ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর ছোঁয়ায় ফাগুন

১১তম পর্ব

লেখক: অনামিকা তাহসিন রোজা

#তোর_ছোঁয়ায়_ফাগুন

#পর্ব_১১ ( স্পেশাল পর্ব 💝 )

#লেখিকা_অনামিকা_তাহসিন_রোজা

" প্লিজ রামিসা! বোন আমার! এমন করে না! আমি পারবোনা। আমার দ্বারা হবে না। তুমি যাও প্লিজ ।"

" না ভাবি! কোনো কথা শুনব না আমি। তুমিই যাবে।ব্যাস "

রামিসার চক্করে এক মহা ঝামেলায় পড়েছি। তখন রামিসা ওনার শার্ট চেঞ্জ করে ফ্রেশও করিয়ে দিয়ে এসেছে। তাই আমি আর ও ঘরে যাই নি। তবে এখন ওনার খাবার রেডি করেছি। তাই ওনাকে লেবু পানি খাওয়ানো প্রয়োজন। তাহলে বমি হবে আর জ্ঞান ফিরবে। কিন্তু এই কাজ রামিসা আমাকে দিয়েই করাবে!!!!

" রামিসা প্লিজ!"

" I am sorry । দেখো ভাবি শুধুমাত্র তোমার জোরাজুরিতে ঐ সময় তোমার স্বামীর কাপড় চেন্জ করে দিয়েছি। এখন আর এগুলা করতে পারব না। এগুলা তোমার দায়িত্ব! তুমিই করবে!"

আমি ভ্রু কুচকে বললাম,

"আমার স্বামী তোমার কী হয়🤨?"

" বড় ভাই। আমার হ্যান্ডসাম গরিলা ভাইয়া।"

আমি কিছু বলতে উদ্যত হলে রামিসা আবার বলল,

" কিন্তু সবার আগে সে তোমার স্বামী। যাও ভাবি নিজের দায়িত্ব পালন করো। টাটা। "

বলেই রামিসা হেলতে দুলতে নিজের ঘরে চলে গেলো। আমাকে কিছু বলার সুযোগও দিলো না!

আমার এক হাতে খাবারের প্লেট, আরেক হাতে লেবুপানি। এখন আমাকেই ঐ যমের ঘরে যেতে হবে। কোনো উপায় নেই! একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমি উনার ঘরে পা বাড়ালাম।"

উনার ঘরে আস্তে করে ঢুকলাম।ওমা!! ম্যাজিক!!! বিছানা খালি!!! কেমনে কী? বিছানা খালি!! কেন? উনি কি তাহলে উঠে পড়েছেন? কিন্তু লেবু পানি ছাড়া জ্ঞান ফিরল কীভাবে? খেয়াল করলাম বারান্দার গ্লাস খোলা! আমি প্লেট গ্লাস হাতে নিয়েই বারান্দায় গেলাম। দেখলাম, উনি গ্রীল দিয়ে নিষ্পলক চাউনিতে বাইরে তাকিয়ে আছেন। যেন পুরো শহর পর্যবেক্ষণ করচ্ছে। আমার উপস্থিতি মনে হয় উনি বুঝতে পারে নি! নিজের উপস্থিতি বোঝাতে আমি একটু কাশলাম।

উনি প্রাণহীন চোখে আমার দিকে তাকালো। খুব মায়া লাগলো আমার!

আমি কিছু বলার আগেই উনি গম্ভীর হয়ে বললেন,

" কী চাই ? "

আমার খুব করে বলতে ইচ্ছে করচ্ছিলো যে,

" আপনাকে চাই! শুধুমাত্র আপনাকে! আর কিচ্ছু চাই না! এ জীবনে আর কিচ্ছু চাওয়ার নেই! কিচ্ছু না!"

কিন্তু এই কথা গুলো মনেই আটকে থাকলো! গলায় আর আসলো না! আমি খাবারের দিকে তাকিয়ে বললাম,

" দুপুরে কিছু খেয়েছেন কিনা! একটু খেয়ে নিন। খাবার এনেছি।"

উনি আমার কথা পাত্তা না দিয়ে গ্রিল দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বললেন,

" আমার শার্ট কে খুলেছে?"

আমি ফট করে চোখ তুললাম আর বললাম,

" রা...রামিসা...আসলে আমি চেন্জ করে দিতে বলেছিলাম।."

উনাকে দেখে মনে হলো যে উনি আমার কথায় বেশ অসন্তুষ্ট হলেন।

ওভাবেই তাচ্ছিল্যে বললেন,

"খাবার টা রামিসাকে দিয়েই পাঠালে না কেনো আবার?"

আমি একটু চমকে গেলাম! উনি কি আমাকে অপমান করচ্ছে! তাহলে কি আমি শার্ট চেন্জ করলে উনি কিছুই মনে করতেন না!

উনি আমার হাতে থাকা গ্লাসের দিকে তাকিয়ে বললেন,

"এটা কী? দেখতে এমন কেনো? পানি তো মনে হয় না"

"ওও এটা! এটা লেবু পানি"

উনি নাক কুচকে বললেন,

"এই ফালতু জিনিসটা কেনো এনেছো?"

" না মানে আমি ভেবেছিলাম এটা খাওয়ালে আপনার নেশা কেটে যাবে। তাই আর কী............"

" আমি ম*দ-টদ এসব খাই না। আজই প্রথম ছুঁয়েছি। তাই নেশা হয়ে গেছে। কিন্তু বেশি খাইনি।"

" ওও।" বলে আমি খাবার টা ওনার সামনে দিলাম।

আমার সত্যি অনেক বেশি অবাক লাগছিল এটা ভেবে যে,

" উনি এতটা স্বাভাবিক কিভাবে আছেন? ওনার তো এখন দেবদাস হয়ে ঘুরে বেড়ানোর কথা! অথবা ছ্যাকা খাওয়া ছেলেদের মত আধমরা হয়ে পড়ে থাকার কথা! কিন্তু উনি এতটা স্বাভাবিক!!! "

এসব ভাবতে ভাবতেই আমি খাবার সাজিয়ে লেবুপানির গ্লাসটা নিয়ে উনার ঘর থেকে বেরিয়ে আসলাম।

_________________________________________

আয়ান কিছুক্ষণ খাবারের দিকে তাকিয়ে থেকে ফোনটা হাতে নিল আর কাওকে কল করলো। দুইবার রিং হওয়ার পরেও যখন কেও ধরলো না, তখন আয়ান একটা মেসেজ লিখলো,

" এই যে বারান্দার গ্রিল ছুঁয়ে বলছি হিমেল..এইবার কল না ধরলে আমি তোর বাড়িতে গিয়ে তোকে পিটিয়ে গনভবনের নিচে একদম পুঁতে দিয়ে আসবো!!!!!!!!"

আয়ানের জোরালো হুমকিতে হিমেল কিছুটা চুপসে গেলেও সেটা প্রকাশ না করে কল করলো আয়ানের নাম্বারে। চিৎকার দিয়ে বলল,

" কী বে! এতো বড় সাহস তোর! হুমকি দেস তুই? আমারে হুমকি দেস? আমি তোরে ভয় পাই ভাবছোস! শা*লা হারামি! আমি তোরে ডরাই না!!"

আয়ান চোখ ছোট করে শীতল কন্ঠে বলল,

"আমি কি যাবো?"

হিমেল একটা ঢোক গিলল।

হিমেল খুব ভালো করেই আয়ানের রাগ সম্পর্কে জানে। এই ব্যাটা যা বলে তাই করে! তখন দেখা যাবে সত্যিই তাকে কাল সকালে গনভবনে লটকানো অবস্থায় পাওয়া যাবে! তাই হিমেল কোনোরকম রিস্ক না নিয়ে বলল,

" তোর মুখও দর্শন করতে চাই না আমি! খবরদার আসবিনা!"

হিমেল ভয় পেয়ে এই কথা বললেও আয়ানের কাছে ধরা দিলোনা! আয়ান বলল,

" যেই ভিডিও টা পাঠিয়েছি ওটা দেখেছিস? ওটা কি আসল? নাকি AI দিয়ে করা?"

হিমেল আগামাথা না বুঝে বলল,

" কীসের ভিডিও বে?"

আয়ানের এইবার মেজাজ খারাপ হলো! দুপুরে সেই ভিডিও পাওয়া মাত্রই যাচাই করতে হিমেলের WhatsApp এ পাঠিয়ে দিয়েছে সে! আর এই ছেলে কিনা দেখেই নি! রাগটাকে দমিয়ে রেখে আয়ান বলল,

" WhatsApp এ একটা ভিডিও দিয়েছি। কোনোরকম ওভার রিয়েক্ট না করে ওটা যাচাই করে আমাকে জানা।" বলেই আয়ান কল কেটে দিল।

চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে আয়ান ভাবল,

" এটা যদি সত্যি হয় তাহলে সে ফারজানাকে ছাড়বে না! ২ বছরের প্রতারনার ফল একদম একদম হারে হারে বুঝিয়ে দেবে।"

মনে মনে এই পণ করে আয়ান চোখজোড়া বন্ধ করলো। সঙ্গে সঙ্গে তার চোখের সামনে ভেসে উঠলো এক নারীর মুখস্রী,,,,,,যার চোখ যেন গভীর রাতে জ্বলতে থাকা দুটি তারা, প্রতিটি পলকে যেন এক অদ্ভুত মায়া ছড়িয়ে দেয়। তার ঠোঁটের রেখায় লুকিয়ে আছে একটি নীরব হাসি, যা মানুষের হৃদয়ের গভীরে গিয়ে বাজে। মুখের প্রতিটি ভাঁজ যেন শিল্পীর হাতে আঁকা এক নিখুঁত সৃষ্টি, যেখানে প্রকৃতি তার সমস্ত সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে।

আয়ান যখন চোখ বন্ধ করে সেই রমণীকে পর্যবেক্ষণ করচ্ছে তখন হঠাৎ কী যেন মনে হতেই ফট করে চোখজোড়া খুলে ফেলল আয়ান! দ্রুত সোজা হয়ে বসল! আয়ান হতবাক! নির্বাক! এ সে কাকে দেখল! সে তো এই মেয়ের কথা ভাবে নি! সে তো এই মেয়ের কথা চিন্তাও করে নি! তাহলে চোখ বন্ধ করতেই কেন তার চেহারা চোখের সামনে ভেসে উঠলো! কেনো? এই মেয়ে কেনো এলো তার ভাবনার মধ্যে!

আয়ান বিড়বিড় করে অস্ফুটসরে বলে উঠলো.....

" আদ্রিকা........"

___________________________________________

"ভাবি তখন থেকে এভাবে পায়চারি করে যাচ্ছো! কী হয়েছে? কিছু তো বলো.."

উনার ঘর থেকে আসার পর পায়চারি করেই যাচ্ছি। আয়ানের ভাবসাব এতো নরমাল কেন? মাথায় কিছুতেই ঢুকছে না! হিসেবও মিলাতে পারচ্ছি না!

রামিসা এইবার অসহায় কন্ঠে আবারো বলে উঠলো,

" ভাবি......."

আমি এইবার বললাম,

" রামিসা..তুমি বুঝতে পারচ্ছো না! তোমার ভাইয়ের এমন স্বাভাবিক ব্যবহার একদমই স্বাভাবিক নয়!"

রামিসা মুখ কুচকে বলল,

" মানে টা কি!!"

আমি উত্তর দিলাম না।

___________________________________________

" কী রে রোমিও! কেমন লাগে এখন? হুম? হুম? বল বল?কেমন লাগে? হে হে হে!!!"

আয়ান চিৎকার দিয়ে বলল,

" হিমেল !!!!!!!!"

হিমেল এইবার জোরেসোড়ে শক্ত কন্ঠে বলল,

" কীসের হিমেল? আবে এই শুন!! কেমন লাগে এখন? কতবার বলছিলাম! কত্তবার সাবধান করছিলাম! কথা শুনছিলি? এইবার!! ঝটকা কেমন লাগলো?"

আয়ান নিচু কন্ঠে বলল,

" তাহলে ভিডিওটা আসল (Real) ??"

হিমেল অবাক কন্ঠে বলল,

"নিজের চোখে দেখলি রে ভাই ! তাও বিশ্বাস হয় না! ফারজানা কি তোরে কালো জাদু করছে নাকি রে?"

আয়ান ওর কথা পাত্তা না দিয়ে বলল ,

"এটা কি AI দিয়ে করা সম্ভব? মানে তুই নিশ্চিত যে এটা আসল?"

" আরে ভাই!! ভিডিওটার ক্যামেরা এঙ্গেল দেখছিস ? AI হইলে একটু হইলেও বুঝা যাইতো। আর এই যে ভিডিওটা তে যে বেডা আছে না? আমি এরে চিনি। আমাদের কলেজে পড়তো। জুনিয়র ছিলো । নাম মেবি ঈশান.."

আয়ান চোয়াল শক্ত করে বলল,

" আমি ওকে ছাড়বোনা হিমেল। শেষ করে দিবো।"

হিমেল বুঝতে পারলো যে আয়ানের চোখ খুলে গেছে। তাই আর খোঁচা দিলো না। অমায়িক হেসে বলল,

" তাহলে কালকেই খেলা শেষ কর আয়ান।"

"মানে???"

" আমি খবর পেয়েছি যে কাল সকালে ফারজানা এই বেডার সাথে দেখা করবে। কালকে হাতেনাতে ধরে খেলা শেষ করে দে।"

" Wait Wait! তুই কীভাবে ওর কথা জানলি?"

"আমি ওর সব খবরই রাখি আয়ান। শুধুমাত্র তুই যাতে কষ্ট না পাস, তাই কখনো চোখে আঙুল দিয়ে সত্যিটা দেখিয়ে দিইনি। আর দুর্ভাগ্যক্রমে ফারজানার বিরুদ্ধে কখনো কোনো শক্তপক্ত প্রমান পাই নি তোকে দেখানোর জন্য। "

আয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

"আমি কাল শেষবারের মতো ওর সাথে কথা বলব।"

" আমি আসব নাকি!"

"হুম। আসিস।"

__________________________________________

"ভাবি তোমার ফোন বাজছে....." রামিসা বলল।

আমি তাড়াতাড়ি করে ফোন টা হাতে নিলাম।

" আসসালামুআলাইকুম ভাবি।"

" ওয়াআলাইকুম সালাম। কী ব্যাপার হিমেল?"

"আসলে একটা কাজের মতো কাজ হয়েছে।"

হিমেল আমাকে পুরো ঘটনা খুলে বলল। আমি জাস্ট হতবাক হয়ে গেলাম। আমি বললাম,

"এটা কি ঠিক হবে হিমেল?"

" ১০০ পার্সেন্ট হবে ভাবি। আপনি খালি দেখতে থাকুন।"

__________________________________________

(পরদিন সকাল, সিতারা রিসোর্ট)

" সেকি ফারজানা! আয়ান তোমার ফোন কেনো তুলবে না?"

"সেটাই বুঝতে পারচ্ছি না ঈশান..আমার কেনো জানি খুব ভয় লাগছে ।"

রিসোর্টে খোলা আকাশের নিচে বেঞ্চে বসে আছে ঈশান আর ফারজানা।

ঈশান হঠাৎ চমকে উঠে বলল,

" আয়ান আবার সব জেনে যায় নি তো?"

ফারজানা তাচ্ছিল্যে হেসে বলল,

" ২ বছরে যেটা জানে নি, সেটা এখন জানতে পারবে সেটার কি গ্যারান্টি আছে?"

"না তাও...."

ফারজানা বলল,

" জানতে পারলে জানবে ঈশান, আমার যা নেয়ার খুব ভালো করেই নিয়েছি। এই দুই বছরে মোট ৩৭ লাখ টাকা নিয়েছি। তারপর আবার শপিং খাওয়া দাওয়া সব মিলিয়ে ভালোই টাকা সাবার করেছি। এখন জানতে পারলে কি আর হবে....ব্যাংকে যা আছে তা দিয়ে ১ বছর ভালোই কাটাতে পারবো। এর মধ্যে তুমি চাকরি খুঁজে নিবে। এমনিতেও ভালোবাসার নাটক করতে করতে আমি ক্লান্ত। "

" আর আমি তোমার নাটক দেখতে দেখতে ক্লান্ত!" গম্ভীর স্বরে বলে উঠলো আয়ান।

পরিচিত পুরুষালি কন্ঠে ফারজানা আর ঈশান চট করে পিছনে ফিরে তাকালো। আয়ান আর হিমেল একসাথে! বুক কেঁপে উঠলো ফারজানার! আয়ান-হিমেলের অনাকাঙ্খিত আগমনে দুইজনেই অবাক!!!!

" আয়ান তুমি!!!"

আয়ান হেসে বলল,

"কেনো ফারজানা? আশা করোনি বুঝি?" বলতে বলতে আয়ান আর হিমেল ওদের কাছে এগিয়ে এলো। ফারজানা আর ঈশান মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। একই কলেজে পড়ায় আয়ান আর হিমেলের ক্ষমতা সম্পর্কে বেশ ভালোই জানে ঈশান। তাই সে বুদ্ধিমানের ন্যায় চুপ থাকলো।

আয়ান কিছুক্ষণ ওদের কে পর্যবেক্ষণ করলো। এরপর ফারজানাকে বলল,

" দুই টা বছর? কম কথা না! কীভাবে পারলে ফারজানা? কীভাবে পারলে? একটুকুও বিবেগ কাজ করলো না! আরে মানুষ যদি একটা কুকুরকেও দুই বছর পোষে তাহলে সেই কুকুরের ওপরও মানুষের মায়া জন্মে।আর আমি তো মানুষ। এতো সুন্দর নাটক? এতোটা! কীভাবে পারলে? আমি কত্ত বোকা তাই না? আরে সব দিয়ে দিয়েছিলাম তোমায়। সব দিয়েছিলাম। শুধু তোমার সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে চাই নি! বিয়ের আগে এসব করতে আমি চাই নি! এটা কি আমার ভুল ছিলো? নাকি তোমায় বিশ্বাস করা আমার ভুল ছিলো? Speak up !!!!"

হিমেল বুক ফুলিয়ে আয়ানের কথা শুনছে। আজ হিমেল খুব খুশি। গত ২ বছর ধরে সে এই দিনটার অপেক্ষায় ছিলো। আজ সে ভিষন খুশি ।

আয়ান ফোন থেকে ভিডিওটা বের করে ফারজানার চোখের সামনে ধরলো। ফারজানা বলে উঠলো," এটা তুমি কোথায়......???" শেষ না করেই চুপ হয়ে গেলো।

ফারজানাকে চুপ থাকতে দেখে আয়ান আবার বলতে শুরু করলো,

" আমি হতবাক! কিচ্ছু বলার নেই আমার ফারজানা! কিচ্ছু বলার নেই! তুমি কীভাবে ......... তুমি এতোটা খারাপ! এতোটা লোভী! এতটা চরিত্রহীন?"

ফারজানা এইবার চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো,

"হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ .. হ্যাঁ আমি এমন!! আমি এমনই। আমি চরিত্রহীন, লোভী , প্রতারক! অন্তত তোমার So called স্ত্রীর মতো মূর্খ নই যে নিজের স্বামী কে হাতছাড়া করব। আমি ঐ আদ্রিকার মতো অশিক্ষিত নই"

আদ্রিকা কে নিয়ে কথা বলায় আয়ান এইবার হুংকার দিয়ে বলে উঠলো,

" Shut up Farzana. Just shut up! আমার স্ত্রীকে নিয়ে একটা বাজে কথা বলবে না তুমি! আদ্রিকার পায়ের নখের কাছে যাওয়ারও যোগ্যতা নেই তোমার দু*শ্চ*রিত্র মেয়ে"

নিজের নিরপরাধ ভাবিকে নিয়ে অপমান করে কথা বলায় হিমেলের মাথায়ও রক্ত চড়েছিলো। কিন্তু আয়ানের কথা শুনে বক্ষ শীতল হয়ে যায় হিমেলের।

______________________________________

"উহুম উহুম!"

আয়ান ভ্রু কুচকে হিমেলের দিকে তাকিয়ে বলল,

" কী সমস্যা তোর?"

হিমেল মেকি হেসে বলল,

" নাহ্ কিছু না।"

ঐ সময় " ফারজানা, তুমি আর কোনোদিনো তোমার এই চেহারা আমার সামনে আনবে না! আবারো বলছি কোনো দিনো না!" বলেই আয়ান হিমেলকে নিয়ে ঐ রিসোর্ট থেকে হনহন করে বেরিয়ে আসে।

বর্তমানে আয়ান ড্রাইভ করচ্ছে আর হিমেল পাশের সিটে বসে আয়ানকে চেতানোর চেষ্টা করচ্ছে। কিন্তু আয়ানকে দেখে খুব মায়াও হচ্ছে তার। তাই নিজের শ*য়*তা*নি ভাবনা সাইডে রেখে হিমেল আয়ানকে প্রশ্ন করলো,

" ইয়ে মানে...আয়ান তোর কষ্ট হচ্ছে না??"

আয়ান বলল," একটুও না। প্রতারকের জন্য কীসের কষ্ট?"

" হুমমমম.... আয়ান একটা প্রশ্ন করি?"

"বল...."

হিমেল বেশ অসস্তি নিয়ে বলল,

"তুই কি আদৌও ফারজানাকে ভালোবেসেছিলি??"

সাথে সাথে গাড়ি থামিয়ে অবাক চোখে হিমেলের দিকে তাকালো আয়ান, বলল, " মানে ?"

" ভালোবাসা কোনো ছেলে খেলা নয় আয়ান যে এই ভেঙে গেল আর এই সব শেষ হয়ে গেলো! তুই একটু ভেবে দেখতো, তুই যদি সত্যিই ওকে মন থেকে ভালবাসতি, যদি সত্যিই ভালোবাসা নামক কোনো শব্দ বা অনুভূতি ওর প্রতি তোর থাকতো, তাহলে তুই এখন এভাবে চুপচাপ থাকতে পারতি না! এতো শান্ত থাকতে পারতিনা! তুই কত সুন্দর করে ঠান্ডা মাথায় ওকে ত্যাগ করে এলি! কিন্তু তোর মধ্যে একটুও কষ্ট নেই! একটুও যন্ত্রণা নেই ! তবে তুই যদি ওকে ভালবাসতি, তাহলে তুই এখন কুড়ে কুড়ে মরতি, একটুও শান্তিতে থাকতে পারতি না। আমি তোকে এটা ১০০% নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, তুই আদৌ কখনো ফারজানাকে ভালোই বাসিস নি! কখনো ভালোবাসিস নি!!"

আয়ান শুধুমাত্র অপলক দৃষ্টিতে হিমেলের দিকে তাকিয়ে থাকলো। হিমেল তার একটি হাত আয়ানের ঘাড়ে আলতো করে রেখে বলল,

" ভাই আমার! তুই এখনো ভালোবাসার অর্থ জানিসনা! সত্যিকারের ভালোবাসাটা খুঁজে দেখ! আশেপাশেই আছে হয়তো! কিন্তু তুই দেখতে পাচ্ছিস না! আর হ্যাঁ, আজ যেমন ফারজানাকে ঘৃণা করছিস, ঠিক তেমনি একদিন তুই ওকে ধন্যবাদ জানাবি, তোর জীবন থেকে ওর প্রস্থানের জন্য!"

চলবে..........................

⚠️বি:দ্র: বিশাল এক পর্ব দিলাম🙃 যাক ফারজানা নামক শাকচুন্নি টা বিদায় হয়েছে।😅 এখন শুধু দুই জোড়া পাখির মিলনের কাহিনী হবে😉। পাঠকগণ, গল্পে এখন থেকে একটু আকটু রোম্যান্স হতে পারে🙂💝। আগেই বলে রাখলাম। আমি নির্দোষ! 🙅‍♀️🙆‍♀️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন