#তোর_ছোঁয়ায়_ফাগুন
#পর্ব_১৪
#লেখিকা_অনামিকা_তাহসিন_রোজা
আয়ান বারান্দায় রাবেয়া বেগমের কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে। রাবেয়া বেগম সযত্নে ছেলের মাথা আলতো হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। রাবেয়া বেগম বুঝতে পেরেছেন যে আজ তাঁর ছেলে অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছে। নাহলে চোখের পানি ফেলতো না! তাই নীরব আছেন।
এইদিকে আয়ান ঘাপটি মেরে শুয়ে আছে মায়ের কোলে। কিন্তু গভীর রাতের নিস্তব্ধতা আয়ানের মনোভাবকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রাতের অন্ধকার যেন এক অগাধ সমুদ্র, যেখানে চাঁদের ক্ষীণ আলো কোনো কিছু স্পষ্ট করে না। আকাশে বাতাসে ঘন কুয়াশার মতো যেন কিছু অজানা বেদনা বিরাজ করছে। নীচের শহরের আলো দূর থেকেই ঝলমল করছে, যেন হারিয়ে যাওয়া আশার সুতোর মতো। বাতাসে গাছের পাতাগুলি কাঁপছে, তাদের সুরীলা সঙ্গীত যেন রাতে আরও গভীর শূন্যতার অনুভূতি এনে দিচ্ছে। তার হৃদয়ের কষ্ট যেন রাতের প্রতিটি অন্ধকার কোণায় লুকিয়ে থাকা। এই নিঃসঙ্গ মুহূর্তে, রাতের শান্তি তার আত্মাকে একাকীত্বের আরো গভীরে নিয়ে যাচ্ছে, তাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে তার অভ্যন্তরীণ বেদনার কথা।
আয়ানের এখন বারবার মনে পড়চ্ছে সেই রাতের কথা, যেদিন সে আদ্রিকার গায়ে হাত তুলে বাসর ঘর থেকে বের করে দিয়েছিলো। আয়ানের খুব ইচ্ছে করচ্ছে নিজেকেই পেটাতে! কেনো এত কষ্ট দিলো সে মেয়েটাকে? ফারজানার মোহে এসব করল সে! আয়ানের মাথায় আরেকটা কথাও ঘুরপাক খাচ্ছে। আদ্রিকা সত্যিই তাকে ভালোবাসে? প্রথম থেকে করা সমস্ত সেবা যত্ন আয়ান মনে করচ্ছে। আদ্রিকা কখনোই তাকে অসম্মান করেনি! সবসময় তার কথা ভেবেছে! আচ্ছা এটাই কি তবে ভালোবাসা? তাহলে কি হিমেলের মতে সত্যিই আমি ভালোবাসার অর্থ এতোদিন বুঝিনি! এই যে আমার এখন আদ্রিকার জন্য বুকটা ফেটে যাচ্ছে! এটা কি ভালোবাসা বলা যায়! এসব ভাবতে ভাবতে আয়ান নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে রয়েছে পূর্ণিমা চাঁদের দিকে।
এমন সময় আয়ান ডেকে উঠলো , " মা!"
রাবেয়া বেগম চমকে গেলেন। আজ কত দিন পর তার ছেলে তাকে "মা" বলে ডাকলো। আমেরিকা থেকে পড়াশোনা করে আসার পর থেকেই আয়ান কখনো মা বলে ডাকেনি,,,,আজ মা ডাক শুনে রাবেয়া বেগম আবেগে আপ্লুত হয়ে বললেন,
" বল বাবা !"
আয়ান অসহায় কন্ঠে বলল,
" আমি এখন কী করব?"
রাবেয়া বেগম ছেলেকে খোঁচা দিতে মজার ছলে বললেন,
" আর কী করবি! আদ্রিকাকে ডিভোর্স দিবি।"
আয়ান তাৎক্ষনিক মায়ের কোল থেকে ফট করে উঠে চেঁচিয়ে বলল,
" অসম্ভব!! জীবনে সম্ভব না !! বিয়েটা কি ছেলে খেলা পেয়েছো ? তোমার যখন ইচ্ছে তখন আমি বিয়ে করবো! আবার তোমার যখন ইচ্ছে তখন আমি ডিভোর্স দেবো!! এতো সহজ! বিয়ে করেছি তোমার ইচ্ছেতে, এখন সংসার করবো আমার ইচ্ছে মতো।"
রাবেয়া বেগম অমায়িক হাসলেন। আর বললেন,
" ডিভোর্স এর কথা কে প্রথম বলেছে হুম?"
আয়ান এবার একটু মিইয়ে গিয়ে বলল,
" আমি কি আর জানতাম নাকি যে ওই মেয়ে আমাকে ভালোবেসে ফেলেছে ? আমি তো ভেবেছিলাম ও আমার সাথে থাকতে অস্বস্তি বোধ করছে বা আমাকে ঘৃণা করছে। এই জন্য তো ডিভোর্স দিয়ে মুক্তি দিতে চাইলাম! কিন্তু এখন যেহেতু ও আমাকে ভালোবাসে, সেহেতু ওকে ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না!! ও চাইলেও এখন ডিভোর্স পাবে না!!
পরক্ষণে সে আবার বলল,
" আচ্ছা মা, আমি কি ওকে ভালবাসি?"
রাবেয়া বেগম বললেন,
" তোর কি মনে হয়?"
আয়ান মায়ের পাশে বসে বলল,
" হয়তো না। তবে ওর প্রতি একটা অদ্ভুত টান আছে। জানো মা, ওর আশেপাশে থাকলে এখন কেন জানি খুব শান্তি অনুভব করি। ওর চেহারাটা দেখলে খুব প্রশান্তির অনুভব হয় আমার। যেন মনে হয় আমার বুকে বা পাশটা পরিপূর্ণ। ফারজানাকে নিয়ে কখনো এমন অদ্ভুত অনুভূতি হয়নি।"
কিছুক্ষণ থেমে আয়ান আবার বলল,
"তবে এটা ভালোবাসা না।আমি তো ওকে ওর মত করে ভালবাসতে পারিনি।ও আমাকে যেমন ভাবে ভালোবেসেছে তার তুলনায় কিছুই করিনি। হয়তো আমি এখন ওকে ভালোবাসি না। কিন্তু "বিয়ে" এবং "কবুল" নামক দুটি শব্দের আকর্ষণের জন্যই ওর প্রতি আমার এতটা টান আছে। তবে মা, আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি। আমি ওর মন জয় করেই ছাড়বো। জানি ও আমায় ভালোবাসে। কিন্তু আমি ওকে এক নতুন রূপধারী আয়ানকে ভালোবাসতে বাধ্য করবো। ও যেমন আমাকে ভালোবাসে, ঠিক তার থেকেও বেশি ভালোবাসা দিয়ে আমি ওকে আমার করে নেব।"
রাবেয়া বেগম চকচক চোখে বললেন,
" ইনশাআল্লাহ্। "
কিছুক্ষণ পর আয়ান বলল,
" মা তুমি কি জানি বলতে চেয়েছিলে আমাকে?"
রাবেয়া বেগম বললেন,
"নাহ্ কিছু না এমনিতেই। তুই এখন ঘুমোতে যা। আর আদ্রিকার বিষয়টা তুই কী করবি সেটা তোর ব্যাপার!"
আয়ান বলল, " আচ্ছা ।"
আয়ান চলে যেতে নিলে রাবেয়া বেগম আবারো ডেকে উঠলেন, " আয়ান!"
" বলো মা।"
রাবেয়া বেগম আবেগী কন্ঠে বললেন,
" আজ থেকে আমায় "মা" বলেই ডাকিস বাবা। তোর মুখে "মা" ডাকটা শুনে আমার যে ভীষন ভালো লাগে রে। আমার সেই ছোট্ট আয়ানের কথা মনে পড়ে যায়। বিদেশিদের মতো "মম মম" করিস না তো!"
আয়ান একটা সুন্দর হাসি দিয়ে বলল, " আচ্ছা মা"
সেই রাতে আদ্রিকা কাঁদতে কাঁদতেই ঘুমিয়ে পরলো।
__________________________________________
রাবেয়া বেগম ঘুমোনোর আগে আজিম চৌধূরী কে কল করলেন।
" হ্যাঁ রাবু, শুভ সকাল।"
রাবেয়া বেগম বিরক্তি নিয়ে বললেন,
"রাখো তোমার শুভ সকাল! এখানে এখন রাত বুঝেছো।"
" ওওও হ্যাঁ হ্যাঁ ।"
" শোনো ...তোমার ছেলের চোখ খুলে গেছে।"
আজিম চৌধূরী অবাক হয়ে বললেন,
" সত্যিই??????"
"হ্যাঁ। সবই আদ্রিকার জন্য! বলেছিলাম না আদ্রিকাই তোমার ছেলেকে লাইনে আনবে! এখন শুধু ওদের একটু সময় দরকার........."
" আলহামদুলিল্লাহ। শোনো আমেরিকায় আসার ব্যাপারটা বলেছো ওদের?"
" না এখনো বলিনি। কাল সকালে সবাই কে একসাথে বলব। আমার মনে হয় আমেরিকায় যাওয়ার ব্যাপারটা ওদের জন্য ভালো হবে। তাহলে আয়ান আর আদ্রিকা একটু স্পেস পাবে।"
"আমারো তাই মনে হয়। "
___________________________________________
একটি নরম আলো ধীরে ধীরে পৃথিবীর ওপর ঝরে পড়ছে। পাখিদের মিষ্টি কণ্ঠস্বর দূরের গাছ থেকে ভেসে আসছে, আর শিশিরবিন্দু রোদের ছোঁয়ায় মুক্তোর মতো ঝিকিমিকি করছে। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে তাজা ফুলের ঘ্রাণ, যেন প্রকৃতির নতুন দিনের শুরুতে এক বিশেষ বার্তা দিচ্ছে। সূর্য আকাশের কোণে উঠে আসছে, তার সোনালী আলো পুরো পৃথিবীকে রাঙিয়ে তুলছে। সবকিছুতে যেন এক অদ্ভুত শান্তি, নীরবতা আর নতুনত্বের ছোঁয়া। নতুন দিনের শুরু, নতুন সম্ভাবনা—এমনই একটি সকাল, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তের মধ্যে একটি নতুন গল্পের শুরু লুকিয়ে আছে।
ঘুম থেকে উঠেই আদ্রিকা নিচে গেলো। আজ উঠতে একটু দেরি হয়ে গেছে । নিচে গিয়ে দেখলো যে রাবেয়া বেগম উঠে পড়েছেন।
" মা, আমি কি ঘুম থেকে উঠতে দেরি করে ফেললাম নাকি!"
" না রে আদ্রিকা। আমি তাড়াতাড়ি উঠলাম। শোনো এই নাও কফি...একটা রামিসার ঘরে আরেকটা আমার ছেলের ঘরে দিয়ে এসো। আর হ্যাঁ আয়ানকে একটু ঘুম থেকে ডেকে দিও তো।"
আদ্রিকা অবাক হয়ে বলল, " আমি!!!!!"
" হ্যাঁ তুমি। আর শোনো তোমাদের তিনজনের সাথে আমার একটা জরুরি কথা আছে। তাড়াতাড়ি ওদেরকে আসতে বলো।"
আদ্রিকা প্রথমে রামিসার ঘরে গিয়ে তাকে ডেকে দিলো। আর তাকে ফ্রেশ হয়ে নিচে যেতে বলল। এরপর আয়ানের ঘরে গেলো।
________________________________________
আদ্রিকা যখন আয়ানকে ডাকতে এগিয়ে আসে, তার দৃষ্টি আটকে যায় আয়ানের মুখের ওপর। আয়ানের মুখে ছড়িয়ে থাকা এক অদ্ভুত মাধুর্য, যার গভীরে সে ডুবে যায়। আয়ানের চেহারায় যেন এক অপার্থিব সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে। তার ত্বক যেন দীপ্তিময়, ঘন কালো চোখের পাতা ভারী হয়ে বন্ধ, যেন কোনো সুরম্য স্বপ্নের দেশে ভেসে যাচ্ছে। তার নাকের শীর্ষ, মুখের কাটা-কাটা রেখা, আর গালের হালকা ছাপ যেন কোনো নিপুণ শিল্পীর হাতে গড়া মূর্তি। রাতে ঘুমানোর কারণে আয়ানের চুলগুলো একটু এলোমেলো, আর তার ত্বকে যেন সকালের রোদের মৃদু আভা লেগে আছে। আয়ানের নাকের ওপরে হালকা তেল চকচক করছে, যা তাকে আরও মোহনীয় করে তুলেছে।
আদ্রিকার চোখ ঘুরে যায় আয়ানের নিখুঁত নাকের দিকে, যেখানে তেলের সেই মৃদু জেল্লা এক ধরনের কোমল উষ্ণতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। তার নিঃশ্বাসের সাথে ত্বকের মসৃণতার এই মিশ্রণ যেন আদ্রিকার হৃদয়ে এক নীরব সুর সৃষ্টি করে।
আদ্রিকা মুগ্ধ হয়ে আয়ানের মুখের প্রতিটা খুঁটিনাটি দেখছে, যেন কোনো শিল্পকর্মের উপর তার দৃষ্টি আটকে গেছে। সে নীরবে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে থাকে, যেন আয়ানের ঘুমন্ত মুখ তার হৃদয়ে এক অম্লান স্মৃতি হয়ে থাকবে।
আদ্রিকার মনে হয়, এই সৌন্দর্যকে একবারে ছুঁয়ে দেখা উচিত, কিন্তু সে নিজের হাত সরিয়ে নেয়। আয়ানের চোখের পাতাগুলো আলতোভাবে বন্ধ, আর তার নিঃশ্বাসের সুরেলা ছন্দ যেন এক অপার্থিব সঙ্গীত। ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা সেই চিরচেনা হাসি, যেন কোন সুখস্বপ্নের ছোঁয়া।
আদ্রিকা অনেকক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে, মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে।তার একদমই তাকে ডাকতে ইচ্ছে করচ্ছে না। সকালের শান্তি, আয়ানের মুখের কোমলতা, আর তার নাকের সেই তেলের চকচকে আভা—সব মিলিয়ে আদ্রিকা এক অপূর্ব মায়ায় আবদ্ধ হয়ে যায়। সে আয়ানকে ডাকতে ভুলে যায়, বরং এই মুহূর্তটা চিরকাল ধরে রাখতে চায়, যেন এই সকালের মায়াবী মুহূর্তে তারা একসাথে হারিয়ে যেতে পারে।
কিছুক্ষণ পর নিজের ইচ্ছে দমিয়ে রাখতে না পেরে বিছানার পাশে বসে আলতো হাতে আয়ানের এলোমেলো চুলগুলো ঠিক করে দেয়।তারপর উঠে দাঁড়িয়ে আয়ানকে ডাকতে শুরু করে .......
" উহুম উহুম..শুনছেন ..উঠে পড়ুন। সকাল হয়ে গেছে ...."
তার এই মিউট রেডিও এর আওয়াজ কি আর আয়ানের কানে পৌছেছে??
আদ্রিকার মাঝে মাঝে খুব হাসি পায় এটা ভেবে যে ,এই লোক তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠার জন্য রামিসাকে বকাবকি করে, অথচ নিজেই মাঝে মাঝে বেলা করে ঘুম থেকে উঠে।
আরেকটু ডাকাডাকি করার পর আয়ানের চোখ পিটপিট করে নড়তে দেখা দিলো। আদ্রিকা আবারো ডাকলো,
" উঠে পড়ুন ,,মা ডাকছে।"
আলতো করে চোখ খুলে সাতসকালে আদ্রিকা কে নিজের ঘরে দেখে অবাক না হয়ে পারলো না আয়ান। ধরফর করে বিছানা থেকে উঠে পড়ল। আর ঘুমঘুম মোহনীয় কন্ঠে বলে উঠলো,
" দেরি হয়ে গেছে আদ্রিকা? আরেকটু আগে ডাকতে।"
আদ্রিকা থমকে গেলো!!! এই প্রথমবার আয়ান ওর নাম ধরে ডেকেছে! এই ৯ মাসে কোনোদিনো আয়ান আদ্রিকার নাম ধরে তাকে ডাকেনি! আয়ানের মুখে আদ্রিকা নিজের নাম শুনে অবাকের চূড়ান্ত পর্যায়ে। আয়ানের মুখে তার নাম টা কত মোহনীয় লাগে!! আদ্রিকার ইচ্ছে করলো আরেকবার আয়ানের মুখে তার নামটি শোনার। হয়তো বা আয়ান তার মনের কথা কোনো এক জাদুকরী মাধ্যমে বুঝে গিয়েছিলো। তাই আয়ান আবার বলল,
" কী হলো আদ্রিকা? স্ট্যাচু অব লিবার্টি হয়েছো কেনো?"
আদ্রিকা এইবার একটা ঢোক গিলে বলল,
" মা আপনাকে ডাকছেন,,,,,,,,কিছু নাকি বলতে চান। এই কফিটা আপনার।" বলেই আদ্রিকা আর এক সেকেন্ড ও দাঁড়ালো না! রকেটের স্পিডে আয়ানের ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো।
আয়ান একটু মুচকি হেসে ভাবলো,
" মেয়েটা কি ভয় পেলো নাকি লজ্জা পেলো!"
____________________________________________
আয়ান কফিটা খেয়ে ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে আসলো। আয়ানকে আসতে দেখে রাবেয়া বেগম বললেন,
"হ্যাঁ রে আয়ান, তাড়াতাড়ি আয়! কথা আছে!"
" কী কথা মা? এতো সকাল সকাল সবাইকে এনে হাজির করিয়েছো।"
রাবেয়া বেগম সুন্দর করে হেসে বললেন,
" তোদের জন্য একটা সুখবর আছে।"
রামিসা যেনো খুব মজা পেলো! লাফিয়ে বলে উঠলো,
"বলো মম! তাড়াতাড়ি বলো।"
আয়ান আর আদ্রিকা উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রাবেয়া বেগমের দিকে। তাদের দুজনের দিকে একবার তাকিয়ে রাবেয়া বেগম বললেন,
" নয়ন তারার বিয়ে ঠিক হয়েছে ,,,তাও আবার সারজিসের সাথে !!!!"
আয়ান আর রামিসা একসাথে সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে বলল, " Whaaaaaaattttttttttt😱!"
বেচারি আদ্রিকা কিছুই বুঝলোনা! এই নয়ন তারা টা আবার কে? কোথা থেকে এলো!
আয়ান যখন অবাক হওয়ার রেশটা কাটাতে পারেনি, তখন রামিসা বলে উঠলো,
" বিয়ে!! নয়ন তারার! কেন?কখন? কোথায়? কীভাবে?"
আয়ান অভিযোগের সুরে বলে উঠলো,
" মামনীর কি এই কাজ টা করা উচিত হইছে মা!!! আমাদের কে না জানিয়ে নয়ন তারার বিয়ে ঠিক করে ফেলল!! "
রাবেয়া বেগম কিছু বলতে যাবে,,তার আগেই এইদিকে বেচারি আদ্রিকা মিনমিন করে বলল,
" আমাকে কেউ একটু বলবেন যে ঠিক কার বিষয়ে কথা বলচ্ছেন আপনারা?"
আয়ান যেনো এরই সুযোগ খুচ্ছছিলো। উৎসুক হয়ে বলে উঠলো,
" ওকে তুমি চিনবেনা আদ্রিকা। ও আমেরিকায় থাকে। আমার ফুফাতো বোন হয়।"
আদ্রিকা ছোট করে বলল," ওও।"
রাবেয়া বেগম বলে উঠলেন,
" তোরা দেরি করিস না। যা গোছগাছ করার আছে শুরু কর। কাল সকালের ফ্লাইটেই যাবো।"
আদ্রিকা বলল, "মা আমিও!!!!"
রাবেয়া বেগম হেসে বললেন,
"হ্যাঁ মা অবশ্যই। তুমি না গেলে কি করে হবে? আয়ানের ফুফু এমনিতেই খেপে আছে। কারণ তোমাদের বিয়েতে তো আসতে পারে নি। তাই তোমাকেও দেখেনি তোমাকে আর আয়ানকে না নিয়ে গেলে আমাকে আর ঐ দেশে ঢুকতেও দেবে না।"
আদ্রিকা মুচকি হাসলো।
রাবেয়া বেগম মনে মনে ভাবলেন,
" আমার আসল উদ্দেশ্য তো তোমার আর আয়ানের মিল করানো। ওখানে গিয়ে তোমাদের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক করিয়ে তবেই দেশে ফিরবো ইনশাআল্লাহ্!"
চলবে....................
⚠️বি:দ্র: Sooooooooorrrrrryyyyyyyyy,😫,,অনেক অনেক দুঃখিত পাঠকসমাজ🥺। আমি বিয়ের দাওয়াত পাওয়ায় খুব ব্যস্ত ছিলাম। 😥তাই গল্প লেখার সময় টাই পাই নি। Late করে গল্প দেয়ার জন্য অনেক অনেক দুঃখিত🤧 আগামী পর্বে একসাথে আমেরিকা যাব 🙂✈