ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর ছোঁয়ায় ফাগুন

২য় পর্ব

লেখক: অনামিকা তাহসিন রোজা

#তোর_ছোঁয়ায়_ফাগুন

#পর্ব-২

#লেখিকা_অনামিকা_তাহসিন_রোজা

এভাবে কয়েকদিন কেটে গেল। এই কয়েকদিনে তিনি একবারও আমার সাথে কথা বলেনি ভালো করে। এই কয়েকদিন আমি মায়ের সাথে তার রুমে থাকতাম। উনার রুমে যাওয়ার মত অনুমতি আমার ছিল না। আর আমিও ভাবলাম ওনার আশেপাশে এখন না থাকাই ভালো। যা করতে হবে সময় নিয়ে করতে হবে।

একদিন রান্নাঘরের মায়ের কাছে রান্না শিখছিলাম।সেই সময় দরজায় কলিং বেল বাজলো ।

আমি বললাম,

"মা আমি দেখচ্ছি।"

আমি গিয়ে দরজাটা খুলে দিলাম। দেখলাম সাদা টপস- জিন্স পরা এবং কালার করা চুল, সাথে সানগ্লাস পরা একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেখেই মনে হচ্ছে যে বেশ আধুনিক কালের মেয়ে।দেখতে অবশ্য ভালোই সুন্দরী। তবে রংচং কম থাকলে আরো ভালো লাগতো।

সানগ্লাস টা খুলে আমাকে দেখে বলল,

"কে তুমি? এ বাড়িতে তো আগে কখনো দেখিনি।"

" আপনি কে? কাকে চাই?"

আমার এ কথা শুনেই মেয়েটা অনেক উচ্চস্বরে হাসতে লাগলো। আমি ভ্রু কুচকে তাকিয়ে রইলাম। আজব! আমি কি কোনো হাসির কথা বলেছি নাকি!!

মেয়েটা হাসতে হাসতেই বলল,

"আমার বাড়িতেই আমাকে জিজ্ঞেস করছ যে, আমি কাকে চাই?"

আমি একটু অবাকই হলাম। কারণ আমি জানামতে এই বাড়িতে আমার স্বামী আয়ান চৌধুরী, তার মা তার বাবা এবং তার ছোট বোন রামিসা থাকে।

তাই আমি বললাম,

" দুঃখিত আমি আসলেই চিনতে পারছি না। আপনি কে? কাকে চাই?"

"এই মেয়ে সাইড দাও তো।ভেতরে যেতে দাও।"

আমি তখন সরে আসলাম।

সে ভেতরে ঢুকতেই একটু ঢং করে মাকে বলল,

" আসসালামু আলাইকুম, আন্টি ওরফে আমার হবু শাশু মা"

মা বিরক্ত হয়ে বলল,

" তুমি এখানে কি করছ?জানো না আয়ানের বিয়ে হয়ে গেছে!!"

এ কথা শুনে মেয়েটি হাসতে লাগলো আর বলল,

" আহ্হা আন্টি ,দয়া করে এরকম আজগুবে কথা বলবেন না। আয়ান বিয়ে মানলে তো !!! আমি আয়ানকে ভালোবাসি। And I know সেও আমাকে খুব ভালবাসে। আপনি যতবারই বিয়ে দেন না কেন, আয়ান শুধুমাত্র আমার।"

এ কথা শুনে আমার টনক নড়ল। আমি ভালোই বুঝলাম যে, ইনি হচ্ছে সেই কাঙ্ক্ষিত লাফাঙ্গা ফারজানা, যার কথা আমাকে বলা হয়েছিলো। মেয়েটি আর একটি কথাও শুনল না। হাঁটতে হাঁটতে আয়ানের ঘরে গেল আর আমি তাকিয়ে রইলাম নির্বাক হয়ে।

রাবেয়া বেগম মানে আমার শাশুড়ি ঘোমটা দিয়ে মুখ ঢেকে কাঁদতে লাগলো আর বলল,

"আমি জানিনা এই মেয়ের হাত থেকে আমার ছেলেকে কিভাবে বাঁচাবো?"

"মা, এই লাফাঙ্গা মেয়েটাকে আপনার ছেলে ভালোবাসে।"

"হ্যাঁ মা,মেয়েটা একদম ভালো না।"

" কিন্তু মা, ভালোই সুন্দরী।"

" হ্যাঁ বৌমা ঠিক বলেছ। মেয়েটা সুন্দরী। কিন্তু তার মনটা একেবারে নোংরা,জঘন্য। ওই যে কথায় বলে না মা, মাকাল ফল!!!"

আমি মনে মনে ভ্রু কুচকে ভাবতে লাগলাম যে,আয়ান চৌধূরীর তাহলে রুচির দুর্ভিক্ষ হয়েছে। নাহলে এমন বাঁদর মার্কা চিকার মতো মেয়ে কে পছন্দ করে ভাই !!!!

মা আমাকে বলল,

"মা, একটু ওর ঘরে আড়ালে গিয়ে দেখতো পেতনিটা কী করচ্ছে?"

"আচ্ছা মা,আমি দেখচ্ছি। চায়ের কাপ টা দিন। তাহলে ওই ঘরে যাওয়ার একটা অযুহাত থাকবে।"

আমি তারপর চলে গেলাম উনার রুমে। আমি দরজার আড়ালে দাঁড়াতেই শুনতে পেলাম ভিতরের কথোপকথন.......

" আয়ান চলো আমরা পালিয়ে যাই। তোমার মা আর তোমার বাবা জীবনও আমাদেরকে এক হতে দেবে না। আমাদেরকে পালিয়ে যাওয়াই উচিৎ।তুমি তোমার বাবার কাছে সব সম্পত্তি বুঝে নিয়ে নাও।আর এখন তো একটা নতুন সদস্য যোগ করেছে ।না জানি এই মেয়েটা তোমার সাথে কি করে!!!"

" না, ফারজানা। তুমি চিন্তা করো না। আমি তোমাকেই বিয়ে করব। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমি মেয়েটাকে ছেড়ে দেবো। ওই মেয়েকে আমি কখনোই আমার স্ত্রী হিসেবে মানবো না। তুমি এই বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকো।আমি শুধুমাত্র তোমাকে ভালোবাসি। I love you very much sweety"

" I love you too jan.আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাসো।"

এসব কথা শুনে আমার চোখ দিয়ে দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। আমি ভাবছি, উনাদের কথা শুনে আমার এ অবস্থা! না জানি ভেতরের যদি তাদেরকে একসাথে দেখি কেমন লাগবে!!! ভেবেই বুকটা মোচড় দিলো। যতই হোক, ৩ বার কবুল বলে আল্লাহ্ কে সাক্ষী রেখে বিয়ে করেছি তাকে, সে আমার স্বামী। বাঙালি মেয়েরা আর যাই হোক, নিজের বিয়ে করা স্বামীকে অন্য নারীর সাথে সহ্য করতে পারে না।

হঠাৎ ভুলবশত আমার হাতটা নড়ে যায় আর আমার পাশে থেকে ফুলদানিটা পড়ে ভেঙে যায়।উচ্চ স্বরে শব্দ পেয়ে আয়ান বলল,

"কে? কে ওখানে ?"

আমি তখন ভিতরে গেলাম। ভেতরে গিয়ে মাথা নিচু করে আস্তে বললাম যে,

" আপনার চা টা।"

আয়ান কিছু বলার আগেই ফারজানা বলে উঠলো,

"আয়ান, এই মেয়েটা তো বেশ ভালো কাজেই আসল, অন্তত বাড়িতে আর কাজের লোক রাখতে হলো না। বাড়ির সব কাজ এই মেয়েটাই করবে।"

আয়ান কিছু বলল না। শুধু আমার দিকে শক্ত চোখে তাকিয়ে আছে। ফারজানা আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে আয়ানকে জড়িয়ে ধরল। আমি আর সহ্যই করতে পারলাম না। চায়ের ট্রেটা রেখে ওখান থেকে দৌড়ে চলে আসলাম।

(লেখিকা-অনামিকা তাহসিন রোজা)

বিকেল বেলা,

ছাদের উপর বসে আছি আর ভাবছি কি এমন ভুল করেছিলাম? জীবনে কত কিছুই না আশা করেছিলাম। একটি মেয়ের জীবনের সব সময় তার বিয়ের পরে জীবন নিয়ে অনেক স্বপ্ন থাকে। সবাই চায় তার বিয়ের পরে সুখে থাকতে,তার স্বামীর ভালোবাসা পেতে। কিন্তু আমার কি হলো ?আমি কি এতই খারাপ? আমি কি জীবনে কোনো পাপ কাজ করেছি? স্টুডেন্ট লাইফ থেকে আমি কখনোই কোনো রিলেশনে যাইনি। আমাকে অনেক ছেলে প্রপোজ করেছে,অনেক ছেলেই পিছনে পড়েছে। কিন্তু আমি আমার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কক্ষনো এসবে যাইনি। ভেবেছিলাম ভবিষ্যতে আমার স্বামীকেই আমি আমার সব কিছু উজাড় করে দেব, মন ভরে ভালোবাসবো। কিন্তু আমার জীবনে যে এত খারাপ একটা সময় আসবে আমি ভাবতেও পারিনি। এইসব নিয়ে গভীর চিন্তা করছিলাম।তার মধ্যেই নিচ থেকে মা ডাকল,

"আদ্রিকা,কোথায় তুই? তাড়াতাড়ি নিচে আয়।"

"আসছি মা।নিচে গিয়ে দেখি ফারজানা মায়ের সাথে তর্ক করছে, বলতে গেলে রীতিমত ঝগড়া করচ্ছে।

"দেখুন আন্টি, আমি আপনার ছেলেকে অনেক বেশি ভালোবাসি আর আমি কোনোভাবেই চাই না যে আমাদের দুজনের মধ্যে কাঁটা আসুক। আপনি ওই থার্ড ক্লাস মেয়েটার সাথে আয়ানের বিয়ে দিয়েছেন ঠিকই,কিন্তু আমার নাম এখনো আয়ানের মধ্যেই রয়েছে। আপনি আমাকে কখনো ওর জীবন থেকে, ওর মন থেকে সরাতে পারবেন না। ও আমাকে অনেক ভালোবাসে। এমনকি আমার জন্য আপনাদের কেউ ছাড়তে পারবে।"

এসব কথা শুনে তো আমি একদম অবাক হয়ে গেলাম।

মা বলল,

" তুমি এতটা খারাপ কিভাবে হতে পারো? একটা ছেলেকে তার মা-বাবা থেকে দূরে নেয়ার কথা ভাবতেও তোমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল না? ছিঃ "

আমি চুপ করে শুধুমাত্র দর্শকের মত দেখছিলাম তাদের কথোপকথন।

এরপর ফারজানা আমার কাছে আসলো।এসে বলল,

"Hey শোনো, কখনো ভাববেনা যে তুমি আয়ানকে পাবে। ও কখনো তোমাকে নিজের স্ত্রী হিসেবে মানবে না। He loves me so much. So you should leave us as soon as possible. Got it?"

আমি শুধুমাত্র নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম।

এরকম করেই কয়েক মাস যেতে থাকলো। ইতিমধ্যে আমি ভার্সিটি লাইফ শেষ করলাম। যেহেতু আয়ান আমাকে মেনে নেয় নি। তাই আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সে কখনো কিছু বলেনি। আমার শশুর আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক সহযোগিতা করেছেন। ভাবতেই অবাক লাগে। আমি শশুর বাড়ি থেকেও আমার পড়াশোনা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছি। আমার শাশুড়ি আমাকে বলে দিয়েছেন যে আমার পড়াশোনা শেষ হলেই আমি যেন সংসারে মন দিই।

এই কয়েকদিনে প্রায় প্রায় দেখতাম আয়ানকে ফারজানার সাথে কথা বলতে, রাত্রেবেলা আড়াল থেকে তাদের কথাও শুনতে পেতাম। কারণ আমাদের ঘরটা ছিল পাশাপাশি। আমাকে আয়ানের পাশে একটা রুম দেয়া হয়েছে। মূলত আমি যেন ভালো করে পড়াশোনা করতে পারি এই কারনে আমাকে আলাদা রুম দেয়া হয়েছে। কখনোই আয়ানের ঘরে যাওয়ার অনুমতি তো পেতামই না, এমনকি তার সাথে কথা বলারও সাহস ছিল না আমার। তবে সে আমার কোনো বিষয় নিয়ে মাথা ঘামায়নি। একই বাড়িতে থাকার পরেও দুজনের জীবন আলাদা। আমি নামক একজন যে বাড়িতে আছে, সেটা আয়ান হয়তো ভুলেই গেছে।

এভাবে দু মাস চলে গেল ।এরই মধ্যে আমি বাবার বাড়ি গিয়েছিলাম। জামাই কেন এ বাড়িতে আসেনি , এই কথা মা বাবা বার বার জিজ্ঞেস করেলেও আমি সামলে নিয়েছি। এমনিতেও আমার সাথে মাঝে মাঝে আমার শাশুড়ি মা ছিল। তাই মা বাবা তেমন কিছু বোঝে নি।

( ⚠️Don't Copy Please!!!⚠️)

চলবে......?

⚠️বি:দ্র: প্রিয় পাঠকগন,আমার জীবনে লেখা প্রথম গল্প এটি। এর আগে নিজের ডায়েরিতে লেখালেখি করলেও কখনো ফেসবুকে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা হয়নি। তাই আশা করি আমার ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।☺ লেখনীতে নতুন হাওয়ায় আপনাদের রেসপন্স না পেলে আমি লেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবো। ****** হওয়ায় ভাবছি এক দিন পর পর গল্প দেব। তবে আপনাদের রেসপন্স পেলে ইনশাআল্লাহ্ প্রতিদিন গল্প দেওয়ার চেষ্টা করব। যারা নিয়মিত গল্প পেতে চান তারা দয়া করে আমার পেজটি ফলো দিয়ে রাখুন।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন