#বিবাহ_সমাচার
#মিশকা_মুন{লেখনীতে}
|১০|
কল কেটে দেয় স্বাধীন বিব্রতবোধ করল। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো বেশি সময় নেই। আবার দিবে কি দিবেনা ভাবতে ভাবতেই একটা মেসেজ করল।
মেসেজর টোন বেজে উঠতেই ইভা সাথে সাথে গিয়ে সিন করল। মেসেজ দেখে হাসবে না কাঁদবে বুঝে উঠতে পারল না। কয়েকবার বিড়বিড় করে পড়ল,
" শোনো আজ আমার বন্ধুর বিয়ে আমি তার বিয়ে খেতে যাচ্ছি, নিজের বিয়ে কয়দিন পরে করব।"
স্বাধীন মেসেজটা পাঠিয়েই উঠে দাঁড়াল। যদিও বিয়ে খাওয়াটা বাহানা আসল উদ্দেশ্য পালানো। এই মেয়ের যে মাথায় গন্ডগোল আছে এই কয়েকদিনে সে হারে হারে টের পেয়েছে। মাত্র কয়েক দিনেই তার এই অবস্থা তাহলে বিয়ের পরে কি হবে ভাবতেই বুক চিরে বেরিয়ে এলো শ্বাসরুদ্ধকর অনুভূতি। আর সময় নষ্ট করল না কেউ দেখার আগেই ব্যাগ পত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।
ইভা মেসেজটার দিকে কিছু সময় চেয়ে থেকে কিছু একটা ভাবল অতঃপর লিখলো,
" আমিও আপনার সাথে আপনার বন্ধুর বিয়ে খেতে যাব। আমাদের বিয়েটা নাহয় পরেই করব।"
কিন্তু মেসেজটা সেন্ড হলো না। হবে কি করে? ফোনে তো টাকা নেই। মনে পড়তেই নিজের কপাল নিজেই চাপড়াতে লাগলো বেচারি........
৪৩.
" আম্মা সর্বনাশ হয়ে গেছে ভাইয়া চলে গেছে।"
কথা চৌধুরী বিছানায় বসে বসে ঝিমাচ্ছিলেন। এমন কথায় সব ঝিমানো উড়ে গেল। ছেলের অফিস থেকে তো ছুটি নেওয়া তাহলে গেল কই? না না কই আর যাবে নিশ্চয়ই একটু হাঁটতে বেরিয়েছে। মনকে সাতপাঁচ বুঝ দিয়ে বললেন,
"দেখ বোধহয় একটু হাঁটতে গিয়েছে।"
সংগ্রাম হাঁপাতে হাঁপাতে এসে বিছানায় বসলো দম ফেলার আগেই বলল,
"না কাপড় চোপড় নিয়ে বেরিয়েছে ওর বন্ধুর বিয়ে।"
"তুই কেমনে জানলি?"
"ভাইয়াকে ফোনে না পেয়ে তার বন্ধু আমাকেই কল দিয়েছিল রওনা দিয়েছে কিনা শুনতে।"
"কিহ?
" হ্যাঁ এখন কি হবে? আমার বিয়ে...!
"চুপ থাক।"
ছেলেকে থামিয়ে কথা চৌধুরী রেগে জোরে জোরে স্বামীকে ডাকলেন।
"কোথাই মঞ্জিল চৌধুরী আসুন একবার দেখে যান কি ছেলে জন্ম দিয়েছেন।"
মঞ্জিল চৌধুরী বেরিয়ে এলেন। বড় ছেলের এহেন কাণ্ডে তিনিও অসন্তুষ্ট হলেন। তার থেকে অন্তত এমন কিছু আসা করা যায় না। অন্য দিকে বউয়ের ঘ্যান ঘ্যানানিতে মেজাজ বিগড়ে গেল। গম্ভীর সুরে বলেই বসলেন,
" ভালো কিছু করলে আমার ছেলে আর মন্দ করলেই তো আমার বদলে তোমার হয়ে যায় তাইনা? মানবতা আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।"
তিনি সে কথার উত্তর করলেন না। আরেক প্রসঙ্গ টেনে এনে বললেন,
"মানবতার গান পরে গাইবেন। এখন তাকে কি করে ফেরানো
যায় সেই বুদ্ধি দেন!"
মঞ্জিল চৌধুরী আরো গম্ভীর হয় যেতে যেতে বলে বসলেন,
" আবারও নাটক করো। এটাই তো ভালো পারো।"
সংগ্রাম আপাতত গালে হাত দিয়ে শোক পালন করছে। বাবা মায়ের ঝগড়ায় তার কোনো মাথা ব্যথা নেই। গভীর ভাবে কিছু একটা চিন্তা করেই যাচ্ছে। স্বামীর এমন বাক্যে কথা চৌধুরী না রেগে খুশি হয়ে গেলেন। বললেন,
" সংগ্রাম তোর ভাইকে মেসেজ দিয়ে বল আমাকে হসপিটালে নিয়ে যাচ্ছিস।"
৪৪.
মেহজাবিন পার্লারে গিয়েছিল ফেসিয়াল করতে। বড় ভাইয়ের বিয়ে বলে কথা তাকে একটু সুন্দর না দেখালে চলে? পার্লার থেকে বেরিয়ে এদিক ওদিক চেয়ে চেয়ে অটো খুঁজছে। কিন্তু না কোনো গাড়ি টারির খোঁজ খবর নেই। বিরক্ত হয়ে একটা বেঞ্চে গিয়ে বসলো।
আসিফ এদিকে এসেছিল একটা কাজে। রাস্তায় মেহজাবিনকে বসে থাকতে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যাচ্ছিল। কিন্তু তাকে পেতেই মেহজাবিন ডাক দিলো,
" আরে আসিফ ভাইয়া না?"
আসিফ বাইক থামাতে না চেয়েও থামালো। গম্ভীর মুখ বানিয়েই দাঁড়ালো। মনে মনে ভাবলো এতো মধুর সুরে ডাকার কারণ কি নিশ্চয়ই কোনো মতলব আছে। গম্ভীর ভাবেই বলল,
"হুম কিছু বলবা?"
মেহজাবিন এগিয়ে এসে বাইকে উঠে বসলো। আসিফ কিছু বলার আগেই বলল,
"ভাইয়া আমি একটাও গাড়ি পাচ্ছি না।"
আসিফ বিরক্তি হয়। থমথমে গলায় বলল, "তো আমি কি করব?"
মেহজাবিন পেছনে থেকে হাত উঠিয়ে আসিফের মাথায় মারার ভঙ্গি করে বিড়বিড় করে গালি দিচ্ছিলো। আসিফ দেখে ফেলতেই সে দাঁত কেলিয়ে বলল,
"একটু পৌঁছে দিন।"
"পারব না।"
"কেনো পারবেন না?"
"আমার ইচ্ছা।"
মেহজাবিনের রাগ হলো তবুও শান্ত থাকার চেষ্টা করল। ইমোশনাল হয়ে বলল,
" একটা গাড়ি টাড়ি কিচ্ছু নেই। এখন যদি এভাবে ফেলে যান পরে কোনো সমস্যা হলে এক অসহায় অবোলা মেয়ের মৃ'ত্যুর জন্য আপনি দায়ী থাকবেন আসিফ সাহেব।"
আসিফের মন গলল কি? গলল বোধহয়। যত খারাপ আর যত বড়োই শত্রু হোক না কেনো একা ফেলে যাওয়াটা ঠিক হবে না। তবে তার মুখে অসহায় অবোলা শব্দ শুনে মনে মনে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসতে ভুলল না।
অবশেষে গাড়ি স্টার্ট দিতেই মেহজাবিন জয়ের হাসি হেসে তার কাঁধে হাত রাখতেই। ফোঁস করে উঠল,
" খবরদার কাঁধে হাত দিবে না, দূরে সরে বসো আর মাঝে ব্যাগ রাখো।"
মেহজাবিন মুখ ভেঙচি দিয়ে বলল,
"কেনো আমি গায়ে হাত দিলে ফসকা পরবে?"
"না হাড্ডি থেকে মাংস খুলে খুলে পরবে।"
মেহজাবিন মুখ খোলার আগেই আসিফ হুমকি দিয়ে বলল,
"আর একটা কথা বললে ওই যে দেখছ সামনে কুকুর গুলো বসে আছে ওদের মধ্যে ছেড়ে দিয়ে চলে যাব।"
৪৫.
বিয়ের আগেরদিন, "পরে বিয়ে করব বলে পাত্র বিয়ে খেতে গিয়েছে এমন কথা যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পরার মতো লাগার কথা থাকলেও আরবীর কিছু মনে হলো না। তবে বিষয়টা বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে তার কাছে। সে তো হাসতে হাসতে শেষ। মাঝে মাঝে এসে ইভার সাথে মজা নিতেও ছাড়ছে না। যদিও বড় বোন হিসেবে তার দুঃখ পাবার কথা ছিল কিন্তু সে তা পেলো না। পাবে কেনো? এটা কি তার বিয়ের বয়স? একদমই না বাবা মা পরিবারের সকালের প্রতিই সে ভীষণ মনঃক্ষুণ্ন ছিল। এখন বেশ শান্তি শান্তি লাগছে। তবে বিষয়টা আপাতত সে আর ইভা ছাড়া আর কেউ জানেনা।
দাদিমা পাশ দিয়েই যাচ্ছিলেন বড় নাতনিকে এমন মিটমিট করে হাসতে দেখে এগিয়ে এলেন। হুট করে পাশে গিয়ে বসতেই আরবী হাসি বন্ধ করে ফেলল।
" হাসছিস কেনো?"
"কই না তো।"
তিথি গম্ভীর হয়। সন্দেহের চোখে চেয়েথমথমে গলায় শুধালেন,
"মিথ্যা বলিস?"
"বলি।"
"এখন সত্যি বল? প্রেমে টেমে পরিস নি তো এমন করে হাসছিস কেনো?
আরবী বিব্রত হয়। দাঁত কিটকিট করতে করতে বলে উঠল,
" আমার সুখের জীবনে সেঁধে বয়ফ্রেন্ড নামক ই'বলিশ ডেকে আনব এটা ভাবাও বিলাসিতা।"
দাদিমা কম কিসে? তার কথার প্রতিত্তোরে সাথে সাথেই বলল,
" ই'বলিশ না ডাকিস, জামাই নামক রহমতকে ডাকলেও তো পারিস বাপু। নাকি এটা ভাবাও বিলাসিতা?"
"তোমার রহমত কম পরলে আবার বিয়ে করো যাও তাও আমাকে বইলো না।"
বলেই মুখ চেপে ধরল আরবী। দাদিমা বড় বড় করে তাকাতেই তাকে আর পায় কে? দৌড়ে স্থান ত্যাগ করল।
পেছন থেকে কয়েকবার ডাকলেও শুনলো না। শুনলো জয়নাল হাসান এগিয়ে এসে কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই অভিযোগের ঝুলি নিয়ে বসলো তিথি। স্ত্রীর সব কথা শুনে তিনি হাসতে হাসতে বললেন,
"ভুল কি বলল?চলো আরেকবার বিয়ে করি।"
৪৬.
ইভা স্বামী হারানোর বেদনায় শোকে শোকাহত হয়ে বসে আছে। মন চাচ্ছে মনির খানের ছ্যাকা খাওয়া গান দিয়ে কিছু সময় গড়াগড়ি করে কান্নাকাটি করুক। তবে না ইমোশন টাকে কন্ট্রোল করে রাখার চেষ্টা করল। আর মনে মনে ঠিক করল,
" একবার শুধু বিয়েটা হোক জামাই মশাই তারপর বুঝবা ইভা কি জিনিস। এতো সহজে তোমার রেহাই নাই। স্বাধীন নাম ভুলিয়ে যদি পরাধীন না রাখছি তারপর বইলো হুহ।"
#চলবে!
| এটা আজগুবি গল্প কেউ বাস্তবতার সাথে মেলাবেন না।|
#ছবি: আফিয়া আফরিন
আমার লেখা প্রথম ই-বুক
পড়ুন ই-বই "মন গহীনে তাহার বসবাস"
https://link.boitoi.com.bd/YfkY
আমার গল্প সংক্রান্ত সকল আপডেট পেতে জয়েন হয়ে যাবেন আমার গল্প গ্রুপ......
https://www.facebook.com/groups/1058930332077272/permalink/1116046659698972।