বর্ষার কৃষ্ণপক্ষের ভারী মেঘগুলো মাটির খুব কাছে নেমে এসেছে স্বচ্ছ জলের আরশিতে নিজের অন্ধকারাচ্ছন্ন মুখচ্ছবি দেখবে বলেই কি তাদের এই আয়োজন? চারপাশ নিদারুণ গুমোট স্তব্ধতায় আচ্ছন্ন, মনে হয় প্রকৃতি কোনো এক অমোঘ ধ্বংসের অপেক্ষায় দম বন্ধ করে আছে। মাঝে মাঝে ঝোড়ো হাওয়ার অবাধ্য ঝাপটা এসে স্থির জলরাশির বুকে কম্পন তুলে দিয়ে যাচ্ছে। তীরের ঘাস আর লতাপাতাগুলো উন্মত্ত বাতাসে মাথা কুঁড়ে মরছে যন্ত্রণায়। এই জনমানবহীন মেঠো ধরে কিয়াম হেঁটে চলেছে। অযত্নে বেড়ে ওঠা অবিন্যস্ত দীর্ঘ কেশরাশি বারবার তার চোখেমুখে এসে আছড়ে পড়ছে, কিন্তু সেদিকে তার বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। আজকাল সে মাইলের পর মাইল এভাবেই হেঁটে যায় শরীরের ক্লান্তি তাকে স্পর্শও করতে পারে না। গ্রামীণ এই মেঠো পথ আর দুপাশের থৈ থৈ জলরাশির মাঝে উদ্দেশ্যহীন পথচলায় সে প্রশান্তি খুঁজে পায়। অথচ জনপদ জুড়ে তাকে নিয়ে এখন নিন্দার ঝড় বইছে।যে বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে তাকে চেয়ারম্যানের আসনে বসানো হয়েছিল, তার কিঞ্চিৎ প্রতিফলনও তার কর্মে নেই। জনহিতকর কোনো কাজেই কিয়ামের ভ্রুক্ষেপ নেই। জহির তাকে বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করে, দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় কিন্তু কিয়াম যেন এখন এক ভিন্ন জগতের বাসিন্দা। সে কারও উপদেশের ধার ধারে না, কারও শাসন মানে না তার অশান্ত মন তাকে যেখানে নিয়ে যায়, সে শুধু সেখানেই ছুটে চলে। গ্রামের সাধারণ মানুষেরা তাকে নিয়ে কানাকানি করে।কেউ বিরক্তি প্রকাশ করে, আবার কেউ তাকে সরাসরি পাগল বলে আখ্যায়িত করে। কিয়ামের কানে সব কটু কথাই পৌঁছায়, কিন্তু বাতাসের শাঁ শাঁ শব্দের মতো সেসব তার এক কান দিয়ে ঢুকে অন্য কান দিয়ে বেরিয়ে যায়।
হাঁটতে হাঁটতে কিয়াম ক্লান্ত পায়ে রাস্তার ধারে বিলের দিকে মুখ করে বসে পড়ে। রাস্তার কিনার ছোঁয়া জলরাশি আজ দিগন্ত বিস্তৃত। শত শত বিঘা জমির কাঁচা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অকাল বর্ষণের এই তাণ্ডবে প্রকৃতি কৃষকের স্বপ্নগুলোকে নিমেষেই গ্রাস করেছে। কিয়াম নিস্পৃহ নয়নে ধ্বংসলীলার দিকে তাকিয়ে থাকে। সেই মুহূর্তে কিয়াম অনুভব করে, তার ঠিক পেছনে কেউ একজন এসে দাঁড়িয়েছে। সে ঘাড় ফিরিয়ে পেছনে তাকাতেই দেখে শুভ্র পাঞ্জাবি আর ধবধবে সাদা লুঙ্গি পরিহিত এক বৃদ্ধ লোক তার দিকে তাকিয়ে আছেন। কিয়ামের শূন্য দৃষ্টির বিপরীতে লোকটির মুখে এক চিলতে অমায়িক হাসি ফুটে ওঠে। বৃদ্ধ বিস্ময়ে বলে ওঠেন,
"আরে চেয়ারম্যান সাহেব! আপনি এখানে?"
কিয়ামের ঠোঁটে কোনো হাসির রেখা দেখা দেয় না। সে নিজের উদাসীনতা আড়াল করতে মিথ্যার আশ্রয় নেয়, নিরুত্তাপ গলায় বলে,
"দেখতে এলাম পানি কতটুকু বাড়ল।"
বৃদ্ধ লোকটি এবার কোনো অনুমতি না নিয়েই কিয়ামের পাশে ঘাসের ওপর বসে পড়েন। তারপর কিঞ্চিৎ কিয়ামের দিকে তাকিয়ে বলেন,
"আমি জ্যোতিষী। দেখি তো আপনার ভাগ্যে বিধাতা কী লিখে রেখেছেন!"
কথাটি বলে লোকটা তার হাত বাড়িয়ে দেন, কিয়ামের করতল পরীক্ষা করতে। কিন্তু কিয়াম তার হাত বাড়ায় না। সে শীতল হাসিতে মুখটা উজ্জ্বল করে বলে,
"ভাগ্যে যা হওয়ার তা তো হবেই, ওসব দেখে কী লাভ?"
লোকটা কিয়ামের অনাগ্রহ দেখেও থামেনা। তিনি তাঁর উজ্জ্বল চোখের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি কিয়ামের মুখের ওপর স্থির করে খুব ধীর স্বরে বলেন,
"সবকিছু হবে বলেই হয় না বাবা, কিছু জিনিস আমরা নিজে ডেকে আনি। আপনি যে জিনিসটা হন্যে হয়ে খুঁজছেন, সেটা আপনার কাছেই আছে, শুধু দেখার চোখটা বদলে গেছে।"
কিয়াম বেশ তীক্ষ্ণ স্বরেই প্রশ্ন করে,
"কী বোঝাতে চাইছেন আপনি?"
বৃদ্ধ লোকটা উত্তর না দিয়ে বিলের জলরাশির দিকে তাকান। যেখানে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো পড়ে শত শত বৃত্ত তৈরি হচ্ছে। তিনি খুব শান্ত ও গভীর কণ্ঠে বলেন,
"পানি যখন ঘোলা হয়, তখন আমরা শুধু ওপরের আবর্জনাটাই দেখি। কিন্তু ময়লা যখন থিতিয়ে নিচে পড়ে যায়, তখন নিজের মুখটা পরিষ্কার দেখা যায়। আপনি এখন ঘোলা পানির ওপর দিয়ে হাঁটছেন, তাই দিশা পাচ্ছেন না।"
কিয়ামের কপালে বিরক্তির রেখা ফুটে ওঠে। সে হেঁয়ালি পছন্দ করে না।
"সহজ করে বলেন। আমি আপনার এই আধ্যাত্মিক কথা শোনার মেজাজে নেই।"
লোকটা এবার নিঃশব্দে হাসেন।তারপর কিয়ামের দিকে ফিরে বলেন,
"যে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে আপনি ঘরের দিকে ছোটেন, সেই বৃষ্টিই আজ আপনার পথের সঙ্গী। প্রকৃতি আপনাকে সংকেত দিচ্ছে, কিন্তু আপনি কেবল স্মৃতির ভাগাড়ে পড়ে আছেন। সময় থাকতে চোখের পর্দাটা সরান, নইলে এই জলের মতো আপনার জীবনটাও একদিন ঘোলা হয়ে যাবে।"
কিছু বলতে চায়, কিন্তু বৃদ্ধ হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিয়ে বকথাগুলো বলে লোকটা উঠে দাঁড়ান।
"কাল আবার আসবেন সব বুঝিয়ে দিবো।"
বৃদ্ধের কথা শুনে কিয়ামের ওষ্ঠাধরে এক চিলতে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে ওঠে। লোকটার কই বলতে চাইছে তা হয়তো বুঝতে পেরেছে কিন্তু সে এসবে বিশ্বাসী নয়। নিয়তি, ভাগ্য কিংবা আধ্যাত্মিক কোনো প্রলাপ তার দগ্ধ মস্তিস্কে কোনো রেখাপাত করে না। সে নির্বিকার ভঙ্গিতে বিলের ঘোলা জলের দিকে তাকিয়ে থাকে।বৃদ্ধ লোকটা কিয়ামের এই অবিশ্বাসী মনোভাব টের পেলেন কি না বোঝা যায় না। তিনি কিয়ামের নির্লিপ্ত মুখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে পুনরায় হাসলেন। তারপর তিনি দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন দিগন্তের দিকে। বৃদ্ধের ওষ্ঠাধর কম্পিত হতে থাকে তিনি বিড়বিড় করে কিছু একটা পড়তে পড়তে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন।
~
তুরাগের কপালে চিন্তার ভাঁজ ভাজ তার বিঘার পর বিঘা চাষের জমি আজ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সে অনেক বেশি শ্রম আর পুঁজি ঢেলেছিল ধানের ওপর। সারা বছর শাকসবজি বিক্রি করে কোনোমতে দিন চললেও, বছরের মূল সঞ্চয়টুকু আসত এই ধান বিক্রির অর্থ থেকেই। সেই সোনার ফসল আজ পানির নিচে। তুরাগ আর চৈতি বিলের কাঁদা মাখা পথ ধরে এগিয়ে চলেছে। তুরাগ এক হাতে লুঙ্গি উঁচিয়ে ধরেছে অন্য হাতে সিগারেট ফুঁকছে। কিন্তু পেছনে থাকা চৈতির অবস্থা একেবারেই নাজেহাল। তুরাগ নিজের হাতের বোঝা কমাতে মাছ ধরার জাল আর মাছ রাখার বোলটা চৈতির ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে। কাদামাখা পিচ্ছিল পথে ভারী বোল আর জাল সামলাতে গিয়ে চৈতি হিমশিম খাচ্ছে। তুরাগ লম্বা পায়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, অথচ পেছনের মানুষটার কষ্টের দিকে তার ভ্রুক্ষেপ নেই। চৈতির পরনের শাড়ি কাদায় মাখামাখি, কপালে জমেছে বিন্দু বিন্দু ঘাম। সে আর সইতে না পেরে পেছন হতে তুরাগকে তীব্র স্বরে ডাকল,
"এইগুলো আমি আর নিতে পারব না, আপনার জিনিস আপনি নিন।"
তুরাগ থেমে দাঁড়িয়ে পেছনে তাকায়। সে ঠাণ্ডা গলায় প্রশ্ন করল,
"আপনারে কি আমি এমনে এমনেই লইয়া আছি?"
"আমি আর পারব না। নিজের জিনিস নিজে নিন, আমি বিনা বেতনে আপনার চাকরি করতে পারব না।"
কথাটি বলেই চৈতি হাত থেকে জাল আর বোল কাদার ওপর ফেলে দিল।তুরাগ কিছু না বলে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে সামনে রাস্তার দিকে তাকিয়ে রইল। কিছুক্ষণ নীরব থেকে সে হঠাৎ চৈতির চোখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
"আইসক্রিম খাইবেন?"
চৈতি বিষ্মিত হয়ে তুরাগের দৃষ্টি অনুসরণ করল। দেখল—দূরে এক বৃদ্ধ লোক মাথায় কাঠের বড় বাক্স নিয়ে মন্থর পায়ে এগিয়ে আসছেন।ছোট বেলা। নানুর বাড়িতে গিয়ে অনেক খেয়ে সে এই আইসক্রিম।এত বছর পর সুযোগ পেয়ে সে আর মানা করল না। তুরাগ তাকে ফেলেই লম্বা পায়ে আইসক্রিমওয়ালার দিকে এগিয়ে গেল চৈতিও কাদা মাড়িয়ে তার পিছু নিল।তুরাগ লোকটির সামনে গিয়ে সহাস্যে ডাকল,
"ও চাচা! কত দিন পর আইলেন!"
বৃদ্ধ লোকটা তুরাগকে দেখে হাসলেন,
"কী করমু কও তোমাগোর গেরামে আইতে বউ না করে।"
তুরাগ হাসল, তারপর পকেট থেকে টাকা বের করে বলল, "চাচা, একটা পাঁচ ট্যাহা আর একটা দুই ট্যাহার আইসক্রিম দেন।"
লোকটা একবার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা চৈতির দিকে সন্ধানী দৃষ্টিতে তাকালেন,
"এইডা কেডায়?"
তুরাগ একপলক চৈতির তপ্ত চেহারার দিকে তাকিয়ে রসালাপ করে বলে,
"আরে কইয়েন না চাচা! পাটক্ষেতে মুততে গিয়া কট খাইছি, অহন লগে লইয়া ঘুরি।"
আইসক্রিমওয়ালা হো হো করে হেসে ওঠেন। তিনি একটি নারকেলের আইসক্রিম চৈতির দিকে বাড়িয়ে দিতেই তুরাগ সেটি ছোঁ মেরে ছিনিয়ে নেয়। লোকটা অবাক হয়ে তুরাগের দিকে চেয়ে থাকে,
"কোনো সমস্যা বাবা?"
তুরাগ মাথা নেড়ে না করে বলে,
"উনারে দুই ট্যাহারটা দেন।"
চৈতি অপমানে আর রাগে ফেটে পড়ার উপক্রম হয়। সে দুই টাকার আইসক্রিম খাবে? তুরাগের দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে সে প্রশ্ন করে,
"আমি দুই টাকারটা খাব কেন?"
তুরাগ নির্বিকার চিত্তে আইসক্রিমে কামড় দিয়ে বলে,
"একটু আগে কী কইছিলেন মনে নাই?"
"কী বলেছি?"
"কইছিলেন না যে আপনে বিনা বেতনে আমার চাকরি করতে পারতেন না? হেই হিসাবে অহন আমি আপনার মালিক। আর মালিক যা দিব, কর্মচারী তাই খাইবো।"
চৈতি রাগে ফুঁসতে থাকে, তার বুক চিরে এক দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। তুরাগ নিরুত্তাপ গলায় যোগ করে,
"না খাইলে খাইয়া লামু।"
চৈতি বাধ্য হয়ে মুখ কালো করে আইসক্রিমটা হাতে নেয়। কিন্তু পেছনে ঘুরতেই সে আতঙ্কে শিউরে ওঠে। তার ঠিক সামনেই একটা ছেলে বাচ্চা হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চৈতির চমকে যাওয়া দেখে তুরাগ সামনে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলে,
"আরে ডরাইয়েন না। এইডা পাগল, হারাদিন এমনে পথে পথে ঘুরে।"
শিশুটির করুণ দশা দেখে চৈতির মনে মায়ার উদ্রেক হয়। এমনিতেই তুরাগের কটু কথায় তার আইসক্রিম খাওয়ার রুচি মিটে গেছে। সে নিজের আইসক্রিমটি শিশুটির দিকে বাড়িয়ে দিতে উদ্যত হয়। তুরাগ তা দেখে পাশ থেকে সাবধান করে দেয়,
"আমি কিন্তু আর কিন্না দিতাম না।"
চৈতি তুরাগের সতর্কবাণী শুনেও শোনে না। সে আইসক্রিমটি বাড়িয়ে দিতেই শিশুটি সেটি ছোঁ মেরে নেয় এবং মুহূর্তের মধ্যে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ একটি গালি দিয়ে সেখান থেকে চম্পট দেয়। চৈতি স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে দয়া দেখাতে গিয়ে এমন অপ্রত্যাশিত প্রতিদান সে কল্পনাও করেনি। তুরাগের মুখে তখন হাসি। চৈতির হতভম্ব মুখাবয়ব দেখে সে তৃপ্তি পায়। আইসক্রিমে কামড় দিয়ে সে বিদ্রূপের সুরে বলে,
"নিজে পায় না খাইতে, আবার আরেকজনরে দেয় লেইতে! ঠিকই আছে।"
চৈতির ধৈর্যের বাঁধ এবার চূড়ান্তভাবে ভেঙে যায়। লোকটা অকারণে কেন তার সাথে এমন আচরণ করছে? সে স্থির দৃষ্টিতে তুরাগের দিকে তাকায়, গলার স্বর রাগে কাঁপছে,
"আমাকে নিয়ে এত সমস্যা কিসের আপনার? যদি আমাকে খাওয়াতে-পরাতে এতই কষ্ট হয়, তবে একবার বলে দিন আমি এখনই চলে যাব। কিন্তু দয়া করে সারাক্ষণ এমন কটু কথা বলে আমাকে ছোট করবেন না।"
চৈতি আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়ায় না। অপমানে তার চোখ ফেটে জল আসতে চাইছে, কিন্তু সে তা তুরাগকে দেখাতে চায় না। যে কাদা-জলের পথ দিয়ে সে এসেছিল, সেই পথেই হন্তদন্ত হয়ে ফিরে যেতে শুরু করে। তুরাগ আইসক্রিম খাওয়া থামিয়ে স্থাণুর মতো দাঁড়িয়ে থাকে। চৈতির এভাবে গর্জে ওঠাটা তার কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। সে আইসক্রিমের কাঠিটা দাঁতে চিবোতে চিবোতে চৈতির চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলে,
"ছাগল বেডি কিছু বুঝেনা।"
চলবে…
(আজকে সবার কমেন্টের রিপ্লাই দিবো কিছুদিন ধরে কাউর কমেন্টের রিপ্লাই দিচ্ছি না।তাই কোনো প্রশ্ন থাকলে করে ফেলুন সব প্রশ্নের উত্তর দিবো।)