#আমি_তরুলতা (৩০)
#সোফিয়া_সাফা
{ধামাকা পর্ব-The Confession}
(আজকের পর্বে কিছু এডাল্ট কন্টেন্ট আছে। যারা এই ব্যাপারে সেনসিটিভ তারা ‘এলার্ট’ লেখার পরের অংশটুকু স্কিপ করবেন)
নীলাভ পায়েস টা খাওয়ার পর থেকেই তার কেমন যেনো মাথা ঘোরাচ্ছে। চোখের সামনে টা ঝাপসা ঝাপসা লাগছে। নীলাভ বিছানা থেকে উঠে বসে পানির গ্লাস টা নিতে চাইলো। কিন্তু নিতে পারলোনা। মনে হচ্ছে গ্লাস টা তার থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। নীলাভ এসির টেম্পারেচার একদম কমিয়ে দিলো। ভীষণ গরম লাগছে তার। কেমন যেনো মাতাল মাতাল লাগছে, নীলাভ উঠে রুমের লাইট জ্বালাতে যায়, কিন্তু সে তো কিছুই দেখতে পাচ্ছেনা। সে সুইচের দিকে না গিয়ে দরজার দিকে চলে যায়। টেবিল ল্যাম্পের আলোতে চারপাশে আবছা আবছা আলো বিরাজ মান। নীলাভ দরজার কাছে যেতেই তরু দরজা খুলে রুমে প্রবেশ করে তারপর ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেয়। নীলাভ আবছা আবছা তরুকে দেখতে পেয়েছে। নীলাভ অস্পষ্ট স্বরে বলে,
*** (এলার্ট)
“ত্রানা, আ মার মাথাটা ভীষণ ঘুরছে।”
তরু কোনোকিছু না বলেই নীলাভের দিকে এগোতে লাগলো, কি হচ্ছে না হচ্ছে নীলাভ কিছুই বুঝতে পারছেনা। তরু দ্রুত গতিতে এগিয়ে এসে নীলাভকে জড়িয়ে ধরলো। তরুর হার্টবিট বেড়ে গেছে কয়েকগুন। নীলাভ তরুকে সরিয়ে দিয়ে বললো।
“কি করছো? সরে যাও,”
নীলাভ বলতে চাইলো কিন্তু পারলোনা। তার মুখ দিয়ে কোনো কথাই বের হচ্ছেনা। তরু নীলাভকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে গিয়ে রুমের লাইট জ্বালিয়ে দিলো। তারপর নীলাভের দিকে তাকালো। নীলাভের অবস্থা পুরো এলোমেলো। শরীর দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। ঘেমে গিয়ে পরণের শার্ট শরীরের সাথে লেপ্টে আছে। চুলগুলো এলোমেলো। জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে। তরু নীলাভের সামনে এসে দাড়ালো। লাইটের আলোয় নীলাভ এবার তরুকে দেখতে পাচ্ছে। তরু শাড়িটা বেশ খোলামেলা ভাবেই পড়েছে। নীলাভ তরুর দিকেই তাকিয়ে আছে। তরুকে দেখে নীলাভের কেমন যেনো ঘোর লাগছে।
সে বসা থেকে উঠে তরুর দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। তরু সরে যেতে নিলে নীলাভ তরুর হাত ধরে তরুকে তার কাছে টেনে নিলো। তরু নীলাভের কাছে এসে নীলাভের ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে দিয়ে এলোমেলো কিস করতে লাগলো। নীলাভ এবার শক্ত করে তরুকে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরলো। তরু একটু দূরে সরে একটানে নীলাভের শার্ট খুলে ফেলে দিলো। তারপর নীলাভের বুকের ওপর কিস করতে লাগলো। নীলাভ এবার সম্পূর্ণ ভাবে কন্ট্রোল লেস হয়ে গেলো। সে তরুর কোমড় জড়িয়ে ধরে তরুকে তার সামনাসামনি দাড় করালো তারপর একহাত দিয়ে তরুর মুখ উঁচু করে আরেক হাত দিয়ে তরুর ঠোঁটের লিপস্টিক মুছে দিলো। তারপর একটা বড় শ্বাস নিয়ে তার ঠোঁটের মাঝে নিজের ঠোঁট বসিয়ে দিলো। নীলাভ কিস কম বাইট বেশি করছে।
তরুর পুরো শরীর কেপে উঠছে। সে নীলাভের দুই বাহুতে হাত দিয়ে তাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। তরুর চোখ থেকে আপনা আপনিই পানি গড়িয়ে পড়ছে।
“তোকে আমি শেষ করে দেবো লাভ। আমাকে যতোটা না কষ্ট দিচ্ছিস সব হিসেব নেবো আমি।”
পুরো ১০ মিনিট পর নীলাভ তরুকে মুক্ত করলো। তরু বড়বড় শ্বাস নিচ্ছে। নীলাভ অদ্ভুত দৃষ্টিতে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। তরু ঠোঁটে হাত দিয়ে দেখলো তার ঠোঁট ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।
তরু পাগলের মতো হাসতে লাগলো।
“খেয়ে ফেলবে আমাকে?”
তরু নীলাভকে ধাক্কা দিলো। নীলাভ নে'শা গ্রস্ত হওয়ায় সে খাটের উপর পড়ে গেলো। তরু নীলাভের উপরে শুয়ে পড়লো তারপর নীলাভের ঠোঁট কামড়ে ধরলো। নীলাভ তরুকে দূরে সরিয়ে না দিয়ে আরও চেপে ধরলো। আরও ১০ মিনিট পর তরু উঠে দাড়ালো। নীলাভ ঘন ঘন শ্বাস নিচ্ছে। তরু দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লো। নীলাভ ও তার পেছন পেছন সেখানে চলে গেলো। নীলাভ সেখানে যেতেই তরু তাকে ধাক্কা দিয়ে ওয়াশরুমের দেয়ালের সাথে আটকে ধরে তারপর শাওয়ার অন করে দেয়।
“তুমি বেশিই হট হয়ে গেছো। একটু ঠান্ডা হয়ে নেও।”
গায়ে পানি পড়তেই নীলাভ আরও জ্বলে উঠলো। সে নিজে ঘুরে গিয়ে তরুকে পানির নিচে দাড় করায়। তরু পুরো ভিজে গেছে। নীলাভ তরুর ঠোঁটে কিস করতে নিলে তরু শাওয়ার টা অফ করে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে যায়। এরকম করায় নীলাভ আরও অধৈর্য্য হয়ে যায় সে আবারও তরুর পেছনে ছুটে যায়। তরু পুরো রুমে ছোটাছুটি করছে। নীলাভ তাকে ধরতেই পারছেনা। একে তো নীলাভের ত্রানাকে এই মূহুর্তে ভীষণ দরকার। তার উপর ত্রানা শুধু পালিয়ে যাচ্ছে। নীলাভ ক্রমশই আরও বেশি অধৈর্য্য হয়ে পরলো, তরু ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে নীলাভের দিকে তাকিয়ে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে নীলাভকে ডাকলো।
নীলাভ সেদিকে না গিয়ে খাটের দিকে যেতে শুরু করলো। তরু বুঝতে পারলোনা যে নীলাভ কি করতে চাইছে। তরু অন্যদিকে তাকাতেই নীলাভ দৌড়ে গিয়ে তরুর হাত চেপে ধরলো। তারপর তরুকে টেনে এনে জোর করে তরুর ঠোঁটে কিস করলো। তরু বুঝতে পারলো নীলাভ অনেক বেশিই অধৈর্য্য হয়ে পড়েছে। এখন আর তাকে ক্ষেপানো ঠিক হবেনা। তরু আর কিছু না করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো নীলাভ তরুর ঘাড়ে কিস করতে চাইলে তরুর নেকলেসের কারণে বিরক্তবোধ করলো। নীলাভ একটানে সেটা খুলে কোথাও একটা ছুড়ে ফেলে দিলো।
তারপর পাগলের মতো তরুর ঘাড়ে আর গলায় কিস করতে লাগলো। নীলাভ মাঝে মাঝেই বাইট করছে। নীলাভ মুখ উঠিয়ে তরুর এয়ারিং গুলো খুলে ফেললো। তারপর তরুর কানে কিস করতে লাগলো। ২০ মিনিট এভাবেই কেটে গেলো তরু আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেনা, নীলাভ বুঝতে পেরে তরুকে কোলে তুলে নিলো লাইট অফ করে দিয়ে তরুকে খাটে শুইয়ে দিলো। তারপর নিজেও তরুর উপর শুয়ে পড়লো। তরুকে এলোপাতাড়ি কিস করতে লাগলো। তরুও শক্ত করে নীলাভকে জড়িয়ে ধরলো। এভাবেই ধীরে ধীরে নীলাভ তরুর মাঝে হারিয়ে গেলো।
*** (এখান থেকে পড়ুন)
ভোর 4 টার দিকে তরুর ঘুম ভাঙ্গে, সে আশেপাশে তাকিয়ে দেখে, সে নীলাভের বুকের মাঝে ঘুমিয়ে আছে। আর নীলাভ তাকে জড়িয়ে ধরে আছে। প্রতিদিন সে নীলাভকে অজ্ঞান করে নীলাভের পাশে ঘুমাতো। একদিনও নীলাভ তাকে জড়িয়ে ধরেনি। আজই প্রথম, তরু মাথা উচিয়ে নীলাভের মুখের দিকে তাকালো তারপর নীলাভের ঠোঁটে একটা কিস করলো। তরু নীলাভকে একটা বিশেষ ধরনের ড্রাগ দিয়েছে, যেটা খাওয়ার ফলে সকালে নীলাভের কিছুই মনে থাকবেনা। তরু নীলাভের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো। তারপর নিজের পোশাক পড়ে নিলো, রুমের সবকিছু আগের মতো করেই গুছিয়ে রাখলো। ফ্লোর থেকে এয়ারিং আর নেকলেস তুলে নিলো। আর নীলাভের কাপড় গুলো খাটের উপর তুলে রেখে দরজা লক করে দিয়ে চলে গেলো। যাতে নীলাভ সন্দেহ না করে।
এই রুমের এক্সট্রা চাবি সে সাবিনার রুম থেকে সংগ্রহ করেছিলো। এই বাড়িতে যতগুলো রুম আছে সবগুলো রুমের চাবি সাবিনা আর নীলাভের কাছে আছে। অবশ্য নীলাভের আলমারি বা নীলাভের রুমে থাকা সেই রুমটার চাবি সাবিনার কাছে নেই। তরু নিজের রুমে গিয়ে শাওয়ার নিয়ে বানীকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে যায়।
সকাল ৮ টার দিকে নীলাভের ঘুম ভাঙ্গে। সে ঘুম থেকে উঠে নিজের অবস্থা দেখে ঘাবড়ে যায়। তার শরীরে কাপড় নেই। নীলাভ পাশে তাকিয়ে দেখে পাশেই কাপড় পরে আছে। নীলাভের আবছা আবছা রাতের ঘটনা মনে পড়লো। তবে রাতে তার সাথে কে ছিলো সেটা সে বুঝতে পারছেনা। নীলাভ উঠে গিয়ে দরজা চেক করে দেখলো দরজাটা তো লক করাই আছে। সে ভাবলো হয়তো সে স্বপ্ন দেখেছে। সে শাওয়ার নিয়ে এসে বিছানার উপর বসলো। আজকে তার মনটাও ভালো লাগছে।
সে আজকে ঘুমের ঘোরেই তরুকে ফিল করেছে, সে নিশ্চিত আজকে স্বপ্নে তার সাথে তরুই ছিলো। ভাবতে ভাবতেই নীলাভ আনমনেই হেসে ওঠে। কিন্তু কিছুক্ষণ যেতেই তার চোখে মুখে গাম্ভীর্য ফুটে ওঠে।
নীলাভ বেশি কিছু না ভেবে ব্রেকফাস্ট করতে নিচে চলে যায়। এভাবেই বেশ কিছুদিন কেটে যায়। তরু প্রতিদিনই নীলাভের সাথে রাত কাটায়। আর নীলাভ প্রতিদিন সকালে উঠে সবকিছু ভুলে যায়। তবে নীলাভের এবার কিছুটা সন্দেহ হচ্ছে। প্রতিদিনই কেনো তার এমন স্বপ্ন আসছে?
আজকেই নীলাভ আর তরুর ছুটির শেষ দিন। কালকে থেকে তাদের আবারও ডিউটি আছে। সাবিনাসহ বাড়ির সবাই জানে যে তরু আর নীলাভ আলাদা-ই থাকে। এসব আর সাবিনার ভালো লাগছেনা আজকে সাবিনা ঠিক করলেন যে সে নীলাভের সাথে এই বিষয়ে কথা বলবেন। তরু বিকেল বেলা আভিক, বিভান আর লিজার সাথে দেখা করতে বেরিয়ে গেলো।
তারা ৩ জন একটা ক্যাফেতে বসে কফি খাচ্ছিলো।
লিজা বলল, “কিরে বিভান কেমন যাচ্ছে দিনকাল?”
“আমার আর দিনকাল, একটা মোম যে এতোদিন জ্বলতে পারে সেটা আমার ধারনারই বাইরে ছিলো।”
আভিক বলল, “তুই ওকে এখন রিজেক্ট করে দিলেই তো হয়। তা যদি না পারিস তাহলে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দে সিম্পল।”
“পারবেনা কারণ ও মোমোর প্রেমে অলরেডি হাবুডুবু খাচ্ছে।”
তরুর কথা শুনে সবাই অবাক চোখে বিভানের দিকে তাকায়। বিভান খ্যাঁক খ্যাঁক করে কেশে ওঠে। তরুর চোখ ফাকি দেওয়া অসম্ভব। কেউ না বুঝলেও তরু তাকে ঠিকই ধরে ফেলেছে। বিভান কথা ঘুরিয়ে বলল,
“তরুর ছুটি কিন্তু আর এক সপ্তাহ আছে।”
“হুম ওদের মৃ'ত্যুর কাউন্ট ডাউন অলরেডি শুরু হয়ে গেছে।”
তরু আরও কিছুক্ষন ওদের সাথে কথা বলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
,
,
,
সাবিনা নীলাভের রুমে গম্ভীর মুখ নিয়ে বসে আছে। নীলাভ ভ্রু কুচকে একবার মায়ের দিকে তাকালো।
“কিছু কি বলবে মা?”
“তুই কি ত্রানাকে মানতে পারবিনা নীলাভ?”
নীলাভ অন্যদিকে তাকিয়ে বললো।
“না, পারবোনা। সেটা তো প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি।”
“আমার চোখের দিকে তাকিয়ে একটা সত্যি কথা বলবি?”
নীলাভ সাবিনার চোখের দিকে তাকায়, “হ্যাঁ বলো, কি কথা?”
“তুই ওকে এখনো ভুলতে পারিস নি তাইনা রে?”
নীলাভ চমকে গেলো,
“ক,,,কাকে ভোলার কথা বলছো মা?”
“তরুলতা এহসান, তোর বোনের খু'নিকে। তুই এখনো যাকে ভুলতে পারিস নি।”
নীলাভ বিরক্ত হয়ে গেলো।
“মাহ তোমাকে বলেছিলাম যে ওই মেয়েটার নাম কক্ষনো আমার সামনে নেবে না।”
“কেনো? কেনো, তোর এতো খারাপ লাগছে?”
“কেনো লাগছে মানে? তুমি জানো না কেনো লাগছে? ওই মেয়েটা আমার বোনকে খু'ন করেছে। আর আমার কি ওর কথা শুনতে ভালো লাগবে নাকি?”
“আমাকে উল্টো পাল্টা বোঝাতে যাসনা নীলাভ। আমি তোকে পুরোপুরি না চিনলেও একটা ব্যাপারে খুব ভালো করেই জানি।”
নীলাভ অবাক চোখে মায়ের দিকে তাকালো।
“কি জানার কথা বলছো?”
“আমি জানি তুই তোর বোনের খু'নি তরুলতা এহসানকে এখনো ভালোবাসিস। আর সেই জন্যই তুই আয়ুকেও কখনো ভালোবাসতে পারিস নি আর এখন ত্রানাকেও মেনে নিতে পারছিস না।”
কথাটা শুনে নীলাভ বাজ পড়ার ন্যায় চমকে উঠলো, বসা থেকেও দাঁড়িয়ে গেলো। তার মা এই ব্যাপারে কি করে জানলো? যেই কথাটা সে নিজেও কখনো স্বীকার করতে চায়না সেই কথাটা তার মা জানে কি করে?
“ভাবছিস নিশ্চয়ই যে আমি কিভাবে জানলাম?”
সাবিনা শান্তস্বরে বললেন।
“তরুলতা মা'রা যাবার খবর পেয়ে তুই যখন উদ্ভ্রান্তের মতো করেছিলি, তখনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে তুই তরুলতাকে ভালোবাসতি। কিন্তু আমি এটা ভেবে এখনো অবাক হচ্ছি যে তুই কি করে নিজের বোনের খু'নিকে আজও ভালোবাসতে পারিস?”
নীলাভ নিজেকে প্রচন্ড দূর্বল অনুভব করছে। এই একটা প্রশ্ন সে নিজেকে হাজার বার করে গেছে। কিন্তু আজ অবধি কোনো উত্তর পায়নি। সে জানেনা, জানেনা কেনো সে তরুলতাকে এখনো ভালোবাসে। নীলাভ হাটু মুড়ে মায়ের সামনে বসে পড়ে। সাবিনা ছেলেকে জড়িয়ে ধরে।
“আজকে তোকে বলতেই হবে যে কেনো এখনো তুই তরুলতাকে ভুলে অন্য কাউকে মানতেই পারছিস না।”
নীলাভের চোখ জোড়া লাল হয়ে গেছে। বুকের ভেতরের তীব্র যন্ত্রণা টা বেড়েই চলছে। সে আর পারছেনা এই ব্যাথা সহ্য করতে। এর চাইতে বোধহয় মৃ'ত্যুই ভালো। সে অবশ্য বেচে আছে বলে মনেই করেনা। সে একটা জীবন্ত লাশ হয়ে বেচে আছে। সাবিনা নীলাভের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
“কি হলো বল।”
“আমি তরুকে ভালোবেসে ছিলাম। কিন্তু যেদিন ও আমারই চোখের সামনে আমার আপুর পেটে ছু*রি চালিয়ে দিয়েছিলো। সেদিন সেই ভালোবাসাই যেনো ঘৃনায় রুপ নিয়ে নিলো। আমি ভেবেছিলাম ওকে ঘৃনা করতে পারবো। আমি ওকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আয়ুকে বিয়ে করবো বলেও প্রতিজ্ঞা করে বসেছিলাম। রাগের বশে ওই রকম একটা প্রতিজ্ঞা করে ফেলেছিলাম আমি। সেদিন যখন শুনলাম তরু পুলিশের গুলিতে মা'রা গেছে সেদিনই বুঝে গিয়েছিলাম তরুকে আমি ঘৃনা করতে পারিনি। তখন সেটা ঘৃনা ছিলোনা সেটা ছিলো আমার রাগ আর অভিমান। ও তখনো আমার কাছে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর মতোই নিষ্পাপ ছিলো। সেদিন আমিও মৃ*ত্যু যন্ত্রণা উপলব্ধি করেছিলাম মা। তরু তো সেদিনই ম'রে গিয়েছিলো কিন্তু আমি বারবার ম'রেছি। প্রত্যেকটা দিন ম'রেছি। একটা সময় পর আমার নিজের উপর নিজেরই রাগ হতো যে আমি কি করে আপুর খু'নিকে এখনো ভালোবাসতে পারি। বিশ্বাস করো মা। আমি খুব করে চাইতাম ওকে ঘৃনা করতে কিন্তু পারিনি কক্ষনো পারিনি। একটা সময় পর ভাবলাম আয়ুর সাথে মিশে আয়ুকে ভালোবাসার চেষ্টা করে তরুকে ভুলে যাবো কিন্তু সেটাও পারিনি। তরুকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আয়ুকে বিয়ে করবো ভেবেছিলাম কিন্তু পরবর্তীতে তরুর পরিবর্তে সেই কষ্ট আমাকেই পেতে হয়েছে। আয়ুকে এক মূহুর্তের জন্যও ভালোবাসতে পারিনি আমি।”
নীলাভের চোখে পানি। সে দ্রুত হাতে চোখ দুটো মুছে নিয়ে পুনরায় বলতে লাগলো।
“তরুকে ঘৃনা করার শত চেষ্টা করার পরেও আমি যখন ঘৃনা করতে পারলাম না। তখন থেকে নিজেকেই ঘৃনা করতে লাগলাম। বারবার নিজেকেই অপরাধী বলে মনে হতো। তুমি জানো মা আমি এই অপরাধ বোধে অনেকবার নিজেকে শেষ ও করে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি কেনো জানো? এতে আমি পর্যাপ্ত শাস্তি পাবোনা। আমার শাস্তি একটাই, যে আমি এভাবেই তিলে তিলে নিজেকে কষ্ট দিয়ে দিয়ে মা*রবো। নিজে যেগুলোতে বেশি কষ্ট পাই, যেগুলো অপছন্দ করি, সেগুলোই বেশি বেশি করে করবো। আর এটাই আমার শাস্তি। জানোতো মা তরু আমাকে অনেক ভালোবাসতো। আমি যদি এভাবে শাস্তি পাই তাহলে তরুও আমার সাথে সাথেই শাস্তি পাবে। তরুও যেখানে আছে ভালো নেই মা। কারণ ওর লাভ ভালো নেই।”
নীলাভ কাদছে সাবিনাও কাদছে। দরজার আড়ালে লুকিয়ে থাকা তরুর চোখ থেকেও অজান্তেই একফোটা পানি গড়িয়ে পড়লো। তরু অনেক আগে থেকেই এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের কথা শুনেছে। সাবিনা নীলাভের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন।
“তুই জানিস ত্রানার সাথে আমি তোকে জোর করে কেনো বিয়ে দিয়েছি?”
নীলাভ চোখ মুছে সাবিনাের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায়।
“সেদিন যখন তুই আমার ঘুমিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করছিলি। আমি সেটা বুঝতে পেরেছিলাম, ত্রানার হাতের ক্ষতটা আমিও লক্ষ্য করেছিলাম সেদিন। আমি ঘুমিয়ে যাওয়ার পর তুই যখন ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে ওর ঘরে চলে গেলি। আমি সবটাই লুকিয়ে দেখেছিলাম। অবশ্য তার আগে থেকেই ত্রানাকে আমার পছন্দ ছিলো। কিন্তু সেদিন যখন ওর প্রতি তুই এতো কেয়ারিং সেটা জানতে পারলাম সেদিনই ভেবে নিয়েছিলাম যে ত্রানাকেই তোর বউ বানাবো। কিন্তু তুই যে ত্রানাকেও মানতে পারবিনা সেটা জানলে তোকে আমি জোর করতাম না। শুধু শুধু মেয়েটা এর মাঝে কষ্ট পাচ্ছে।”
“জানোতো মা, আমি মনে হয় পাগল হয়ে যাচ্ছি।”
“কেনো? হঠাৎ এভাবে বলছিস কেনো?”
“আমি না ত্রানার মাঝে তরুকে খুঁজে পাই। আমি যতবার ত্রানাকে দেখি ততবারই আমার তরুর কথা মনে পড়ে যায়।”
“তার মানে তো তুই চাইলেই ত্রানাকে ভালোবাসতে পারবি।”
“আমি ভালোবাসতে পারবো কিন্তু ত্রানাকে নয়, ওর মাঝে আমি যেই তরুকে দেখতে পাই তাকে। আমি ওনার জীবন নষ্ট করতে চাইনি মা। উনি কেনো যেচে পড়ে আগুনে ঝাপ দিলেন? আমি ওনার সাথে অনেক খারাপ আচরণ করতাম যাতে উনি আমাকে দেখতে না পারে কিন্তু তাও উনি আমাকে ভালোবাসে।”
“তুই জানিস যে ত্রানা তোকে ভালোবাসে?”
“হ্যাঁ, উনি সবসময় আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। আমাকে বোঝার চেষ্টা করে। আমার জন্য চিন্তা করে, আমাকে ভালোও রাখতে চায়। আবার আমার সাথেও থাকতে চায়। আমার ভালোবাসাও চায়। এসব দেখে যে কেউ-ই বুঝতে পারবে যে উনি আমাকে ভালোবাসে। আর ওনার এই ধরনের বিহেভিয়ারের মাঝেই আমি তরুকে খুঁজে পাই।”
“তুই তাহলে ত্রানার সাথে একটু ভালো আচরণ করে দেখনা। যদি তুই ওকে ভালোবাসতে পারিস। ত্রানাও যেহেতু তোকে ভালোবাসে সেহেতু একবার অন্তত তুই ওকে ভালোবাসার চেষ্টা করে দেখ।”
“আমি ওনাকে ভালোবাসতে পারলেও ত্রানা হিসেবে নয় তরু হিসেবে ভালোবাসতে পারবো। যেটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয় মা। আমি কষ্ট পেতে পেতে ম'রে গেলেও তরু হিসেবে ওনাকে ভালোবাসতে পারবোনা। তাহলে আমি আপুকে কিভাবে ফেস করবো? সেকি আমাকে বলবেনা? যে তুই একটা স্বার্থপর ভাই। নিজের বোনের খু'নিকে ঘৃনা তো করতেই পারিস নি উল্টো তাকে মনে করেই অন্য একজনকে ভালোবাসিস।”
সাবিনা কি বলবেন বুঝতে পারছেন না এতোদিন মনে করতেন তার ছোটো ছেলেটাই অনেক বেশি জটিল কিন্তু এখন বুঝতে পারছেন যে নীলাভের পরিস্থিতি টাই জটিল। সে নিজে ত্রানার সাথে নীলাভের বিয়ে দিয়ে বিষয় টা আরও জটিল করে ফেলেছে।
“মা আমি আর পারছিনা বিশ্বাস করো। আমি ওনার প্রতি না চাইতেও দূর্বল হয়ে পরছি। আমার মন শুধু এটাই মেনে নিতে চায় যে উনিই আমার তরুলতা। আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি মা। প্লিজ আমাকে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেও।”
তরু আর এসব কথা সহ্য করতে পারলোনা। নিজের রুমে চলে গেলো।
চলবে,