ফন্ট সাইজ:
থিম:
চৈত্র শেষে শ্রাবণধারা

১০ম পর্ব

লেখক: চিন্ময়ী নূর

বাইরে তখনো ঝোড়ো হাওয়ার তাণ্ডব কমেনি, কিন্তু তুরাগের ভাঙাচোরা ঘরের ভেতরটা থমথমে নিস্তব্ধতায় ডুবে আছে। বৃষ্টির জল আর বীভৎস লাশের স্মৃতি চৈতির শরীর আর মন কোনোটাই সইতে পারে নি। থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে মেয়েটার শরীরে দাউদাউ করে জ্বর নামে।তুরাগের এই ঘরে কোনোদিন বিদ্যুতের প্রয়োজন পড়েনি, অন্ধকারের সাথেই তার আজন্ম মিতালি। একটা মোমবাতি জ্বেলে সে যখন বিছানার পাশে আসে, আলোর কাঁপাকাঁপি শিখায় চৈতির মুখটা দেখে তার বুকের ভেতরটা কেমন জানি মোচড় দিয়ে ওঠে। এর আগে কোনোদিন এভাবে চৈতির দিকে নজর দেওয়া হয়নি।তুরাগ একবার নিজের দিকে তাকালো কৃষ্ণবর্ণ গায়ের রঙ তার।চৈতির মতো সুন্দরীর সঙ্গে একদম বেমানান সে।চৈতি রাজকন্যা তুরাগের চোখে চৈতি সত‍্যকারের রাজকন্যা। কিন্তু এই রাজকন্যার জীবনে কোনো রাজপুত্রের আগমন ঘটেনি। তুরাগ আরো গভীর ভাবে নজর দিলো চৈতির দিকে ভিজে একাকার হওয়া পাতলা কাপড়গুলো চৈতির শরীরের সাথে লেপ্টে আছে। তুরাগ একবার তাকিয়েই দ্রুত চোখ সরিয়ে নেয়, এক তীব্র অস্বস্তি আর অজানা শিহরণ ওকে গ্রাস করতে চায়। কিন্তু বেহায়া চোখ দুটো অবাধ্য হয়ে বারবার ফিরে যাচ্ছে লালচে হয়ে আসা ফর্সা মুখটার ওপর।বিশেষ করে চৈতির গলার ভাঁজে জমে থাকা জলের বিন্দুগুলো দেখে তুরাগের মাথাটা ঝিমঝিম করে ওঠে।সে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে চায়, কিন্তু পরক্ষণেই মনে হয় এই ভেজা কাপড়ে থাকলে জ্বরটা ওকে আরও কাবু করে ফেলবে।আলনা থেকে এক শুকনো কাপড় এনে সে বিছানায় রাখে। খুব সন্তর্পণে ডাকে,

"রাজকন্যা... ও রাজকন্যা! একটু ওঠেন তো।"

জ্বরের ঘোরে চৈতি চোখ মেলে। রক্তবর্ণ চোখ দুটো দিয়ে সে ফ্যালফ্যাল করে তুরাগের দিকে তাকায়। উঠে বসার শক্তিটুকুও নেই ওর শরীরে। তুরাগ শেষমেশ নিজ হাতেই ওকে টেনে উঠিয়ে বসায়।

"কাপড়টা পাল্টায়া লন, নাইলে শরীল আরও খারাপ করব।"

চৈতিকে একা রেখে তুরাগ রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ায়। উনুনটা বৃষ্টির ছাঁটে একদম নাজেহাল হয়ে আছে, আপ্রাণ চেষ্টায় ধোঁয়া উড়িয়ে সে আগুন জ্বালায়। কোনোমতে এক ডিম ভেজে আর সামান্য ভাত নিয়ে সে যখন ঘরে ফেরে, দেখে চৈতি কোনোমতে কাপড় পাল্টে এলিয়ে পড়ে আছে।তুরাগ আবারও ওকে টেনে তোলে। নিজের হাতে ভাত মেখে লোকমাটা চৈতির মুখের কাছে ধরে। চৈতি মুখ ফিরিয়ে নেয়, ওর রুচি বিষ হয়ে গেছে। তুরাগ তখন আর কোনো তর্ক না করে এক ঝটকায় চৈতিকে নিজের বুকের ওপর টেনে নেয়। আগলে ধরার বুনো উষ্ণতায় চৈতি একটু থমকায়। তুরাগ খুব নিচু স্বরে, প্রায় ফিসফিস করে বলে,

"খাইয়া লন। যা দেখছেন সব ভুইলা যান। দুনিয়ার সব খারাপ দৃশ্য মনে রাখতে হয় না, রাখলে নিজেরই কষ্ট হয়।"

অনিচ্ছাসত্ত্বেও ধীরে ধীরে লোকমাটা মুখে তুলে নেয় সে। কিন্তু চার লোকমার বেশি আর কিছুতেই গলার নিচে নামতে চায় না। তুরাগ আর জোর করে না বাকি ভাতটুকু সে নিজেই খেয়ে নেয়। ওখানেই বসে হাত ধুয়ে গ্লাসের পানি আর ওষুধটা চৈতির মুখের সামনে ধরে। চৈতি বাধ্য মেয়ের মতো ওষুধটা খেয়ে আবার বিছানায় এলিয়ে পড়ে।মোমবাতিটা নিভিয়ে দিতেই ঘরজুড়ে ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসে। শুধু টিনের চালে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ আর বাতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজ। তুরাগ দীর্ঘশ্বাস ফেলে চৈতির পাশেই গা এলিয়ে দেয়। সে শুতেই এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটে। জ্বরের ঘোরে অবশ হয়ে থাকা চৈতি অবচেতন মনেই পাশ ফেরে এবং তুরাগের প্রশস্ত বুকের ওপর মুখ গুঁজে একদম গুটিশুটি মেরে আশ্রয় নেয়।চৈতির তপ্ত শরীরের উত্তাপ তুরাগের বুকের চামড়ায় মিশে যেতেই ওর সারা শরীরে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ খেলে যায়। তুরাগ পাথরের মতো শক্ত হয়ে পড়ে থাকে। ওর হৃদস্পন্দন তখন কোনো বুনো ঘোড়ার মতো ছুটছে। তুরাগের নিজের ওপরই নিজের রাগ হতে থাকে। কেন এই একটা মেয়ে ওকে এভাবে অস্থির করে তুলছে? কেন ওর বুকটা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে? সারা রাত তুরাগ এক পলকও চোখ মেলাতে পারে না তুরাগ।চৈতির কোমল স্পর্শ আর তপ্ত নিঃশ্বাসের মাঝে সে যন্ত্রণাময় স্বর্গে বন্দি হয়ে থাকে।

~

বিলের থৈ থৈ জলে তুরাগ তখন উন্মত্তের মতো মাছ ধরতে ব্যস্ত। বর্ষার প্রবল তোড়ে পুকুরের পাড় ভেঙে যেকোনো সময় সব মাছ বেরিয়ে যেতে পারে, তাই আজই পাইকারিতে সব বিক্রি করে দেওয়ার তোড়জোড় চলছে। জালে এক বিশাল সাইজের কাতলা উঠতেই তুরাগের চোখ চকচক করে ওঠে। সে ওটাকে আলাদা করে সরিয়ে রাখে। কিছুক্ষণ পর বিলের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা এক ছেলেকে ডেকে বলে,

"এই আলী, এই মাছটা নিয়া জলদি বাড়ি দিয়া আয়।"

আলী মাছটা হাতে নিয়ে ছোটে তুরাগের বাড়ির দিকে। ওদিকে বাড়িতে তখন অন্য দৃশ্য। বৃষ্টির ছাঁটে মাটির দেওয়ালগুলো খসে পড়ছে দেখে চৈতি একা একাই ওগুলো মেরামতের আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। কাদা মেখে ওর সুন্দর ফর্সা হাত-মুখ আর কাপড় একদম একাকার। ওই মুহূর্তে আলী উঠোনে পা রাখে। চৈতির এই বিধ্বস্ত আর কাদা মাখা অবস্থা দেখে আলী হুট করে হো হো করে হেসে ফেলে।

"আরে ভাবি! এডি এমনে দেয় না তো! মিছা মিছি কষ্ট করতাছেন।"

হঠাৎ অপরিচিত পুরুষালী কণ্ঠ শুনে চৈতি চমকে ওঠে। ভয়ে আর বিস্ময়ে সে ঝট করে পেছনে ফেরে। দেখে উজ্জ্বল হলুদ রঙের গেঞ্জি আর বাটিকের লুঙ্গি পরা এক মাঝবয়সী ছেলে ওর দিকে চেয়ে হাসছে। এই নির্জন বাড়িতে তো সচরাচর কেউ আসে না, তাই চৈতি বেশ অস্বস্তিতে পড়ে যায়। সে ভ্রু কুঁচকে তীক্ষ্ণ স্বরে জিজ্ঞেস করে,

"কাউকে খুঁজছেন?"

আলী যেন হাসির খনি খুঁজে পেয়েছে। সে আবারও হো হো করে হেসে ওঠে, যেন চৈতির প্রশ্নটা খুব মজার কিছু। তারপর হাতের বিশাল মাছটা চৈতির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে,

"ভাই দিছে।"

চৈতি এবার বুঝতে পারে তুরাগই পাঠিয়েছে। সে ইতস্তত করে মাছটা হাতে নেয়। ছেলেটার হাসাহাসি দেখে ওর মেজাজটা একটু বিগড়ে যাচ্ছিল, তবুও সৌজন্য বজায় রেখে বলে,

"বসুন।"

আলী এবার আরও জোরে হেসে ওঠে। হাসতে হাসতেই মাথা নাড়িয়ে জানায়,

" ভাই খালি কইছে মাছ দিয়া যাইতে, তাই দিয়া গেলাম।"

কথাটা বলেই আলী এক দৌড়ে বাড়ির সীমানা পেরিয়ে যায়। তবে যাওয়ার সময় একবার থেমে দাঁড়িয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে চৈতিকে দেখে নেয়। আলী আর বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে না, আবারও একছুটে বিলের পাড়ে তুরাগের কাছে ফিরে আসে। তুরাগ তখন কোমরে গামছা বেঁধে হাঁটু সমান পানিতে নেমে জাল টানছে। আলী ধীরপায়ে পানিতে নেমে তুরাগের একদম গা ঘেঁষে দাঁড়ায়। ওর মুখে বাঁকা হাসি, চোখের কোণে এক চিমটি দুষ্টুমি।তুরাগের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে ফিসফিস করে আলী বলে,

"ভাই, ভাবি তো দেহি ঝাকানাকা সুন্দরী।"

কথাটা তুরাগের কানে যাওয়া মাত্রই ভেজা হাতে আলীর পিঠে একটা সজোরে থাপ্পড় কষায়। চটাস করে শব্দ বিলের শান্ত পানিতে প্রতিধ্বনিত হয়। আলী ব্যথায় কুঁকড়ে যেতেই তুরাগ এক ঝটকায় ওর কানটা মলে ধরে।দাঁতে দাঁত চেপে তুরাগ হুঙ্কার দিয়ে বলে,

"খবরদার! ওই বাড়ির ত্রিসীমানায় যদি তোরে আর একবারও দেখি, তবে কান টাইনা এক্কেবারে ছিঁড়ালামু। তোর সাহস তো কম না, আমার সামনে খাড়ায়া আমার বউয়ের রূপের বয়ান করস?"

সে এক জোরালো ধাক্কা দিয়ে আলীকে পানির মধ্যে ছিটকে ফেলে দেয়। আলী টাল সামলাতে না পেরে ছপাৎ করে পানিতে পড়ে যায়। তুরাগ আর ওর দিকে ফিরেও তাকায় না, আবার জালের রশিটা শক্ত করে ধরে গম্ভীর গলায় জানায়,

"জলদি এইখান থিকা ভাগ! নাইলে কাদা খুঁইড়া তোরে এই বিলের মধ্যেই পুইতা রাখমু। ফাজিল পোলা কুনহানকার!"

আলী কোনোমতে পানি থেকে উঠে গায়ের কাদা মুছতে মুছতে ভেজা কাকের মতো পাড়ের দিকে দৌড় দেয়।

~

বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে কিয়াম। এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ওর সাঙ্গোপাঙ্গরা উল্লাসের কোনো শেষ নেই। চারদিকে স্লোগান আর আতশবাজির শব্দে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত।কিন্তু যার এই বিজয়,তারই অবয়বে তৃপ্তির লেশমাত্র নেই।সে নিশ্চল হয়ে বসে নিজের অফিসের কক্ষটিতে। বাইরের বিজয় মিছিলের উন্মাদনা ওকে স্পর্শ করতে পারছে না।

আজকাল ওর কোনো কিছুই ভালো লাগে না।সব কিছুই তার কাছে অর্থহীন মনে হয়।কত দিন হলো সে অন্দরে ফেরে না, তার কোনো সঠিক হিসেব নেই।অফিসের এই সোফাতেই ওর রাতের রজনী কাটে। লায়লা বেগম কয়েক দিন এসেছিলো ছেলের সঙ্গে দেখা আশায়,কিন্তু কিয়াম দেখা দেয় না।তবে কুহু মেয়েটা হয়েছে বড্ড নাছোড়বান্দা।কিয়ামের এই নির্বাসিত জীবনে সে যেন এক অবিচ্ছেদ্য ছায়া। প্রতিদিন নিয়ম করে সে আসে।কিয়াম কথা বলুক বা না বলুক, সে সারাদিন এক কোণে নিভৃতে বসে থাকে। মাঝেমধ্যে নিজের হাতে রান্না করে সযত্নে খাবার নিয়ে আসে সে।

কিয়ামের দরজায় হালকা টোকা পড়ে। কিয়াম ভাবে, আবার সেই কুহু! রাগে ওর কপাল কুঁচকে যায়। এমন নির্লজ্জ মেয়ে সে জীবনে দেখেনি। এত অপমান, এত অবহেলা, তবুও মেয়েটা প্রতিদিন কেন ছুটে আসে? কিসের আশায় এই বারবার ফিরে আসা? কিয়াম কোনো উচ্চবাচ্য করে না। চুপ করে থাকে, যাতে কুহু বুঝে নেয় যে সে এখন বিরক্ত। কিন্তু পরপর আবার দরজায় টোকা পড়ে। এবার কিয়ামের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। সে বেশ বিরক্ত আর কর্কশ কণ্ঠে দরজার দিকে না তাকিয়েই চেঁচিয়ে বলে,

"কুহু, যা এখান থেকে! বলছি না ভালো লাগছে না? বারবার কেন আসিস?"

কিন্তু এবার দরজার ওপাশ থেকে কোনো নারীসুলভ কোমল কণ্ঠ নয়, বরং এক গম্ভীর পুরুষালী কণ্ঠ ভেসে আসে,

"ভাই, আসবো?"

কণ্ঠটা শুনে কিয়াম নড়েচড়ে বসে। এটা কুহু নয়। কণ্ঠটা চেনা, কিয়াম নিজেকে সামলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত অনুমতি দেয়,

"আয়।"

দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকে জহির। কুচকুচে কালো গায়ের রঙ আর পাহাড়ের মতো বিশাল শরীরের গঠন। কিয়ামের দলের সবচেয়ে বিশ্বস্ত আর পছন্দের মানুষ এই জহির। বিপদে-আপদে সে নিঃস্বার্থভাবে কিয়ামের ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছে সবসময়। জহির কাছে এসে নিচু স্বরে বলে,

"ভাই, খবর আছে।"

কিয়ামের হাতের কলমটা টেবিলের ওপর স্থির হয়ে যায়। জহির বলতে শুরু করে,

"তুরাগ শাহ পাঁচ বছর গ্রামে ছিল না ভাই। বছর দুয়েক আগে হুট কইরা উদয় হইছে। এই দুই বছর সে কই ছিল, কী করছে কেউ সঠিক জানে না।"

কিয়াম জহিরের কথার কোনো তাৎক্ষণিক উত্তর দেয় না। সে চেয়ার ছেড়ে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। জহির থামে না, আরও এক অদ্ভুত তথ্য যোগ করে,

"ভাই, আরেকটা কথা।ওই গ্রামের কোনো মানুষ ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যায়নি।"

কিয়াম এবার অবাক হয়ে জহিরের দিকে ফেরে।

"নাম কী গ্রামের?"

" ছিতানীয়া।"

"ভোট দিতে যায়নি কেন? আমার বিপক্ষে কেউ দাঁড় করাইছে ওদের?"

জহির মাথা নাড়ে।

"না ভাই, তেমন কিছু না। এই গ্রামের মানুষ কোনো কালেই ভোট দেয় না। সরকারের কাছে ওদের কোনো চাহিদা নাই, অভিযোগও নাই। এইজন্যই তো ওই এলাকায় আজ পর্যন্ত কোনো উন্নয়ন হয় নাই। ওরা সমাজের বাইরের এক আলাদা পৃথিবী।"

কিয়ামের চোখের মণি সরু হয়ে আসে। একটা আস্ত গ্রাম ভোট দেয় না, সরকারের কাছে কোনো দাবিদাওয়া নেই পুরো ব্যাপারটা কেমন যেন অস্বাভাবিক ঠেকছে তার কাছে। আধুনিক যুগে এমন বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা কি সম্ভব? সে জহিরের দিকে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ স্বরে প্রশ্ন করল,

"কী কাজ করে ওই গ্রামের মানুষ? জীবন চলে কীসে ওদের?"

"ভাই, অগো প্রধান কাজ হইলো চাষবাস। প্রতিটা পরিবারই খেত-খামারে কাম করে। নিজেদের যা লাগে নিজেরাই ফলায়। বাইরের দুনিয়ার লগে অগো যোগাযোগ খুব কম।"

কিয়াম দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানালার ওপারে তাকায়। ছাতিয়ানী গ্রাম নামটা মনে মনে কয়েকবার আউড়ে নেয় সে। জহিরের দিকে ফিরে আবার বলে,

"মেম্বার কে ওই গ্রামের?"

জহির একটু ইতস্তত করে মাথা নাড়ে।

"নাই ভাই। এরা যার যার মন মর্জির মতো চলে। কোনো প্রশাসনিক লোকরে ওই সীমানায় ঢুকতে দেয় না ওরা।"

কিয়ামের সন্দেহ এবার আরও ঘনীভূত হয়।

"তোরে কে বলছে এইসব? এত খবর কই পাইলি?"

জহির পকেট থেকে ফোনটা বের করে বলে,

"ভাই, ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি কইরা কিছু তথ্য পাইছি। আর ওই গ্রামের আশেপাশের গ্রামের লোকজনরে জিজ্ঞেস কইরা জানলাম।"

কিয়াম কিছুক্ষণ নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। জহিরের দেওয়া তথ্যগুলো বিশ্বাস করতে ওর বেশ কষ্ট হচ্ছে। মস্তিষ্কের এক কোণে খটকা লাগে সে তো নিজে কয়েকবার ওই গ্রামে গেছে। তখন তো গ্রামটাকে আর পাঁচটা সাধারণ গ্রামের মতোই মনে হয়েছিল। ধুলোমাখা পথ, টিনের চাল, সাধারণ মানুষ অস্বাভাবিক বা আজব তো কিছুই নজরে আসেনি তার।

চলবে…

(আপনাদের জন্য একটা গ্রুপ খুলেছি কমেন্টে লিংক দিলাম সবাই জয়েন হবেন কষ্ট করে। গল্পের আপডেট সব গ্রুপেই দিবো।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন