#আমি_তরুলতা (৩২)
#সোফিয়া_সাফা
(ধামাকা পর্ব—The Good News)
সন্ধ্যা ৭ টা তরু বাড়িতে ঢুকতেই সাবিনা গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, “কোথায় চলে গিয়েছিলে তুমি?”
“আমি তো ড্যাডের কাছে গিয়েছিলাম।”
“নীলাভ বা আমাদের কাউকে বলে যেতে পারতেনা?”
তরু ভ্রু কুচকে তাকালো।
“আ,,, নীলাভ কয়েকবার কল করে জিজ্ঞেস করেছিলো যে তুমি বাড়িতে এসেছো কিনা।”
“ওহ”
তরু নিজের রুমে চলে যায়। এভাবেই কেটে যায় আরও ৩ সপ্তাহ। সি আইডি হওয়ায় নীলাভ সারাক্ষণই কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে আর তরুও অফিস, বাড়ি আর বাইরে সব দিকেই সামাল দিচ্ছে। তবে ইদানীং সে একটু বেশিই ক্লান্ত বোধ করে। সে জানে কেনো তার এরকম টা হচ্ছে। তবে সে এখনো সিওর নয়।
আজকে শুক্রবার। সবাই বাড়িতেই আছে। তরু সকালে উঠে সবার জন্য ব্রেকফাস্ট রেডি করলো। জারার শরীর কয়দিন যাবত ভালো যাচ্ছেনা। সারাদিন শুয়ে বসেই থাকে। নাহিদ আজকে তাকে তার বাবার বাড়িতে রেখে আসবে কিছুদিনের জন্য।
ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে তরু কিছুই খেতে পারছিলো না শুধু বমি আসছিলো। নীলাভ সহ সবাই চুপচাপ খাচ্ছে, তরু খেতে না পেরে খাবার গুলো রেখে নিজের রুমে চলে যায়। সবাই দেখে কিন্তু কিছুই বলেনা। নীলাভ চুপচাপ খেয়ে ড্রইংরুমে বসে টিভি অন করে দেখতে লাগলো।
জারা ব্রেকফাস্ট করে রেডি হয়ে সবার থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো নাহিদও গেছে তার সাথে। তরু নিজের রুমে শুয়ে আছে। শরীর ভালো নেই তার। ভীষণ বিরক্ত লাগছে,
“উটকো ঝামেলা কাধে নিয়েছি। এখন কি আমার অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকার সময়? আজকে তো আমাকে যেতেই হবে।”
তরু ভাবলো একবার ডক্টরের কাছে যাবে। টেস্ট করে দেখা উচিৎ। তেমন কিছু হলেও সে এবো*রশন করে নেবে। সে তো নীলাভের সাথেই থাকবেনা। এই বাড়িতে আর মাত্র কিছু দিনের অতিথি সে। একবার নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে দিতে পারলেই সে অনেক দূরে চলে যাবে। বিডিতে আর কখনো পা রাখবে না। শুধু নীলাভের কষ্ট টা দূর করার জন্য আর ড্যাডের প্রতিশোধ টা নেওয়ার জন্যই সে এখানে আছে। তরু উঠে শাওয়ার নিয়ে রেডি হয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। উদ্দেশ্যে হসপিটাল, একদম শেষের সিড়িতে পা রাখতেই তার মাথা ঘুরতে শুরু করে। নীলাভ ড্রইংরুমের সোফাতে বসে বসে টিভি দেখছিলো। তরু আশেপাশে হাত নাড়িয়ে কিছু আকড়ে ধরতে চায়। কিন্তু ধারে কাছে কিছু না পেয়ে সেখানেই মাথা ঘুরে পড়ে যায়।
“ত্রানা”
নাজমুলের ডাক শুনে নীলাভ পেছনে ফিরে তাকায়। নাজমুল সিড়ি বেয়ে দ্রুত পায়ে তরুর দিকে এগিয়ে যায়। নীলাভও উঠে তরুর সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। সাবিনা নিজের রুমে ছিলো। সেও চেচামেচি শুনে ড্রইংরুমে আসে। “একি কি হয়েছে ত্রানার? পড়ে গেছে নাকি?”
নাজমুল বললেন, “ডাক্তারকে কল দিয়ে আসতে বল কুইক।”
নীলাভ একটা শ্বাস ছেড়ে ডাক্তারকে কল করলো। তারপর তরুকে কোলে তুলে তরুর রুমে নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দিলো। তরুর চোখেমুখে পানি দিলো কিন্তু তরুর হুশ এলো না।
,
,
,
ডাক্তার এসে তরুর চেক-আপ করেই বলে উঠলেন,
“আরে আন্টি আপনাদের তো খুশির উপর খুশির খবর।”
কথাটা শুনে উপস্থিত ৩ জনই হা করে চেয়ে রইলো।
সাবিনা বললেন, “কি খুশির খবর?”
“উনি মা হতে চলেছেন।”
কথাটা শুনে সাবিনা আর নাজমুল একত্রে নীলাভের দিকে তাকালো। নীলাভ তো হতভম্ব হয়ে ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে আছে।
“হোয়াট? what are you saying?”
“হ্যাঁ ভাই তোমার ওয়াইফ প্রেগন্যান্ট তবে ওনার বাড়তি কিছু টেস্ট করা প্রয়োজন। আর সেই টেস্ট গুলো করার পরই সবকিছু ডিটেইলসে জানা যাবে।”
কথাগুলো শুনে নীলাভ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলো। সাবিনা আর নাজমুল খবর টা জানতে পেরে অনেক খুশি হয়ে যায়। নাজমুল ডাক্তারকে এগিয়ে দিতে চলে যায়। আর সাবিনা মিষ্টি আনতে চলে যায়। তরুর এখনো জ্ঞান ফেরেনি। নীলাভ গিয়ে তরুর পাশে বসলো। আস্তে আস্তে তরুর পেটের উপর হাত রাখলো৷ তার হাত কাপছে। তখনই তরুর জ্ঞান ফেরে, চোখের সামনে নীলাভকে দেখে তড়িৎ গতিতে উঠে বসে।
“আপনি?”
নীলাভের চোখ রক্ত বর্ণ ধারণ করেছে, তরু উঠে যেতে নিলে নীলাভ তরুর হাত চেপে ধরে। তরু ছাড়াতে চাইলে নীলাভ আরও শক্ত করে চেপে ধরে। তরুকে কাছে টেনে এনে কঠিন গলায় বলে,
“কেনো করেছো এমন? বাচ্চাটা কার, এন্সার মি?”
নীলাভের প্রশ্ন শুনে তরু অবাক হয়ে যায়। তার মানে সে যা ভেবেছিলো তাই। সে প্রেগন্যান্ট, এটার থেকেও নীলাভের বলা কথাটা শুনে সে বিস্ফোরিত নয়নে নীলাভের দিকে তাকালো,
“কার মানে? obviously আপনার,”
তরুর কথায় নীলাভ একটু শান্ত হয়ে গম্ভীর গলায় বলে উঠলো। “কেনো এমনটা করলে আমার সাথে? তুমি জানো যে আমি তোমাকে মেনে নিতে পারবোনা তারপরেও এসবের মানে কি?”
তরু নীলাভের লিপসের উপর আঙ্গুল রেখে বলে,
“ইটস আ মিসটেইক সো ডোন্ট টেইক ইট সিরিয়াসলি।”
নীলাভ তরুর হাত সরিয়ে দিয়ে বলে,
“তুমি যেনে বুঝে করেছো সব। মিসটেইক নয় এটা,”
“জেনে বুঝে আপনার কাছে গিয়েছিলাম কিন্তু প্রেগন্যান্ট আমি জেনে বুঝে হইনি। so don’t blame me. আর এটা নিয়ে এতো ভাবার কি আছে? আমি আজকেই এবো*রশন করে নেবো।”
তরু নীলাভকে সরিয়ে দিয়ে উঠে হাটা ধরে। নীলাভ ফের তরুর হাত চেপে ধরে বলে।
“কি বললে? এবো*রশন মানে?”
“আপনি মূর্খ নন। এটার মানে জানেন আপনি।”
নীলাভ হেসে উঠলো। তরু তার হাসি দেখেই বুঝতে পারলো নীলাভ আবারও রেগে গেছে। সে তরুর বাহু চেপে ধরে বললো। “আপনি এবো*রশন করবেন না।”
“আমি আপনার মতামত জানতে চাইনি। বাচ্চা পালার মতো নন প্রফিট্যাবল প্রজেক্টে ইনভেস্ট করার মতো টাইম আমার হাতে নেই।”
“তাই নাকি? তাহলে বিয়ে করেছিলেন কেনো? আর আমার কাছেই বা গিয়েছিলেন কেনো?”
“আমার ইচ্ছা হয়েছিলো তাই গিয়েছি। আবার ইচ্ছা হলে আবারও যাবো। কারণ আমার অধিকার আছে আপনার উপর। এখন পর্যন্ত ইউ আর মাই হাজব্যান্ড।”
“ইয়াহ আপনিও আমার স্ত্রী সেই জন্যই বলছি বেবিটা থাকবে।”
তরু আড়চোখে নীলাভের দিকে তাকালো।
“শুনুন আমি আপনাকে ডিভোর্স দেবো। শুধুমাত্র কোর্টের থেকে ডিভোর্স এপ্রুভ করতে ৩ মাস সময় লাগে সেই জন্যই বাধ্য হয়ে আপনার সাথে আছি। অলরেডি বিয়ের ২ মাস হয়ে গেছে এখন ১ মাস বাকি আছে তারপরই আমি আপনাকে ডিভোর্স দিতে পারবো।”
নীলাভ স্তব্ধ হয়ে গেলো। ত্রানা এসব কি বলছে।
“তুমি তো আমাকে এই ব্যাপারে কিছুই জানাও নি।”
“কি জানাবো? আমিও জানি আপনিও ডিভোর্স চান। সেই জন্যই আপনাকে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন মনে করিনি। যদিও আপনার মতামতের কোনো মূল্য নেই আমি আপনাকে ডিভোর্স দেবো। আমিই আর আপনার সাথে থাকতে চাইনা। আপনাকে বিয়ে করা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো।”
নীলাভ আহত হলো। সে তরুর চোখে চোখ রেখে বললো, “আপনার সবচেয়ে বড় ভুল আমাকে ভালোবাসা ছিলো মিসেস জাহির খান।”
তরু নীলাভের হাত সরিয়ে দিয়ে বলল,
“আপনাকে কে বলেছে যে আমি আপনাকে ভালোবাসি? নাতো আপনি আমাকে ভালোবাসেন আর নাতো আমি আপনাকে ভালোবাসি। আমি মেনেও নিয়েছি যে আমি চ্যালেঞ্জে হেরে গেছি।”
তরু জানে সে মিথ্যা বলেছে, নীলাভও তাকে ভালোবাসে আর সেও নীলাভকে ভালোবাসে। কিন্তু যেই ভালোবাসা ভালো রাখতে জানেনা সেই ভালোবাসা তরু চায়না। তরু চায়না নীলাভ তাকে ভালোবাসার কারণে নিজেকে ঘৃনা করুক।
“ঠিকই বলেছেন। তবে আমি নতুন করে একজনকে ভালোবেসে ফেলেছি। আর তার মায়ায় আটকে গেছি।”
তরু নীলাভের কথায় অবাক হলো, “তাহলে তো ভালোই।”
“আপনি একদিন বলেছিলেন আমি নিজের পছন্দের জিনিসগুলো আকড়ে ধরার ক্ষেত্রে অনেক বেশিই ভীতু আর দূর্বল। আমি আজকে সেটা স্বীকার করে নিচ্ছি। তবে আপনি কি জানেন আমি কেনো সেই ক্ষেত্রে দুর্বল আর ভীতু?”
নীলাভ তরুর হাত ধরে বললো, “কারণ সেগুলোকে ভালোবাসা আমার জন্য নিষিদ্ধ ছিলো। আমি সেই জন্যই সেগুলো কখনো আকড়ে ধরতে পারিনি। বিবেকের কাছে পরাজিত হয়েছি বারবার। তবে এই প্রথম আমি এমন একটা জিনিসকে ভালোবাসতে পেরেছি যেই জিনিসটা নিষিদ্ধ নয়। আমি শক্ত করে তাকে আকড়ে ধরতে পারবো। আমি এবার কিছুতেই সেই জিনিসটা ছেড়ে দেবোনা। এবার আপনিও দেখবেন আমি আমার ভালোবাসার জিনিসটার জন্য কতদূর পর্যন্ত যেতে পারি।”
তরু নীলাভের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিলো।
“তাহলে তার হাত ধরুন গিয়ে। আমার হাত ধরছেন কেনো?”
“তার এখনো হাত পা হয়নি। তাই আপনার হাতই ধরতে হচ্ছে। নইলে আপনার হাত ধরার জন্য আমি ব্যাকুল নই।”
তরু অবাক চোখে নীলাভের দিকে তাকালো।
“আপনি fetus টির কথা বলছেন? যেটি কিনা এখনো পৃথিবীর আলোই দেখেনি। যাকে আমি এবো*রশন করে ফেলে দেবো?”
কথাটা শুনে নীলাভ তরুর হাতের কব্জি চেপে ধরলো।
“এই বাজে কথাটা আর একবারও বলবে না।”
“তার আগে আপনি ভাবুন যে আমাকে তুমি করেই বলবেন নাকি আপনি করেই বলবেন।”
“যখন যা ইচ্ছা হবে তাই বলে ডাকবো। এটা কোনো ব্যাপার নয়।”
“আপনার কথা বলা শেষ হয়ে গেলে সরে দাড়ান আমাকে বাইরে যেতে হবে কাজ আছে।”
“নো আপনি এখন আমার সাথে ডাক্তারের কাছে যাবেন।”
“হ্যাঁ যাবোতো তবে এবো*রশন করতে।”
“বেশি কথা বললে হাত পা বেধে রাখবো।”
“আপনি একটু বেশিই করছেন।”
“আরও বেশি করবো। আমার সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগে এসব ভাবা উচিৎ ছিলো।”
তরু চলে যেতে নিলে নীলাভ পুনরায় তরুর হাত চেপে ধরে, “আমাকে কঠোর হতে বাধ্য কোরোনা। তুমি আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে আমার সাথে ওসব করে যেই ভুলটা করেছো সেই শাস্তি এভাবেই পেতে হবে। বাচ্চাটা পৃথিবীর আলো দেখবে। তোমার ইচ্ছা থাকলেও আর না থাকলেও, এটাই তোমার শাস্তি।”
“নো ওয়ে ওই fetus টির জন্য আমি কেনো আমার লাইফ হেল করবো? আর একটা বাচ্চা জন্ম দেওয়া অতোও সহজ নয় যে আপনি চাইলেন আর আপনাকে দিয়ে দেবো। আমি ইতিমধ্যেই বিরক্ত বোধ করছি। আমি এসব নন প্রফিট্যাবল কাজে নিজের লাইফ রিস্ক নিতে পারবোনা।”
“বলেছিনা এসব আজেবাজে কথা বলবে না।”
“ইশ এতো মায়া দেখাচ্ছেন কেনো?”
“আমার বাচ্চা, আমার অংশ আর আমি মায়া দেখাবো না? লিসেন মায়া সৃষ্টি হতে এক মূহুর্ত লাগে আর যেতে আজন্ম লাগে। আমি ইতিমধ্যেই বেবিটার জন্য টান অনুভব করছি। ও আসবে আর আমার জীবনের সব দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েই আসবে। ওকে পেয়ে আমি বেচে থাকার কারণ খুঁজে পাবো। তাই আমার ওকে চাই-ই চাই।”
“আমি এসবের মধ্যে পড়তে চাইনা। আমার নিজের লাইফ আছে। তাছাড়া আমার অনেক কাজ আছে,”
“অন্তত বেবিটা জন্ম না নেওয়া পর্যন্ত আপনাকে আমার সাথেই থাকতে হবে। তারপর আপনার ইচ্ছা, আপনাকে আটকাবো না।”
তাদের কথার মাঝেই সাবিনা এক প্লেট মিষ্টি নিয়ে সেখানে আসেন।
“আজ আমি সবচাইতে বেশি খুশি। এতো খুশি জীবনেও হইনি। আমি তো ভাবতেই পারছিনা, বাড়িতে ২ জন নতুন অতিথি আসতে চলেছে। এই নেও মিষ্টি খাও।”
বলেই সাবিনা প্রথমে নীলাভকে মিষ্টি খাইয়ে দিলেন কিন্তু তরুর মুখে মিষ্টি ঢুকিয়ে দেওয়ার সাথে সাথেই তরুর বমি এলো। আর সেখানেই বমি করে দিলো।
“কি হলো? ত্রানা তো একটু বেশিই অসুস্থ দেখছি। এভাবে কিছু না খেতে পারলে কিভাবে হবে?”
তরুর মাথা ঘুরছে, আর অনেক বেশি খারাপ লাগছে।
“আহ, তখন কি ভেবে যে এই সিদ্ধান্ত টা নিয়েছিলাম গড নোওস। আমি এখনই আফসোস করছি। আল্লাহ বাচাও আমাকে।” (মনে মনে)
নীলাভ তরুকে ধরে বিছানায় বসালো।
“ওনার ড্রেস বের করে দেওতো চেঞ্জ করে এক্ষুনি যাবো ডক্টরের কাছে।”
সাবিনা ড্রেস বের করে দিতেই নীলাভ তরুকে ওয়াশরুমে দিয়ে আসে। তারপর ড্রেস চেঞ্জ করা হলে তরুকে জোর করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। সাবিনা সামনে থাকায় তরু বেশি জেদও করতে পারেনা।
“এবার হয়তো এই বাচ্চাটার উছিলাতেই আমার নীলাভ পুরোনো সবকিছু ভুলে ত্রানাকে নিয়ে সংসার করতে পারবে। আল্লাহ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার ছেলেকে নতুন ভাবে বাচার কারণ দেওয়ার জন্য। আমি যাই জারা আর নাহিদকে সুখবর টা জানিয়ে আসি।
১ ঘন্টা হয়েছে তরু আর নীলাভ ডাক্তারের কাছে এসেছে। তরুর ব্লাড আর ইউরিন টেস্টের রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বললেন,
“বেবির বয়স ৭ সপ্তাহ ৫ দিন। চিন্তার বিষয় হলো আপনার শরীরে এখনি রক্তস্বল্পতা দেখা যাচ্ছে। সেই জন্যই এতো বেশি মাথা ঘোরাচ্ছে। আর ক্লান্ত লাগছে,”
নীলাভ চিন্তিত স্বরে বলে, “বাচ্চার কোনো সমস্যা হবেনা তো?”
“আপাতত সব ঠিকঠাক আছে। তবে উনি খাবার দাবার স্কিপ করলে এই প্রবলেম আরও বেড়ে যেতে পারে। আর প্রেগ্ন্যাসির এই সময় অবশ্যই নি*কোটিন আর এল*কোহল জাতীয় দ্রব্যাদি এড়িয়ে চলতে হবে।”
তরু বলে ওঠে, “আমি ওসব খাইনা।”
ডাক্তার শান্তস্বরে বললেন, “আপনার রক্তে ড্রা*গের স্যাম্পল পাওয়া গেছে।”
কথাটা শুনে নীলাভ রাগী চোখে তরুর দিকে তাকায়। তরু চোখ সরিয়ে নেয়।
“এসব দ্রব্য মাতৃকালীন শিশুর জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এমনকি এগুলো গ্রহণের ফলে আপনার মিসক্যা*রেজ হওয়ারও সম্ভাবনা আছে।”
“উনি এসব থেকে দূরে থাকবে ডক্টর। আপনি শুধু দেখবেন বেবিটার যেনো কিছু না হয়।”
“আমি কিছু মেডিসিন লিখে দিচ্ছি সেগুলো নিয়মিত খাবেন। বেশি বেশি পানি, প্রোটিন আর ভিটামিন যুক্ত খাবার খাবেন। আর এই সময়ে বাড়তি যেকোনো মেডিসিন খাওয়া এড়িয়ে চলবেন যেমন- স্লিপিং পিল। আপনার insomnia আছে তবে এই সময় স্লিপিং পিল না খেয়ে naturally ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। এরপরও যেকোনো প্রয়োজনে আগে আমার সাথে যোগাযোগ করে নেবেন।”
“ওকে ডক্টর, থ্যাঙ্কিউ।”
নীলাভ তরুকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। বাড়িতে ফিরেই তরু বলে ওঠে, “এখন অন্তত আমাকে যেতে দিন। আমার কাজ আছে।”
“কোথায় যাবেন আপনি? আজ তো অফিসও বন্ধ।”
“আপনাকে কৈফিয়ত দিতে হবে নাকি যে আমি কোথায় যাবো?”
“আমি কিভাবে বিশ্বাস করবো যে আপনি এবো*রশন করতে যাবেন না বা ওসব আজেবাজে জিনিস খেতে যাবেন না?”
কথাটা শুনে তরু ভীষণ রেগে গেলো।
“আমি আপনাকে বিশ্বাস করতে বলিনি তো। আমার যা ইচ্ছা হবে তাই করবো।”
নীলাভ বুঝতে পারলো এখন রাগ হওয়া যাবেনা। তাহলে ত্রানা আরও বেশি জেদ করবে।
“আপনি কোথায় যাবেন বলুন আমি আপনাকে সেখানে নিয়ে যাবো।”
তরুর মেজাজ খারাপ হলো। সে যাবে খু'ন করতে, কোনো পার্কে ঘুরতে যাবেনা যে নীলাভকে সাথে করে নিয়ে যাবে। তবে এখন রাগ দেখালে নীলাভ তাকে কিছুতেই যেতে দেবেনা তাই সে বলে।
“আমাকে এখন যেতে দিন প্লিজ আমি কথা দিচ্ছি যে আমি এবো*রশন করতে যাবোনা। আর নাতো ড্রিংকস বা স্মোক করতে যাবো।”
“আমি সাথে গেলে কি প্রবলেম? আমি আপনাকে বিশ্বাস করতে পারছিনা।”
“আমার কিন্তু এসব ভালো লাগছেনা। আপনি আমাকে সব ক্ষেত্রে জোর করতে পারেন না। আর আমার পার্সোনাল কাজ আছে। আমি আপনাকে নিয়ে যেতে পারবোনা।”
নীলাভ বেশি কিছু না ভেবেই তরুর হাতটা নিজের মাথায় রেখে বলে, “আপনি আমাকে ছুয়ে কথা দিন যে আপনি বেবিটা এবো*রশন করবেন না বা বেবির ক্ষতি হবে এমন কিছুই করবেন না।”
চলবে,