ফন্ট সাইজ:
থিম:
বিবাহ সমাচার

২য় পর্ব

লেখক: মিশকা মুন

#বিবাহ_সমাচার

#মিশকা_মুন{লেখনীতে}

|২|

০৬.

"বাবা আমার কি বিয়ে হবে না

বাবা আমার কি বিয়ে হবে না

বাবা আমার কি বিয়ে হবে না!"

স্বাধীন একটা কাজে তার প্রাক্তন স্কুলে এসেছিল। কাজ শেষ করে চলেই যাচ্ছিল হুট করে একটা মেয়ের মুখে এমন গান শুনে ঘুরে তাকালো।

ইভারা গাছের নিচে বসে আড্ডা দিচ্ছিল আর গান গাচ্ছিল। একটা সুন্দর ছেলেকে তাকাতে দেখেই বলল,

" আপনার নিশ্চয়ই আমার গান ভালো লেগেছে। অটোগ্রাফের জন্য দাঁড়িয়েছেন তাইনা?"

স্বাধীন ছোট ছোট করে তাকালো। দুনিয়ায় তার ভাইয়ের কার্বন কপিও বিরাজমান! কথায় কথা বাড়ে এখানে আর না দাঁড়ানোই ভালো আবার হাঁটতে শুরু করল। তখনই একটা ভিক্ষুক এসে ইভাদের থেকে ভিক্ষা চাইলো। লিসা আর আফরিন তাকে টাকা দিলেও ইভা কিছু দিলো না দেখে তার থেকে আবার চাইলো। বেচারী ইভা অসহায় মুখ করে বলল,

"চাচা আপনার আর আমার একই অবস্থা। আপনারেও যেমন সবাই টাকা দেয়না, আমার বাপেও আমারে টাকা দিতে দেয়না।"

ভিক্ষুকের ভীষণ মায়া লাগলো। নিজের ঝুরি থেকে পাঁচ টাকা তুলে তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে যাচ্ছিল। ইভা দৌড়ে আবার তার সাথ ধরে সেই টাকা ফিরেই দিয়ে বলল,

"চাচা দিলে জামাই দেন,টাকা দিয়া কি করমু।"

স্বাধীন আর দেরি করল না ঝটপট একটা অটো ডেকে উঠে পড়ল। তবে তার মস্তিষ্কে বার বার একটা গান এসে নাড়া দিচ্ছিল। যদিও এসব গান তার ভাইয়ের বদৌলতেই শুনা,

"বাবা হরেক রকম পাগল দিয়া মিলাইছে মেলা

বাবা তোমার দরবারে সব পাগলের খেলা।"

০৭

সংগ্রাম ভার্সিটি থেকে বের হতে হতে সাদি ডট কম এ মেয়ে দেখছিল। আগে পিছে না তাকিয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে হাঁটছিল হুট করে কারো সাথে ধাক্কা খেতেই ফোনটা পরে গেলো। রাগ নিয়ে সামনে তাকাতেই একটা সুন্দরী মেয়ে দেখে রাগটা একটু দমে গেলেও বলল,

"চোখ কই থাকে?"

আরবী থমথমে গলায় বলল,

"আকাশে।"

"কিন্তু এটা তো আপনার সাথে থাকার কথা ছিল।"

"আপনার চোখও তো রাস্তায় থাকার কথা ছিল ফোনে নয়।"

সংগ্রাম কিছুটা বিব্রত হয়ে বলল,

"আসলে মেয়ে দেখছিলাম তো।"

আরবী নাক মুখ কুঁচকে ফেললো। সেখানে আর না দাঁড়িয়ে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। মেয়েটা তাকে ভুল বুঝলো বুঝতে পেরে সংগ্রাম চেঁচিয়ে উঠে বলল,

"আরেহ এই মেয়ে সেই মেয়ে না।"

০৭

ইশরাত জাহানের স্বামী ইমদাদ হাসান ভীষণ কিপ্টে মানুষ। সব কিছুতে তার কিপ্টামি যায় না। সারাক্ষণ এটা ওটা নিয়ে আয় করার কথা বলতেই থাকেন। অল্প করে রান্না করতে বলেন অথচ দিন শেষে সব থেকে বেশি খাবার তিনিই খান। বাবার এসব কাণ্ডে মন নেই কোনো মাইয়ার তারা একজন পড়াশোনা নিয়ে অপরজন বিয়ে নিয়েই সারাক্ষণ পরে থাকে। লোকে তাকে কিপ্টা ইমদাদ বলেই ডাকে। এই যেমন আজ সকালেই ইশরাত জাহান তাকে বাজারে পাঠিয়ে ছিলেন চার কেজি মাংশ কিনতে। বাজার থেকে ফিরে তিনি এক বিশাল বাজারের ব্যাগ ধরিয়ে দিলেন।

ইশরাত জাহান ভীষণ খুশি হলেন। ব্যাগ দেখেই মনে হচ্ছে পাঁচ সাত কেজি নিয়ে এসেছেন। কিন্তু ব্যাগ হাতে নিয়ে এতো পাতলা লাগছে দেখে ঝটপট আগে মুখ খুলে ফেললেন। তারপর যা দেখলেন,এতো বড় ব্যাগের মধ্যে ছোট্ট একটা কাঁচা কাঁঠাল। তিনি রেগে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন,

"এসব কি এনেছেন?"

ইমদাদ হাসান চেয়ারে বসতে বসতে বললেন,

"বুইঝলা গিন্নি জিনিস পত্রের যে দাম তাই মাংসের বদলে কাঁঠাল কিনে আনলাম। রান্না কইরা দেখো এককেরে মাংসই মনে হইবো।"

ইশরাত জাহান রেগে ব্যাগটা স্বামীর দিকেই ছুড়ে মেরে বললেন,

"আপনের মাংস আপনে খান।"

০৮.

আজ শুক্রবার,

আসিফ মসজিদে গিয়েছিল জুম্মার নামাজ শেষে জিলাপি পাওয়ার আশায় কিন্তু জিলাপি পেলে কি হবে আরেক পায়ের জুতা হারিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে বাড়ি যাচ্ছিল।

সেই রাস্তা দিয়েই মঞ্জিল চৌধুরী আর মেহজাবিন যাচ্ছিল। আজকে তাদের একটা দাওয়াত ছিল। বন্ধুর বাবা বলে কথা।আসিফ মঞ্জিল চৌধুরীকে দেখেই সালাম দিলেন,

"আসসালামু আলাইকুম আংকেল ভালো আছেন জিলাপি খাবেন?"

মঞ্জিল চৌধুরী সালামে উত্তর নিয়ে বললেন, "হ্যাঁ খাব।"

আসিফের মুখটা শুকিয়ে গেলো। এখন তো না দিয়ে উপায় নেই। কি দরকার ছিল সেধে এটা বলতে যাওয়ার? কোনো মতো জোরপূর্বক হাসি দিয়ে হাতে থাকা দুই পিস জিলাপি দিয়ে দিলো। তার অবস্থা দেখে মেহজাবিন ফিক করে হেসে দিলো। মঞ্জিল চৌধুরী মেয়ের দিকে তাকাতেই সে বলল,

"একটা জোকস মনে পরে গেছিলো বাবা।"

ভদ্রলোক আর কিছু না বলে আসিফের থেকে বিদায় নিলেন। বেচারা জুতা জিলাপি হারিয়ে অসহায় চোখে সেদিকে তাকিয়ে রইল। মেহজাবিনের হাসি যেনো আর থামছেই না সে একটু করে যাচ্ছে আর পেছনে তাকিয়ে তাকিয়ে হাসছে। আসিফ গাল ফুলিয়ে বলল,

"আমার জিলাপি.......!!‌

০৯.

কথা চৌধুরী টিভিতে শেখ মুজিবুরের ভাষণ শুনছিলেন আর কাঁদছিলেন। এটা তার রোজকার কর্মকান্ড। হুট করে কেউ তার পাশে বসে টিস্যু এগিয়ে দিলেন। হাতে নিয়ে বললেন,

"ধন্যবাদ।"

মঞ্জিল চৌধুরী থমথমে গলায় বললেন,

"এবার চলো খেতে দাও অনেক কেঁদেছো।"

"তোমরা যাও আমি আসছি।"

"আধা ঘন্টা যাবত একই কথা বলছ।"

কথা চৌধুরী বিরক্ত হলেন। তখনই হাজির হলো সংগ্রাম সে বাবাকে না দেখেই বলতে শুরু করল,

" এবারের সংগ্রাম আমার বিয়ে করার সংগ্রাম,

এবারের সংগ্রাম বড় ভাইয়ের বিয়ে দেওয়ার সংগ্রাম, জয় বাংলা।"

মঞ্জিল চৌধুরী রেগে গেলেন উঠে গিয়ে ছেলের কান ধরে টেনে এনে বললেন,

"তোর বিয়ের করার শখ আজ আমি মিটিয়ে দিবো।"

সংগ্রাম শুকনো ঢোক গিললো বাবাকে সে দেখেনি। কান ছাড়িয়ে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলল,

"প্রতিদিন তিনবার কইরা বিয়ার কথা বলব,দিলে দিবা না দিলে নাই। আমার আবার এতো বিয়ে করার শখ নাই।"

১০.

আরবী আর ইভা বসে বসে চকলেট খাচ্ছিল। এই একটা জিনিসেই তাদের মিল। দুজনেই ভীষণ চকলেট পছন্দ করে। হুট করে সেখানে হাজির হলেন দাদিমা। এসেই তার চিরচেনা টোনে বললেন,

"বাচ্চাকে চকলেট খাওয়ানোর বয়সে নিজে চকলেট খাচ্ছিস লজ্জা করে না!"

#চলবে...........

ছবি: আফিয়া আফরিন ❤️

| কাল রাতে চোখ ব্যথার জন্য দিতে পারিনি তাই সকালে দিলাম।|

মাত্র ৩০টাকায়

পড়ুন ই-বই "মন গহীনে তাহার বসবাস"

https://link.boitoi.com.bd/YfkY

আমার গ্রুপ লিংক....

https://www.facebook.com/groups/1058930332077272/permalink/1134473564522948/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন