ফন্ট সাইজ:
থিম:
ফের বসন্ত

৭ম পর্ব

লেখক: ঐশী রহমান

#বসন্তের_ফিনল্যান্ড

#সূচনা_জাফরিন

#পর্ব -৭

জেরিমির মুখের এক অংশে ঠোঁট লাগতেই দুজনে চমকে উঠলো।কারণ অসতর্কতায় আফশীন ভালোই চোট পেয়েছে। চোখের পলকেই দ্রুতগতিতে উঠে পালিয়ে গেল মেয়েটি।

সবাই তখনো হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে। বাকিরা শুধু তাদের পিছলে পড়তে দেখছে অন্যকিছু বোঝার আগেই যেন মেয়েটি গায়েব হয়ে গেছে।

:

:

নিজের ঘরের দরজা লক করে পায়চারি করছে এক কোনা থেকে অন্য কোনায়। বাইরে গিয়ে ফ্রিজ থেকে দ্রুত এক টুকরো বরফ নিয়ে আবার ঘরে এসে বসলো। কাপড় পেঁচিয়ে ঠোঁটে বরফ ঘষছে।দাঁতের পাটি যেন এখনো বেহুশ তার। আয়নার সামনে গিয়ে উপরের ঠোঁট উল্টে দেখলো সামান্য একটু কেটেছে হালকা রক্ত দেখা যাচ্ছে।আফশীন শুধু বললো স্টুপিড পাপ্পি, স্টুপিড,,

আর বললোনা কিছু।

:

:

:

জেবিন বসে আছে লিভিং রুমে।সোফায় পা ভাজ করে অন্যমনস্ক হয়ে আছে। ইউহান এসে সামনের সোফায় বসে টিভির দিকে মনোযোগ দিলো।

জেবিনকে দেখে বোঝা যাচ্ছে সে এই দুনিয়াতে নেই।

তাই ইউহান একটু মজা করে বলল"এই মুভিটা অনেক সুন্দর তাই না?"

জেবিন ছোট করে উত্তর দিলো হ্যাঁ।

ইউহান তার মাথায় একটি কাঠবাদাম ছুড়ে মারলো আর অন্য একটি নিজের মুখে পুরলো।

জেবিন মাথা চুলকিয়ে টিভির দিকে তাকাতে দেখলো নিউজ চ্যানেল চলছে। সচকিত হয়ে আবার ইউহানের দিকে তাকালো।

ফালতু ছেলে, মারলে কেন আমায়?

"তুমি যে এই দুনিয়ায় নেই সেটা কনফার্ম হচ্ছিলাম। "

জেবিন মুখ পানসে করে বলল "কেমন ভাই তুমি? "

"ভালো ভাই। "

"কচু ভাই।"

"কেন?"

জেবিন মুখ গোমরা করে বলল "মারতে পারবে কাউকে।"

ইউহান বাদাম চিবানো থামিয়ে বলল"জ্বি না, গতবার একজন কে মারতে গিয়ে বাবা পুরো একমাসের পকেট মানি বন্ধ করেছে আমার।কতটা কষ্ট হয়েছে জানো? পুরো গরীব হালে মরেছি আমি। "

"আচ্ছা মেরো না হুমকি তো দিতে পারবে তাইনা?"

"কে ডিস্টার্ব করে তোমাকে হ্যাঁ, সারাদিন তো ছেলের মতো চলা ফেরা কর।"

জেবিন চোখ বড় করে বলল "ছেলের মত চলি আমি? "

"অবশ্যই। "

"আমি কেন ছেলে হতে যাবো?"

"মেয়েরা কি তোমার মত চলে? "

হঠাৎ কথাটা শুনে জেবিনের মনে পড়ে গেল "পোলান বলেছিল সে তার টাইপের নয়। "

"হতাশ হয়ে জিজ্ঞেস করলো,আমি কি অসুন্দর? "

ইউহান টিভির দিকে তাকিয়ে বলল"না"

তবে খুব উগ্র তুমি,মেয়ে সুলভ আচরণ কম তোমার মধ্যে।

:

:

:জেবিন ছাদে গেল আজ, মন ভালো নেই। তার উপর যে দেখছে সে কথা শুনিয়ে যাচ্ছে।

একটা গাড়ো নীল সন্ধ্যা, শহুরে বাতিগুলো নিচে ঝলমল করছে। বাতাসে চুল উড়ছে, বিশাল কালোর সাথে নীল মিশানো আকাশটা দেখে যেন অনেক শান্তি লাগলো।

বাতাসের সাথে নানান ধরনের সুগন্ধি, নিমিষে যেন মনের সব ক্লান্তি দূর করে দিল জেবিনের।

একদিন নানু বলেছিল" আকাশে অনেক ফেরেশতা রয়েছে। তাদের কোনো সুপারিশ ফলপ্রসূ হয় না যতক্ষণ আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন, অনুমতি না দেন।"আন-নাজম: ২৬"

পেছন থেকে কেউ বলল "মন খারাপ নাকি? "

চমকে উঠলো জেবিন।

পেছনে ফিরে তাকালো কিছুটা দূরে হাতে গিটার নিয়ে আকাশের পানে চেয়ে আছে ওপেল।

ঘন বাদামি চুল গুলো ঘাড় অব্ধি লম্বা, লম্বাটে চেহেরা আকাশী চোখ। ঘন ভ্রু জোরা কুচকে আবার জিজ্ঞেস করলো "উল্টোপাল্টা কিছু করতে আসো নি তো? "

মেয়েটি দায়সারা ভাব করে বলল"আমি এতটাও নরম মনের নই। "

ওপেল গম্ভীর ভাবেই বলল"তা তো রাস্তায় দেখেই বুঝেছিলাম। "

জেবিন একটু আমতা আমতা করলো কিন্তু কি জবাব দিবে তা খুঁজে পেলো না।

ওপেল একবারও তার দিকে তাকাইনি। আবার বললো, এতো কম সময়ে কাউকে এতোটা বিশ্বাস করা উচিত? "

জেবিন অবাক হয়ে ভাবলো "দু'বছর যাবৎ ছেলেটি ওদের সাথেই থাকে কিন্তু আজ এই প্রথমবার তারা একে অপরের সাথে কথা বলেছে। "

"তুমি কি আমার ডিপার্টমেন্টের? "

ওপেল একটু কাব্যিকভাবে বলল "হুউউম"

"তোমাকে তেমন দেখিনি যে? "

গিটারে টুং টাং শব্দ করে উত্তর দিলো"আমি অ-প্রয়োজনীয় কাজে কম থাকি হয়তো তাই। "

জেবিন মুখ বানিয়ে বলল "মানে কি আমরা কি অকাজে থাকি? "

ওপেল ফিক করে হেসে দিলো, না তাকিয়ে কিছু ভেবে বলল"উম না থাক,।"

"কি থাক?"

ছেলেটি আরেকটু হাসলো "ও কিছুনা, তুমি আমাকে খেয়াল করো নি কেন সেটা আমি কি করে বলি বলো? "

এটা কি আমাকে অপমান করে বলছো নাকি আদিখ্যেতা দেখাচ্ছ, কি উত্তর দেওয়া উচিত আমার? "

জেবিন একটু ভাবান্তর হয়ে হাসলো "না মানে। "

"ইটস ওকে "

ওপেল আবার বলল "তুমি রাঁধতে পারো? "

জেবিন অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো "রান্নার কথা বলছো? "

"হ্যাঁ"

জেবিন মাথা নাড়িয়ে বলল "না কখনই করিনি। "

"ইশ! রান্না না জানা মেয়েগুলো কেমন যেন! "

"কেমন! কেমন?"

"ওরা অন্যের আশায় বসে থাকে, কে কখন রাঁধবে, কে অর্ডার করবে?তারচেয়ে নিজেরা বানিয়ে নিলেই বা কি হয়? "

"অনেক কঠিন। "

"এই যে এখন তুমি না খেয়ে বসে আছো, তোমার পছন্দের খাবার গুলোও শেষ, তো কী করবে?"

"উম আর কী! খাবোনা। "

আমি তো যাচ্ছি স্প্যাগেটি বানাবো সাথে লবস্টার ফ্রাই।

জেবিনের পেটে যেন, খিদের উৎপত্তি ঘটলো।

তারপরও বলল"ঠিক আছে তুমি যাও আমি এখানেই থাকবো। "

"ওকে "

"বাই"

ওপেল পিছু ফিরে মুচকি হাসলো কিন্তু বাই বলল না।

::

::

জেরিমি ঘুমোতে গেছে লাইট'স অফ করে, আই মাস্ক পড়তেই সব অন্ধকার।

এই অন্ধকারে ভেসে এলো একটা মুখ। বড় আয়তকার চোখে যখন সে ভয় পায় চোখ গুলো যেন আরো বড় হয়ে যায়।

অনেকটা পেয়াজি রং এর ঠোঁট কোনো কৃত্তিম রং নেই তাতে। থুঁতনি তে ছোট তিল। ক্যাম্পাসে বেশিরভাগ সময় মুখ ঢেকে রাখে এতেই যেন তার চোখ সবাইকে গ্রাস করে।মেয়েটির কথা কেন আজ মনে পড়ছে হঠাৎ?

জেরিমি তো কারো কথা ভাবেনা কখনো। সুইডেন থেকেছে সে অনেকটা সময়। ক্লাস কালীন সময় সে টের পেতো অনেক সুন্দরী মেয়েরাই তাকে প্রেম নিবেদন করতে চাইতো। ফিনল্যান্ডে ও অনেকটা একই।কাজের বাইরে সেই একবারই কাউকে ভালো লেগেছিল কিন্তু এরপর আর ভাবায়নি প্রেম নামক বিষয়টি তাকে।

ফরেন দেশে কারো সাথে সাক্ষাতে দুগালে কিংবা হাতে হাল্কা চুমু খাওয়া তাদের একটি স্বাগত জানানোর মাধ্যম,তাই জেরিমির ও সন্ধ্যার ঘটনা নিয়ে তেমন কোনো মাথা ব্যাথা নেই । জেরিমি মনে মনে গালি দিলো"ইডিয়ট একটা মেয়ে, কিউট পাপ্পি কে কেউ এতো ভয় পায় নাকি?"

:

:

:

ওপেল রান্নাঘরে গিয়ে বেশ পটু হাতে এক এক করে মাশরুম, ক্যাপ্সিকাম,টমেটো, চিকেন আর মরিচ স্লাইস করছে।চুলায় স্প্যাগেটি সেদ্ধ দিয়ে, লবস্টার আর ডিম ভাজছে।

পেছনে জেবিন বসে আছে।

মেয়েটি হাতে আপেল নিয়ে এক কামড় বসিয়ে বলল"আমি দেখতে এসেছি তুমি সত্যিই রান্না করতে পারো নাকি এমনি আমাকেই বয়ান দিচ্ছিলে।"

"আমি রান্না করে খাওয়াতে যেমন ভালোবাসি, তেমনি কেউ করে খাওয়ালে তাকেও ভালোবাসি।"

"তাহলে তো তুমি সব রেস্তোরাঁর শেফ কে ও ভালোবাসো? "

"হ্যাঁ, হয়তো বাসি। "

জেবিন হাসলো "দিল ফেইক কোথাকার। "

ওপেল প্লেট সাজিয়ে পেছনে ঘুরেই জেবিনের মুখোমুখি ধরলো।

জিজ্ঞেস করলো "কেমন লাগছে? "

জেবিন তখনো ওপেলের দিকেই তাকিয়ে ছিল।এই চেহেরাটা যেন সে আজ প্রথম এভাবে দেখেছে কিন্তু মনে হচ্ছে এতোটা ক্লোজ তো সে আগেও কারো সাথে ছিলনা।

আনমনে বলল "ভালো লাগছে। "

দুজনেই তাকিয়ে আছে দুজনের দিকে।

ওপেল ঠোঁটে প্রশস্ত হাসি এনে বলল "বলেছিলাম না ভালোবাসি"

এই হাসিটা যেন খুবই মুগ্ধকর ঠেকলো জেবিনের কাছে "কিহ?"

ওপেল বলল "তুমি না বললে রাঁধতে পারি না, এখন অকপটেই স্বীকার করলে। "

জেবিন চোখ বন্ধ করলো, ঢোক গিলে একবার প্লেটের দিকে তাকিয়ে বলল। "

"সত্যিই ভালো হয়েছে। "

ওপেলের কাছ থেকে সরে গিয়ে সে চেয়ারে বসলো, ওপেল তার সামনের ডাইনিং টেবিলে খাবারের প্লেট রাখলো। নাও এটা তোমার জন্য।

"কিন্তু তুমি তো বলেছিলে!"

ওপেল আর পিছে ফিরে তাকায়নি যেতে যেতে বলল "বন এপেটাইট"(উপভোগ কর)।

জেবিন দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো "কি হচ্ছে এসব? ছেলেটা একবারই তাকিয়েছে, তাতেই তার এমন কেন লাগলো। কী ছিল চোখে তার?

নিজেকে গালি দিলো "তুমি কবে এতো লুচু হলে জেবিন?"

(আগেও অনেকে বলেছে,আমার গল্পে রোম্যান্স কম। কিন্তু পছন্দের আয়াত লিখি বলে,একটু রোমান্টিক হতে না হতেই অনেকেই আমাকে আর পছন্দ করে না। 😔)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন