ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমি তরুলতা

৩৩তম পর্ব

লেখক: সোফিয়া সাফা

#আমি_তরুলতা (৩৩)

#সোফিয়া_সাফা

“আপনি আমাকে ছুয়ে কথা দিন যে আপনি বেবিটা এবো*রশন করবেন না বা বেবির ক্ষতি হবে এমন কিছুই করবেন না।”

তরু একবার নীলাভের দিকে তাকালো। নীলাভের চুলগুলো এলোমেলো ছিলো। তরু হাত দিয়ে চুলগুলো ঠিক করতে করতে বললো।

“আজকের দিনের জন্য কথা দিচ্ছি। তবে সামনের দিনের গ্যারান্টি দিতে পারছিনা।”

বলেই তরু বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো। নীলাভ আর তরুকে আটকালো না। কারণ তরুকে সব বিষয়ে জোর করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। অবশ্য সে জানে ত্রানা তাকে ভালোবাসে তাই তাকে দেওয়া কথা অবশ্যই রাখবে। ত্রানা যতই মুখে বলুক সে নীলাভকে ভালোবাসে না কিন্তু নীলাভ শুরু থেকেই তার প্রতি ত্রানার ভালোবাসা অনুভব করতে পারে। ত্রানার চোখে তার জন্য ভালোবাসা খুবই স্পষ্ট আর স্বচ্ছ। হয়তো সে কখনো ত্রানাকে ভালোবাসতে পারবেনা জেনে ত্রানা এখন তাকে ইগনোর করছে। কিন্তু তার প্রতি ভালোবাসা হারিয়ে যায়নি। ভালোবাসা হারানোর জিনিস নয়। সেটা তার থেকে ভালো আর কেইবা জানবে? ভালোবাসা এমন একটা অনুভূতি যা দিনদিন গভীর থেকে গভীরতম হতে থাকে।

নীলাভ নিজের রুমে এসে একটা ছবির এলবাম হাতে নিলো যেটা সে কয়েকদিন আগেই সাবিনার কাছ থেকে এনেছে। তাদের বিয়ের এলবাম, নীলাভ ছবি গুলোর দিকে তাকিয়ে ভাবে।

“আপনার চাহনি, আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যবহার একদম আমার তরুর মতো। আচ্ছা আপনি কি কোনোভাবে আমার তরু হতে পারতেন না?”

নীলাভ নিজের ভাবনায় নিজেই অবাক হলো।

“হলেই বা কি হতো আমি কখনোই আপনাকে আকড়ে ধরতে পারতাম না। কারণ আমার তরু আমার জন্য নিষিদ্ধ, ওর প্রতি আমার ফিলিংস গুলোও নিষিদ্ধ। ভবিষ্যতে হয়তো আমার সন্তানের মা হিসেবে আপনাকে আমার জীবনে জায়গা দিতে পারবো। কিন্তু ত্রানা হিসেবে কখনোই ভালোবাসতে পারবোনা। ভালোবাসা বিহীন আমার জীবনে থেকে যেতে আপনি রাজী হবেন তো? আচ্ছা যদি তরু ভেবে কখনো জড়িয়ে ধরতে চাই। আপনি বাধা দেবেন নিশ্চয়ই? আমি কি করবো বলুন আপনার মাঝে আমি আমার তরুকে খুঁজে পাই।”

নীলাভ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

,

,

,

তরু কার ড্রাইভ করে কোথাও যাচ্ছিলো। তখনই সে লক্ষ্য করে কয়েকটা বাইক তার পিছু নিচ্ছে, তরু একটা বাকা হাসি দিয়ে কার টা আরও জোরে চালাতে লাগলো ২০ মিনিট পর তরু একটা নির্জন জায়গায় গিয়ে গাড়িটা থামিয়ে একটা মাক্স আর লোহার শেকল বের করে। মাক্স টা পড়ে শেকলটা হাতে নিয়ে গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। গুন্ডা গুলোও বাইক থেকে নেমে তার দিকে এগিয়ে আসে। তারা ১০ জন আর তরু একা। এটা তরুর কাছে নতুন বিষয় নয় বিয়ের পর থেকেই বাইরে বের হলে তরুর উপর এভাবেই হামলা হয়। তরু নামতেই লোকগুলো তরুকে ঘিরে ফেলে তাদের হাতে লাঠি আর বড় বড় ধারালো অস্ত্র ছিলো। তাদের মধ্যের একজন এগিয়ে এসে বলে।

“স্যারের PA কে ছেড়ে দে নইলে এখানেই তোকে পু'তে ফেলবো।”

তরু মুখে কিছু না বলেই হাতের শেকল টা ঘুরিয়ে লোকটার গলা প্যাচিয়ে ধরে আশেপাশের গুন্ডা গুলো তরুর দিকে এগিয়ে যেতেই তরু গুন্ডাটার হাতে থাকা লাঠিটা দিয়ে এক এক করে সবগুলো গুন্ডাকে সাইজ করে। এভাবেই মা'রামা'রির এক পর্যায়ে গুন্ডাগুলো ক্লান্ত হয়ে বাইকে চড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তরু গাড়িতে উঠে ফাস্ট এইড বক্স টা বের করে, ফাইটিংয়ের মাঝে তার ডান বাহুতে ছু*রির আচড় লেগেছিলো। ক্ষতটা বেশি গভীর না হওয়ার পরেও তরু একটা ব্যান্ডেজ প্যাচিয়ে নিলো, তারপর গাড়িটা উল্টো ঘুরিয়ে তাদের সিক্রেট বাংকারে চলে এলো।

বাংকারে আগে থেকেই লিজা, বিভান আর আভিক ছিলো। তারা এগিয়ে এসে বলে

“বরাবরের মতোই লেইট।”

তরু তার কথায় পাত্তা না দিয়ে সামনে এগিয়ে যায় আর নিকোলাসের দিকে ইশারা করে কিছু একটা চায়। নিকো না বুঝেই একটা ওয়াইনের বোতল এগিয়ে দেয়। যা দেখে তরু রাগী চোখে তাকায়। তরুকে রেগে যেতে দেখে নিকোলাস থতমত খেয়ে যায়।

“ওয়াইন দিতে বলিনি গান দে।”

নিকোলাস ওয়াইনের বোতল টা নিয়ে, তরুর হাতে গান দিতেই তরু কিছু একটা ভেবে পুনরায় গানটা নিকোলাসের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,

“আমার হয়ে তুই নিজেই এগিয়ে গিয়ে দুটোর মাথা বরাবর শ্যুট করে দে।”

নিকোলাস প্রথম বুঝতে না পারলেও তরু ইশারা করা মাত্রই সে তরুর কথামতো সামনে বেধে রাখা দুজনের কপালে গান ঠেকিয়ে পরপর ২ বার শ্যুট করে দিলো। যা দেখে আভিক এগিয়ে এসে বললো,

“এই নিকোলাস এটা কি করলি? এতো সহজ মৃত্যু?”

তরু বলল, “এটা করতে আমিই ওকে বলেছি আজকে আমি অনেক বেশি ক্লান্ত। বেশি কিছু করার মুড নেই।”

নিকোলাস ইশারা করতেই কয়েকজন জল্লাদ এসে লোকদুটোকে নিয়ে যায়। তরু সহ বাকিরা সেখানে থাকা চেয়ারে বসে পড়ে।

লিজা বলল, “আমার ভাবতে অবাক লাগে পুলিশের লোক হয়ে তারা দুজন কিভাবে সাফেদ শাহরিয়ারের মতো একটা ক্রিমিনালের সাথে হাত মেলাতে পারে?”

আভিক বলল, “হুম ওরা দুজন পুলিশ হওয়া শর্তেও কিভাবে নিজেদের দেশ থেকে নারী আর শিশু পাচারে সাহায্য করতে পারে?”

তরু বলল, “সবই টাকা বুঝলি। টাকার জন্যই করেছে এমন। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। সাফেদ শাহরিয়ারের PA এর কি অবস্থা? শা'লা কিছু বলেছে?”

বিভান বলল, “নারে শা'লা মাল ই একটা এতো মা'র খাওয়ার পরেও কোনো ইনফরমেশন দেয়নি।”

আভিক বলে ওঠে, “হুম আমার তো ইচ্ছা করছিলো শা'লাকে মে'রেই ফেলি। কিন্তু ওকে মে'রে ফেললে সাফেদ শাহরিয়ারের কাছে পৌছাতে টাইম লাগবে। ও এমন অনেক কিছু জানে যেগুলো আমাদের কাজে লাগবে।”

তরু কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, “ওকে একটু সুস্থ হতে দে তারপর আমি নিজেই ওর থেকে সব ইনফরমেশন কালেক্ট করবো।”

তরু মাথায় হাত দিয়ে বসে ছিলো। মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা করছে। লিজা চিন্তিত কন্ঠে শুধায়, “তুই কি অসুস্থ?”

“নো জাস্ট হেডেক।”

বিভান জিজ্ঞেস করে, “কি খাবি বল? ওয়াইন না বিয়ার?”

“কিছুই না।”

কথাটা শুনে ৩ জনই অবাক হয়ে গেলো।

আভিক অবাক হয়ে বলল, “তুই খাবিনা বলছিস?”

তে ভ্রু নাচিয়ে বলে, “সন্দেহ আছে?”

লিজা হাত উঁচিয়ে বলল, “প্লিজ তোরা আলফাকে বিরক্ত করিসনা।”

তরু মাথা তুলে নিকোলাসের দিকে তাকায়,

“নিকো নিকো? কাম হেয়ার।”

নিকোলাস তরুর দিকে এগিয়ে যায়।

“আমার মাথাটা ম্যাসাজ করে দে।”

নিকোলাস গিয়ে তরুর মাথা টিপে দিতে লাগলো।

,

,

,

বিকাল বেলা তরু বাড়িতে প্রবেশ করে। বাড়িতে সাবিনা, হানা, নাজমুল আর নীলাভ আছে। নাহিদের জারাকে দিয়ে এসে পড়ার কথা থাকলেও জারা কালকেই এসে পড়বে। যার জন্য নাহিদ একেবারে তাকে নিয়েই ফিরবে। সাবিনা আর হানা ড্রইংরুমে বসে গল্প করছিলেন। তরুকে বাড়িতে ঢুকতে দেখে সাবিনা তাকে ডাক দিলেন। তরু বিনাবাক্যে সাবিনার পাশে এসে বসলো। “কোথাও গিয়েছিলে?”

“হুম বন্ধুদের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম।

“ওহ, হানা ত্রানার খাবারটা ওকে দেও তো।”

“জ্বি আপা দিচ্ছি, আসো মামনি।”

তরু উপায় না পেয়ে খেতে চলে যায়। কিন্তু খাবার দেখেই তার গা গুলিয়ে আসছিলো তাই সে মুখে না দিয়েই সব খাবার ফেলে দিলো তারপর নিজের রুমে চলে গেলো। তরু নিজের রুমে ঢুকতেই নীলাভ তার রুমে আসে, “আপনি? এখানে কি করছেন?”

নীলাভ তরুর হাত ধরে তরুকে টেনে নিজের সামনে এনে দাড় করায়। তারপর তরুর পেটে হাত দিয়ে কিছু একটা চেক করে। তরু তো সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

“বেবিটা ঠিক আছে তো?”

“জানিনা।”

নীলাভ তরুর মুখ উঁচু করে বলে, “দেখি হা করুন।”

তরু নীলাভের কথায় অবাক হয়ে যায়।

“কি হলো হা করুন, দেখি।”

তরু নীলাভের কথায় রোবটের মতো হা করলো।

নীলাভ স্মেল নিয়ে দেখলো যে এলকো*হল বা সিগারেটের গন্ধ আসছে কিনা। তরু তো একদৃষ্টিতে নীলাভের দিকে তাকিয়ে আছে, আজকে বহুদিন পর নীলাভকে মন ভরে দেখলো সে। নীলাভ বিষয় টা লক্ষ্য করলো কিন্তু কিছুই বললোনা।

“থ্যাঙ্কিউ কথা রাখার জন্য।”

“হোয়াট এভার যান এখন।”

“আপনিও যাবেন আমার সাথে।”

“কোথায় যাবো?”

“আমার রুমে, এখন থেকে আপনি সেখানেই থাকবেন।”

“নো, আমি যতদিন এইবাড়িতে আছি এই রুমেই থাকবো।”

“আমার আপনাকে সুবিধার মনে হয়না। আপনি যদি রাতে ওসব খান তখন?”

নীলাভের কথা শুনে তরু অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকালো।

“আপনি একদিনে এতোটা চেইঞ্জ কি করে হয়ে গেলেন? আমার সাথে যেচে পড়ে এতো কথা বলতে আসছেন কেনো?”

“আপনার সাথে থোড়িই বলছি আমি তো নৌশি খানের সাথে বলছি।”

তরু অবাক চোখে বললো, “হু ইজ নৌশি খান?”

“আমার মেয়ে।”

“আপনি কিভাবে জানলেন যে মেয়ে হবে?”

“হুম সেটাও তো ঠিক? ছেলেও হতে পারে। উম ছেলে হলে নাম রাখবো নীড় খান। কেমন?”

তরু বেশ বিরক্ত হলো।

“এসব বাদে কিছু বলার থাকলে বলুন।”

“হুম আপনি আমার রুমে চলুন।”

“নো আপনি যান এখন আমি ঘুমাবো। আমি অনেক ক্লান্ত।”

কথাটা বলতে দেরি, নীলাভের তরুকে কোলে তুলতে দেরি হলোনা। “হোয়াট দ্যা fu**”

“ভালো কথায় না ধরলে এভাবেই ধরাতে হয়।”

বলেই নীলাভ তরুকে নিজের রুমে নিয়ে যায়। তরু হাত পা ছোড়াছুড়ি করছে নামার জন্য। কিন্তু নীলাভ তরুকে তার রুমে নিয়ে গিয়ে তবেই ছাড়লো।

“আপনি অনেক হাল্কা। ঠিকমতো খাবার খাচ্ছেন না মনে হয়।”

কথাটা শুনে তরুর রাগ উঠলো।

“আমি ডায়েটে আছি।”

“no diet fiet only eating & sleeping. Then again eating & again sleeping. আপনি বসুন আমি খাবার নিয়ে আসছি। তারপর খেয়ে ঘুমাবেন।”

নীলাভ তরুর জন্য খাবার নিয়ে আসলো। তরু বিছানার উপর বসে আছে। নীলাভ তরুর সামনে খাবারের প্লেট এগিয়ে দিয়ে বললো, “নিন খেয়ে নিন।”

“আমি কিছুক্ষণ আগেই খেয়েছি।”

“আপনি খাননি। সব ফেলে দিয়েছেন।”

“মানেহ?”

“মানে আমি দেখেছি আপনি সব খাবার ফেলে দিয়েছেন।”

“আমি খাবোনা।”

নীলাভ কিছু না বলেই নিজের হাতে খাবার তুলে তরুর সামনে ধরলো। তরু এবার আর না করতে পারলোনা। নীলাভ একপ্রকার জোর করে পুরোটা খাবার খাইয়ে দিলো। “এখন আপনি good girl. নিন এবার রেস্ট নিন।”

নীলাভ চলে যেতে নিলে তরু ডাক দিয়ে বলে,

“আপনি খেয়েছেন?”

“না, এখন গিয়ে খাবো।”

সন্ধ্যা হয়ে গেছে। তরু শুয়ে ছিলো কিন্তু তার কিছুতেই ঘুম আসছেনা। নীলাভ নিজের রুমে এসে দেখলো তরু বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করছে। নীলাভ এসে তরুর পাশে বসে, “ঘুম না আসলে, রেডি হয়ে নিন।”

তরু উঠে বসে বলে, “কিসের জন্য?”

“ঘুরতে যাবো।”

তরু কথা না বাড়িয়ে উঠে রেডি হয়ে নিলো। তার ভালো লাগছিলো না। নীলাভ একা বের হতেও দেবেনা, তার চাইতে নীলাভের সাথে যাওয়াই ভালো।

তরু আর নীলাভ গাড়িতে উঠে বসলো, নীলাভ ড্রাইভ করছে আর তরু জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ করেই নীলাভ বলে উঠলো।

“আচ্ছা আপনি সেদিন আমার আলমারিতে অনেকগুলো ছবি দেখেছিলেন তাইনা? সেগুলো নিয়ে কখনো প্রশ্ন করলেন না কেনো?”

তরু নীলাভের দিকে তাকালো, “আমি সেই সম্পর্কে সবকিছুই জানি, তাই আর প্রশ্ন করার প্রয়োজন হয়নি।”

নীলাভ একটা শ্বাস ছেড়ে বললো, “আপনি সেদিন আমার আর মায়ের কথাগুলো শুনেছেন তাইনা?”

তরু কিছুই বললোনা, নীলাভ একটা পার্কের সামনে গিয়ে গাড়িটা থামালো। তরু আর নীলাভ গিয়ে পার্কে থাকা একটা বেঞ্চিতে বসলো। আজকের আবহাওয়া ঠান্ডা। একটু পরপর ঠান্ডা হাওয়া শরীর ছুয়ে যাচ্ছে। আকাশ ভর্তি তারার মেলা,

নীলাভ হঠাৎ করেই তরুর হাত ধরে বললো।

“আমার এই এক জীবনে আমি তরুকে ছাড়া আর কাউকেই ভালোবাসতে পারিনি আর ভবিষ্যতেও পারবোনা। কিন্তু আপনাকে দেখলেই আমার তরুর কথা মনে পড়ে যায়।”

“আমি জানি, এটাও জানি যে আপনি তরুকেও ভালোবেসে ভালো নেই। ওকে ঘৃনা করতে পারেন না বলেই নিজেকে ঘৃনা করেন। আর আমার সাথেও বাজে বিহেভ করেন কারণ, আমার সাথে তরুর মিল আছে। তাইতো?”

“হুম শুনতে ভালো না লাগলেও এটাই সত্যি।”

“তরু আপনার বোনকে কেনো খু'ন করেছিলো?”

কথাটা শুনে নীলাভ অবাক চোখে তাকালো।

“আমি জানিনা। আমার বোন ওকে খুব একটা দেখতে পারতোনা হয়তো সেই জন্যই রাগের বশে করে ফেলেছিলো।”

“কখনো জানার চেষ্টা করেছেন? আপনি না সি আইডি অফিসার, কখনো আসল কারণ খুঁজে বের করতে চেয়েছেন? একটা ১২ বছরের মেয়ে শুধু শুধু রাগের বশে কেনো খু'ন করবে? এই প্রশ্ন টা একবারও আসেনি মনে?”

নীলাভ একটা দ্বীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে এসব নিয়ে কখনো ভাবেনি। কারণ তরুর কথা মনে হলেই তার বুকে প্রচন্ড ব্যাথা হতো। এই কারণে সে সর্বাবস্থায় তরুকে ভুলে থাকার চেষ্টা করে গেছে।

“বাদ দিন, কি খাবেন বলুন?”

“কিছুনা, আমি বাড়িতে যাবো।”

বলেই তরু গিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো। নীলাভ ও আর কথা না বাড়িয়ে তরুকে নিয়ে বাড়িতে চলে এলো।

রাতের বেলা সবাই খাবার খেয়ে যার যার রুমে চলে যায়। নীলাভ ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ছিলো। তরু গিয়ে তার পাশে দাঁড়ায়, “কি ভাবছেন?”

“কিছুনা। আপনি খাটে ঘুমান গিয়ে, আমি সোফায় ঘুমাতে পারবো।”

তরু খাটে গিয়ে শুয়ে পড়লো। কিছুক্ষণ পর নীলাভ ও সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়লো।

রাত ১ টা তরুর কিছুতেই ঘুম আসছিলো না। সে ভীষণ করে চাইছে। নীলাভকে গিয়ে বলে দিতে যে সেই তরু। তরু ভাবছে যে কিভাবে কি করবে। এসব ভেবে সে নিজেই বিরক্ত হচ্ছে। সেই সাথে মাথাও ব্যাথায় ফেটে যাচ্ছে। তরু উঠে নিজের রুমে যেতে নিলো কিন্তু দরজা ভেতর থেকে লক করা।

“শিট আমার কাছে তো এক্সট্রা চাবি ছিলো কিন্তু সেটা তো পাশের রুমে রেখেছি।”

“কোথায় যাচ্ছেন?”

পেছন থেকে নীলাভের কন্ঠ শুনে তরু থেমে গেলো। নীলাভ উঠে এসে তরুর সামনে দাড়ালো।

“ঘুম আসছেনা। স্লিপিং পিল খেতে হবে।”

“ডাক্তার ওসব খেতেও বারণ করেছে।!

তরু এবার বেশ বিরক্ত হলো। সে আর এসব নিতে পারছেনা। এমনিতেই তার জীবনে ঝামেলার অভাব নেই, এখন আরও বেশি ঝামেলায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছে, “এভাবে না ঘুমিয়ে থাকলে আমি মা'রা যাবো। তখন আপনার fetus টিও বাচতে পারবেনা।”

“এসব নামে ডাকতে নিষেধ করেছি।”

“দরজা খুলে দিন, মাথা ব্যথা করছে।”

“নাহ, আপনি শুয়ে পড়ুন আমি আপনার মাথা ম্যাসাজ করে দিচ্ছি।”

বলেই নীলাভ তরুর হাত টেনে ধরে তরুকে খাটে শুইয়ে দিলো তারপর তরুর মাথা টিপতে লাগলো। বেশ কিছুক্ষণ কেটে যায় কিন্তু তরু ঘুমাতে পারেনা।

“ঘুমাচ্ছেন না কেনো? কি প্রবলেম?”

“এভাবে ঘুম আসবেনা।”

“কিভাবে আসবে?”

তরু নীলাভের দিকে তাকিয়ে বললো,

“আপনি যদি সত্যিই চান যে আমি ওষুধ ছাড়াই ঘুমিয়ে যাই। তাহলে আমাকে আপনার বুকের মাঝে ঘুমাতে দিন।”

তরুর কথা শুনে নীলাভ থমকে গেলো। কিছুক্ষণ নীরব থেকে তরুর পাশেই শুয়ে পড়লো।

“নিন এবার ঘুমান।”

তরু নীলাভের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলো। নীলাভ সটান হয়ে শুয়ে আছে। তার হার্টবিট বেড়ে গেছে। তরু নীলাভের বুকে মাথা রেখে সেই শব্দ শুনতে লাগলো। নীলাভ মৃদু স্বরে বলল,

“একটা সত্যি কথা বলবেন?”

“হু? বলবো।”

“আপনি আমাকে এতো ভালোবাসেন কেনো? আমি তো আপনাকে সবসময় উপেক্ষা করেছি হার্ট করেছি।”

“কে বলেছে আমি আপনাকে ভালোবাসি?”

“মিথ্যা বলবেন না বলেছেন। আপনি আমাকে ভালোবাসেন আর সেটা স্বীকার করুন।”

“করলাম, হ্যাঁ ভালোবাসি আপনাকে। আর ভালোবাসতে কোনো কারণ লাগেনা। যদি কারণ খুজতে যান পাবেন না। তবে আপনার মাঝে আমি শান্তি খুঁজে পাই, আপনিই আমার পিছুটান। আমার অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ সব আপনাকে ঘিরেই। আপনিই আমার অক্সিজেন, আমার হার্টবিট, আমার লাভ। আপনি যেই অধ্যায় থেকে আমার জীবন থেকে আলাদা হয়ে যাবেন। সেই অধ্যায় আমার জীবনের শেষ অধ্যায় হবে।”

কথাগুলো শুনে নীলাভ স্তব্ধ হয়ে গেলো। ত্রানা তাকে এতোটা ভালোবাসে?

“আপনি আমাকে এতো ভালোবেসেও কেনো ডিভোর্স দিতে চাইছেন?”

“কারণ তুমি আমাকে বলেছিলো। কাউকে ভালোবাসা মানে তাকে ভালো রাখার চেষ্টা করা, তার কষ্টে কষ্ট পাওয়া আর তার জন্য সবকিছু করতে পারা।” (মনে মনে)

চলবে,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন