ফন্ট সাইজ:
থিম:
বিবাহ সমাচার

১ম পর্ব

লেখক: মিশকা মুন

০১.

"আম্মা আপনে কী আমারে বিয়া দিতেন না। আর কতকাল বউ ছাড়া থাকব? স্বপ্নে আমার বউ আইসা কান্নাকাটি করে শ্বশুর বাড়ি আসার জন্য তার কষ্ট আর আমার পরাণে সয় না আম্মা।"

ছোট ছেলে সংগ্রামের আফসোস শুনে কথা চৌধুরী মোটেও রাগ করলেন না। তিনিও অসহায় মুখ নিয়ে ছেলের পাশে বসে কাঁধে হাত দিয়ে নরম কণ্ঠে বললেন,

"আব্বা আমিও তো চাই তুমি বিয়া করো কিন্তু তোমার বড় ভাই বিয়া না করলে তোমারে কেমনে বউ আইনা দিমু কও?"

কথাগুলো বলেই মা ছেলে একে অপরের মুখের দিকে তাকালো। কিছু সময় দুজনেই চুপ থাকলো। একটু সময় নিয়ে সংগ্রাম আবার বলল,

" আম্মা আপনার ছেলের সাথে জোর কইরা একটা বিয়ে পাগল মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন।"

কথা চৌধুরী বড় বড় করে তাকিয়ে বললেন,

"কিন্তু কীভাবে?"

সংগ্রাম কুটিল হেসে মায়ের সাথে বসে বসে কিছু পরিকল্পনা করল। হুট করে সেই রুমে স্বাধীন ঢুকে পড়তেই দুজনেই চুপচাপ। তাদের হঠাৎ থেমে যাওয়া দেখে স্বাধীন ভ্রু কুঁচকে গম্ভীর সরে জানতে চায়,

"দুজনে কী কুবুদ্ধি করছিলেন যে আমায় দেখে থেমে গেলেন?"

কথাটায় ঘোর আপত্তি জানালো সংগ্রাম লাফিয়ে উঠে

বলল,

"কুবুদ্ধি কেনো করব? সুবুদ্ধিও তো করতে পারি অযথা

কিছু কইবা না দাদা।"

স্বাধীন সে কথা শুনে বিড়বিড় করে বলল,

"শয়তানের মাথায়ও সুবুদ্ধি আসে?"

০২.

"ও মোর খোদা! দুনিয়ার সব মাইয়া ভালো ভালো জামাই খুঁইজা বিবাহ কইরা ফালাইতাছে, আমার জন্য কী একটাও রাখব না নাকি! আমি কবে বিয়ে করমু।"

ইশরাত জাহান সবেই মেয়েদের রুমের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। ছোট মেয়ের মুখে আবার বিয়ের কথা শুনে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন। ধপাস করে দরজা খুলে রুমে ঢুকে বললেন,

"এই সব চিন্তা মাথায় নিয়া ঘুরলে তাই রেজাল্ট ভালো হয়?"

ইভা পাশ ফিরে চাইলো তবে মোটেও ভয় পেলো না। বরং আরো আঁটিসাঁটি হয়ে চেয়ারে পা তুলে বসলো। অতঃপর মায়ের দিক থেকে চোখ সরিয়ে গালে হাত দিয়ে হায় হতাশ করতে করতে বলল,

"বিয়ার বয়সে পড়াশোনা করলে রেজাল্ট তো খারাপ হইবোই।"

ইশরাত জাহানের মনে চাচ্ছিল জুতা খুলে দুই চারটা দিতে। সময় নষ্ট না করে ঝটপট জুতা খুলে হাতে নিতেই দৌড়ে পালিয়ে গেলো ইভা।

০৩.

আরবী গভীর মনোযোগ সহকারে বই পড়ছিল সেই মূহুর্ত হাজির হলো তার দাদিমা মিসেস তিথি। সোজা গিয়ে গিয়ে একদম নাতনির পাশ ঘেঁষে বসলেন। কে এসেছে বুঝতে পেরেই আরবী চোখ মুখ বন্ধ করে জোরে জোরে পড়তে শুরু করলেন। তার এহেন আচরণে দাদিমা বিরক্ত হয়ে বইটা কেরে নিয়ে মুখ ভেঙিয়ে বললেন,

"পোলাপান পড়ানোর বয়সে নিজে পড়ছিস লজ্জা করে না।"

আরবী ছোট ছোট করে তাকালো। এটা কোনো কথা? থমথমে গলায় জবাব দিলো,

" দাদিমা আমার বহুত পড়া বাকি এমনি মাথায় ঢুকছে না এখন জ্বালিয়ো না তো যাও।"

সে কথা শুনে নাক মুখ কুঁচকে ফেললেন বললেন,

" জামাইয়ের মাথা খাওয়ার বয়সে পড়তে বসলে পড়া কী আর মাথায় ঢুকে মেয়ে?"

আরবী রাগলো না। কথার প্রসঙ্গ পাল্টাতে বলল,

"দাদিমা তুমি দিন দিন আরো সুন্দর হয়ে যাচ্ছো কী করে তোমার রুপের রহস্য বলো তো। আর আজ হঠাৎ তোমার গাল দুটো এতো লাল রঙ হয়ে গেছে কেনো?

সঙ্গে সঙ্গে মিসেস তিথি গালে হাত দিয়ে লাজুক হেসে ফিসফিস করে বললেন,

"তোর দাদাভাই এখনো এতো রোমান্টিক কী আর বলমু। আর এটা লাল রঙ না এটা ভালোবাসার রঙ তুই আবিয়াইত্তা জনগণ বুঝবি না সর সর যাইগা।"

০৪.

আফরিন আর লিসা ক্লাসে বসে গল্প করছিল তখনই ইভা মুখ গোমড়া করে ভেতরে ঢুকলো। তার মনমরা দেখেই দুজনেই এক সাথে জিজ্ঞেস করল,

"কী রে ইভু মন খারাপ কেন? আন্টির হাতে কেলানি খেয়েছিস নাকি?"

ইভা বেঞ্চে বসার আগে লিসার ব্যাগ ধরে টানতেই সে চেঁচিয়ে বলল,

"ইভুর বাচ্চা তুই নিজের ব্যাগ দিয়ে বেঞ্চ মুছে বোস।"

ইভা আফরিনের দিকে তাকাতেই দেখলো সে আগে থেকে ব্যাগ কোলে নিয়ে বসে আসে। হতাশ হয়ে পেছন থেকে আরেকজনের ব্যাগ নিয়ে বেঞ্চ মুছে বসে পড়ল। অতঃপর গালে হাত দিয়ে বলল,

"আমার বোধহয় এ জীবনে আর বিয়ে করা হলো না রে।"

"কেনো কী হয়েছে?"

ইভা সব খুলে বলতেই লিসা আর আফরিন একে অপরের দিকে তাকিয়ে হু হা করে হাসতে শুরু করল। এই মেয়েকে নিয়ে আর পারা যায় না এতো বিয়ে পাগল কেউ হয়?

"তোরা হাসছিস কেনো?"

আফরিন হাসি থামিয়ে বলল,

"তোর কী লজ্জা করে না রে আন্টিকে এভাবে বলিস?"

লিসা দাঁত বের করে বলল,

"ওর লজ্জা থাকলে তো।"

ইভা তাদের কথার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে বলল,

"লজ্জা দেওয়ার মানুষ না থাকলে লজ্জা কেমনে

আইবো ক?"

তাদের গল্পের মধ্যেই হঠাৎ ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলো। তিনজনেই দৌড়ে বারান্দায় চলে গেলো। আড্ডা দেওয়ার জন্য তারা সকাল সকাল কলেজে এসে হাজির হয় এখনো তেমন কেউ আসেনি তাই ভিড় কম। সবাই মিলে বৃষ্টির পানি ছুঁয়ে খেলছিল। হঠাৎ আফরিন বলল,

"বৃষ্টির মধ্যে দোয়া করলে কিন্তু কবুল হয়।"

ইভা সাথে সাথে দুই হাত তুলে মোনাজাত ধরে বলল,

"হে খোদা হয় আমার তেনারে তুমি আমার করে দাও,নইলে তোমার করে নাও।"

০৫.

সংগ্রাম তাড়াহুড়ো করে এক গলির মধ্যে থেকে বের হতে গিয়ে এক মোটকু লোকের সাথে ধাক্কা খেয়ে ঠাস করে পড়ে গেলো। আশেপাশে তাকিয়ে আগে দেখলো কেউ দেখেছে কিনা কাউকে দেখতে না পেয়ে ঝটপট উঠে দাঁড়িয়ে চলে যাচ্ছিল। তখন সেই লোকই পেছন থেকে ডাক দিলো,

"এই ছেলে দাঁড়াও।"

সংগ্রাম তাড়াহুড়োর সময়ে পিছু ডাকে অসন্তোষ হলেও প্রকাশ করল না। মেহজাবিনের কলেজ ছুটি হওয়ার সময় হয়ে গেছে। রাস্তায় আসিফও তার জন্য অপেক্ষা করছে। হাতের ঘড়িতে সময় দেখে নিয়ে পিছু ফিরে বলল,

"চাচা কিছু কইবেন?"

ভদ্রলোক টিটকারি মেরে বললেন,

"তোমার গায়ের মাংস কই?"

সংগ্রাম অপমানিত বোধ করল না। বরং সে হেসে জবাবে বলল,

"আসলে চাচা ফ্রিজে তুলে রাখছি যাতে নষ্ট না হয়।"

ভদ্রলোক থতমত খেয়ে গেলো। থমথমে গলায় এবার বলল,

"তোমার বাবার নাম?"

সংগ্রাম একদমে বলল,

" আমার দাদার নাম মুত্তালিব চৌধুরী, আমার বাবার নাম মঞ্জিল চৌধুরী, আমার ভাইয়ের নাম স্বাধীন চৌধুরী, আমার নাম সংগ্রাম চৌধুরী, আমার....

ভদ্রলোক হাত দিয়ে ইশারা করে এবার থেমে যেতে বললেন। থমথমে গলায় জিজ্ঞেস করলেন,

"স্বাধীন আর সংগ্রাম এটা কেমন নাম? তোমরা কী বঙ্গবন্ধুর

ভক্ত নাকি?"

সংগ্রাম আর দাঁড়াতে চাইলো না যেতে যেতে বলল,

"আমরা না আমাদের আম্মা উনার পাগলা ভক্ত জয় বাংলা।"

#বিবাহ_সমাচার

#সূচনা_পর্ব

#মিশকা_মুন{লেখনীতে}

#চলবে...........

ছবি: আফিয়া আফরিন ❤️

| আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন? বেশি কিছু বলব না শুধু বলব মন খুলে হাসুন। কমেডি প্লটের গল্প তাই বাস্তবতার সাথে মেলাতে যাবেন না। আর কারো সাথে যদি মিলে যায় তবে কাকতালীয়। আরেকটা কথা জানিয়ে দেই গল্পে যে সকল নাম ব্যবহার করা হয়েছে তারা আমার গ্রুপের এডমিন মডারেটর মূলত তাদের নিয়েই লেখা। তাই কোনো চরিত্র নিয়ে খারাপ মন্তব্য করবেন না তাদের খারাপ লাগতে পারে। ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। অনেক দিন পরে লিখছি কেমন হয়েছে জানাবেন আর বেশি বেশি রেসপন্স করবেন।🫶|

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন