#তোর_ছোঁয়ায়_ফাগুন
#পর্ব_১২
#লেখিকা_অনামিকা_তাহসিন_রোজা
ভোরের আলো ধীরে ধীরে পৃথিবীর বুকে মেলে ধরেছে তার সোনালি আঁচল। আকাশের নীলিমায় মিশে থাকা সূর্যের প্রথম কিরণ যেন প্রেমিকের আদরের মতো আদ্রিকার গায়ে এসে পড়ল, আলতো স্পর্শে মাটি এবং আকাশের মিলন রচনা করছে। ঘাসের ওপর জমে থাকা শিশিরবিন্দুগুলো মুক্তোর মতো ঝলমল করছে, যেন একেকটি স্বপ্নবিন্দু। বাতাসে ভেসে আসছে কাঁচা মাটির সুবাস, আর দূরে কোথাও পাখিরা তাদের গান গেয়ে জানান দিচ্ছে নতুন দিনের শুভাগমন। এই শান্ত সকালের মাঝেই লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য প্রতিশ্রুতি, যেন জীবন নতুন করে শুরুর আহ্বান জানাচ্ছে। সোনালী সেই সূর্যের কিরণ লাগতেই আদ্রিকা চোখ মেলে তাকালো।
কাল সারারাত আয়ান বাড়িতে ফেরেনি। তবে হিমেল আদ্রিকা কে জানিয়ে দিয়েছে যে,আয়ান আজ রাতে ওর সাথে থাকবে। তাই আদ্রিকা সস্তি পেলেও কিছুতেই ঘুম আসছিলো না। ভোরের দিকে চোখ টা একটু লেগে এসেছিলো। ওদিকে কাল যা হয়েছে সবই হিমেল আদ্রিকা কে বলে দিয়েছে।
আদ্রিকা দ্রুত গতিতে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। গত পরশু সকালে রাবেয়া বেগম এবং আজিম চৌধূরী এক বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য আমেরিকায় গিয়েছেন। তাদের প্রায় অনেক আত্মীয় আমেরিকাতেই সেটেল্ড। এই কারনে চৌধূরী বাড়ির প্রায় সবাই মাসে ২-৩ বার আমেরিকাতে পারি জমায়। গতকাল আজিম চৌধূরীর সাথে রামিসাও যেতে চেয়েছিলো। কিন্তু সবাই গেলে অফিস কে সামলাবে? তাই সে যায় নি। আজ চৌধূরী ভিলায় রাবেয়া বেগম না থাকায় আদ্রিকা কেই সমস্ত কাজ করতে হবে। যদিও বাড়িতে সার্ভেন্টস আছে, তাও আদ্রিকা সেইসব সার্ভেন্টস কে ছুটি দিয়ে দিয়েছে। আদ্রিকা রান্নাঘরে ঢুকে চুল খোঁপা করতে করতে জোরে ডাকলো ,
" রামিসা....এই রামিসা সকাল হয়ে পড়লো তো।উঠে পড়ো। বেলা করে ঘুমোতে নেই। "
আদ্রিকার এই ডাক রামিসার কাছে পৌছেছে কি? সে তো দিব্যি ঝুলে ঝুলে ঘুমোচ্ছে।
আদ্রিকা বিড়বিড় করে বলল,"আচ্ছা থাক একটু ঘুমোক..."
___________________________________________
" কীসের ঘুমোবে? আর কত ঘুমাবে? আর কোনো ঘুমাঘুমি নাই! এই হিমেলের বাচ্চা ওঠ! ওঠ বলছি।"
আয়ান কাল রাতে হিমেলের ফ্লাটেই ছিলো। কিন্তু তার সারারাত ঘুম হয়নি। নিজের করা ভুলের জন্য অনুশোচনায় সারারাত দগ্ধ হয়েছে। কিছুতেই মাথায় আসছিলো না যে এখন সে কী করবে? আয়ানের কাল সারারাত ঘুম না হওয়ার আরেকটা কারণও আছে, তা হলো চোখ বন্ধ করলে আয়ানের চোখের সামনে ভেসে উঠছে আদ্রিকার মুখস্রী! সে নিজেও জানে না কেনো এমন হচ্ছে! আর এই হিমেলের বাচ্চা নাক ডেকে পায়ের ওপর পা তুলে ঘুমোচ্ছে!!! আয়ান তো তা হতে দবে না! বিছানার সাইড টেবিল থেকে পানিভর্তি জগ টা নিয়ে আয়ান সব পানি হিমেলের মুখের ওপর ছুড়ে মারলো!!!
হিমেল ধরফর করে উঠে চেঁচালো,
" আয় হায় ! ছাদ ফুটো হয়ে গেছে রে! আয়ান কই তুই!"
হিমেলকে পাত্তা না দিয়ে আয়ান বলল,
" ছাদ ফুটো করা কিনা জানি না! কিন্তু তোর মাথা টা ঠিকই ফুটো করা!"
হিমেল তখনো ঘুমের রেশ কাটাতে পারেনি। ঘুম ঘুম কন্ঠেই বশে উঠলো,
" শা*লা এভাবে আমার কাঁচা ঘুমটা ভাঙালি! তোর ঘুম হারাম হয়ে যাবে দেখিস! এই জীবনে একটা রাতও ঘুমোতে পারবিনা অভিশাপ দিলাম। মনে রাখিস।"
আয়ান বলল,
" আমি বাড়িতে গেলাম। একটু পরেই মা বাড়িতে ফিরে আসবে।"
" সকালে নাস্তা করে যা ভাই ........"
" নাহ্, বাড়িতে গিয়ে করবো। বের হলাম আমি। তুই পারলে আরেকটু ম'রা'র মতো ঘুমা।"
হিমেল কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল,
"তাহলে ডাকলি কেনো আমারে ভাই??"
"চলে যাচ্ছি, এটা জানানোর জন্য "
হিমেল - 😑 হারামি!
_______________________________________
বাড়ির কলিং বেল বাজার সাথে সাথে আদ্রিকার বুকটা ধক করে উঠলো। মনে মনে ভাবলো,
" উনি কি চলে এসেছেন?"
দ্রুত গতিতে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে দরজার কাছে গেলো আদ্রিকা। দরজা খুলে দিতেই আয়ানের হতাশমাখা মুখটা দেখলো। আয়ান একবার তাকিয়ে কিছু না বলে ভেতরে ঢুকে গেলো। আদ্রিকা দরজা লাগিয়ে দিয়ে আয়ানের পিছু পিছু ভেতরে এলো আর বলল,
" আপনি ফ্রেশ হয়ে এসে টেবিলে বসুন। আমি এক্ষুনি রামিসাকে ডেকে দিয়ে নাস্তা আনছি।"
আয়ান মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যায়! কীভাবে এই মেয়ে তার সাথে এতো স্বাভাবিক ভাবে কথা বলে! আয়ান কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে ফ্রেশ হতে চলে যায়। আদ্রিকা রামিসার ঘরে গিয়ে ঘুমে দুলতে থাকা রামিসা কে নিয়ে এসে খাবার টেবিলে বসিয়ে দেয়। আয়ান কিছুক্ষণ পর এসে রামিসা কে দেখে জিজ্ঞেস করে,
" ও এখনো উঠে নি কেনো? এতো বেলা করে ঘুমোয় কেউ!"
বড় ভাইয়ের আগমন এখনো টের পায়নি রামিসা। তাই ঘাপটি মেরে ঘুমে ঝিমোচ্ছে! নাহলে এক্ষুনি লাফ দিয়ে উঠত! আদ্রিকা বলল,
"কাল অনেক রাত পর্যন্ত অফিসের কাজ করেছে। আপনি ছিলেন না তো, তাই ওকে একা সব করতে হয়েছে।"
আয়ান আর কিছু না বলে খাবারের টেবিলে বসল। আদ্রিকা খাবার বেড়ে দিয়ে রামিসাকে বলল,
"রামিসা, খেয়ে আবার ঘুমোও। এভাবে খাবার টেবিলে ঝিমোতে নেই।"
রামিসা তাও হেলে দুলে খাবারের দিকে তাকিয়ে আছে। আয়ান আড়চোখে ওদের কর্মকাণ্ড দেখচ্ছে। আদ্রিকা কোনো উপায় না পেয়ে বলল,
" আমি খাইয়ে দিই তোমায়?"
রামিসা ঘুম ঘুম কন্ঠে বলল,
" হুম। খাইয়ে দিলে খুব ভালো হয় ভাবি।"
আদ্রিকা রামিসার চেয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে খাবার হাতে নিয়ে রামিসার মুখে ছোট ছোট লোকমা তুলে খাওয়াতে থাকলো।
এদিকে আয়ান ভাবছে,
" এই মেয়ে কি খায় না? কোনোদিনও তো টেবিলে বসে খেতে দেখলাম না।"
আয়ানের খুব ইচ্ছে করছে আদ্রিকা কে খাওয়ার কথা বলতে। কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারচ্ছে না। রামিসাকে খাইয়ে দিতে দেখে আয়ানের মনে আরেকটা অদ্ভুত ইচ্ছেও জাগছে! এই অদ্ভুত ইচ্ছেতে আয়ান নিজেও অবাক! আদ্রিকা তাকে একদিন খাইয়ে দিয়েছিলো, বেহায়ার মতো তার আবার কেনো আদ্রিকার হাতে খেতে ইচ্ছে করবে!
আয়ানকে খেতে না দেখে আদ্রিকা উদগ্রীব হয়ে বলল,
" আপনি খাচ্ছেন না যে? খাবারে কোনো সমস্যা?"
আয়ানের ইচ্ছে করলো আদ্রিকা কে তুলে এক আছাড় মারতে! এই মেয়ে সারাদিন শুধু অন্যের কথা ভাবে! আবার আয়ান যে খাচ্ছে না! এতোই যখন ভাবে তাহলে আয়ানকেও তো বলতে পারতো,"আপনাকে খাইয়ে দিই?" কিন্তু আয়ানকে বলল না? কেনো? আয়ান ভাবছে," এখন কি এই মেয়ের হাতে খাওয়ার জন্য আমাকে অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকতে হবে নাকি?" নিজের এসব ভাবনায় আয়ান নিজেই অবাক না হয়ে পারলো না। কিন্তু কাওকে কিছু বুঝতে না দিয়ে গম্ভীর কন্ঠে আয়ান বলে উঠলো,
" না, কোনো সমস্যা নেই। খাচ্ছি।"
___________________________________________
খাওয়ার পর্ব শেষ করে আয়ান ঘরে এসে রীতিমতো পায়চারি করছে। তার মাথায় শুধু হিমেলের একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে- " তুই ফারজানাকে আদৌও কখনো ভালোবাসিস নি!ভালোবাসার অর্থ এখনো বুঝিস নি!" আয়ান নিজেও এখন এটা উপলব্ধি করতে পারচ্ছে। গত রাতে আয়ান ভেবে দেখেছে, যে ফারজানার প্রতি আসলেই কি তার কোনো ভালোবাসা ছিলো না? তাহলে কি ছিলো? ভালোবাসার অর্থ কি সে সত্যিই জানিনা।যাইহোক এগুলা চিন্তা বাদ দিয়ে আয়ান এখন গভীরভাবে আদ্রিকার সাথে কথা বলার অযুহাত খুঁজচ্ছে। সে নিজেও জানে না যে সে কেনো এমন করচ্ছে! কিন্তু তার মন এটাতে সায় দিচ্ছে। অনেক ভাবনা চিন্তার পর আয়ান আলমারিতে থাকা সমস্ত কাপড় বিছানায় এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে দিলো। এরপর বড় বড় পা ফেলে ড্রয়িং রুমে এসে দেখলো আদ্রিকা সোফায় বসে উপন্যাস পড়চ্ছে। আদ্রিকার এটেনশন পেতে আয়ান একটু কাশলো।
আয়ানের উপস্থিতি টের পেয়ে আদ্রিকা তাড়াহুড়ো করে সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
"কিছু লাগবে আপনার?"
আয়ান গম্ভীর হয়ে বলল," আমার ঘরে চলো, কাজ আছে।"
আদ্রিকা একটু অবাক হলেও আয়ানের পিছু পিছু ওর ঘরে গেলো। ওমা!! এ কি!! আয়ানের ঘরে এসে আদ্রিকা পুরো থ হয়ে গেলো। আলমারির সমস্ত কাপড় বিছানায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে! সে তো গতকালই কিছু কাপড় ধুয়ে গুছিয়ে রেখেছিলো!
আয়ান আদেশের সুরে বলল,
" সব কাপড় ভাজ করে গুছিয়ে আলমারি তে রাখো।"
আদ্রিকা তখনো হা করেই তাকিয়ে আছে। আয়ান আবারো বলল," কী হলো! করো!"
__________________________________
আদ্রিকা সুন্দর করে সব কাপড় ভাঁজ করচ্ছে আর আয়ান চেয়ারে বসে পর্যবেক্ষণ করচ্ছে। কিছুক্ষণ পর আয়ান বলল, " মম আর বাপ্পী কখন আসবে?
যদিও আয়ান জানে যে রাবেয়া বেগম আর আজিম চৌধূরী কখন আসবে! তাও কথা বলার জন্যই সে আদ্রিকা কে জিজ্ঞেস করল।
আদ্রিকা ধীরে ধীরে বলল,
" একটু পরেই চলে আসবে। সকাল ১১ টায় ল্যান্ড করবে.. আর মা একাই আসবে, বাবা আসবেন না।"
আয়ান অবশ্য এই বিষয়টা জানে না! তাই সে বলল,
"মানে! বাপ্পী কেনো আসবেনা? রামিসা আর আমি তো একাই অফিস করচ্ছি! কাল এতো গুলো মিটিং! সব আমরা একাই সামলাবো নাকি!"
আদ্রিকা ইতস্তত করে বলল,
"আব....আমি তো জানি না! মা আসলে আপনি জিজ্ঞেস করে নিয়েন।"
আয়ান মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, "হুম।"
__________________________________________
রামিসা একটু আগেই ঘুমের রেশ কাটিয়ে উঠেছে। কিন্তু এখনো বিছানায় চিৎপটাং হয়ে শুয়ে শুয়ে ফোন টিপছে। ফেসবুকে স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ নোটিফিকেশন এলো। নোটিফিকেশন টা দেখে রামিসার মাথা গরম হয়ে গেলো।
ফট করে বিছানায় উঠে বসলো। সপ্তাহখানেক আগে হিমেল রামিসাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়েছিলো। ভদ্রতার খাতিরে রামিসা একসেপ্ট করেছিলো। আর আজ !! শা"লা' চিকার বাপ হিমেল! তার পোস্টে হাহা রিয়েক্ট দিলো!!
কয়েকদিন আগে ফ্রেন্ড দের সাথে ঘুরতে গিয়ে রামিসা এই ছবি টা তুলেছিলো। ছবিটা অনেক সুন্দর এসেছিলো বলে রামিসার অনেক পছন্দ হয়েছিলো। তাই রামিসা ছবি টা পোস্ট করে টাইমলাইনে রেখে দিয়েছিলো! তার এতো প্রিয় ছবিটাতে এই চিকার বাপ কোন সাহসে হাহা রিয়েক্ট দেয়!!!!!!!!
কিছুক্ষণ ভাবনা চিন্তার পর রামিসা ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো। সুন্দর করে হিমেলের আইডিতে ঢুকলো। ঢুকে কথা নেই, বার্তা নেই! লাগাতারে হিমেলের আইডিতে থাকা সব পোস্টে হা হা রিয়েক্ট দিয়ে দিলো এবং শেষে হিমেলের আইডিটা ব্লক করতে ভুলল না। রামিসা হিমেলের সব পোস্টে হাহা দিয়ে ব্লক করে ফোনটা ছুঁড়ে ফেলে এমনভাবে ঘাপটি মেরে বসে রইল যেন সে কিছুই জানে না! আরে,,সে তো একটু আগেই পৃথিবীতে ল্যান্ড করলো! আসলে, এটাকে বলে ঝগড়ায় না জিতে থুথু ছিটিয়ে পালিয়ে আসা,,,,,
_______________________________________________
কিছুক্ষণ পর চৌধূরী বাড়ির দরজায় কলিং বেল বেজে উঠলো। আদ্রিকা উপরে আয়ানের ঘরেই ছিলো। কাপড় গুলো এখনো গোছানো বাকি। কলিং বেলের আওয়াজ শুনে আদ্রিকা বলে উঠলো,
" ~ মা এসে গেছেন মনে হয়।আমি দেখে আসছি।"
বলেই হুরমুর করে আয়ানের ঘর থেকে দৌড়ে বের হলো।
আয়ান মনে মনে বলল,
" এটা মেয়ে নাকি কোলা ব্যাঙ !!"
আয়ানও ঘর থেকে বের হলো।
এইদিকে আদ্রিকা তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে সিড়ির কাছে এসে পা পিছলে যায়! আদ্রিকা তো ভয়ে চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে থাকলো! আদ্রিকা জানে তার এখন সব হাড় ভাঙবে।
কিন্তু না! পরে তার মনে হলো সে এখনো পড়ে নি! হাওয়ায় ভাসছে! কেমনে কী? বিষয়টা বোঝার জন্য আদ্রিকা পিটপিট করে তাকালো! এইবার সে আরো বেশি ঝটকা খেলো! এইবার তার মনে হলো এরকম পরিস্থিতি হওয়ার থেকে পরে গিয়ে হাড় ভাঙা ভালো ছিলো! কারন তার হাওয়ায় ভেসে থাকার কারন হলো আয়ান চৌধূরী!!!
ঐ সময় আদ্রিকা পরে নিতে গেলে আয়ান খপ করে তার হাত ধরে টেনে আনে। ফলে এখন আয়ানের এক হাত আদ্রিকার কোমড়ে , আরেক হাত আদ্রিকার বাম হাত ধরে রেখেছে। আর বেচারি আদ্রিকার কলিজা শুকিয়ে গেছে। এমনিতেই আয়ানের হাতের ছোঁয়ায় তার হৃদপিন্ড ঢোল পেটাচ্ছে। তার ওপর আয়ানের সেই মোহময় চোখ, যার সৌন্দর্য বিয়ের আগেই আদ্রিকাকে প্রথম কাবু করেছিলো! এই চোখ আদ্রিকার খুব প্রিয়! কিন্তু এখন এসব দেখার টাইম নেই তার! আয়ান চৌধূরীর হাতে আজ সে শহিদ হলেও হতে পারে। আদ্রিকা ভয়ে একটা ঢোক গিলল।
আয়ানের জানি না কি হলো! কিন্তু আদ্রিকার স্পর্শে তার শরীর কেঁপে উঠলো! আয়ানের হৃদস্পন্দন যেন তীব্র হয়ে ওঠে। তার চোখে এক ধরনের অজানা আকর্ষণ খেলে যায়। সেই মুহূর্তে, সমস্ত পৃথিবী যেন থেমে গেছে। শুধু তাদের দুজনের মধ্যে থাকা এই নীরবতা, আর এই হাতের স্পর্শ যেন সব কিছু ছাপিয়ে উঠে। আয়ান অনুভব করে, এই স্পর্শের মধ্যে আছে গভীর এক ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি, যা তার হৃদয়ের প্রতিটি কোণায় আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। এর আগে তো ফারজানার প্রতি সে এমন কিছু অনুভব করেনি! তাহলে কি এটাই "কবুল" শব্দের শক্তি! বিয়ে নামক অদৃশ্য আকর্ষণ! যেটা সে আগে অনুভব করেনি বা করতে চাইয়নি!
আদ্রিকাকে কিছু বুঝতে না দিয়ে আয়ান ওকে ছেড়ে দিয়ে নিজের আগের রূপে গিয়ে শক্ত কন্ঠে বলল,
"চোখ নেই তোমার ! চোখ কি আমার ঘরের আলমারিতেই রেখে এসেছো! যদি তোমার পা তুমি বাঁচিয়ে রাখতে চাও, তাহলে ভালোভাবে দেখেশুনে চলাফেরা করো । এরপরে যদি এরকম বাদড়ের মতো লাফাতে দেখেছি , তাহলে ঠ্যাং ভেঙে ঘরের ভেতর বেঁধে রাখবো বলে দিলাম।"
আদ্রিকা চোখ বড় করে তাকালো আয়ানের দিকে, আর বলল,
" আ.আ..আমি তো লাফাই না।ভালোভাবেই তো নামছিলাম"
আয়ান এইবার দাঁত চেপে বলল,
" তাহলে কি আমি তোমায় ধাক্কা মেরে আবার ধরলাম?"
আদ্রিকা দুই দিকে মাথা নেড়ে বলল, "না তো।"
আয়ান বিরক্তি নিয়ে বলল, " ইডিয়েট!"
বলেই আয়ান হনহন করে নিচে চলে গেলো। আদ্রিকা বুকে হাত দিয়ে একটা বড় করে শ্বাস নিলো। মাথার উপর দিয়ে আবারো ঝড় গেলো তার! মনে মনে ভাবলো,
"উনার হয়েছে টা কি!!!"
কিন্তু পরক্ষণেই আদ্রিকা নিষ্প্রাণ চোখে তার বাম হাতের দিকে তাকালো। আয়ানের ছোঁয়ানো জায়গাটাতে নিজের ডান হাত দিয়ে আবারো আলতো করে ছুঁয়ে দিলো...!
চলবে..........................
🌸 ( 🙂পাঠকগন, আমি সত্যিই নির্দোষ!👀 )