#নিষিদ্ধ নীল চিঠি
লেখিকা : সায়মা নূর পর্ব: ১
জ্যেষ্ঠ আষার মাসের মাঝামাঝি সময় পড়েছে, সারা বছর প্রকৃতি ভিন্ন ভিন্ন রূপ সাজে, তবে জ্যেষ্ঠ-আষার মাসে প্রকৃতির এক নতুন রূপ দেখা মেলে, তখন প্রকৃতির অন্য রুপ থাকে এই মাসে আম কাঠাল আরো নানা ফল এর দেখা যায়। মায়ার বয়স ১০ বছর, আব্দুল মানাফ মিয়া আর আরিজা বেগমের দুইমেয়ে, বোনের মধ্যে মায়া ছোট ,তার বড় বোন আছে, বোনের ১৭ বছর। মনাফ মিয়া মারা যান মায়ার বয়স যখন ৫ বছর তখন। মনাফ মিয়ার পৈতৃক ভীটায় আন্দনপুরের গ্রামেই বসবাস করেন আরিজা বেগম দুই মেয়ে কে নিয়ে।আন্দপুর গ্রামে কোন আধুনিকতার ছিটেফোটাও নাই, কুসংস্কারের ঠাসা মানুষের মস্তিষ্ক। পড়াশোনার কোন তাড়া নেই, সরকারি স্কুল তো আছে, শিক্ষকও আছে,তবে ছাত্র-ছাত্রী নেই, শিক্ষকরা টাইম মতো স্কুলে আসে,বেঞ্চে শুয়ে ঘুমায় সারাদিন, আবার ছুটি হলে বাড়িতে ফিরে যায়। কারন এখনকার গ্রামবাসীদের শিক্ষার প্রতি কোন আগ্রহ নেই।তাদের চিন্তা-ভাবনা আর সূর্য উঠলে দিনই হবে, আর সূর্য ডুবে গেলে রাত, খাওয়া দাওয়া আর গৃহস্থির কাজ করা এই পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। আর রাত হলে ঘুমাও এটাই তাদের জীবন, তাই শিক্ষাগত যোগ্যতার খুব অভাব গ্রামবাসীর মধ্যে, এবং সেই সুযোগে কুসংস্কার বিষয়টা খুব ভালোভাবে জায়গা করে নিয়েছে মানুষের মধ্যে।মনাফ মিয়ার ভাই বাদশা মিয়ার মাটির বড় বড় দুইটা দালান প্রশস্ত বাড়ি। এখানে আরিজা এবং তার দুই মেয়ে এবং মনাফ মিয়ার দুই ভাই এবং তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। আরিজা বেগম সকালে পাতিল ভর্তি ভাত রান্না করছে সঙ্গে আলু- চেপা শুটকি ভর্তা। আরিজা বেগম এবং তার দুই মেয়ে কে নিয়ে ভাসুর বাদশা মিয়ার অধীনেই থাকে তাদের ঘরে কাজ কাম করে দুই মেয়ে কে নিয়ে কোনো রকম ঠিকে আছে। আরিজা বেগমের শাশুড়ি আদরচাঁন বেগম বারান্দায় বসে আছেন।,তার কোলে বাদশা মিয়ার ছোট ছেলে জমির মিয়া। আরিজা মাটির বারান্দায় শীতল পার্টি বিছিয়ে গরম ভাতের পাতিল এনে রাখলো। তারপর এক এক করে থালা,- জগ- গ্লাস আলু ভর্তা চেপা শুটকি ভর্তা রাখেন। বাদশা মিয়া বাজারে যাবে আরিজা বেগম ভাসুরকে ভাত বেড়ে দিল, আরিজার জা ফুল বানু বেগম খুব দেমাগি একজন মহিলা। ওনি বাড়ির কোনো কাজেই হাত লাগাতে চান না। ওনার কথা মতে ওনার স্বামী এই মা মেয়ে তিন জন কে কি এমনি এমনি খেতে দিবে তার অসুল করবেন। আরিজা ভাসুর কে ডাক দেয় ভাই জান জলদি আইন ভাত তো জুড়াইয়া যাইবো। বাদশা মিয়া ( আগের দিনে ভাসুররা ছোট ভাই এর বউ কে বউমা বলে ডাকতেন) হ হ আইতাছি বৌমা।বাদশা মিয়া ভাতের লোকমা মুখে পুরে এদিক ওদিক তাকিয়ে বলে।আরিজা আমার মায়া আম্মাজান কই দেহি না কে, ভাত খাইতো না ওয়।
আরিজা: ওই কাঠাল বাগানে গেছে ভাইজান কাঠাল আনতে। বড় ভাবি কইলো কাঠাল নাকি খাইবো তাই পাকা কাঠাল আনতে গেছে।
আদরচাঁন : ও মা ওমা গো বৌ!!! তুমি আমার নাতনি ঢার সর্বনাশ না কইরা ছাড়তা না দেহি,এই বয়সে মাইয়াগোর দেইহা রাখতে হয়। জানোনা খারাপ বাতাস লাগলে বিয়ে করবো কেডা এমনিতেই মাইয়া দুইডার বাপ নাই। আদরচাঁন বেগমের এই কথা শুনে, বাদশা মিয়া ভাতের লুকমা গিলে তার মা এর উদ্দেশ্য করে বলেন।
বাদশা : ভালো কথা আম্মা আন্নের লগে খুব দরকারি কতা আছিল।আদরচাঁন বেগম পান চিবাতে চিবাতে মাথা ইশারা করেন বলার জন্য।বাদশা :আম্মা শাহ বাড়ি থেইকা একটা বিয়ার ঘর আইছে মায়ার লেইগা। আরশাদ আলী শাহর মেজো পুলাডার লেইগ্গা, পোলায় পড়ছে ক্লাস ৫ পর্যন্ত। শুনছি আরশাদ আলী শাহ অনেক চেষ্টা করছে তার পুলাডারে আরো পরানির লেইগ্গা কিন্তু পোলায় নাকি পড়ে নাই।তবে সিলেট শহরে নাকি কিয়ের চাকরি করে। ওই কোন কাপুরের দোহানে আরকি আছে।আর তা ছাড়া তাগোরে অবস্থা তো আন্নে জানোনই , বিশাল বড় গৃহস্থ বাড়ি।এহন কি কইতাম কন।আদরচাঁন বেগম পান খেতে খেতে শান্তভাবে ছেলের সব কথা শুনলো। কিছু সময় চুপ থেকে চিন্তা করে বলল। বাদশা বাজান বড় গৃহস্থ তো ভালোই ভাতের অভাব হইতো না পাতিল, কাইচ্ছায় যে ভাত হইবো আমার নাতিনে তা চারবার খাইতে পারবো।মা ছেলের কথায় একটু অসন্তুষ্ট বোঝা যায়। মায়ার মা আরিজা আমতা আমতা করে বলল।
আরিজা:কিন্তু মায়া তো এহনো ছোঢো।আদরচাঁন :তো ছোঢাই তো ভালো,মাইয়া মাইনষের সাবালক শশুর বাড়ীত গিয়ে হওয়াই ভালো।
আরিজা আবার কিন্তু বলতে চাইলে আদরচাঁন বেগম বলে।
আদরচাঁন : তোর কথার ভিন্ন তুই আমার পুলার বউ ভুইলা যাইছ না।তাই তোর কালে যা হইছে তা কি হইবো সবার কালে। ছেড়ি মাইনসের বিয়া নাবালিক থাকতেই দিতে হয়।
জামাই বাড়ি যাইয়া সাবালিকা হইব এইডাই নিয়ম। মায়ের কথা শুনে বাদশা মিয়া বিজ্ঞ জ্ঞানের মত মাথা নাড়ায় বলে।
বাদশা মিয়া : তাইলে আম্মা কি করতাম তারা তো মায়ারে দেখবার আইবার চায় যদি ও আরশাদ আলী শাহ নাকি মায়ারে দেখছেন কোনহানে দেইখাই বিয়ার পস্তাব দিছেন।
আদরচাঁন:আইবার কও দেইহা যাক।
বাদশা: আইচ্ছা।
আদরচাঁন :আর হুনো আরশাদআলী শাহরে কইও মনে কইরা পোলারে সঙ্গে আনবার কইয়ো।
আমাগোর পোলা দেহাডা হইয়া যাইবো। সবার কথার মাঝেই মায়া দুই হাতে জড়িয়ে ধরে একটা বড় চাইজের ফাকা কাঠাল নিয়ে হাজির হয়।
বাড়ির উঠানে,তার পরনে একটা গোল ফ্রগ। ১০ বছরের.মায়ারে ঢেকে গেছে খুবই সুন্দর লাগছে মেয়েটাকে । কাঠাল বাগানে কাঠাট গাছে উঠতে গিয়ে হাত পা এর অবস্থা বেহাল দশা।আরিজা দৌড়ে গিয়া কাঁঠাল টা নিয়ে নিলো, মায়াকে বললো, গোসল করে এসে ভাত খেতে ।মায়া দৌড়ে যায় পুকুরে,তার খুব খিদা লাগেছে।বাদশা মিয়া বাজারের তলি টা লইয়া বাজেরের জন্য রওনা কেন।
বাজার তেইকা তেল,নুন আর সংসারের অন্য প্রয়োজনীয় বাজার করতে।আরিজা বেগম,আদরচাঁন বেগম আর মায়া ভাত খাচ্ছে চাচাতো ভাইবোন নিয়া। খাওয়ার মাঝে আদরচাঁন বেগম বললো।
আদরচাঁন : আরিজা মায়ার তো ১০ হইলো তয় এহনো ওর শইলেরডা (মা সি ক) হয় না কেন?
আরিজা: হইয়া যাইবো আম্মা আমারও তো ১২ বছর বয়সে হয়েছিল।
মায়া:কি হইবো বিবি (দাদী)?
আদরচাঁন : শইলখারাপ হইবো , তুই ছুরি থাইকা বেডি হইবি। কিগো বৌ তুমি ওরে বুঝাও নাই কেন এখনো।
আরিজা: আম্মা আন্নে বুঝান, আমি পারতাম না।মায়া: আম্মা ভর্তা এতো ঝাল কেন দিছো, জিব্বা জ্বলতাছে আমার।
আদরচাঁন : ইস্ ঢং কত মাগির ঝাল লাগে ,দুদিন পর হাঙ্গা হইবো, এখন এত মিষ্টি না খাইয়া ঝাল খাওয়া শিখ,হোরবাড়ি কাজে দিবে।
মন্জু খাতুন বাজারে ব্যাগ থেকে মাছ, কাঁচা সবজি নামিয়ে ঝুরিতে রাখছেন।
মীর শাহ বাজার করে এনেছে মাত্র।
মীর: আম্মা দেহেনতো মাছ তাজা হইছে না?
মন্জু: হ হ তাজাই আছে, যা আব্বা গোসল কইরা আয়, আমি ভাত বারি।
মায়ের কথায় মীর পুকুরে দিকে হাঁটতে হাঁটতে ছোট বোন নারগিসকে ডাকে বলে লুঙ্গি নিয়ে আসতে।
মীর: নারগিস জলদি লুঙ্গি নিয়া আয়, আমার খিদা লাগছে খাইয়া আবার দোকান খুলতে হইবো।
আরশাদ আলি শাহর পাঁচ সন্তান,বড় ছেলে কালু শাহ আলি (বয়স ৩০), মেজু ছেলে মাসুক আলি শাহ(বয়স ২৭) মাদ্রাসার শিক্ষক। সেজু ছেলে মীর আলি শাহ (বয়স২৫) আর ছোট ছেলে শাজাহান আলি শাহ (বয়স২৩)।আর ছোট বইন নারগিস (বয়স১৫) বিয়ে হয়েছে ১৩ বছর বয়সে শ্বশুর বাড়িতে শান্তি নাই তাই বাপের বাড়িতেই বেশি থাকে।জামাইডা এক্কেরে হাড়ে বজ্জাত এসব দেখে ভাইরা ও আর জুরাজুরি করে না শশুর বাড়ি যাইতে। নারগিস ১৫ দিন শশুর বাড়ি থাকলেই বাপের বাড়ি আসতে কান্নাকাটি করে।তাই বাধ্য হয়ে নারগিসের শশুর তাকে রেখে যায়। আবার কিছুদিন পর এসে নিয়ে যায়।এটাই চলছে বিয়ের পর থেকে,, নারগিসের জামাই আলআমিনর এই নিয়ে একবার একটা থাপ্পর দিয়েছে নারগিস কে। এই কথা মীরেনের কানে আসার পর থেকে সে খুব চটে গেছে।মীর তো রেগে বলেই দিয়েছেন এই বার তার বোন আর ঐ বাড়ি দিবে না।আরশাদ আলির বিশাল বসতভীটা, পুরো ভীটা জোড়ে মাটির দেয়ালের তৈরির চারটা বড় বড় ঘর,, ভীটার দুইদিকে বড় বড় দুইটা দিঘী ,, বাড়তি জায়গা গুলোতে মন্জু বেগমের নিজের হাতে রোপন করেছে লাউ, কুমড়ো, সিম, টমেটো গাছ এসব গাছের মাত্রই ফুল কলি দেখা দিয়েছে, বিকেল হয়েছে,নারগিস বদনা হাতে পুকুর থেকে পানি তুলে গাছের গোড়ায় ঢালছে।মীর ভাত খেতে একটু বিছানায় গা এলিয়েছে, উত্তর দিকের মাটির ঘরটা মীরের,ঘরে খুব পুরনো ডিজাইনের একটা পালঙ্ক, সাথে কাঠের আলনা, কাঠের বিশাল ঢেকস্কু ((বড় ট্রাংক)) আর আছে লোহার সিন্দুক। মীরের মাটির ঘরটা সামনে পেছনে বারান্দা আছে ,বিছানার সাথের কাঠের জানালা খুললেই বড় দিঘীটা সামনে পড়ে, মাটির ঘরে গরম কম তার ওপর বিছানায় পাশের জানালা খুলে পুরো ঘর শীতল বাতাসে ভরে যায়। মীর কিছু সময় বিশ্রাম করে তারপর উঠে আলনা থেকে কালো রংয়ের একটা শার্ট গায়ে জড়ায়।সাদা লুঙ্গির সাথে কালো শার্ট শ্যামলা ছিমছাম গঠনের যুবক মীরকে বেশ সুদর্শন লাগে এই বেসে। মাটির দেয়ালের সাথে সংযুক্ত বড় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মীর চিরুনি দিয়ে মাথার চুল গুলো ঠিক করেনিলো। বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দোকানের চাবি হাতে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে বারান্দায় দাঁড়াতেই তার বাবা আরশাদ আলি বললেন।
আরশাদ আলী : কাল শুক্রবার সকাল দশটার দিকে তৈরি থাইকো মাইয়া দেখতে যামু।মীর ভুরু কুঁচকিয়ে তাকায় ,কিন্তু বাবার কথার বিপরীতে কোন কথা বলে না ,এমনিতেই তার বাবা তার উপরে রাগ,রাগার যথেষ্ট কারণ আছে,মীর খুব ভালো ছাত্র ছিলো। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষার পরে আর পড়তে যায় নাই। তার একই কথা সে কিছুতেই পড়ালেখা করবে না।তখন মাস্টার তাকে অনেক বোঝায় তারপরও কিছুতেই সে পড়াশোনা আর করে নাই। যুক্তি তার এত পড়া লেখা করে কি হবে তাই আর পড়াশোনা করবে না। তখন থেকেই জেদি মীরের উপর আরশাদ আলী রেগে আছেন। মীর পড়া বন্ধ করলেও বেকার বসে নেই, তার কাপরের ব্যবসা বেশ বড়, আনন্দপুরের মধ্যে বেশ নাম ডাক আছে তার। সহপাঠিরা পড়াশোনা করেও এত উন্নতি করতে পারে নাই যতটা সে করেছে। তাই আরশাদ আলী তাকে তেমন কিছু বলেনা ,তবে যতটুকু কথা বলে দুজনের কথার মধ্যে গাম্ভীর্য থাকে।
মায়াকে বেশ মনে ধরেছে আরশাদ আলীর,মীর কেও বাদশা মিয়ার পছন্দ হয়েছে, মীরের দাদা নাই কিন্তু দাদার ছোট ভাই রশিদ আলি এসেছেন তাদের সাথে।রশিদ আলি _আদরচাঁন কে বলে ঠিক করেন আজই কাবিন হবে মীর আর মায়ার।আরশাদ আলী তার ছেলেকে বসিয়ে রেখে দোকানে গেলেন, নিজেদের দোকান থেকে বেছে চিনে পছন্দ করে ছেলের বউয়ের জন্য লাল টুকটুকে একটা শাড়ি নিয়ে আসলেন, সাথে রুপার তৈরি, চুরি, গলার চেইন, কানপাশা আর ছোট্ট একটা সোনার নাক ফুল।
বাদশা মিয়া মীরের জন্য, লুঙ্গি,সেন্টু গেঞ্জি আর একটা সাদা পাঞ্জাবি আনলেন আর সঙ্গে করে (কাজী) মসজিদের হুজুর নিয়ে আসলেন।১০ বছরের মায়ার দুধে আলতা গায়ের রং স্বাস্থ্য পুরো নাদুস নুদুস গোলগাল, লম্বা ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি,, ৬ফুট মীলনের তুলনায় অনেক ছোট, তাদের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের।কিন্তু তাদের পরিবেশ_সমাজের, পরিবারের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এটা সঠিক বয়স।
*গ্রামে একটা কুসংস্কার প্রচলিত আছে, মেয়েদের নাবালিকা (পি রি য় ড ) হওয়ার আগে বিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক।
সাবালিকা (পি রি য় ড)শশুর বাড়ি গিয়ে হলেই নাকি ভালো।এটা নাকি সওয়াবের কাজ তাই বাবা মায়েরা ছোট ছোট মেয়েদেরকে বিয়ে দিয়ে সোয়াব আদায় করে। কিন্তু ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে সাবালিকা (পি রি য় ড)হলেই মেয়েরা বিয়ের জন্য উপযুক্ত। কিন্তু পাড়া গ্রামে মানুষরা সর্বদা কুসংস্কার এর উপর নির্ভরশীল।। আর যুগের পর যুগ ধরে কিছু গ্রাম অঞ্চলে এমনটাই হয়ে আসছে।মীর তো বোঝে বিয়ে কি, কিন্তু মায়া তো নতুন, আর নতুন বউদের নাকি রাতের বেলায় ঘরের বাইরে যেতে হয় না , তবে আরশাদ আলীর ইচ্ছাই ছিল না এখন বউকে বাড়ি তুলে নেওয়ার,, মেয়ে দেখতে এসে ছেলের বিয়ে দিল,ছেলেও তাদের সিদ্ধান্তের উপরে কোন কথা বলেনি, তাই বাড়ি গিয়ে আরশাদ আলী বুঝতে চাইছে ছেলের মতিগতি।
কেটে গেল দুই মাস মীরের আগের মতই জীবন যাপন করছে সে যে একজন বিবাহিত পুরুষ, তার ভেতরে তেমন কোন ভাবান্তর নেই, আরশাদ আলী খুব হতাশ, ভেবেছিল পুরুষ মানুষ হয়তো মুখ ফোটে না বলতে পারলেও আচরণে বোঝাবে তার এখন বউ আছে কিন্তু কাছে নাই। দুই মাসে আরশাদ আলী ৬ বার তার ছেলের বউকে দেখে গিয়েছে, মায়া মাথায় লম্বা ঘোমটা দিয়ে যখন আরশাদ আলির সামনে আসে তখন আরশাদ আলি হাসে, স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেয় মায়ার মাথায়, আরশাদ আলী যতবারই মায়াকে দেখতে গিয়েছে ততবারই মীরের দোকান থেকে সর্বোচ্চ দামি শাড়ি কাপড় সঙ্গে নিয়ে গেছে, মীর কিচ্ছু বলে নাই এই নিয়ে তার আব্বাকে।মায়া ভীষণ খুশি, বিয়ে মানে তার কাছে নতুন কাপড়,, তবে মায়ার দাদী খুব অসন্তুষ্ট, দুমাসে একটা বারের জন্য নাত জামাই আসেনি বাড়িতে, এখনো অব্দি শ্বশুরবাড়ি থেকে মেয়ে তুলে নেওয়ার কথা উল্লেখ করছে না। নাবালিকা বিয়ে দিয়েছে শশুর বাড়ি গিয়ে সাবালিকা হবে, অনেক অনেক সোয়াব আদায় হবে তাদের। আহা দাদীর আর সোয়াব কামানো হলোনা।
সময় নদীর স্রোতের মতো বহমান সময় কারো জন্য থেমে থাকে না, দেখতে দেখতেই মায়ার বিয়ে হয়েছে ৬ মাস কমপ্লিট। এদিকে বাদশা মিয়ার গ্রামবাসী প্রতিবেশীরা কানাঘসা করছে, নিশ্চয়ই মায়ার খুঁত আছে তাই তো নতুন জামাই একটাবারের জন্য আসলো না।
অন্যদিকে মন্জু খাতুন প্রতিবেলা খাবার বেড়ে দিয়ে ছেলের সামনে বসে থাকে, আর এটা ওটা বলে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বোঝায় বউ নিয়ে আসতে। মীর প্রতিবার নির্বিকার চুপ।তবে মীরের দাদী আমেনা বেগম নাত বৌ দেখতে পাগল প্রায়।। সারাদিন ঘুনুর ঘুনুর করতেই থাকে সবার কানের কাছে।আমেনা বেগম অসুস্থ মানুষ এই ভালো এই খারাপ হঠাৎ করেই সে বিছানায় পরে গেল।বাদশা মিয়া আন্দপুর বাজারে ধান ক্ষেতে দেওয়ার জন্য সার কিনতে গিয়েছিল, ফেরার সময় ভাবল মেয়ের জামাইয়ের দোকানে গিয়ে তার সাথে একটু দেখা করে যাওয়া উচিত, তবে দোকানে গিয়ে পেল না মীরকে, কর্মচারীর কাছ থেকে জানতে পারে, মীরের দাদি অসুস্থ তাই আজকে দোকানে আসেনি বাদশা মিয়া তা শুনে দেখতে গেলেন তাকে, তখন অসুস্থ আমেনা বেগম ঘরবর্তী মানুষের সামনে আবদার করে বসলো, নাত বউকে বাড়ি আনার। আরশাদ আলী মায়ের কথা ফেলতে পারলোনা, সে তো এমন একটা সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল, কেউ একজন বলবে আর সে গিয়ে তার পুত্রবধূকে নিয়ে আসবে। সুযোগটা লোভে নিল আরশাদ আলী বাদশা মিয়া কে বলে দিলো আগামী পরশু শুক্রবার ছেলের বউ নিতে আসছে তারা, আর এসব ঘটনা মীরের সামনেই ঘটলো তবে সে এখনো নির্বিকার গম্ভীর চুপ করেই রইলো, এসবে তার ব্যক্তিগত কোন মতামত নেই।
চলবে.....