ফন্ট সাইজ:
থিম:
তাজমহল ২য় খন্ড

১৬তম পর্ব

লেখক: প্রিমা ফারনাজ চৌধুরী

#তাজমহল

#দ্বিতীয়_খন্ড #পর্ব_১৬

বিকেলের দিকে শাইনাকে আনব্লক করেছে তাজদার সিদ্দিকী। কোনো মেসেজ দেয়নি। শাইনা শুধু খেয়াল করলো তাকে আনব্লক করেছে। সাথে সাথে সেও এদিক থেকে তাজদারকে ব্লক করে দিল। শোধবোধ হওয়া দরকার।

তিতলি বিয়ে খেয়ে এসে ঢুসে ঢুসে ঘুমাচ্ছে হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে। কোথাও গেলে সেখান থেকে আসার পর তাকে ঘুমাতে হয়।

ঘুম ভাঙলো নিজের ফোনের রিংটোনের শব্দে। বালিশের পাশ থেকে ফোনটা হাতে নিয়ে কল রিসিভ করলো সে। কানে দিতেই তাজদারের গলা শুনে লাফিয়ে উঠলো।

"তিতলি?"

"জি ভাইয়া!"

"শাইনার ফোনটা নিয়ে ভাইয়ার নাম্বারটা সব জায়গা থেকে আনব্লক করো।"

তিতলি শুরুতেই কিছু বুঝতে পারলো না। মানে? কে কাকে ব্লক করেছে? তাজদার বলল,"শুনতে পেয়েছ?"

"হ্যাঁ হ্যাঁ যাচ্ছি।"

কোথাও যেতে হলো না। ওয়ারড্রবের উপরেই শাইনার ফোনটা পাওয়া গেল। কিন্তু লক খোলার পাসওয়ার্ড জানা নেই। অগত্যা ফোনটা নিয়ে শাইনার কাছে ছুটতে হলো।

লন্ডনের ক্যানারি ওয়ার্ফের ৩৩-তলায় একটি আধুনিক টাওয়ারে তাজদারের অফিস। এখন সেখানে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা।

দিনের আলো ঝলমলে হলেও বিশাল কাঁচের জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে ঘন সাদা মেঘের দ্রুত আনাগোনা।

তাজদার ৩৩ তলার ক্যান্টিনের একটি কোণে লম্বা গ্রানাইট কাউন্টারের পাশে একা বসে আছে। তার সামনে প্লেটে রাখা কারি উইথ গার্লিক নান সুশি রোলস, চিকেন টিক্কা কাবাব, ফ্রেশ অরেঞ্জ জুস। বাম দিকে ল্যাপটপটা খোলা, যদিও তার মনোযোগ এখন ফোনে।

সে আরাম করে হেলান দিয়ে বসল। ধূসর রঙের পিস স্যুটটি তার সুঠাম শরীরে নিঁখুতভাবে মানিয়েছে। সাদা ক্রিস্প শার্টের ওপর গাঢ় নেভি ব্লু টাইটা আলতো করে বাঁধা। বুকের পকেটে সামান্য উঁকি দিচ্ছে একই রঙের পকেট স্কোয়ার। সে ফোনটা হাতে নিয়ে বসে রইলো। কপালটা বরাবরের মতে কুঁচকে আছে।

শাইনা বাড়ির পেছনে বেরিয়েছে একটু হাঁটতে। ঘরে ভালো লাগছিল না। সন্ধ্যা সাতটা। তার দাদীমা এসেছে তাকে দেখে। দাদীমার সাথে কথাবার্তা বলছিল সে।

দাদীমা মজা করছে তার সাথে তাজদারের ব্যাপার নিয়ে। ঠিক তখুনি তিতলি গেল তার কাছে। বলল,"শাইনা পাসওয়ার্ডটা বলো।"

শাইনা তার দিকে ফিরলো। অবাক হলো। "কেন?"

"আরেহ বলো না। কত?"

শাইনা পাসওয়ার্ড বললো। তিতলি লক খুলে তাজদারকে সব জায়গা থেকে আনব্লক করে শাইনাকে ফোনটা ধরিয়ে দিয়ে চলে গেল। আনব্লক করার সাথে সাথে কল ভেসে এল তাজদার সিদ্দিকীর। শাইনা সময় দেখে নিল। এখন তো অফিসে থাকার কথা। ফোন দিচ্ছে কেন?

সে কিছুক্ষণ ফোনের দিকে চেয়ে রইলো। কল কেটে গেল। আবারও কল এল। দাদীমা বলল,"বউপাগল সোনামিয়া নাকি?"

শাইনা বলল,"হুম।"

"ধর ধর, ফোন ধর।"

শাইনা ফোন রিসিভ করে দাদীমাকে ধরিয়ে দিল। সাথে সাথে তাজদার সিদ্দিকী গমগমে গলায় বলল,

"শাইনা লাঞ্চ টাইমে ফোন দিয়েছি। খবরদার আর ব্লক করবে না। যথেষ্ট শোধ নিয়েছ। আমি অফিস থেকে ফিরে কল করছি। সাথে সাথে যেন পাই।"

দাদীমা তার কথাগুলো বুঝলেন না।

ধীরে ধীরে ডাকলেন,"নাতজামাই!"

তাজদার সিদ্দিকী একটু চুপ থেকে ডেকে উঠলো,"দাদু?"

দাদীমা হাসলেন,"হ্যাঁ।"

তাজদার সালাম দিয়ে সে বলল,"শাইনা কোথায়?"

দাদীমা সালাম নিয়ে বললেন,"আছে পুকুরঘাটে।"

"কেমন আছেন আপনি?"

"আছি ভালো। মাঝেমধ্যে ফোনটোন দিও নাতজামাই। তোমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে।"

"হ্যাঁ, দেব। এখন প্রচুর ব্যস্ততা যাচ্ছে তাই সময় হয়ে উঠছে না। সময় করে দেব। বাড়ির সবাই ভালো আছে তো?"

"হ্যাঁ আছে। শানু নে কথা বল।"

শাইনা এগিয়ে এল। ফোনটা দাদীর হাত থেকে নিয়ে কানে চাপা দিল। একটা দীর্ঘশ্বাস ভেসে এল।

তীক্ষ্ণ স্বরে বলল,"বিজি টাইমে কল কেন?"

শাইনার দিক থেকে আর কিছু বলার আগেই তাজদার শান্ত, ধীর স্বরে উত্তর দিল,"একটা মানুষ আমাকে ব্লক দিয়ে রেখেছে তাই। পেইনফুল।"

শাইনা চুপ করে রইল।

"শোধবোধ হয়ে গেছে? নাকি আরও রাখা উচিত?"

তাজদার শান্তভাবে মাংসের একটি ছোট টুকরো মুখে তুলে নিল। গলার স্বর সামান্য নরম করল।

"আমি অফিস থেকে ফিরে কল দেব। সাথে সাথে যেন পাই। জরুরি কথা আছে। তুমি বাইরে কি করছো এই ঠান্ডার মধ্যে?"

"ঘুরছি। সবাই বলে আমি নাকি হাঁটাচলা করিনা। তাই হাঁটতে বেরিয়েছি। আপনার খাওয়া শেষ?"

"খাচ্ছি।"

"খাওয়াদাওয়া শেষ করে ব্লক করুন।"

তাজদার বলল,"আমি কিন্তু..

শাইনা তার কথা কেড়ে নিয়ে বলল,"মশকরা বোঝেন না যখন, তখন করতে যান কেন? আমার সাথে আর কখনো মশকরা করবেন না। আপনি করতে পারেন। কিন্তু আমি করলেই রেগে যান। আমি আজকের পর থেকে আপনার সাথে জীবনেও মশকরা করবো না।"

শেষের কথাটা মনে হলো সে অভিমান করে বলেছে। অন্তত তাজদারের কানে এমন শোনালো। ব্লক দেয়া অবশ্যই ভুল হয়েছে।

কিন্তু এই মেয়ে কখনো তার শূন্যতা অনুভব করছে কিনা সেটা হয়তো কখনোই তার পক্ষে জানা সম্ভব হবে না। শাইনা মমতাজ নিজেকে তার সামনে কখনোই খোলা খাতার মতো মেলে ধরবে না। সুখী দম্পতির চাদরে ঢাকা এই নীরব বিক্ষোভের সংসার আর কতদিন চলবে জানা নেই। তাজদার সিদ্দিকী এবার ধীরেধীরে হাল ছেড়ে দিচ্ছে। তার এত আগ্রহ সত্যিই কমানো দরকার। একপাক্ষিক ভালোবাসার বোঝা আর কতক্ষণ বহন করা যায়?

~~~~~

শাইনার চুল খোলা। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে সে সাজগোছ করছে। রাতে স্কিন কেয়ার করে ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক দিয়েছে। এখন হাতে চুড়ি পরছে। সাজগোছ করলে তার মন ভালো হয়ে যায়। বোরিংনেস কমে।

তাজদার সিদ্দিকী এক্ষুণি কল দেবে। সহজে ছাড়বে না। দেড় দুই ঘন্টা এইসেই কথা বলতেই থাকবে। অবশ্য আজকে অন্য কাজও ছিল। তাই এখনো ফোন করে কিচ্ছু জানায়নি।

তিতলি কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছে আর মাঝেমধ্যে একচোখ খুলে শাইনাকে দেখছে। শাইনা সেটা খেয়াল করলো। বলল,

"বাঁদরনি ওঠো। সাজিয়ে দিই। ঘুমের ভান করে লাভ নেই।"

তিতলি ফিক করে হাসলো। লাজুক ভঙ্গিতে বলল,"ভাইয়া ফোন করবে তাই সাজছো?"

শাইনা কপাল কুঁচকে ফেললো। তিতলি হাসছে। এত জোরে হাসছে যে শব্দ হচ্ছে না কিন্তু পালঙ্ক কাঁপছে। শাইনাও তার হাসি দেখে নিজেও হাসতে লাগলো।

"পাজি মেয়ে কোথাকার। তোমার ভাইয়াকে বলে দেব কথাটা।"

তিতলি কানে ধরলো।

"না! ভাই আমার একটা মানসম্মান আছে।"

শাইনা হাসতে হাসতে বলল,"তোমার মানসম্মান আমি বের করছি।"

তিতলি প্রসঙ্গ পাল্টে বলল,"এদিকে আসো। তোমাকে আরও সুন্দর করে সাজিয়ে দেই। কাজল দাও।"

"না, রাতে কাজল পরতে ভালো লাগে না।"

"আরেহ দাও।"

তিতলি তাকে জোর করলো। শাইনা তার কথা রাখতে খুব সুন্দর করে চোখে কাজল পরলো। ঠোঁটের লিপস্টিক একটু গাঢ় করলো। কানে দুল পরলো। চুলগুলো মাঝখানে সিঁথি করে আয়নায় নিজেকে কয়েকবার দেখলো।

তিতলি বলল,"নায়িকা নায়িকা লাগছে। ও বাল্লে বাল্লে।"

নাচতে নাচতে ধপ করে শুয়ে পড়ে সে কম্বল টেনে নিল মাথার উপর। শাইনা বলল,"ঘুমাও। কানখাড়া করে আমাদের কথা শুনলে সোজা ঘরের বাইরে।"

তিতলি কম্বল ফেলে দিয়ে বলল,"একটু শুনলে কি হবে?"

শাইনা ঠোঁট উল্টে বলল,"সমস্যা নেই। তোমার ভাইয়া আর আমার কথাগুলো দেশবাসী শোনার মতো।"

~~~

তাজদার সিদ্দিকী রান্নাঘরের গ্রানাইট কাউন্টারটপের উপর ঝুঁকে মনোযোগ দিয়ে লাল ক্যাপসিকাম কাটছে। তার মনোযোগ দেখে মনে হচ্ছে প্রতিটি ফালি একই মাপের হতে হবে। নইলে বিরাট সমস্যা হয়ে যাবে।

আকাশে আজ মস্তবড়ো একটা চাঁদ। চাঁদের আলো বড় জানালা দিয়ে এসে পড়েছে কিচেন জুড়ে। তার পরনের হালকা গ্রে রঙের শার্টের হাতার ভাঁজ কনুই পর্যন্ত তোলা। ভিজে চুলের কিছু গোছা কপালে এসে পড়েছে। গোসল করার ঠিক পরের এই এলোমেলো রূপে তাকে বড়ো নিষ্পাপ দেখায়।

ভিডিও কলে শাইনা হাসছে তাকে দেখে। তার এতো সিরিয়াসনেস দেখে মনে হচ্ছে ক্যাপসিকামের নিউরোসার্জারি করছে।

তাজদার ক্যাপসিকাম কাটা শেষ করে নাইফটি সন্তর্পণে নামিয়ে রেখে ফোনের স্ক্রিনে তাকালো। তার চেহারা ক্লান্ত। কিন্তু হাসিমুখের একটি রেখা ফুটে উঠল শাইনাকে দেখামাত্র।

"হ্যালো!"

শাইনার চোখদুটো দেখা যাচ্ছে। মুখের সামনে ওড়না দিয়ে চেপে ধরে রেখেছে। তাজদার নাইফটা তুলে সরু চোখে তার দিকে তাকিয়ে বলল,

"কাজল! হঠাৎ এত সাজগোছ?"

শাইনা তিতলির দিকে তাকালো। তিতলি কম্বল দিয়ে মুখ ঢেকে বলল,"আমি শুনতে পাইনি।"

শাইনা ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলল,"উহু।"

"মুখ থেকে ওড়না সরাও ষ্টুপিড।"

শাইনা সরালো না। তার অসম্ভব লজ্জা লাগছে।

তিতলি তাকে চিমটি দিয়ে ফিসফিস করে বলল,"আই লাভ ইউ বলো। গাধা! তুমি এত আনরোম্যান্টিক কেন? বলো। ভাইয়া খুশি হয়ে যাবে।"

চিমটি দেয়ায় শাইনা নিজের বাহু চেপে ধরলো। মুখ থেকে হাতটা সরে গেল। তিতলিকে বলল,"দাঁড়াও তোমাকে আমি দেখে নিচ্ছি।"

তাজদার সিদ্দিকী সেই ফাঁকে তাকে দেখে ফেললো। শাইনা সাথে সাথে মুখ ঢেকে বলল,"জানেন তিতলি আজকে কি করেছে?"

তাজদার সিদ্দিকী কিচেনে ব্যস্ত। কাজের ফাঁকেই বলল,"কী?"

"আজ ও ক্লাব থেকে একটা ফ্রাইড চিকেন নিয়ে এসেছে আমার জন্য।"

"লাকি ইউ।"

"ইয়েস, আই নৌ দ্যাট ভেরি ওয়েল। আমি অবশ্যই অবশ্যই লাকি। আমার ননদিনী সবচেয়ে ভালো।"

তিতলি ফিসফিস করে বলল,"তুমি খুব বেরসিক শাইনা। যাও তোমার সাথে আর কোনো কথা নেই। আই মিস ইউ অন্তত বলো। ভাইয়া খুব খুশি হবে।"

"কচু, আমাকে পঁচাবে। আমার বরকে তুমি আমার চাইতে বেশি চেনো না।"

তিতলি টেনে টেনে বলল,"আমার বরররর?"

শাইনা তাকে জোরে একটা চিমটি দিল। তিতলি হিসহিসিয়ে বলল,"ভাই তাজদার দেখেন আপনার বউ আমাকে কি পরিমাণ অত্যাচার করতেছে। ভাই আপনে এর বিচার করেন। করেন ভাই করেন।"

শাইনা তার কথা শুনে না হেসে পারলো না।

~~~

ক্ষিধে লেগেছে, তাজদার তাই এখন খাওয়ার জন্য স্প্যানিশ অমলেটের জন্য কাস্ট আয়রনের ভারী প্যানটি হবের সামনের ডানদিকের মাঝারি আকারের বার্নারে বসালো।

নব ঘুরিয়ে বার্নারটি চালু করলো। সাথে সাথে পরিষ্কার নীল ফ্লেম জ্বলে উঠলো। কাঁচের সারফেসে প্রতিফলিত হচ্ছে সেই আগুন।

প্যানটি গরম হতেই তাতে পরিমাণমতো অলিভ অয়েল ঢেলে তেলটা পুরো প্যানে ঘুরিয়ে নিলো সে। তারপর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ঢেলে দিয়ে হাতটা মুছে ক্যামেরার দিকে তাকালো।

সে ক্যামেরার দিকে তাকিয়েছে সেটা শাইনা খেয়াল করলো একটু পর। আর তখনই মুখের সামনে কম্বলটা তুলে দিল।

তাজদার ওপাশে শব্দ করে হেসে উঠে আবারও কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। শাইনা মুখ লুকিয়ে লিপস্টিক একটু একটু করে মুছে নিতে লাগলো পরনের ওড়নাটা দিয়ে।

তিতলি ঘুমিয়ে পড়েছে। শাইনার বিশ্বাস হলো না যদিও। কিন্তু সে কয়েকবার সুড়সুড়ি দিল। তিতলির পেটে হাত দিতেই সে লাফিয়ে উঠে সুড়সুড়ি সইতে না পেরে। কিন্তু এবার নড়াচড়া নেই দেখে শাইনা নিশ্চিত হলো সে ঘুমিয়ে পড়েছে।

তাজদার অমলেটটা নামিয়ে চামচ দিয়ে কেটে মুখে পুরলো। আরেক টুকরো শাইনার দিকে বাড়িয়ে দিল। শাইনা বলল,"লোভ দেখিয়ে লাভ নেই।"

টুকরোটি মুখে পুরে তাজদার বলল," আমাকেও লোভ দেখিয়ে লাভ নেই।"

শাইনা সাথে সাথে তার ইঙ্গিত বুঝে নিয়ে হাঁটুতে মাথা গুঁজে বলল,"ধুত্তেরি!"

তিতলির দিকেও একবার তাকালো সে। শুনতে পেল কিনা। তাজদার সিদ্দিকীর হাসির শব্দ ভেসে আসছে।

ডিনারের জন্য রান্নাবান্না শেষ করতে করতে প্রায় অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। শাইনার ঝিমুনি আসছে। সে শুয়ে পড়লো। তাজদার খেতে বসেছে তখন। শাইনার চোখ বন্ধ। তাজদার কথা বললেই চোখ মেলছে।

তার পেটে হঠাৎ ব্যাথা লাগছে। ইদানীং এমনটা হচ্ছে। মাঝরাত থেকে ব্যাথাটা শুরু হয়। অনেকক্ষণ ব্যাথাটা স্থায়ী হয়। তারপর ধীরেধীরে কমে আসে।

তাজদার খাওয়াদাওয়া সেরে নিজের রুমের কিছু কাজ শেষ করলো। তারপর এক মগ কফি নিয়ে সামনে ল্যাপটপ নিয়ে বসলো। ক্যামেরার দিকে তাকালো। শাইনা কপাল কুঁচকে শুয়ে আছে। সে গলা ঝেড়ে কেশে বলল,"হ্যালো! ঘুম?"

শাইনা চোখ মেললো। ধীরেধীরে উঠে বসলো।

ব্যাথাটা অসহ্য লাগছে। তাজদার বলল,

"এখনো বেবি আসেনি তারমধ্যে তোমার এই অবস্থা হয়ে গেছে। ও আসার পর তোমাকে আমি আর খুঁজেই পাব না। কোনো সমস্যা হচ্ছে?"

শাইনা মুখ ফিরিয়ে নিল। বলল,"আর দশ বছরেও আমি বাচ্চা কাচ্চার নাম নেব না এবার যদি বেঁচে ফিরি।"

তাজদার সিদ্দিকী মাথা দুলিয়ে বলল,"আচ্ছা, আমি দেশে ফিরি। তখন দেখা যাবে।"

শাইনা তার কথার ইঙ্গিত বুঝে ক্যামেরার দিকে অবাক চোখে তাকালো। হাঁ করে রইলো কিছুক্ষণ।

তাজদার কফির মগে চুমুক দিয়ে হাসিটা আড়াল করে রাখলো। শাইনা বিড়বিড় করছে। তাজদার নিশ্চিত, সে নির্ঘাত চাটগাঁইয়ার বিখ্যাত গালিটা দিয়ে বসেছে এতক্ষণে।

শাইনা একটু রাগী ভঙ্গিতে বলল,"আপনার দেশে আসার কোনো দরকার নেই।"

"আসব না, আসব না। তুমি রিল্যাক্সে থাকো।"

পরিস্থিতি গুমোট হয়ে আসছে দেখে শাইনা বলল,

"আপনি ঘুমাবেন কখন? কফি নিয়েছেন কেন? কফি খেলে আর ঘুম হবে? আজব!"

"আমার এমনিতেই ঘুম কম হয়।"

"কেন?"

"আবার কেন? পাশে বউ নেই তাই। আমি তাকে খুব বাজেভাবে মিস করছি। কি বোকা বোকা কথা বলছি না? হা হা।"

সহজ সরল নিষ্পাপ স্বীকারোক্তি! শাইনা চুপ হয়ে গেল। তাজদার সিদ্দিকী কিছুক্ষণ পর তার দিকে তাকিয়ে বলল,"ঘুমাও।"

শাইনা বলল,"ওকে, তবে একটা কথা শুনুন।"

তাজদার কফির মগে চুমুক দিতে দিতে তার দিকে তাকালো। এবং শুনলো। শাইনা অকপটে বলল,

"সেও আপনাকে মিসটিস করে। শুভরাত্রি।"

চলমান....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন