ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমি তরুলতা

১২তম পর্ব

লেখক: সোফিয়া সাফা

#আমি_তরুলতা (১২)

#সোফিয়া_সাফা

"কিন্তু আমি ওখানে ঘুমালে আপনি কোথায় ঘুমাবেন?"

"আমার ঘুম আসছে না, আপনি ওখানে গিয়ে ঘুমান, আমি এই সোফাতেই বসে থাকবো। এমনিতেও কয়েক ঘণ্টা পর ভোর হয়ে যাবে।"

নীলাভ আর কথা বাড়ালো না, সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলো। কিন্তু তার মাথা ঘুরছে। হঠাৎ কেন এমন লাগছে সে বুঝতে পারছে না, ভীষণ ঘুম আসছে তার। সে জাস্ট কোনো একটা আরাম কিছুর ওপর শুয়ে পড়তে চায়, ভালো ঘুমের জন্য। নীলাভ কোনো রকমে রুমে ঢুকে বেডের ওপর গা এলিয়ে দেয়। কয়েক সেকেন্ডের মাঝে সে গভীর ঘুমে তলিয়ে যায়। তরু নীলাভের পিছু পিছু এসেছে, যাতে সে মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেলে তাকে ধরে ফেলতে পারে। কিন্তু সেরকম কিছু না হওয়াতে তরু একটা স্বস্তির শ্বাস ফেলে নীলাভের পাশে গিয়ে বসে। নীলাভ উবু হয়ে শুয়ে আছে। তরু নীলাভের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে,

"শান্তিতে ঘুমাও। গত ২ দিন ধরে তুমি ঘুমাতে পারোনি, আমি সেটা জানি। এবার নিশ্চিন্তে ঘুমাও। মাথাব্যথাও তুমি আর অনুভব করতে পারবে না। তোমার কষ্ট আমি কখনো সহ্য করতে পারবো না। আমি সব সময় চেয়েছি তুমি ভালো থাকো। কিন্তু আমার থেকে আলাদা হয়ে না। তোমাকে আমার সাথেই ভালো থাকতে হবে লাভ।"

তরু নীলাভের মাথার পাশে বসে নীলাভকে তার দিকে ঘুরিয়ে হালকা উঁচু করে নীলাভের মাথা নিজের কোলের ওপর রাখে।

"ঘুমাও তুমি ঘুমাও গো লাভ, ঘুমাও আমার কোলে।

ভালোবাসার নাও ভাসাবো ভালোবাসি বলে।

তোমার চুলে হাত বুলাবো পূর্ণ চাঁদের তলে।

কৃষ্ণচূড়া মুখে তোমার, জোছনা পড়ুক কোলে।

আজকে তোমার মনকে জড়াই ধরবে আমার মন।

গাছ গাছালি গাইবে জোনাক, গাইবে আমার মন।

এতো ভালোবাসা গো জান রাখিবো আঁচলে।

দোলাও তুমি দুলি আমি, জগৎ বাড়ি দোলে।

গানটা গাইতে গাইতে তরু নীলাভের কপালের উপরে থাকা চুলগুলো সরিয়ে নীলাভের কপালে নিজের ঠোঁট ছোয়ায়। তারপর নীলাভের গালে একটা কিস করে, যেই না নীলাভের ঠোঁটে কিস করতে যাবে তখনই তরুর ফোন বেজে ওঠে। তরু একটা বিরক্তির শ্বাস ফেলে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে তাজিম কল দিয়েছে। এতক্ষণ নেটওয়ার্কের জন্য হয়তো কল আসেনি। বাইরে এখনো হাল্কা হাল্কা বৃষ্টি পড়ছে। অন্য সময় হলে তরু কল রিসিভ করত না, কিন্তু এখন তার মুড অনেক ভালো আছে তাই সে কল রিসিভ করে।

"হ্যালো তরু, কোথায় আছিস তুই?"

"উফফ, ডোন্ট ওয়্যারি ভাইয়া, আমি ঠিক আছি।"

"আমি জিজ্ঞেস করেছি কোথায় আছিস তুই, সবসময় কেনো আমাকে এত টেনশন দিস বলতো? তোর ভাই হিসেবে জন্ম নিয়ে কি আমি পাপ করেছিলাম? একটুও শান্তিতে থাকতে দিস না কেনো?"

তরু গম্ভীর কণ্ঠে বলে,

"ভাইয়া, এত চিন্তা কেনো করছো? একজন মৃ'ত মানুষ আর কতবার ম'রবে বলো তো। আমি তো অনেক আগেই ম'রে গেছি, এখনও আমাকে নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো লজিক নেই।"

"কোথায় আছিস বলবি?"

"কেনো বলবোনা, আমি আমার শ্বশুরবাড়িতে আছি।"

তরুর কথায় তাজিমের চোখ বড় বড় হয়ে যায়। সে অবিশ্বাসী স্বরে বলে,

"হোয়াট? তুই জারার শ্বশুরবাড়িতে কি করছিস?"

তরু বিরসকণ্ঠে জবাব দেয়,

"আমি জারার না, নিজের শ্বশুরবাড়িতে আছি, তুমি যেই বাড়িতে আছো সেই বাড়ির সামনের বাড়িতে।"

তাজিম হাফ ছেড়ে বাঁচে, তার মানে তরু সামনের বাড়িতে আছে। জারার শ্বশুরবাড়িতে চলে যায়নি।

"তুই ওখানে একা একা কি করছিস?"

"লাভবার্ডের সাথে রোম্যান্স করছি।"

কথাটা শুনে তাজিম আবারও চমকিত হয়। তরু আজেবাজে কথা বলার মেয়ে নয়। অন্তত তাজিমের সাথে আজেবাজে কথা বলার তার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে কি সত্যিই তরু নীলাভের সাথে আছে?

"আমার সাথে মজা করছিস? তুই নীলাভকে কোথায় পেলি?"

"আমি মজা করছিনা। তোমার বিশ্বাস না হলে এসে দেখে যেতে পারো।"

বলেই তরু কল কেটে দেয়। এদিকে তাজিম একটা ছাতা নিয়ে রওনা দেয়। তাদের বাড়ির সামনে একটা পুকুর আছে। পুকুরের পাশে বাগান আর তার পাশে জঙ্গল। পুকুরের সামনে রাস্তা, রাস্তার ওই পাশে নীলাভদের পুরোনো বাড়িটা যেটায় তরু আছে। তাজিম ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে আস্তে আস্তে পা ফেলে সেদিকে এগিয়ে যায়। এদিকে তরু নীলাভকে ভালোভাবে শুইয়ে দরজা লাগিয়ে দিয়ে লিভিং রুমে এসে বসে। তার সামনে লিজা, আভিক আর বিভান বসে আছে।

"তরু, বাড়িতে সি আই ডি আছে ভাবতেই কেমন যেনো ভয় ভয় করছে। তোর লাভ কি আর কোনো প্রফেশন বেছে নিতে পারেনি? শেষমেশ সি আই ডি অফিসারই হতে হলো!"

তরু আভিকের কথায় কান না দিয়ে বললো,

"সাফেদ কিন্তু থেমে নেই আভিক। তাই ফালতু চিন্তা বাদ দিয়ে আমাদের নেক্সট প্ল্যান করতে হবে।"

লিজা মুখ বাকিয়ে বলল,

"আরে ওই শা’লাকে ধরা তো আমাদের বাম হাতের কাজ।"

তরু বলে,

"আমাদের মেইন টার্গেট ও নয় ভুলে যাস না লিজা।আমাদেরকে ওর বসকে খুঁজে বের করতে হবে।"

হঠাৎ বিভান বলে ওঠে,

"আচ্ছা, আলফার আসল উদ্দেশ্যটা কি আমি বুঝে উঠতে পারছি না"

তরু আড়চোখে বিভানের দিকে তাকিয়ে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলে,

"না বোঝার কি আছে? আলফা চায় পুরো বাংলাদেশ থেকে সমস্ত অপশক্তির বিনাশ করতে।"

বিভান বলে,

"মানলাম, তার অনেক শক্তি। কিন্তু তার একার পক্ষে এটা অসম্ভব ব্যাপার নয় কি?"

উত্তরে তরু বলে,

"সে একা কোথায়? আমরা আছি না? আমাদেরকে কি করতে রেখেছে?"

আভিক বসা থেকে দাঁড়িয়ে বলল,

"হাহ বাদ দে তো তরু, রাক্ষসটার কথা মনে করতে চাই না এখন। আমাদের শুধু দাবার গুটির মতো ইউজ করে যাচ্ছে। আমাদের প্রয়োজন ছাড়া তো গোনাতেও ধরেনা। দেখলিনা টিমের একজন ধরা পড়ে যাওয়াতে তাকে একদম জানে মে'রে ফেললো। আমাদেরকেও মে'রে ফেলার আগে দুইবারও ভাববে না। একটা সেলফিশ মহিলা।"

তরু ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটিয়ে বলে,

"সেটা ঠিকই বলেছিস, সারাক্ষণ খালি চিল্লাতে থাকে।"

"তোর মুখে এমন টাইপের কথা মানায় না তরু, তুই নিজেও তো সারাক্ষণ চিল্লাতে থাকিস।"

লিজার কথা শুনে তরু ভ্রু কুঁচকে তাকায়,

"আমি কখনো তোদের ওপর চিল্লিয়েছি?"

আভিক বাকা হেসে বলে,

"তোর চিল্লানোর আগেই আমরা সব কাজ করে দিই, তাই চিল্লানোর প্রয়োজন পড়ে না। নইলে আমরা জানি, তুইও কম চিল্লাতে পারিস না।"

"আজাইরা কথা বাদ দিয়ে কাজের কথা বল।"

বিভান অবাক হয়ে বলে ওঠে,

"বাহঃ তরু, তুই কাজের কথা জানতে চাচ্ছিস? তোর তো একটাই কাজ, আর সেটা হলো এনজের পেছনে লেগে থাকা। এমনকি দেশের বাইরে বসেও তো এই কাজটা মন দিয়েই করতি। ৫ বছর ধরে তো খাটিয়েই মে'রেছিস আমাদেরকে, শুধু ওর পেছনে দৌড়েছি। হাহ।"

বিভানের কথা শুনে তরু তার দিকে শীতল দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। আভিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বলে ওঠে,

"আচ্ছা, ন্যাঞ্চিকে ওখানে রেখে আসাটা কি সেইফ হলো? সাফেদের লোকেরা ওকে এতো সহজে ছেড়ে দেবে না তরু।"

তরু স্বাভাবিক গলায় বলে,

"ও কোথায় আছে তা তো সাফেদের লোকেরা জানে না। আর তখন ওকে ওখানে রেখে আসা ছাড়া আর রাস্তা ছিলো না। চিন্তা করিস না, সকালে ওকে ওখান থেকে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবি।"

তাদের কথার মাঝেই তাজিম বাড়িতে প্রবেশ করে। তার প্রবেশ করা মাত্রই সবাই চুপ হয়ে যায়।

"আরে তোমরা সবাই। আজকে তোমরা সবাই একসাথে এখানে, ব্যাপার কি?"

লিজা বলল,

"আসলে আমাদের রাতে থাকার প্ল্যান ছিল না তবে বৃষ্টির জন্য আটকা পড়েছি।"

"বাহ ভাইয়া তুমি তো দেখছি সত্যিই চলে এসেছো। আমাকে এতোটা অবিশ্বাস করো জানতাম নাতো।"

তাজিম ভ্রু কুচকে তরুর দিকে তাকিয়ে বলে,

"অবিশ্বাস করার কি আছে? আমি তো শুধু সেই মানবটিকে দেখতে এসেছি, যার জন্য আমার বোন সুদূর লন্ডন থেকে চলে আসার জন্য মাঝে মাঝে পাগলপ্রায় হয়ে যেতো।"

তাজিমের কথা বলার ধরন তরুর ভালো লাগলো না। এভাবে সবার সামনে নিজের দুর্বলতা দেখাতে সে পছন্দ করে না।

"যাও, যাকে দেখতে এসেছো সে উপরের রুমে আছে। দেখে তাড়াতাড়ি চলে যাও।"

তাজিম কথা না বাড়িয়ে চলে গেলো। দরজার সামনে আসতেই দেখতে পেলো নীলাভ ডান কাত হয়ে শুয়ে আছে। সে আস্তে আস্তে নীলাভের সামনে এসে দাঁড়ায়। বেশ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকে। অবশ্যই ছেলেটা বেশ সুদর্শন। তবে এমন কি আছে, যার জন্য তার বোন এই ছেলেটার জন্য পাগল? তাজিম আরও কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকেও পাগল হওয়ার মতো কিছু খুঁজে পেল না। সে ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেলে ভাবলো–

"হয়তো তরুর দৃষ্টিতে নীলাভকে অন্যরকম দেখায়। নয়তো বিশেষ ব্যাপারটা একমাত্র তরুর চোখেই পরিলক্ষিত হয়। সেইজন্যই বিদেশের সুন্দর সুন্দর দেখতে ছেলে গুলোও ওর চোখে উগান্ডাবাসী। নইলে কতো ছেলে ওর পিছনে ঘুরেছে আর ও সবাইকে ছেড়ে এই নীলাভের পেছনে লেগে আছে।"

তাজিমের ভাবনার মাঝেই তার ফোন বেজে ওঠে, সে তড়িঘড়ি করে রিসিভ করে, যাতে নীলাভের ঘুম ভেঙ্গে না যায়।

"হ্যাঁ বাবা, তরুর খোঁজ পেয়েছি। আমি ওর সাথেই আছি, তুমি চিন্তা কোরো না। হ্যাঁ, ও সামনের বাড়িতে আছে।"

বলেই তাজিম কল কেটে দিয়ে পুনরায় নীলাভের দিকে তাকায়। দেখে নীলাভের মাঝে কোনো হেলদোল নেই। সে এতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে এর মাঝে নীলাভ একটুও নড়েনি। আবার ফোনের আওয়াজ পেয়েও ঘুমোচ্ছে।

"বেশ ভারী ঘুম তো।"

ভাবতেই তাজিমের মাথায় প্রশ্ন আসে যে নীলাভ এই বাড়িতে কি করছে? নীলাভকে সামনাসামনি দেখার আগ্রহে সে তো এই কথাটা ভুলেই গেছে। সে দ্রুত নিচের লিভিং রুমে আসে, যেখানে এখন শুধু তরু বসে আছে। বাকি সবাই হয়তো যে যার রুমে ঘুমাতে চলে গেছে। তরু ঠান্ডা কণ্ঠে বলে–

"দেখা হয়েছে? সুন্দর না? নজর লাগাওনি তো আবার?"

তাজিম আহাম্মকের মতো তাকিয়ে আছে বোনের দিকে, কীসব বলছে! সে গলা পরিষ্কার করে বলে–

"ও এখানে কি করছে তরু?"

"এতক্ষণ পর তোমার এই প্রশ্নটা মাথায় এলো? Strange. ভাইয়া, তোমার বয়স হচ্ছে। আমার মনে হয় তোমার বিয়েটা এবার করেই নেওয়া উচিত। দেখো জারারও বিয়ে হয়ে গেলো, কদিন পর তো আমারও বিয়ে হয়ে যাবে। তাই বলি, যত দ্রুত সম্ভব আমার আগে বিয়েটা করে নেও। নয়তো জীবনযুদ্ধে পিছিয়ে পড়বে।"

তাজিম চমকিত নয়নে বোনের দিকে তাকিয়ে আছে। এটা তারই বোন তো? সেই বোন, যেই বোন তার সাথে প্রয়োজনীয় কথাবার্তা ছাড়া আজ পর্যন্ত একটাও অপ্রাসঙ্গিক কথা বলেনি। সে গলা খাখারি দিয়ে বলে ওঠে–

"তুই কিন্তু কথাটা এড়িয়ে যাচ্ছিস।"

"ওর সাথে ব্রিজের ওপরে দেখা হয়েছিলো। আমার গাড়ি রিপেয়ারিং এর জন্য পাঠিয়েছিলাম। আর ও তো একজন দায়িত্ববান সিআইডি অফিসার, সেই সুবাদে ও আমাকে বাড়িতে ড্রপ করে দিতে এসেছিলো। আর এখানে আসার পর বৃষ্টির কারণে আর বাড়িতে যেতে পারেনি।"

"বুঝতে পারলাম, coincidence এর উপর coincidence। কিন্তু ও অপরিচিত একটা জায়গায় এতটা নিশ্চিন্তে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে কীভাবে? এই তার দায়িত্ববান সিআইডি হওয়ার নমুনা?"

"অপরিচিত জায়গা? এটা অপরিচিত জায়গা? ভাইয়া এটা ওদেরই পুরোনো বাড়ি, ভুলে গেলে?"

"তারপরেও পরিস্থিতি তো ভিন্ন তাইনা, এতটা নিশ্চিন্তে কীভাবে ঘুমাতে পারে?"

তরু একটা শ্বাস ফেলে বলে–

"চায়ের সাথে স্লিপিং পিল মিশিয়ে খাইয়ে দিয়েছি, তাই ওমনভাবে ঘুমোচ্ছে। ধরে নিতে পারো, ও এখন অজ্ঞান অবস্থায় আছে।"

তাজিম তরুর কথা শুনে অবাক চোখে তাকায়। তার এখন মনে হচ্ছে তরু দেশে ফেরার পর থেকে তাকে চমকিত করার মিশনে নেমেছে।

"তুই না নীলাভকে ভালোবাসিস? তুই ওর সাথে এমনটা করতে পারলি?"

"ভালোবাসতাম Once upon a time but now he is my Addiction, Obsession, Pleasure. ভালোবাসার মধ্যে ব্যাপারটা সীমাবদ্ধ থাকলে আমি ওকে ওর মতোই ছেড়ে দিতাম। যেমনটা এতো বছর দিয়েছি, but he has somehow become my Addiction.

তরুর কথা শুনে তাজিম নিশ্চুপ, সে তরুর ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছে। তরু হঠাৎ করে বলে উঠলো:

"আচ্ছা ভাইয়া, ওকে কি আমি সৌভাগ্য হিসেবে পেতে পারতাম না? কেনো জোর করে পেতে হচ্ছে?"

তাজিম কি বলবে বুঝলোনা। তবে কিছুক্ষণ ভেবে বলে উঠলো:

"তুই ওকে সৌভাগ্য হিসেবে এই জন্যই পাসনি কারণ ও তোকে কখনোই চায়নি তরু। ও তোকে তোর মতো করে চাইলে তুই ওকে সৌভাগ্য হিসেবে পেতে পারতি। কারণ তুইও জানিস জোর করে ওকে পেয়ে গেলেও আর যাই হোক ওর ভালোবাসা কখনোই পাবিনা। আর ভালোবাসাটাকেই তো আমরা সৌভাগ্য হিসেবে বিবেচনা করি, তাইনা?"

কথাটা তরুর কাছে বড্ড তেতো মনে হলো। হয়তো সেই জন্যই বলে সত্য সবসময় তেতো স্বাদেরই হয়। তরু এতো তেতো সত্য হজম করতে পারলোনা। সে চট করে সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো:

"ও আমাকে একদিন ঠিকই চাইবে। আমার মতো করেই চাইবে। আমি জোর করে ভালোবাসা না পেলেও কৌশলে আমাকে ভালোবাসতে বাধ্য করবো ওকে। আমি ওর ভালোবাসা চাই। কারণ ও ভালোবাসলে তবেই না আমি ওকে সেই কষ্টটা দিতে পারবো যেই কষ্টটা আমি ১২ বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছি। He is forced to love me, he has no other choice."

তাজিম কিছু না বলে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো। তরু রেগে গিয়েছে তাই এখন নীরব থাকাই ভালো।

"তুমি চলে যাও, আমি একা থাকতে চাই।"

তাজিম চলে যায়। তরু মেইন ডোর লক করে নিজের রুমে চলে যায়। রুমে ঢুকে দেখে নীলাভ এখনো সেইভাবেই ডান কাত হয়ে শুয়ে আছে। তরু একটা দীর্ঘ শ্বাস টেনে ব্যালকনিতে চলে যায়। নীলাভকে এখানে রাখার আইডিয়াটা হয়তো ভালো ছিলো না। নীলাভ তার কাছাকাছি থাকলে তার শ্বাসপ্রশ্বাসটা পর্যন্ত এলোমেলো হয়ে যায়। সে বিয়ের আগে তার ধারে কাছে ঘেঁষতে চায়না। তবে নীলাভের কাছাকাছি গেলে তার এসব বিধিনিষেধ মনে থাকেনা। তরু কিছুক্ষণ ব্যালকনিতে থেকে নিজের রুমের সাথে থাকা এটাচ রুমে চলে যায়। তার মেইন রুমে ঢুকে চট করেই কেউ এটাচ রুমটা লক্ষ্য করতে পারবেনা কারণ এটা তার সিক্রেট রুম হিসেবেই বানানো হয়েছে।

সকাল ১০টার দিকে নীলাভের ঘুম ভাঙ্গে, চারদিকে চোখ বুলিয়ে উঠে বসে। গত রাতের কথা মনে হতেই তার বিরক্ত লাগতে শুরু করে। সে নিজের ফোনে টাইম দেখে। তখনই তার ফোনে মোমোর মিসড কল ভেসে ওঠে। মোমো ভোর ৬টা থেকে তাকে কল দেওয়া শুরু করেছে যা দেখে নীলাভ তড়িঘড়ি করে উঠে পড়ে।

"শিট আমি এতোক্ষণ যাবত ঘুমিয়েছি। আর মিস রহমান কেনো এতোগুলো কল দিলেন?

নীলাভের মনে পড়ে ন্যাঞ্চি নামের মেয়েটাকে সে মোমোর বাড়িতে রেখে এসেছিলো। এটা মনে পড়তেই সে মোমোকে কলব্যাক করে।

"স্যার আপনি কোথায়? কতোগুলো কল করেছি আপনাকে।"

"আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম। বলুন কি বলবেন, কোনো সমস্যা নাকি?"

"কিভাবে বলবো বুঝতে পারছিনা স্যার। কিন্তু আপনি গত রাতে যেই মেয়েটাকে আমার বাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন সেই মেয়েটা আমাকে কিছু না বলেই পালিয়ে গেছে।"

"হোয়াট! কি বলছেন? আপনি এক্ষুনি অফিসে চলে আসুন কুইক। আমিও আসছি।"

নীলাভ কোনোরকমে ফ্রেশ হয়ে নিচের লিভিং রুমে আসে। তরু রান্না করে টেবিলে খাবার সার্ভ করছিলো। নীলাভ তার সামনে গিয়ে বলে:

"মিস চৌধুরী, আমাকে এখন যেতে হবে। আর কালকের জন্য ধন্যবাদ।"

তরু স্বাভাবিক গলায় বলে,

"খাবার খেয়ে যান।"

"আমার অফিসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ আছে। তাছাড়া আমাকে পাব্লিক বাসে করে হয়তো সাভার টাউনে পৌঁছাতে হবে।"

"আপনি না খেয়ে যাবেন? খেয়ে যান না। আমি কষ্ট করে রান্না করেছি।"

চলবে,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন