#বিবাহ_সমাচার
#মিশকা_মুন{লেখনীতে}
|১২|
৪৯.
ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে স্বাধীন রাগী চোখে বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা যে তাকে এভাবে ঠকিয়ে বাসায় নিয়ে আসবে স্বপ্নেও ভাবেনি। বাবা মা না থাকলে দুটোকে এতোক্ষণে মেরে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়ে আসত। এমন বন্ধুর থেকে তো শত্রু থাকা ভালো। তারা আর কি করতো? বড়জোর মেরে ফেলতো অন্তত বাসায় তো দিয়ে যেতো না বিয়ে করার জন্য।
সকালে,,
স্বাধীন ঘুমাচ্ছিল। সারারাত জেগে কাজ করেছে তিনটার পরেই একটু ঘুমিয়েছিল তা আর সহ্য হলো না সৌরভের। ভোর পাঁচটার সময়ই টেনে তুলল।
স্বাধীন উঠে আড়মোড়া ভেঙে বলল,
"কি হয়েছে ডাকছিস কেনো?"
"দোস্ত একটা সমস্যা হয়ে গেছে বাবাকে হসপিটালে নিয়ে গেছে তাড়াতাড়ি যেতে হবে আমাদের।"
স্বাধীন লাফিয়ে উঠতে গিয়ে থেমে গেলে। ছোট ছোট করে তাকিয়ে বলল,
"কিন্তু আংকেল তো এখন লন্ডন আছেন।"
সৌরভ ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। সৌভিক পেছন থেকে পিঠের ওপর একটা কি'ল বসিয়ে আমতা আমতা করে বলল,
"দোস্ত চাচা বলতে বাবা বলে ফেলেছে।"
স্বাধীন আর কিছু না বলে উঠে পড়ল। দ্রুত ফ্রেশ হয়ে এসে বেরিয়ে পড়ল। গাড়ির মধ্যে সৌভিক হঠাৎ একটা পানির বোতল ধরিয়ে দিয়ে বলল,
"দোস্ত নে পানি খা।"
ব্যস এটাই যেন কাল হলো। পানি খাওয়ার পরে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে টেরই পাইনি। ঘুম যখন ভাঙলো তখন বেশ কয়েক ঘন্টা পেরিয়ে গেছে। একই ভাবে অনেকক্ষণ মাথা দিয়ে রাখার জন্য ঘাড়ে ব্যথা ব্যথা করছে। হুট করে মনে পড়ল তার বন্ধুরা কই?পাশ ফিরে দেখলো কেউ নেই। ড্রাইভার চাচাও নেই। গাড়িতে সে একা। তবে কি সবাই হসপিটালের ভেতরে চলে গেছে? তাই হবে হয়তো। ভালো ভাবে সামনে তাকাতেই চমকে উঠল। একি এটা তো তার বাড়ি। তাড়াহুড়ো করে গাড়ি থেকে নামতেই দেখলো তার সামনে বাবা মা ভাই বোন সকলে দাঁড়িয়ে আর সবার পেছনে দুই বাটপার।
স্বাধীন দুজনের দিকে রাগী দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই দুটোই শুকনো ঢোক গিলে পেছনে লুকিয়ে রইল।
বর্তমানে,
সৌরভ আর সৌভিক বসে বসে খাচ্ছে আর স্বাধীনের বাবা মায়ের সাথে খোশগল্প করছে। আপাতত স্বাধীনের দিকে কারো নজর নেই। না তাকে কেউ কিছু বলেছে আর না তার কথা কেউ শুনছে।
মঞ্জিল চৌধুরী তাদের দুই ভাইকে বিয়ে পর্যন্ত এ বাড়িতেই থাকতে বললেন। তারা আর আপত্তি করবে কি? তারা তো বিয়ে খাওয়ার জন্যই বর কি'ডন্যাপ করে নিয়ে এসেছে। তার উপর আবার দুজনেই ছুটিতে ছিল। তাদের গল্পে রেখে কথা চৌধুরী উঠে দাঁড়ালেন রান্না বান্নার জোগাড় করতে হবে।
চলে যেতে গিয়ে আবার ফিরে এলেন সৌরভদের দিকে এগিয়ে গিয়ে সৌরভ আর সৌভিকের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আদুরে কণ্ঠে বললেন,
"তোমার এতো ভালো আমি বুঝতেই পারিনি। আমি ভেবেছিলাম তোমার তোমরা আমার কথা অমান্য করে বন্ধুর পক্ষ নিবে কিন্তু না তোমরা তার বিপক্ষে গিয়ে আমার পক্ষ নিয়েছো আমি ভীষণ খুশি হয়েছি সোনা বাবারা।"
সৌরভ সৌভিক দুজনেই স্বাধীনের দিকে আঁড়চোখে তাকালো। ব্যাডায় প্রচন্ড ক্ষেপে আছে ধরতে পারলে ছিঁড়ে ফেলবে। স্বাধীন বিরক্তি হয়ে এবার উঠে নিজের রুমে চলে গেল। পিছু পিছু মেহজাবিন আর সংগ্রামও গেল।
মনে মনে ভাবলো আপাতত বিয়ে উপভোগ করি এসব বিষয়ে পরেও ভাবা যাবে। কথা চৌধুরীর কথায় দুজনেই হাসলো। হুট করে সৌরভ বলে বসলো,
" আসলে আন্টি আমাদের দেখতে সাদাসিধা হলেও আমরা....!
বাক্য শেষ করার আগেই সৌভিক চিমটি কাটলো। মেকি হেসে ফিসফিস করে বলল,
" রামছাগল একটা কি বলছিস? ঠিকঠাক কথা বল।"
সবাই তাদের দিকেই বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। মেহজাবিন আর সংগ্রাম মুখ চেপে হাসছে।
সৌরভ নিজেও থতমত খেয়ে গেল তাই তো সে আসলে কি বলতে যাচ্ছিল? কিন্তু এখন কি বলবে? কথাটা তো শেষ করতে হবে। ম্যাথের মতো জোরপূর্বক সুত্র বসিয়ে অংক মেলানোর মতো করে। কথার টোন একই রেখে বলল,
" আসলে আন্টি আমাদের দেখতে সাদাসিধা হলেও আমরাও আমরা ভালো মানুষ।"
কথা চৌধুরী হাসলেন। অতঃপর আবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন,
"আমি বুঝতে পেরেছি বাবা আর কিছু বলতে হবেনা।"
বলে একটু থামলেন অতঃপর বললেন,
"তোমরা বন্ধু হিসেবে চিটার হলেও, সন্তান হিসেবে ভালো।"
দুই ভাই টাস্কি খেয়ে একে অপরের দিকে তাকালো। এটা অপমান ছিল না প্রশংসা কেউ বুঝলো না। তবে জোরপূর্বক একটা হাসি দিতে ভুললো না।
৫০.
আসিফ সকাল সকাল সংগ্রামদের বাসায় হাজির। তার অবশ্য কারণ আছে ডেকোরেশন। নতুন করে আবার সব কিছু সাজানো হচ্ছে। হাতে হাতে কাজ এগিয়ে দেওয়ার জন্য সংগ্রাম খবর পাঠাতেই চলে এসেছে।
মেহজাবিন একটা চেয়ারের উপর টুল নিয়ে আর্টিফিশিয়াল ফুল লাগানোর চেষ্টা করছে। ডেকোরেশনের লোকজন তাকে নামতে বললেও নামল না বলল লাগাইবে। লোকগুলো কিছুটা বিরক্তি নিয়েই অন্য পাশে চলে গেল।
তাদের চলে যেতে দেখে মেহজাবিন খুশি হলো। এই কাজগুলো তার ভীষণ ভালো লাগে। মন তো চায় পড়াশোনা বাদ দিয়ে সারাদিন বাড়িঘর সাজাই কিন্তু এ কথা মন চাওয়া পর্যন্তই সই মা জানলে তাকেই সাজিয়ে পরের বাড়ি পাঠিয়ে দিবে ধুর। আপাতত এসব কথা থাক কাজে মনোযোগ দেই।
মেহজাবিনের এক বান্ধবী এসেছে খুশবু। সেই তাকে ফুল আগায় আগায় দিচ্ছে। হাত থাকা ফুলগুলো শেষ হতেই বলল,
"ফুল তো শেষ দাঁড়া ওপাশ থেকে আরো কিছু আনি।"
মেহজাবিন মাথা নাড়ালো। ও চলে গেল। ভীষণ খুশি খুশি লাগছে। মুখ থেকে আপনাআপনি কয়েক লাইন গান বেরিয়ে এলো।
"তোমার জন্য নীলচে
তারার একটুখানি আলো,
ভোরের রং রাতে মিশে কালো।
কাঠগোলাপের সাদার মায়া
মিশিয়ে দিয়ে ভাবি,
আবছা নীল তোমার লাগে ভালো।"
অতিরিক্ত নড়াচড়া করার জন্য টুল নড়ছিল। স্বাভাবিক না থেকে ভয় পাওয়াতে ব্যালেন্স রাখতে পারছিল না। হঠাৎ সামনে দিয়ে আসিফকে যেতে দেখে ডাক দিলো,
" ওই আসিফ ভাইয়া আমাকে একটু নামান প্লিজ।''
আসিফ বিরক্ত হয়। থমথমে গলায় জবাব দেয়,
"আমি উঠিয়ে দিয়েছিলাম?"
"না নিজেই উঠে ছিলাম।"
"তবে নিজেই নামো।"
বলা মাত্রই দুম করে পড়ল। ভাগ্যিস নিচে ডেকোরেশনের কাপড় ছিল নইলে এখনোই কোমর-টা এখনই যেত। উঠেই আসিফের দিকে তেড়ে গেল।
"এই সমস্যা কি আপনার ধরলেন না কেনো?"
আসিফ চোখ মুখ কুঁচকায়। আশেপাশে নজর বুলিয়ে ঠাট্টাসুলভ কণ্ঠে বলল,
"নিজেকে কি নায়িকা ভাবো?"
মেহজাবিন বুঝল ব্যাডায় তাকে অপমান করবে তাই সময় নষ্ট করল না। মুখ ভেঙচি দিয়ে চলে যেতে যেতে বলল,
"নিজেকে আমি নায়িকাই ভাবি তবে আপনাকে নায়ক নয়।"
৫১
স্বাধীনের থেকে বছর তিনেকের ছোট সংগ্রাম। কিন্তু তার আচার-আচরণ দেখে মনেহয় তিন বছরের বাচ্চা। এই যেমন কে কোথায় কি লাগাচ্ছে দেখছে আর সবাইকে বলছে,
"শোনো আমার বিয়ে বলে কথা কোনো কিছুর কমতি যেনো না থাকে। বউ যেনো আমার এবং বাড়ির দুটোরই প্রেমে পরে যায়।"
সৌরভ আর সৌভিক মিটমিট করে হাসছে। স্বাধীনের হাত থেকে আপাতত তাদের সংগ্রামই বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে রাখছে। অনেকক্ষণ যাবত কাজ করায় সকলেই হাঁপিয়ে উঠছে। তিনজনেই এক সাথে গিয়ে বসল।
হঠাৎ সৌভিক বলে উঠল,
"আচ্ছা সংগ্রাম পাত্রীর কোনো বোন নেই?"
সংগ্রাম কলা ঝাকিয়ে ভাব নিয়ে বলল,
"আছে তো একটা তবে ওটা আমার।"
সৌরভ বলল,
"আর বান্ধবী?"
সংগ্রাম এবার হাসলো। দুজনেই তার দিকে আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে। তাদের রিয়াকশন দেখে সংগ্রামের ভীষণ মজা লাগলো। অতঃপর দাঁত কেলিয়ে বলল, "আছে।"
দুজনেই এক সঙ্গে বলল,
"কয়টা?"
সংগ্রাম চোখ মেরে বলল,
,"টেনশন নিয়ো না দুজনের জন্য দুটো।"
#চলবে!
#ছবি: আফিয়া আফরিন
আমার লেখা প্রথম ই-বুক
পড়ুন ই-বই "মন গহীনে তাহার বসবাস"
https://link.boitoi.com.bd/YfkY
আমার গল্প সংক্রান্ত সকল আপডেট পেতে জয়েন হয়ে যাবেন আমার গল্প গ্রুপ......
https://www.facebook.com/groups/1058930332077272/permalink/1116046659698972