ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমি তরুলতা

১৪তম পর্ব

লেখক: সোফিয়া সাফা

#আমি_তরুলতা (১৪)

#সোফিয়া_সাফা

রাত ২টা।

নীলাভ ঘুমোচ্ছে, তখনই সে কারো চিৎকার শুনতে পেলো। নীলাভ চোখ না খুলে আরও বেশি গুটিসুটি মেরে শুয়ে রইলো, ভয়ে চোখ মুখ খিচে রেখেছে, তখনই আবারও সেই করুণ শব্দ তার কানে এলো।

ফ্ল্যাশব্যাক স্টার্ট.

*আমি কিছু করিনি, আমি খু'ন করিনি তোমরা বিশ্বাস করো। আমি আপুকে খু'ন করিনি।

মেয়েটি কান্না করছে, তখনই একটা মহিলা মেয়েটির গালে চড় বসিয়ে দেয়।

*এই মেয়ে! নীলাভ আর আয়ু নিজের চোখে দেখেছে, তারপরেও কোন মুখে অস্বীকার করিস?

মেয়েটি ছুটে নীলাভের সামনে গিয়ে বসে, কাঁদতে কাঁদতে মেয়েটির চোখ মুখ রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। তবে অনেক গুলো চড় খাওয়ার কারণে গালদুটো ফেটে র'ক্ত পড়ছে, সেদিকে মেয়েটির কোনো খেয়াল নেই। মেয়েটি, নির্বাক হয়ে বসে থাকা নীলাভের সামনে গিয়ে হাঁটু মুড়ে বসে পড়ে। *লাভ,,, তুমি ভুল দেখেছো, আমি আপুকে খু'ন করিনি। তুমি বিশ্বাস করো। আমি কিচ্ছু করিনি।

নীলাভ ঠান্ডা গলায় বলে উঠলো।

"আমি নিজের চোখে দেখেছি, তুইই আমার আপুকে খু'ন করেছিস। তবে যদি তুই এই মুহূর্তে প্রমাণ করতে পারিস যে তুই খু'ন করিসনি, তাহলে আমি আমার নিজের চোখ তুলে ফেলবো। গড প্রমিস।"

নীলাভের ঠান্ডা শীতল কণ্ঠে মেয়েটির ছোট্ট হৃদয় এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যায়। সে মুহূর্তেই নিজের চোখ মুছে বলে ওঠে,

*তার কোনো প্রয়োজন হবেনা, আমি স্বীকার করে নিচ্ছি আমিই খু'নটা করেছি। আমি প্রমাণ দিয়ে নিজের ভালোবাসাকে অন্ধ করতে চাইনা। তখন আমি বেঁচে থেকে কি করবো? তার চেয়ে বরং সে তার সুন্দর চোখদুটো দিয়ে আমার মৃ'ত্যু দেখুক। তাতেও শান্তি। ভালো থাকুক আমার ভালোবাসা।

মেয়েটা স্বীকার করার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ এসে মেয়েটিকে হাতকড়া পরায়। নীলাভ নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছে। পুলিশ মেয়েটিকে নিয়ে যেতে থাকে, তখনই নীলাভ দাঁড়িয়ে মেয়েটির হাত ধরে নিজের দিকে টেনে এনে মেয়েটির গলা চেপে ধরে। মেয়েটি টু শব্দটিও করেনা। তবে তার চোখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে, এরকম অবস্থায় আর কয়েক মুহূর্ত থাকলেই সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে। পুলিশসহ বাকি সবাই নীলাভের হাত থেকে মেয়েটিকে ছাড়াতে আসে। তবে নীলাভের জেদ যেন তার শক্তিকে আরও একশো গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নীলাভ উন্মাদের মতো হেসে বলতে থাকে –

"খুব ভালোবাসিস তোর লাভকে, তাই না? তাহলে কিভাবে পারলি তারই বোনকে মে'রে ফেলতে? এতোটাই রাগ তোর আমার বোনের ওপর? কি ক্ষতি করেছিল সে তোর? তোর ফাঁ'সি হবে, এটা সিওর। আর হয়তো আমার সামনে আসার সৌভাগ্য টাও হবেনা। শুনে রাখ, আমি আজকে তুইসহ সবার সামনে প্রতিজ্ঞা করলাম আমি আয়ুকেই বিয়ে করবো। কারণ ওই তোর আসল চেহারাটা আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। আমার বোন ন্যায়বিচার পেয়েছে। নয়তো তোর এই ঘৃণ্য রূপটা তোর ইনোসেন্ট মুখটার নিচে চাপা পরে যেতো।"

বলেই নীলাভ মেয়েটিকে ছেড়ে দেয়। মেয়েটি ছাড়া পেতেই নীলাভের শার্টের কলার চেপে ধরে, তবে আশেপাশের সবাই মেয়েটিকে টেনে ছাড়িয়ে আনে। মেয়েটি চিৎকার করে বলে ওঠে,

*তার আগেই আই উইল কিল ইউ, আমার জীবনের শেষ খু'নটা তাহলে আমি তোকেই করবো, লাভ। তুই আমার না হলে আর কারো হবি না। আমি তোকে ভালোবাসি। আমার ভালোবাসার কাছে তোর এই ঘৃণা কিছুই না। তরুলতা হারতে শেখেনি।

বলতে বলতেই পুলিশ তরুকে গাড়িতে উঠিয়ে ফেলে। নীলাভ রক্তচক্ষু নিয়ে সেই দিকে তাকিয়ে থাকে। তবে গাড়িটা দৃষ্টিসীমার বাইরে যাওয়ার পূর্বেই নীলাভ চিৎকার করে বলে ওঠে,

"I HATE YOU Torulota fu'king Ehsaan."

বলেই পাগলের মতো হাসতে লাগলো।

ফ্ল্যাশব্যাক এন্ড.

নীলাভ ধরফরিয়ে উঠে বসে। রুমের এসির শীতল ঠান্ডা হাওয়ার মাঝেও সে ঘেমে গিয়েছে। প্রচণ্ড ঘেমে গিয়েছে। সে পাশের টেবিলের ওপর থেকে পানির গ্লাসটা হাতে নিয়ে সম্পূর্ণ পানিটা এক নিশ্বাসে খেয়ে নিলো। জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে, তবুও সে স্বাভাবিক হতে পারছেনা। হাত পা কাঁপছে, তার হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছে। নীলাভ কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে উঠে গিয়ে আলমারির ড্রয়ার থেকে একটা সিগারেটের প্যাকেট বের করে, তারপর ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ায়।

সিগারেটে টান দিয়ে আকাশের দিকে ধোঁয়া ছাড়তে থাকে। সে সচরাচর এসব খায় না, তবে প্রায়ই তার বুকের বা পাশে এমন অস্বাভাবিক ব্যথা শুরু হয়ে যায় তখন সে বাধ্য হয়েই এসব খায়। সে এরকম দুঃস্বপ্ন আগে দেখেনি, এমনটা তো নয়। অবশ্য দুঃস্বপ্ন বললে ভুল হবে, এগুলো তার জীবনে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনা। যদিও সচরাচর তার এমন স্বপ্ন আসেনা, আজকে আসার একটা কারণ আছে, সেটা হলো ত্রানা নামের মেয়েটা। নীলাভ ত্রানার চোখের নিচে যেই তিলটা দেখেছিলো, সেই তিলটাই এই স্বপ্ন আসার পেছনে দায়ী। এরকম তিলটা...

নীলাভ আর মনে করতে চায় না। এর বেশি সে আর সহ্য করতে পারবে না। তবে বর্তমানে সে চিন্তামুক্ত, কারণ সেই পা'গল মেয়েটা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায়, সেদিনই পুলিশের গুলিতে নি'হত হয়েছিলো। নীলাভ আজকে বুঝতে পারলো যে কেনো কোনো কারণ ছাড়াই ত্রানাকে তার অসহ্য লাগে। কারণটা হলো ত্রানাকে দেখলেই তার মনের কোথাও না কোথাও সেই পা'গল মেয়েটার প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে। নীলাভ হাতে থাকা সিগারেটের অবশিষ্ট অংশটা ফেলে দিয়ে নিজের অগোছালো চুলে হাত দিয়ে স্লাইড করতে করতে নিজের রুমে এসে শুয়ে পড়ে।

সকাল ৮ টায় নীলাভ, নাহিদ আর নাজমুল যার যার কাজে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে নিচের ড্রইংরুমে আসে। তারা ৩ জন নাস্তা করতে বসেছে, জারা তাদের নাস্তা বেড়ে দিয়ে ড্রইংরুমে থাকা টিভি অন করে বসে পড়লো, আপাতত তার কোনো কাজ নেই একটু টিভি দেখেই সময় কাটাবে। টিভি অন করে নিউজের চ্যানেলে দিতেই একটা খবর শুনে জারা থমকে যায়, তার সাথে সাথে নীলাভ, নাহিদ আর নাজমুল ও চমকে যায়। ডাইনিং টেবিল থেকে টিভি স্পষ্ট দেখা না গেলেও শব্দ শোনা যায়।

নিউজ: আজ সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে সাভার টাউনের মধ্যবর্তী জুম রিভার থেকে ২ টি ম'রদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চেহারা বিকৃতের কারণে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এই বিষয়ে তদন্ত করার জন্য পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়েছে।

নীলাভ নিউজটা শোনামাত্র হাত ধুয়ে তাড়াতাড়ি সোফায় এসে বসে নিউজ চ্যানেল চেইঞ্জ করে, কিন্তু সব নিউজ চ্যানেলেই এই একটি খবর প্রচার করা হচ্ছে। তখনই নীলাভের ফোনে মিনারের কল আসে। নীলাভ কলটা রিসিভ করে—

"স্যার, নিউজটা শুনেছেন? সিনিয়র এএসপি স্যার আপনাকে এক্ষুনি ব্যুরোতে আসতে বলেছেন।"

নীলাভ গম্ভীর স্বরে বলে,

"I will be there in 15 minutes."

বলেই নীলাভ কলটা কেটে দেয়। নাহিদ আর নাজমুল এগিয়ে এসে বলে—

"নে, তোর নতুন কেইস এসে পরেছে। এই পুলিশ তো নামেমাত্র আছে, সবকিছু তো তোদের ঘাড়েই এসেই পরে।"

নাজমুল বললেন,

"Best of luck নীলাভ।"

নীলাভ কিছুই বলল না, অবশ্য তার ফ্যামিলির সবাই সিআইডি হওয়ার জন্য তাকে অলওয়েজ সাপোর্ট করে গেছে। তবে সবাই ভালোভাবে নিলেও আয়ুর মা নিতে পারেনি, সে চেয়েছিলো নীলাভ পারিবারিক বিজনেস দেখাশোনা করুক। কিন্তু তাও, নীলাভ তার লক্ষ্যে অটল ছিলো।

"মা আমি আসছি।"

বলেই নীলাভ বেরিয়ে গেলো।

অন্যদিকে, ঘন East Forest এর মাঝখানে লুকিয়ে আছে গভীর রহস্য, যার সম্পর্কে বাইরের কেউই জানে না। জঙ্গলের মাঝামাঝি অবস্থিত বিশাল প্রাসাদ। যেখানে যাওয়া সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বলে কেউ যাওয়ার সাহস করেনা। বিশাল প্রাসাদের মেইন ফটকে লেখা Wolf Squad, তবে লেখাটা অনেক প্যাচালোভাবে লেখা, যেটা সহজে কেউ বুঝতে পারবেনা। বাইরে থেকে পুরোনো মনে হলেও ভেতরে সর্বত্র রয়েছে আভিজাত্যের ছোঁয়া। সুবিশাল ৩ তলা বিশিষ্ট প্রাসাদটিতে রয়েছে ৩০টিরও বেশি কক্ষ। সাথে আন্ডারগ্রাউন্ড ২টি ফ্লোরও রয়েছে। তরু, বিভান, আভিক, লিজা অনেকক্ষণ যাবৎ প্রাসাদটির ভেতরের বিশাল বড় লিভিং রুমে বসে আছে, তাদের সাথে ন্যাঞ্চিও আছে।

আভিক একটা ছোট্ট শ্বাস ফেলে বলে—

"এই তুমি না স্পাই? একজন স্পাই হয়ে কিভাবে ধরা পড়লে? আর তুমি যে এতো ভীতু আগে জানতাম না তো।"

"স্যার আমি তো ছদ্মবেশেই গিয়েছিলাম তাদের আস্তানায়। তারা সেদিন ৫ কোটি টাকার ইয়াবা অন্যদেশ থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়েছে। আমি নিজের চোখে দেখেছি আর সব ভিডিও করেছিলাম। কিন্তু ছোট্ট একটা ভুলের কারণে ধরা পড়ে যাই। তারপর তারা আমার ফোনটাও নিয়ে গিয়েছিলো। ভাগ্যিস ত্রানা ম্যামের কথামতো আমার সাথে জিপিএস ছিলো, নইলে আমি এই যাত্রায় আর বেঁচে ফিরতে পারতাম না।"

বিভান বলল,

"তুমি তো নিজে থেকেই ম'রতে চেয়েছিলে, গবেট কোথাকার। তোমার বাবাকে আটকে রেখে তোমাকে ধরার প্ল্যান করেছিলো, তা কি তুমি বোঝোনি? চলে গেলে ওদের কাছে। আচ্ছা, তুমি গেলেই কি ওরা তোমার বাবাকে ছেড়ে দিতো? এতোটুকু বোঝোনি?"

ন্যাঞ্চি কাঁদতে কাঁদতে বলে—

"আমি জানতাম স্যার, কিন্তু আমি আমার বাবাকে কি করে ওদের হাতে ছেড়ে দিতাম?"

লিজা বলল,

"তোমার বাবার কথা ওরা জানলো কীভাবে?"

"আমি ধরা পড়ার পরেই ওরা আমার ফোন থেকে বাবার ইনফরমেশন কালেক্ট করে রেখে দেয়। তারপর ওই সিআইডি আর ত্রানা ম্যাম আমাকে বাঁচানোর জন্য পিছু নিলে তারা আমার বাবাকে মা'রার ব্ল্যাকমেইল করে বলে ভোর ৬টার মধ্যে মিড নাইট ব্রিজের উপর না গেলে আমার বাবাকে মে'রে ফেলবে।"

ওদের কথার মাঝেই একজন মাস্ক পরা মেয়ে সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে। মেয়েটিকে নিচে নামতে দেখে তরু বাদে বাকি সবাই দাঁড়িয়ে পড়ে। সবাই ঝুকে মেয়েটিকে সম্মান জানায়।

"মিস ন্যাঞ্চি, তুমি তোমার কাজ ঠিকমতো করতে পারোনি। আর তুমি খুব ভালো করেই জানো, যে কাজে ব্যর্থ হওয়া আমি একদমই পছন্দ করি না।"

ন্যাঞ্চি মাথা নিচু করেই বলল,

"স্যরি আলফা,"

"Don’t say sorry without realisation. তুমি কি আদৌ জানো তোমার এই ছোট্ট ভুলটা আমাদের ১২ বছরের প্ল্যান নষ্ট করে দিতে পারতো?"

ন্যাঞ্চি মাথা নিচু রেখেই বলে,

"আলফা আমার জন্য আপনার বিন্দুমাত্র ক্ষতি হত না। আমাকে মে'রেও ফেললেও তারা কোনো ইনফরমেশন বের করতে পারতো না। আমি জানি আপনি সেই বিষয়ে সিওর।"

আলফা কিছুক্ষণ পর বলে উঠলো—

"তোমার বাবাকে দেশের বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করো। তুমি জানো আমি পিছুটান রাখা লাইক করিনা।"

ন্যাঞ্চি মাথা নাড়ায়। আলফা তরুর সামনে দাঁড়িয়ে বলে—

"মিস ত্রানা, আপনার কি মনে হয় না আপনাকে যেই জন্য ট্রেইনড করা হয়েছে, আপনি আদৌ সেই কাজটা মন দিয়ে করছেন না?"

তরু বসে থেকেই বলে—

"আমি তখনই কাজ করবো, যখন আমার মন চাইবে।"

"তাই? তো আপনার কখন মন চাইবে?"

তরু আলফার চোখে চোখ রেখে বলে—

"You know what I want. আমি সেটা না পাওয়া পর্যন্ত কনসেন্ট্রেশন করতে পারছি না। আমার ১ মাস সময় চাই। তার ভেতর আমার পার্সোনাল কাজ শেষ করে কাজে মনোযোগ দেবো।"

"Okay, you have 1 month. জলদি নিজের পার্সোনাল কাজ শেষ করো, কাজে মনোযোগী হও।"

আলফার কথা শুনে বিভান, লিজা, আভিক অবাক চোখে তাকায়। তরু ১২ বছর দেশের বাইরে থেকে ছুটি পালন করেও আবার ১ মাসের ছুটি পাচ্ছে। আর তারা বেচারা একটার পর একটা কাজের প্রেশারে চুরচুর হয়ে যাচ্ছে।

আভিক গলা পরিষ্কার করে বলে—

"আলফা, আপনার কি মনে হয় না ত্রানা একটু বেশিই ছুটি পাচ্ছে?"

"তা নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না, সিনিয়র A। তুমি তোমার কাজে কনসেন্ট্রেশন করো। তোমরা নিশ্চয়ই আমাদের লক্ষ্য ভুলে যাওনি? আমরা ভিন্ন ভিন্ন মানুষ হলেও আমাদের লক্ষ্য কিন্তু একটাই।"

বিভানকে উদ্দেশ্য করে বলে-

"সিনিয়র B, তুমি আমাদের soldiers দের ভালো করে ট্রেনিং দাও আজকে থেকেই। তারা যেন পূর্বের মতো শত্রুদের হাতে বন্দি না হয়।"

বলেই আলফা উপরের কক্ষে চলে যায়।

আভিক বলল,

"তোদের কি মনে হয় না যে আলফা ত্রানাকে একটু বেশিই ছাড় দেয়?"

লিজা বলে,

"মনে হলেও বা কি করার, আলফা ওকে বেশি ভালোবাসে কারণ ও সব কাজে সফল হয়।"

বিভান বলল,

"শুধুই কি এই কারণ? আরে ত্রানার ড্যাড রাফিজ চৌধুরী হচ্ছেন Wolf Squad এর সবচেয়ে বড় ফাউন্ডার। আমাদের বাবারা তো তার ম্যানেজার মাত্র। প্রায় ৫ বছর ধরে আমরা Wolf Squad এর হয়ে কাজ করছি, কিন্তু এখনো আলফার আসল পরিচয় সম্পর্কেই জানতে পারলাম না। শুধু আমাদের বাবাদের কথামতো এখানে কাজ করে যেতে হচ্ছে। আমাদের সবার শত্রু নাকি একই। তাই তো এই Wolf Squad টিম তৈরি করা হয়েছে যাতে সবাই মিলে শত্রুকে পরাজিত করা যায়।"

তরু ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল,

"সঠিক সময় হলে অবশ্যই জানতে পারবো।"

এদিকে নীলাভ ঘটনাস্থলে এসে সবকিছু খতিয়ে দেখছে। তবে লা'শের চেহারা বিকৃত হওয়ায় তারা পরিচয় শনাক্ত করতে পারছে না। মাহির চিন্তিত স্বরে বলে,

"স্যার, মনে হচ্ছে মিসিং রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।"

১ সপ্তাহ পর,

নীলাভ অফিসে বসে আছে আর গভীর ভাবনায় ডুবে আছে। কারণ এই এক সপ্তাহে আগের ২ টার পাশাপাশি আরো ১টা খু'ন হয়েছে। যাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি, আর মিসিং কমপ্লেইনও আসেনি। নীলাভ তার ভাবনায় মগ্ন ছিলো, তখনই তার সিনিয়র এএসপি মিস্টার শাহাদাত হোসেন একজন মেয়েকে এনে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।

"Meet our new inspector ত্রানা চৌধুরী। আজই কাজে জয়েন হয়েছেন। এখন থেকে আপনাদের সাথে কাজ করবেন।"

কথাটা শুনে নীলাভ স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে। এমনিতেই চিন্তার অভাব নেই তার মাঝে…

শাহাদাত হোসেন নীলাভের সামনে এসে বলে—

"উনি হচ্ছেন এএসপি নীলাভ জাহির খান। আপনি ওনার আন্ডারেই কাজ করবেন। আর নীলাভ, কাজের প্রেশার অনেক বেশি, তাই ওনাকে আপনার টিমে দেওয়া হয়েছে।"

নীলাভ কিছু না বলে চুপ করে আছে, তরু তার সামনে এসে বললো—

"Nice to meet you, Mr. Nilav...ufffs, sorry sir. আমি ভাবতেও পারিনি আপনার সাথে, মানে আমার আইডলের সাথে কাজ করার চান্স পাবো।"

ওদের কথার মাঝেই মাহির শেখ এসে বলে—

"আইডল মানে?"

তরু অবাক হওয়ার ভান ধরে মাহিরের দিকে তাকায়।

"আপনি কে?"

"আমি হচ্ছি সিনিয়র ইনস্পেকটর মাহির শেখ।"

"ওহ, তার মানে তো আপনিও আমার স্যার।"

"হ্যাঁ, বললেন না তো যে নীলাভ স্যার আপনার আইডল হলো কিভাবে?"

"আসলে আমরা পূর্ব পরিচিত, আপনি হয়তো সেদিন রেইনবো ক্লাবে হওয়া ঘটনার দিন সেখানে ছিলেন না, তাইনা?"

"আমি ছিলাম না অবশ্য, কিন্তু আপনি সেদিনের কথা জানলেন কী করে?"

"সেটাই থাকলে আমাকে চিনতেন। আসলে আমি সেদিন নীলাভ স্যারকে বাঁচিয়েছিলাম। তারপর আমাদের আরও দেখা হয়। যার দরুন তাকে দেখে আমি সিআইডি হওয়ার inspiration পাই, তাই আইডল বললাম।"

নীলাভ তরুর দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটা যে এতো কথা বলতে পারে, তার জানা ছিল না। তার সাথে তো সবসময় ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে কথা বলে। তরু নীলাভকে উদ্দেশ্য করে বলে—

"আপনারা নিশ্চয়ই জুম রিভারে পাওয়া ৩টা লা'শ নিয়ে তদন্ত করছেন?"

মাহির বলল,

"জ্বী।"

তরু মনে মনে ভাবলো–

"এই ব্যাডা বেশি কথা বলছে।"

ভাবনা সাইডে রেখে তরু বললো–

"প্রত্যেকটা খুনের পেছনে একটা উদ্দেশ্য থাকে, আমাদেরকে আগে সেটা খুঁজে বের করতে হবে।"

নীলাভ এতোক্ষণ চুপ করে থাকলেও বলে ওঠে–

"তাদের পরিচয়টাই পাওয়া যাচ্ছে না। উদ্দেশ্য কিভাবে বুঝবো? আর তাছাড়া বিষয়টার পেছনে কোনো সিরিয়াল কিলারও থাকতে পারে। তারা মূলত কোনো কারণ বা উদ্দেশ্য ছাড়াই খু'ন করে।"

এরই মাঝে মোমো এসে বলে–

"আপনি ঠিক বলেছেন স্যার, আমারও তেমনটাই মনে হয়।"

তার কথা শুনে তরু বিরক্ত হয়। তরু কিছুক্ষণ ভাবার অভিনয় করে বলে–

"স্যার, আমাদের মিসিং কমপ্লেইন আসার অপেক্ষা না করে, তদন্ত করে পরিচয় বের করা উচিত।"

তার কথা শুনে মাহির বলে–

"সেটার কি চেষ্টা করা হয়নি?"

"লা'শগুলো কোথা থেকে ফেলা হয়েছে, আগে সেগুলো বের করতে হবে।"

কথাটা শুনে নীলাভ ইমপ্রেস হয়ে যায়। তার মাথায় এরকম কিছু আসেনি। মূলত আয়ু নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে সে কোনো কিছুতে কন্সেন্ট্রেশন করতে পারছে না।

"আপনি ঠিক বলেছেন মিস ত্রানা। আমরা সেই বিষয়টাই আগে বের করবো। চলুন।"

এরপর তারা সবাই জুম রিভারের সাইডে আসে, যেখান থেকে লাশগুলো পাওয়া গেছে। মাহির বলল,

"মনে তো হয় না যে সরাসরি এখানেই ফেলা হয়েছিল।"

নীলাভ বলে,

"হুম, এখানেই সরাসরি ফেলা হয়নি। কিন্তু আমার মনে হয় স্রোতের কারণে এখানে ভেসে এসেছে।"

মোমো একগাল হেসে বলে,

"ইয়েস স্যার, আপনার কথাই রাইট।"

তরু গম্ভীর স্বরে বলে ওঠে,

"মিস মোমো, আপনি কি এসব ছাড়া নিজে থেকে কিছু বলতে পারেন না?"

মোমো তরুর দিকে অবাক চোখে তাকায়–

"আমি বয়সে তোমার বড় হই, মিস ত্রানা, আমাকে ম্যাম বলে ডাকবে।"

তরু সোজাসাপ্টা বলে,

"পারব না, মিস মোমো। কারণ এইজ ম্যাটার করে না। আপনি ও একজন ইন্সপেক্টর আর আমিও, সো আমি আপনাকে ম্যাম বলে ডাকতে পারব না।"

মোমো চমকে তাকালো,

"কী বললে তুমি?"

মাহির শেখ ভীষণ বিরক্ত হলেন,

"মোমো, আপনি চুপ থাকুন। আর স্যার, এখন তো ভাটার সময়। আমাদের নদীতে জোয়ার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, তবেই আমরা বুঝতে পারবো কোথা থেকে পানি এদিকে আসে।"

নীলাভ আশেপাশে তাকিয়ে বলল,

"আজকে আর জোয়ার আসবে না। অলরেডি সন্ধ্যা হয়ে গেছে। কালকে তো শুক্রবার, আমরা শনিবার কেইসটা নিয়ে জোর কদমে তদন্ত শুরু করবো। এই সপ্তাহে অনেক ধকল গেছে। একটু বিশ্রামের প্রয়োজন। আপনারা অফিসে চলে যান, আমি এখান থেকেই বাসায় ফিরবো।"

এরপর সবাই বাড়িতে ফিরে যায়।

রাত ৯টা:

তরু নিজেদের বাড়ির ড্রইংরুমে বসে ফোন ঘাটছে, তখন সাফোয়ান সেখানে এসে তরুকে বলে–

"তরু, ডিনার করতে চলো।"

তরু কিছু না বলে চুপ করে বসে আছে।

"খাবেনা?"

"আমি তাজিম ভাইয়ার সাথে খেয়ে নেবো।"

"কখন আসবে তাজিম?"

"আসতে দেরি হবে।"

সাফোয়ান আর কিছু না বলে খেতে বসে পড়ে। তরুকে বেশি না ঘাটানোই ভালো।

রাত ১০টার দিকে তাজিম আসে। এসে তরুকে ড্রইংরুমে বসা দেখে বলে–

"তুই এখানে বসে বসে কি করছিস?"

"অপেক্ষা।"

"অপেক্ষা মানে?"

"তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে খেতে এসো তারপর বলছি।"

তাজিম কিছু না বলে ফ্রেশ হয়ে আসে তারপর তারা একসাথে খেয়ে নেয়, তরু আর তাজিম ড্রইংরুমে এসে বসে।

"আজকে তুই আমার সাথে ডিনার করার জন্য বসে ছিলি?"

তরু নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলে,

"হুম, ভাবলাম জীবনে আর এই সুযোগ পাই কি না পাই।"

"হোয়াট ডু ইউ মিন?"

"এমনি, কিছুনা, তো বলো তোমার প্রথম ডেইট কেমন ছিলো?"

তাজিম তরুর কথা শুনে চোখ বড় বড় করে তাকায়।

"অবাক হচ্ছো কেনো? আমার থেকে লুকানোর বৃথা চেষ্টা করে কি লাভ বলোতো? তোমার কি মনে হয়, অন্যদের খবর রাখা এই তরুলতা নিজের ভাইয়ের খবর রাখেনা?"

"তুই কি আমার পেছনেও গোয়েন্দা লাগিয়ে রেখেছিস নাকি?"

"প্রয়োজন পড়েনি এখনও, কিন্তু মনে হচ্ছে এবার থেকে লাগাতে হবে।"

তাজিম আড়চোখে তরুর দিকে তাকায়। মেয়েটা কিভাবে যে সব জেনে যায় সেটাই বুঝে পায়না সে। তাজিম একটা শ্বাস ছেড়ে বলে,

"তুই যা ভাবছিস তা নয়।"

"আমি কি ভাবছি তা তুমি কিভাবে জানলে?"

তাজিম একটা ঢোক গিলে বলল,

"মাইশা শুধুমাত্র আমার ক্লাসমেট ছিলো।"

"ওহ ভাবীর নাম বুঝি মাইশা?"

"আমি ওকে পছন্দ করিনা তরু।"

তরু বুকের উপর হাত বেধে বলে,

"এটলিস্ট আমাকে মিথ্যা বলার মতো খারাপ অবস্থাও হয়নি তোমার। আমি জানি তুমি ওনাকে লাইকও করো আর ভালোও বাসো।"

"একদমই না।"

"তাহলে এটা কি?"

তরু তার ফোনে তোলা তাজিম আর মাইশার ছবিটা দেখিয়ে বলে।

"মেয়েটা সুন্দর আছে, ভাবী বানাতে অসুবিধা নেই।"

তাজিম কি বলবে ভেবে পেলোনা। সে বুঝতে পেরেছে আজকে সন্ধ্যার পরে সে আর মাইশা যখন একটা রেস্টুরেন্টে দেখা করতে গিয়েছিলো সেখানে তরুও গিয়েছিলো আর তাদের ছবি তুলে রেখে দিয়েছে।

"এবার কি এক্সকিউজ দেবে?"

"বললাম তো ও আমার ক্লাসমেট ছিলো, সেই হিসাবে কি দেখা করতে পারিনা তরু?"

"অবশ্যই পারো কিন্তু ভাবী শুধুমাত্র ক্লাসমেট হলে তোমার দিকে ওভাবে তাকিয়ে ছিলো কেনো? আর সবচেয়ে বড় কথা তোমাকে সে প্রপোজ করেছে। তারপর তোমরা এতোক্ষণ ঘোরাঘুরি করে বাড়িতে এসেছো। আমি সব জানি তাই মিথ্যা বলোনা।"

তাজিমের মনে পড়ে কিভাবে মাইশা তাকে আজকে প্রপোজ করেছে। মেয়েটা দেশে এসে দেখা হবার পর থেকেই তাকে বিরক্ত করছে। অবশ্য সে জানতো মাইশা তাকে পছন্দ করে। তবে সে বরাবরই ইগনোর করে গেছে। তবে এবার সে বুঝতে পেরেছে যে মেয়েটা তাকে অনেক বেশি ভালোবাসে। তাই সে আর মেয়েটিকে ফিরিয়ে দিতে পারেনি। তারও অবশ্য একজন সঙ্গীর প্রয়োজন। সারাজীবন তো আর একা থাকতে পারবেনা। তাহলে সে সঙ্গীটা মাইশা কেনো হতে পারবেনা? কথায় আছেনা অপরিচিত কারো থেকে যে তোমাকে ভালোবাসে তাকে বেছে নেওয়াই ভালো।

"কি হলো? কোথায় হারিয়ে গেলে? ভাবীকে নিয়ে ভাবছো নিশ্চয়ই? আমি কিন্তু ভাবীকে আগে থেকেই চিনি। সেদিন হসপিটালে তাকে অনেকবার দেখেছিলাম আমি। অবশ্য সে জানেনা যে আমি তার একমাত্র ননদ। আমার তাকে পছন্দ হয়েছে।"

তাজিম কথা ঘোরানোর জন্য বলে,

"তোর কি মনে হচ্ছেনা তুই ইদানীং একটু বেশিই অন্যরকম বিহেভ করছিস? আগে তো এতো কথা বলতিনা তাহলে হঠাৎ এতো পরিবর্তন কেনো?"

"পরিস্থিতি সাপেক্ষে আমার যেই রকম বিহেভ করা প্রয়োজন আমি সেই রকম বিহেভ করবো সেটাই স্বাভাবিক। অবশ্য আমি নীলাভের মনের মতো হওয়ার চেষ্টা করছি। intelligent, smart, extrovert, all-rounder. কারণ আমার all-rounder নীলাভ এসব কিছুই লাইক করে।"

"আচ্ছা মানলাম তুই ওর জন্য নিজেকে পরিবর্তন করে নিবি তারপর ও তোকে ভালোও বাসবে। কিন্তু তারপর? তারপর যখন ও তোর আসল পরিচয় জানবে তখন?"

তরু নিম্নস্বরে বলে,

"তার আগেই আমি ওকে নিঃশেষ করে দেবো। যাতে ও যেদিকে তাকাবে শুধু আমাকেই পাবে। ওর জীবনে শুধু একটাই রাস্তা থাকবে, যেই রাস্তা শুধু মাত্র আমিতে মিলিত হবে। আমি ওকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে যেতে দেখতে চাই, ঠিক যেরকম ভাবে আমি ভেঙ্গে পড়েছিলাম। আমি ওকে ভেঙ্গে আবার আমার মনের মতো করে গড়ে তুলবো। আমি চাইলেই জোর করে ওকে নিজের কাছে আটকে রাখতে পারি। কিন্তু সেটা করলে ও আমাকে সারাজীবনই ঘৃনা করে যাবে। আমি ওর ভালোবাসা চাই।"

"তাহলে তুই কোনোভাবে প্রমাণ করে দে যে তুই নেহাকে খু'ন করিস নি তাহলেই তো হয়।"

"প্রমাণ?"

বলেই তরু পাগলের মতো হাসতে লাগলো।

"তোমার কি মনে হয়? প্রমাণ থাকলে আমি এতো বছর অপেক্ষা করে থাকতাম? আর তাছাড়া আমি আপাতত প্রমাণ করতেও চাইছিনা।"

তাজিম ভ্রু কুচকে তরুর দিকে তাকিয়ে বলে—

"তাহলে তুই সারাজীবন এই খু'নের অপবাদ নিয়ে বাঁচতে চাস নাকি?"

তরুর চোখ লাল হয়ে গেছে। সে তাজিমের দিকে তাকিয়ে নরম স্বরে বলে—

"তোমাকে বা মিস্টার সাফোয়ান এহসানকে তো আমি প্রমাণ দেইনি তাহলে তোমরা কেনো বিশ্বাস করো যে খু'নটা আমি করিনি?"

বাবার নাম ধরে বলাতে তাজিম আড়চোখে তরুর দিকে তাকায়। সে জানে তরু ওভাবে ডাকতে ভালোবাসে না। কিন্তু সাফোয়ানই তরুকে এরকম সম্বোধনের জন্য বাধ্য করেছে। মাঝে মাঝে তার বোনটার জন্য তার অনেক মায়া হয়। শত চেষ্টা করেও সে তরুকে ভালো রাখতে পারেনি।

"কী হলো বলো?"

"আমি সিওর হয়ে বলতে পারি যে তুই নেহাকে খু'ন করিসনি। কারণ আমি আমার বোনকে বিশ্বাস করি।"

"হ্যাঁ আমি জানি। আর আমিও নীলাভের থেকে এই বিশ্বাসটাই চাই। আমি নিজের নির্দোষতার প্রমাণ দিয়ে নীলাভের ভালোবাসা চাই না। কারণ সেটা আমার কাছে করুণা বলে মনে হবে। আমি ওকে সেই তরুলতাকেই ভালোবাসতে বাধ্য করবো, যাকে ও সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে। তবেই না ওকে পুরোপুরি ভাঙতে পারবো আমি।

তাজিম মুচকি হাসি দিয়ে বলে—

"ওকে, বেস্ট অফ লাক।"

বলেই তাজিম চলে যেতে নেয়, তরু বলে ওঠে—

"ভাবীর কথাটা ভালোই এড়িয়ে গেলে।"

তাজিম ঘুরে এসে বলে—

"আচ্ছা যাহ, স্বীকার করলাম, এবার খুশি?"

"না।"

"তাহলে কী চাস, সরাসরি বল।"

তরু তাজিমকে কিছু কথা বুঝিয়ে বলে—

"আশা করি তুমি তোমার দেওয়া কথা ভুলে যাওনি।"

"না, আর তুই ভালোভাবেই জানিস আমি কিছু বললে সেটা অবশ্যই করি। এই যেমন তোর নীলাভের সাথে কাজ করার ইচ্ছাটাও কিন্তু পূরণ করে দিয়েছি।"

তাজিমের কথায় তরুর ঠোঁটের কোণে সূক্ষ্ম হাসি ফুটে ওঠে।

*লোকেশন: আননোন

সাফেদ শাহরিয়ার তার বসের সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

*তুমি এই সামান্য কাজটাও ঠিকভাবে করতে পারলে না? মেয়েটাসহ তার বাবাকে কিভাবে ওরা ছাড়িয়ে নিয়ে গেলো? ড্যাম ইট!

"স্যরি বস, আসলে ওরা ফাইটিংয়ে অনেক এক্সপার্ট ছিলো, কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদেরকে মে'রে ওদেরকে নিয়ে চলে গেছে।"

সাফেদের কথায় তার বসের মুখে অদ্ভুত হাসি ফুটে ওঠে— *বিশেষ সূত্রে জানা গেছে যে রাফিজ চৌধুরীর একমাত্র মেয়ে ১২ বছর পর দেশে ফিরে এসেছে। সেই মেয়েটিকে খুঁজে বের করো সাফেদ, যেভাবেই হোক মেয়েটিকে শেষ করে ফেলো। সেদিন চৌধুরী ফ্যামিলিকে পুরোপুরি নিঃশেষ না করাটা আমাদের অনেক বড় ভুল ছিলো।

"ইয়েস বস, আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। রাফিজ চৌধুরীর উপর আমাদের লোক নজর রাখছে। তার মেয়ে সম্পর্কে কোনো ইনফরমেশন পাওয়া মাত্রই আমাদেরকে ইনফর্ম করবে।"

চলবে,,,

শব্দসংখ্যা- ৩৩৫০+

(ভালো লাগলে রেসপন্স করুন)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন