ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর ছোঁয়ায় ফাগুন

১ম পর্ব

লেখক: অনামিকা তাহসিন রোজা

"আমি জানি মা, তোমার সাথে খুব ভুল করেছি। কি করবো বলো? আমার ছেলেটাই যে আমার সব। নিজের ছেলের খুশির জন্যই ........"

আর কিছু বলতে পারলেন না রাবেয়া বেগম।

কাঁদতে কাঁদতে ছেলের বাসর ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।

এতক্ষণ যিনি কথা বলছিলেন তিনি আমার সদ্য শাশুড়ি। আমার নাম আদ্রিকা খান।বাবা বিজনেসম্যান এবং মা গৃহিনী।পরিবারের কখনোই কোনো কিছুর অভাব হয়নি আমার।বলতে গেলে দুধে ভাতে মানুষ হয়েছি আমি। বাবা খুব ভালোবাসে আমাকে। আমার বাবা আজহারুল খান খুব আদরেই আমাকে রাখেন। কিন্তু হঠাৎ এক ঝড়ের সম্মুখীন হল আমার এই চলমান জীবন । আমার বাবার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন ,নাম আজিম চৌধূরী। তিনি প্রায় আমাদের বাড়িতে আসতেন । বাবা তার সাথে অনেক সময় কাটাতো । বাবার খুব ছোটবেলার বন্ধু হওয়ায় আমিও ছোটো থেকেই খুব ভালো করে তাকে এবং তার পরিবারকে চিনতাম।

একদিন মা এসে আমাকে একটা লাল রঙের শাড়ি দিয়ে রেডি হতে বলল।

আমি জিজ্ঞেস করলাম,

"মা,হঠাৎ শাড়ি পড়ে রেডি হতে বলতেছে যে। কোথায় যাবা?"

"কোথাও না। তোকে আজকে আজিম ভাইয়ের বাড়ির লোকেরা দেখতে আসবে।"

আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।

"মা, তুমি এসব কি বলছ? দেখতে আসবে মানে? এর মানে টা কী?"

"দেখ তুই তো জানিস ,তোর বাবার কথার উপর আমি কখনোই কথা বলতে পারি না ।"

আমার মাথায় কিছু ঢুকচ্ছিল না। তবে বাবার কথা রাখতে আমি লাল শাড়িটা পড়ে নিলাম। মুখে খুবই হালকা সাজ দিলাম, হালকা লাল লিপস্টিক, কানে ঝুমকা আর চুল একপাশে দিলাম।

মা এসে আমাকে নিয়ে গেল ড্রয়িং রুমে। এসে দেখি আজিম আঙ্কেল এবং তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম এসেছেন । আমি চা এর ট্রে নিয়ে সবার হাতে হাতে চা দিলাম। আন্টি অর্থাৎ রাবিয়া বেগম আমাকে নিজের কাছে বসালো।

"বাহ, খুব মিষ্টি লাগচ্ছে তোমাকে।"

আমি মাথা নিচু করে রইলাম।

আজিম আংকেল বলল,

" দোস্ত থুক্কু বেয়াই মশাই আপনার সাথে তো আগেই কথা হয়ে গেছে। আমরা আর সময় নষ্ট করতে চাই না।আগামী সপ্তাহে একটা দিন ঠিক করে ফেলুন।"

" হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক বলেছেন।"

রাবেয়া বেগম তার ব্যাগ থেকে একটা ছবি বের করে আমার হাতে দিয়ে বলল,

" আসলে আমার ছেলে কাজের ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেনি। তুমি তো তাকে সেই ছোট্ট বেলায় দেখেছো। তারপর তো ও বিদেশে চলে গেল।তাই ছবিটা নিয়ে এলাম। দেখো।"

ছবির মানুষটাকে আমি এক পলক দেখলাম।গায়ের রং খুব একটা ফর্সা না,তামাটে রং খানিকটা। তবে চোখ গুলো খুব সুন্দর। ছেলেদের চোখও এতো সুন্দর হয় নাকি। অবশ্য চেহারা মনে না থাকলেও আমার এটা মনে আছে যে উনার চোখ অনেক সুন্দর ছিলো।আমি ছবি টা এগিয়ে দিলাম আন্টির কাছে।কিন্তু আন্টি আমার কাছে এগিয়ে দিয়ে বলল ,

"আরে রাখো রাখো। এটা তো এখন তোমার কাছেই রাখতে হবে।"

এটা বলেই তিনি আর বাকি সবাই হেসে উঠলো।আমি চুপ করে রইলাম।এরপর সবাই আরো কিছুক্ষণ কথা বলল। এক পর্যায়ে আজিম আঙ্কেল আমাকে বলল,

"আদ্রিকা মা, যদিও তোমার জন্মের সময়েই আমি তোমার বাবার সাথে তোমাকে আমার ছেলের বউ হিসেবে বানানোর পরিকল্পনা করে ফেলেছি। তাও জিজ্ঞেস করি ,তোমার কি কোনো আপত্তি আছে এই বিয়েতে?"

আমি বাবার দিকে তাকালাম। বাবা আমাকে চোখ দিয়ে সায় দিলো। এরপর আমি মাথা নিচু করে মিন মিন করে বললাম,

"বাবার আপত্তি না থাকলে আমারো....."

আজিম আঙ্কেল সাথে সাথে বলে উঠলেন,

" আলহামদুলিল্লাহ! "

তারপর তারা আরো কিছুক্ষণ গল্প করল।

আমার শাশুড়ি চলে যাওয়ার আগে লুকিয়ে আমার হাতে একটা ছোট্ট চিঠি দিয়ে গেল। আর সবার আড়ালে ফিসফিস করে বলল ,

"এই চিঠিটা পড়ার পরেও যদি তুমি বিয়েতে রাজি থাকো, তাহলে সুসম্মানে তোমাকে চৌধূরী বাড়ির বউ বানিয়ে নিয়ে যাবো।"

বলেই আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে চলে গেল। চিঠিতে কী ছিলো সেটা না হয় পরেই বলি।

বর্তমান,,,,

আমি লাল শাড়ি পড়ে ঘোমটা দিয়ে বসে আছি। আমার শাশুড়ি চলে যাওয়ার পর আমি ভাবতে লাগলাম যে, যার সাথে বিয়ে হলো তার নামটাও জানলাম না, কীভাবে সবকিছু সামলাবো আল্লাহ্ ভালো জানে। এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ দরজা খোলার আওয়াজ পেলাম।বুঝলাম যে, উনি এসেছেন। তাই আরেকটু ঘোমটা টেনে নড়েচড়ে বসলাম। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ উনি এসে আমার হাতটা চেপে ধরল, আমি চমকে গেলাম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি আমার হাত ধরে টান দিয়ে বিছানা থেকে ছুড়ে মেঝেতে ফেলে দিল। আমি মেঝেতে পড়ে গেলাম, আর ঘোমটা টাও সরে গেল। চোখ মেলে দেখলাম, লাল পাঞ্জাবি পরিহিত মানুষটির অপরূপ সুন্দর চোখ জোড়া যেন এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর লাল হয়ে আছে। তাকে অনেক সুন্দর মানিয়েছে লাল পাঞ্জাবীদের। কিন্তু তখন আমার সেদিকে চোখ যাচ্ছিল না। চোখ যাচ্ছিল তার সেই ভয়ংকর চোখ দুটোর দিকে।

তিনি জোরে চিৎকার দিয়ে বললো,

" Hey, you ! তুমি কি একটা গাধা?নাকি ছাগল? যাকে বিয়ে করতে যাচ্ছ, তার এই বিয়েতে মত আছে কিনা, তা জানার প্রয়োজনবোধ করোনি? এটুকু কমনসেন্স নেই তোমার মাথায়?"

আমি কিছু না বলে আস্তে করে উঠে দাঁড়ালাম আর মাথা নিচু করে রাখলাম।

পাঠকগণ এখন অবাক হচ্ছেন এটা ভেবে যে, কেন আমি উনার আচরণে চমকে গেলাম না? বা অবাক হলাম না?আসলে আমি জানতাম এমন কিছু হবে। কীভাবে জানতাম?এখানে কাহিনী আছে। এটা না হয় পরেই বলছি।

আমি তাও ওনাকে দেখে একটু ভয় পেয়ে গেলাম এবং নিঃশব্দে কাঁদতে লাগলাম।

উনি দাঁত চিপে বললেন,

"ন্যাকা কান্না করবে না। I just hate it."

তারপর চোখ বন্ধ করে একটু সময় নিয়ে তিনি আবার বললেন,

"And listen, আমি কখনোই তোমাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিব না। আমি বরাবরই ফারজানাকে ভালোবেসে এসেছি। ওকে অনেক ভালোবাসি। মা আর বাবা যদি আমাকে জোর না করতো, তাহলে আমি কখনোই এই বিয়েতে রাজি হতাম না। সর্বোপরি আমি বাধ্য হয়ে, পরিবারের চাপে পরে এই বিয়েটা করেছি। তাই আমার স্ত্রীর অধিকার পাওয়ার আশায় কখনোই থেকো না। আর চিন্তার কোনো বিষয় নেই, আমি তোমার ওপর কোনো স্বামীর অধিকার খাটাবো না।বোঝা গেছে?"

আমি শুধু চুপচাপ দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে তার কথাগুলো শুনতে থাকলাম।

এরপরে তিনি আর একটু হাঁটাহাটি করলেন বলতে গেলে রীতিমতো পায়চারি করলেন, যেন নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করচ্ছেন আর আমি সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। কিছুক্ষণ পর গোলাপ ফুল দিয়ে সাজানো বিছানাটা তিনি এলোমেলো করে দিলেন। তার রাগ আমার মাথা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম তিনি প্রচন্ড রেগে আছেন। তাও আমার চোখের জল থেমে ছিল না। আমি কাঁদতেই থাকলাম। হঠাৎ তিনি আমার প্রতি বিরক্ত হয়ে আমাকে এক ঠাস করে থাপ্পর দিয়ে বললেন,

" Just stop this nonsense "

আমি আবারো ছলছল দৃষ্টিতে উনার দিকে তাকালাম। তিনি তারপর আমার চোখের পানির কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে হাত ধরে টেনে দরজা দিয়ে বাইরে বের করে দিলেন। এরপরে বিছানা থেকে একটা বালিশ ছুড়ে মারলেন আর বললেন,

" এই বিছানায় তোমার কখনোই জায়গা হবে না। তোমার কোন অধিকার নেই এই বিছানায় আসার বা এই রুমে থাকার। তুমি কখনই আমার স্ত্রীর মর্যাদা পাবে না। আর হ্যাঁ, তোমাকে আমি তিলে তিলে কষ্ট দেবো যাতে তুমি নিজেই আমাকে ছাড়ো। কারণ,তুমি আমার আর ফারজানার ভালোবাসার মাঝখানে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছো। কীভাবে তোমাকে বিদায় করতে হয় সেটা আমার খুব ভালো করেই জানা আছে। So,now get out of my sight. "

আমি কাঁদতেই থাকলাম। তারপর তার দরজাতে ধাক্কা দিতে থাকলাম আর বললাম,

"আপনি এমন করবেন না প্লিজ। আমাকে অন্তত মেঝেতে থাকার জায়গাটা দিন। আমি এখন কোথায় যাব? আপনার মা যদি আমাকে ঘরের বাইরে দেখে তাহলে তিনি আপনাকে ভুল বুঝবে।"

আসলে আমি চাই না যে,তিনি আমার সাথে এমন আচরণ করেছেন সেটা তার মা জানুক। তারপরেও তিনি দরজা খুললেন না। আমি কাঁদতে কাঁদতে সেই বদ্ধ দরজার পেছনেই ঠেসে বসলাম।

এখন বলি সেই অতীতের চিঠির কথা। সেদিন রাবেয়া বেগম অর্থাৎ আমার শাশুড়ি সেই চিঠিটা আমাকে দিয়ে চলে গিয়েছিলেন। আমি ঘরে গিয়ে চিঠিটা খুললাম।খুলে পড়তে শুরু করলাম। চিঠিতে লেখা ছিল,

" মা, একটা সম্পর্ক মিথ্যা দিয়ে শুরু করার কোনো মানে নেই। তাই আমি তোমাকে সব সত্যি কথা বলতে চাই। আমি কখনোই কারো কাছে তেমন কিছু চাই নি। কখনো কারো কাছে আবদার করিনি। আজ এই প্রথমবার তোমার কাছে ভিক্ষা চাচ্ছি মা। তুমি দয়া করে আমার ছেলে টা কে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও।আমি আমার ছেলেকে খুব ভালোবাসি। কিন্তু এক লোভী মেয়ের জন্য আমার ছেলে একদম অন্ধ হয়ে গেছে। আমার ছেলে মিথ্যে ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে গেছে মা। আমার বিশ্বাস,একমাত্র তুমি পারো আমার ছেলেকে ঠিক পথে আনতে।আমি জানি, তুমি পারবে। তোমাকে খুব ছোট থেকে চিনি মা। ছোটো বেলাতেই আমি তোমাকে ছেলের বউ হিসেবে পছন্দ করেছিলাম। তুমি খুবই ভালো একটা মেয়ে। তাই তুমি যখন ছোট ছিলে আমি আর তোমার শ্বশুর তোমার বাবাকে কথা দিয়েছিলাম যে তোমাকে আমাদের বাড়ির বউ করে আনব। মূলত তোমার বাবা আর শশুরের বন্ধুত্ব আত্মীয়তায় রুপান্তর করার জন্য। কিন্তু মা আমি তোমার বাবাকে এখন পর্যন্ত বলিনি যে, আমার ছেলে তোমার সাথে বিয়েতে রাজি নয়।আমার ছেলে অন্য একজনকে ভালোবাসে। মেয়েটার নাম ফারজানা। খুবই লোভী আর চরিত্রহীন।মেয়েটার চরিত্র একদমই ভালো না।আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি,যে ও আমার ছেলেকে ঠকাচ্ছে। এরকম আরো অনেক ছেলের সাথে সে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছে শুধুমাত্র টাকার জন্য। আমি আমার ছেলেকে বিশ্বাস করাতে পারিনি। আমার ছেলেটা অনেক ভালো । যাকে ভালোবাসে ,একদম জীবন দিয়েই ভালোবাসে। তাই সে এসব কোনোভাবেই মানে না।আমি তবুও জোর করে বিয়ে টা দিচ্ছি। তোমাকে সত্যিটাই বললাম কারণ আমার বিশ্বাস তুমি বিষয়টা বুঝবে। আমি চাই তুমি আমার ছেলের বউ হয়ে আসো আর আমার ছেলেকে শুধরে দাও। দয়া করে তোমার বাবাকে এসব কিছু বলো না। সে অনেক কষ্ট পাবে।তুমি যদি চাও, সবকিছু মেনে নিয়ে আমার বাড়ির বউ হয়ে এসো। তোমায় আমি রাণী করে রাখব ইনশাআল্লাহ্।একজন মা হয়ে আমি তোমার কাছে ভিক্ষা চাচ্ছি। আর যদি তুমি না চাও আমি তোমায় জোর করব না।তোমার বিবেকের উপর ছেড়ে দিলাম। ভাগ্যে যা আছে সেটাই হবে। আর নিচে আমার নাম্বার দেওয়া আছে। যদি কিছু বলতে চাও ফোন দিতে পারো।"

0171204****

এটুকুই লেখা ছিল চিঠিতে। আমি যেন একদম পাথর হয়ে গেলাম। মাথায় আমার কিছু ঢুকল না। কি হলো না হল বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু সারমর্ম টা ধরতে পেরেছিলাম। কিছুক্ষণ ভাবার পর সেই নাম্বারে কল দিলাম।

"আসসালামুয়ালাইকুম"

"ওয়ালাইকুম সালাম"

"আন্টি, আমি আদ্রিকা।"

" হ্যাঁ বলো মা। চিঠিটা দেখলে?কি ভাবলে?"

"আন্টি আপনি একজন মা হয়ে আমাকে এত বড় দায়িত্বটা দিলেন।আমার কাছে ভিক্ষা চাইলেন,জিনিসটা আমার কাছে খুব খারাপ লাগছে। তবে আপনি যে আমাকে ঠকাননি, এই বিষয়টার জন্য আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। বিয়ের পরে এসব জানতে পারলে হয়তো আমি মেনে নিতাম না । আমি আপনার ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি। আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি, আমার জীবন দিয়ে চেষ্টা করব আপনার ছেলেকে ঠিক পথে আনার, এক মায়ের ইচ্ছা পূরণ করার। আমি বিয়েতে রাজি।"

" আলহামদুলিল্লাহ। মা তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।আমি অপেক্ষায় রইলাম। দয়া করে তোমার বাবাকে কিছু বোলো না। একজন বাবা হিসেবে নিজের মেয়েকে এসব জানার পর আমার ছেলের মত ছেলের হাতে তোমাকে তুলে দেবে না।"

"আমি বাবাকে কিচ্ছু বলবো না। আমি আপনার ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি। আপনি চিন্তা করবেন না।"

এই অতীত মনে করতে করতেই রাতটা কেটে গেল। ঘুম থেকে উঠেই আশেপাশে তাকালাম। বোঝার চেষ্টা করলাম কোথায় আমি? তখনই মনে পড়লো কালকে রাতের কথা। চোখ দিয়ে দু ফোঁটা জল পড়ে গেল। ভাগ্যিস আমার শাশুড়ি দেখে নি।

অনেকক্ষণ বসে থাকলাম। মনে হলো দরজাটা এখনো ভেতর থেকে লক করা। ভাবলাম যে উনি এখনো ঘুমাচ্ছেন। একটু হালকা করে দরজাটা ধাক্কা দিতে খুলে গেল। বুঝলাম তিনি মাঝরাতে দরজা খুলে দিয়েছিলেন। ভিতরে ঢুকে দেখি তিনি বিছানায় নয়।সোফাতে শুয়ে আছেন। ওনার ঘুম থেকে উঠার আগেই গিয়ে গোসলটা সেড়ে নিলাম। তারপর শাশুড়ির ঘরে গেলাম।

" আরে মা তুমি! এসো ঘরে এসো। বাইরে দাঁড়িয়ে কেন?মা কালকে রাতে....."

"কিছুই হয়নি তেমন,আন্টি। তিনি শুধু আমাকে একটু বকাবকি করেছেন।"

"এখনো আন্টি বলবে?"

"সরি ,মা"

রাবেয়া বেগম আমার মাথায় হাত রেখে বললেন,

" মা,আমায় ক্ষমা করে দিও তুমি। আমি জানিনা এখন কি করা উচিত? "

" আপনি চিন্তা করবেন না। আমিও তো আপনাকে চিনি ছোটবেলা থেকে।আপনি নিজের মায়ের মত আমাকে ভালবেসেছেন। কীভাবে আপনাকে ফিরিয়ে দিই বলুন?"

আমার কথা শুনে মায়ের চোখ দিয়ে দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পরল।তিনি আমাকে বুকে টেনে নিলেন।

আমি আবার রুমে চলে গেলাম।গিয়ে দেখি তিনি এখনো ঘুমাচ্ছেন।আমি এখনো তার নামটা জানি না।যাকে বিয়ে করলাম তার নাম যে কি, সেটাই আমি জানিনা। ভেবে নিজেকে একটা থাপ্পড় দিতে ইচ্ছা করল। তারপরে আবার ফিরে গেলাম আমার শাশুড়ির রুমে। গিয়ে বললাম,

"মা, ওনার নামটা....."

তিনি হাসতে হাসতে বললেন,

"মনে নেই? যেদিন তোমাকে দেখতে গেলাম ঐদিন তো বলেছিলাম "

"আসলে মা, খেয়াল করিনি।"

" আয়ান চৌধুরী।"

এরপর রুমে এসে দেখলাম যে সোফা খালি। তাহলে উনি উঠে পড়েছেন। আমি সোফা আর বিছানা ঝারতে লাগলাম। একটু পরে বাথরুম থেকে বের হলেন উনি,মনে হয় শাওয়ার নিয়েছেন। রাত্রে বেলা যেভাবে চেঁচিয়েছেন, সাওয়ার তো নেয়ার লাগবেই। মাথা আগুন হয়ে আছে যে !

তারপর তিনি আমাকে কেমন করে জানি দেখলেন। মনে হলো আমাকে এই রুমে ওনার পছন্দ হয়নি। তারপর হনহন করে রুম থেকে বেরিয়ে পরলেন।আমি একবার নিজেকে পরখ করে ভাবলাম, কি হলো আবার!

এভাবেই কিছুদিন চলতে থাকলো।এই কয়েকদিনে উনি আমার সাথে কথা বলেন নি। আমিও মায়ের সাথে মায়ের রুমে থাকতাম। এই রুমে আসতাম না। কারন সবকিছু সময় নিয়ে করতে হবে। কিছুদিন ওনার সামনে তেমন না যাওয়াই ভালো।

আচ্ছা, মায়ের ধারণা যদি ভুল হয়!!! উনি যে মেয়েটাকে ভালোবাসেন, সে যদি প্রতারক না হয়!তাহলে তো আমার জীবনটাই নষ্ট হয়ে যাবে!!!!!!"

চলবে....?

#তোর_ছোঁয়ায়_ফাগুন

#পর্ব- ১

#লেখিকা_অনামিকা_তাহসিন_রোজা

(সূচনা পর্ব)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন