ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর ছোঁয়ায় ফাগুন

৩৪তম পর্ব

লেখক: অনামিকা তাহসিন রোজা

#তোর_ছোঁয়ায়_ফাগুন

#পর্ব_৩৪

#লেখিকা_অনামিকা_তাহসিন_রোজা

গাড়ির মধ্যে একটা নিস্তব্ধতা ছড়িয়ে আছে, যেন শব্দের চেয়ে অনুভূতিগুলো গভীর হয়ে উঠেছে। বাইরের দৃশ্যগুলো দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু হিমেল তো রামিসার মধ্যে ভেতরের অস্থিরতা যেন সময়কে থমকে দিয়েছে। বিকেলের দিকেই হিমেল রামিসাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে! আদ্রিকা হিমেলকে কল করে জানিয়েছে যাতে হিমেল রামিসাকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে যায়। তখন থেকেই তারা একে অপরকে সাথে আর কথা বলেনি! রামিসা চুপ ছিলো লজ্জায় আর হিমেল চুপ ছিলো চিন্তায়! আসলেই সে ভেবে দেখলো যে আয়ানকে জানানো খুব একটা সহজ কাজ হবে না।

রামিসার হাতের আঙুল গাড়ির কাঁচের জানালার ধারে আলতোভাবে স্পর্শ করছে, তার চোখ বাইরে, কিন্তু মন হিমেলের দিকে। হিমেল স্টিয়ারিং ধরে থাকলেও মাঝে মাঝে রামিসার দিকে তাকানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু মুখে কোনো কথা নেই। হালকা একটা শ্বাসের শব্দ ছাড়া চারপাশে আর কিছু শোনা যাচ্ছে না। দু’জনের মনের ভেতর ভালোবাসার গভীরতা, কিন্তু অপ্রকাশিত সেই ভালোবাসা যেন গাড়ির বদ্ধ বাতাসে চেপে বসেছে। থাক না এমন কিছু নীরবতা যা জীবনের এক অধ্যায়ের সোনালী অক্ষরে গাঁথা থাকে আজীবন!

এইদিকে আবার আয়ান আর আদ্রিকা মিলে প্লান করেছে যে, আয়ান যে সব জানে সেটা হিমেল ও রামিসাকে এখনি জানতে দেবে না! একটু না ঘোরালে কীসের ভালোবাসা!

______________________________

গাড়ি আয়ানদের বাড়িতে এসে থামলে রামিসার মনটা যেন হঠাৎ ভারি হয়ে ওঠে। কিছু একটা বলার ইচ্ছা হয়েছিলো, কিন্তু ঠোঁটের কাছে এসে সেই কথা আটকে যায়। হিমেল রামিসার দিকে একবার তাকিয়ে গাড়ির দরজা খুলে দেয়, রামিসা ধীরে ধীরে গাড়ি থেকে নামতে শুরু করে। পায়ের নিচে মাটির স্পর্শ পেলেও মন যেন তখনো গাড়ির ভেতরে, হিমেলের কাছেই। কী হলো তার? এমন লাগচ্ছে কেনো? কেনো এই লোকটার কাছ থেকে এখন যেতেই ইচ্ছে করচ্ছে না! উত্তর জানা নেই আপাতত!

হিমেল কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে তাকিয়ে থাকে, কিন্তু মুখে একটাও শব্দ আসে না। চোখে চোখ পড়তেই দুজনের মাঝে যেন এক গভীর সংলাপ হয়, অথচ তা মুখে বলা হয়নি। রামিসা এক পা দু'পা এগিয়ে যায় , কিন্তু মনে হয় যেন প্রতিটি পদক্ষেপে কিছু একটা ফেলে যাচ্ছে, যা আর ফিরে পাবে না। হঠাৎ পেছন থেকে হিমেল ডেকে উঠে,

"রামিসা!!!"

রামিসা থমকে দাঁড়ালো! এই প্রথম! হ্যাঁ এই প্রথম হিমেল রামিসার নাম উচ্চারণ করলো! তার নাম ধরে ডাকলো! হিমেলের মুখে নিজের নাম শুনে রামিসা স্তব্ধ হয়ে গেল। এ কেমন মিষ্টি অনুভূতি!!! তার নামটা এই লোকটার মুখে এত সুন্দর লাগছে কেন!!

ঘুরে দাঁড়ালো মেয়েটা। সাথে সাথে মুখোমুখি হলো এক তীক্ষ্ম ঈগলের ন্যায় চোখ জোড়ার!! হিমেল অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে রয়েছে।

রামিসা অসস্তি নিয়ে বলল,

" কিছু বলবেন?"

হিমেল বাঁকা হেসে বলল,

" তেমন কিছু না। শুধু একটা কথা মনে রেখো মেয়ে! তুমি চাইলেও তুমি আমার! তুমি না চাইলেও তুমি আমার! তোমার ইচ্ছা থাকলেও তুমি আমার! এমনকি তোমার ইচ্ছা না থাকলেও তুমি আমার! সব সময়, সর্বদা, প্রত্যেক ক্ষণে, প্রত্যেকটি মুহূর্তে তুমি আমার!!! শুধুই আমার !!"

বলেই আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না হিমেল! ইঞ্জিন স্টার্ট করে ঝড়ের গতিতে সাঁই সাঁই করে ধুলো উড়িয়ে চলে গেলো ! পেছনে ফেলে গেলো এক স্তব্ধ উৎসুক চোখ জোড়া!!

___________________________

আয়ান বিছানার ওপর বসে ল্যাপটপে কাজ করচ্ছিলো।হঠাৎ আদ্রিকাকে তড়িঘড়ি করে ঘরে ঢুকতে দেখে আয়ান বলে উঠলো,

" কী হলো বউ? এতো তাড়াহুড়ো করে ঘরে ঢুকচ্ছো যে! এত তাড়া কীসের? রো'মা'ন্স করার মুড এসে গেছে নাকি!"

আদ্রিকা যতটাই উৎসুক হয়ে ঘরে এসেছিলো, আয়ানের কথায় ঠিক ততটাই চুপসে গেলো। অ'শ'ভ্য পুরুষ! নিজের মতো সবাইকে ভাবে! এই লোকটা কে নিয়ে আর পারা গেলো না! এই জন্মে আর বদলাবে না! আদ্রিকা মুখ কুচকে বলল,

"এতো প্রয়োজনীয় একটা কথা বলতে এসেছিলাম! মুডটাই নষ্ট করলেন তো ! নিজের মতো আমাকে ভাবেন!!"

"আরে আরে ! কী যে বলো বউ! সরি সরি! আচ্ছা বলো কী বলতে এভাবে ডাকাতের মতো ঘরে ঢুকলে?"

"শুনুন রামিসা বাড়িতে এসেছে একটু আগে।"

" তাই নাকি? ভালো তো!"

আদ্রিকা বিরক্তির স্বরে বলল,

"আরে আগে শুনুন ভালো করে। একটু আগে কলিং বেল বাজলে আমি গিয়ে দরজা খুলে দেখলাম রামিসা এসেছে। কিন্তু আপনি বিশ্বাস করবেন না! মেয়েটার মুখটা পুরো বাংলা পাঁচের মত হয়ে ছিল! এমন ভাবে ছিল যেন মেয়েটার....উফ্ আমি আপনাকে বোঝাতে পারছি না! ওর মুখটা একদম ঝুলে ছিল জানেন!"

আয়ান চোখ পিটপিট করে বলল,

"তাতে কি হয়েছে বউ? অনেকক্ষণ বাইরে ছিল! অস্বস্তিতে, ক্লান্তিতে মুখ ঝুলিয়ে ছিল হয়তো।"

আদ্রিকার এবার ইচ্ছে করল, স্যানাটাইজার খেয়ে আ'ত্ম'হ'ত্যা করতে! এ কাকে সে কি বুঝাচ্ছে!!

আদ্রিকা চোখ কপালে তুলে বললো,

"আপনি কি বোকা? বুঝতে পারছেন না বিষয়টা? "

আয়ান দু দিকে মাথা দোলালো যার অর্থ সে আসলেই বুঝতে পারছে না। রামিসা যে হিমেলের সাথে দেখা করতে গিয়েছে সেটা একটু আগেই রামিসা বলি দিয়েছে আয়ানকে। তাও সে বুঝচ্ছে না!

আদ্রিকা আশেপাশে তাকিয়ে আয়ানের একদম কাছে চলে এলো। ফিসফিস করে বলল,

"আমার মনে হয়, রামিসাও হিমেলকে ভালোবাসে। কিন্তু এখন সেও বিভ্রান্তিতে ভুগছে। আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম যে ,তুমি হিমেলকে সরি বলেছো? হিমেল এর কথা বলতেই কেমন করে যেন তাকালো ও! "

আয়ান তখনও আদ্রিকার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে। মেয়েটা কী বলার চেষ্টা করছে?

আদ্রিকা আরেকটু ফিসফিস করে বলল,

" আমার মনে হয়, এভাবে হবে না। আমাদেরকে একটু সাহায্য করতে লাগবে। আমাদের সাহায্য ছাড়া ওদের এই রেশারেশি ঠিক হবে না। ওরা দুজনেই নিজেদের মতো করে

ভেবে আছে। আমার মনে হয় আমাদের সাহায্য করাটা দরকার! এমন কিছু একটা করতে লাগবে যাতে দুজন দুজনকে কনফেস করতে বাধ্য হয়! যদিও ইতিমধ্যে হিমেল নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করে ফেলছে। কিন্তু আপনার বোনের ভালোবাসা প্রকাশ করাটা এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"

আয়ান এবার নিজের ল্যাপটপটা বন্ধ করে বিছানার সাইডে রেখে বলল ,

"বউ আমার! যেভাবে তুমি মানুষের ভালোবাসার কথা ভাবছো, সেভাবে যদি তুমি আমার ভালোবাসার কথা ভাবতে তাহলে এতদিনে আমার ডজন খানেক বাচ্চা কাচ্চা হয়ে যেত!"

________________________

রাতের খাবারের সময়ও আদ্রিকা লক্ষ্য করল রামিসার মনটা খুব একটা ভালো নেই। সে এক ধ্যানে খাবারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। কিন্তু কোনো রকম খাবার খাচ্ছে না। আয়ান এবার আমি তাকে উদ্দেশ্য করে বলল,

"খাবারের কোনো সমস্যা হয়েছে রামিসা? খাচ্ছিস না কেন?"

আয়ানের কথায় রামিসার হুঁশ এলো। সে তৎক্ষনাত মাথা দুই দিকে নেড়ে বললো,

"না না ভাইয়া! খাবার ঠিক আছে। সুন্দর হয়েছে খাবার। খাচ্ছি তো ।"

রামিসার এলোমেলো কথায় আদ্রিকা মুচকি হাসলো। এরপর আয়ানের দিকে আড় চোখে তাকালো আর ইশারা করে কিছু একটা বোঝালো। আয়ান বিজ্ঞের মতো উপরনিচ মাথা নাড়ল।

একটু পরে আয়ান আদ্রিকাকে উদ্দেশ্য করে বলল,

"মা-বাবা কবে আসবে আদ্রিকা?"

আদ্রিকা তরকারি বাটিটা রামিসার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বলল,

"বড়মা নাকি খুব অসুস্থ। এ কারণে মা বলল আরো কিছুদিন থাকবে গ্রামে।"

আয়ান মাথা নেড়ে বলল,

" ও আচ্ছা। মা-বাবা আসলেই আমরা তাহলে পাত্র দেখতে যাই নাকি? এর মধ্যে আমি ঐ ঘটকের সাথে আলাপ আলোচনা সেড়ে নিই!"

আদ্রিকা বলল, "হ্যাঁ সেটাই ভালো!"

আয়ানের কথায় রামিসার টনক নড়ল। কার পাত্র? কীসের ঘটক? রামিসা উৎসুক হয়ে বলল,

" কীসের ঘটক ভাইয়া? কার জন্য পাত্র দেখতে যাবে?"

আয়ান আয়েশ করে চিকেন লেগ পিস চিবোতে চিবোতে বলল,

"ওমা ! কার আবার ! তোর!"

ওমনি রামিসার খাওয়া বন্ধ হয়ে গেলো! প্রাণহীন চোখে তাকিয়ে রইলো আয়ানের দিকে। অতি কষ্টে কয়েক পলক ফেলে কাঁপা কন্ঠে বলল,

" আ,,আমার মানে? "

আদ্রিকা মিষ্টি হেসে বলল,

" তোমার মানে আমার কিউট ননদের !"

কেনো জানি রামিসা মনে এবং মস্তিষ্কে এখন হিমেলের কথাগুলো ভাসছে। বারবার কানে বাজতে লাগলো সেই কথাগুলি!"শুধু একটা কথা মনে রেখো মেয়ে! তুমি চাইলেও তুমি আমার! তুমি না চাইলেও তুমি আমার! তোমার ইচ্ছা থাকলেও তুমি আমার! এমনকি তোমার ইচ্ছা না থাকলেও তুমি আমার! সব সময়, সর্বদা, প্রত্যেক ক্ষণে, প্রত্যেকটি মুহূর্তে তুমি আমার!!! শুধুই আমার !!" রামিসার হাত কাঁপতে শুরু করলো! কেনো জানি কেমন অদ্ভুত অনুভূতি আসচ্ছে! আচ্ছা লোকটা তো তাকে নিজের বলে সম্বোধন করেছে! তাহলে নিশ্চয়ই এই বিয়ে হতে দেবে না তাই না! কিন্তু তখন কি ভাইয়া আর উনার মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগবে! এসব ভেবেই এসির মধ্যেও রামিসা ঘামতে শুরু করলো! অস্বাভাবিক অস্থিরতা কাজ করচ্ছে মনের ভেতর!

রামিসার এমন অস্থিরতা চোখ এড়ালোনা আয়ান ও আদ্রিকার। তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসলো।

_____________________

রামিসা ঘরে এসে রীতিমতো পায়চারি করচ্ছে। কিছুতেই অস্থিরতা কমাতে পারচ্ছে না। মম আর বাপ্পি বাড়িতে এলেই আয়ান পাত্র দেখতে যাবে। কথাটা মনে পড়লেই বুকটা কেনো জানি ধক করে উঠচ্ছে! কী করবে কিচ্ছু বুঝতে পারচ্ছে না! বরাবরের মতোই এমন কঠিন একটা সময় তার বেস্ট ফ্রেন্ড মণির কথা মনে পড়ল। দেরি না করে দ্রুত ফোন হাতে নিয়ে কল করলো মণিকে। কিন্তু কল টা ধরার সাথে সাথেই ওপাশ হতে ভেসে এলো এক পুরুষালি কন্ঠস্বর।

" হ্যালো কে বলচ্ছেন?"

রামিসা থমকে গেলো। উহু, মণির কল কোনো এক ছেলে ধরেছে দেখে সে থমকে যায় নি ,,সে তো থমকে গিয়েছে কারণ এই কন্ঠস্বর তার খুব চেনা! আগন্তুক আবারো বলল,

"কে বলচ্ছেন? কথা বলচ্ছেন না কেনো?

এইবার রামিসার মাথায় বাজ ভেঙে পড়লো। এই কন্ঠস্বর তো !!! হ্যাঁ এই কন্ঠ হিমেলের! সে তার কন্ঠস্বর শুনতে ভুল করবে না! মণির কল হিমেল কেনো ধরেছে? হিমেল কি তাহলে মণিকে চেনে? আর চিনলেও এতো রাতে ওরা একসাথে আছে কেনো? তাহলে কি তাদের মধ্যে সম্পর্ক আছে? তবে কি হিমেল তার সাথে মজা করলো? তার বলা প্রত্যেকটি কথা কি তাহলে সব মিথ্যা? সব নাটক? সবই অভিনয়? রামিসার বুক ফেটে কান্না আসলো! সাথে সাথে কলটা কেটে দিলো সে।

এইদিকে হিমেল বিরক্তির সাথে ফোনটা কান থেকে নামালো। আজব পাবলিক তো! ফোন দিলো, অথচ কথা বলল না! খানিকক্ষণ বাদেই মণি বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলো। হিমেল বলল,

" কিরে কে তোকে এত রাতে ফোন দেয়?"

মণি বলল ,

"কে ফোন দিয়েছে?"

"জানিনা, আমি কল ধরেছিলাম। কথা বলল না,কেটে দিয়েছে ।" বলেই ফোনটা মণির দিকে এগিয়ে দেয়। মণি ফোনটা হাতে নিলো! আরেহ্! এটা তো রমিসার নাম্বার! আসলে রামিসার সাথে ঝগড়া হওয়ার কারণে, মণি তার নাম্বারটা ডিলিট করে দিয়েছিলো। এর জন্য রামিসার নাম্বারটা সেভ করা ছিল না, আর ফোনে স্ক্রিনে ভেসে ছিলো আননোন নম্বর!

মণিই চমকে গিয়ে এক হাত মাথায় দিয়ে বলল,

" হায় আল্লাহ্!!! ভাইয়া তুমি কি কথা বলেছিলে নাকি!"

"হ্যাঁ .......কেনো ?"

মণি কপাল চাঁপড়ে বলল,

"আরেহ্ এটা তো রামিসার নাম্বার!"

হিমেল চমকে গেলো! বলে কী এই মেয়ে? রামিসার নাম্বার মানে! ফট করে হিমেল মণির হাত থেকে ফোনটা নিয়ে নাম্বারটা দেখলো। এটা তো আসলেই রামিসার নাম্বার! সে এটা খেয়াল করলো না কেনো? শীট্!

আসলে রামিসার বেস্ট ফ্রেন্ড মণি হলো হিমেলের ছোট বোন। কিন্তু রামিসা সেটা জানি না। হিমেল তার কাজের জন্য বাড়িতে থাকে না, নিজের ফ্ল্যাটে থাকে। সেই কারণে রামিসাষজানেনা যে মণির একটা বড় ভাই আছে, আর সেটা হিমেলই। কিন্তু মণি ঠিকই জানে সেটা আর হিমেলের অনুভূতির কথাও জানে। এমনকি রাজিব রামিসাকে তুলে নিয়ে যাবে, এই বিষয়টা রামিসা একমাত্র মণিকেই জানিয়েছিল, আর মণি হিমেল কে জানিয়ে দিয়েছিল। এই কারণেই হিমেল সঠিক সময়ে রামিসাকে বাঁচাতে পৌঁছে যেতে পেরেছিল। হিমেল এটা লুকিয়ে রেখেছিল যে, মণি তার ছোট বোন হয়। তবে আয়ান এটা জানতো। একমাত্র মণিকে দিয়েই তো হিমেল রামিসার সব খবরাখবর পেতো। হিমেল আজ নিজের মায়ের জোরাজুরিতে বাড়িতে এসেছিল। কিন্তু সে বাড়িতে এসে এমন একটা পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে জানলে,বাড়িতে আসতোই না। এভাবে ধরা পড়ে যাবে, সে ভাবতেও পারে নি!

মণি ভয়ার্ত কন্ঠে বলে উঠলো,

"ভাইয়া, রামিসা আবার ভুল বুঝলোনা তো? ও তো জানেনা যে আমি তোমার বোন!"

হিমেল কিছু বলল না। কিছুক্ষণ পর ফোন হাতে নিয়ে আদ্রিকাকে কল করলো। কল ধরলে হিমেল বলে উঠলো,

"ভাবি...শেষ বারের মতো একটা সাহায্য করবে ?"

______________________

দুদিন পর,,,,,,,,

এই দুই দিনে হিমেল হাজার বার রামিসাকে কল করেছে। কিন্তু রামিসা কল ধরেনি! এটা রাগ নাকি অভিমান সে নিজেও জানে না ! কিন্তু এই বহুরূপী মানুষের সাথে সে আর একটা কথাও বলবে না! মণির নাম্বার টাও রামিসা ব্লক করে দিয়েছে!

সকাল সকাল হিমেলকে বাড়িতে আসতে দেখে আদ্রিকা অবাক না হয়ে পারলো না!

"হিমেল তুমি!!! এতো সকালে?"

হিমেল মাথা চুলকে বলল,

"ভাবি,, আয়ান বাড়িতে আছে?"

"না...আজ অফিসে মিটিং আছে। তাই তাড়াতাড়ি চলে গেছেন উনি। তুমি ভেতরে এসো।"

হিমেল বাড়ির ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল,

"ভাবি .....রামিসা ঘরে আছে?"

"হ্যাঁ ,আছে। আচ্ছা ওর কিছু হয়েছে নাকি বলোতো! তিনদিন ধরে মুখটা ঝুলিয়ে রেখেছে! আবার........"

হিমেল ভ্রু কুচকে বলল,

"আবার কী ভাবি?"

আদ্রিকা একটু ধীরে ধীরে বলল,

" আসলে তোমার বন্ধু ঠিক করেছিল যে বাবা মা বাড়িতে আসলে আমরা রামিসার জন্য পাত্র দেখতে যাবো। আমরা রামিসাকেও বিষয়টা জানিয়েছিলাম। আমি তো তোমার বিষয়টা জানি। এই কারণে আমিও মজা করে উনার সাথে তাল মিলিয়ে বলেছিলাম যে আমরা ছেলে দেখতে যাব। অবশ্য এটা একটা ......যাই হোক কিন্তু এটার জন্য রামিসা প্রথমে মন খারাপ করেছিল। তবে কোনো এক কারমে গতকাল ও আমাদের ঘরে এসে উনাকে বলে গিয়েছে যে ও নাকি বিয়েতে রাজি!!"

হিমেল বিষয়টা বুঝতে পেরে বলল,

" একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে ভাবি। ও আমার ফোনও ধরচ্ছে না!"

হিমেল এবার একটু নমনীয় হয়ে বলল,

"আচ্ছা ভাবি, তুমি অনুমতি দিলে আমি একটু রামিসার ঘরে যেতাম। শুধু কথা বলতাম আরকি!"

আদ্রিকা একবার রামিসার ঘরের দিকে তাকিয়ে বলল,

" হুম যাও সমস্যা নেই।"

হিমেল কৃতজ্ঞতার হাসি হেসে উপরে রামিসার ঘরের দিকে পা বাড়ালো। নিশ্চিত, আজ রামিসার খবর আছে !!!

চলবে...................................

^** অনেক বড় একটা পর্ব দিলাম😊 এখন কেনো জানি আদ্রিকার থেকে রামিসাকেই বেশি সময় দিচ্ছি! রামিসাকেই মূল নায়িকা মনে হচ্ছে!😐 ব্যাপার না! দুই জুটিই আমার প্রিয়🤧 **^

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন