ফন্ট সাইজ:
থিম:
ফের বসন্ত

৮ম পর্ব

লেখক: ঐশী রহমান

#বসন্তের_ফিনল্যান্ড

#সূচনা_জাফরিন

#পর্ব -৮

আফশীনের যেন কেমন কেমন লাগছে। অফিসে তিন দিন যাবৎ জেরিমির থেকে যতুটুক দূরে থাকা যায়, তার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেছে সে।

সকালে খাতার রাসায়নিক কোড গুলো একটি ফাইলে তুলছিল। একটুপর মনে হলো কেউ দেখছে। মাথা তুলে তাকাতেই দেখে জেরিমি ফাইলের দিকে তাকিয়ে আছে। কখন এসেছে আফশীন বুঝতেই পারেনি।

উপরে তাকাতেই যেন চোখ ধাঁদিয়ে গেল, সাদা শার্ট এর হাতা গুটিয়ে এক পা ভাজ করে দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

চুল গুলো ও জেল দ্বারা পরিপাটি।

ইশ এমনও হয় বুঝি?

কেমন লালচে ঠোঁট। হঠাৎ করে চোখে চোখ মিলতেই, আফশীন একবার মাথাকে ডানে আর বামে কাত করে চোখ পিটপিট করে দেখলো । জেরিমি যেন কিছুই বুঝলো না আরেকটু গুরুত্ব দিয়ে তাকালো আফশীনের চোখে।

"কি হয়েছে?"

আফশীন বলল"মনে হয় প্রেম "

"হোয়াট?"

আফশীন নিজের কথায় ভরকে গেল, উহুম উহুম করে বেশ গলা ঝাড়লো।"

"নাথিং স্যার "

ভাগ্যিস বাংলায় বলেছিল তাই জেরিমি ধরতে পারেনি কিন্তু বলেছিলই বা কেন? "

জেরিমি বলল"গালি দিয়েছো নাকি কাজ করাচ্ছি বলে? "

আফশীন দাঁত বের করে হাসির ভণিতা করলো।

"ছি ছি কেন বকবো।"

রাস্তায় হাটছে আফশীন "হঠাৎ মুখ দিয়ে বের হলো, যাহার লাগি হই দিবানি সে তো বুঝলো নারে মন। "

পরক্ষণেই বলল ছি ছি আস্তাগফিরুল্লাহ, নাউজুবিল্লাহ কিসব গাইছি।কোনো একসময় তার এক কাজিন এই গান শুনতো হঠাৎ যেন আজ মনে বেজে উঠলো।

এভাবেই পুরো এক সপ্তাহ কেটে গেছে, আজ বাবার নম্বর থেকে কল এলো রিসিভ করতেই মায়ের কন্ঠ শুনতে পেলো,

সালাম শুনে বলল"কি সমস্যা তোমার?"

আফশীন বলল"কেমন আছো মা?"

"খবর নিয়েছ?তুমি কল না ধরলে জানবে কীভাবে?"

"বাবার থেকে জিজ্ঞেস করেছিলাম।"

বেশ শক্ত কন্ঠেই বলল"তোমার পড়ালেখা কেমন চলছে?"

"জ্বি ভালো।"

"কবে ফিরছো দেশে?"

দেশে ফিরার কথা শুনেই যেন, বিদঘুটে একটা অস্বস্তি হলো।

"এখনো এক বছর হয়নি মা।"

"শুনেছি চাকরি করছো নাকি? "

"জ্বি"

"পড়া শেষে আমি আর কিছুই শুনবো না।মনে থাকে যেন।"

আফশীন সাহস করে বলে ফেললো"আমি ফিরতে চাইনা।"

মিসেস রেনু কিচ্ছুক্ষণ চুপ থেকে বলল"ভুলে যেওনা তুমি কি শর্তে বাইরে গিয়েছো। "

আফশীন বলতে চেয়েও আর বলতে পারলো না।"

আজ আর খাওয়া দাওয়া হলো না ছাদে গিয়ে বসে আছে, অনেক কান্না করেছে।

পেছন থেকে কেউ বললো"পাগলি এটুকুতেই কাঁদতে হয়?"

পেছনে না তাকিয়েই মেয়েটি বলল

"হ্যাঁ হয়, তোমার মা আমাকে সবসময় কাঁদায়।"

"তাতে কী আমার মায়ের স্বামী আর ছেলে তো তোমাকে ভালোবাসে। "

আওসাফের দিকে ঘুরে তাকিয়ে বলল"আমিও তাদের ভালোবাসি।"

বাবা তোমাকে আসতে বলেছে?"

আওসাফ ছোট শ্বাস ফেলে বলল"হুম"

ভাই বোন কতোক্ষণ আকাশের দিকে চুপচাপ তাকিয়ে ছিল তা জানা নেই।

"আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো কষ্ট দেন, তবে তিনি ব্যতীত তা অপসারণকারী কেউ নেই। পক্ষান্তরে যদি তোমার মঙ্গল করেন, তবে তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।সূরা আল আনআম: ১৭"

:

:

জেবিন ভার্সিটি যেতেই বান্ধুবি, সনি বলল "কি হয়েছিল ক্লাসে এলে না যে?"

"এমনি মুড ভালো ছিলো না।"

সামনে কিছুটাদূরে পোলান কে দেখতে পেলো, বন্ধুদের সাথে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

"তোমাদের কি ব্রেকআপ হয়েছে, পোলান দেখি বেশ দূরে দূরে?"

জেবিন বলল "তাতে কি?"

"তুমি ভালো আছো তো?"

"হ্যাঁ। আমি লকার থেকে বই নিয়ে আসছি, ক্লাসে দেখা হবে।"

"লকার খুলে বরাবরের মতো নোট খাতা দেখতে পেলো।

ড্যামিয়েন এই কাজটা করে, ভালো বন্ধু বেশ, তাই ক্লাস মিস হলেই একটা কপি জেবিনের জন্য পরম যত্নে সে তুলে রাখে।

:

:

:

ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে পড়া তুলছিল জেবিন, ল্যান্ড'স্ক্যাপ আর্কিটেক্ট হতে যাচ্ছে সে।আঁকা আঁকি বেশ ভালোই করে। আজ পেছনে ফিরে চারপাশে নজর বুলালো, ডানপাশে একটু দূরে, ওপেল কে দেখতে পেলো সে।

আজ প্রথমবার খুঁজেই পেয়ে গেল, এর আগে কখনো নজরেই আসেনি ছেলেটি অথচ একই ঘরে থাকলেও বিশেষ দৃষ্টি না থাকায় হয়তো এমনটা হয়েছে।

ওপেল কিন্তু একেবারও তাকায়নি।

ক্লাস শেষে বাইরে যেতেই পিছে পিছে গেল জেবিন "ওপেল শুনছো?"

ওপেল দাঁড়ালো "হাই জেবিন"

"আমি আজ এলাম ক্লাসে অনেকদিন আসতে পারিনি। "

"ওহ তাই নাকি? "

জেবিন বলল"তুমি খেয়াল করোনি?"

ওপেল বলল"না"

জেবিন কিছু না বলেই চলে গেল সেখান থেকে।

:

:

:

আফশীন অফিসে কাজ করছে, উদ্ভিদ রাখা সেল্ফের উপর একটি পর্দা আছে যেটা সিলিং এ ফিট করা। সেই পর্দাটার দড়ি টানতেই সিলিং থেকে সূর্যের আলো সোজা সেল্ফ কে আলোকিত করে দিলো।

রোদ পড়তেই চিকচিক করে যেন হেসে উঠলো গাছ গুলো।

কাঁচের বোতল হাতে নিতেই আলোক রশ্মিজাল যেন আফশীনের সারা মুখে মুক্ত দানার মতো ছড়িয়ে পড়লো।

আফশীন শব্দহীন ভাবে হাসলো, সেই হাসিতে মুগ্ধতা আছে,সরলতা আছে, পবিত্রতা আছে।

জেরিমি তার ডেস্কে বসে আর্ট করছিল। উদ্ভিদের সাথে কখন যেন আফশীন কেও এঁকে ফেললো সে।

গাপি হাসলো। জেরিমি ভরকে বললো"কী হয়েছে? "

"না স্যার কিছু না"

গাপি দেখলো লতা পাতার সাথে কারো হাসিযুক্ত ঠোঁটের ছবি, চোখ মুখ কিছু নেই, কী অদ্ভুত রে বাবা।

জেরিমি কায়দা করে পেইজ উলটে নিলো।

"যাও নিজের কাজ কর, স্টুপিড কোথাকার।"

গাপি মুখ ভেংচি কেটে বের হয়ে গেল।

আফশীন ডেস্কে বসে রইলো লিখতে লিখতে জান যাচ্ছে। এতো সব কোড কে যে বানালো।

হঠাৎ দরজায় কারো উপস্থিতি টের পেলো।

গাপি আর আফশীন ফিরে তাকালো, খুব সুন্দরী একটা মেয়ে নিজের কার্ল করা লাল চুল গুলো পেছনে সরিয়ে জিন্স টপ্সে একেবারে ফিটফাট, সান গ্লাসটা মাথায় তুলে, এগিয়ে চলছে জেরিমির কেবিনের দিকে , মেয়েটির সাথে চলছে তার ট্রলি ব্যাগটাও।হাই হিলের ঠক ঠক আওয়াজ ঝংকার তুলছে বদ্ধ রুমটাতে। গাপি ও হা করে তাকিয়ে আছে তার যাওয়ার দিকে।

আফশীন বলল "এই গাপি, মাছি ঢুকে যাবে তো।মুখ বন্ধ কর।"

মেয়েটি নক করে ঢুকতেই জেরিমি তাকিয়ে বলল"শিয়া কখন এলে?"

শিয়া জেরিমির কাছে গিয়ে গালে চুমু খেয়ে হাল্কা গলা জড়িয়ে ধরলো।"

এমন কান্ডে আফশীন একটু নড়েচড়ে বসলো।

শিয়া দাঁড়িয়ে চারপাশ চোখ ঘুরিয়ে বললো"ওয়াও প্রফেসর, খুব সুন্দর অফিস তো তোমার। "

"তাই? "

"হ্যাঁ সুন্দর হয়েছে ডেকোরেশন। "

"ধন্যবাদ"

জেরিমি ট্রলি ব্যাগে নজর বুলিয়ে বললো "এক্ষুণি এলে বুঝি?"

"হ্যাঁ "

জেরিমি, শিয়ার পেছন পেছন কেবিন থেকে বের হলো। শিয়া সবটা ঘুরে দেখছে।

জেরিমি বললো"আফশীন এসো পরিচয় করিয়ে দেয়।"

শিয়া, ও হচ্ছে আমার নিউ এসিস্ট্যান্ট "আফশীন "।

আর শিয়া হলো আমার এক্স স্টুডেন্ট এবং বন্ধু।"

আফশীন কে অবাক করে দিয়ে শিয়া হাত মিলিয়ে কোলাকোলি করলো।

"তুমি কি বাংলাদেশি? "

"হ্যাঁ"

শিয়া হাসলো "নাইস টু মিট ইউ।"

জেরিমি কে উদ্দ্যেশে করে বললো"আমি পরশু পার্টি দিচ্ছি। গেট টুগেদার পার্টি।"

প্লিজ চলে এসো।আফশীনের কাছে গিয়ে বললো "তোমার ফ্যামিলির কোনো পুরুষ কি আছে এখানে?"

আফশীন একটু অবাক হলো "হ্যাঁ আমার বড় ভাই আছে।"

"ঠিকাছে তাকে সাথে নিয়ে এসো। "

"আমি যাব পার্টিতে? "

জেরিমি বলল"হ্যাঁ ও তোমাকে ইনভাইট করছে, তাহলে যাবেনা কেন?"

"আর হ্যাঁ, অবশ্যই তোমার ভাই বা সাথে আরো কাউকে চাইলে নিয়ে আসতে পারো,যাতে তোমার কম্ফোর্ট ফিল হয়। শিয়া কথাটা বলে জেরেমির সাথে বেরিয়ে গেল।

গাপি বললো "শিয়া ম্যাডাম আসলেই পার্টি দেয়। "

"কিসের পার্টি? "

"উনি সুইডেন থেকে আসে তো, সকল বন্ধুদের সাথে একত্রে দেখা করার আয়োজন করে।"

"সুইডেন?"

"জ্বি,ম্যাডাম ওখানেই থাকে। জেরিমি স্যার ও, সুইডেন এর উপসালা ইউনিভার্সিটিতে প্রথম জয়েন করেন রিসার্চার হিসেবে।তখন থেকেই পরিচয় তাদের।"

"ম্যাডাম আসেই স্যারকে দেখার জন্য"

"এত দূরে? "

"হ্যাঁ, স্যার কে ডেইটে নিয়ে যান।"

কথাটা শুনে আফশীনের মুখ চুপসে যায়।

জেবিন রাস্তায় আফশীন কে দেখে বললো"এসো আমার সাথে, বাসায় ফিরছো? "

"হ্যাঁ"

চলবে,,,,

(গল্পটা শেষ করতে চাই দ্রুত, কারণ বড় গল্প লিখতে ইচ্ছে করেনা কিন্তু গল্প নিজের গতিতেই চলতে থাকে।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন