#বিবাহ_সমাচার
#মিশকা_মুন{লেখনীতে}
|৯|
৩৯.
বিয়ের দিন!
বর এসেছে, বর এসেছে!!
শুনেই ইভা সাজগোজ বাদ দিয়ে দৌড়। উদ্দেশ্য গেইট ধরবে। তবে মাঝ রাস্তায় তিথির সাথে দেখা হয়ে গেলে তিনি আঁটকে দেন। তার ভাগের টাকা দাদিমা এনে দিবে বলে কথা দেয়।
ইভা আবার ঘরে ফিরে এসে দেখে আরবী এখনো রণমুর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখেই মারার জন্য তেড়ে এলো। ইভা চেঁচিয়ে উঠল,
" বাঁচাও এক বউ আরেক বউকে মা'রতে আসছে।"
তৎক্ষনাৎ মাথায় একটা চাটি পরতেই হুড়মুড়িয়ে লাফিয়ে উঠল। চোখে ঘুমের রেশ এখনো কাটেনি ভালো মতো তাকাতে পারল না। ছোট ছোট করে তাকিয়ে ঘুম জড়ানো গলায় জানতে চাইল,
" তুমি আমাকে মারলে কেনো?"
আরবী গিয়ে বসলো তার পাশে। বিরক্তি নিয়ে বলল,
" কি আবোল তাবোল স্বপ্ন দেখে কি সব বলছিস? কার বউ কাকে মারছে?"
ইভার চট করে কাল রাতের কথা মনে পড়ে গেল। আজকে যে তার সাথে সাথে আরবীরও বিয়ে হবে সে কথা সে লুকিয়ে শুনে ফেলেছে। তার মানে গায়ে হলুদ বড় কিছুই হয়নি সব কল্পনা? ধুর সারারাত এসব ভাবতে ভাবতে এটাই এতো সময় স্বপ্ন দেখছিল কিন্তু এখন তো কিছুতেই বলা যাবে না। বিয়ের আগেই পরপারে পাঠিয়ে দিবে তার হিটলার মা। গলা খাদে নামিয়ে মিহি সুরে বলল,
" আসলে কিছু না আপু্। প্রচন্ড খোদা লেগেছে চলো খেতে যাই।"
আরবী উঠে দাঁড়ায় কিছুটা সময় সন্দেহের চোখে চেয়ে যেতে যেতে বলল,
" ফ্রেশ হয়ে আয় সবাই অপেক্ষা করছে।"
ইভা মাথা নাড়ায় আরবী বেরিয়ে যায়। তার চলা যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ইভা কাঁদো কাঁদো সুরে বিড়বিড় করে বলে,
" বিয়ে বিদুষী মাইয়াকে এক সাথে বিয়ে দিতে গিয়ে না আমার বিয়েই ভেস্তে যায়। ও খোদা আমার বিয়ে কি তবে হবেনা?"
৪০.
সেদিন কথা চৌধুরীর সব কথা শুনে ইশরাত জাহান শ্বশুর শ্বাশুড়ি ও স্বামীর সাথে আলোচনায় বসেন। ইমদাদ হাসান ছোট মেয়ের বিয়ে ঠিক করার আগেই ছেলের বাড়ির সব খোঁজ খবর নিয়েছিলেন। তিনি কিপ্টে হতে পারে কিন্তু দায়িত্ববান। তবে যেহুতু স্বাধীন প্রতিষ্ঠিত আর সংগ্রাম বেকার এটা নিয়ে তিনি একটু মতভেদ করলেন। তবে সে কথা হওয়ায় উড়িয়ে দিলেন দাদিমা। তিনি জানালেন,
" শূন্য পকেটে যে নারী হাত ধরে সেই নারীকে আজীবন মাথায় তুলে রাখে সেই ছেলে। উদাহরণে আমি আর তোমার বাবা। ছেলেটা দুষ্ট হতে পারে মন্দ নয়।"
অবশেষে দীর্ঘ কয়েক ঘন্টার আলাপে ঠিক হলো দুজনের একই সাথে বিয়ে হবে। তবে সবাই চিন্তায় ছিল আরবী রাজি হবে কিনা। অবশেষে জয়নাল হাসান বুদ্ধি দিলেন তাকে না জানানোর সবাই তাই মেনে নিলেন।
ছেলে আর ছেলের বউ ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই। তিথি স্বামীর পায়ের কাছে গিয়ে বসলেন। চিন্তিত গলায় বললেন,
" শুনছেন আমার চিন্তা হচ্ছে কোনো ঝামেলা হবে না তো? ওতো মানুষের সামনে ঝামেলা হলে মান সম্মানের ব্যাপার।"
জয়নাল হাসান হাসে। আধ সোয়া থেকে উঠে স্ত্রীর গা ঘেঁষে বসলেন। কানের কাছে ফিসফিস করে বললেন,
" চিন্তিত চেহারায় তোমায় আরো বেশি সুন্দর লাগে বিবি। এসব ছাড়ো আমার কথা ভাবো।"
তিথি লজ্জায় মোমের মতো গলে গেল। উঠে যেতে চাইল কিন্তু তর আগেই ধরে পরে গেলেন.!
৪১.
কথা চৌধুরী স্বামীর সাথে আবার ঝগড়া লাগিয়েছে। ঝগড়ার মূল বিষয় যে পেইজ থেকে শাড়ি নেওয়া হয়েছে তারা ভালো শাড়ি দেয়নি। এতোগুলা টাকা নিয়ে এমন বাজে শাড়ি দিয়েছে এদিকে কল দিলেও ধরছে না পেইজ থেকে ব্লক করে দিয়েছে। এই সব রাগ তিনি স্বামীর ওপর ঝাড়ছেন।
মঞ্জিল চৌধুরী বার বার বোঝাচ্ছে এতে তার কি দোষ। কিন্তু না কে শুনে কার কথা। তার মতে, মঞ্জিল চৌধুরী তাকে ভালো মনে টাকা দেয়নি এই কারণেই খারাপ শাড়ি পেয়েছে।
তাহার এমন লজিক শুনে বেচারা কয়েক মিনিটের জন্য কোমায় চলে গেলেন।
সংগ্রাম ড্রয়িং রুমে এসে এই অবস্থা দেখে হতভম্ব। বেচারা বাপটার জন্য তার মাঝে মাঝে ভীষণ মায়া হয়। গম্ভীর ভাব নিয়ে গিয়ে মায়ের কাছে বসলো। অতঃপর ইনিয়েবিনিয়ে বলল,
" আম্মা আপনারা যদি এখনো ঝগড়া করেন কেমন দেখায়? আজ বাদে কাল আপনার দুই ছেলের বউ আসবে তখন তারা কি মনে করবে? আর বাবার তো দোষ নেই। আপনি কেনো পেইজ ভালো মতো চেক করেননি?"
কথা চৌধুরী বড় বড় করে তাকালেন। রাগে আগুন। দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলেন,
" তোর বিয়ে বাতিল।"
ব্যস সংগ্রামের সব জারিজুরি শেষ। মায়ের পায়ের কাছে গিয়ে বসে পড়ল। পা টিপে দিতে দিতে দাঁত কেলিয়ে ধীরে ধীরে বলল,
"কি যে বলেন না আম্মা আপনারা যখন ঝগড়া করবেন তখন আমরা বউ নিয়ে ঘুরতে যাব কোনো সমস্যা নেই যত খুশি ঝগড়া করবেন। আপনার কোনো দোষ নেই সব দোষ আব্বার।"
মঞ্জিল চৌধুরী রেগে উঠে দাঁড়ালেন। ছেলের মাথায় একটা থাব্রা দিয়ে যেতে যেতে বললেন,
" আসিস আমার কাছে টাকা নিতে।"
সংগ্রাম পড়ল মহা ঝামেলায়। তবে বাবার কথার উত্তর এখন করল না। মনকে বোঝালো আগে বউ পরে টাকা।"
৪২.
ইভা খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে এসে বসলো। দাদিমার ফোনটা লুকিয়ে নিয়ে এসেছে। আফরিন আর লিসাকে ফোন করে জেনে নিলো তারা কতদূর। নাচ প্র্যাকটিস এখনো শেষ হয়নি তাদের। দুজনেই জানালো একটু পরে চলে আসবে। এবার ফোন রেখে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। এদিক ওদিক ঘুরে ফিরে নিজেকে দেখছিল আর গান গাচ্ছিল,
" আজকে আমার বিয়ারে হাত তালি দাও সোনার ময়নারে!"
হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। ইভা দাদিমাকে দেওয়ার জন্য দৌড় দিতে গিয়ে থেমে গেলো নাম্বার চেক করে দেখল স্বাধীনের নাম্বার। এই কয়েকদিনে মুখস্থ হয়ে গেছে তার। হুট করে মাথায় চিন্তা এলো দাদিমাকে কেনো উনি কল করছেন? এমন সময় মনে পড়ল না এই নাম্বার থেকেও সে তাকে কল দিয়েছিল তার মানে তাকেই কল দিচ্ছে? ভাবতেই দিল গার্ডেন গার্ডেন হয়ে গেল। খুশির ঠেলায় কল ধরতে গিয়ে কেটে দিলো। কপাল চাপড়ে কল ব্যাক করতে গিয়ে দেখল টাকা শেষ। মন চাইলো এক গ্লাস পানিতে ডুবে ম'রতে। হায় হতাশ করতে করতে বিছানায় গিয়ে বসলো।
কল কেটে দেয় স্বাধীন বিব্রতবোধ করল। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো বেশি সময় নেই। আবার দিবে কি দিবেনা ভাবতে ভাবতেই একটা মেসেজ করল।
মেসেজর টোন বেজে উঠতেই ইভা সাথে সাথে গিয়ে সিন করল। মেসেজ দেখে হাসবে না কাঁদবে বুঝে উঠতে পারল না। কয়েকবার বিড়বিড় করে পড়ল,
" শোনো আজ আমার বন্ধুর বিয়ে আমি তার বিয়ে খেতে যাচ্ছি, নিজের বিয়ে কয়দিন পরে করব।"
#চলবে!
| গল্পের নামই বিবাহ সমাচার। তাই কেউ মন খারাপ না করে প্লট বোঝার চেষ্টা করবেন। কাল রাতে গরমে অবস্থা খারাপ ছিল তাই লিখতে পারিনি। এখন লিখে দিলাম!😞|
#ছবি: আফিয়া আফরিন
আমার লেখা প্রথম ই-বুক
পড়ুন ই-বই "মন গহীনে তাহার বসবাস"
https://link.boitoi.com.bd/YfkY
আমার গল্প সংক্রান্ত সকল আপডেট পেতে জয়েন হয়ে যাবেন আমার গল্প গ্রুপ......
https://www.facebook.com/groups/1058930332077272/permalink/1116046659698972।