#বিবাহ_সমাচার
#মিশকা_মুন{লেখনীতে}
|৭|
৩১.
ইভা চুপিচুপি স্বাধীনের পিছু পিছু হাঁটছিল। হঠাৎ স্বাধীন পেছন ফিরতেই তার বুকে গিয়ে ইভার মাথা লাগলো। সঙ্গে সঙ্গে ছিটকে সরে দাঁড়াল সে।
স্বাধীন দু'হাত ভাজ করে গম্ভীর ভাবে তাকিয়ে রইল!!
ইভা ভয়ে ভয়ে একটা শুকনো ঢোক গিলল। ভেজা বিড়ালের মতো না জানার ভান ধরে ছোট ছোট করে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,
"হাই ভালো আছেন?"
স্বাধীন উত্তর করল না। এখনো তাকিয়েই রইলো। ইভা আবার জিজ্ঞেস করল,
"এভাবে কি দেখছেন?"
স্বাধীন একবার নিজের হাতে থাকা ঘড়িটায় সময় দেখে নিলো। সাড়ে পাঁচটা বাজে। গম্ভীর সুরে বলল,
" ফাজলামি শেষ? এখন বাসায় যাও।"
"নাহ এখনো শেষ হয়নি।"
ইভা মনে মনে বললেও মুখে বলল অন্য কিছু। যাক ভার ভয়টা কমলো তাকে আর যাইহোক ধমক ফমক দেয়নি। হুট করে বলে বসলো,
"আমাকে পৌঁছে দিবেন?"
"না।"
স্বাধীনের ছোট্ট উত্তর।
ইভা মুখ ভেঙচি দিলো। মনে মনে বলল আনরোমান্টিক ব্যাডা একটা। কোথায় একটু ঘুরতে নিয়ে যাবে, একটা গোলাপ কিনে দিয়ে বলবে,"তুমি গোলাপের মতোই সুন্দর তা না ফাজলামি শেষ? বাসায় যাও হুহ।"
কথাগুলো মনে মনে ভাবতেই পেছন থেকে আবার হাঁটা ধরল। স্বাধীন সেদিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলল। হুট করে তার মনে হলো,
"হাতি পালা আর বউ পালা সমান নয়। বউ পালা আরো বেশি কঠিন কাজ।"
৩২.
কথা চৌধুরী গাল ফুলিয়ে বসে আছে। মঞ্জিল চৌধুরী আজকেও পাশের বাড়ির ভাবীর সাথে হেসে হেসে কথা বলেছে। সে যে বেলকনি থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে এটা আবার মঞ্জিল চৌধুরীর চোখে পড়েনি। হাসি মুখে বাড়িতে এসে স্ত্রীর পাশে বসতেই ছ্যাৎ করে উঠল,
" আর জায়গা নেই কোলে উঠেই বসতে হবে?"
হুট করে চেঁচিয়ে উঠায় মঞ্জিল চৌধুরী থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে গেলো। কিছু সময় ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থেকে বুকে ফু নিয়ে বলল,
" কি হয়েছে এমন রণমুর্তি ধারন করেছ কেনো?"
কথা চৌধুরী ফোঁসফোঁস করে নিশ্বাস নিতে নিতে বলল,
"বেলকনিতে দাঁড়িয়ে তোমার হাতে একটা জবা ফুল দেখলাম।"
মঞ্জিল চৌধুরী শুকনো ঢোক গিললো। স্ত্রীর এমন ব্যবহারের আসল কারণ এবার বুঝলো। ভেজা বিড়ালের মতো মিনমিন করে বলল,
"আসলে হয়েছে কি আমি ফুলটা তোমার জন্যই আনছিলাম। পাশের বাসার ভাবী বললেন তার মেয়ের আজ জন্মদিন আর সে জবা ফুল ভীষণ পছন্দ করে তাই দিয়ে এসেছি আরকি। রাগ করো না আবার আনব।"
কথা চৌধুরীর মন বোধহয় তবুও গলল না। রিমোট নিয়ে টিভি দেখতে বসে গেলো। মঞ্জিল চৌধুরী আশেপাশে দেখে নিলো বাচ্চা কাচ্চারা কেউ আছে নাকি কাউকে না দেখে আবারও গিয়ে পাশে বসলো। অতঃপর ফিসফিস করে বলল,
" ভাবছিলাম স্বাধীনের বিয়ে উপলক্ষে তোমায় তিনটে জামদানী শাড়ি কিনে দিব।"
শেষ সব রাগ শেষ। দৌড়ে গিয়ে রুম থেকে ফোন নিয়ে এসে কোন পেইজে ভালো ভালো শাড়ি পাওয়া যায় তা দেখতে বসে পড়ল। বেচারা ভদ্রলোক নিজের পকেটের দিকে একবার তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বসে রইলো।
৩৩.
ইশরাত জাহান মেয়েদের বিয়েতে কোনো কমতি রাখতে চাননা। এলাকার সবাইকে পেট পুরিয়ে খাওয়াতে চান। অন্য দিকে ইমদাদ হাসানের মতে এতো মানুষকে খাইয়ে শুধু শুধু টাকা নষ্ট করার মানেই হয়না। এটা নিয়ে দুজন তর্কাতর্কি করতে করতে শ্বশুর শ্বাশুড়ির কাছে বাদী হতে চলল।
জয়নাল হাসান স্ত্রীর কোলে মাথা দিয়ে প্রেম আলাপ করছিল। সেই মূহুর্তে দরজায় টুকা পড়তে দুজনেই বিব্রত হলো।
তিথি উঠতে চাইলেও জয়নাল হাসান বললেন,
"যেয়ো না তো ডাকতে থাকুক। পোলাপান প্রেম করার সময় কেন ডেকে ডেকে বিরক্ত করবে? উফস...!!
তিথি চোখ দিয়ে ইশারা করে চুপ থাকতে বলে স্বামীর মাথাটা কোল থেকে নামিয়ে বিছানায় রেখে উঠে দাঁড়াল। দরজা খুলতেই ছেলে আর ছেলে বউকে এক সাথে দেখেই সন্দেহভাজক দৃষ্টিতে চাইলো। দরজা থেকে সরে দাঁড়িয়ে ভেতরে আসার সুযোগ করে দিলো।
ইমদাদ হাসানের আগে ইশরাত জাহান ঢুকে পড়ল। ঢুকেই সালাম দিলো,
" আসসালামু আলাইকুম শরীর ভালো?"
জয়নাল হাসান উঠে বসলো। বলল,
"আলহামদুলিল্লাহ কিছু বলবা বউমা?"
ব্যস তার বলতে দেরি হলেও ইশরাত জাহানের কথার ঝুড়ি খুলতে দেরি হলো না। মনের মধ্যে জমানো হাজারো অভিযোগ বলতে শুরু করল। সে থামতেই ইমদাদ হাসান হাদিস দিয়ে শুরু করল,
"শুনেন আব্বা হাদিসে আছে! অপচয়কারী শ'য়তানের ভাই।"
ইশরাত জাহান জ্বলে উঠল। দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠল,
" কিন্তু আমি তো শ'য়তানের বউ।"
তাদের স্বামী স্ত্রীর বকবক শুনে দুজনেই বিরক্ত হলো। তিথি গম্ভীর সুরে বলে উঠলেন,
"থামো তোমরা আর কোনো কথা নয়। আমার দুটো মাত্র নাতনি তাদের বিয়েতে বিশাল আয়োজন হবে। যাও ব্যবস্থতা করো।"
ইশরাত জাহান দাঁত কেলিয়ে বেড়িয়ে গেলো। ইমদাদ হাসান অসহায় মুখ করে মনে মনে কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে বেরিয়ে গেলো। আর মনে মনে বলল,
"তাকে ফকির বানাতে তার বউ-ই যথেষ্ট।"
৩৪.
"বিয়ে ইভার ও ওর শ্বাশুড়ির সাথে শপিং করতে যাচ্ছে যাক আমি কেনো যাবো?"
আরবীর কথা শুনে ইশরাত কিছুটা চিন্তিত হলো। ছোট মেয়ের সাথে যে বড় মেয়েরও বিয়ে পরিকল্পনা করেছে এটা গোপনই করেছে সে। বলা তো যায়না বিয়ের কথা শুনে মেয়েটা যদি বাড়ি থেকে চলে যায়? মেয়ের যা জেদ যেতেও পারে। বিয়ের দিন ইমোশনাল ব্ল্যা'কমেইল করে ঠিক রাজি করিয়ে ফেলবে।
মাকে চুপ থাকতে দেখে আবার জিজ্ঞেস করল,
"কি হলো?"
ইশরাত জাহান থমথমে গলায় বলল,"তোর বোন ছোট না ও এসব বুঝে? তুই না গেলে হবে?"
"না বুঝলে কি বিয়ের জন্য পা'গলামি করতো?"
মেয়ের কথায় আবারো চোখ রাঙিয়ে বলল,
" ঝটপট রেডি হয়ে নে আর কোনো কথা শুনতে চাইনা।"
আরবী উপায় না পেয়ে রেডি হতে লাগলো। এখন আর বলে কোনো লাভ নেই। ইভা আগে থেকেই রেডি হয়ে বসে আছে। আরবী ঘর থেকে বের হতে গিয়ে আবার ফিরে এলো। স্টাডি টেবিল থেকে একটা বই নিয়ে তার ব্যাগে ঢুকিয়ে নিলো। সময় পেলে পড়তে বসবে। সামনেই সেমিস্টার ফাইনাল। বিড়বিড় করতে করতে বের হলো,
" ভাল্লাগে না।"
৩৫.
আরবী আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কালো রঙের একটা শাড়ি শরীরে জড়িয়ে নেড়েচেড়ে দেখছিলো। শাড়ি টাড়ি সে খুব একটা পছন্দ করে না। তবে আজকে হঠাৎ এতো শাড়ি দেখে ভালোই লাগছিল। তাই হাতে নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখছিল।
হঠাৎ পেছনে থেকে কেউ একজন তার কালো শাড়ির ওপর লাল শাড়ি পরিয়ে দিয়ে বলল,
" বিয়েতে কালো শাড়ি নয় লাল, শাড়িতেই মানায়।"
#চলবে!
#ছবি: আফিয়া আফরিন
| সবার বিয়ের দাওয়াত রইলো। ভালো ভালো উপহার নিয়ে আসবেন। কাঁচের বাটি কিন্তু চলবে না হুহ!😐|
আমার লেখা প্রথম ই-বুক
পড়ুন ই-বই "মন গহীনে তাহার বসবাস"
https://link.boitoi.com.bd/YfkY
আমার গল্প সংক্রান্ত সকল আপডেট পেতে জয়েন হয়ে যাবেন আমার গল্প গ্রুপ......
https://www.facebook.com/groups/1058930332077272/permalink/1116046659698972