ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর ছোঁয়ায় ফাগুন

২৫তম পর্ব

লেখক: অনামিকা তাহসিন রোজা

#তোর_ছোঁয়ায়_ফাগুন

#পর্ব_২৫

#লেখিকা_অনামিকা_তাহসিন_রোজা

ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মাঝে এয়ারপোর্টের সামনে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে মিশাত। একটু আগেই সে খবর পেয়েছে কিছুক্ষণের মধ্যেই আদ্রিকাদের ফ্লাইট ল্যান্ড করবে। আসলে নয়নতারার বিয়ের পর তারা আরো কিছুদিন আমেরিকায় থাকতে চাইলেও, রামিসার কলেজ, আয়ানের অফিস এবং অন্যান্য কাজের জন্য তাদেরকে তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে হয়েছে। অনিমা চৌধুরী বারবার অনুরোধ করার পরেও কাজ হয়নি। নয়নতারার বৌভাতের পরের দিনই তারা রওনা দিয়েছে। আসার সময় আয়ান সারজিস ও নয়নতারাকে দাওয়াত দিয়ে এসেছে। অনিমা চৌধুরীর খুবই মন খারাপ কারণ তারা এত তাড়াতাড়ি চলে এসেছে।কিন্তু কিছু করার নেই। আয়ানের অফিসের সমস্ত কাজ আটকে রয়েছে। এমনকি আদ্রিকা রাবেয়া বেগমেরও বাড়িতে মন টানছিল। এজন্য বিয়ের পরে তারা আর দেরি করেনি। হঠাৎ করেই মিশাত আদ্রিকাদের ফিরে আসার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি করে গাড়ি নিয়ে এয়ারপোর্টে এসে গেছে, তাদেরকে রিসিভ করার জন্য। এমনিতেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে!

একটু পরেই এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা গেল তাদের সবাইকে। মিশাত উৎফুল্ল হয়ে এগিয়ে গেল তাদের দিকে। এতদিন পর প্রাণের বান্ধবী আদ্রিকাকে দেখে চিল্লিয়ে জড়িয়ে ধরল। রাবেয়া বেগম ও আজিম চৌধুরী ভয় পেলেন মিশাতের তুফানের ন্যায় আগমনে। মিশাতে হঠাৎ আক্রমণে আদ্রিকাও হকচকিয়ে গেল। আজিম চৌধুরী বলে উঠলেন,

" বাবারে বাবা! এতো মেয়ে নয়! আগুনের গোলা! এত জোরে কেউ চেঁচায়!"

মিশাত হুঁশ ফিরে পেয়ে ঘাড় চুলকিয়ে বলল,

"আসলে আঙ্কেল! অনেকদিন পর দেখেছি তো আমার বেস্টিকে! এজন্য আটকে রাখতে পারিনি! হেহে!"

রামিসা আয়ানের পেছন থেকে উঁকি মেরে বলল,

"এইযে, কেমন আছে মিশাত আপু?

মিশাত আরেক দফা চেঁচিয়ে উঠলো,

" আরে !!! তোমাকে তো দেখতেই পাইনি! এসো একটু জড়িয়ে ধরি!" বলেই তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরলো।

আয়াম অবাক হয়ে বলল,

" সেকি! এই বিচ্ছু দুটোর চেনা পরিচিতি কবে হলো? রামিসা তোর সাথে কবে মিশাতের এত বনিবোনা হলো?"

রামিসা মিশাতকে চোখ মেরে বলল,

" অ্যাকচুয়ালি, এটা আমাদের পার্সোনাল ব্যাপার !"

মিশাত বলল,

" হুম ঠিকই বলেছ। আর এমনিতেও আশেপাশে কখন কি হয়ে যায়, সেটা তো কেউ বুঝতেও পারে না!!"

হিমেল বলে উঠলো,

" ইয়ে আয়ান..আমার মনে হয় এরা আগের জন্মে জমজ বোন ছিল। হয়তোবা এই জন্মেও ছিল। কিন্তু মেলাতে হারিয়ে গিয়ে দুজনের বিচ্ছেদ হয়েছে!!!"

সবাই হেসে উঠলেও রামিসা মুখ কুঁচকে হিমেলের দিকে তাকালো। ফালতু লোক একটা! আমার সব বিষয়েই তাকে নাক গলাতে হয়!

আদ্রিকাও এই বিষয়টা জানতো না। সেও অবাক হয়ে বলল,

" তাই তো!!! এইই তোদের দুজনের কবে দেখা-সাক্ষাৎ হলো রে মিশাত!!"

মিশাত একটু ভাব নিয়ে বললো,

"That's none of your business! আর সেটা তোমাদের না জানলেও চলবে।"

আদ্রিকা চোখ পাঁকালো!!!

রাবেয়া বেগম বলে উঠলেন,

" তোমাদের জড়াজড়ি শেষ হলে এবার আমরা বাড়িতে যাই?? যা বৃষ্টি শুরু হয়েছে!! বাড়িতে পৌঁছতে না পারলে তো ভিজে যাব!!"

আয়ান বলল,

" হ্যাঁ ঠিকই বলেছ। আকাশটাও খুব একটা ভালো নয়। মনে হচ্ছে ভালোই বৃষ্টি আসবে। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাওয়া ভালো ।"

মিশাত আদ্রিকার হাত থেকে ব্যাগ নিয়ে বলল,

" হ্যাঁ সেই ভালো! চলুন সবাই। আমি গাড়ি এনেছি।"

______________________

"কি ব্যাপার বলতো, রামিসা? তুমি এইকয়দিন আমাকে একটুকু সময় দাওনি!! বিষয়টা কি ঠিক হলো?"

" রাজিব তুমি এমন করছো কেন বলতো? তুমি তো খুব ভালো করেই জানো, এই কয়দিন ভাবি সবসময় আমার সাথেই থাকতো। একটুও যদি টের পেতো তাহলে কি হতো? আর তাছাড়া এই কয়দিনের বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেক ব্যস্ত ছিলাম। একটু আগেই বাড়িতে আসলাম।"

"সে যাই হোক, তুমি কিন্তু কাল আমার সাথে দেখা করতে আসবে।"

" কালকেই!!অসম্ভব !! সম্ভব নয় ! কালকে যাওয়া একদমই সম্ভব নয় ! "

"আমি কিচ্ছু শুনতে চাই না রামিসা! তুমি কাল আসবে মানে কাল আসবেই। আমি সিটি পার্কে অপেক্ষা করব। বাই।"

" আরে আরে শোনো ........"

রাজিব কথা না শুনেই কল কেটে দিলো। রামিসা বিরক্তিতে শ্বাস ফেলে বিছানায় ধপ করে বসে পড়ল। তার মাথায় এখন কিছু ঢুকছে না! কি করা উচিত? কি করলে ঠিক হবে? কিছু বুঝতে পারছে না সে!!! রামিসার সাথে রাজিবের রিলেশনশিপের প্রথম কয়েকদিন খুব ঠিকঠাক চললেও সম্প্রতি তাদের মধ্যে একটু ঝামেলা হচ্ছে। সত্যি বলতে রাজিবের ভালোবাসাটা এখন রামিসার কাছে কেমন যেন মিথ্যা মনে হয়! আগে তো এমন হতো না! এখন এমন হওয়ার কারণ কী? কাল কী অযুহাতে বাড়ি থেকে বের হবে সেই চিন্তা করতে করতে রামিসা বিছানায় শুয়ে পড়ল।

ক্লান্তিতে চোখটা লেগে আসলে রামিসা ধীরে ধীরে যখন চোখ বন্ধ করে, তখনই চোখের সামনে ভেসে ওঠে হিমেলের হুমকি স্বরূপ সেই কঠোর বাক্যখানি,

" রাজিবের সাথে যেন আর কথা বলতে না দেখি!!!"

ফট করে রামিসার চোখ খুলে গেল। এখন মাথায় আরেক ভাবনা করতে ঘুরতে থাকলো! এই লোক কেন রাজিবের সাথে তাকে কথা বলতে বারণ করেছে? ঐদিন কেন হিমেল এরকম আচরণ করল তার সাথে? হিমেল তো তার কখনো খারাপ চাবে বলে মনে হয় না! আবার চাইতেও পারে বলা যায় না! ওইদিন ওই লোকটা এমন করে কেন রেগে গেল? রাজিবকে সে চিনলোই বা কিভাবে? রামিসা পরবর্তীতে নিজের ভাবনাতে নিজেই বিরক্ত হল! আশ্চর্য ! এখন ঐ চিকার বাপের কথা সে কেন ভাবছে? সে যা খুশি তাই বলুক! তার কথা সে শুনবেই বা কেন!! আজব ব্যাপার!!!

________________

এইদিকে মাত্র ফ্রেশ হয়ে বাথরুম থেকে বেরিয়ে বিছানার উপর গভীরভাবে চিন্তায় মগ্ন থাকা আদ্রিকাকে দেখে ভ্রু কুচকে ফেলে আয়ান। এর আবার কি হলো? আয়ান একটু দুষ্টু হেসে তোয়ালে টা ঠিক জায়গায় রেখে ভাবনায় মগ্ন থাকা আদ্রিকার কোলে ধুপ করে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে। আদ্রিকা প্রথমে একটু হকচকিয়ে গেলেও পরে আয়ানকে দেখে মুচকি হাসে। আয়ান বলে,

" মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দাও তো। মাথাটা ব্যাথা করছে।"

আদ্রিকার যত্ন সহকারে আয়ানের মাথায় হাত রেখে মাথা মালিশ করতে থাকে। আদ্রিকার হাতের এই মালিশ আয়ানের প্রথম থেকেই পছন্দ। সেই প্রথম যেদিন ধমক দিয়ে তার কাছে নিজের মাথা মালিশ করে নিয়েছিল, তখন থেকেই আদ্রিকার হাতের মালিশ আয়ানের খুবই পছন্দ। আয়ান আবেশে চোখ বন্ধ করে রাখে। আদ্রিকা আবারো ডুবে যায় তার গভীর ভাবনায়।

এইবার আয়ান চোখ বন্ধ রেখেই জিজ্ঞেস করে,

" আমার বউটার কী হয়েছে?"

"ক,,, কই? কিছু না। কিছু হয় নি।"

আয়ান মুচকি হেসে বলে,

"আমার চোখ ফাঁকি দেওয়া এত সহজ না মিসেস চৌধুরী। নিশ্চয়ই আপনার কিছু হয়েছে ,এই জন্যই গভীর ভাবনায় ডুবে আছেন। এখন বলুন তো কি হয়েছে? "

কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আদ্রিকা বলে ওঠে,

"উম...আপনাকে একটা কথা জানাতে চাই। ভুল বুঝবেন না তো?"

আয়ান আদ্রিকার কোল থেকে মাথা উঠিয়ে আদ্রিকার সামনে বসে। এরপরে দুই হাত দিয়ে আদ্রিকার গাল ধরে বলে,

"কী বলবে? নিঃসংকোচে বলে ফেলো।"

আদ্রিকা বলে,

" আসলে বিষয়টা রামিসা কে নিয়ে। আমি একটু চিন্তায় আছি। "

আয়ান সন্দিহান কন্ঠে বলে,

"কেন কী হয়েছে?"

" আসলে বিষয়টা কিরকম আমি জানিনা। শুধু সন্দেহ মনে হচ্ছে আরকি। ও হয়তো কোনো কিছু নিয়ে খুব টেনশনে আছে। আর গতকাল ও যখন আমার সাথে লাগেজ গোছাচ্ছিলো, হঠাৎ রামিসা বাথরুমে যায়, তখন ওর ফোনে একটা মেসেজ আসে। ফোনটা আমার সামনেই ছিলো। তাই চোখ পরে যায়। কেউ একজন মেসেজ করে বলেছিল যে," আমাকে কল দাও প্লিজ। আই মিস ইউ..... এরকম কিছু ছিল।"

আয়ান মনোযোগ দিয়ে শুনচ্ছে। আদ্রিকা একটু থেমে আবারো বলল,

"বলা ঠিক হবে কিনা জানিনা, রামিসা হয়তোবা কোন রিলেশন আছে।"

আয়ান অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো আদ্রিকার দিকে আর জিজ্ঞেস করলো,

" তারপর?"

আদ্রিকা আবার বলল,

"আজ হিমেল যাওয়ার আগে আমাকে বলে গেল,আমি যেন রামিসার দিকে ঠিকঠাক নজর রাখি। আমি ওকে কারণ জিজ্ঞেস করলে ও বলল যে সেটা নাকি ও আপনাকে পরে জানাবে।"

এইবার আয়ানও একটু চিন্তায় পড়ে গেল। রামিসা কি কোনো কিছুতে জড়িয়ে গেছে? মনে মনে হিমেলের সাথে বিষয়টা নিয়ে আলাপ করার সিদ্ধান্ত নিলো আয়ান।

চলবে....................

Note: মন মেজাজ কোনোটাই একদম ঠিক নেই। প্রচুর মেন্টাল স্ট্রেসের মধ্যে আছি।😓 সকাল থেকে মাথাটাও এইজন্য খুব ব্যাথা। তাই এটুকুই লিখতে পারছি 🙁। রিচেইক দিইনি।একটু কষ্ট করে মানিয়ে নিন পাঠকগন ❣

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন