন্ত্রনা নিয়ে তীব্র কষ্টে হাউমাউ করে কাঁদছে। নিশান বসে পড়ল মেঝেতে। দেয়ালের সঙ্গে পিঠ ঠেকিয়ে মাথা নামিয়ে রেখেছে হাঁটুর ওপর। দুই হাত চুলে গেঁথে আছে, আর কান্না, একটা পুরুষ মানুষের সবটুকু লুকানো ভাঙচুরের মত কান্না, ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে হাসপাতালে নিঃশব্দে।

কোথাও থেকে ধীরে ধীরে বাজতে থাকা আজানের শব্দটাও যেন থেমে থেমে যাচ্ছে ওর কান্নার ভেতরে। তখনই এগিয়ে এলো আকাশ। পা গুলো ভারী হয়ে গেছে তার। নিশানের এই ভাঙা রূপ আগে কখনো দেখেনি সে। নিঃশব্দে পাশে বসে পড়ে ওর পিঠে হাত রাখতেই নিশান আরো জোরে কেঁদে উঠল। আকাশের ঠোঁট কাঁপল। নিজের চোখের পানি লুকোতে চাইলেও পারল না। সাথে সাথে রিমি এগিয়ে এলো। মুখ ঢেকে কান্না করছে সে। পাশে বসে পড়তেই ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল,

—" ও নিশান ভাই, শৈলীর কিছু হবেনা তো?"

তৎক্ষনাৎ হুংকার দিয়ে উঠলো নিশান,

—" কী হবে ওর? কী হবে? কিচ্ছু হবেনা। কিছু হতেই পারেনা। ও কি যা তা পেয়েছে আমাকে। সংসার করার সপ্ন দেখিয়ে পালিয়ে যাবে.? এত সহজ? নিশান তালুকদারের বাহুডোর থেকে মুক্তি পাওয়া এত সহজ না! কিছু হবেনা ওর!"

তুলি, ইমা, রোহান, এসে বসে পড়ল নিঃশব্দে। একটা অদ্ভুত, ভারী বিষণ্নতা ছড়িয়ে পড়ল সবার মাঝে। কেউ কিছু বলছে না। কেউ কিছু জানে না।শুধু একটা ভয়, একটা কান্না, আর একটা প্রার্থনা,

"ও যেন বাঁচে।"

নিশানের মুখে একটাও শব্দ নেই, তবে চোখের জল, নিঃশ্বাসের কম্পন, আর বুকের দপদপে ভেতরে সব বলে দিচ্ছে,৷ এই মানুষটা আজ... ভেঙে গেছে। নিশান আবারো বেসামাল হয়ে পড়লো। ঠোঁট চেপে নিজেকে যথাসম্ভব সামলিয়ে আকাশকে উদ্দেশ্য করে বলল,

—" আকাশ, ওকে বল আমি ওকে ভালোবাসি। ওকে বল নিশান তালুকদার ওকে নিজের প্রাণের থেকেও বেশি ভালোবাসে। ওকে চোখ খুলে তাকাতে বল। ও কিন্তু আমার কথা শুনছে না আকাশ। অবাধ্য হচ্ছে ও। আমি কিন্তু কঠিন শাস্তি দেব ওকে!"

বলতে বলতেই আবারো ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো নিশান, তর্জনী তাক করলো ওটির দিকে, ঝাপসা চোখে তাকিয়ে বলল,

—" ও আমার সাথে বেইমানি করছে আকাশ। কিছু বল ওকে। আমি পাগল হয়ে যাব। আমি বাঁচতে পারবনা আকাশ। তুই বিশ্বাস কর, শেষ হয়ে যাব আমি। ওকে বল সুস্থ হতে, সুস্থ হয়ে আমার কাছে আসতে বল। ওকে বল আকাশ, ওর রক্ত দেখলে আমার হৃদয় ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বুক ফেটে যায়। ওকে বল তোরা, বল ওকে। আমায় এভাবে খু"ন করতে নিষেধ কর!"

রিমি তখন হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। তুলি, ইমা, রোহান—কারো আর চোখের জল ধরে না। সবাই নিশ্চুপ। কেউই আর এই ভালোবাসার কাছে যুক্তি খুঁজে পায় না। নিশানের কথা গুলো শুধু মানুষের ভাষা ছিল না আজ, সেগুলো ছিল এক পাগলের ছুটে আসা হৃদয়ের আর্তনাদ,যে শুধু একজন মানুষকে ফিরিয়ে পেতে চায়। হাসপাতালের সেই নিস্তব্ধ রাত আরও নিস্তব্ধ হয়ে উঠলো। সবাই চুপ। নিশান টেরও পায় না, কখন ওর চোখের পানি গড়িয়ে গড়িয়ে পড়েছে বুকভরা শার্টের কাপড়ে।

হঠাৎই অপারেশন থিয়েটারের দরজা খুলে একজন ডক্টর বেরিয়ে এলো। সবাই একসাথে ফিরে তাকালো। সাদা অ্যাপ্রন, চোখে চশমা, কাঁধে স্টেথো ঝুলিয়ে একজন নারী ডাক্তার। মুখ গম্ভীর। চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ। হাতে ফাইল।নিশান মুহূর্তেই দাঁড়িয়ে উঠলো। বাকিরাও উঠে দাঁড়ালো চুপচাপ। নিশান এগিয়ে এসে প্রায় কাঁপা কণ্ঠে বলল,

—"ডাক্তার... কী হয়েছে ওর? ঠিক হয়ে যাবে তো?"

ডাক্তার কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইলেন তার দিকে, তারপর নীচু স্বরে বললেন,

—"পেশেন্টের অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল, আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। হেড ইঞ্জুরিটা মেবি খুব ডিপ। বোঝা যাচ্ছেনা। ইনটারনাল ব্লিডিংও আছে। বেশ কিছু ঘন্টা সময় লাগবে পুরো প্রক্রিয়ায়। আমরা অপারেশন শুরু করেছি।"

নিশানের পা কেঁপে উঠলো। ডাক্তার আবার বললেন,

—"ভয় পাচ্ছেন বুঝি। কিন্তু আপনি যদি সত্যিই ওর কাছে গুরুত্বপূর্ণ কেউ হয়ে থাকেন, তাহলে ভেঙে পড়ার সময় এটা নয়। প্রার্থনা করুন, হিউম্যান উইল অনেক বড় জিনিস।"

নিশান নিঃশব্দে মাথা নাড়লো, ঠোঁট কাঁপলো,

—"ও ফিরবেই।"

ডাক্তার চোখে একটুখানি দৃষ্টি স্থির রেখে ঘুরে গেলেন ওটির দিকে। দরজা আবারও লাল আলোতে ঢেকে গেল। নিশান পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। বাকিরা চুপচাপ। কারো চোখে জল, কারো ঠোঁট থরথর করে কাঁপছে। কিন্তু কারো মুখে শব্দ নেই। সবার মনে এখন একটাই কথা,আজ যদি শৈলী বেঁচে যায়,তাহলে কাল বিয়েটা শুধুই একটি সামাজিক অনুষ্ঠান হবে। আর না বাঁচলে নিশানের পুরো জীবনটাই এক অসমাপ্ত প্রতীক্ষা হয়ে থাকবে।

°°°°°°°°°°°°°°°°°°

শৈলী গুরুতর এক্সিডেন্ট করেছে খবরটা শোনা মাত্রই তালুকদার বাড়ির সব সদস্য রা দ্রুত হাজির হলেন হসপিটালে। রাত পোহালেই বিয়ে হওয়ার কথা, সাজানো বাড়িটা হুট করেই দমে গেল। খাদিজা তালুকদার চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াতেই পারেননি প্রথমে। হাত থেকে পড়ে গেল পানির গ্লাস। রাশিদা তালুকদার অদ্ভুতভাবে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন কিছুক্ষণ, তারপর এক দৌঁড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লেন।

হাসপাতালের করিডোরে থেমে থাকা নিঃশব্দ সময়টাকে আচমকা ছিঁড়ে দিলো একের পর এক হইচই করে ছুটে আসা পায়ের শব্দ। স্ট্রেচারের পাশ দিয়ে যাওয়ার মুহূর্তটুকু এখনো স্থির হয়ে আছে নিশান ও আকাশের চোখে। তারই মাঝে করিডোরের একপাশে হঠাৎ ভেসে উঠলো একজনের কণ্ঠ,

—"শৈলী! শৈলী কই আমার মা?"

খাদিজা তালুকদার! চুলের খোঁপা এলোমেলো হয়ে গেছে, মুখের পানসী রঙটা সবার আগে চোখে পড়ে।

সাথে সাথেই আসেন নাসিরুল তালুকদার, চোখে চশমা, তাড়াহুড়োয় পরা পাঞ্জাবির বোতাম দুটো খোলা। গলায় তীব্র উত্তেজনা।

—"ডাক্তার কোথায়? কারো সাথে কথা বলার লোকও নাই এ হাসপাতালে? এ কী অবস্থা?"

রাশিদা তালুকদার চুপচাপ। কিন্তু সেই নীরবতা যেন আরও বেশি ভারি। মাথা নিচু, ঠোঁট কামড়ে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু চোখের দৃষ্টি স্থির করে রাখা অসম্ভব হয়ে গেছে। মনে মনে কী যেন হিসেব কষছেন।

সেই অস্থিরতার মাঝেই তার চোখে পড়লো নিশান, যে হাসপাতালের দেয়ালে হেলান দিয়ে একদম গলে পড়া অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন। চোখ লাল, চুল এলোমেলো, জামায় রক্তের দাগ। সেই দৃশ্য দেখে রাশিদার চোখে একটুকরো কাঁপন দেখা গেল।

এদিকে মিমি প্রায় হু হু করে কাঁদছে। তার কাঁধে হাত রাখে রিমি, কিন্তু নিজেই দুচোখ মুছছে লুকিয়ে। আবহটা থমথমে, অসহনীয়। করিডোরের বাতাসটা এতক্ষণ গুমরে উঠছিল নিঃশব্দে, এবার যেন ভেঙে পড়ল। নাসিরুল তালুকদার এবার চোখ লাল করে নিশানের দিকে তাকিয়ে বললেন,

—"নিশান, কী হয়েছিল বল তো? আমরা বুঝতে পারছি না কিছুই!"

নিশান কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই। ঠোঁট শুকিয়ে গেছে, গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোয় না। শুধু মৃদু কাঁপছে তার গলা। মাথা নিচু, গলার নিচ দিয়ে পেছনে চেপে ধরা কান্না।সবাই এক জায়গায়, কিন্তু কেউ আর একজোট না। কারো চোখে ক্ষোভ, কারো চোখে উৎকণ্ঠা, কেউ নিঃশব্দ প্রার্থনায়। শুধু একটা নাম, একটা মুখ, একটা দেহ, শৈলী, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের সেই বন্ধ দরজার ওপারে,সবার দম বন্ধ করা অপেক্ষার কেন্দ্রে।

আকাশ হুট করে কিছু একটা ভেবে নিশানের কাছে গিয়ে সতর্কতার সাথে ধীরকন্ঠে বলে উঠলো,

—" এটা কি সত্যিই এক্সিডেন্ট ছিল নিশান?"

নিশান ধপ করে এমনভাবে আকাশের দিকে তাকালো যেন বিষয়টা এতক্ষণ তার মাথাতেই ছিল না। আসলেই এতক্ষণ সে ভাবেনি এ বিষয় নিয়ে। কিছুক্ষণ ভ্রু কুঁচকে চোখ সরু করে তাকিয়ে থাকলো নিশান, এরপর দাঁত খিঁচে ধরে ভাবলো কিছু একটা। আকাশ ওর এমন অভিব্যক্তি দেখে আরেকটু সন্দেহজনক কন্ঠে বলে উঠলো,

—" আমি কি থানায় যাব নিশান?"

নিশান শূন্যে তাকিয়ে দুদিকে মাথা নাড়ল। জড়ানো গলায় কোনোমতে বলল,

—" আগে ওকে সুস্থ হতে দে। পরে দেখছি।"

আকাশ ঠোঁট কাঁমড়ে বোঝার ভঙ্গিতে মাথা নাড়লো। কিন্তু নিশান এবার আসলেই চিন্তায় পড়ে গেলো। তখনকার ঘটনা টা আবারো মস্তিষ্কে আসলো৷ শৈলী ওইসময় দৌঁড়ে তার কাছে এসেছিল। ওর গলা ভেসে উঠছে,— "নিশান ভাই! রাস্তা থেকে সরে যান!" তারপর, গাড়ির গর্জন। চোখে ধরা পড়ে এক ঝলক কালো রঙের গাড়ি, স্পিড ব্রেকারের তোয়াক্কা না করে ছুটে আসছে। আলো এত তীব্র যে মুহূর্তে চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু... কিন্তু কোনো ব্রেক করা হয়নি।

না, ছিল না! কোনো হর্ণও বাজেনি। এই রকম ব্যস্ত রাস্তায় কেউ এত গতি নিয়ে ছুটে আসে না। আরও অবাক করা বিষয় ছিল, গাড়িটা সোজা নিশানের দিকে আসছিল, যেন আগে থেকেই নিশানের অবস্থান জানা ছিল তার! আর ঠিক তখনই শৈলী ছুটে এসে ধাক্কা দিল। ধাক্কা দিলো না হলে নিশান আজ...মানে, সে যেই অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল... এক সেকেন্ড দেরি হলেই... নিশান হঠাৎ বুঝে গেলো, এইটা নিছক অ্যাকসিডেন্ট না, হতে পারে এটা ছিল পরিকল্পিত। আর যদি তাই হয়,তাহলে প্রশ্ন একটাই, কেনো? কে চায় তার মৃত্যু? শৈলী সেই পথে আসবে এটা তো কেউ জানত না। তাহলে টার্গেট সে নিজেই?

নিশান কপালে হাত ঠেকালো। চোখ বন্ধ করে নিজের মনকে বোঝাতে চাইল,

— "না... হয়তো কাকতালীয়... হয়তো এমনিই...!"

কিন্তু তার অন্তরের গহীনে একটা কণ্ঠ জোর দিয়ে বলছে,

"এটা নিছক দুর্ঘটনা ছিল না, নিশান তালুকদার! টার্গেট ছিলি তুই! কিন্তু ভুলে আঘাত পেয়েছে তোর শৈলী।"

°°°°°°°°°°°°°°°°°

রাত কেবলই গড়াচ্ছে। হাসপাতালের করিডোরটা কেমন নিঃশব্দ, অথচ বোবা কান্না আর উৎকণ্ঠায় জমে থাকা নিঃশ্বাসগুলো চারপাশের বাতাস ভারি করে রেখেছে। নাসিরুল তালুকদার এক কোণে দাঁড়িয়ে, কপালে হাত ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে কিছু একটা প্রার্থনা করছেন নীরবে। খাদিজা তালুকদারের চোখে জল, বারবার আঁচলে চোখ মুছছেন, মুখে কথা নেই, শুধু ঠোঁট নড়ে চলছে, কেউ হয়তো বুঝতে পারবে, কেউ না। মিমি একপাশে বসে কাঁপা গলায় তাসবিহ পড়ছে। প্রতিটি গুটি ছোঁয়ার সময় কাঁপছে তার হাত। রাশিদা তালুকদার ঘরের দরজার দিকে পাথরের মত দাঁড়িয়ে। মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই, চোখ দুটো স্থির, ঠান্ডা, কিন্তু চোখের কোণার সেই একটা ফোঁটা জল ঠিকই সব বলে দিচ্ছে।

নিশান পিঠ ঠেকিয়ে বসে আছে করিডরের এক প্রান্তে, দেয়ালের গায়ে। চোখে নিস্তেজতা, মুখে যন্ত্রণার ছায়া, ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। হাত দুটো শক্ত করে মুঠো করা, যেন নিজের অসহায়তাকে চেপে ধরে রাখার শেষ চেষ্টায় লেগে আছে সে। আকাশ চুপচাপ এসে বসেছে নিশানের পাশে। ওর চেহারায় হতাশা, চোখে অশ্রু, কিন্তু মুখে সাহসী একটা মুখোশ চাপানো। সে পাশে বসে শুধু নিশানের কাঁধে হাত রেখেছে।

সবাই নিঃশব্দ। সময় থমকে গেছে। সবার চোখই বারবার অপারেশন থিয়েটারের লাল আলোয় গিয়ে স্থির হচ্ছে, আর নিঃশ্বাস আটকে থাকছে। আর কতক্ষণ? আর কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে? গত তিন ঘন্টা ধরে থিয়েটারে কী হচ্ছে? উৎকন্ঠায় ঢোক গিলল নিশান। ঠিক তখনই,থিয়েটারের দরজা খোলে। সাদা অ্যাপ্রন পরা ডাক্তার এগিয়ে আসেন ধীর পায়ে। মুখে নিঃশ্বাসের মাস্ক নামিয়ে, কপালে হাত বুলিয়ে নিয়ে একটু ক্লান্ত গলায় বলেন,

—" ভয় পাবেন না। এভরিথিং ইজ অলরাইট নাউ। মেয়েটা একটুর জন্য বেঁচে গেছে। খুব সংকটজনক ছিল অবস্থা, কিন্তু এখন স্থিতিশীল। ইনশাআল্লাহ, শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠবে।"

এক মুহূর্তের জন্য যেন করিডোরে থাকা সব নিঃশ্বাস ফিরে এলো। সবার মুখে একসাথে উঠে এলো,"আলহামদুলিল্লাহ!" খাদিজা তালুকদার চোখ বন্ধ করে মাথা নিচু করে কেঁদে উঠলেন। আকাশ নিশানের হাত চেপে ধরল,

—"তুই শুনলি? ঠিক আছে শৈলী ! আর ও পুরোপুরি ঠিক হয়ে যাবে ভাই!কিছু হবে না ওর! এখন আর টেনশন নেই!"

নিশান কোনো কথা বলল না। শুধু দুই চোখে একটু হতাশা। ঠোঁট কেঁপে কেঁপে উঠলো। তারপর নিঃশব্দে মাথা নিচু করে শুধু ফিসফিস করে বলল,

—" ওর সাথে দেখা করতে পারি?"

ডাক্তারের মুখে ক্লান্তির ছাপ, তবু কণ্ঠে একধরনের শান্ত ধৈর্য। নিশানের নিচু, কাঁপা গলার প্রশ্নটা শুনে একটু থেমে, নরম স্বরে বললেন,

—"এখন না। উনাকে আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি। শরীর অনেকটা রক্ত হারিয়েছে, জ্ঞান ফেরার আগে পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিশ্রাম দরকার।"

নিশান এক নিঃশ্বাসে চুপ করে থাকল। ডাক্তারের চোখে চোখ রেখে কোনো আশ্বাস খুঁজছিল। তখনই ডাক্তার একটু এগিয়ে এসে বললেন,

—"রাত বারোটার পর জ্ঞান ফিরবে বলে আমরা আশা করছি। তখন আপনি চাইলে দেখা করতে পারবেন। আমরা আপনাদের জানিয়ে দেব। আর আপনারা এতজন আর এখানে থাকবেন না। সব ঠিক আছে এখন। দু একজন পেশেন্টের কাছে থেকে নিশ্চিন্তে বাড়ি যেতে পারেন! "

নিশান নিঃশব্দে মাথা নোয়াল। শব্দ না করেই শুধু ঠোঁট দুটো কাঁপল একবার, বলল, ঠিক আছে। তারপর আবার চোখ তুলে অপারেশন থিয়েটারের দরজার দিকে তাকাল। সেই দরজা, যেটার ওধারে শৈলী, এখনো নিঃসাড়। নিশানের চোখে তখনও কষ্ট, কিন্তু সেই কষ্টের গভীরে একটা অপেক্ষার আলো, বারোটা বাজুক। চোখ খুলুক ও। একটা বার তাকাক। শুধু একটা বার...

°°°°°°°°°°°

শৈলী বিপদসীমার বাইরে। তাকে কেবিনে শিফট করা হয়েছে। আর তাই আকাশ সবাইকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে জোর করেই বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। হসপিটালে শুধু নিশান আর আকাশই রয়ে গেছে। হাসপাতালের করিডোরটা এখন অনেকটা ফাঁকা। সবাইকে অনেক অনুনয়,বিনয়ের পর আকাশ জোর করেই পাঠিয়েছে বাড়িতে। রাত পেরিয়ে মাঝরাতের প্রায় কাছাকাছি, তবু নিশানের চোখে ঘুম নেই, ক্লান্তিরও চিহ্ন নেই,কেবল একটানা চেয়ে থাকা।

আকাশ একপাশে ছোট্ট একটা ট্রেতে ক্যান্টিন থেকে আনা ভাত, ডাল, আর সেদ্ধ মুরগির একটা টুকরো নিয়ে আসছে। পেছনের পায়ের আওয়াজে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো করিডরে। এসে থমকে গেল।

নিশান দাঁড়িয়ে আছে কেবিনের জানালার সামনে। দরজার কাঁচের ওপাশে দেখা যাচ্ছে শৈলী নিথর পড়ে আছে, মুখে অক্সিজেন মাস্ক, কপালে ব্যান্ডেজের রক্তের দাগ। সেই শান্ত নিস্তব্ধতা যেন নিশানের বুকের মধ্যে সাঁঝের মত জমে আছে। চোখদুটো কাঁচের মতো, কিন্তু ভিতরে ঝড়। আকাশ কয়েক মুহূর্ত চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল, তারপর এগিয়ে এসে আস্তে করে বলল,

—"ভাই, কিছু খা, তুই বিকাল থেকেই কিছু খাসনি। একটু খা না ভাই, প্লিজ।"

নিশান কোনো সাড়া দিল না। শুধু নিঃশব্দে চোখ রাখল শৈলীর দিকে। আকাশ ট্রেটা টেবিলে রেখে একটা নিঃশ্বাস ফেলে পেছনে গিয়ে দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়াল। আর সন্দিহান কন্ঠে বলে উঠলো,

—" এক্সিডেন্ট টা তোর হওয়ার কথা ছিল নিশান। তুই একটু ভেবে দেখ। কিছু কর ভাই। হুট করে কই থেকে এই শত্রুর উদ্ভব হইলো, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছিনা!"

নিশান মনে হয় শুনলো না আকাশের কথাটা। বরং নির্লিপ্ত চোখে কাঁচের জানালা ভেদ করে শৈলী তে চোখ রেখেই গম্ভীর কন্ঠে বলল,

—" বারোটা বাজেনি আকাশ?"

আকাশ দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কাঁমড়ে ধরল, আমতা আমতা করে বলল,

—" বারোটা বিশ বাজে। "

একটু থেমে নিশানের দিকে তাকিয়ে বলল,

—" চিন্তা করিস না, এখনই জ্ঞান ফিরে আসবে!"

নিশানের হঠাৎ কি হলো কে জানে। কিছুক্ষণ ঠোঁট কাঁমড়ে দাঁড়িয়ে হুট করেই দ্রুত কেবিনে ঢুকে পড়ল। আকাশও এগিয়ে দরজার কাছে দাঁড়ালো। কেবিনের ভেতরে একজন নার্স ছিল। নার্সটা এক মুহূর্তের জন্য চমকে তাকাল ঢুকে পড়া নিশানের দিকে। ভেতরে ঢোকার অনুমতি ছিল না,এখনো রোগীর পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি। নার্স কাঁধে ঝোলানো ফাইলটা টেনে নিয়ে কড়া স্বরে বলল,

—"এক্সকিউজ মি! আপনি কেবিনে ঢুকতে পারবেন না এখন। রোগীর জ্ঞান ফেরেনি...!"

কিন্তু তখনো নিশান নির্বাক। চোখের দৃষ্টিটা যেন চিৎকার করে বলছে, " বাঁধা দিয়ো না আমাকে।" মুখে কোনো শব্দ নেই, ঠোঁটও একটুও নড়ে না, কিন্তু চোখের ভেতর কেবল একটা কথা,আমি আর এক মুহূর্তও ওকে না দেখে থাকতে পারছি না। নার্স এক মুহূর্ত নিশানের লাল চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। সেই দৃষ্টিতে এতটা কাতরতা, এতটা শোক আর অসহায়তা লেগে আছে, যেটা পেশাদার শীতল মনও গলিয়ে দিতে বাধ্য। কাগজের ফাইলটা বুকের কাছে এনে ক্লান্ত স্বরে নার্স বলল,

—"পেশেন্ট কে উত্তেজিত করবেন না। একটু বিশ্রাম প্রয়োজন। নিজে থেকে চোখ খুললে কথা বলবেন!"

নিশান মাথা নাড়ল ধীরেই। একটাও শব্দ বের হলো না মুখ দিয়ে, শুধু একটুকরো দৃষ্টি, যেন সেই চোখেই কৃতজ্ঞতা ঝরলো। নার্স একবার শৈলীর দিকে, একবার নিশানের দিকে তাকিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। দরজাটা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেল নিশানের পেছনে। আকাশ বাইরে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইল। ভিতরটা যেন হঠাৎ নিঃশব্দে হালকা হয়ে গেল,নিশান এখন ওর প্রাণটাকে দেখতে পারবে কাছ থেকে। শৈলীকে। তার নিথর নিঃশ্বাসে আজ জীবন আটকে আছে।

°°°°°°°°°°°°°

নিশান ধীরে ধীরে শৈলীর পাশে টেনে নিল ছোট টুলটা। একবারও শব্দ না করে বসে পড়ল ঠিক মাথার কাছে। চোখে আজ কোনো আগ্রাসী গর্জন নেই, কোনো রাগ নেই, আছে কেবল নিঃশেষ হওয়া এক ভালোবাসার চাপা কষ্ট। নিস্তব্ধতায় ডুবে যাওয়া সেই কেবিনের আলোয় তার মুখটা এতটাই মলিন লাগছিল যেন শত শত দিনের ক্লান্তি এসে জমেছে চোখের নিচে।

শৈলীর মুখের দিকে তাকালো নিশান। সাদা চাদরের নিচে কেবল মুখটাই দেখা যাচ্ছে, কপালে স্যালাইনের ব্যান্ডেজ, ঠোঁট ফ্যাকাশে, নিঃশ্বাসগুলো একটানা চলছে হয়তো কেবল মেশিনের সহায়তায়। সেই মুখে কোনো কথা নেই, কোনো হাসি নেই, নিশানের প্রিয় সেই বাঁকা ভ্রু কুঁচকে আছে ঘুমের ভারে।

নিশান ঝুঁকে গিয়ে তার খুব কাছে মুখ নিয়ে এলো, চোখ তুলে তাকালো অচেতন শৈলীর চোখের পাতার দিকে। গলা ভিজে উঠল, কিন্তু নিজের কণ্ঠস্বর এতই ভেতরে আটকে গেল যে শব্দ বের হলো না। কাঁপা হাত তুলে শৈলীর মাথায় রাখলো নিশান। যত্নে বুলিয়ে দিতে দিতে একটু পর ফিসফিস করে বলল,

—"জানিস, আমি আজ প্রথমবারের মত ভয় পেয়েছি। খুব ভয়। তোকে হারানোর ভয়। আমার মতো গম্ভীর, রুক্ষ একটা মানুষও যে এভাবে ভেঙে পড়তে পারে, সেটা আজ বুঝলাম। তুই শ্বাস নিচ্ছিস দেখে এখনো বেঁচে আছি আমি।"

চোখ ঝাঁপসা হয়ে এলো নিশানের। একটু থেমে আবার বলল,

—" তাড়াতাড়ি চোখ খোল শৈলী। কথা বল। কিছু একটা বল... না হয় শুধু তাকিয়ে থাক। আমি চুপচাপ দেখব তোকে। রাগ করিস না, প্লিজ। শাস্তি দিস, কিন্তু ফিরে আয়..."

শৈলীর এলোমেলো চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতেই কাতর স্বরে আরো অনেক কথা বলতে থাকলো নিশান। এটা কে কি বিরক্ত করা বলা যায়? উহু, মোটেই না! নিশান তো আদুরে কন্ঠেই তার প্রিয়তমার অস্থায়ী এই যন্ত্রণাময় নিদ্রা ভাঙানোর চেষ্টা করছে। আকাশ দরজায় দাঁড়িয়ে নিশানের এমন পাগলামি দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মুচকি হাসলো। কিন্তু বিষাদে ভরে উঠলো মনটা। ওদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল যে! এখন কি বিয়েটা সম্পন্ন হবেনা? যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিয়েটা হলেই ভালো।

চলবে................

⚠️ নোট— ঘুমের ঘোরে লিখেছি। অনেক ভুল থাকতে পারে। কষ্ট করে মানিয়ে নেবেন🤌🥹 আর #কিসকার্স গল্পটা আপাতত দিচ্ছিনা। লিখতে মন চায়না। রাইটিং ব্লকে পড়েছি। তবে একটা নতুন গল্প শুরু করতে পারি🙂🤌 হে হে, মজা করলাম!

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন