ফন্ট সাইজ:
থিম:
চৈত্র শেষে শ্রাবণধারা

১১তম পর্ব

লেখক: চিন্ময়ী নূর

বাইরে তখন প্রকৃতির প্রলয়ংকরী রূপ। আষাঢ়ের শান্ত বৃষ্টি এখন এক ভয়ংকর ঝড়ে রূপ নিয়েছে। বাতাসের তান্ডবে চারপাশের মড়মড় করে গাছ ভেঙে পড়ছে। আকাশ চিরে ক্ষণে ক্ষণে তীব্র বিদ্যুতের ছটা আছড়ে পড়ে মাটির বুক চিরে, আর তার পরপরই মেঘের এমন বিকট গর্জন হয় যে মনে হয় আকাশটাই ভেঙে মাথার ওপর পড়বে। প্রতিটা বজ্রপাতের শব্দে মাটির ঘরটা থরথর করে কেঁপে ওঠে।চৈতি ভয়ে সিঁটিয়ে থাকে। সে খাটের এক কোণে বসে তুরাগের শক্ত হাতটা খামচে ধরে আছে। প্রতিবার বিজলি চমকালে সে চোখ বন্ধ করে তুরাগের বাহুতে মুখ লুকোয়। ওর বুকের ধড়ফড়ানি থামছেই না। কিন্তু তুরাগ? লোকটার কোনো বিকার নেই। সে খাটের ওপর বাবু হয়ে বসে উমের মুরগির মতো ঝিমোচ্ছে। এই প্রলয় আর বজ্রপাত ওর কাছে খুব মামুলি এক বিষয়।চৈতি কাঁপা গলায় বলে,

"শুনছেন? আমার বড্ড ভয় করছে। আপনি একটু সোজা হয়ে বসুন না!"

তুরাগ একবার আধোখোলা চোখে চৈতির দিকে তাকায়, তারপর একটা হাই তুলে আবার ঝিমোতে থাকে।চৈতি আবার তুরাগকে কিছু বলতে নিলে তখনই ঘটে যায় এক অভাবনীয় কাণ্ড। হঠাৎ করে প্রচণ্ড দমকা হাওয়া চারদিকের দেয়াল ভেদ করে ঘরের ভেতর আছড়ে পড়ে। একটা বিশ্রী ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ হয়, আর চোখের পলকে পুরো ঘরের জরাজীর্ণ টিনের চালটা কাগজের মতো উড়ে যায়। চালটা যেহেতু মাটির দেয়ালের ওপর আলগাভাবে বসানো ছিল এবং বহু বছরের পুরোনো, তাই বাতাসের ওই মরণকামড় আর সইতে পারে না।এক নিমেষেই ঘরের মাথার ওপর থেকে ছাদ উধাও! চৈতি আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে। এখন ওদের মাথার ওপর সরাসরি উন্মুক্ত কালচে আকাশ, যেখান থেকে বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা তীরের মতো ওদের গায়ে বিঁধছে। বিজলির আলোয় দেখা যায়, তুরাগ এবার ঝিমুনি ছেড়ে এক ঝটকায় সোজা হয়ে দাঁড়ায়। অন্ধকারের মাঝে চৈতি দেখে, তুরাগ এক হাত দিয়ে ওকে শক্ত করে জাপটে ধরে আগলে রেখেছে, আর অন্য হাত দিয়ে কোনোমতে ঘরের দরজাটা এক ঝটকায় খুলে ফেলে। তুরাগ চিৎকার করে বলে,

"ঘর যে কোনো সময় ধইসা পড়ব! আপনে বাহিরে গিয়া আমগাছটার নিচে খাড়ান, আমি আপনার জিনিসপত্র ব‍্যাগে ঢুকাইয়া নিয়া আইতাছি।"

কথাটা বলেই সে চৈতিকে একরকম টেনে ধরে ঘর থেকে বের করে দেয়। মুষলধারে বৃষ্টির ঝাপটায় চৈতি ভিজে একাকার, চোখের জল আর বৃষ্টির জল মিশে একাকার হয়ে গেছে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই তুরাগ চৈতির প্রয়োজনীয় কাপড় আর টুকিটাকি জিনিসগুলো এক ব্যাগে ভরে কাঁধে ঝুলিয়ে বেরিয়ে আসে।

তুরাগ তড়িঘড়ি করে এসে আবার চৈতির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া হাতটা শক্ত করে ধরে। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার, মাঝে মাঝে বিজলি চমকালে চারপাশটা ভৌতিক সাদা দেখাচ্ছে। চৈতি কাঁপতে কাঁপতে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করে,

"কোথায় যাব আমরা? এই তুফানের মধ্যে কোথায় থাকব?"

তুরাগ ওর কোনো উত্তর না দিয়ে হাত ধরে হিড়হিড় করে টানতে টানতে সামনের দিকে এগোতে থাকে। কর্দমাক্ত পিচ্ছিল পথে পা সামলে নিয়ে তুরাগ ধমকের সুরে বলে,

"আহেন তাড়াতাড়ি, কথা কম কন! আমার লগে আহেন, মাথা গুঁজনের জায়গা একটা হইব।"

গ্রামের ঘরবাড়ি পেছনে ফেলে তুরাগ ওকে নিয়ে আরও গহীন, আরও আঁধারে ঢাকা এক পথের দিকে মোড় নেয়। চারদিকে শুধু বাঁশঝাড়ের সাঁই সাঁই শব্দ আর বৃষ্টির তাণ্ডব। কাদা আর জলের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চৈতি ক্লান্ত, বিধ্বস্ত। হঠাৎ করেই তুরাগ থমকে দাঁড়ায়।চৈতি চোখ তুলে তাকায়। সামনেই প্রলয়ংকরী রূপ ধারণ করা নদী। অন্ধকারের বুকে বিজলি চমকাতেই নদীটা রাক্ষসীর মতো হা করে চেয়ে আছে। বর্ষার উন্মত্ততায় নদী আজ ফুলে-ফেঁপে একাকার। ঢেউগুলো তীরের ওপর আছড়ে পড়ছে মরণকামড় দিয়ে। উথালপাতাল জলের বুকে একটা ছোট ডিঙি নৌকা খড়কুটোর মতো দুলছে।নৌকা দেখেই চৈতির বুকটা ধক করে ওঠে। ভয়ে শিউরে উঠে সে তুরাগের হাতটা মরণকামড় দিয়ে ধরে। আতঙ্কে ওর কণ্ঠস্বর বুজে আসে, কোনোমতে আর্তনাদ করে বলে,

"নৌকা? এই তুফানের মধ্যে আমরা নদীতে নামব? মরে যাব তো আমরা! আমি যাব না, কিছুতেই যাব না!"

তুরাগ একবার নদীর পাগল করা ঢেউয়ের দিকে তাকায়, তারপর চৈতির কুঁকড়ে যাওয়া, ফ্যাকাশে মুখটার দিকে। সে চৈতির কাঁধ ধরে একটু ঝাঁকুনি দিয়ে চড়া গলায় বলে,

"আমার ওপর ভরসা রাখেন, এই নদী আমার হাতের তালুর মতো চেনা।"

বলেই সে চৈতির কোনো আপত্তির তোয়াক্কা না করে, এক ঝটকায় ওকে পাঁজকোলা করে তুলে নেয়। চৈতি ভয়ে চিৎকার করতে চায়, কিন্তু বৃষ্টির ঝাপটায় ওর মুখ দিয়ে শব্দ বেরোয় না। তুরাগ পটু হাতে নৌকায় উঠে চৈতিকে মাঝখানে বসিয়ে দেয়। নৌকাটা ঢেউয়ের ঝাপটায় একবার ডানে একবার বাঁয়ে কাত হচ্ছে, যেকোনো সময় উল্টে যাবে। তুরাগ তড়িঘড়ি করে নৌকার দড়িটা খুলে বৈঠা হাতে নেয়। ওর পেশিবহুল হাত দুটো বৃষ্টির জলে চিকচিক করছে। চৈতি নৌকার খোলের ভেতর মাথা নিচু করে বসে থাকে, চারদিকে শুধু জলের গর্জন আর বাতাসের হাহাকার।

তুরাগ দাঁতে দাঁত চেপে বৈঠা টানতে টানতে বলে,

"চুপচাপ ধইরা বইসা থাকেন।আমি আছিনা?"

প্রলয়ংকরী নদীর প্রতিটি ঢেউ তুরাগ আর চৈতিকে গিলে খেতে আসে। একেকটা ঢেউ নৌকার কানায় আছড়ে পড়ে, আর ছোট ডিঙিটা খড়কুটোর মতো একবার এদিক তো একবার ওদিক কাৎ হয়। কয়েকবার মনে হয় নৌকাটা উল্টে এই অথৈ জলেই ওদের সলিল সমাধি হবে, কিন্তু ভাগ্যের এক অদ্ভুত পরিহাসে কোনো বড় বিপদ হয় না।অবশেষে নৌকাটা এক গহীন তীরের কাদার চরে এসে থামে। তুরাগ চৈতিকে পাঁজকোলা করে নৌকা থেকে নামিয়ে আনে। সামনেই এক বাড়ির ঘাট, নৌকায় থেকে নামলেই সরাসরি বাড়ির উঠোন। বৃষ্টির অঝোর ধারায় আর ঘুটঘুটে অন্ধকারে আশেপাশে কী আছে, তা বোঝার কোনো উপায় নেই।চৈতি হাঁপাতে হাঁপাতে আর বিস্ময়ে হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,

"এই বাড়ি কার?"

তুরাগ সহজ গলায় উত্তর দেয়,

"আমাগোর।"

"আমাগোর মানে?"

তুরাগ এবার চৈতির হাতটা শক্ত করে ধরে হাঁটা শুরু করে। হাঁটতে হাঁটতেই নিরাসক্ত গলায় বলে,

"আমগোর বিয়ার পর এডা বানাইছি।"

চৈতিকে আর কোনো কথা বলার সুযোগ দেয় না তুরাগ। টেনে ওকে নিয়ে যায় ঘরের বারান্দায়। সেই মুহূর্তে আকাশ চিরে প্রচণ্ড বজ্রপাত হয়। ক্ষণস্থায়ী তীব্র আলোয় চৈতির চোখে পড়ে সামনে সুন্দর পরিপাটি দুইটা মাটির ঘর। বাড়ির চারপাশটা বেশ খোলামেলা, আর উঠোনটা ছিমছাম।তুরাগ পকেট থেকে চাবি বের করে তালা খোলে। ঘরের ভেতরে ঢুকতেই কাঠের আসবাবের সোঁদা গন্ধ নাকে আসে।তুরাগ ঘর থেকে এক শুকনো গামছা বের করে চৈতির দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,

"জ্বর আসার আগে মাথাটা মুইছা লন।"

কথাটা বলে তুরাগ ভেজা পায়েই ভেতরের ঘরে যায়। মুহূর্ত কয়েকের মধ্যেই সে ফিরে আসে হাতে এক ভাঁজ করা সুতির শাড়ি নিয়ে। শাড়িটা চৈতির দিকে বাড়িয়ে দিতেই মেয়েটাকিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। একবার শাড়ির দিকে তাকায়, আর একবার বৃষ্টির জলে সিক্ত তুরাগের মুখটার দিকে।অবাক হয়ে চৈতি জিজ্ঞেস করে,

"আমি এখন শাড়ি পরব? এই মাঝরাতে?"

"হুম।"

তুরাগ খুব ছোট করে উত্তর দিয়ে কোনো ব্যাখ্যার অপেক্ষা না করেই আবার ঘরের ভেতরে ঢুকে যায়। ওর নির্লিপ্ত ভঙ্গিটা চৈতি আবারও বিরক্ত হয় এই কারণেই লোকটা কে তার একটুও পছন্দ না।চৈতি মিনিট দুয়েক দাঁড়িয়ে থেকে ধীরপায়ে ঘরের ভেতর ঢোকে। মাটির ঘর হলেও মেঝের কাজটা বেশ মসৃণ। মোমবাতির টিমটিমে আলোয় সে দেখে, তুরাগ ঘরের এক কোণে রাখা কাঠের আলনা থেকে নিজের জন্য শুকনো লুঙ্গি বের করে নিচ্ছে। তুরাগ একবারও পেছন ফিরে তাকায় না।চৈতি শাড়িটার দিকে তাকিয়ে দেখে গাঢ় নীল রঙের একটা সুতির শাড়ি।

ঘরের ওপাশে তুরাগ কাপড় পাল্টে যখন বের হয়, দেখে চৈতি তখনো শাড়িটা হাতে নিয়ে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তুরাগ এক মুহূর্ত থামে, তারপর খুব নিচু স্বরে বলে,

" আপনারে ভিজা কাপড় দেখনের শখ আমার নাই।"

বলেই সে উত্তরের অপেক্ষা না করে ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দার দিকে যায়। চৈতি মনে মনে আচ্ছা মতো তুরাগকে গালমন্দ করতে শুরু করে। লোকটার কথার শ্রী কত! মুখে যেন বিষ মাখানো। সে কি তাকে কোনোদিন একটা ভালো কথা বলতে পারবে না?আর সে কি তাকে শরীর দেখানোর জন্য এখানে দাঁড়িয়ে আছে নাকি?

~

ভোরের আলো ফুটতেই চৈতির ঘুম ভাঙে। জানালার ফাঁক দিয়ে আসা স্নিগ্ধ আলোয় ঘরের ভেতরটা এক মায়াবী রূপ নিয়েছে। সে ধীরপায়ে উঠে এসে দরজার দাড়াতেই একরাশ ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ তাকে অভ্যর্থনা জানায়। গত রাতের প্রলয়ংকরী ঝড়ের কোনো চিহ্নই নেই, প্রকৃতি এখন শান্ত আর স্নিগ্ধ।চৈতি বারান্দায় এসে দেখে, তুরাগ উঠোনে দাঁড়িয়ে কার সাথে নিচু স্বরে কথা বলছে। লোকটার পরনে এক সাধারণ লুঙ্গি আর কাঁধে গামছা। মুখ দেখা যাচ্ছে না তুরাগ দাড়িয় থাকার কারণে। সেদিকে একবার তাকিয়েই চৈতি নজর সরিয়ে নেয়। কিন্তু পরক্ষণেই তার চোখ আটকে যায় পুরো বাড়িটার ওপর। দিনের আলোয় এই জায়গাটা কোনো রূপকথার রাজ্য।বাড়ির ঠিক মাঝখানে বিশাল এক কৃষ্ণচূড়া গাছ। গাছটা এত বড় যে গাছের ডালগুলো ঘরের চাল ছাড়িয়ে পেছনে চলে গেছে, আর মোটা একটা ডালে বাঁধা আছে চমৎকার একখানা দোলনা।চৈতি ডানদিকে ফিরে তাকায়। সামনেই শান্ত হয়ে বয়ে চলা নদী। রোদের ঝিলিক নদীর বুকে পড়ে হীরের মতো চকচক করছে। সে ঘর থেকে উঠোনে নেমে আসে। বাড়িটা এল আকৃতির মতো করে সাজানো দুইটা মাটির ঘর। ঘরগুলোর নকশা এত নিখুঁত যে মনে হয় কোনো শিল্পী নিজ হাতে এগুলো গড়েছেন।মাটির ঘরেও বুঝি এত সুন্দর নকশা করা হয় তা চৈতির জানা ছিলো না।চৈতি অবাক হয়ে দেখে, ঘরগুলোর ঠিক সামনে সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে বাগানবিলাসের গাছ। গোলাপি আর সাদা ফুলের সমারোহে পুরো উঠোনটা রঙিন হয়ে আছে। আবার ঘরগুলোর ঠিক পেছনেই বিশাল সব ফল আর ফুলের গাছ। আম, কাঁঠাল আর জামরুল গাছের ঘন পাতার আড়ালে পাখিদের কিচিরমিচির শোনা যাচ্ছে।চৈতির মনে এক খটকা লাগে। তুরাগ তো বলল তাদের বিয়ের পর এই বাড়ি তৈরি করেছে। কিন্তু এত অল্প সময়ে এই বিশাল গাছগুলো এত বড় হলো কীভাবে?চৈতি আর বেশি মাথা ঘামায় না। তুরাগের রহস্যের শেষ নেই, তাই এই রহস্যটাও সে আপাতত তোলা রাখে। সে মুগ্ধ হয়ে ঘুরে ঘুরে পুরো বাড়িটা দেখতে থাকে। এমন সময় চোখ যায় তুরাগের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার দিকে। লোকটা চলে যাচ্ছে তুরাগও ঘরের ভেতর ঢুকছে। চৈতি তড়িঘড়ি করে কলপাড়ে এগিয়ে যায়। চোখে-মুখে জলের ঝাপটা দিয়ে নিজেকে একটু গুছিয়ে নিয়ে সে দ্রুত পায়ে ঘরের দিকে ছোটে। তুরাগের সঙ্গে তার অনেক কথা আছে। হাত মুখ ধুয়ে এসে চৈতি ঘরে পা দিয়েই দেখল তুরাগ নেই। এই তো মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে লোকটা এখানেই ছিল! চৈতির বিরক্তি চড়চড়িয়ে বাড়ছে। মানুষটা কি কর্পূরের মতো উবে যায় নাকি? বিরক্তি মাখানো গলায় সে তুরাগকে ডাকে,

"এই যে সাহেব, কই আপনি?"

চৈতির কণ্ঠের রেশ কাটতে না কাটতেই রান্নাঘরের পেছন থেকে তুরাগের উত্তর ভেসে আসে,

"এইহানে।"

তুরাগের মুখ থেকে এমন খাঁটি আঞ্চলিক ঢঙের কথা শুনে চৈতির বিরক্তি নিমেষেই জল হয়ে যায়। ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটলেও সেটাকে আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্টা করে সে। হাসি চেপে রেখেই পা টিপে টিপে রান্নাঘরের পেছনে গিয়ে উঁকি দেয়। তারপর তুরাগের সুর নকল করেই আদুরে গলায় বলে ওঠে,

"এইহানে কোনহানে?"

তুরাগ তখন শাবল দিয়ে মাটি খুঁড়তে ব্যস্ত। চৈতির কথা শুনে সে একবারও না তাকিয়ে স্রেফ নিজের হাতের ইশারায় মাথার ওপরটা দেখিয়ে দিয়ে সংক্ষিপ্ত উত্তর দেয়,

"এইহানে।"

ব্যস! চৈতির হাসি এবার কর্পূরের মতো উবে গিয়ে সেখানে জমাটবদ্ধ মেঘের মতো বিরক্তি এসে ভর করে। লোকটা আসলেই কাঠের পুতুল।কথা বলার কোনো ছিরি নেই, রসের লেশমাত্র নেই। চৈতি সাথে সাথে মুখখানা বাংলার পাঁচের মতো গোমড়া করে ফেলে। সে মনে মনে কঠিন শপথ নেয় এই অসভ্য লোকটার সঙ্গে আজ থেকে আর কোনো কথা বলবে না। এমনকি যদি কথা জমতে জমতে আমার পেট ফেটে চৌচির হয়ে যায়, তাও না।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন