ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমি তরুলতা

৭ম পর্ব

লেখক: সোফিয়া সাফা

#আমি_তরুলতা (০৭)

#সোফিয়া_সাফা

<TW: Self-harm, emotional distress>

(CW: গল্পটির এই পর্বে আত্ম-আঘাত সংক্রান্ত দৃশ্য রয়েছে, যা সংবেদনশীল পাঠকদের জন্য ট্রিগারিং হতে পারে। সতর্কতা অবলম্বন করে পাঠ করুন।)

"এএসপি সাহেব, আপনার কি মনে হচ্ছেনা আপনি আমাকে কিছু বলতে ভুলে গেছেন?"

শব্দগুলো তীক্ষ্ণ হয়ে আঘাত করলো নীলাভের শ্রবণে। সে ধীরে ধীরে পেছনে ঘুরে তরুর চোখে চোখ রাখে, ভ্রু সামান্য কুঁচকে যায়। কিন্তু জবাব না দিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। তরু ততক্ষণে নিজের অস্থিরতা সামলে উঠে এসে তার সামনে দাঁড়ায়। বুকের ওপর দুই হাত বেঁধে গম্ভীর কণ্ঠে বলে ওঠে—

"এতো অবাক হচ্ছেন কেনো? আরে আমি যে আপনার জীবন বাঁচালাম, আমি কি একটা ছোট্ট ধন্যবাদও ডিজার্ভ করি না এএসপি সাহেব?"

নীলাভের ঠোঁট কাঁপে, কণ্ঠ স্নায়বিক হলেও কড়া—

"ওহ হুম, থ্যাঙ্ক ইউ মিস চৌধুরী আমার জীবন বাঁচানোর জন্য। কিন্তু আপনি ওই লোকটাকে শ্যুট করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন, তাই একটু সাবধানে থাকবেন। আর প্রার্থনা করবেন যাতে আমার সাথে এটাই আপনার শেষ দেখা হয়। কারণ পরবর্তীতে হয়তো আমার কাছে প্রমাণ আর ওয়ারেন্টি দুটোই থাকবে। So be careful."

কণ্ঠে কোনো কোমলতা নেই, শুধু ঠান্ডা সতর্কতা। কথা শেষ করেই সে সেখান থেকে নির্দয়ভাবে চলে যায়। তরু পাথরের মতো স্থির দাঁড়িয়ে থাকে। দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া নীলাভের পা ফেলার প্রতিটি শব্দ যেন তরুর বুকে ছু'রির মতো বিঁধে যাচ্ছিলো। যতক্ষণ দেখা যায়, তরুর চোখ ঠিক ততক্ষণ তার ওপর স্থির থাকে। কিন্তু যখন নীলাভ দৃষ্টির বাইরে চলে যায়, তখন যেন এক ঝটকায় রুমে অন্ধকার নামে। তরু পাগলের মতো হেসে ওঠে— সেই হাসি ছিলো বিক্ষিপ্ত, শূন্যতায় আচ্ছন্ন।

দরজা বন্ধ করে সে রুমের জিনিসপত্র একের পর এক ছুঁড়ে ফেলতে শুরু করে। চেয়ার, ফুলদানি, টেবিল— ভাঙ্গচুরের শব্দে বাইরে থাকা নার্সরা আতঙ্কে ছুটে আসে।

"প্লিজ দরজা খুলুন!" নার্সদের চিৎকারে রুমটা আরও ভারী হয়ে ওঠে, কিন্তু তরুর কানে কিছু ঢোকে না। সে যেন এক ভিন্ন জগতে ঢুকে গেছে।

শেষ পর্যন্ত নার্সরা ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। ডক্টর ঘটনা শুনে দেরি না করে তাজিমকে ফোন করেন— যেহেতু তরুর একমাত্র নিকট মানুষ হিসেবে তাজিমই নম্বর দিয়ে গিয়েছিল।

ভাঙ্গচুর করে ক্লান্ত হয়ে তরু এক কোণে বসে পড়ে, যেন চারপাশের ধ্বংসস্তূপের মাঝে সে একটা ভাঙাচোরা মূর্তি। হাত-পা কাঁপছে, শ্বাস প্রশ্বাস ভারী, নাক দিয়ে রক্ত গড়াতে শুরু করেছে। আর তখনই, কাঁপা কণ্ঠে, তরু প্রশ্ন করে—

"কেনো তুমি সবকিছু না জেনে সবসময় আমাকেই দোষারোপ করো? আমি ওকে খু*ন না করলে, ও তো তোমাকে আবার শ্যুট করতো লাভ…"

তার কণ্ঠে হাহাকার, আর চোখে অন্ধ এক আবেগ।

একসময় তরুর দৃষ্টি পড়ে মেঝেতে পড়ে থাকা ছু'রিটার উপর। তার চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে, যেন রুমের অন্ধকারের মাঝে সেই ছু'রিই একমাত্র উজ্জ্বল বস্তু। তরু হঠাৎ উঠে দাঁড়ায়, এগিয়ে গিয়ে ছু'রিটা তুলে নেয়।

"মে'রে ফেলবো আমি সবাইকে, মে'রে ফেলবো যে আমাদের মাঝে আসার চেষ্টা করবে… তবে তার আগে আমাকে নিজেকে নিজের শাস্তি দিতে হবে…"

এক গা শিরশিরে উন্মাদনায় সে নিজের হাতের উপর ছু'রিটা চালাতে শুরু করে। যেখানে পুরোনো দাগ ছিলো, সেখানে নতুন ক্ষত তৈরি হয়। র*ক্তে লাল হয়ে যায় মেঝে।

ধীরে ধীরে তরুর দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হতে শুরু করে। ছু'রিটা হাত থেকে পড়ে যায় সেই সাথে তরু নিজেও হেলে পড়ে যায় মেঝেতে— কিন্তু তার চোখ বন্ধ হবার ঠিক আগে অতীতের কিছু ঝলক তার মস্তিষ্কে ভেসে ওঠে।

---

[ফ্ল্যাশব্যাক স্টার্ট]

দিনটা ছিল উজ্জ্বল রোদেলা। বিশাল এক পুরোনো প্রাসাদসদৃশ বাড়ির সামনে সোনালি রোদ গড়িয়ে পড়ছে সবুজ ঘাসের গায়ে। বাড়িটার সামনে একটা শ্বেতপাথরের ফলকে লেখা— “এহসান মঞ্জিল”।

একটা ১১ বছরের মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির বিশাল বাগানে ঢোকে। অশ্রুজলে ভেজা তার গাল, কিন্তু হঠাৎ দূর থেকে একটা ছেলের হাসির শব্দ তার কান ছুঁয়ে যায়। সেই মুহূর্তেই তার কান্না থেমে যায়— চেহারায় জেগে ওঠে এক অসম্ভব উজ্জ্বলতা। সে দুই হাতে চোখজোড়া মুছে দ্রুত এগিয়ে যায় সেই হাসির উৎসের দিকে।

বাগানের মাঝখানে থাকা একটি বেঞ্চির উপর বসে বই পড়ছিল এক ১৬ বছর বয়সী কিশোর, কখনো ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটছে, কখনো চোখের পাতায় ভাবনার ছায়া। মেয়েটি চুপচাপ গিয়ে তার সামনে দাঁড়ায়। ছেলেটা বইয়ে এতটাই মগ্ন ছিলো যে মেয়েটিকে খেয়াল করেনি। কিন্তু মেয়েটি মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় তার দিকেই তাকিয়ে ছিলো, যেন সে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান দৃশ্যটি দেখছে।

প্রায় ১৫ মিনিট পর হঠাৎ ছেলেটি বই থেকে চোখ তুলে মেয়েটিকে দেখতে পেয়ে চমকে ওঠে।

"আরে তরু তুই? আমি তো তোকে হঠাৎ দেখে ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম।"

"হুম লাভ আমি, তুমি কি পড়ছিলে এতোক্ষণ?"

নীলাভ বিরক্তি মেশানো গলায় উত্তর দেয়—

"উফফ তরু কতোবার বলেছি লাভ বলে ডাকবিনা আমাকে, আমার নাম লাভ নয়, নীলাভ।"

তরু নিজের কোমড়ে হাত রেখে অভিমানী ভঙ্গিতে বলে—

"নী...লাভ? আর আমিও তো তোমাকে কতোবার বলেছি যে আমি তোমাকে এতোবড় নাম ধরে ডাকতে পারবো না। লাভই বলি না কি হবে বললে?"

নীলাভ যেন ক্লান্ত, কিছু বুঝিয়ে উঠতে পারছে না। একটু ভেবে বললো—

"কি হবে...? আসলে তরু, তুই যতবার লাভ বলে ডাকিস আমাদের আশেপাশের মানুষ আমাদের দিকে কেমন যেনো অদ্ভুতভাবে তাকায়, আর হাসে। আর তুই কি আদৌ জানিস যে ‘লাভ’ কাকে বলে?"

তরু কোমড়ে হাত রেখেই গাল ফুলিয়ে জিজ্ঞেস করলো—

"কাকে বলে শুনি।"

নীলাভ একটু থেমে, অস্পষ্টভাবে বলে—

"অনেক আপন আর প্রিয় কাউকে বলে।"

তরু নিঃসংকোচে বলে ফেলে—

"তো তুমিই তো আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।"

কথাটা বলার পর এক মুহূর্ত নীরবতা নামে। বাতাস যেন ভারী হয়ে আসে।

"দেখ তরু, তুই এখনো অনেক ছোটো, এসব বুঝবি না, তাই আমাকে লাভ বলে ডাকবিনা। আর আমার নাম নীলাভ, সেটা বলেই ডাকবি।"

তরু মন খারাপ করে বলে—

"তো আমার নামও তো তরুলতা। আমাকে কেনো তরু বলে ডাকো?"

নীলাভ থমকে যায়, যেন উত্তর হারিয়ে ফেলেছে। শেষমেশ মুচকি হেসে বলে—

"তোর সাথে কথা বলাই বেকার। আচ্ছা, তোর যা ইচ্ছা বলিস। কিন্তু প্লিজ আশেপাশে যখন লোক থাকবে তখন বলবিনা কেমন?"

তরু মুখ ফুলিয়ে বলে—

"আচ্ছা, কিন্তু তখন কি বলবো?"

নীলাভ একটু ভেবে বলে—

"তখন ভাইয়া বলবি, নয়তো আয়ুর মতো নীল বলবি।"

মুহূর্তেই যেন আকাশে এক চিলতে মেঘ এসে রোদ ঢেকে দেয়। “আয়ু” নামটা শুনে তরুর মুখমণ্ডলের রঙ পাল্টে যায়। চোখে মেঘ জমে, ঠোঁটে অনুচ্চারিত বিরক্তি।

এর ঠিক পরেই ১৪ বছর বয়সী আয়ু সেখানে এসে হাজির হয়। হঠাৎ করেই সে নীলাভকে জড়িয়ে ধরে। নীলাভ অবাক হয়ে যায়, কিছু বুঝে ওঠার আগেই তরু এগিয়ে এসে আয়ুকে জোরে ধাক্কা দেয়। আয়ু মাটিতে পড়ে যায়, আর হাতে কাটা ঢুকে র*ক্ত বের হতে থাকে। নীলাভ ভয়ে ছুটে যায় আয়ুর কাছে। আয়ুকে তুলতে তুলতে তার জামা থেকে ময়লা ঝাড়ে, বেঞ্চিতে এনে বসায়। আয়ুর কান্না থামার নাম নেই। তরুর চাহনি তখন যেন আগুনে পোড়া ছাই, নীরব অথচ ধ্বংসাত্মক। সে কিছু না বললেও চোখে ছিল ক্রুদ্ধ দাবানলের ছায়া।

"আয়ু তুমি ঠিক আছো তো?"

"নীল তুমি দেখলে তরু আমাকে কিভাবে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। আমার না খুব ব্যাথা করছে নীল।" (কাঁদতে কাঁদতে)

নীলাভ ফিরে তাকায় তরুর দিকে, রাগীকন্ঠে শুধায়—

"তরু তুই কেনো ওকে ধাক্কা দিলি?"

"বেশ করেছি ধাক্কা দিয়েছি, ওর এত্তোবড় সাহস ও আমার সামনে আমার লাভকে জড়িয়ে ধরে।"

"জানো তো নীলাভ, মাঝে মাঝে আমার সত্যিই মনে হয় যে তরুর সৎমা জহুরা আন্টিই ওর সাথে ঠিক করে। ওকে সে শাসনে রাখে সেটাই ঠিক। আর ওকে যে উনি পা*গল বলেনা সেটাও ঠিক, ও সত্যিই একটা পা*গল।"

আয়ুর কথায় তরুর চোখে যেন বিদ্যুৎ চমকে ওঠে, কিন্তু সে চুপ থাকে। একরাশ আশা নিয়ে নীলাভের দিকে তাকায়—হয়তো এবার সে প্রতিবাদ করবে, আয়ুকে থামাবে। কিন্তু নীলাভ কিছু না বলে বাড়ির দিকে ছুটে যায়। কিছুক্ষণ পর সে ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে ফিরে আসে। আয়ুর হাতে অ্যান্টিসেপটিক লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দেয়।

"নীল আমার এখনো ব্যথা করছে, আমি গিয়ে জহুরা আন্টির কাছে বিচার দেবো।"

"তার দরকার নেই, তরু এক্ষুনি তোমাকে স্যরি বলবে, তাই না তরু? বলবি না বল?"

তরুর ঠোঁট কাঁপে। তার মনে হয় বুকটা ফেটে যাবে, কিন্তু সে মুখ নামিয়ে বলে—

"স্যরি।"

বলেই তরু নীলাভের চোখের আড়ালে ফার্স্ট এইড বক্সটা থেকে ছু'রিটা নিয়ে দৌড়ে চলে যায়। নীলাভ তরুর পেছনে যেতে নিলে আয়ু আটকিয়ে বলে।

"আরে নীলাভ ওকে যেতে দাও তো। তুমি জানো আমি আমাদের স্কুলের জন্য একটা ড্যান্স শিখেছি, চল না আমার সাথে, আমি তোমাকে দেখাবো।"

"আ... আচ্ছা তুমি যাও আমি এটা রেখে আসছি।"

"আচ্ছা।"

আয়ু চলে গেলে নীলাভ বক্সটা গোছাতে থাকে, কিন্তু ছু'রিটা সে পায় না।

"ছুরিটা কোথায় গেলো? কিছুক্ষণ আগেও তো এখানেই ছিলো।"

নীলাভ ছু'রিটা খুঁজতে খুঁজতে পিছনে ফিরে তাকাতেই যা দেখলো, তার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিলো না। তার সামনে তরু দাঁড়িয়ে আছে আর তার এক হাতে ছু'রি, আরেক হাত থেকে র*ক্ত গড়িয়ে পড়ছে যেখানে স্পষ্ট একটা কাটা দাগ। দৃশ্যটা দেখে কয়েক মুহূর্তের জন্য নীলাভ স্তব্ধ হয়ে যায়।

"লাভ দেখো আমার হাতও কে'টে গেছে, আর আয়ুর থেকেও বেশি রক্ত পড়ছে।"

তরুর কথা শুনে নীলাভের হুশ ফেরে এবং সে অনেক বেশি রেগে যায়।

"এটা তুই কি করেছিস তরু? কেনো করেছিস বল?"

নীলাভ রাগী চোখে তরুকে দেখছে, কিন্তু তরু একদম স্বাভাবিক, তার চেহারা দেখে একটুও কষ্ট হচ্ছে বলে মনে হচ্ছেনা।

"আমার জন্য আয়ু ব্যাথা পেয়েছে আর তার জন্য তুমি আমার ওপর রাগ করেছো তাই আমি নিজের হাত কে'টে নিজেকে শাস্তি দিয়েছি। এখন নিশ্চয়ই তুমি আর আমার ওপর রাগ করে থাকবেনা।"

তরু হেসে হেসে কথাগুলো বলছিলো, অন্যদিকে তার হাত থেকে র'ক্ত গড়িয়ে পড়ছে, যা দেখে নীলাভ–এর জ্ঞান হারিয়ে ফেলবার উপক্রম, তখনই সেখানে ২০ বছর বয়সী নেহা এসে উপস্থিত হয়। নেহাকে আসতে দেখে নীলাভ দৌড়ে গিয়ে নেহার সামনে গিয়ে বলতে থাকে।

"আ...আপু দেখো তরু কি করেছে..."

নীলাভ তরুর দিকে ইশারা করলে নেহা ভ্রু কুঁচকে তাকায়। নীলাভ আর কিছু বলতে পারেনা, তরুর অবস্থা দেখে রীতিমতো কাঁপছে সে, তরু তার দিকে আসতে নিলে নীলাভ বলে ওঠে

"না, একদম আমার কাছে আসবি না, আন্টি (তরু–র সৎমা) ঠিকই বলে, তুই সত্যিই একটা সাইকো। তোর মাথায় সমস্যা আছে।"

নীলাভের কথা শুনে ছোট্ট তরু কিছুই বুঝে উঠতে পারেনা যে নীলাভ কেনো এসব বলেছে, তখন নেহা নীলাভকে আড়াল করে বলে,

"নীলাভ তুই এখান থেকে যা, আমি দেখছি।"

"কিন্তু আপু ওর হাত তো অনেকটা কে'টে গেছে, ব্যান্ডেজ করে দি..."

"আমি করে দিচ্ছি, তুই যা, চিন্তা করিস না।"

নীলাভ আরেকবার তরুর দিকে তাকায়, ঘেমে-নেয়ে নীলাভের একাকার অবস্থা, এদিকে তরু নিষ্পলক চোখে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। নীলাভ তরুর চাহনি এড়িয়ে সেখান থেকে চলে যায়। নীলাভ চলে যাওয়ার পর নেহা তরুর হাত ব্যান্ডেজ করতে করতে বলে—

"হাহ এটা কি তরু? কেনো করেছিস এমন?" (আড়চোখে তাকিয়ে)

"আমি তো লাভ, মানে ভাইয়ার রাগ ভাঙ্গানোর জন্য করেছি, ভেবেছি ভাইয়া খুশি হবে কিন্তু ও তো মনে হয় আরো বেশি রাগ করলো।" (কান্নাজড়িত কন্ঠে)

"আরে কে বলেছে ও রাগ করেছে?"

তরু চোখ দুটো মুছে বলে

"তার মানে তুমি বলতে চাইছো ও রাগ করেনি?"

"হুম, ও তো খুশিই হয়েছে, তুই নিজের ভুলের জন্য নিজেকে শাস্তি দিয়েছিস, এতে তো মনে মনে ও খুশিই হয়েছে তরু। খুব ভালো করেছিস তুই নিজেকে শাস্তি দিয়ে। তুই তো বড় হয়ে গেছিস তরু, দেখবি এরকম করতে থাকলে নীলাভ তোকে ঠিকই ভালোবাসবে।"

"সত্যি বলছো আপু?"

"হুম তরু।"

সেদিন ছোট্ট তরু, নেহার প্রতিটা কথা বিশ্বাস করে নেয়। সে বোঝে না যে সেই দিনই তার ভেতরে জন্ম নিয়েছিলো এক গভীর ভালোবাসা—

(ফ্ল্যাশব্যাক এন্ড)

চলবে,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন