ফন্ট সাইজ:
থিম:
তাজমহল ২য় খন্ড

১৫তম পর্ব

লেখক: প্রিমা ফারনাজ চৌধুরী

#তাজমহল #দ্বিতীয়_খন্ড

#পর্ব_১৫

#প্রিমা_ফারনাজ_চৌধুরী

উঠোনে এসে বাইকটা থামালো আনিস। উঠোনে শাহিদা বেগম দাঁড়িয়ে আছেন। গায়ে শাল জড়ানো। তিনি ঠকঠক করে কাঁপছেন। আনিস ফিরতে দেরী করছিল বলে উনি বাইরে এসে ছেলের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। শাওন এত করে বললো কিন্তু তিনি শুনলেন না।

আনিসের পেছন থেকে তাসনুভাকে নামতে দেখলেন। তাসনুভা বলল,"আপনাকে ভাড়া দিতে হবে?"

আনিস বলল,"না যাও।"

"এটা রাখুন।"

হাতের মুঠোয় কত টাকা সেটা দেখা গেল না। তবে আনিস এতটুকু বুঝলো এই মেয়ে টাকা দিয়ে ভাড়া দিচ্ছে না। তার গাল বরাবর ঠাস ঠাস করে দুটো চড় দিচ্ছে সাহায্য করার প্রতিদান হিসেবে। নিজের বিরক্তি আর রাগ লুকিয়ে সে বলল,

"এত অল্প টাকায় কি হবে? গাড়ির তেলের দাম দিতে হবে। এত অল্প টাকা নেব না।"

তাসনুভা চোয়াল ঝুলে পড়ার অবস্থা! মানে? সে দেবে তেলের টাকা? কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভাড়া দিচ্ছিল আক্কেল করে কিন্তু তাই বলে এভাবে তেলের দাম চেয়ে বসবেন উনি? এত নির্লজ্জ পুরুষ মানুষ সে জীবনেও দেখেনি। ভারী আশ্চর্য তো!

সে মুখ ঝামটা মেরে বলল,"এক টাকাও দেব না।"

বলেই ঘুরে দাঁড়ালো চলে যাওয়ার জন্য। আনিস বলল,"সুস্থ মস্তিষ্কে আমি যদি তোমাকে আর কোনোদিন আমার বাইকে উঠিয়েছি...

তাসনুভা তাকে পুরোটা বলতে না দিয়ে বলল,"আমারও এমন দুর্দিন আর আসবে না যে আপনার বাইকে উঠতে হবে। থ্যাংকস ফর ইয়োর টাইম এন্ড হেল্প টুডেই।"

বলেই হিল জুতোর শব্দ তুলে গটগট পায়ে হেঁটে চলে গেল। কিন্তু তৌসিফ ইচ্ছে করেই দরজা খুলছে না। দরজায় চড় কিল ঘুষি দিতে দিতে সে চেঁচামেচি করতে লাগলো। জোহরা বেগম বললেন,

"তৌসিফ দরজা খুলে দে।"

তৌসিফ কম্বল নিয়ে এসেছে। কম্বলটা মুড়িয়ে সোফায় ঘুমিয়ে পড়তে পড়তে সে বলল,"একঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকুক বাইরে।"

তাসনুভা সিঁড়িতে বসে রইলো আর না পেরে। শীতের রাত এত দীর্ঘ যে একঘন্টা দ্রুত ফুরোচ্ছে না।

~~~

আনিস মাকে উঠোনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল,"আম্মা তুমি পাগল? এত শীতের মধ্যে মানুষ বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে?"

"একা একা অতদুর থেকে আসছিলি তাই চিন্তা হচ্ছিল। ওই মেয়েকে কোথায় পেলি?"

"ইশরাকের বউ ওর বান্ধবী।"

"বাইকের পেছনে করে নিয়ে এলি?"

"বিপদে পড়েছে। উদ্ধার করতে হবে না? তৌসিফ ফোন করে বললো ওকে নিয়ে আসতে।"

মা-ছেলের কথোপকথন চলতে চলতেই আনিস ঘরে ঢুকে পড়ল। শাহিদা বেগমও তার পেছন পেছন এলেন।

"একটু চা খাবি?"

"না, এখন চা খেলে আর ঘুম আসবে না।"

"অত শীতের মধ্যে বেরিয়ে গেলি। একটা জ্যাকেট, মাফলার নিয়ে গেলিনা? কাল দেখবি জ্বর চলে আসবে। অফিস আদালত করা মানুষদের নিজেদের শরীরের কথা ভাবতে হয়।"

আনিস পাঞ্জাবি খুলে বাথরুমের দিকে যেতে যেতে বলল,"তুমি যাও শুয়ে পড়ো। বাবু কাঁদছে মনে হয়।"

"আর বলিস না। ওর মা একটু শান্তিতে ঘুমাতেও পারছে না। সারাদিন ঘুমাবে। আর রাতের বেলা ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদবে।"

রুমের কোণায় থাকা ছোট ওয়াশস্ট্যান্ডে গিয়ে কল ছেড়ে সে মুখহাত ধুয়ে নিল। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ একটা মেয়েলী কণ্ঠস্বর শোনা গেল। উঠোনে নেড়ি কুকুরের দল ঘেউ ঘেউ করছে। শাহিদা বেগম কানখাড়া হয়ে শুনলেন। কি হলো আবার!

আনিস তোয়ালে দিয়ে মুখ মোছা শেষে গায়ে শার্ট জড়াতে জড়াতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। শাহিদা বেগম তার পিছু যেতে যেতে বলল,

"বেরোস না এখন। কুকুরগুলো আচ্ছা বজ্জাত হয়েছে। গায়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে।"

আনিস দরজা খুলে উঠোনে বের হলো একটা লাঠি হাতে নিয়ে। সাথে সাথে আনিসের মেঝ চাচা আর তাদের বাড়ির গলি থেকে কেউ একজন এসে তার পেছনে লুকিয়ে পড়লো তার পিঠের শার্ট চেপে ধরে। ঠকঠক করে হাত কাঁপছে।

"আনিস ভাই হেল্প মি! এই বিচগুলো আমাকে চোর ভেবে নিয়েছে!"

আনিস ঘাড় ঘুরিয়ে তাকে দেখে অবাক হয়ে গেল।

"তুমি এখনো বাড়ি যাওনি?"

তাসনুভা দু'পাশে মাথা নাড়লো।

"ছোটো ভাইয়া দরজা খুলছে না। পানিশ।"

আনিস হতাশ হয়ে বলল,"শার্ট ছেড়ে দাও।"

বিষয়টা তাসনুভার বোধগম্য হতেই সে শার্ট ছেড়ে দিল। কুকুরগুলো তাদের দেখে আরও বেশি ঘেউঘেউ করছে। গায়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে এমনভাবে ডাকাডাকি করছে।

আনিস পাশ থেকে ইট পাথর কুড়িয়ে মারার ভয় দেখালো। ঘেউঘেউ করে সরে পড়তে লাগলো তারা। আরেকটা তেড়ে আসতেই আনিস ইট ছুঁড়ে দিল। কুকুরটি ঘেউঘেউ করে দূরে সরে গেল। তাসনুভা হাততালি দিয়ে বলল,

"আরেকটা মারুন।"

আনিস তার দিকে ফিরলো। সাথে সাথে তাসনুভার চেহারা গুমোট হয়ে এল। আনিস বলল,"এবার যাও। তৌসিফকে ডেকে তোলো।"

"আপনি ডাকুন। বদমাশটা দরজা খুলছে না।"

শাহিদা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে সবটা দেখছেন।

আনিসকে যেতে হলো তৌসিফকে ডেকে দেয়ার জন্য। দরজায় ধড়াম ধড়াম কয়েকবার শব্দ করতেই তৌসিফ এসে দরজা খুলে দিল। গায়ে কম্বলটা জড়ানো। দরজা খুলে দিয়ে সে ঘুমঘুম চোখে সোজা নিজের ঘরে চলে গেল।

তাসনুভা দরজা বন্ধ করতে গিয়ে আনিসকে দেখে থেমে গেল। বলল,

"আবারও ধন্যবাদ কিন্তু নায়ক নায়ক ভাব নেয়ার দরকার নেই। আপনি খুব আহামরি কিছু করেননি। যাদেরকে পুষেন তাদেরকে জাস্ট তাড়িয়েছেন। নাথিং এলস।"

আনিস দাঁড়ালো না। মেয়েটার সাথে কথা বলে এনার্জি লস করার কোনো মানে হয় না। মাথায় সমস্যা আছে নির্ঘাত।

তাসনুভা দরজা বন্ধ করতে গিয়ে আবারও ডাকল,

"আনিস ভাই, আনিস ভাই দাঁড়ান।"

আনিস থমকে দাঁড়ালো। না ফিরেই বলল,"বলে ফেলো।"

"গুডনাইট। কাল আপনি বিয়েতে না থাকলে আমি খুশি হবো। আপনার জন্য আমি ভালো করে ছবি তুলতে পারিনি।"

~~~~~

তিতলি গালফুলিয়ে বলল,"আমি বিয়েতে যাব না। আমি এককথার মানুষ।"

তাসনুভা বলল,"শাটআপ তিতলি! আমি তোমাকে ড্রেস সিলেক্ট করে দিচ্ছি। তুমি এটা পরে ভাইয়ের সাথে চলে যাবে। আর কোনো কথা শুনতে চাই না।"

তিতলি বলল,"আমি গাউন পরবো না। আমি থ্রি পিস পরবো।"

"সবাই গাউন পরবে। তোমাকেও গাউন পরতে হবে।"

দুজনেই তর্ক করে যাচ্ছে। ঝিমলি এসে বলল,"কি হলো রে বাবা! দু'জনের এত ঝগড়া কি নিয়ে?

তাসনুভা অভিযোগের সুরে বলল,"ওকে কাল না নিয়ে গিয়ে আমার গিল্টি ফিল হচ্ছিল তাই আমি কাল অত কষ্ট করে চলে এসেছি ওকে আজকে নিয়ে যাব বলে। কিন্তু ও আমার কথা শুনছেই না। খুব অসভ্য হয়েছে ও।"

তিতলি বলল,"আমার চোখের পানি ফিরিয়ে দাও। আমাকে কাঁদিয়েছ কালকে।"

তাসনুভা বলল,"তোমাকে যেতে হবে না বিয়েতে।"

গাউনটা নিয়ে সে ভাঁজ করতে লাগলো। এমনভাবে ভাঁজ করতে লাগলো দেখে মনে হলো কাপড়টাকে শক্ত করে ধরলে সেটি ব্যাথা পাবে।

ঝিমলি বলল,"ননদিনী আপনি চলে যান। ও যাবে কি যাবে না সেটা দেখা যাবে।"

"ও যদি থ্রি-পিস পরে যায় আমি ওকে ক্লাবে ঢুকতেই দেব না।"

তিতলি বলল,"ওই ক্লাব তোমার বাপের?"

বলেই জিভে কামড় দিল সে। তাসনুভা বলল,

"কি বলেছ?"

তিতলি দুপাশে মাথা নেড়ে বলল,"কিচ্ছু না।"

"তুমি টেবিলের উপর উঠে বসেছ কেন বেয়াদব মেয়ে? নামো।"

তিতলি দুপাশে মাথা নাড়লো।

"কোলে করে নামাও।"

"হোয়াট!"

ঝিমলি হাসতে হাসতে বলল,"এই দুই বোন সবাইকে পাগল বানিয়ে ছাড়বে দেখছি।"

শাইনা ঘরে উঁকি দিল চেঁচামেচি শুনে। ঝিমলি বলল,"দেখো এরা কি অবস্থা করছে।"

শাইনা তিতলিকে বলল,"বড়োআম্মু ডাকছে।"

তিতলি টেবিলের উপর থেকে একলাফে নেমে এল। তাসনুভার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জিভ দেখিয়ে দিল। তাসনুভা তার পেছন পেছন বেরিয়ে যেতে যেতে বলল,

"আম্মুকে বলবো তুমি আমাকে জিভ দেখিয়েছ। তুমি আমার সাথে এটা করতে পারলে?"

দু'জন চলে যেতেই ঝিমলি শাইনার দিকে তাকিয়ে বলল,"চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন?"

শাইনা বলল,"আমি কিছু চেঞ্জেস দেখতে পাচ্ছি। মনে হচ্ছে বেবি নড়ছে না।"

ঝিমলি কপাল কুঁচকে ফেললো।

"কখন থেকে?"

"সকাল থেকেই এমনটা মনে হচ্ছে। মেঝ মা বললো এটা স্বাভাবিক। বড়ো আম্মু বলল আমি একপাশে শুয়েছিলাম তাই এমন হচ্ছে।"

ঝিমলি বলল,"আমি নুভাকে বলবো?"

"না না আমি চাচ্ছিলাম বাড়িতে যেতে। ছোটো ভাইয়াকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাব।"

"আমি রায়হানকে বলি?"

"না ভাইয়া একটা কাজে বেরিয়েছে। ডিস্টার্ব করার দরকার নেই।"

"তাহলে ছোটো ভাইয়াকে বলি।"

"উনি মনে হয় বিয়েতে যাবেন। চুল কাটতে গিয়েছেন। আমি বাড়ি যাই।"

"আম্মুকে বলে যাও।"

শাইনা বলল,"বলেছি।"

~~~~~

শাইনা তাদের বাড়িতে এসেছে। বাড়ির সবাই বিয়ে খেতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শাহিদা বেগম সবটা শুনে বললেন,"তোর মেঝ ভাইকে বলবো?"

"তোমরা সবাই আজ বিয়েতে যাচ্ছ! ছোটো ভাইয়াও যাবে?"

"স্বপরিবার দাওয়াত করেছে না? যেতে তো হবেই। ইশরাকের মা আবার রাগ করবে। তোর ভাইয়ের বিয়েতে দাওয়াত দিলে আসবে না। দাঁড়া আমি আনিসকে বলি।"

তিনি আনিসের ঘরে গেলেন। সে তার কোর্ট আইরন করাচ্ছিল। মাকে ঘরে ঢুকতে দেখে ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো। শাহিদা বেগম বললেন,

"শানুকে নাকি ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।"

"কি হয়েছে?"

শাহিদা বেগম সবটা খুলে বললেন। আনিস বলল,"ক্লাবে যাব দুইটাই। ততক্ষণে চলে আসা যাবে। ও এতক্ষণ পর বলছে কেন? এসব নিয়ে বসে থাকা যায়? তাজদারের কানে গেলে ও কি বলবে?"

শাহিদা বেগম বললেন,"কানে যাক। ওর বাড়ির লোকজন তো এসব কানেও নিল না। মেয়েটা কেন ধড়ফড় করছে একটু বোঝার চেষ্টা তো করলো না কেউ।"

"ওরও দোষ আছে। তাজকে ফোন করলেই তো হয়। ও সবাইকে বলতে পারে। চাপা স্বভাবের হওয়া ভালো। কিন্তু বেশি চাপা স্বভাব ভালো না।"

"তোরা সবাই একরকম। তুইও কম কীসে?"

আনিস বলল,"আচ্ছা ওকে কিছু খাইয়ে দাও ভালো করে। বোরকা নিতে বলো।"

শাইনা কিছু খেল না। দ্রুত বোরকা পরে নিল। তিতলি এসে তার রিপোর্টগুলো দিয়ে গেল। শাইনাকে বলল,"বাবুর কিছু হবে না দেখো। হলে আমি শেষ.. সবাই বলবে আমি লাথি মেরেছি। আমি আজকের পর থেকে তোমার সাথে ঘুমাবো না ভাই।"

শাইনা তাকে কিছু বললো না। তার বুকের ভেতর ঢিপঢিপ করছে। এরা বলছে তাজদার সিদ্দিকীকে বলতে। কিন্তু সে জানে তাজদার সিদ্দিকীর কানে কথাটা যাওয়া মানেই অতিরিক্ত দশটা ঝামেলা বেড়ে যাওয়া। কাকে কি বলে বসবে। তারপর সবাই বলবে সে কানপরা দিয়েছে। আবার কাউকে কিছু বলতে বারণ করলে বলবে সে ইচ্ছে করে এমন করছে। তার বাচ্চা তাই সে ইচ্ছে করে অবহেলা করছে। আরও অনেককিছু বলবে। যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।

আনিস তাকে নিয়ে বেরিয়ে গেল হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। তাসনুভা তখুনি পার্লারের উদ্দেশ্যে বেরোচ্ছিল। সে কপাল কুঁচকে আনিসের পিছু পিছু শাইনাকে যেতে দেখলো। পুনরায় ঘরে গিয়ে রওশনআরাকে বলল,

"আম্মু শাইনা কোথায় যাচ্ছে?"

"বাবু নাকি নড়ছে না।"

"তোমাদের কাছে এটা নরমাল?"

"এরকম হয় মাঝেমধ্যে।"

জোহরা বেগম বললেন," আজকালকার মেয়েদের কান্ডকারখানা দেখে অবাক হই। কিছু হতে না হতেই ডাক্তার আর ডাক্তার।"

"কিন্তু এটাকে এত নর্মালি নেয়ার কি আছে মেঝ আম্মু? ভাইয়া শুনলে ওমাইগড! আমাকে বকবে ভাইয়া।"

রওশনআরা বললেন,"তোমাকে বকবে কেন? তুমি কি করেছ?"

তাসনুভা রেগে গেল ভীষণ। চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলল,

"কি করেছি মানে? বলবে শাইনাকে ওই বাড়িতে কেন যেতে হলো। তোমাদের কিছু বলবে? বলবে তো আমাকে। উফ!"

সে বিরক্ত হয়ে গটগট পায়ে হেঁটে পার্লারের উদ্দেশ্য বেরিয়ে গেল। পার্লারে যাওয়ারে পথে শেভরনে গেল।

সেখানে আনিসের পাশে শাইনা বসা ছিল। হাতে একটা পানির বোতল। চোখমুখ লাল। মনে হচ্ছে এখন ঠোকা দিলেই চোখ থেকে টপটপ করে জল পড়বে। আনিস তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে কি যেন বলে যাচ্ছে আদুরে গলায়। পাশে কিছু কাগজের পলি আছে। সেখানে কিছু খাবার আছে। যেটা শাইনা অর্ধেক খেয়ে রেখে দিয়েছে।

তাসনুভা সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই শাইনা চোখ তুলে তাকালো তার দিকে।

"ডাক্তার কি বলেছে?"

শাইনার বাম চোখ থেকে একফোঁটা জল পড়তেই সে সাথে সাথে মুছে ফেলে সেখান থেকে উঠে বেরিয়ে যেতে লাগলো।

তাসনুভা আনিসের দিকে তাকালো।

"সিরিয়াস কিছু্? বেবি ঠিক আছে?"

আনিস বলল,

"হ্যাঁ, ডাক্তার বলেছে ও পানি কম খায়। পানির পরিমাণ কমে হলে বেবি কিছুটা অক্সিজেন ও পুষ্টি কম পায় এরকম কিছু বলছে ডাক্তার।"

তাসনুভা বলল,"ও কাঁদছে কেন?"

"তাজ বকেছে।"

"কেন?"

"কেন বকবে? ওকে সবার আগে বলেনি তাই।"

তাসনুভা ভীতকণ্ঠে বলল,"আমাকেও দেবে। আপনার বোন সবসময় আমাকে বিপদে ফেলে। ওকে নিয়ে যান। আমি পার্লারে যাচ্ছি।"

"এতই যখন চিন্তা ভাইয়ের বউকে নিয়ে তুমি নিয়ে যাও।"

তাসনুভা বলল,"ইউ নৌ হোয়াট আনিস ভাই, আপনি একটা...

আনিস বলল,"ফালতু কথা বলবে না এখানে দাঁড়িয়ে। যেখানে যাচ্ছ যাও।"

তাসনুভা ক্ষোভের দৃষ্টিতে চেয়ে তারপর চলে গেল।

~~~~~

তাজদার ঘুমঘুম চোখে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলো। ইউকেতে তখন ভোরের আলো। সকাল ৭টা। বাংলাদেশে দুপুর ১টা।

ফোনটা রিসিভ হতেই শাইনা কোথায় যেন চলে গিয়েছিল। ক্যামেরায় শুধু সিলিং দেখা যাচ্ছে।

মনে হচ্ছে তাড়াহুড়োয় ফোনটা কোথাও ফেলে রেখেছে।

তাজদার কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলো। কেউ নেই। এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন বিয়ে করতে তাকে কে বলেছে? শেষমেশ বিরক্ত হয়ে কল কেটে দিয়ে অডিও কল দিল।

কিছুক্ষণ পর রিসিভ করলো শাইনা। ভিজে চুল থেকে টুপটুপ পানি পড়ছে। তোয়ালেটা কাঁধে।

কানে ফোনটা দিতেই তাজদার গলা ভারী করে বলল,“কল রিসিভ করে কোথায় গিয়েছ?”

শাইনা চুপ। শব্দ নেই। তার গলা দিয়ে শব্দ আসছে না। ভাইয়ার সামনে তাকে বকেছে। ভাইয়া এখন কি ভাববে! কোনো লাজলজ্জা নেই। একা কল দিয়ে বকতে পারতো। কিন্তু ভাইয়ার সামনে! ভাইয়া ভাববে সে সারাক্ষণ বোকামি করে। তাজদার সিদ্দিকী তাকে সবসময় বিপদে ফেলে দেয়।

তাজদার গম্ভীর মুখে ডাকল,"শাইনা?"

"জি।"

“চুপ কেন? কথা বলো। ভিডিও কলে আসো।"

শাইনা কোনো কথা বললো না। তাজদার এবার আরও ঠান্ডা গলায় ডেকে উঠলো,"শাইনা!!!"

ধীরে ধীরে শাইনার ভেজা, ক্লান্ত গলা শোনা গেল,“আযান দিচ্ছে, আমি নামাজ পড়ব। আপনি ব্রেকফাস্ট করে ফোন দিন।"

তাজদার শক্ত গলায় বলল,

“আগে কথা শেষ করো। সবসময় পালাই পালাই করবে না খবরদার। আমি সবসময় তামাশা করার মুডে থাকি না। তোমার কোনো আইডিয়া নেই আমি কতটা পেরেশানিতে থাকি। ভিডিও কলে আসো। কথা একবারের চাইতে দু'বার বলবো না।"

শাইনা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর বলল,

“আমাকে বকে আবার কেন ফোন করেছেন? ভাইয়ার সামনে বকেছেন। আমার মানসম্মান রাখেননি।"

তাজদার দাঁত কটমট করে বললো,“আল্লাহর ওয়াস্তে ভিডিও কলে আসো। আমার মেজাজ খারাপ করো না।"

অনেকটা অনিচ্ছায় শাইনা ভিডিও কলে এল।

স্ক্রিন জ্বলে উঠতেই দেখা গেল শাইনার চুলগুলো ভেজা। সোজা সিঁথি, নাকের ডগা, চোখের কোণা লাল। তাজদার এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। কিছুক্ষণ পর প্রশ্ন করলো,

“এতক্ষণ কোথায় ছিলে?”

শাইনা ঠান্ডা গলায় বলল,"মলি খালার সাথে কথা।বলছিলাম। কুঁচকে কুঁচকে কাপড় শুকাতে দেয়। ওগুলো ভেতরে ভেজা থেকে যায়। ওইসব ব্যাপারে।"

তাজদার চুপ। শাইনা ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো ঠিক কিন্তু অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। ফোনের দিকে তাকাচ্ছে না। তাজদার তার দিকে চেয়ে রইলো। তারপর জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলল,

"চুলটা মুছে নাও ভালো করে। পানি পড়ছে।"

"মুছবো পরে।"

"তুমি ভীষণ খাপছাড়া গোছের মেয়ে।"

শাইনা সাথে সাথে ক্যামেরার দিকে তাকালো। ফোনে হাত দিতে যাবে তখুনি তাজদার বলল,

"খবরদার ক্যামেরা অফ করবে না। উচিত কথা বললে খারাপ লাগে তাই না? Do you have any idea how tense I feel here all the time Shyna Momtaz?”

শাইনা মুখ ফিরিয়ে রাখলো। ক্যামেরার দিকে ফিরালো না। তাজদার তার মুখের একপাশ দেখতে পাচ্ছে শুধু।

" ওয়েল, তোমার আমার চেহারা দেখতে ভালো লাগছে না। বেশ দেখো না। অফ করো ক্যামেরা। বাট লিসেন, তুমি ভীষণ খাপছাড়া গোছের একটা মেয়ে। তুমি সব ব্যাপারে আমাকে জানানোর ব্যাপারে অমনোযোগী। ইচ্ছে করেই এমন করো তাই না? যাতে আমার হেল্প ছাড়া সবকিছু ম্যানেজ করতে পারো? এত পন্ডিত হলে একা থাকতে। বিয়েশাদি করেছ কেন? আমাকেই বা কে বলেছে এই মেয়েকে বিয়ে করতে?"

শাইনা বলল,"আপনার যদি বলা শেষ হয় তাহলে আমি একটা কথা বলতে পারি।"

"বলো।"

"আমার হাতখরচের টাকা দরকার। আমার কাছে টাকা থাকলে কাউকে দরকার নেই। একাই ডাক্তারের কাছে চলে যেতে পারব। বাড়িতে যেতে আমার লজ্জা হয়।"

"একাউন্টে চলে যাবে কাল।"

"থ্যাংকস!"

ফোন কেটে দিল তাজদার সিদ্দিকী। শাইনা মেসেজে লিখলো,

"এভাবে ফোন কেটে দিয়েছেন কেন?"

"তোমার যা মনে হয়।"

"আমার মনে হচ্ছে হাত খরচের কথা বলেছি বলে ফোন কেটে দিয়েছেন।"

"ছোটোলোকি চিন্তাভাবনা। আমার যদি সাধ্য থাকতো তোমাকে ভুলে থাকার আমি তাই করতাম। বিয়ে করে ফেঁসে গেলাম আমি। শালার!"

শাইনা ব্যঙ্গ করে লিখলো,"ভিয়ে খরে ফেচে গেলাম, ছালার।"

তাজদার তাকে ব্লক করে দিল।

~~~~~

তাসনুভা বেবি পিংক কালারের একটা গাউন পরেছে। মন খারাপ। তাজদারের বকা খেয়ে একপাশে চুপ করে বসে আছে। আর কত বকা খেতে হবে সে জানে না।

শাইনা এত বোকা একটা মেয়ে! ও ভুল করবে। বকা খেতে হবে তাকে। রাগে তার মাথাব্যথা করছে। ভাইয়ার কথাগুলো এত শক্ত শক্ত! সে মাথা থেকে সরাতে পারছে না।

হঠাৎ সাবরিনাকে দেখতে পেল সে। ওরা সবাই এসেছে নাকি? সাবরিনা, আশরাফ, আশরাফের কোলে তার বাচ্চা ছেলেটা। শাহিদা বেগমকেও দেখা গেল। তাসনুভাকে দেখে সাবরিনা হাত নাড়লো।

"তাসনুভা এদিকে এসো।"

তাসনুভা এগিয়ে গেল। আশরাফ বলল,"নুভাও এসেছে?"

"জি ভাইয়া। মুক্তা আমার ফ্রেন্ড।"

"তাহলে তো ভালোই।"

সাবরিনার সাথে শাইনার ব্যাপারে কথা বলতে বলতে শাওনকে দেখলো সে। শাওন এসে বলল,"নুভা, তৌসিফ তিতলি আসেনি?"

"জানিনা আসবে কিনা।"

শাওন অন্যদিকে চলে গেল।

"আম্মা ভাবিকে নিয়ে চলে এসো। এখানে কনেপক্ষের লোকজন। ওইদিকে বরপক্ষ। চলো। এই..এই শাওন। এদিকে আয়।"

আনিসের কণ্ঠস্বর ভেসে এল। সবাই তার কথা শুনে ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো। নেভি ব্লু রঙের চকচকে দামী স্যুটবুট তার পরনে।

তাসনুভাকে দেখামাত্রই বলল,"একা এসেছ?"

তাসনুভা বুকে হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে ছোট্ট করে বলল,

"হ্যাঁ, গোটা ফ্যামিলি নিয়ে হাজির হওয়া আমি পছন্দ করি না।"

আনিস আঙুল দিয়ে দূরেই তাক করলো। তাসনুভা তার আঙুল অনুসরণ করে তাকাতেই দেখলো,

"তিতলি মুরগীর রোস্ট খাচ্ছে তাকে দেখিয়ে দেখিয়ে। পাশেই তৌসিফ, শাওন, রায়হান, ঝিমলি।"

তাসনুভা অবাক!

মুক্তার বোন সুপ্তি তিতলিকে আর মাংস তুলে দিচ্ছে। সে খুব খুশি হয়েছে। তাসনুভা আনিসের দিকে ফিরতেই আনিস চোখ সরিয়ে নিল। পেছন থেকে একজন মহিলা বলল,

"আনিস না?"

আনিস ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো। আন্টি! মহিলার পাশে থাকা লোকটির সাথে হেসে হ্যান্ডশেক করে বুকে জড়ালো। মহিলা বলল,

"আনিসের প্রমোশোন হয়েছে না?"

শাহিদা বেগম বলে উঠলেন,"হ্যাঁ প্রমোশন বেড়েছে কালই খবর পেল। এখনো কাউকে শোনাইনি। এখান থেকে গিয়ে সবাইকে শোনাবো। মেয়ে একটা পাশের বাড়িতে বিয়ে দিয়েছি। মিষ্টি পাঠাতে হবে। তাই শোনাইনি।"

আনিস মাকে সাবধান করার জন্য নানান ইঙ্গিত করছে কিন্তু মা তার দিকে তাকাচ্ছে না।

পাশ থেকে আরেক বন্ধুর মা শাহিদা বেগমের উদ্দেশ্যে বলল,"ছেলের প্রমোশন হয়েছে। এবার বউ ঘরে তুলুন। আর কত?"

শাহিদা বেগম হাসিমুখে বললেন,"ছেলেগুলো এত মা ন্যাওটা। কতবার বললাম নিজে পছন্দ করে একটা বিয়ে কর। না তার মেয়েদের সাথে কথা বলতেও নাকি লজ্জা করে। কখন আমি মেয়ে খুঁজবো আর তাকে বিয়ে করাবো। বড়োটাকে কোনোমতে করালাম। এখন এইটার জন্য একটা ভালো মেয়ে নিয়ে আসতে পারলে বাঁচি।"

আনিস বলল,"আম্মা চলো খাবে। আন্টি আপনারাও চলুন। এক টেবিলে বসিয়ে দিই।"

তাসনুভা সাবরিনাকে বলল,"আপনার দেওর আজকে এভাবে সেজেগুজে এসেছে কেন তার কারণ বুঝলাম!"

সাবরিনা হেসে ফেললো। মজা করে বলল,"আমার দেওর না সাজলেও চকচক করে। শোনো, ওই মেয়েটাকে দেখছি তোমার আনিস ভাইয়ের জন্য। ভালো হবে না? দেখো দেখো।"

সাবরিনা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। তাসনুভা মেয়েটির দিকে তাকালো। একটা ব্লু সাদা রঙের সেলোয়ার-কামিজ পরেছে। মাঝেমধ্যে শাহিদা বেগম, আশরাফ আনিস যেখানে দাঁড়িয়েছে সেদিকে লাজুক ভঙ্গিতে তাকাচ্ছে।

"এটা ঠিকঠাক আছে।"

তাসনুভা বলল,"আনিস ভাইয়ের কচি মেয়ে পছন্দ দেখছি। আচ্ছা আচ্ছা। থুড়থুড়ে বুড়োগুলোও কচি মেয়ে পছন্দ করে আজকাল। সেখানে আনিস ভাই! ইটস ওকেই।"

সাবরিনা বলল,"না না, এমন না।"

আনিস ডাকলো,"ভাবি খেতে আসো। কথা পরে বলবে। তুমি খেয়েছ?"

নুভা নিজের দিকে আঙুল তাক করে বলল,"আমি?"

"হ্যাঁ, খেয়েছ?"

"আমি বিয়েবাড়িতে খেতে আসি না। ঘুরবো ফিরবো ছবি তুলবো।"

"বেশ ভালো। আমরা সবাই খেতে এসেছি। ভাবিকে ছেড়ে দাও। খেয়ে আসুক।"

"আমি ধরে রেখেছি? আশ্চর্য!"

সাবরিনা চলে গেল শাহিদা বেগমের সাথে। আনিস খুঁজে খুঁজে দেখছে তার পরিচিত আর কে কে খেতে বসেনি।

হাত তুলে আশরাফকে ডাকলো,"ভাইয়ে!"

আশরাফ তার দিকে তাকালো।

"বাবুকে কোলে নিতে হবে। তোর ভাবি খেয়ে উঠুক। আমি পরে খাব।"

"ওকে শাওনের কোলে দেব। খেতে বসে যাও তুমি। এখন আমাকে দাও।"

আশরাফ তার ছেলেকে আনিসের কোলে দিল। আনিস তাকে নিয়ে শাওনের দিকে চলে যাচ্ছিল তখুনি তাসনুভা তিতলির কাছে ছুটছিল। মুখোমুখি পড়ে যেতেই বলল,

"Congratulations!"

আনিস বলল,"কীসের জন্য?"

"একি! যেদিকেই যাচ্ছি সেদিকেই আপনার প্রমোশন আর প্রমোশন শুনতে পাচ্ছি।"

"ওহ থ্যাংকস! না খেলে ওদের সাথে বসে যাও।"

"খাব না আমি।"

"রসিক শীতেও মরে, ভাতেও মরে।"

"হোয়াট!"

আনিস সোজা চলে গেল।

খাওয়াদাওয়া শেষ হতেই চেয়ারে বসে বসে মেয়েটাকে দেখছিল ঝিমলি আর সাবরিনা। তক্ষুনি তাসনুভা তিতলির হাত ধরে টেনে এনে নিয়ে যাচ্ছিল সাজঘরে। লিপস্টিক সরে গিয়ে কি বাজে দেখাচ্ছে তিতলিকে।

আগে সে তিতলিকে একটা চড় দেবে। কারণ তার পছন্দের ড্রেস না পরে পরেছে ছোটো ভাইয়ার পছন্দের ড্রেস। যেটা তাকে মানায়নি। দ্বিতীয়ত সে নাকি শাইনার জন্য টিস্যু পেপারে মুড়ে ফ্রাইড চিকেন নিয়েছে ব্যাগের মধ্যে।

তৃতীয়ত লিপস্টিক দিয়েছে শেড না বুঝে। চতুর্থত, সে বেশি করে ব্লাশন দেওয়ায় তাকে পুতুলের মতো দেখাচ্ছে। পঞ্চমত, সে জুতো পরেছে যেটা ড্রেসের সাথে মানানসই নয়। তাই তিতলি একটা চড় ডিজার্ভ করে।

তাকে রেগেমেগে তিতলিকে নিয়ে যেতে দেখে ঝিমলি বলল,

"এই ননদিনী!"

তাসনুভা শুনতে পেল না। ঝিমলি আবারও ডাকলো,

"এই ননদিনী রায়বাঘিনী?"

তাসনুভা থেমে ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো।

"কি হয়েছে আপনার? এত রাগ কেন? এত রাগ নিয়ে আপনি যাবেন কার কাছে বলুন তো।"

"কোথাও যাব না।"

"এত রাগ সামলাবে কে?"

তাসনুভা থেমে গেল। সাবরিনা, ঝিমলি দুজনেই নিজেদের মধ্যে তার কথা বলতে বলতে হাসছে।

তাসনুভা বলল,"আমি নিজেকে সামলাতে জানি।"

ওরা আবারও হাসলো।

"আচ্ছা। তিতলিকে আস্তে করে মারিয়েন। বাচ্চা মেয়ে।"

তিতলি হঠাৎ করে বলল,"আপু ওই দেখো শাইনার মেঝ ভাবি। শাইনার সাথেই পড়ে। ওটার সাথে আনিস ভাইয়ের বিয়ে হবে। ওহ ওহ কতদিন পর বাড়িতে বিয়ে নামবে।"

তাসনুভা তার আঙুল অনুসরণ করে তাকালো। ওই মেয়েটির আশেপাশে শাওন, আনিস, তৌসিফ, আশরাফ, রায়হান সবাই দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলছে। আরও একজন আছে সাথে। মেয়েটির ভাই হবে হয়তো। তিতলি বলল,

"হাত ছেড়ে দাও। আমাকে ওই মেয়েটার ছবি তুলতে হবে।"

বলেই সে তাসনুভার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে দৌড়ে দৌড়ে চলে গেল মেয়েটির পাশে।

চলমান...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন