#তোর_ছোঁয়ায়_ফাগুন
#পর্ব_১৮
#লেখিকা_অনামিকা_তাহসিন_রোজা
আয়ান, আদ্রিকাসহ সবাই প্লেন থেকে নেমে এয়ারপোর্টের ব্যস্ততা পেরিয়ে বেরিয়ে আসে। দরজা পার হতেই তাদের চোখে পড়ে বিশাল আকাশ, যার নীল রঙটা যেন একটু ভিন্ন, একটু বেশি উজ্জ্বল। চারপাশে বিশাল ভবনগুলোর সারি, গাড়িগুলোর শৃঙ্খলিত গতি, আর তাদের কানে ভেসে আসে আমেরিকার শহুরে কোলাহল।
আদ্রিকার চোখে একটা মুগ্ধতা, যেন এতদিনের স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। কোনোদিন আমেরিকায় আসার সুযোগ হয়নি তার। সে আয়ানের দিকে তাকিয়ে একটু হাসে, সেই হাসির মধ্যে লুকিয়ে আছে উত্তেজনা আর নতুনের প্রতি ভালোবাসা। আয়ান তার পাশে দাঁড়িয়ে, এই অচেনা শহরের মধ্যে একটু যেন চুপচাপ। কিন্তু তার চোখের গভীরতায় প্রকাশ পায় এক অদ্ভুত অনুভূতি, যেন সে এই শহরটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে।
তাদের চারপাশে আধুনিক জীবনের স্পন্দন, রাস্তার ধারের ক্যাফেগুলো থেকে কফির মৃদু গন্ধ ভেসে আসে, হালকা বাতাসে মিশে যায় নতুনের সুর। আমেরিকার মাটিতে তাদের প্রথম পা রাখা যেন তাদের জীবনের আরেক নতুন অধ্যায়ের শুরু।
আয়ান এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে একটি ট্যাক্সি বুক করে। ট্যাক্সি ড্রাইভার একটি কালো রঙের সেডান নিয়ে আসে, গাড়ির ভেতরে এসি'র হালকা শীতলতা যেন তাদের ক্লান্তি মুছে দেয়।
ড্রাইভার, একজন প্রায় মধ্যবয়স্ক আমেরিকান, বিনয়ের সাথে তাদের স্বাগত জানায়। তার চোখ এক মুহূর্তের জন্য থেমে যায় আদ্রিকার পোশাকের দিকে—, যা সে আগে কখনো দেখেনি। এয়ারপোর্টের সবার মতো ড্রাইভারও আদ্রিকার পরনে নাম না জানা অদ্ভুত পোশাক দেখে একটু অবাক হয়। শেষে কৌতূহলী চেপে রাখতে না পেরে বিভ্রান্তির সাথে, কিন্তু আন্তরিকভাবে জিজ্ঞেস করে,
"That’s a unique outfit, ma'am. What’s it called?"
তার কণ্ঠে কৌতূহল আছে, তবে তা খুবই স্বাভাবিক ও বিনয়পূর্ণ।
আদ্রিকা বলার আগেই আয়ান হেসে উত্তর দেয়,
"It’s called a saree."
ড্রাইভার মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়, নামটা তার জন্য নতুন হলেও, সে বুঝতে পারে এটি বিশেষ কিছু।
ড্রাইভার তাদের লাগেজ গাড়িতে তুলে দেয় এবং দরজা বন্ধ করে। গাড়ি ছাড়ার সময়, ড্রাইভার আর কোনও বাড়তি প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে স্বাভাবিকভাবে চালাতে থাকে। তবে তার মনোভাব থেকে বোঝা যায়, তিনি আদ্রিকার পোশাকের প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধা অনুভব করছেন, যদিও এটি তার জন্য একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা। কারন আমেরিকায় এরকম শালীন পোশাক পড়ে মেয়েদেরকে দেখা যায় না! এরকম রুপময়তা তো প্রথম দেখছে সে!
এদিকে, আয়ান আদ্রিকার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছে, সে তো ইচ্ছাকৃতভাবেই শাড়ি পড়িয়ে এনেছে—এই ভিনদেশের মাটিতে বাঙালিয়ানার প্রতিনিধিত্ব করতে।
ড্রাইভার ক্যালিফোর্নিয়ায় তাদের বাড়ির ঠিকানা জানতে চায়, এবং তারা সেই ঠিকানা ড্রাইভারকে জানায়।
গাড়িটি ধীরে ধীরে শহরের ব্যস্ত সড়ক ধরে চলতে শুরু করে। চারপাশে উঁচু উঁচু ভবন, গাছপালা, এবং লোকজনের কোলাহল দেখতে দেখতে তারা যেতে থাকে। আয়ান জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকে, চোখে মুগ্ধতা এবং নতুন শহরের অচেনা সৌন্দর্যকে দেখে সে কিছুটা গভীর চিন্তায় ডুবে যায়। আদ্রিকা কে এখানে আনার কারণ, তার সাথে সবকিছু নতুন করে শুরু করা। সবকিছু ঠিকঠাক হবে তো? নাকি আদ্রিকা তাকে ভুল বুঝবে এই ভেবে যে শুধুমাত্র ফারজানা ছেড়ে চলে গেছে দেখেই সে আদ্রিকাকে গ্রহণ করেছে! আয়ানের বুকটা ছ্যাঁত করে উঠলো। সে মোটেও এমন কিছু চিন্তা করে না! সে সত্যিই খুব বাজে ভাবে আদ্রিকাকে ভালোবেসে ফেলেছে! এখন তো এমনও হয় যে আদ্রিকার সামনে এলে আয়ানের মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দেয়। থেমে যায় তার হৃদস্পন্দন! আগের মতো আর কঠোর ব্যক্তিত্ব আসে না! এই ভালোবাসা ভীষন ভয়ানক ! আয়ান নীরবে খুব করে প্রার্থনা করে যাতে সব ঠিক হয়ে যায়!
আদ্রিকা পাশে বসে, মাঝে মাঝে আয়ানের দিকে তাকায়, তার মুখে এক ধরণের অদ্ভুত প্রশান্তি। তারা গাড়ির ভেতরে বসে শহরের বিভিন্ন স্থান দেখতে দেখতে চলতে থাকে। ড্রাইভার মাঝে মাঝে কথা বললেও, তারা দুজনই মগ্ন থাকে নিজেদের চিন্তায়।
তবে এইদিকে রাবেয়া বেগম নীরব থাকলেও হিমেল আর রামিসার মধ্যে নীরবে চোখে চোখে যুদ্ধ চলে! একে অপরকে যেন লবণ দিয়ে খেয়ে ফেলার ক্ষমতা আছে দুজনেরই! যেন একটা ফাঁকা মাঠে এদের নামিয়ে দেয়া গেলেই এরা কুস্তি শুরু করতে একটুও সময় নেবে না!
কিছুক্ষণ পর, শহরের কোলাহল একটু কমে যায় এবং গাড়ি হাইওয়ে ধরে চলতে শুরু করে। রাস্তার দুই পাশে বিশাল খোলা প্রান্তর, দূরে পাহাড়ের সারি, সূর্যের আলো সেই পাহাড়ের চূড়ায় পড়ে একধরনের সোনালী আভা সৃষ্টি করেছে।
আদ্রিকা তখন জানালার পাশে মাথা ঠেকিয়ে হালকা হাসি দিয়ে বলে, "ক্যালিফোর্নিয়া ঠিক যেমন কল্পনা করেছিলাম, তার থেকেও বেশি সুন্দর।"
আয়ান মুচকি হেসে নীরবে মাথা নাড়ে, তার চোখে একটা স্বপ্নিল চাহনি, যেন এই নতুন ভূমিতে সে অনেক কিছু নতুন করে শুরু করতে চায়। তারা ধীরে ধীরে ক্যালিফোর্নিয়ার পথে এগিয়ে চলে, সামনে তাদের অপেক্ষা করছে নতুন জীবন, নতুন অভিজ্ঞতা।
ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছে গাড়ি যখন অনিমা চৌধূরী বাড়ির সামনে আসে, তখন সূর্যটা একটু ঢলে পড়েছে, আকাশের রঙ কমলা আর গোলাপী মিশিয়ে তৈরি করেছে এক অপূর্ব দৃশ্য। বাড়িটি আধুনিক স্থাপত্যের নিদর্শন, সাদা রঙের দেয়াল, বড় বড় জানালা, এবং সামনে ছোট্ট একটি সবুজ লন। লনের মাঝখানে একটি লেবু গাছ, আর তার পাশে কাঠের একটি বেঞ্চ।
আয়ান ব্যাগপত্র নিয়ে সবাইকে সাথে করে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। দরজার উপর একটি ছোট্ট চিমনি, আর তার পাশে লাল রঙের সুন্দর একটি ফুলের টব ঝুলছে। আদ্রিকা ধীরে ধীরে আয়ানের পাশে এসে দাঁড়ায়, তার চোখে কৌতূহল আর উত্তেজনা।
দরজার কলিং বেল বাজতেই আয়ানের ফুফু দরজা খুলে দেয়! রামিসা আর হিমেল একসাথে চেঁচিয়ে উঠে বলে,
"চলে এসেছি!!!!!"
অনিমা চৌধূরী আধুনিক এবং রুচিশীল একজন মহিলা, যার প্রতিটি পদক্ষেপেই আত্মবিশ্বাসের ছাপ রয়েছে।তার ত্বক কিছুটা মলিন, কিন্তু তার মুখের রেখায় গভীরতা ও অভিজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট। তার চোখগুলো উজ্জ্বল ও কৌতূহলী, যেন প্রতিটি নতুন ঘটনার পেছনে কোনো গল্প খুঁজে বেড়াচ্ছে। তার ঠোঁটে একটি নরম হাসি লেগে আছে, যা স্নেহের ছাপ বহন করে। তিনি সাধারণত হালকা রঙের সুতি শাড়ি পরেন, যা তাকে আরও পরিমার্জিত এবং স্নিগ্ধ করে তোলে।
অনিমা চৌধূরী চেঁচানোতে প্রথমে একটু অবাক হলেও পরক্ষণে খুশিতে আপ্লুত হয়ে বললেন,
" আরে!!! তোমরা চলে এসেছো!! "
রাবেয়া বেগম বললেন,
" একটু তাড়াতাড়ি চলে আসলাম অনিমা।"
অনিমা চৌধূরী তাদেরকে বাড়ির ভেতর টানতে টানতে নিয়ে আসলেন আর বললেন,
" কী যে বলো ভাবি! এসো এসো। আয়ান বাবা ! দেখি একটু তোকে! কতদিন দেখেনি তোকে!!" বলেই আয়ানকে টেনে কাছে এনে কপালে চুমু খেলেন।
আয়ান কাতর কন্ঠে বলল, " তুমি কেমন আছো মামনী?"
অনিমা চৌধূরী বললেন,
" খুব ভালো আছি বাবা! তোকে দেখে যে বুকটা ঠান্ডা হয়ে গেলো আমার!"
এরপর তিনি হিমেল আর রামিসাকে কাছে টানলেন।
" তোরা কেমন আছিস রে!"
হিমেল আগে ভাগে অনিমা চৌধূরী কে জড়িয়ে ধরে বললেন,
" ঝাক্কাস্!!!"
এতক্ষণে অনিমা চৌধূরীর চোখ আটকালো কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আদ্রিকার ওপর! অনিমা চৌধূরী বিচক্ষণতার সাথে চোখের চশমাটা হাত দিয়ে ওপরে ঠেলে রাবেয়া বেগমের দিকে প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকালেন।
রাবেয়া বেগম চোখ দিয়ে ইশারা করে "হ্যাঁ" বোঝালে মুহূর্তের মধ্যেই অনিমা চৌধূরীর মুখে এক প্রশান্ত এবং উচ্ছ্বসিত হাসি ফুটে ওঠে।
তার পরের মুহূর্তেই তিনি এগিয়ে এসে আদ্রিকাকে আন্তরিকভাবে জড়িয়ে ধরেন, যেন পুরোনো কোনো প্রিয়জনকে পুনরায় পাওয়ার আনন্দে আপ্লুত হয়েছেন।
" তুমিই তাহলে আমার সেই কাঙ্খিত বৌমা হুম?"
আদ্রিকা আয়ানের দিকে এক পলক তাকিয়ে বিনয়ের সাথে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বোঝালো। আর বলল,
" কেমন আছেন মামনী?"
অনিমা চৌধূরী যেন খুব খুশি হলেন! মেয়েটা কত মিষ্টি করে কথা বলে!
" অনেক বেশি ভালো! তুমি আমায় "আপনি" ডেকোনা! "তুমি" ডাকবে কেমন?
আদ্রিকা আবারো আগের ন্যায় মাথা দোলায়।
"তুমি যে এত সুন্দর, এত মিষ্টি, ভাবতেই পারিনি!"
বলে অনিমা চৌধূরী প্রশংসায় মুগ্ধতার ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তার এই উচ্ছ্বাস ও খুশি হওয়ার প্রতিক্রিয়া আদ্রিকার মনে এক ধরনের স্নেহ ও শ্রদ্ধার জন্ম নেয়।
এরপর অনিমা চৌধূরী রাবেয়া বেগম কে এক গর্বিত এবং স্নেহপূর্ণ দৃষ্টিতে দেখে বলেন,
"ভাবি তোমার পছন্দ সত্যিই দারুণ হয়েছে, এ যেন ঠিক আমার কল্পনার মতোই! একদম যোগ্য এবং হীরের টুকরা এনেছো!"
রাবেয়া বেগম কৃতজ্ঞতা হাসি হাসলেন। আয়ান লজ্জায় মাথা চুলকালো। হিমেল আর রামিসাও খুব খুশি হলো। রামিসা তো খুশির ঠেলায় হিমেলের বাহু জড়িয়ে বলল,
" মামনী ভাবি কে পছন্দ করেছে! এইবার সবকিছু ঠিকঠাক হবেই! তাইনা?"
এভাবে আচমকা বাহু জড়িয়ে ধরায় হিমেল থতমত খেলেও রামিসার কথা শুনে ওর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,
" হুম ইনশাআল্লাহ্!"
এরপর রামিসার হুঁশ ফিরতেই হিমেলের বাহু তৎক্ষনাত ছেড়ে দেয়। হিমেল বাঁকা হেসে বলে,
" আমি কিছু মনে করিনি। After all, আমি অনেক ভদ্র, সভ্য, সুশীল, বুদ্ধিমান একটা ছেলে।" বলেই গর্বে নিজের শার্টের কলার ঝাঁকালো।
রামিসা মুখ ভেঙচালো!
অনিমা চৌধূরী বলে উঠলেন,
" যাও যাও তোমরা উপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও। নয়ন তারা একটু বন্ধুদের সাথে বেরিয়েছে। একটু পরেই চলে আসবে।"
_________________
অনিমা চৌধূরীর বাড়ির ভেতরে ঢুকে প্রথমেই চোখে পড়ে একটি খোলা পরিকল্পনার লিভিং রুম, যেখানে কাঠের মেঝে, নরম সোফা আর বড় জানালা দিয়ে দূরের পাহাড়ের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। জানালার পর্দা বাতাসে হালকা দুলছে, বাইরে থেকে আসা হালকা বাতাস ঘরের ভেতরে একধরনের সতেজতা এনে দেয়।
বাড়ির একপাশে একটি ছোট্ট রান্নাঘর, যেখানে সাদা মার্বেলের কাউন্টারটপ আর স্টেইনলেস স্টীলের যন্ত্রপাতি ঝকঝক করছে। দেয়ালে কিছু কালো-সাদা ছবি, যা এই বাড়ির ইতিহাসের গল্প বলে।
অনিমা চৌধূরীর স্বামী এক বছর আগেই অ্যাকসিডেন্টে মারা গিয়েছেন। এটাকে অকাল মৃত্যুও বলা যায়! স্বামীর মৃত্যুর পর অনিমা বেগমকে সবাই দেশে ফিরতে অনেক জোরাজোরি করেছিল। কিন্তু অনিমা বেগম কিছুতেই এ বাড়ি ছেড়ে, এই দেশ ছেড়ে যেতে রাজি হননি। কারণ তিনি তো তার প্রিয় মানুষের হাত ধরে এই দেশেই এসেছিলেন।এই বাড়িতে তার এবং তার স্বামীর কত ভালোবাসা পূর্ণ স্মৃতি! এসব ছেড়ে সে কোনভাবেই যেতে পারেনি। এক অদৃশ্য আকর্ষণ তাকে এই বাড়িতে রাখতে বাধ্য করেছিলো! পরবর্তীতে তিনি তার একমাত্র মেয়ে, নয়ন তারা কে নিয়ে এখানেই বসবাস শুরু করেন। নয়ন তারা বড় হয়ে যাওয়ায় এখন তিনি তার বান্ধবীর ছেলে সারজিসের সাথে বিয়ে ঠিক করেন।
_______________
আদ্রিকা ফ্রেশ হয়ে ধীরে ধীরে বাড়ির ভেতরে ঘুরতে থাকে, এক এক করে প্রতিটি ঘর দেখে। খুব পরিপাটি করে বাড়িটা গোছানো।আদ্রিকা পুরো বাড়ি ঘুরে একটি ঘরের সামনে এসে থামে, সেটা তাদের বেডরুম। অনিমা চৌধূরী বলেছেন যে সে আর আয়ান এই ঘরেই থাকবে! তখন থেকেই মেয়েটা খুব চিন্তায় আছে! সে তো আয়ানের সাথে কখনোই এক ঘরে থাকেনি! এখন তাকে থাকতে হবে! সেই লজ্জায় সে ফ্রেশ হয়ে তৎক্ষনাত ঘর থেকে বেরিয়ে পরেছিলো। এখন আবার এই ঘরেই ঢুকতে হবে। ঘরে ঢুকে সে দেখতে পায় একটি বড় নরম বিছানা, সাদা চাদর আর নীল বালিশের কভার, পাশে একটি জানালা যার বাইরে সূর্যের শেষ আলো ফিল্টার হয়ে ভেতরে আসছে।
আয়ান ফ্রেশ হয়ে এসে আদ্রিকাকে দেখে একটু হাসে, তারপর ধীরে ধীরে বিছানার উপর বসে। আদ্রিকা কী করবে বুঝতে না পেরে আস্তে আস্তে তার পাশে এসে বসে, চোখে ক্লান্তি কিন্তু মুখে সন্তুষ্টির ছাপ। তাদের এই বাড়ি যেন তাদের নতুন জীবনের একদম উপযুক্ত সূচনা, যেখানে তারা নিজেদের গল্প গড়ে তুলবে।
চলবে.....................
⚠️বি:দ্র: ১০২° জ্বর নিয়ে আজকের পর্ব লিখলাম😓। আসলে আজকে নতুন পর্ব না দিলে মনটা উসখুস করছিলো🥺 বানান ভুল হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। একটু খাপছাড়া হয়েছে মনে হয়! রিচেইক দিই নি। প্রিয় পাঠকগণ, মানিয়ে নেবেন প্লিজ!🤧💝 জ্বর কমলে কালকেই পরের পর্ব আসবে! নাহলে ইনশাআল্লাহ্ পরশু দিন পরের পর্ব দিবো🌸❣