#বিবাহ_সমাচার
#মিশকা_মুন{লেখনীতে}
|৬|
২৮.
সংগ্রাম রুমের মধ্যে ফুল ভলিউমে গান ছেড়ে নাচছিল৷ মেহজাবিন রুমের পাশ দিয়েই যাচ্ছিল। গান শুনে তার ঘরে উঁকি দিলো সাথে সাথেই চক্ষু চড়কগাছ। মিনিট খানেকের মধ্যে হু হা করে হেসে উঠল। হাসতে হাসতেই ভেতরে ঢুকে বিছানায় শুয়ে পড়ল। হাসি তার থামছেই না।
সংগ্রাম থতমত খেয়ে গেলো। গান বন্ধ করে কোমরে হাত দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে গম্ভীর সুরে বলল,
"এমন পাগলের মতো হাসছিস কেন?"
ও হাসতে হাসতেই বলল,
"তুই পাগলের মতো নাচছিস তাই।"
সংগ্রাম বিরক্ত হলো। বলল,
"তুই এখানে এখন কেনো এসেছিস! কাহিনি বল?"
"আগে তোমার কাহিনি বলো? তুমি এতো খুশি কেন?"
সংগ্রাম টিশার্টের কলার হালকা উঁচু করে বলল,
"খুব তাড়াতাড়ি আমার বিয়ে তাও ভাইয়ের সাথেই।"
মেহজাবিন আবারো হেসে উঠল বলল,
"তোমাকে মেয়ে দিবে কে ভাই?"
ব্যাস! সংগ্রাম রেগে এগিয়ে গিয়ে ওর মাথায় একটা চাটি মেরে হাত ধরে টেনে ঘর থেকে বের করে দিলো। বিষয়টা মেহজাবিনের খুব মানে লাগলো। দরজায় সামনে কয়েকবার মুখ ভেঙচি দিয়ে বিড়বিড় করতে করতে মায়ের রুমে চললো। সে জানতে চায়,
"সবার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে তার কবে হবে?"
২৯.
জয়নাল হাসান অনেক দিন পরে বাড়ি ফিরবে। বোনের বাসায় গেলে সহজে তাকে আসতে দেননা। এদিকে বেচারা বউ ছাড়া একদিন এক যুগের মতো মনেহয় তাঁর। অবশেষে নাতনির বিয়ের কথা বলে আসছেন।
এক সপ্তাহ পরে জামাই আসছে শুনেই তিথি খুশিতে আটখানা। সকাল সকাল নতুন শাড়ি বের করে পরে সেঁজেগুঁজে পায়চারি করছে।
ইশরাত জাহান শ্বশুর শ্বাশুড়ির কান্ডে আগে লজ্জা পেলেও এখন সয়ে গেছে। কিছু আর মনেহয় না। এদিকে ইভা সুযোগ পেলেই মজা নিতে চলে আসবে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে দাদিমাকে এমন ঢং ধরে বসার ঘরে দেখেই যা বোঝার বুঝে ফেললো। হাই তুলতে তুলতে এগিয়ে এসে বলল,
"কি গো বিয়া তো আমার তুমি বউ সাঁইজা বইসা আছো কিল্লাই?"
তিথি আড়চোখে নাতনির দিকে তাকিয়ে বললেন,
" আমার জামাই আইব।"
ইভা হুট করে আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো কেউ আছে নাকি। কাউকে না দেখে সুরসুর করে দাদিমার পাশে গিয়ে বসলো। একটু রয়েসয়ে বলল,
"ও দাদিমা একটু টিপস দাও না?"
"কিসের টিপস?"
"জামাই ব'শীকরণে।"
তিথি মুচকি হেসে বললেন, "জামাই ব'শের মূল অস্ত্র হচ্ছে ভালোবাসা।"
ইভা আর কিছু বলার আগেই কলিং বেল বেজে উঠল। তিথি সাথে সাথে উঠে দাঁড়াল। ইভা আর সেখানে দাঁড়াল দাদিমাকে চোখ দিয়ে ইশারা করে দৌড় লাগালো।
তিনিও এই সময়ে আর কিছু না বলে। দরজার দিকে আগালেন। দরজা খুলতেই জয়নাল হাসান চমৎকার এক হাসি উপহার দিলেন। বিনিময়ে তিথিও হাসলো। স্ত্রীর পা থেকে মাথা অবধি দেখে বললেন,
"এ আমি নারী দেখছি, না পরী?"
তিথি লজ্জায় একটু মিইয়ে গেলো। ছোট ছোট করে বলল,
" আগে ভেতরে আসেন।"
জয়নাল হাসান সম্মতি দিলেন। সদর দরজা লাগিয়ে স্ত্রীর পিছু পিছু রুমে ঢুকলেন। বিছানায় বসে চোখ দিয়ে ইশারা করে পাশে ডাকলেন।
তিথি সারাদিন যতই বকবক করুক স্বামী দেখলেই লজ্জায় মিইয়ে যায়। এই মানুষটার ভালোবাসায় সে বার বার প্রেমে পরে যায়। সে নিজেও চায় এই লজ্জার শেষ না হোক। ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে মাথা নিচু করে বসলো।
জয়নাল হাসান সহধর্মিণীর আঁচলটা তুলে ঘোমটা দিয়ে দিলেন। অতঃপর হাত দিয়ে থুতনিটা উঁচু করে শীতল কণ্ঠে বললেন,
"ইশশ! কতদিন দেখিনা আমার বউটারে। তুমি তো দেখি আরো সুন্দর হয়ে যাচ্ছো।"
স্বামীর কথায় আবারো লজ্জা পেলেন। সঙ্গে সঙ্গে হাত দিয়ে মুখটা ঢেকে বললেন," কি যে বলেন না।"
তিনি ঠোঁট চেপে হাসলেন আরেকটু লজ্জা দিতে বললেন,
"আরেকটু কাছে এসো তো!!"
৩০.
হুট করে জরুরি তলব শুনে সংগ্রামদের বাসায় আসলো আসিফ। এই বাড়িতে সে সচারাচর আসতে চায় না। তার অবশ্য প্রধান কারণ মেহজাবিন। মেয়েটার সাথে দেখা হলেই তার ঝগড়া লেগে যায়। বাসার সামনে এসে সংগ্রামকে কল দিচ্ছিল কিন্তু ফোন বন্ধ পেয়ে বাসার মধ্যে ঢুকে পড়ল।
মেহজাবিন নিজের বিয়ের কথা বলতে গিয়ে মায়ের হাতে তাড়া খেয়ে দরজার দিকেই দৌড় দিয়েছিল। আসিফ সবেই ঢুকছিল মেহজাবিনের মাথা গিয়ে তার থুতনির সাথে ধাক্কা খেতেই দাঁতের সাথে ঠোঁট লেগে কেটে গেলো।
মেহজাবিন মাথা নাড়তে নাড়তে বলে, চোখে দেখেন না?"
আসিফ বিরক্তি নিয়ে বলল,
"না ওই জন্যই তো এসেছি তোমার চোখ দুটো নিতে।"
মেহজাবিন সে কথা শুনে প্রথমেই যা তার মাথায় এলো এখন তো বাড়ি থেকেই তাকে বিয়েতে চাচ্ছে না। চোখ হারালে কেউ বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে যেতেই রাজি হবে না।
তাকে এমন মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আসিফ চলে যাচ্ছিল। সঙ্গে সঙ্গে আবার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলল,
" বন্ধুর বিয়ের দাওয়াত খেতে এসেছেন?"
আসিফ অবাক হয়ে বলল,
"সংগ্রামের বিয়ে নাকি?"
মেহজাবিন মাথা উপর নিচ করে সম্মতি দিয়ে বলল,
"আপনার বন্ধু তো বিয়ে করে নিচ্ছে আপনি কবে নিবেন?"
আসিফের মাথায় হঠাৎ শয়তানি বুদ্ধি আসতেই এদিক ওদিক তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
"যেদিন তুমি রাজি হবে.......!!!
৩১.
স্বাধীন পুরনো এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে বের হয়েছিল। দেখা সাক্ষাৎ করে কিছু সময় বিকালে স্নিগ্ধ পরিবেশে হাঁটছিল। হঠাৎ সামনে দেখলো ইভা তার বান্ধবীদের সাথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা খাচ্ছিল। ধরা দিবে না ভেবে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল তখনই ফুচকাওয়ালা ডাক দিলো।
" ওই মিয়া টাকা না দিয়া কই যান?"
স্বাধীন অবাক হয়ে পেছন ফিরে বলল,
"কিসের টাকা?"
"আপনার বউ ফুচকা খেয়ে চলে গেছে আর আপনার থেকে টাকা নিতে বলে গেছে।"
স্বাধীন ভড়কে গেল। দোকানে ফুচকাওয়ালা ছাড়া কেউ নেই। মেয়েটা এতো ফাজিল। তাকে ফাঁ'সিয়ে দিয়ে চলে গেছে। টাকা পরিশোধ করে আবার হাঁটতে লাগলো। ইভারা লুকিয়ে ছিল তাকে চলে যেতে দেখে বেরিয়ে এলো।
লিসা আর আফরিন হাসতে হাসতে শেষ। এই মেয়ে না থাকলে তাদের এতো বিনোদন কে দিবে? এসব বলতে বলতেই দেখলো ইভা নেই। সামনে তাকিয়ে দেখে স্বাধীনের পিছু নিয়েছে।
ইভা চুপিচুপি স্বাধীনের পিছু পিছু হাঁটছিল। হঠাৎ স্বাধীন পেছন ফিরতেই তার বুকে গিয়ে ইভার মাথা লাগলো। সঙ্গে সঙ্গে ছিটকে সরে দাঁড়াল সে।
স্বাধীন দু'হাত ভাজ করে গম্ভীর ভাবে তাকিয়ে রইল!!
#চলবে!
#ছবি: আফিয়া আফরিন
আমার লেখা প্রথম ই-বুক
পড়ুন ই-বই "মন গহীনে তাহার বসবাস"
https://link.boitoi.com.bd/YfkY
আমার গল্প সংক্রান্ত সকল আপডেট পেতে জয়েন হয়ে যাবেন আমার গল্প গ্রুপ......
https://www.facebook.com/groups/1058930332077272/permalink/1116046659698972