#বিবাহ_সমাচার
#মিশকা_মুন{লেখনীতে}
|১৩|
৫২.
স্বাধীন যথেষ্ট ম্যাচিউর একটা ছেলে। অনেকক্ষণ বসে বসে চিন্তা ভাবনা করার পরে বুঝতে পারল তার এভাবে চলে যাওয়া উচিত হয়নি। মেয়েটার কথা একবার অন্তত ভাবা উচিত ছিল। বয়স কম তাই একটু ছেলেমানুষী করে ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। হঠাৎ কাল রাতের কথা মনে পড়ল। তার বন্ধুদের আজাইরা মেসেজ দেখে আরেক দফা রাগ জমলো। ইভার ওপর রাগ করতে গিয়েও করল না। কারণ সে তো তাকে ভেবেই এসব বলেছে। হঠাৎ মনে হলো তাকে বলে দেওয়া উচিত। তাই সেই নাম্বারে মেসেজ করল,
"সরি ইভা কাল রাতে আমার বন্ধুগুলো আমাকে দরজার বাহিরে রেখে এসব লিখেছিল।"
ইভা ফোন নিয়ে বসে আছে। দাদিমা বিয়ের কাজে একটু ব্যস্ত থাকায় প্রায় সারাক্ষণই এখন তার কাছেই ফোন থাকে। মেসেজের টোন বাজতেই সিন করল। স্বাধীনের সরিতে তার ঠোঁটের কোণে হাসি জমলো। মিটমিট করে হাসতে হাসতে লিখল,
"এটা আপনি মোটেও ঠিক করেননি। একটা মেয়ের ইমোশন নিয়ে এভাবে খেলতে পারলেন?"
স্বাধীন অনুতপ্ত হলো। মেয়েটা বোধহয় কষ্ট পেলো। একটু ভেবে চিন্তে লিখল,
"ওরা যে এসব করবে আমি বুঝতে পারিনি।"
"হুম ভালো।"
"দেখো এখানে আমার কোনো দোষই নেই।"
"আমি কি বলেছি আপনি দোষী?"
স্বাধীন কি বলবে বুঝতে পারল না। তাই কিছু না লিখে বসে রইলো। ইভা মনে মনে ভাবলো এবার হয়তো বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে। তাই ইনিয়েবিনিয়ে লিখল,
" আপনার বন্ধুদের সাথে কথা বলেছিল আমার বান্ধবীরা। আমি মেসেজ দেখেই বুঝেছি ওটা আপনি না। তাই ওদের বাঁধা দেইনি।"
স্বাধীন বড় বড় করে ফোনের দিকে তাকালো। ঝটপট জানতে চাইলো, "কীভাবে বুঝলে?"
ইভা দীর্ঘ শ্বাস ফেলতে ফেলতে লিখে,
"কারণ আপনার মতো নিরামিষ লোক হুট করে আমিষ হয়ে
যেতে পারেনা।"
স্বাধীন থতমত খায়। কি ফাজিলের ফাজিল ভাবা যায়? তার সাথে এতোক্ষণ ঠাট্টা করছিল? কিছুটা বিরক্ত হলেও পরক্ষণেই মনে মনে হেসে বিড়বিড়িয়ে বলল,
"যাক মেয়েটা শ'য়তান নাহয় বুদ্ধি আছে।"
৫৩.
কথা চৌধুরী নিজের মুখে ফেসপ্যাক লাগিয়ে মঞ্জিল চৌধুরীকে টেনে এনেছেন। কিন্তু তিনি কিছুতেই মুখে এসব লাগাবেন না। জোর করে যেইনা মুখে দিতে যাবে তখনই বাহিরে থেকে মেহজাবিন ডেকে উঠল।
"বাবা কে যেনো এসেছে ডাকছে তোমাকে।"
ব্যস তাকে আর কে পায়! উঠে বিড়বিড় করতে করতে বেরিয়ে গেলেন। কথা চৌধুরী কিছুতেই ফেসপ্যাক নষ্ট করবে না। তাই মেহজাবিনকে রুমে ডাকলেন।
মেহজাবিন মুখ গোমড়া করে মায়ের রুম থেকে বেরিয়ে এলো। তার মায়ের এই ফেসপ্যাকের চক্করে যে পরবে তার জীবন শেষ। একদম ভূ'ত বানিয়ে দিয়েছে। কেউ দেখার আগেই রুমে চলে যেতে হবে। তবে শেষ রক্ষা হলো না। মাঝখানেই আসিফের সাথে দেখা হয়ে গেল। তাকে দেখেই মেহজাবিন দু'হাত দিয়ে মুখ ঢাকলো।
"আসল রুপ তো দেখেই ফেলেছি এখন আর মুখ ঢেকে কি হবে?"
মেহজাবিন হাত সরালো। আসিফ হাসছে। মনডায় চাইলো তুলে একটা আছাড় মারতে। এই ব্যাডাকে তুলা তার কর্ম নয়। তবে কথায় হারলে চলবে না। আবার কি বলবে বুঝতেও পারছে না।
" আপনার কোনো কাজকর্ম নেই! সারাক্ষণ আমার আশেপাশেই কেনো ঘুরঘুর করেন?"
"বাহ কখন কি করি ভালোই তো নজরে রাখো।''
মেহজাবিন ভড়কে গেল। কিছু না বলে চটপাট দেখিয়ে চলে গেল। আসিফ তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসছে। পেছন ঘুরতেই দেখল সৌরভ সৌভিক দাঁড়িয়ে। দুজনেই এক সঙ্গে ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করল,
"এখানে কি হচ্ছিলো?"
আসিফ মাথা চুলকে আমতা আমতা করে বলল,
"গন্ডোগল।"
দুই ভাই আর কোনো কিছু জিজ্ঞেস করল না। একে অপরের কাঁধে
হাত রেখে যেতে যেতে গেয়ে উঠল,
"শোন মন বলি তোমায়
সব করো প্রেম করো না,
প্রেম যে কাঁঠালের আঠা ..
আর লাগলে পরে ছাড়ে না......!!"
৫৪.
আরবী বিয়ে ভাঙার কোনো উপায় না পেয়ে শেষমেষ সংগ্রামকে কল দিলো।
সংগ্রামের কাছে আরবীর নাম্বার ছিল না। তাই অচেনা নাম্বার দেখে সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করল, "কে বলছেন?"
আরবী সে উত্তর না দিয়ে সরাসরি বলল,
"শুনুন আপনি আমার বাড়িতে ফোন দিয়ে বলবেন আপনার গার্লফ্রেন্ড আছে আমাকে বিয়ে করতে পারবেন না।"
সংগ্রাম হকচকিয়ে গেল। এই কথার অর্থ বুঝতে কিছুটা সময় নিলো। বসার ঘর থেকে উঠে বাহিরে বেরিয়ে এসে অতঃপর কথা বললল,
"কিন্তু আমার তো গার্লফ্রেন্ড নেই।"
"না থাকলেও বলবেন আছে।"
"না আমি মিথ্যা কথা বলিনা।"
আরবী নিজের চুল নিজেই টেনে ধরল। রাগ কন্ট্রোল করে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
"আপনি তো সাধু সন্ন্যাসী তাইনা?"
"না আমি সংগ্রাম চৌধুরী।"
আরবী হতাশার সহিত ফোন রেখে দিলো। এর সাথে কথা বলে কোনো লাভ নেই জানতোও। তবুও একটা আশা নিয়ে কল দিয়েছিল এখন মনে হচ্ছে কল দেওয়াই ভুল হলো। বিছানায় ফোন ছুড়ে মারল। সাথে সাথেই কল এলো। বেশ কয়েকবার রিং হওয়ার পরে রিসিভড করল।
"কি সমস্যা?"
সংগ্রাম সিরিয়াস কণ্ঠে বলল,
"আমার সমস্যা আমার একটা বউ নাই, ডজন খানেক বাচ্চা
কাচ্চা নাই।"
"তো আমি কি করব?"
"বিয়ে।"
আরবী এবার রাগলো না। ঠান্ডা মাথায় জানতে চাইলো,
"আপনি আমাকে সত্যি বিয়ে করবেন তাইতো?"
"এতোক্ষণে বুঝলেন?"
সংগ্রামের হাস্যোজ্জ্বল উত্তর।
আরবী মিনিট পাঁচেক সময় চুপ থেকে মনে মনে কিছু একটা ভাবলো। অতঃপর বলল,
"বেশ! আপনাকে বিয়ে করে হাড়মাস যদি না জ্বালিয়ে খেয়েছি তবে আমার নামও আরবী নয়।"
৫৫.
তিথি পাথরের মতো ভ্যাবাচেকা খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কোনো প্রকার নড়াচড়া করছে না। তার অবশ্য যথেষ্ট কারণ আছে। সারাজীবন স্বামীর পাগলামিতে সাথ দিয়েছে তাই বলে এই বয়সে এসে আবার বিয়ের পীড়িতে বসবে? এবার মুখ খুলল বললেন,
"পা'গল হয়ে গেছেন? বাচ্চা কাচ্চারা কি ভাববে?"
"কিছুই ভাববে না।"
"সবাই হাসবে।"
"হাসুক হাসলে মন ভালো থাকে।"
"আমি লজ্জায় ম'রেই যাব।"
"সমস্যা নেই আমি বাঁচিয়ে নিব।"
"না না আমি বাচ্চা কাচ্চার সামনে কবুল বলতে পারব না।"
"সবাইকে বলব কবুল বলার সময় চোখ বন্ধ করে রাখতে।"
তিন ঘন্টা যাবত বোঝানোর পরেও স্ত্রীর কথায় পাত্তা দিলেন না জয়নাল হাসান। তার মতে কে কি ভাববে এটা না ভেবে নিজের মন যা চায় তাই করা উচিত। তার যুক্তি বুদ্ধি হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়ে।
স্ত্রী থমথমে গালটা টেনে মুচকি হেসে বললেন,
"সবাই জানে তাদের দাদুভাই রোমিও আর তার বউ জুলিয়েট।"
#চলবে!
#ছবি: আফিয়া আফরিন
#নোট: সারাদিন কারেন্ট নেই, পানি নেই গরমে অবস্থা খারাপ। যদিও ছোট হয়েছে। এতটুকুই সেই সকালে লিখে রেখেছি মাত্র এলো কারেন্ট!🥹|
আমার লেখা প্রথম ই-বুক
পড়ুন ই-বই "মন গহীনে তাহার বসবাস"
https://link.boitoi.com.bd/YfkY
আমার গল্প সংক্রান্ত সকল আপডেট পেতে জয়েন হয়ে যাবেন আমার গল্প গ্রুপ......
https://www.facebook.com/groups/1058930332077272/permalink/1116046659698972